বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের সাজা বহাল রেখে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৭৩ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়ে টুকুর বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের দেয়া দুটি ধারায় ৯ বছরের সাজা বহাল রেখেছেন আদালত। রায়ের কপি প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
লিখিত রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। আদালত বলেছেন, ‘অর্থ ও সম্পদ গড়তে দেশে অনেক বৈধ ব্যবসা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পেশার মাধ্যমেও অর্থ ও সম্পত্তি অর্জন করা যায়। কিন্তু অর্থ উপার্জনের রাজনীতি কোনো পথ হতে পারে না।’
তাছাড়া রাজনীতিবিদেরা যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যায় তাহলে সমাজে অন্ধকার নেমে আসে বলেও মন্তব্য করেন আদালত।
সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের মার্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা করে দুদক। চার কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় বিশেষ জজ আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২)(ক) ধারায় দুই বছর ও ২৭ (১) ধারায় সাত বছর এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে টুকু আপিল করলে ২০১১ সালের ১৫ জুন তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট। দুদক সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
এরপর এ মামলার পুনঃশুনানি নিয়ে গত ৩০ মে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন। আর ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পক্ষে ছিলেন আজমালুল হোসেন কেসি ও মো. সাইফুল্লাহ মামুন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন। ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পরে এই বরিশাল ১ আসনটি আবার ফিরে পেল বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে আবদুস সোবাহান পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৮৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার পেয়েছেন ৫ হাজার ১১৯ ভোট। জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সেকান্দার আলী পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯০ ভোট।
ফলাফল অনুযায়ী, দুই উপজেলায় মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯২টি। বাতিল ভোট ২ হাজার ৯৮০টি। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৯৭৩।
গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। জাতীয় ভোটের ফলাফলের সাথে বহুল প্রতিক্ষিত গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। আর প্রতিটি আসনেই বিপুল ভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৪ হাজার ৩০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৫৬ জন। নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ৫৪৮ জন। বেসরকারিভাবে ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
জনাব জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আপনাদের ভালোবাসা, আস্থা ও বিপুল সমর্থনে আমাকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় আমি বরিশাল-১ বাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই বিজয় আমার একার নয়—এটি গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার সর্বস্তরের মানুষের বিজয়। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের পাশে থেকে উন্নয়ন, শান্তি ও ন্যায়ের পথে আমরা একসাথে এগিয়ে যাব।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আলোচিত ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্হায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার(১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেছেন মির্জা আব্বাস। এই আসনে তিনি মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রাপ্ত ভোট নিয়ে মির্জা আব্বাসের বিস্ময় :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হওয়ার পর আসনটির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যাদের কোনও শক্তিশালী জনভিত্তি বা ভোট নেই, তারা এতো ভোট পেলো কীভাবে? এটিই প্রমাণ করে পর্দার আড়ালে কী ধরনের কারসাজি হয়েছে। অসংখ্য ব্যালট অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করেন ঢাকা-৮ আসনের নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস বলেছেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনে ব্যাপক ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। তিনি এই ধরনের অপচেষ্টাকে জাতির জন্য এক ‘অশুভ লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে নেতাকর্মীদের কোনও ধরনের বিজয় মিছিল বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি না করার নির্দেশ দেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “এখন সময় শান্ত থাকার এবং দেশ পুনর্গঠনে ধৈর্য ধারণ করার। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাই না।”
নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা শুরু থেকেই ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “জনজোয়ারের কাছে সেই ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ পর্যন্ত টেকেনি। তবে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।” পুনরায় ভোট গণনার কোনও সম্ভাবনা আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ইসলামি ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারিত্ব এবং ‘মব’ তৈরির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী হলে উঠতে গেলেই ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে কৃত্রিম জনরোষ বা ‘মব’ তৈরি করে তাদের বাধা দিচ্ছে। আব্দুল কাদেরের মতে, ছাত্রশিবির বর্তমানে তাদের পুরোনো ও বিতর্কিত রাজনৈতিক কৌশলে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের ভীতি ও জিম্মি দশা তৈরি করেছে।
আব্দুল কাদের তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবির এক প্রকার একচ্ছত্র আধিপত্য ও দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, শিবির প্রকাশ্যে রাজনীতি না করলেও তারা প্রতিটি হলে এবং ভবনভিত্তিক গোপন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সচল রেখেছে। অন্যদিকে, অন্য কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের কেউ যদি হলের সিট পেতে চায় বা হলে অবস্থান করতে চায়, তবে শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয় দিয়ে গভীর রাতেও তাদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করে হেনেস্তা করছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরা ক্যাম্পাসে এক প্রকার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ছাত্রনেতা আব্দুল কাদের আরও অভিযোগ করেন যে, ছাত্রশিবির কেবল মাঠ পর্যায়েই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের অনুসারীদের বসিয়ে তাদের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করছে। অনলাইনে শিবিরের নেতাকর্মীদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সাইবার কার্যক্রম বর্তমানে নোংরামি, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং বিশেষ করে নারী হেনস্তার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণেই তারা এখন নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে, যদিও ইতিমধ্যে অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে আব্দুল কাদের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, ছাত্রশিবির এখন সরাসরি সামনে না এসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্রশক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, শিবির গোপনে থেকে এই দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের দিয়ে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মোকাবিলা করাচ্ছে। তবে এনসিপি বা ছাত্রশক্তির মতো উদীয়মান সংগঠনগুলো জেনেবুঝে শিবিরের এমন কৌশলের হাতিয়ার হবে কি না এবং ভবিষ্যতে কোনো বিপদে পড়বে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। আব্দুল কাদেরের এই ফেসবুক পোস্টটি ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপির জোট মনোনীত প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ গরুর গাড়ি প্রতীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের জেলা নায়েবে আমির মো. নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রায় ১৭ বছর পর এই আসনে ৩০ হাজার ৬৮৯ ভোটের ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।
সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ (সদর) আসনে চারদলীয় জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ভোলা-১ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৬১ জন। তাঁদের মধ্যে ভোট দেন ২ লাখ ৫ হাজার ৬৭১ জন। আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ওবায়েদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯১ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান (জুয়েল মিয়া) ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১০৩ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আকবর হোসাইন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯৪ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী চেয়ার প্রতীকে পান ৩০২ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান আম প্রতীকে পান ২১৩ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজুল হক সূর্যমুখী প্রতীকে পেয়েছেন ১৩৩ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮২টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৪৪ হাজার ৩৭৪টি; যার শতকরা হার ৫১.৭১।
শুক্রবার সকালে ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে পার্থ তিন কারণে জয়ী হয়েছেন। এক নম্বর কারণ হচ্ছে, তিনি ভোলার উন্নয়নের রূপকার নাজিউর রহমান মঞ্জুর বড় ছেলে। দুই নম্বর হচ্ছে, আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ঐক্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হন এবং তিন নম্বর কারণ হলো, ব্যক্তিগতভাবে সারা দেশের মানুষ আন্দালিব রহমান পার্থকে চেনেন, ভালোবাসেন। তিনি অনেকের কাছে আইকন। তরুণদের আইডল। ভোলার মানুষ মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুকে বিশ্বাস করেছিলেন। বর্তমানে আন্দালিব রহমান পার্থকেও ভোলাবাসী বিশ্বাস করে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আগামী দিনে বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজগুলো তাঁর ছেলে পার্থ করবেন বলে মনে করি।’
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, কায়সার কামাল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট।
অর্থাৎ ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী। সমতল, পাহাড় ও আংশিক হাওরবেষ্টিত এই জনপদে মোট ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনে কায়সার কামাল ও গোলাম রব্বানী ছাড়াও জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাসদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে নেত্রকোনা-১ আসনটি হাজং বিদ্রোহ, তেভাগা ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মতো নানা যুগান্তকারী ঘটনার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে গারো, হাজং ও বাঙালি অধ্যুষিত এই জনপদে নিরলস প্রচার ও জনসেবা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রথাগত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বা শোডাউনের পরিবর্তে তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডে অধিক মনোযোগী হন। নিজ উদ্যোগে কয়েক হাজার দরিদ্র রোগীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও অস্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং মন্দির, গির্জা, মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উপাসনালয় সংস্কারের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। গৃহহীনদের ঘর প্রদানসহ তার এই বিশেষ জনকল্যাণমুখী ধারার রাজনীতিই মূলত এবারের নির্বাচনে বিশাল জয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
প্রত্যাশিত এই বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কায়সার কামাল বলেন, "আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জাতি, বর্ণ ও ধর্ম–নির্বিশেষে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। তাদের কাছে দেওয়া ওয়াদা যেন আমি রক্ষা করতে পারি, আমার জন্য সেই প্রার্থনা করবেন। আমি যেন সব সময় জনগণের সেবক হয়ে থাকতে পারি। এ ছাড়া এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশকে সুন্দর রাখার ব্যাপারেও আমি সব সময় সজাগ থাকব। সবাইকে নিয়োজিত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দুর্গাপুর–কলমাকান্দার উন্নয়নে কাজ করব।" তার এই বক্তব্যে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর কায়সার কামালের এই বিজয়কে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরবাসী তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
পরাজিত প্রার্থীদের সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করতে চান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিহিংসামুক্ত এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ডাক দিয়েছেন।
তিনি জানান যে, "প্রতিহিংসার রাজনীতি আর নয়। আমার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে নিয়ে বন্ধুসুলভ আচরণ বজায় রেখে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই, যাতে মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে সেটা পূরণ করতে পারি।"
দীর্ঘ দেড় দশক পর সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে তিনি ফ্যাসিবাদের অবসানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্ট রেজিমের পরে এবার প্রত্যাশিত নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে। বিগত তিন নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি সুষ্ঠুভাবে। এবার সদিচ্ছায় ভোট দিয়েছে, তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যে জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের প্রতি সম্মান জানাই। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। কিন্তু প্রতিহিংসার রাজনীতি আর নয়, আমার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে নিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বন্ধুসুলভ আচরণ বজায় রেখে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই, যাতে মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে সেটা পূরণ করতে পারি।" ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনার এই জনপদে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হবে বলে ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন।
দেশজুড়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। কায়সার কামাল মনে করেন, জনগণের সদিচ্ছায় গঠিত এই নতুন সরকার দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার পরিচয় দেবে। মূলত প্রতিহিংসার বদলে সহযোগিতার রাজনীতি চর্চা করার মাধ্যমে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের যে অঙ্গীকার করেছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে একটি ‘উগ্রবাদী দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, দেশে জামায়াতের এই উত্থানের পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসন ও দমন-পীড়নমূলক নীতি প্রধানত দায়ী। তাঁর মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখার ফলেই এমন চরমপন্থী শক্তির মাথা চাড়া দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যখনই কোনো দেশে প্রকৃত গণতন্ত্রকে চেপে ধরা হয় এবং জনগণের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখনই সেখানে উগ্রবাদী শক্তিগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঠিক সেটিই ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নমূলক শাসন এবং বিরোধী দলকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়ার কারণেই জামায়াতের বর্তমান এই অবস্থান তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করে বিরোধী মতকে কোণঠাসা করার ফলেই এই উগ্রবাদী শক্তির উত্থান সহজতর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের কথা উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ ইতোমধ্যে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করেছেন। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যা প্রমাণ করে জনগণ একটি সুষ্ঠু, সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের এই শক্তিশালী ম্যান্ডেটের মাধ্যমে আগামীতে দেশে সকল প্রকার রাজনৈতিক অপপ্রবণতা ও উগ্রবাদ রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি এসময় মন্তব্য করেন।
মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ এক নিরুত্তাপ ও শান্ত পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে, যা গতকালের নির্বাচনি উত্তাপের চেয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত। নির্বাচনের দিন ও ফলাফল ঘোষণার পূর্বরাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও আজ সেখানে গুটিকয়েক কর্মী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কাউকে দেখা যায়নি।
গতকাল পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হলেও এখন এটি সুনিশ্চিত যে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপিই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। যদিও জামায়াতে ইসলামী তাদের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়নি, তবে সংসদীয় আসনের হিসেবে এ যাবৎকালে অংশগ্রহণ করা নির্বাচনগুলোর মাঝে এবারই সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকছে তারা।
আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলের আমির শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। তবে এ সময় তিনি অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক কথা না বলেই সরাসরি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পর জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হবেন এবং উক্ত আলোচনার মাধ্যমেই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। মূলত দীর্ঘ লড়াই ও নির্বাচনি ব্যস্ততার পর মগবাজারের কার্যালয়টি এখন এক শান্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পরবর্তী দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে।
খুলনা-৫ আসনে নির্বাচনের ফলাফলে বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও উক্ত আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান যে, "চেক করে পুনর্গণনার আবেদন করার চিন্তা করছি। ৬ হাজার ভোট কেন বাতিল করা হলো সেটা আইন অনুযায়ী পুন: আবেদনের চিন্তা করছি।" নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, "নির্বাচনে ১৫০ কেন্দ্রে দায়িত্ব থাকা আমাদের অনেকেই বলছেন- কিছু অসংগতি রয়েছে। ৬ হাজার ভোট বাতিল করা হয়েছে, এটা যৌক্তিক কারণে হয়েছে কিনা, আইনের বিধান অনুযায়ী চেক করার আবেদনের চিন্তা করছি। "
নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, "আমার আসনে শুধু বিএনপি নয়, যাদের বিরুদ্ধে জুলাই হয়েছে সেই শক্তিরও একটি গোপন আতাত ছিল। আরও কিছু চক্র মিলে বড় শক্তির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। তারপরও দেড় লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছে, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।" সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে না পারলেও জনসেবার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমি কোন অন্যায় করিনি, মানুষের ওপর জুলুম করিনি, কালো টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করিনি, নৈতিকতার দিক থেকে তারা আমাদের কাছে পরাজয় বরণ করেছে। সেই দিক থেকে আমি বিজয়ী, এমপি হওয়া না হওয়ার সঙ্গে মানুষের সেবা করার কোন সম্পর্ক নেই, সেবা আমার আদর্শ, এটা করে যাব।" মূলত নৈতিক বিজয় এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নেভি হেড কোয়ার্টার মসজিদের পথে রওনা হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় দলীয় প্রধানের বাসভবনের সামনে সমবেত হওয়া বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায় এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে তিনি কিছুক্ষণ গাড়ি থামিয়ে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান নিজেই গাড়ির দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে কয়েকজনের পরিচয় জানতে চাইলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে ওঠেন, "আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।" জনসাধারণের এমন আবেগঘন আহ্বানের জবাবে তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তারেক রহমান বলেন, "আমার প্রতি আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার জন্য দোয়া করবেন।" এরপর তিনি নির্ধারিত নেভি হেড কোয়ার্টার মসজিদে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। মূলত নির্বাচনী বিজয়ের আবহ ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই সাধারণ উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর -কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ৬২ হাজার ১০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৫ হাজার ১২০টি ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনের ৯০টি কেন্দ্রে ভোটগণনা শেষে এ ফল ঘোষণা করা হয় এবং প্রাপ্ত তথ্যমতে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০ জন, যেখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। ঝালকাঠি জেলার দুটি আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে সদর-নলছিটি বা ঝালকাঠি-২ আসনে ৮ জন প্রার্থী লড়াইয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার ভোটারদের রায়ে বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামালের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে এই আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির সাতজন ‘বিদ্রোহী’ নেতা শেষ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। দলের মনোনয়ন তথা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক না পেয়েও তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং এখন বিজয়ী হয়ে দলীয় ও জোটভুক্ত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। বিজয়ী এই স্বতন্ত্র নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, চাঁদপুর-৪ আসনের আব্দুল হান্নান, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল এবং দিনাজপুর-৫ আসনের রেজওয়ানুল হক।
নির্বাচন কমিশন ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, দলীয় নানান উদ্যোগের পরও প্রতীক না পেয়ে সারা দেশের অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির এই ‘অভিমানী’ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে অনড় ছিলেন। বিশেষ করে শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৬টি আসনের মধ্যে ১২টিতেই তারা সক্রিয় থাকায় তৃণমূলের ভোট কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং এর ফলে অনেক আসনে বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা পরাজিত হন। এই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি জমিয়তের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সেখান থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জয়ী হয়েছেন। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদাকে হারিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং টাঙ্গাইল-৩ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে লুৎফর রহমান খান আজাদ বিজয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন।
একইভাবে চাঁদপুর-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশীদকে পেছনে ফেলে জয় পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুল হান্নান। কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির রেদোয়ান আহমেদকে পরাজিত করে আতিকুল আলম শাওন এবং ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের বিপরীতে সালমান ওমর রুবেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া দিনাজপুর-৫ আসনে ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামানের পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া রেজওয়ানুল হক বড় ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেছেন। মূলত নিজস্ব জনসমর্থন ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এই সাত নেতা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংসদে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
এবারের নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে ভোটাররাই; একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে বদলে দিয়েছেন সমীকরণ। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফলে দেড় শতাধিক আসনে জয় পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। জামায়াত জোট ৭৭ এবং অন্যান্য আরও সাত প্রার্থী জয়ী হওয়ার খবর এসেছে। বহুদিনের শক্ত ঘাঁটি, প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব আর পরিচিত মুখ সবকিছুকে ছাপিয়ে ফলাফলে উঠে এসেছে নতুন বার্তা, নির্বাচনে বিভিন্ন দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচনের বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির তিন হেভিওয়েট প্রার্থী হেরে গেছেন। এ ছাড়া বিএনপি, খেলাফত মজলিস ও এনসিপির আলোচিত প্রার্থীরাও রয়েছেন এই তালিকায়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮।
পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি। পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন।
এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাঁদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।
হামিদুর রহমান আযাদ
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বেসরকারিভাবে নির্বাচনে হেরে গেছেন।
প্রাপ্ত ফলাফলে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়েছেন।
শিশির মনির
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।
মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম।
এরমধ্যে বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের চেয়ে ৪০ হাজার ১০২ ভোট কম পেয়েছেন। মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। একইভাবে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের চেয়ে ২৬ হাজার ২২৯ ভোট কম পেয়েছেন। আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮২ হাজার ২১৭ ভোট ও ফয়জুল করিম ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। কেটলি প্রতীকে ভোট পাওয়ার সংখ্যা মাত্র ৩,৪২৬। ফলে তিনি জামানত হারিয়েছেন।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট পেয়েছেন।
সারজিস আলম
পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। আসটিতে ১৫৫ কেন্দ্রের এ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৮৩০৪।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
তাসনিম জারা
ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৬০ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
মো. মামুনুল হক
ঢাকা-১৩ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৯৪ টি। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৫১ ভোট।
রাশেদ খান
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান তৃতীয় হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট।
এ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী আবু তালিব। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র কাপ-পিরিচ প্রতিকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৫০ ভোট।
আমিনুল হক
ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হককে হারিয়ে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন। আসনে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার আব্দুল বাতেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
জিএম কাদের
রংপুর-৩ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)। তিনি পেয়ছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট।
সাইফুল হক
ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হককে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। অর্থাৎ সাইফুল হক থেকে ২২ হাজার ১৮০ ভোট বেশি পেয়েছেন সাইফুল আলম।
হারুনুর রশীদ হারুন
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুনকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নুরুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকে হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট।
মো. গোলাম সারোয়ার তুষার
নরসিংদী-২ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির আবদুল মঈন খান। তিনি ভোট পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৫২টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আমজাদ হোসাইন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬৮ ভোট। আর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. গোলাম সারোয়ার তুষার পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩৬ ভোট।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বকে ছাপিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে দিবাগত গভীর রাত ২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে ৫৬.৪১ শতাংশ, ফেনী-২ আসনে ৫১.৮৭ শতাংশ এবং ফেনী-৩ আসনে ৫৪.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ৪২৮টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৪৩৯টি কক্ষে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ফেনী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট। ফেনী-২ আসনে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ইগল প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। এদিকে ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট।
উল্লেখ্য যে, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটাররা সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটও দিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ফেনী-১ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৩৯,৫৪৯ ও ‘না’ ৬০,০৫৮ ভোট; ফেনী-২ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৩৮,৭৩২ ও ‘না’ ৭২,৫৩৩ ভোট এবং ফেনী-৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৬১,৩২১ ও ‘না’ ১১৪ ভোট পড়েছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও নির্বাচনকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ফেনীর তিনটি আসনে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। এই নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনে সব মিলিয়ে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।