বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের সাজা বহাল রেখে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৭৩ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়ে টুকুর বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের দেয়া দুটি ধারায় ৯ বছরের সাজা বহাল রেখেছেন আদালত। রায়ের কপি প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
লিখিত রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। আদালত বলেছেন, ‘অর্থ ও সম্পদ গড়তে দেশে অনেক বৈধ ব্যবসা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পেশার মাধ্যমেও অর্থ ও সম্পত্তি অর্জন করা যায়। কিন্তু অর্থ উপার্জনের রাজনীতি কোনো পথ হতে পারে না।’
তাছাড়া রাজনীতিবিদেরা যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যায় তাহলে সমাজে অন্ধকার নেমে আসে বলেও মন্তব্য করেন আদালত।
সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের মার্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা করে দুদক। চার কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় বিশেষ জজ আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২)(ক) ধারায় দুই বছর ও ২৭ (১) ধারায় সাত বছর এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে টুকু আপিল করলে ২০১১ সালের ১৫ জুন তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট। দুদক সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
এরপর এ মামলার পুনঃশুনানি নিয়ে গত ৩০ মে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন। আর ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পক্ষে ছিলেন আজমালুল হোসেন কেসি ও মো. সাইফুল্লাহ মামুন।
শেষ মুহূর্তে জমজমাট হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী এলাকা। স্থানীয় চায়ের স্টলগুলোতে নির্বাচনী ঝড় ওঠেছে। প্রার্থী ও প্রতীকের জয়পরাজয় নিয়ে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ভোটাররা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে শেষ হাসি হাসবেন বিএনপি প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। ভোটের লড়াইয়ে তাঁর ধারেকাছে কেউ থাকবেন না।
রূপগঞ্জ উপজেলা নিবাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার এ আসনে ভোটার রয়েছে চার লাখ আট হাজার ৮২৯ জন। এর মধে পুরুষ দুই লাখ সাত হাজার ৮৪৯ জন আর দুই লাখ ৯৭৭ জন নারী ভোটার। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৯টি।
ভোটাররা জানান, দিপু ভূঁইয়ার দাদা গোলবক্স ভূঁইয়ার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তৎকালীন রূপগঞ্জের অনেক স্কুল, রাস্তাঘাট তার দাদা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। এটা মানুষ এখনো ভোলেনি। তার পিতা মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারমান। সে সুবাদে তার পিতার পরিচিতি রয়েছে রূপগঞ্জে। তার ব্যক্তিগত একটা ভোটব্যাংক রয়েছে। তার চাচা সুলতানউদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য। তার হাত ধরে রূপগঞ্জে রাস্তাঘাট আর শিল্প বিপ্লব ঘটতে শুরু করে। তারও বক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে। তার আরেক চাচা সোবহান ভূঁইয়া ছিলেন মুড়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারমান।এখানেও তার ভোটব্যাংক রয়েছে।
ভোটাররা বলেন, দিপু ভূঁইয়া নিজে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে রূপগঞ্জের শিল্প-কারখানার ভাসমান শ্রমিকদের ভোট তিনি পারবেন।
গুতুলিয়া এলাকার ভোটার করিম শেখ, হোসেন মিয়া, আবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা ভূঁইয়াগো টেকা-পয়সা খাইয়া বড় অইছি। জীবন বাঁচাইছি। অহন ভোট আমরা ওনারেই দিমু। আর দিপু ভূঁইয়া ভালা মানুষ।’ নারী ভোটাররা জানান, রূপগঞ্জের নারী ভোটের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দিপু ভূঁইয়া পাবেন। কারণ দেড় বছর ধরেই তিনি নারীদের নানা সমস্যা সমাধান করে আসছেন।
কুলসুম বেগম, আফিয়া খাতুন, রেজিয়া বেগম বলেন, ‘উনি ভালা মানুষ। উনার বাপ-দাদা-চাচারা ভালা মানুষ আছিল। আমরা ভোট তারেই দিমু। উনি কইছে আমাগো গ্যাস দিব।’
নির্বাচনে জয় নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান দিপু বলেন, ‘আমার বাবা-চাচারা রূপগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। আমিও সেই পথের পথিক হতে চাই। আমার কোনো অভাব নেই। কোনো চাহিদা নেই। শুধু রূপগঞ্জের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জনই আমার রাজনীতিতে আসা।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হতো না এবং তারা রাজনীতি করার সুযোগ পেত না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে টেলিভিশন খুললেই বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক কথাবার্তা বলা হচ্ছে, যা চরম অকৃতজ্ঞতার লক্ষণ। রিজভী মনে করিয়ে দেন যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুযোগ না দিলে তারা কখনো এ দেশে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেতেন না।
সোমবার (৯ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এইসব কথ বলেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রিজভী জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যেখানে তারা (জামায়াতে ইসলামী) নারীদের নেতৃত্ব ও উচ্চপদে আসীন হওয়ার বিরোধিতা করছে। তিনি বলেন, তারা এখন আল জাজিরায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলছে নারীরা রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবে না, অথচ বিএনপির নারী নেতৃত্বের অধীনেই তারা একসময় মন্ত্রী ছিল। রিজভী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এমন রাজনৈতিক আদর্শ ক্ষমতায় এলে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হবে এবং মেয়েরা সমাজে তাদের ন্যায্য স্থান পাবে না।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের ভেতর খাদ্যে বিষক্রিয়ার শিকার করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের জুলুম, নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কুড়িগ্রাম-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের পক্ষে আয়োজিত এই সভায় দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি মহলের গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী একটি চক্র নকল ব্যালট পেপারের সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। ২০ কোটি মানুষের এই দেশ পুনর্গঠন করাকেই বর্তমানে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরে মেগা প্রজেক্টের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এইসব কথা বলেন।
জনসভায় তারেক রহমান বিএনপির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, দল সরকার গঠন করলে নারীদের, বিশেষ করে প্রান্তিক নারী ও গৃহিণীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেবে। পাশাপাশি কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ‘কৃষিকার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যারা বিদেশে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের সহজ ব্যবস্থা করা হবে যাতে কাউকে নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করতে না হয়।
সবশেষে তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই সচেতন ও সতর্ক থাকলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি উপস্থিত জনতাকে সাথে নিয়ে শপথ নেন যে, যেকোনো মূল্যে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হবে। বাংলাদেশের প্রত্যাশিত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেছেন, ‘উনারা (জামায়াত) ৩ কোটি বোরকা বানিয়েছে। নতুন বোরকা দেখলেই বুঝতে পারবেন ভেজাল আছে’।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত ধানের শীষের এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত প্রায় তিন কোটি বোরকা তৈরি করেছে এবং কোথাও নতুন বোরকা পরিহিত কাউকে দেখলেই তাতে ‘ভেজাল’ আছে বলে ধরে নিতে হবে। তিনি উপস্থিত সমর্থকদের জামায়াতের এমন কৌশল ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আলীম আরও দাবি করেন যে, ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর মিছিলে নারীদের উপস্থিতি বেশি দেখানোর জন্য পুরুষরা বোরকা পরে অংশ নিয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এ ধরনের ছদ্মবেশ ও কৌশল থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। উক্ত জনসভায় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
এতে তিনি যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন, কৃষকের অধিকার নিশ্চিত, নদীভাঙন রোধ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পর্যটন শিল্প বিকাশ এবং মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহ্বায়ক মো. রেদওয়ান খান, সাবেক বিএনপি নেতা এস এম জামান মতিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুফিয়ান আহমেদ, সংগঠক আব্দুল কাইয়ুম মিন্টুসহ দলের নেতারা।
লিখিত ইশতেহারে শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে বৈষম্যহীন, আধুনিক ও মানবিক কুলাউড়া গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।’ উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন তিনি।
কুষ্টিয়া ২ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে ভেড়ামারা-মিরপুর মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতন মুক্ত করব। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ভেড়ামারা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধানের শীষের নির্বাচনি জনসভায় এ কথা বলেন।
ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শাহাজান আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, মহানগর মহিলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় পার্টি নেতা আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপি নেতা লে. কর্নেল (অব.) সামসুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু দাউদ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলু প্রমুখ।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী তিনি তার নিজ ইউনিয়ন কাঁঠালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেন।
পথসভায় লিটন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করতে এবং একটি সমৃদ্ধ ত্রিশাল গড়তে আমি এই ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করছি। পথসভাগুলোতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনি প্রচারণার এই উত্তপ্ত সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জনসভার বক্তব্য কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রংপুর-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানায় এই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সম্পন্ন করেছেন। জিডি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রনক নামে এক ব্যক্তি উক্ত প্রার্থীর একটি জনসভার বক্তব্য বিকৃতভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। ভিডিওটিতে মূলত বিগত সময়ের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে দেওয়া বক্তব্যকে সুকৌশলে পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ণ হয়।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আখতার হোসেন জানান যে, তিনি তার বক্তব্যে বিগত সময়ের জনপ্রতিনিধিদের ‘অকর্মা’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারিত ওই ভিডিওটিতে তথ্য গোপন করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি ‘হারাগাছবাসীকে অকর্মা’ বলেছেন। এনসিপি প্রার্থী এই কর্মকাণ্ডকে তার এবং হারাগাছবাসীর জন্য চরম মানহানিকর বলে অভিহিত করেন এবং অবিলম্বে এই ভিডিও অপসারণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
জিডি কার্যক্রম শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আখতার হোসেন নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশনার কঠোর সমালোচনা করেন। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধি-নিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তকে তিনি অগণতান্ত্রিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হতে পারে। আজকের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি মনে করেন, নির্বাচনি এলাকায় অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশের প্রচলিত প্রতিহিংসার রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। রবিবার ভোলা সদর, লালমোহন ও চরফ্যাশন এলাকায় হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত পৃথক প্রচারণাসভায় তিনি বলেন, দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদলের সময় একে অপরের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানোর যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার অবসান ঘটাবে ইসলামী আন্দোলন। চরমোনাই পীর আশ্বস্ত করেন যে, তাঁদের দল ক্ষমতায় এলে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ—কাউকেই দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না; বরং ইসলামী শাসনব্যবস্থায় প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন।
নির্বাচনী সভায় মুফতি রেজাউল করিম দেশের অন্যতম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, দেশে ইসলামী ভোটের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের, অন্য কোনো দলের নয়। তাঁর মতে, জামায়াত ও বিএনপি কোনো দলই প্রকৃতপক্ষে ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না। বিশেষ করে জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা শরীয়া আইন থেকে বিচ্যুত হয়ে প্রমাণ করেছে যে তাদের দ্বারা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন যে, জামায়াত বা বিএনপি যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা কেউই শেষ পর্যন্ত ইসলামের প্রকৃত পথ অনুসরণ করবে না।
চরমোনাই পীর ধর্মপ্রাণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাত পাখা প্রতীকে ভোট দিলে মানুষ ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগতেই শান্তি লাভ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ইসলামী শাসনের বিকল্প নেই। জনসভায় তিনি ভোলার বিভিন্ন আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ী করার অনুরোধ জানান। এর মধ্যে ভোলা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান, ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন এবং চরফ্যাশন আসনের প্রার্থী প্রফেসর কামাল উদ্দিনের পক্ষে তিনি জোরালোভাবে ভোট প্রার্থনা করেন। ভোলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই নির্বাচনী সভাগুলো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের এই সফর এবং বক্তব্য স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
আঞ্চলিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি প্রায়শই নতুন মোড় নেয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দলবদলের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নির্বাচনি প্রচারণার প্রাক্কালে দলীয় আনুগত্য পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার ও কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার লতিফুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় এমন এক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কালিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার উক্ত জনসভায় উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। উজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এই সভায় কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী কামরুল হুদার সমর্থনে বক্তব্য প্রদানকালে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে’। উল্লেখযোগ্য যে, গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষেও ভোট চেয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার মূলত ২০১৫ সালের একটি আলোচিত পেট্রলবোমা হামলা মামলার আসামি হিসেবে গত বছর গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টা অনেকটা ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছি’ এ রকম। আমি বিএনপির লোক। বিএনপির সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মাঝখানে আমাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ দিয়েছিল, কিন্তু আমি আওয়ামী লীগে যোগ দেইনি।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জানিয়েছেন যে, সালাউদ্দিন আহমেদ অতীতে বিএনপি করতেন এবং কেবল নির্বাচনি সভায় তাঁর উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিই তাঁর জানা রয়েছে। আওয়ামী লীগের পদে থেকেও জামায়াতের হয়ে প্রচারণা এবং অবশেষে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদানের এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি সমীকরণের এই পরিবর্তন তৃণমূলের ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে আল্লামা মামুনুল হককে সরকারের মন্ত্রী করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। জোট মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থনে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে জামায়াত আমির এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, মামুনুল হক বিজয়ী হলে এই অঞ্চলের মানুষ একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী পাবেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, মামুনুল হকের মতো একজন নেতাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা মোহাম্মদপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হবে।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে নির্বাচনি পাহারাদারি জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিজয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রার্থীদের বিজয়ের মালা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনি প্রক্রিয়া সতর্কতার সাথে পাহারা দিতে হবে। কোনো ধরনের ভোট ছিনতাই বা দুঃশাসন ফিরিয়ে আনার দুঃস্বপ্ন যেন কেউ দেখতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসৎ ব্যক্তি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও দখলবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মামুনুল হক নির্বাচিত হলে এসব সন্ত্রাসীদের হাত থেকে এলাকাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনি এই জনসভায় জোটের সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক নিজে। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। বক্তারা দেশে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অবসান ঘটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের নির্বাচনি সমীকরণ এবং জোটের প্রচারণায় এই জনসভাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বক্তারা ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসার দীর্ঘকাল ধরেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী হওয়ায় জাতীয় উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ এখন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় নারী সমাজকে অগ্রাধিকারে রেখে এক বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাবিষয়ক এক বিশেষ আলোচনা ও চা চক্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান এই রূপরেখা তুলে ধরেন। লেডিজ অব গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচএস ও নিকেতনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ ও মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দেশের জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। দেশ গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।"
বিএনপি নির্বাচিত হলে নারীদের কল্যাণে বিশেষায়িত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোবাইদা রহমান বলেন, "আমরা নারী সাপোর্ট সেল গড়ে তুলব। উদ্যোক্তা নারীদের আর্থিক ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে। অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।" তিনি বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদান করা গেলে নারীরা অর্থনীতির মূলধারায় আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
উক্ত আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক হাসিনা খান, স্থপতি ও পাইলট ক্যাপ্টেন ইয়াসমিন, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নায়লা জামান। এ ছাড়াও গুলশান, বনানী ও বারিধারাসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে শায়লা রহমান, আল্পনা হাবিব এবং জেবুন নাহার মঈনসহ অন্যান্য নারী উদ্যোক্তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নারী উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা সম্মিলিতভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির নীল নকশা তৈরি হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদিবাগস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে সিল ও ব্যালট পেপার তৈরির পাশাপাশি বোরকা তৈরি করছে। এমনকি সাধারণ মানুষের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জালিয়াতির নতুন পদ্ধতি অনুসরণের শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থায় নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটাধিকার রক্ষায় দেশের সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা তুলে ধরে আমীর খসরু জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হবে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে আত্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ ও নাগরিকদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি দিতে হবে।
চট্টগ্রামকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে কেবল নামেমাত্র বাণিজ্যিক রাজধানী রাখা হবে না। বরং চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি শক্তিশালী ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। বন্দরনগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশব্যাপী ভোটের ব্যাপক উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করছেন বলে দাবি করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, একটি সমৃদ্ধ ও নতুন বাংলাদেশ গড়তে দেশের সাধারণ নাগরিকরা অতীতের মতো এবারও বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হলে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।