রাজধানীর নয়াবাজার (বাবুবাজার ব্রিজের প্রবেশ মুখ) মোড়ে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা থাকলেও এর বদলে ধোলাইখাল মোড়ে অবস্থান নেয় দলটির নেতা-কর্মীরা। এই মোড়ে শনিবার বেলা ১১টায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশের পিটুনিতে আহত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পরে আহত অবস্থায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে পুলিশের ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। জবাবে ইট-পাটকেল ছোড়েন অবস্থানকারীরা। এতে পিছু হটে পুলিশের সদস্যরা। অন্যদিকে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এর আগে নয়াপল্টনে বিএনপি মহাসমাবেশে শনিবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোয় অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা জানিয়েছে বিএনপি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে একটি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিহিত করে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে তারা নিরন্তর নিজেদের নীতিমালায় পরিমার্জন এনেছেন। ভারতের ইংরেজি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল– যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের নীতিগুলো ক্রমাগত পরিমার্জন করেছে।’ জনমুখী রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’
দীর্ঘ সময় প্রথাগত নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান যে প্রতিকূল সময়েও জামায়াত কখনও গণতান্ত্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সেই অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে থাকে তখন সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কতটা জরুরি।’ তাঁর মতে, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগকে আরও গভীর করেছে। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিপরীতে জামায়াতের সুশৃঙ্খল রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের অভাবনীয় সাফল্য এরই প্রতিফলন বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনি রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে জামায়াত আমির জানান যে তারা ইতিমধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছেন। বিএনপির সঙ্গে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ এবং ভবিষ্যৎ ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। জোটবদ্ধ রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি—এই তিনটি মূলনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বহুদলীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়।
সংখ্যালঘু ও নারীদের অধিকার নিয়ে ওঠা দীর্ঘদিনের সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন যে জামায়াত সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। এর প্রমাণস্বরূপ তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে কৌশলগত কারণে জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব না হলেও জোটের অন্য নারী প্রার্থীদের জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির নারী প্রতিনিধিদের সফলতার উদাহরণ তিনি তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে অতীতের রাজনৈতিক বিতর্ক ও তিক্ততা প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত মানবিক অবস্থান থেকে বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যদি কোনো জামায়াত সদস্যের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।’ মূলত কর্মসংস্থান ও জাতীয় উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই জামায়াতের বর্তমান রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে তিনি সাক্ষাৎকারে পুনর্ব্যক্ত করেন।
পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপি নেতা সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন যে ভজনপুর ইউনিয়নে তাদের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে ইসলামবাগ এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, বিরোধীরা দাবি করছে ওই ইউনিয়ন নাকি কেবল ‘ধানের শীষের’ এলাকা এবং সেখানে অন্য কারও প্রচারণা চালানো যাবে না। এমন দাম্ভিক আচরণের প্রতিক্রিয়ায় সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা বলতে চাই যার যত দ্রুত ডানা গজাবে, তার তত দ্রুত পতন হবে। কারো পালানোর জন্য ভারত ছিল। অনেকের কোনো দেশই নেই পালানোর জন্য।’
গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বলেন যে মানুষ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে, এটাই নিয়ম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আমরা তাদের বলব গণতান্ত্রিক আচরণ করতে। মানুষ যাকে মনে হয় তাকে ভোট দেবে। আপনি যদি কাউকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে এর আগে যারা এমন আচরণ করেছিল আপনি তাদের অনুসারী। তাদের অনুসারীদের অবস্থা তাদের চেয়েও খারাপ হবে। তারা এর আগে ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জালিমরা জুলুম করার পরেও যদি ভোট পায় তারা মানুষকে তখন মানুষ মনে করবে না।’ মূলত সুস্থ রাজনীতির ধারা বজায় রাখার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
নিজের স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান ব্যক্ত করে সারজিস আলম ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কাছে চাঁদাবাজি বা মাদক কারবারি টাকা নেই যেটা দিয়ে আমি ভোট কিনব। আমার কাছে উপরে সৃষ্টিকর্তার দয়া আর আপনাদের ভালোবাসা আছে। তাই পরিবর্তন চাইলে শাপলা কলিতে ভোট দিতে হবে।’ পথসভায় তিনি এলাকার উন্নয়নে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং ভোটারদের শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানান। মূলত কোনো প্রকার অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার না করে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই জোট প্রার্থী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের নির্বাচনী রূপরেখা বা ইশতেহার দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এটি পরিচালনা করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবারই প্রথম বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার। এর আগে পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দলের তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন এবং ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে তাঁর অনুপস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইশতেহার পাঠ করেছিলেন। অন্যদিকে, বিগত দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বয়কট করেছিল।
দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন ইশতেহারের মূল দর্শন সম্পর্কে আলোকপাত করে জানান যে, এটি মূলত জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও তৃণমূলের ক্ষমতায়নের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি। সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কিন্তু সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন, পরিবর্তনের আলোকে যুগের চাহিদা মিলিয়ে জনমানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আসছে।’ তিনি আরও জানান যে, এই ইশতেহারে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন মনে করেন, তারেক রহমানের সূচিত এই পরিকল্পনাগুলো মূলত জনগণের স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সুরক্ষার কবজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, হি হ্যাজ এ প্ল্যান। এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের এমপাওয়ারমেন্টের জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বনির্ভরতার পাশাপাশি সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য।’ তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে। আমাদের ইশতেহারের প্রতিটি পর্যায়ে সেই জনগণের ক্ষমতায়ন, জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা, স্বাধীনতা, অধিকার, নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন থাকবে। যেখানে মানুষ তার পরিবার নিয়ে এখন থেকে অনেকটা ভালো থাকবে। প্রতিটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট সুবিস্তৃত যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার মাধ্যমে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ মূলত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিএনপির এই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে।
বিএনপির ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে ড. ইউনূসকে মূলত জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠন এনসিপি ক্ষমতায় বসিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি দাবি করেন, “ড. ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা (এনসিপি)। সরকার প্রধান নিজেই বলেছে ওরা তাকে বসিয়েছে৷”
মির্জা আব্বাসের মতে, জামায়াত ও এনসিপি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। একটি বিশেষ মহল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পুরোনো শকুন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, এখন পর্যন্ত এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি।” তিনি অভিযোগ করেন যে এই চক্রটি নিয়মিত বিএনপিকে গালিগালাজ করছে এবং নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণের ভোটের প্রকৃত ফলাফল প্রশাসনে থাকা জামায়াতপন্থী ব্যক্তিরা বদলে দিতে পারে। তিনি দাবি করেন যে কিছু দল ক্ষমতার লোভে বিদেশিদের সাথে গোপন চুক্তি করেছে এবং একটি বিশেষ দলকে জেতানোর চেষ্টা চলছে, যা ব্যর্থ হলে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি মারাত্মকভাবে ভোট কারচুপির শঙ্কা দেখছি। বিএনপি হলো একটি জাতীয়তাবাদী দল, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এইটা তারা মানতে পারছে না।” এ সময় তিনি কর্মী সমর্থকদের সজাগ থাকার এবং ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “এ দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। মিথ্যা আর ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। আমরা তা মেনে নেবো না। ভোটের ফলাফল নিয়েই আমরা ঘরে ফিরবো।” বিরোধী পক্ষের উসকানি সত্ত্বেও নির্বাচনের আগে কোনো হাঙ্গামায় না জড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “ওরা চাচ্ছে আমি কোথাও না কোথাও একটা গণ্ডগোল করি। কিন্তু আমি তা করবো না। নির্বাচনের আগে আমি কোনো গণ্ডগোল করতে চাই না। যদি প্রয়োজনে নির্বাচনের পরে করবো।” মূলত ভোটের অধিকার রক্ষা এবং ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা আব্বাস তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিতর্কিত ও নেতিবাচক ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কোটবাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জামায়াত এখন পর্যন্ত তাদের অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয় এবং দেশের মানুষ তাদের কাছ থেকে আজ অবধি কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা দেখতে পায়নি। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, তারা যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা না করে, কারণ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের এই ধরণের রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে সুকৌশলে স্বাধীনতার বিকল্প ইতিহাস বর্ণনা করার একটি অপচেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত আমির দাবি করেছেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেননি, বরং অন্য একজন এটি করেছেন। এই ধরণের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ও অসম্মানজনক হিসেবে অভিহিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সচেতন সমাজ সবাই এই অসত্য তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা একাত্তরে পাক-হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে এবং এ দেশের মা-বোনদের শত্রুর হাতে তুলে দিয়েছিল, তাদের মুখে আজ গণতন্ত্র বা স্বাধীনতার কথা মানায় না।
নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, যারা এ দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার সাথে জড়িত ছিল, তারা আজও পর্দার আড়ালে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে যে সংগ্রাম করে আসছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গণতন্ত্রের ভিত আরও সুসংহত হবে।
পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। উল্লেখ্য, এই আসনে শাহজাহান চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী। সালাহউদ্দিন আহমদের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ারী ওই দিন উখিয়ায় তাঁর সকল নির্বাচনী প্রচারণা ও মাইকিং বন্ধ রেখেছিলেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পথসভায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সালাহউদ্দিন আহমদের এই ঝাঁঝালো বক্তব্য স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে ভারতের কলকাতা ও দিল্লিতে আত্মগোপনে আছেন। দেশটির এই দুই শহরকে কেন্দ্র করেই দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কৌশল নির্ধারণে ধারাবাহিক বৈঠক, যোগাযোগ ও সমন্বয় চালাচ্ছে তারা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য সামনে আসছে। নিষিদ্ধ দলটির নির্বাসিত নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং খুব দ্রুতই তাদের নির্বাসনের সময় শেষ হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কলকাতার শপিং মলের ভিড়ঠাসা ফুড কোর্টে, কালো কফি আর ভারতীয় ফাস্টফুড খেতে খেতে, নির্বাসিত আওয়ামী লীগের রাজনীতিকরা বসে নিজেদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ছক কষছেন।
প্রায় ১৬ মাস আগে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক গণঅভ্যুত্থান তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। তার পেছনে ফেলে যাওয়া রাজপথ ছিল রক্তাক্ত। জুলাইয়ের সেই আন্দোলন দমনে তার সরকারের শেষ দমন-পীড়নে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন।
এর পরপরই তার দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশ ছাড়ে। তারা দলীয় শাসনামলের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জনরোষ ও একের পর এক মামলার মুখে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগের অন্তত ৬০০ নেতা ভারতের সীমান্তঘেঁষা শহর কলকাতায় আশ্রয় নেন। যেখানে তারা তখন থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
দলীয় কার্যক্রম ও সংগঠন টিকিয়ে রাখতে ভারতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনচাপের মুখে আওয়ামী লীগকে স্থগিত করে এবং সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। হত্যা ও দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার শুরু হয়। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে—যা হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন—দলটিকে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত বছরের শেষ দিকে একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তবে হাসিনা তার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে গেছে—এমনটা মানতে নারাজ। তিনি এই রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ভারত থেকে নিজের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করতে হাজার হাজার সমর্থককে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গোপন আশ্রয় থেকে হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দলীয় বৈঠক ও বাংলাদেশের ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনালাপ করছেন। এসব রাজনৈতিক তৎপরতা হচ্ছে ভারত সরকারের নজরদারির মধ্যেই—যে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধ উপেক্ষা করে চলেছে।
গত এক বছরে সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে দলীয় কৌশল ঠিক করতে। তাদের একজন ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সারাক্ষণ বাংলাদেশের নেতাকর্মী, তৃণমূল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি আমাদের দলকে আসন্ন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছে। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো তিনি (শেখ হাসিনা) দিনে ১৫–১৬ ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন বা বৈঠক করেন। আমরা বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা একজন নায়ক হিসেবে দেশে ফিরবেন।’
হাসিনার অধীনে গত দুইটি নির্বাচন ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে গত এক দশকের মধ্যে প্রথম সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন।
তবে আওয়ামী লীগের দাবি, তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক বৈধতার সব দাবিই ভেঙে পড়ে। তারা ইউনূসকে ‘প্রতিশোধপরায়ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি এই ভুয়া নির্বাচনে অংশ না নিতে। ভোট বর্জন করতে এবং কোনো প্রচারণায় না যেতে।
বাংলাদেশে যারা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকে স্বৈরতন্ত্র ও লুটপাটের শাসন বলে মনে করেন, তাদের কাছে দলটির হঠাৎ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি গোপন গোষ্ঠী নির্বাচনের আগেই ভুয়া সিল ও ব্যালট ছাপিয়ে অনৈতিকভাবে ভোট প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। যারা গুপ্ত নামে পরিচিত, তারা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া সিল তৈরি করছে, ব্যালট ছাপাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে ভয় দেখাচ্ছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরের বান্দ রোড সংলগ্ন ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় দুই দশক পর বরিশালে এসে তার এই ভাষণ ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
তারেক রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পত্রপত্রিকায় খবর পাচ্ছি এই গোষ্ঠীর লোকজন তাদের পরিচিত প্রেসে ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। তারা এসব ব্যালট পকেটে নিয়ে ঘুরবে, ভোটের সময় ব্যবহার করবে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। অথচ তারা দাবি করছে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। যারা শুরুতেই অনৈতিক পথে হাঁটে, তারা কখনো সৎ শাসন দিতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, মা-বোনদের তথ্য নেওয়ার মতো অপমানজনক কাজ করার পর এখন তারা বলছে তাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইডি হ্যাক হয়নি। আসলে ধরা পড়ার পর তারা মিথ্যা কথা বলে নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে।
জনসভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ১৩ তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে থাকবেন। কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো দল টিকে থাকতে পারে না। তাই জনগণের পাশে থাকতে হবে, তাদের সেবা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ১২ তারিখ জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোনো ষড়যন্ত্র সফল না হয়।
জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বরিশালে যে উন্নয়ন হয়েছে, তারেক রহমান সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নেবেন। তাকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা অনেক।
সমাবেশের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতারা বক্তব্য রাখেন।
জনসভায় বক্তব্য দিতে বেলা ১২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন তারেক রহমান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বরিশাল বিভাগের শীর্ষ বিএনপি নেতারা। পরে গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি বেলস পার্ক মাঠে পৌঁছান। মঞ্চে উঠেই হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ সময় পুরো মাঠ স্লোগান ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।
তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে লাখো মানুষ সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে শুরু করেন। পুরো শহর ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সাজানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন ছিলেন।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে বরিশাল সফর করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার চেয়ারম্যান হিসেবে তার বরিশাল আগমনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জঙ্গি ও উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাইর পীর)।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ ঘোষণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চরমোনাইর পীর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক নেতা দেশকে জঙ্গিবাদী বা উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করেননি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জঙ্গি হিসেবে তুলে ধরেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছে। বৈঠক হওয়া স্বাভাবিক হলেও সেগুলো গোপন কেন—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভারতের পক্ষ থেকে এসব বৈঠক ধারাবাহিকতার অংশ বলে উল্লেখ করায় আরও আগেও এমন বৈঠক হয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতা থেকে ইসলামী আন্দোলনের সরে আসা প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে ইসলামী আদর্শ ও ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এই কারণেই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য না থাকলে সেই জোটের সঙ্গে থাকলে জাতি ধোঁকায় পড়বে এবং দেশ সুন্দর হওয়ার বদলে আরও অসুন্দর হয়ে উঠবে। তাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ওই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। সরকার গঠনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই জোটের নেতারা। তবে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আরোহণ করে সেক্ষেত্রে এনসিপির অবস্থান কেমন হবে, তা স্পষ্ট করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে যেকোনো সরকার গঠিত হলে আমরা তা মেনে নেব। সংস্কার গণভোটে পাস হলে এবং সরকার তা বাস্তবায়ন করলে আমরা স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করব। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। সেগুলো নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। কে ক্ষমতায় আছে, তার চেয়ে জাতীয় ঐক্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট এবং দলটির ভাবনার সঙ্গে এনসিপির মিল নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এটি মূলত নির্বাচনী সমঝোতা, আসনভিত্তিক সমন্বয়। তবে কিছু বিষয়ে আমাদের মিল আছে। বড় একটি বিষয় হলো বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কার। এ জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে গণভোট হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছি। যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করব। সংস্কার আমাদের অন্যতম প্রধান অ্যাজেন্ডা। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবাদের বিরোধিতা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান।’
জামায়াত-এনসিপি জোটের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নাহিদের বক্তব্য, ‘আমরা জোটের অংশ হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এনসিপি কতটি আসন পাবে, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ, আমরা নতুন দল, আগে কোনো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই। তবে আমরা আশাবাদী, এনসিপি ও জোট ভালো ফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।’
এই জোটের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব চায়। তথাকথিত অভিজ্ঞ দলগুলো, যেমন বিএনপি অতীতে খুব ভালো শাসন দিতে পারেনি। মানুষ ভিন্ন কিছু দেখতে চায়।’
প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। ‘একদিনে দুই ভোট’ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ এখন প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিজেদের নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা, ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ কার্যকরের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র রায় পেতে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার।
গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে খেলাফত মজলিসের উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুস ছাত্তারের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুরের বরমী জামিয়া আনওয়ারীয়া মাদরাসার হলরুমে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর হাতে ফুল দিয়ে তারা এই যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শ্রীপুর এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন খেলাফত মজলিস শ্রীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুস ছাত্তার, হেফাজতে ইসলামের উপজেলা সিনিয়র সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন, বরমী আনওয়ারীয়া মাদরাসার মোহতামিম মুফতি আশেকে মোস্তফা এবং খেলাফত মজলিসের সদস্য ইকবাল হোসেনসহ অন্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু মন্তব্য করেন যে, “বিগত সরকারের আমলে আলেম সমাজ সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে আলেম সমাজ রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা ও সম্মান পাবে।”
বিএনপিতে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আব্দুস ছাত্তার আক্ষেপের সঙ্গে বলেন যে, “দীর্ঘ আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় হলেও আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। যারা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের কথা বলে, বাস্তবে তারা আলেম সমাজের পাশে নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “তুলনামূলকভাবে বিএনপিই আলেম সমাজকে সবচেয়ে বেশি সম্মান দেয়। এ কারণেই আমরা অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপির পতাকাতলে শামিল হয়েছি।” এই অনুষ্ঠানে ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা এস এম রুহুল আমীন, শেখ আব্দুর রাজ্জাক, এস এম মাহফুল হাসান হান্নান, অ্যাডভোকেট আবু জাফর সরকার এবং আফাজ প্রধানসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অন্য নেতারাও উপস্থিত থেকে নবাগতদের বরণ করে নেন।
নওগাঁয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির এর মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত নওগাঁ শহরের ড্যাফোডিলস স্কুল প্রাঙ্গনে শহীদ ওসমান হাদী কালচারাল সোসাইটি নওগাঁ এর আয়োজন করে।
যেখানে প্রায় তিনশতাধিক তরুণ-তরুণী অংশ নেয়। এ সময় বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর দেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, এবিপার্টি নওগাঁর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কাজী আতিকুর রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান সোহাগ, ওসমান হাদী কালচারাল সোসাইটি নওগাঁর সংগঠক তানজিম বিন বারী সহ অন্যরা।
প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন- এ সমাজ থেকে আমি দুর্নীতি করবো না, বা কাউকে দুর্নীতি করতে দিব না। আমি ভোট চুরি করবো না, কাউকে চুরি করতে দিবো না। কেউ চুরি করতে আসলে তাকে প্রতিহত করবো।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যতদিন ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করেছে ততদিন কী ঋণখেলাপি ছিল, ছিলনা। কিন্তু এস.আলম আসলো লুটপাট করে চলে গেল। এতো বোঝা যায় দোষ মানুষের মধ্যে। সিস্টেমের মধ্যে নাই। আল্লাহর কোরআন এমন একটি বিধান, এই বিধানে খারাপ হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
তিনি বলেন- সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কোন জায়গা নেই। কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিত্বে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবো। কেন জামায়াতকে কেউ দেখতে পারে না। সারা পৃথিবী একদিকে ইসলাম আরেকদিকে। আপনে ইসলাম কায়েম করতে চাইবেন তো সবার শত্রু হয়ে যাবেন। ৯১ ভাগ মুসলমানের দেশে বলা হচ্ছে আমরা জান্নাত দিতে চাই। এতে তো সবার খুশি হওয়া উচিত। কে জান্নাতে যেতে চাইনা। কিন্তু কত বড় দুঃসাহস তারা আল্লাহর বিধান কোরআন বলছে কি- তুমি তোমার ব্যবসা, জান এবং মাল আমি জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিলাম। তাই দিলাম।
কিন্তু আল্লাহর সেই কথাকে তারা কটাক্ষ করতেছে এবং আমরা বোবার মতো বসে আছি। সেজন্য আমাদের প্রতিবাদ কী, ওই ব্যালট বাক্স। আমরা চাই কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইনশাল্লাহ এদেশে একটা ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম হোক।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার গঠন করতে হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে গৌরীপুর বাজার এলাকায় গণসংযোগ শেষে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল এখনো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। গত ১৭ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। দিনের ভোট রাতে গণনার সংস্কৃতি চালু ছিল, যার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে মেঘনা–দাউদকান্দি অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এই অঞ্চলের সড়ক, যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
গৌরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আখতারুজ্জামান খোকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সওদাগরের সঞ্চালনায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাশেম সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, এনামুল হক তালুকদার সফর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহআলম সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহিউদ্দিন সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন যে, এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সততাকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট দেবেন। নির্বাচনি এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এইবার জরিপে বলছে ৩০ শতাংশ মানুষ মানে ১০০ জনের মধ্যে ৩০ জন মার্কা দেখবে না। তারা প্রার্থী খুঁজবে। প্রার্থী ঠিক আছে কি না। প্রার্থী যোগ্য কি না, প্রার্থী শিক্ষিত কি না, প্রার্থী সাহসী কি না, প্রার্থী সৎ কি না, প্রার্থী এলাকার উন্নয়ন করবে কি না, প্রার্থীর অভিজ্ঞতা আছে কি না—এই সব কিছু বিবেচনা করে এই ৩০ শতাংশ মানুষ এ নির্বাচনে ভোট দেবে।”
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শাখাইতি গ্রামের পূর্বপাড়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এই দাবি করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেবল দলীয় প্রতীকের দোহাই দিয়ে জনসমর্থন পাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন এবং এ প্রসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “কেউ যদি মনে করে মার্কার (দলীয় প্রতীক) ওপর চড়ে নির্বাচনের তরি পার হবে, সেটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” রুমিন ফারহানা এলাকার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একজন যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “যোগ্য অভিভাবক যদি এলাকার অভিভাবকত্ব না নেয়, তাহলে এলাকার উন্নয়ন, অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে যোগ্য, শিক্ষিত, সৎ, যার কাজে অভিজ্ঞতা আছে এই রকম প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই করবেন।” মূলত যোগ্য ও সঠিক প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমেই এলাকার প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
জনসভা চলাকালীন তিনি নিজের নির্বাচনি প্রতীক হাঁস মার্কার পক্ষে জনসমর্থন চেয়ে স্লোগান ধরেন এবং নির্বাচিত হলে এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজ করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে নির্বাচনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের রায়ের সুরক্ষা দিতে তিনি ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত সবাইকে নির্বাচনি কেন্দ্র পাহারার বিশেষ অনুরোধ জানান। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মনে করেন, এবারের নির্বাচন মূলত যোগ্য ও সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা, যেখানে ভোটাররা মার্কা নয় বরং নেতৃত্বের গুণাবলিকেই প্রাধান্য দেবেন।