আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের লেবাস পরে গণতন্ত্র হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মুখে যেটা বলি, কাজও সেটা করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ মুখে যেটা বলে সেটা করে না, অন্যটা করে। যেমন তারা গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু বাস্তবে দেশ থেকে গণতন্ত্রকে বিতাড়িত করেছে। শুধু আজ নয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করল, তখন সংসদে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে গণতন্ত্রকে হত্যা করল।’
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারে এক দফার বিকল্প নেই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, ‘হাজার বছরের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেউ হরণ করতে পারেনি। আজ আওয়ামী লীগ সরকার এসে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণ করতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, ভোটাধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে। আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দল তাদের পদদলিত করতে পারবে না। তারা আবার জেগে উঠবে, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।’
সরকারের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, লগি বৈঠা দিয়ে গুম, খুন, হত্যা করে, গুলি করে কোনো পন্থায়ই বাংলাদেশের মানুষকে পদদলিত করা যাবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করি। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা রাজপথে আছি এবং থাকব। দেশনেত্রীকে মুক্ত করব দেশে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মুখের উপরে বলতে হবে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা বাকশালের প্রতিনিধিত্ব করে। আর আমরা হচ্ছি শান্তির ও উদারনীতির রাজনৈতিক দল। আমরা প্রতিবাদ করছি, প্রতিবাদ করে যাব যতক্ষণ পর্যন্ত না এ সরকারের পতন হয়, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান, সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরীসহ অন্যরা।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিপূর্বে বহিষ্কৃত হওয়া ১১ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা এবং নির্বাচনের আগে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত এই নেতারা দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ ফিরে পেয়েছেন। যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বরিশাল মহানগর ও এর বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা। তালিকায় রয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ আহমেদ, ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, সাবেক সদস্য সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক, ২৮নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির এবং ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু।
এছাড়া নারী নেতৃত্বের মধ্যে বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি মোসা. জেসমিন সামাদ শিল্পীসহ ৫নং, ২৪নং ও ৩০নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সাবেক নেত্রীদেরও দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন ১৫নং ওয়ার্ডের মো. সিদ্দিকুর রহমান, মো. কামরুল আহসান রুপন এবং ১৮নং ওয়ার্ডের মো. জাবের আব্দুল্লাহ সাদী। সংশ্লিষ্টরা তাদের ভুল স্বীকার করে দলের কাছে আবেদন করার পর ৯ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে সারা দেশে আরও অনেক নেতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছে বিএনপি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের আগস্ট মাসে ইমরান হায়দার ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আজকের এই সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, আজ রাতেই গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে দিনাজপুরের গড়ে শহীদ ময়দানে ভোটের গাড়ি পরিদর্শনকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ফাওজুল কবির বলেন, এ নির্বাচন আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কারণ, এ নির্বাচনে একটি গণভোট হচ্ছে। হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হলে বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়িত হবে।
উপদেষ্টা বলেন, এ নির্বাচন বাঁধাধরা নির্বাচনের মত নয়। আগের প্রতিটি নির্বাচন রাজনৈতিক দলের অধীনে হয়েছে। তবে, আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে। যেখানে আমাদের কোন দল নাই, আমরা সবার সরকার। সরকার হিসেবে আমরা কারও পক্ষে কিংবা বিপক্ষে অবস্থান নেব না। আপনাদের সকলের চেষ্টায় একটি সুন্দর ভোট হবে এবং প্রকৃত যোগ্যরাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
ফাওজুল কবির বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে মানুষ ভোট দিতে পারেনি এজন্য। ১২ ফেব্রুয়ারি হলো জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের দিন। এ নির্বাচনে আপনারা যাকেই নির্বাচিত করতে চাইবেন, তিনি যে দলের হোক না কেন, যে ধর্মের হোক না কেন, যে বর্ণের হোক না কেন, যে গোত্রের হোক না কেন তাকেই আমরা বিজয়ী হিসেবে দেখতে চাই।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এখানে সংখ্যালঘু, আদিবাসী ভোটার আছেন। তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, এটা পাঁচ বছরের জন্য নয়। কারণ এ নির্বাচনে একটি গণভোট হচ্ছে। গণভোটে চারটি প্রশ্ন একটি প্যাকেজ হিসেবে দেয়া হয়েছে, যেখানে হ্যাঁ অথবা না হবে।
ফাওজুল কবির বলেন, আপনি যদি সংস্কার চান, সংসদীয় গণতন্ত্র চান, আপনারা যদি চান ক্ষমতার ভারসাম্য হোক ক্ষমতা কেন্দ্রীভুক্ত যেন না হয়, আপনি যদি চান দেশে গুম-খুন না হয়, মানুষ বিচার পায়, তাহলে আপনারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। কারণ, এই সংস্কারের জন্যই জাতিসংঘের হিসাব মতে ১৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছে এবং ৩০ হাজার মানুষের অঙ্গহানি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞার কারণে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ভাত বর্জন করা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিএনপি সমর্থক নিজাম উদ্দিন (৪৫) ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাঁশবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি ওই গ্রামের মৃত নূরানী বাক্স মণ্ডলের ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩১ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বাধা দেয় এবং খাবারের হাঁড়ি ফেলে দেয়। এই ঘটনায় চরমভাবে অপমানিত বোধ করে নিজাম উদ্দিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি আর ভাত খাবেন না। সেই থেকে দীর্ঘ ১১ বছর ৭ মাস ১০ দিন তিনি ভাত স্পর্শ করেননি এবং বিকল্প হিসেবে কলা, রুটি ও চিঁড়া খেয়ে জীবন ধারণ করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে বহুবার ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে নিজাম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং তার নির্দেশনায় ঢাকা ও ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি এই একনিষ্ঠ কর্মী। সাধারণ একজন মানুষ হয়েও কেবল রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে অটল থেকে নিজাম উদ্দিন দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি নির্বাচনী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজাপুরে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বিড়িতে সুখটান দিয়েও যদি কেউ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট চায়, তবে সেই উসিলায় আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে পারেন। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতের এই বক্তব্যটি প্রার্থীর নিজস্ব ফেসবুক পেজে লাইভ করার পর বৃহস্পতিবার রাতে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
বক্তব্য চলাকালীন ড. ফয়জুল হক সমর্থকদের পরামর্শ দেন যেন তারা চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় কৌশলে নির্বাচনী প্রচার চালান। তিনি উল্লেখ করেন, কেউ হয়তো জীবনে ইবাদত করার সুযোগ পাননি, কিন্তু বিড়ি খাওয়ার ফাঁকেও যদি তিনি দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেন, তবে আল্লাহ হয়তো তার পেছনের সব গুনাহ মাফ করে তাকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন। ভোটারদের উৎসাহিত করতে তিনি রসিকতার ছলে বলেন যে, পাঁচ টাকার চা খেয়ে পনেরো টাকার গল্প করতে হবে এবং সবখানে প্রার্থীর জয়জয়কার প্রচার করতে হবে।
নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যেও তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আহ্বান জানান যেন নির্বাচনের রাতে কেউ না ঘুমান এবং ভোটের দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং বিজয় মিছিল শেষ করে তবেই বাড়িতে ফিরে ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি। এই ব্যতিক্রমী ও ধর্মীয় আবেগ মিশ্রিত প্রচারণা কৌশল নিয়ে এখন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, আজকের বৈঠকটি নির্ধারিত শিডিউলের বৈঠক নয়।
তাই নির্দিষ্ট এজেন্ডাও থাকছে না। তবে এটি অবশ্যই গুরত্বপূর্ণ। কারণ, এ বৈঠকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হতে পারে।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে ধীরে ধীরে শোক কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে দেশ। নতুন বছর, তারওপর সামনে জাতীয় নির্বাচন। সব মিলিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে এবার পূর্ণাঙ্গরূপে অধিষ্ঠিত হতে তারেক রহমানকে পরামর্শও দিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণীয় ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান দু’একদিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে।
২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।
সূত্র : বাসস
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে এক শোক বার্তায় এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সংঘটিত অমানবিক ও নৃশংস এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।
শোক বার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের নির্মম ও পৈশাচিক হামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। তাই এসব দুষ্কৃতকারীকে কঠোর হস্তে দমনের বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মত-নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। না হলে ওত পেতে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে।’
বিএনপি মহাসচিব শোক বিবৃতিতে আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনাসহ শোকার্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত এবং জ্বালানি খাতে লুটপাট বন্ধে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াসহ দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
সমাবেশ শেষে সিপিবির একটি প্রতিনিধিদল তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। এতে সাত দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল আদায় বন্ধ এবং অতিরিক্ত আদায়কৃত বিল ফেরত দেওয়া, এলপিজি বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বস্তিবাসী সাধারণ মানুষের কাছে সরকার উৎপাদিত সিলিন্ডার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিতরণ, জ্বালানি খাতে বেসরকারীকরণ নীতি পরিত্যাগ করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার, গ্যাস–সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জ্বালানিকে জনস্বার্থভিত্তিক সামাজিক সম্পদ ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদি গণমুখী জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা।
সমাবেশে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে ভয়াবহ সংকট চলছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সিপিবির সভাপতি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের দুর্ভোগকে আমলে নিচ্ছে না। সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসা চলছে এবং জনগণের দুর্ভোগকে ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি একটি পরিকল্পিত সংকট। সিন্ডিকেট না ভাঙলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।’ এ অবস্থার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘দেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারায় তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘সরকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।’ তিনি সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে গ্যাস–সংকটের সমাধান না হলে ঢাকা শহরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মেদ সাজেদুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা লুনা নূর, মহানগর উত্তরের নেতা কল্লোল বণিক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ প্রমুখ। সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষও উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, চাঁদাবাজদের ঘুম অলরেডি হারাম হয়ে গেছে। তারা কোন উপায় না পেয়ে এখন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেছে, তারা ফোনে মানুষদের হুমকি দিচ্ছে কেন্দ্র দখল করবে, ভোট দিতে দেবে না, ভোটাধিকার কেড়ে দেবে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ধলাহাস গ্রামে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা হোন্ডা-গুণ্ডার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। গুণ্ডা-হোন্ডার ভয়ভীতি দেখানোর রাজনীতি এখন আর নাই। মানুষ এখন সচেতন, তারা কোন ঋণখেলাপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। যারা নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের হক মেরে খাবে তাদের ভোট দিতে যাবে না। আপনারা যদি সংস্কার চান, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ চান, নিজের ভোট নিজে দিতে চান, ভারতীয় গুণ্ডামি বন্ধ করতে চান তাহলে গণভোটে আপনারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। আপনার হ্যাঁ ভোটেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ।
ওসমান হাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি এই চাঁদাবাজ ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তারা তাকে বাঁচতে দেয়নি, আমরা শহীদ ওসমান হাদির রেখে যাওয়া কাজ বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছি। আমরা কখনোই ওসমান হাদির মতো হতে পারব না। তিনি মুড়ি-বাতাসা নিয়ে তার নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন, তিনি চেয়েছেন বাংলাদেশে যেন ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়, চাঁদাবাজ দুর্নীতি বন্ধ হয়, মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। আজকে গ্রামে গ্রামে শহীদ হাদির জন্য দোয়া করছেন মা-বোনেরা ও বৃদ্ধ বাবারা। শহীদ ওসমান হাদি রাষ্ট্রে যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব আমরা নিলাম। আমরা শহীদ হাদির হত্যার বিচার এই দেশেই নিশ্চিত করে ঘরে ফিরে যাব। এ সময় জামায়াত ও এনসিপিসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমীর খসরুর নির্বাচন কমিশনে সম্পদ বিবরণী (হলফনামা) জমা দিয়েছেন। হলফনামা বিশ্লষেণ করে দেখা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বার্ষিক আয় গত সাত বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে তার স্ত্রী তাহেরা আলমের আয়েও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা ও আয়কর নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার ও তার পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি টাকারও বেশি। এর একটি বড় অংশ নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত এবং অস্থাবর সম্পদ।
আমীর খসরুর হলফনামা:
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খসরুর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৪ টাকা। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার বার্ষিক আয় ছিল ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ২১৯ টাকা। অর্থাৎ, সাত বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে ১১৬ শতাংশেরও বেশি।
এই রাজনীতিক হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তার আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সাইনিং মানি হিসেবে পাওয়া ৮০ লাখ টাকা, শেয়ার বোনাস থেকে ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, বন্ড ও ব্যাংক সুদ থেকে ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৮২৪ টাকা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ভাড়া থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা এবং কৃষি খাত থেকে ৪৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে তার স্ত্রী তাহেরা আলমও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ২০১৮ সালে ৯ লাখ ৬ হাজার ৪২৭ টাকা আয় দেখিয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ হলফনামায় তার বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ৮২৭ টাকা। খসরু নগদ অর্থ হিসেবে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থাকার কথা জানিয়েছেন আর তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে নগদ ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ব্যাংকে আমীর খসরুর জমা রয়েছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, আর তার স্ত্রীর রয়েছে ৩৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। শেয়ার ও বন্ডে খসরুর বিনিয়োগের মূল্য এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যেখানে তার স্ত্রীর বিনিয়োগ ৯৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে আমীর খসরুর বিনিয়োগ ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৪৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
আর খসরুর মালিকানায় রয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি, আর তার স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের একটি জিপ। দম্পতির স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকার। অস্থাবর সম্পদের হিসেবে আমীর খসরুর মালিকানায় রয়েছে ২৩ লাখ ৯ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষিজমি এবং প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকা মূল্যের চারটি ভবন। তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের দুটি স্থাবর সম্পত্তি।
সাঈদ আল নোমান:
সাঈদ আল নোমান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার পেশা ব্যবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এম. ফিল। সাঈদ আল নোমানের ব্যবসায় বার্ষিক কোনো আয় না থাকলেও তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান থেকে নিজ নামে আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫০ টাকা, চাকরি থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে সাঈদ আল নোমানের কাছে নগদ টাকা আছে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৭৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে আছে ১ কোটি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৯ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা আছে ১০ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৮১০ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৯ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার নিজ নামে বর্তমান মূল্য ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট), ডাক সঞ্চয়পত্র এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিয়োগ থেকে নিজ নামে আছে ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, বিমা ও ট্রাস্টের মূল্য নিজ নামে ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৮ টাকা এবং স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ৫ লাখ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেল অধিগ্রহণকালে নিজ নামে মূল্য দেখিয়েছেন ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীদের নামে দেখিয়েছেন ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরে তৈরি গহনা নিজ নামে অধিগ্রহণকালে মূল্য উল্লেখ করেছেন ৩০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য অধিগ্রহণকালে নিজ নামে মূল্য উল্লেখ করেছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, আসবাবপত্র নিজ নামে ১ লাখ ৫০০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ৩ লাখ টাকা, অন্যান্য (উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ও বিদেশি রেমিট্যান্স) আয় নিজ নামে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৭০ লাখ ২৬ হাজার ২২৮ টাকা। বর্তমানে নিজ নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখিয়েছেন ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ৯৫ হাজার ১৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া হলফনামায় সাঈদ আল নোমান স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে থাকা ১৬.৬৩ শতক কৃষিজমির অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ টাকা, নিজ নামে থাকা ৬০ একর অকৃষি জমির নিজ নামে অর্জনকালীন আর্থিকমূল্য দেখিয়েছেন ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, নির্ভরশীলদের নামে ২৪ দশমিক ৩৭ শতক অকৃষিজমির মূল্য জানা নেই উল্লেখ করেন। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য দেখিয়েছেন ৩ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩২ টাকা, স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৯৩২ টাকা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২৩ বছর পর হিমালয়কন্যা পঞ্চগড় জেলা সফরে আসছেন। আগামী ১৩ জানুয়ারি দুপুর দেড়টায় তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের পাথরাজ এলাকায় পৌঁছাবেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর প্রিয় নেতাকে সশরীরে দেখার সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও এক ধরণের বাড়তি আবেগ তৈরি হয়েছে। সফরের শুরুতে তিনি পাথরাজ এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা শহীদ আরেফিনের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাবেন।
কবর জিয়ারতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই মাহফিলটি মূলত বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমান উপস্থিত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এই সফরটি মূলত তাঁর উত্তরবঙ্গ সফরের একটি অংশ, যার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ দিন পর দলীয় কাঠামোর প্রতিটি স্তরের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চাইছেন।
তারেক রহমানের এই আগমন সফল করতে জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠব্য দোয়া মাহফিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ আসনে মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। তাঁর সাথে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, যিনি পঞ্চগড়-২ আসন থেকে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও জেলা ও উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের অন্য নেতারা ভেন্যু পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেলা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তারেক রহমানের আগমনের দিন শৃঙ্খলার সাথে কর্মসূচি পালন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন যে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে তাঁরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এটি পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক সফরের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পঞ্চগড়বাসী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং জাতীয় সংসদে বহু রাজনৈতিক দলের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদেরও মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যারা মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকে ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে ডেকে কথা বলা হচ্ছে এবং তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে অবাধ্যদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এসব সংকটের চূড়ান্ত মীমাংসা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক একই সাথে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন উত্তরবঙ্গ সফর নিয়েও বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই সফরকালে কোনোভাবেই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের কবর জিয়ারত করা একটি জাতীয় পবিত্র দায়িত্ব ও সমগ্র জাতির প্রত্যাশা। তারেক রহমানের এই সফর মূলত সেই জাতীয় চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানোর একটি প্রয়াস মাত্র। সালাহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার কোনো উপাদান নেই।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, কোনোভাবেই যেন ২০২৪ সালের এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্নবিদ্ধ করা না হয়। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতীয় পর্যায়ে আরও মহিমান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ নেতা হিসেবে তারেক রহমান যদি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, তবে তা জাতীয় সংহতিকে আরও মজবুত করবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই সফরের মাধ্যমে মূলত জাতির আকাঙ্ক্ষাই প্রতিফলিত হবে। বিএনপির এই নেতা পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর দল একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে সরাসরি একনজর দেখার জন্য জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি জেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত থাকলেও, সশরীরে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সর্বশেষ ২০০৩ সালের শীতকালে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে একটি কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর তাঁর এই সফর উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাণ হারানো বীর শহীদ রায়হানুল হাসান, আল মামুন, সাহান পারভেজ ও রাকিবুল হাসানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ জানুয়ারি সড়কপথে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে এসে পৌঁছাবেন এবং শহরের ব্যুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনি আন্দোলনে শহীদ আল মামুনের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। সময় স্বল্পতা ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত অন্য শহীদদের কবর জিয়ারত করার সুযোগ না থাকলেও তাঁদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি বিশেষ কর্মসূচি পালন করবেন।
সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি বিশাল স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি মূলত সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত হচ্ছে। সেখানে তারেক রহমান উপস্থিত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এই কর্মসূচি শেষ করে ওই দিনই তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনি আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কোনো বড় জনসভা না করে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমেই তাঁরা নেতাকে বরণ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল আবেগীয় নয়, বরং আগামীর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের তৃণমূল শক্তিকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ও সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফরের মাধ্যমে জেলার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে জাতীয়তাবাদী দর্শনের শক্তি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত শহীদদের সম্মান জানানো এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়েই শেকড়ে ফিরছেন তারেক রহমান।