সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১২ মাঘ ১৪৩২

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার প্রতিবাদ করতে পারে না: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:৩৯

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের জনগণের সমর্থন ও শক্তি না থাকায় রোহিঙ্গা বিষয়ে কোনো শক্ত প্রতিবাদ করতে পারে না। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করবে।

রোববার রাজধানীর হোটেল লেকশোরে বিএনপি আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, দেশে ন্যূনতম গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। আইন, বিচার, আদালত সবই আছে, তবে তা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জন্য।

তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার পুরো দেশটাকে এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে রেখেছে। রোহিঙ্গা শুধু আমাদের দেশের নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের জনগণের শক্তি না থাকায় ‍শক্ত হয়ে রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো কথা বলতে পারে না। তাই এই সরকারকে হটানো না গেলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

ইউএনডিপি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএস এইড, ইউকেএইড, জাইকা এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মান, ইরান, সুইডেন, নেদারল্যান্ডসসহ ১৫ দেশের প্রতিনিধিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সম্পাদক ড. জাহিদুর রহমান। সেমিনার সঞ্চালনা করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।


যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটি হলো—দুর্নীতি। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে—এ দেশের মানুষের কাছে এটি হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পোলোগ্রাউন্ডে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত সময়ে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন, যেই হোক না কেন, এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে, তাদেরও ছাড় দিইনি।
তিনি বলেন, আজ দেশের জনগণ যদি বিএনপির পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিন আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করব, যেন দেশের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ যেন নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে তিনি দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে আসেন।
‘আইন সবার জন্য সমান। অপরাধীর পরিচয় কোনো দল দিয়ে নয়, অপরাধীর পরিচয় সে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী এবং অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজেই দুর্নীতি যেই করুক, দুর্নীতি যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে।’
তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে সমতল ও পাহাড়ি এলাকার মানুষ একসাথে বাস করে। আমরা সবাইকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ওপর আস্থা রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনি প্রচার যাত্রার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করলেন চট্টগ্রাম থেকে। গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় জনসভা করে নির্বাচনী যাত্রা করেন তারেক রহমান।
এ সমাবেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা ছিলেন। মঞ্চে প্রথম সারিতে ছিলেন—বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য উদয় কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী সাঈদ নোমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী সারোয়ার নিজাম, চট্টগ্রাম—৮ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ান, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম সিটির মেয়র শাহাদাত হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এস এম ফজলুল হক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, খাগড়াছড়ির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভুইঁয়া, কক্সবাজারের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য ম্যামাসিং, বান্দরবান জেলা বিএনপির আহবায়ক জেরি প্রো চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নারীবিষয়ক সম্পাদক বেগম নুরে আরা সাফা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দ্বীপন দেওয়ান তালুকদার।
মঞ্চে দ্বিতীয় সারিতে ছিলেন—চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ।
এদিকে, নির্বাচনী মহাসমাবেশ ঘিরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নগরের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে এই জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
দলের নেতাকে দেখতে আর তার বক্তব্য শুনতে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ নির্বাচনী সমাবেশ ঘিরে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ।
জনসভা ঘিরে রোববার ভোর থেকে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ উপচে জনস্রোত আছড়ে পড়েছে আশপাশের সড়কগুলোতে। মিছিলে মিছিলে মুখরিত পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকার পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে ধানের শীষের প্রতীক। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে বন্দরনগরীতে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্যকে দলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে ব্যানার ফেস্টুন, রঙ বেরঙের পোশাক পরে মিছিল নিয়ে লোকজন আসেন সমাবেশস্থলে। এতে পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।


ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে একটি দল ভণ্ডামিতে নেমেছে: নূরুল ইসলাম মনি

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগেই আমরা আজ একত্র হয়ে কথা বলতে পারছি। একটি দল যারা একাত্তরে স্বাধীনতা চায়নি যাদের কারণে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন এবং ২ লাখ মা বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন সেই দলটি আজ বিভিন্ন চক্রান্ত করে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর পাঁয়তারায় নেমেছে। যারা একাত্তর সালে এই দেশ চায়নি, তারা এখন দেশের মালিকানা চায়। তারা ভোট চায়।

বরগুনা-২ (বামনা- বেতাগী- পাথরঘাটা) আসনে ডৌয়াতলা ইউনিয়নে নির্বাচনী জনসভায় ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি জনতার উদ্দেশে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ধানের শীষের পক্ষে মানুষের ঢল নেমেছে। বিএনপির প্রতি বিশেষ করে আমাদের চেয়াম্যান তারেক রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা আছে। তারা ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি খুবই ভালো। আমরা বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ। তবে একটি দল এই সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তারা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চায়। ধানের শীষের গণজোয়ারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধানের শীষের গণজোয়ার বইছে। এই গণজোয়ার দেখে একাত্তরের বিরোধী শক্তি বিভিন্ন ভন্ডামিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে শিরক তো করছেই তার সাথে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সাথে চরম মাপের ভণ্ডামি করছে। আপনারা এসব ভণ্ডদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন।

তিনি আরো বলেন, বিগত ১৫ বছর আমাদের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন আবার একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আপনাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আপনাদের ভোটের অধিকার কেউ যেন কেড়ে নিতে না পারে।

মনি বলেন, আমি তিনবারের এমপি ছিলাম। আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থনে আবারও আপনাদের পাশে থেকে এগিয়ে যেতে চাই। তিনবার এমপি থাকাকালীন যা উন্নয়ন করেছি, যে কাজ করেছি, স্বাধীনতার পর থেকে যারা এমপি ছিল সব এমপি মিলিয়েও আমার করা কাজের ধারে কাছে নেই। আমি যদি অতীতে কাজ করে থাকি তাহলে এইবারও ইনশাল্লাহ আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এবং আপনাদের প্রতি আমার সেই বিশ্বাস আছে।

সভায় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তারা।

এদিকে, এই জনসভা ঘিরে গোটা উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। স্কুল মাঠে ছিল নেতাকর্মী, সমর্থকদের উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। নেতাকর্মীরা দলবেঁধে মিছিল নিয়ে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।


হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ জয়ী হবে: জামায়াত আমির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণরা মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এদের জন্য আমাদের মায়া হয়।

রোববার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের সমর্থনে পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বেকার ভাতা দেব না। রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও দেব না। এতে বেকারত্ব কমবে না, আরও বাড়বে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেব। তিনি বলেন, তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে, আর সেই লক্ষ্যেই যুবকদের এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জামায়াত আমির বলেন, দায়িত্ব পেলে সারাদেশকে ফুলের মতো সাজানো হবে। যে দেশ নিয়ে মানুষ গর্ব করবে। আমরা চাঁদাবাজি করব না, দুর্নীতি করব না, প্রশ্রয়ও দেব না। নিশ্চয়ই মানুষ এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাকে ভোট দেবে।

ভোট কারচুপির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, পাহারা দিতে হবে ভোটের। কেউ ভোট দখল করতে এলে প্রতিরোধ করতে হবে।

বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমির দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের হাতে তুলে দেন। একইসঙ্গে ঢাকা-৮ আসনের জোট প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতেও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নষ্ট রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের রাজনীতি বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি সন্ত্রাসমুক্ত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনে জোটপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংস্কারের চাবিকাঠি এখন জনগণের হাতে। গণভোটের রায়ের মাধ্যমেই অনেকের ভ্রান্ত স্বপ্ন ভেঙে দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম চাঁদাবাজি শেষ হবে, কিন্তু তা হয়নি। দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলিতে ভোট দিলে পরিত্রাণ মিলবে।

এই প্রার্থী হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে এনে রাষ্ট্রের গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন এবং ১২ তারিখে চাঁদাবাজ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, পুরান ঢাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে নানা দিক থেকে বঞ্চিত। এখানে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। তিনি জামায়াত আমিরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে ঢাকা-৬ আসনকে চাঁদাবাজমুক্ত করবেন। এই আশ্বাস চাই।

সভায় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ বলেন, নতুন বাংলাদেশে গরিব ও বড়লোকের মধ্যে বিচারের কোনো বৈষম্য থাকবে না। তিনি বলেন, মার্কা দেখে নয়, যারা দালালি করবে না তাদের ভোট দিন।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় মহানগরী ও স্থানীয় নেতারা।


পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে ইসির নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: নজরুল ইসলাম খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, পোস্টাল ব্যালেটসহ কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ভোটের স্বার্থে বিএনপি নীরব রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কিছু তথাকথিত ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করছে। অথচ, পোস্টাল ব্যালেট ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সেই বিষয়ে ইসি নীরব, যা প্রশ্নবিদ্ধ। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি চায় নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তাই আমরা অনেক বিষয় মেনে নিয়েছি। একটি পক্ষ জুলাইয়ের আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অবমূল্যায়ন করছে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী ও সাহসী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম বিদ্রোহের সূচনা করেন। তার সততা নিয়ে তার প্রতিপক্ষরাও কখনও প্রশ্ন তুলতে পারেনি। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি প্রতিদিন দেশ ও জনগণের স্বার্থে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে চাইলে শহীদ জিয়ার চেতনা ও চিন্তাভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ সভায় মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্ব করেন। এতে আরো বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম খান ও সহ-সভাপতি ডা. জাহাঙ্গীর আলম।


আওয়ামী লীগ যা করেছে, তা বিএনপির কেউ করলে ব্যবস্থা নেব: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ যা করেছে ঠিক একই ধরনের কোনো কাজ বিএনপির কেউ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষের বাড়িঘর, জমি দখল করেছে। এগুলো থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। গতকাল রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরুনাগাঁও মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের স্পষ্ট একটা কথা বলতে চাই, আমার দলের কোনো লোক এই ধরনের দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে যদি জড়িত থাকে, আমাকে বলবেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমার এসব কখনোই এলাও করব না। কারণ আওয়ামী লীগ যে কাজ করেছে তা আমার দলের কোনো লোককে করতে দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই আমাকে ও আমার বাপ চাচাকে চিনেন। আমরা রাজনৈতিক করে সম্পদ করিনি। আমরা বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি। আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না।’

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ঠিক না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম ১৯৯১ সালে নির্বাচন করেছিল এবং তারা নির্বাচনে কখনো ভালো করতে পারেনি। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে।’

বিএনপিএ এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান সঠিকভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে পারবেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকরা সহজেই সার পাবে, সার সংকট থাকবে না। মা-বোনরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য অতীতে আমরা কাজ করেছি, আগামীতেও করব।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা এদেশে উদারপন্থি গণতন্ত্র চাই। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে যেতে চাই। স্লোগান দিলে ভোট আসবে না।’

সৎকাজ করে মানুষের মন জয় করতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি ধানের শীষে ভোট চান ও সবার দোয়া কামনা করেন।

এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত থেকে তাদের বক্তব্য দেন।


নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই: জি এম কাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়নি। তার দাবি, সরকার পরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী সুবিধা প্রদান করছে, যার ফলে নির্বাচনী পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রংপুর নগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নানামুখী হুমকি ও ভয়ভীতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অথচ এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নির্বাক ভূমিকা পালন করছে।

জি এম কাদের বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অন্য দলগুলোকে চাপে রেখে কেবল একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন জনগণের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, এই অসম আচরণের কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে জাপা চেয়ারম্যান কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। জি এম কাদের এই গণভোটকে সংবিধান পরিপন্থী আখ্যায়িত করে বলেন, যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়, তবে জাতীয় সংসদ তার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা হারাবে এবং একটি নির্দিষ্ট শক্তির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট বর্জন করে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি একে কোনো দলীয় এজেন্ডা নয় বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায় এবং বিকল্প শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির দিকেই তাকিয়ে আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতার লোভে নয়, দেশের কল্যাণে রাজনীতি করে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির, মো. আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাকসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আমার চাষ করা ধানই আমার হাঁস খাবে: রুমিন ফারহানা

আপডেটেড ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপির সুপরিচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজের গভীর আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের আমিনপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি রূপক ভাষায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, “আমার একটা হাঁসও যেন শেয়াল চুরি না করে। গুণে গুণে হাঁস আপনারা খোঁয়াড়ে তুলবেন। ১৫ বছর হাল চাষ করলাম, বীজ দিলাম, ধান লাগালাম। ফসল কাটার সময় যদি মরুভূমি আসে, কেমনটা লাগে? ঠিক আছে—আমার হাঁস, আমার চাষ করা ধানই খাবে।”

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজপথে সক্রিয় থেকে দল ও রাজনীতির জন্য শ্রম দিলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্যে হতাশার প্রতিফলন ঘটে। তিনি আক্ষেপের সুরে জানান যে, দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করার পর যখন ফসল ঘরে তোলার মাহেন্দ্রক্ষণ আসে, তখন সবকিছু হাতছাড়া হয়ে যাওয়া একজন একনিষ্ঠ কর্মীর জন্য চরম বেদনাদায়ক। তবে ব্যক্তিগত বঞ্চনার কথা বললেও তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানে অনড় থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গণসংযোগ চলাকালে তাঁর এই আবেগঘন ও রূপকধর্মী বক্তব্যে উপস্থিত অনেক নেতা-কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাঁর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। মূলত তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজ স্বার্থে ওসমান হাদিকে বিক্রি করছেন : আবদুল কাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। তিনি দাবি করেছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির নাম ও আবেগকে ব্যবহার করছেন। শনিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আবদুল কাদের এই অভিযোগ করেন। তার মতে, ৫ আগস্টের পর জাতি যে ধরনের ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করেছিল, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বর্তমান কর্মকাণ্ড তার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং তিনি অযথা বিবাদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের তার পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আন্দোলনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখার দাবি করে হম্বিতম্বি করলেও তারা মাঠে তাকে সেভাবে দেখেননি। আবদুল কাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরপরই বাংলামোটরের বিয়াম ভবনে অনুষ্ঠিত একটি সভার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে আসিফ মাহমুদ, নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলমের উপস্থিতিতে আন্দোলনের জুনিয়র লেয়ারের সদস্যরা নাসীরুদ্দীনের লিয়াজোঁ কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের প্রশ্ন ছিল, হঠাৎ করে এসে তিনি কীভাবে এমন নীতিনির্ধারণী পদে স্থান পেলেন।

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীনের রাজনৈতিক অতীত এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির, ছাত্র ফেডারেশন এবং এবি পার্টির মতো দল ভেঙে আসার ইতিহাস রয়েছে। তাই নতুন এই উদ্যোগেও তিনি বিভাজন সৃষ্টি করবেন কি না, তা নিয়ে জুনিয়ররা শুরু থেকেই সন্দিহান ছিলেন। সেই সময় লিয়াজোঁ কমিটিতে তাকে রাখার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া হলে নাহিদ ইসলাম জানিয়েছিলেন যে, আন্দোলনের সময় নাসীরুদ্দীন তাকে একদিন আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনে সহায়তা করেছিলেন। মূলত তার জ্যেষ্ঠতা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর যুক্তিতেই তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন কাদের।

আবদুল কাদের আক্ষেপ করে বলেন, লিয়াজোঁ কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শপথ করে অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি অতীতের মতো আর কোনো দল বা উদ্যোগ ভাঙবেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কর্মকাণ্ডে সেই অঙ্গীকারের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই সমন্বয়ক। নাসীরুদ্দীনের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে নোংরামি উল্লেখ করে কাদের বলেন, তিনি পায়ে পাড়া দিয়ে ঝামেলা বাধানোর চেষ্টা করছেন, যা দেশের মানুষ বা ছাত্রসমাজ কেউই প্রত্যাশা করে না। নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে প্রকাশ্যে এনেছে।


দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে বিএনপি: তারেক রহমান

আপডেটেড ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে এবং দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। রবিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ের ওপর কড়াকড়ি নজর দেওয়া হবে, যার একটি হলো মানুষের নিরাপত্তা এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন।

সমাবেশে তারেক রহমান বিগত সময়ে বিএনপি সরকারের শাসনামলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীতে যখন বিএনপি দেশ পরিচালনা করেছে, তখন দলের কেউ অন্যায় করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি। তিনি আশ্বাস দেন যে, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি এক আবেগঘন আহ্বান জানান। তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোটের দিন তারা যেন তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে এবং ফজরের নামাজ শেষে সোজা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যান। বিগত ১৫ বছরে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এখনো নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। তাই হারানো অধিকার ফিরে পেতে এবং ষড়যন্ত্র রুখতে ধানের শীষের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমালোচনা করার চেয়ে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনা করে কারও পেট ভরবে না বা লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা ক্ষমতায় গিয়ে সবসময় মানুষের জন্য কাজ করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন, যার মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে বিএনপি প্রধানের বক্তব্যে। তিনি নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও নালা সচল করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন এবং প্রয়োজনে খাল খনন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন। এছাড়া বিএনপি সরকারের আমলে চট্টগ্রামে ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসলে আরও নতুন ইপিজেড তৈরি করা হবে এবং চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থেই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।


রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ঠিক না: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করা মোটেও ঠিক নয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে হিন্দু, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। এমতাবস্থায় রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে আনলে তা পক্ষপাতিত্বের সৃষ্টি করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। রবিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির মূল পার্থক্য হলো বিএনপি একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। জনগণ বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ধরে চেনে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখে। বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে তারা কেবল মামলা আর পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছেন। সারা দেশে দলের প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঠাকুরগাঁও জেলাতেই সাড়ে ৭ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। মামলা মোকাবিলার কারণে নেতাকর্মীদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে এবং বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন যে, আওয়ামী লীগ অতীতে যা করেছে, বিএনপির কেউ ক্ষমতায় গেলে তেমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবে না।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের মায়েদের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ড ব্যবহার করে তারা ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল ও আটার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। এছাড়া হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা সেবা পাওয়া এবং সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় নির্বাহে এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষকদের উন্নয়নের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, কৃষকদের জন্য আলাদা কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ পাবেন। গণসংযোগ ও পথসভায় স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তারা স্লোগানে স্লোগানে মহাসচিবের বক্তব্যকে স্বাগত জানান।


দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: ভোর থেকেই পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীদের ঢল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী। রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকেই মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকা। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত ছেয়ে গেছে রঙ-বেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুনে।

সকাল থেকেই মাঠের প্রবেশপথগুলোতে নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে দলবেঁধে মিছিল নিয়ে আসছেন, আবার দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেকে আগের রাত থেকেই মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। আগেভাগে আসা কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন পর দলের চেয়ারম্যানকে কাছে থেকে একনজর দেখার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তারা ভোর না হতেই মাঠে উপস্থিত হয়েছেন। সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে।

এর আগে দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন এবং লালদিঘী ময়দানে বক্তব্য রেখেছিলেন।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, আজকের কর্মসূচি বেশ ঠাসা। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘পলিসি ডায়ালগ’-এ অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। মঞ্চসহ পুরো সমাবেশস্থলকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিন স্তরের নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে। রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত মঞ্চ এলাকায় কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের ইয়েলো জোনে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক রাখা হয়েছে এবং পুরো মাঠকে সাধারণ সমর্থকদের জন্য গ্রিন জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।


আওয়ামী লীগ হলো মেইড ইন ইন্ডিয়া: সালাহউদ্দিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উৎপাদিত পণ্যের ওপর যেমন লেখা থাকে মেইড ইন বাংলাদেশ, তেমনি আওয়ামী লীগ হলো মেইড ইন ইন্ডিয়া- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এক সময় রাজনৈতিক দল ছিল, এখন মাফিয়া পার্টি। এই দলটি এখন বাংলাদেশের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের উৎপাদিত পণ্যের ওপর যেমন লেখা থাকে মেইড ইন বাংলাদেশ, তেমনি আওয়ামী লীগ হলো মেইড ইন ইন্ডিয়া। ইন্ডিয়ার মাল ইন্ডিয়ায় রপ্তানি হয়ে গেছে, এখন দেশে নতুন করে পাকিস্তানি মাল আসবে নাকি?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গরিব মানুষ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়নের পক্ষের দল বিএনপি।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।’

ধর্মীয় বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যারা দেশ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা না দিয়ে শুধুই জান্নাতের কথা বলছে, তারা মানুষের ঈমান নষ্ট করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পক্ষে থাকা দল বিএনপি।’


একটি দল ইসলামের লেবেল লাগিয়ে  আমাদের ধোঁকা দিয়েছে: চরমোনাই পীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লার ফাজেলপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর পক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে।’ একটি বিশেষ দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা প্রথমে ৫ দল ও পরে ৮ দলে গঠনের মাধ্যমে এক বাক্স নীতিতে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছে। তারা পাকা ধানের ভেতর মই দিয়ে ধান নষ্ট করে ফেলল। তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। তারা ইসলামের লেবেল লাগিয়ে আমাদের ধোঁকা দিয়েছে।’

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘তারা গোপনে গোপনে পাশের দেশের সঙ্গে মিটিং করে আমাদের বিশ্বাসে আঘাত করেছে। যারা ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করে এদের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইসলামকে এরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে জবাই করবে। এরা ইসলামের আশা চিন্তার ফসলকে নষ্ট করেছে।’ শরিয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তরুণ ও সর্বস্তরের জনগণকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারি না। এখন একটা বাক্সই ইসলামের পক্ষে যেটা হাতপাখার বাক্স।

তরুন ভোটারদের প্রথম ভোট ইসলামের পক্ষে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। মা বোন মুরব্বিদের বলবো একবারের জন্য হাতপাখায় ভোট দিয়ে দেখেন। ফতুল্লার মাটি ইসলামের পক্ষের ঘাঁটি।’ সমাবেশে মুফতি ইসমাইল সিরাজী ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, লোকমান হোসেন জাফরি, দেলোয়ার হোসেন সাকী এবং মুফতি রেজাউল করিম আবরারসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।


banner close