শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:১৭

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে বিএনপি শুধু একা নয়, গণতান্ত্রিক বিশ্ব সঙ্গে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র লাইফ সাপোর্টে আছে। এই আন্দোলনে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই একযোগে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ি- এই হোক আজকে গণতন্ত্র দিবসে আমাদের শপথ।’

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে সরকার পদত্যাগের ‘এক দফা’ এবং মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ হয়। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত নয়াপল্টনের দীর্ঘ সড়কে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুবদলের শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, ওলামা দলের শাহ নেছারুল হক, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দিবসে আমাদের শপথ হচ্ছে- যেকোনো মূল্যে এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। কোনো নির্বাচন হবে না নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া। এখনো বলছি- পদত্যাগ করুন, সংসদ ভেঙে দিন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন। কেন দিতে চান না। যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, যদি জনগণ ভোট দিতে যেতে পারে তাহলে তারা ১০টি আসনও পাবে না। সে জন্য তারা প্রশাসনকে নিজেদের মতো করে সাজাচ্ছে।’

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর প্রধান আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিনকে কারাদণ্ড দেয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে যিনি কথা বলেছেন, নির্বিচারে মানুষ হত্যা তথা হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলা-আক্রমণের বিরুদ্ধে তারা কথা বলেছিলেন। আজকে এই সরকার এত ভীতসন্ত্রস্ত যে তাদের দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে। সারা বিশ্ব এই সরকারকে নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্ত করতে বলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রেজল্যুশন করেছে যে, অবিলম্বে এই মামলা বাতিল করে তাদের মুক্ত করা হোক এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বছরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেছেন যে, আমি এত ভালো ভালো নির্বাচন করি আর দেশে-বিদেশে প্রশ্ন করে নির্বাচন ভালো হয় না। এটাই হচ্ছে এই বছরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক। শেখ হাসিনা ভালো নির্বাচন করে, আওয়ামী লীগ ভালো নির্বাচন করে- এ কথা ঘোড়াও বিশ্বাস করে না। ওরা শুনলে হাসে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ নেতাদের মিথ্যা মামলায় কারাদণ্ড প্রদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন অজুহাতে সারা দেশে যত গণতান্ত্রিক কর্মী, বিএনপির নেতা-কর্মী আছে তাদের বিরুদ্ধে গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রাখছে। কারণ একটাই সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনে সব বিরোধী দলকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে আর নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনে যেন বিরোধী দলের নেতারা অংশ নিতে না পারে। এই যে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের আটক করে রেখেছেন তাতে কি আজকে মহানগরের এই সমাবেশে লোক কম হয়েছে? হয়নি। মামলা দিয়ে আটক করে এই সরকার তার পতন ঠেকাতে পারবে না।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, কাদের গণি চৌধুরী, প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, পেশাজীবী নেতা প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ, প্রকৌশলী মো. মোস্তাফা-ই জামান সেলিম, কে এম আসাদুজ্জামান চুন্নুসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের হাজারও নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতার কর্মসূচি
এদিকে গতকাল সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার পতনের ‘এক দফা’ দাবি আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী লাগাতার কর্মসূচি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা, জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে ঢালাওভাবে মামলা দেয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়নের চিত্রও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। সরকারের পক্ষে ভোট চাওয়া জামালপুরের ডিসিকে প্রত্যাহারের ঘটনা ‘আইওয়াশ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


নির্বাচিত

গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে জামায়াতের চিঠি

সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০০:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে দলটি। চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও ইসিকে বলা হয়েছে।

চিঠিতে জামায়াত বলেছে, ‘সম্প্রতি সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

চিঠিতে বলা হয়েছে, বুধবার (২২ জুলাই) বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জানতে চাইলে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদের কী হবে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘গতকাল জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইসি ও স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে অবহিত করতে আজ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

৭৪ বছর বয়সি গাজী নজরুল এবার তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথম সাতক্ষীরা–৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমিরের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ছিলেন তিনি।

তদন্তে যা পেয়েছে জামায়াত: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন সাতক্ষীরা–২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরা–১ আসনের সংসদ সদস্য।

গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরায় তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য দেন গাজী নজরুল। কমিটি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করে। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন নিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

কী ধরনের নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পেয়ে তাকে বহিষ্কার করা হলো? এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, গাজী নজরুল বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ‘‘পর্দা লঙ্ঘন’’ করেছেন। তা ছাড়া এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু রুকনিয়্যত বা রুকন পদ বাতিল করে এত বড় ক্ষতি লাঘব হবে না বলেই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

জামায়াতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী তার আত্মীয়। তিনি ঢাকায় এলে মাঝেমধ্যে ওই আত্মীয়ের বাসায় উঠতেন।

সোমবার রাতে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। প্রথম দিকে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে পরদিন গাজী নজরুল নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জামায়াত, গাজী নজরুল ও তার পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো বিয়ের পরের এবং প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে গাজী নজরুল নৈতিক স্খলনের পাশাপাশি একটি চক্রের ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন বলেও মনে করেন জামায়াতের কোনো কোনো নেতা।


নির্বাচিত

বহিষ্কৃত গাজী নজরু‌লের এম‌পি পদ বা‌তি‌লে স্পিকার-ইসিকে জামায়া‌তের চি‌ঠি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরালের জেরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই চিঠি পাঠিয়েছেন। গত বুধবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের পর থেকেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অতীতে দল থেকে পদত্যাগ কিংবা ফ্লোর ক্রসিংয়ের কারণে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের নজির থাকলেও, দল কর্তৃক বহিষ্কারের ক্ষেত্রে পদ বাতিলের বিষয়টি সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদের ভেতরে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হয়। তবে দল বহিষ্কার করলে কী হবে, সে বিষয়ে এই অনুচ্ছেদে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলনের দায়ে যদি আদালত কর্তৃক অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হয়, তবে তিনি পদ হারাবেন। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের দণ্ড বা সাজার ঘটনা ঘটেনি বিধায় এই অনুচ্ছেদটিও তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না। সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেননি বা দলের বিরুদ্ধেও ভোট দেননি। ফলে ৭০ অনুচ্ছেদও প্রযোজ্য নয়।" তবে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে, "৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো এমপির আসন শূন্য হবে কিনা, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।"

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর ১২(খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না যদি তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মনোনীত না হন অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন। ২০০৮ সালে প্রবর্তিত এই বিধানের কারণে গাজী নজরুল পদ হারাতে পারেন বলে কোনো কোনো আইন বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। এর আগে ২০১২ সালে এইচএম গোলাম রেজা জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হলেও তৎকালীন স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে না পাঠানোয় তিনি পদে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের ঘটনায় শুনানি শুরু হলেও তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন, ফলে বহিষ্কারের কারণে পদ বাতিলের আইনি প্রশ্নটির চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। সেই শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার জানান, "দল বহিষ্কার করলে এমপি পদ থাকবে না। কারণ আইন অনুযায়ী এমপি দুই রকম; দলীয় ও স্বতন্ত্র। দল বহিষ্কার করলে সেই এমপি স্বতন্ত্র হয়ে যান না। ফলে দলে না থাকলে এমপি পদ থাকবে না।"

গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদের ভাগ্য এখন স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার আইনি সুযোগও তাঁর রয়েছে। ফলে তিনি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে আইনি লড়াইয়ের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। সংসদ সদস্য আইন-১৯৮১ অনুযায়ী স্পিকার বিরোধের বিবরণ প্রস্তুত করে শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠালে কমিশন এই বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


নির্বাচিত

জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসমূহ গুরুত্বের সাথে নিয়ে একটি সাংগঠনিক তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করারও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে জনৈক তরুণীর সঙ্গে এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তাঁর 'দ্বিতীয় স্ত্রী' হিসেবে দাবি করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়ালে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, 'এ বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসায় আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।' তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি এবং তদন্তে নৈতিক বিচ্যুতির প্রমাণ মেলায় তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।


নির্বাচিত

জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গত সোমবার রাতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়।

ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। ওই পোস্টে নজরুল উল্লেখ করেন, ‘মেয়েটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম।’

চলতি বছরের ১৭ জুন তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন বলেও উল্লেখ করেন নজরুল। এই এমপি বলেন, ‘দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মাছুম বিল্লাহ সঙ্গে তার মামা ওবায়দুল্লাহ পূর্বশক্রতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই তিনি এই ষড়যন্ত্রের শিকার।’

যারা ঘটনাটি নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুর রহমানও বলেন, ‘ভিডিওতে যে নারীকে দেখা গেছে তিনি এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী। তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আমরা কথা বলে জেনেছি। পারিবারিকভাবে তাদের আগেই বিয়ে হয়েছে। তবে বয়সের কারণে বিষয়টি গোপন ছিল। বিয়ের পর থেকে পারিবারিকভাবে তারা জীবনযাপন করে।’

আজিজুর রহমান বলেন, ‘তারা যেখানে ছিলেন, সেইখান থেকে সিসিক্যামেরা ফুটেজ কীভাবে বাইরে এলো সে বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

মরিয়মের বায়োডাটায় বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত: মরিয়মের বায়োডাটায় দেখা গেছে, দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।

বায়োডাটায় দেখা যায়, গত ২২ জুন তারিখে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে। স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে ‘জোর সুপারিশ করছি’। অথচ গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে বিয়ের পাঁচ দিন পর স্বাক্ষর করা বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমাদের বিয়ে হয়েছে গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে আমার প্রথম স্ত্রীসহ সবার সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম মোসাম্মাৎ মরিয়ম আক্তার, তার বাবার নাম মাসুম বিল্লাহ। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে। বর্তমানে ঢাকায় থাকেন।’

তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেবে জামায়াত:

জামায়াত নেতা ও এমপি গাজী নজরুল ইসলামের এ ভিডিও বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দলটি। জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়- গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘অতিসম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০ জুলাই রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকে। একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়।


নির্বাচিত

জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার পর মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকা বহিষ্কার

ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৯ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

এর আগে গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর নিজ বাড়ির সামনে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন। ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন একজন সন্দেহভাজনকে চাপাতিসহ আটক করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মাত্র এক মিনিটের পরিকল্পিত হামলায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া তিন ব্যক্তি ঢাকা থেকে তিন দিন আগে মিঠামইনে এসে অবস্থান নেন। তারা জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরের একটি বাড়িতে অতিথি হিসেবে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িটি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোকাররম হোসেন খোকার বড় ভাইয়ের।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে বের করে আনা হয়েছিল। তাদের দাবি, মোকাররম হোসেন খোকাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকেই খোকা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা তিন আসামি হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম (শাকিল) (২৭)।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম (শাকিল)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) এবং কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৪ এর বিচারক সঙ্গিতা ভট্টাচার্য এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার স্বামীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি বলেন, হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে মো. রাশেদ খাঁনকে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার। রবিবার (১৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

প্রজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগদানের পূর্বে মো. রাশেদ খাঁনকে বর্তমানের অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি ও বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদ্যমান সকল কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। এটি তাঁর পূর্ণকালীন ও একনিষ্ঠ দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হবে। দাপ্তরিক আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে যে কোনো একটি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নিয়োগের অন্যান্য বিস্তারিত শর্তাবলী ও সুযোগ-সুবিধা পরবর্তীতে স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই নতুন অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।


নির্বাচিত

ইসিতে হিসাব দিল বিএনপি, সর্বশেষ অর্থবছরে আয় ২২ কোটি ব্যয় ১৫ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। সে হিসাবে দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা। রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাবটি জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলটি ইসি সচিবালয়ে যায়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহদপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।

তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।

হিসাব জমা দেওয়ার পর রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন, সেটি নির্বাচন কমিশন ও আদালতের বিষয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর প্রতি বিএনপির সমর্থন থাকবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩১ জুলাইয়ের আগেই এ হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীর অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে রাজনৈতিক দলগুলো আয় দেখায়। অন্যদিকে, সারা বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয় রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয় দেখানো হয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। কোনো দল টানা তিন বছর এ হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।


নির্বাচিত

ভারতের একমাত্র অপছন্দের দল জামায়াত, তারা আমাদের লাল কার্ড দেখায়: ডা. শফিকুর

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভারতের একমাত্র অপছন্দের দল হলো জামায়াতে ইসলামী। তারা আমাদের লাল কার্ড দেখায়। কিন্তু জামায়াত তাদের লাল কার্ডের পরোয়া করে না, কারণ তাদের ভূখণ্ডে যাওয়ার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। জীবন দিয়ে হলেও ’২৪-এর অর্জন রক্ষা করবে জামায়াত।

জামায়াত আমির বলেন, সবাই ২০২৪ সালের অর্জনের কথা স্বীকার করলেও অনেকে এখনো অতীত নিয়েই পড়ে আছেন। ২৪ না হলে তারেক সাহেব প্রধানমন্ত্রী আর আমি বিরোধী দলীয় নেতা হতে পারতাম না। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে জাতি সামনে এগোবে কীভাবে?

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার। জনগণ গণভোটের প্রশ্ন বুঝতে পারে না– এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, চারটি প্রশ্ন বুঝতে না পারলে ৩১ দফা বুঝলো কীভাবে?

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অন্যায় না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটে কারচুপির বিষয় একদিন সামনে আসবেই। গণভোটের রায়ের পক্ষে আন্দোলন কখনও বৃথা যাবে না। সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে সমাধান হবে।

তিনি শহীদদের নামে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণের দাবি জানান এবং বলেন, সংস্কারের প্রত্যাশা ধরে রাখতে হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংসদ ও রাজপথ-দুই জায়গাতেই সক্রিয় থাকবে জামায়াত।


নির্বাচিত

সংসদ সদস্য বাচ্চুকে শোকজ বিএনপির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিএনপি। শনিবার (১৮ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় পাট (জুট) ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে শোকজ নোটিশ জারি করেছে বিএনপি।


নির্বাচিত

আমরা সংবিধান সংশোধন চাই, সংস্কারের কথা বলিনি: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।’

জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও এ সময় অভিযোগ তোলেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।

ফখরুল বলেন, ‘জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল, সেই ম্যানিফেস্টোতে টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং ওই জায়গায় কোনো রকমের কোনো বিভ্রান্তি অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আজকে অনেকগুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফায়সালা হবে। আমার কাছে মনে হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জুলাই সনদ আমরা স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে। যে সকল দল আমরা আন্দোলন করেছি একসঙ্গে, তারা সবাই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার করে বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়িত করব…এটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

গণভোটের একটি অংশ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। সে সময় আমি নিজে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কার কমিশন আমাদের কনসেন্ট ছাড়াই কথাগুলো সেদিন নিয়ে এসেছে। জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন...সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ৩১ দফাতে যেমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ঠিক তেমনভাবে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে আমরা বলছি।’ এখানে বিরোধীদল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না,’ যোগ করেন তিনি।

‘সংস্কার বিএনপিই এনেছে’: ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলের শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে।’

বিরোধীদলের অনেকে মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের চেয়ে ভালো তো আর কেউ বোঝে না। আমরা যতই মনে করি...জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, বিরোধীদল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না জুলাই ক্ষমতার যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।’

জুলাই আন্দোলনের বিএনপি ত্যাগ সবচেয়ে বেশি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় এক হাজার ৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এ জন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।’


নির্বাচিত

জামায়াত ‘আওয়ামী লীগের টোনে’ কথা বললে জনগণ মেনে নেবে না: রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারা সব সময় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে নিজেই পানিতে পড়ে যায়। সীমান্ত হত্যা, পুশইন নানা ঘটনার পরেও ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার টোনে জামায়াত কথা বললে, জনগণ তা মেনে নেবে না। শুক্রবার (১৭ জুলাই) যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের যে উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ আছে, যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো যাত্রাবাড়ীতে যখন গোলাগুলি করা হচ্ছিল সেদিন বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোও বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খান কোন দোষ করেছে? শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছে?’

রিজভী বলেন, ‘টকশোতে অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন। শেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন? খালেদা জিয়া তো পালাননি। হাসিনা যে কী নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না। ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।’


নির্বাচিত

বিএনপি সবসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকে: এমপি রনি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে ভাওয়াল রাজাদের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মানিক্য মাধবের রথযাত্রা ও রথমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শহরের রথখোলায় গাজীপুর প্রেসক্লাবের বটমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম.মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, বিএনপি সবসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে আছে এবং থাকবে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রথমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহীদউজ্জামান, আহম্মদ আলী রুশদী, হাসান আজমল ভূঁইয়া, গাজীপুর মেট্রো সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব খান জাহিদুল ইসলাম নিপু, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল খন্দকার সুমন, গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহাজ বিন ফয়েজ প্রবাল, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, এডিসি জেনারেল শাহরিয়ার নজির, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন প্রমূখ।


নির্বাচিত

আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকার ও বিএনপি নিজ নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার্থে হাওরের ওপর সড়ক নির্মাণের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।

পাশাপাশি উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যক্তিস্বার্থে কালভার্ট নির্মাণ জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছে।

তিনি আরো বলেন, দখলদার যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

পাশাপাশি সারাদেশে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাগির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গাজী ফোরকান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল বিন মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


নির্বাচিত

banner close