দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘এখন আর ঘরে থাকা যাবে না। ঘরে থাকার সময় নেই। দল থেকে যখনই ডাক আসবে, যে যেখানে যেভাবেই থাকেন না কেন রাস্তায় নেমে আসতে হবে।’
সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক দোয়া মাহফিলে শামসুজ্জামান দুদু এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি ও তার আশু রোগমুক্তির কামনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করেন ‘৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতারা’।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘যে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতার জন্য এক সাগর রক্ত দিয়েছে সেই দেশের স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী আজ জেলে। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, জীবনে কোনো নির্বাচনে হারেননি। এ রকম একজন জনপ্রিয় নেত্রীকে একটা বর্বর সরকার আটক করে রেখেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই জালিম সরকার আমাদের নেত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। আমি এটাকে হত্যাই বলবো, কারণ এটা কোনো মামলা নয়। সাজার তো প্রশ্নই ওঠে না। নিজেদের আদালত দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। নেত্রীকে মুক্ত করতে এ সরকারকে বিদায় করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’
শামসুজ্জামান দুদু আরও বলেন, ‘নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রীরাও লাঠি হাতে হল থেকে বেরিয়ে এসেছিল। আর ছাত্ররা তো জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছে। সেই লড়াইটার কথা আমাদের স্মরণ করতে হবে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের বীররা আছে, তার সঙ্গে বর্তমান সময়ের বীররাও আছে। তাদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে।’
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলনসহ ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণামঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের জন্য চেয়ার রাখা হলেও তিনি বা তার দলের কেউ সেখানে যোগ দেননি। ফলে এখন পর্যন্ত কার্যত ১০ দলকে সমঝোতায় দেখা গেল।
নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ১০ দলের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। সেখানে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনে সমঝোতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷
রাত আটটায় এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতিও শুরু হয় ঘণ্টাখানেক আগে। তবে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৮টা ৪০ মিনিটে। সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
তিনি জানান, সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসনে এবং জুলাই গণঅঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে। ঐক্যভুক্ত মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসন পাচ্ছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সমঝোতায় থাকলেও তাদের আসন এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান জামায়াত নেতা তাহের।
আশা করছি তারা থাকবেন: জামায়াত আমির: পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জোট ভাঙেনি, জোট আছে। কোনো একটা দল যে কারণেই হোক একমত হলো না। এর মানে তো জোট ভাঙা নয়। এটি আসলে জোটও নয়, নির্বাচনী ঐক্য।
ইসলামী আন্দোলনের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘একটি দল সূচনায় আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে না। এটা ভাঙনের কোনো ব্যাপার নয়। তারা নিজেদের নিয়ে আরও বোঝাপড়া করছেন৷ তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা আশা করছি, তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’
এদিকে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলের অবস্থান জানাতে আজ শুক্রবার বিকেল তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন। ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে রাত সাড়ে আটটার দিকে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ঐক্যের মূল বক্তব্য তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন৷
সংবাদ সম্মেলন শেষে ১০ দলের নেতারা হাতে হাত দিয়ে ওপর তুলে ধরে ঐক্যের বার্তা দেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল গত বুধবার। বিকেল সাড়ে চারটায় ওই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও পরে স্থগিত করা হয়। মূলত সমঝোতায় আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা৷ এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সপরিবারে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যমুনায় প্রবেশ করে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ি। তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান ছিলেন। বৈঠক শেষে তারা রাত সোয়া ৯টার দিকে যমুনা ত্যাগ করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান সপরিবারে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ি যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়।
জানা গেছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সবার সহযোগিতা চান প্রধান উপদেষ্টা৷ তারেক রহমানও এই বিষয়ে পূর্ণ সায় দেন। দলের পক্ষ থেকে শতভাগ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। পরে সবাইকে নিয়ে রাতে খাবার খান প্রধান উপদেষ্টা ও তারেক রহমান।
বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
গত নভেম্বরে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ও বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনপূর্ব সময়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে বিএনপি প্রধানের এ বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ জুন লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করলে বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। দেশে আসার ২১ দিন পর প্রধান উপদেষ্টা বাসভবনে দেখা করলেন। যদিও এরমধ্যে গত ৩১ ডিসেম্বর প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় সাক্ষাৎ হয় ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের।
এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে যমুনা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে।
প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানিয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি বিএনপির প্রতিনিধি দল।
সাক্ষাৎ শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাদের জানানো উচিত। পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। সেজন্য আমরা বলেছি, সমস্ত নির্বাচনী এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকবে, তাদের নাম ও মার্কাসহ সাধারণ ব্যালটই সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার হোক। এ বিষয়ে আমরা স্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। সমস্ত মার্কাসহ ব্যালট সব আসনে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় সংশ্লিষ্ট সব প্রার্থীর নাম ও মার্কাসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার হয়, সেটিই প্রত্যেক এলাকায় পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। আশা করি, নির্বাচন কমিশন এটি গ্রহণ করবে এবং বিবেচনা করবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কিছু আইনি ও আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে আমরা নির্বাচন কমিশনে এসেছিলাম। আজকে আমরা আইনগত কিছু পয়েন্ট এবং আচরণবিধির কিছু বিষয় কমিশনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এসব বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি, এর বেশি কিছু বলার নেই। তারা এসব বিবেচনা করবেন। বৈঠকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’
বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালেটগুলো প্রবাসীদের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি, তবে এ বিষয়ে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যারা পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও প্রেরণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রেরিত ব্যালটগুলো বিভিন্নভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। এককভাবে কোনো বাড়িতে ২০০–৩০০ ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও জব্দ করা হচ্ছে, কোথাও ভোটিং শুরু হয়ে গেছে। যেটা ২২ জানুয়ারি হওয়া উচিত ছিল, সেখানে অনিয়ম ঘটছে। যেহেতু প্রবাসীদের ভোটদানের এই নিয়ম প্রথমবারের মতো কার্যকর হচ্ছে, তাই কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রবাসীদের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে—কীভাবে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, ভোট কীভাবে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কোথাও একসঙ্গে ২০০–৩০০ ব্যালট থাকলে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। এসব বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে, সেটিও দেখার বিষয়।’
বিভিন্ন দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর স্থগিত করা হয়েছে কমিশনের অনুরোধে। এটি রাজনৈতিক সফর ছিল না। কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য বা ভিডিও প্রকাশিত হলেও কমিশন নির্বিকার রয়েছে। আশা করি তারা বিষয়টি ঠিকভাবে সমাধান করবে।’
বৈঠকে আরও ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আজীবন আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের জমি বরাদ্দ দাতা। অনুষ্ঠানে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে খতমে কোরআন ও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আমীর খসরু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর একজন সাধারণ গৃহবধূ হয়েও বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ইতিহাস গড়েছেন। ১৯৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়গুলোতেও গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি দুর্যোগে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির কথা ভেবেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য মানবিক ও গণতান্ত্রিক নেত্রী।
প্রধান বক্তা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ছাড়াও চট্টগ্রামের ইউএসটিসি, ডায়বেটিক হসপিটাল, কিডনি হাসপাতালসহ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেন বেগম খালেদা জিয়া। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন, ক্যান্সার বিভাগে ওভাল মেশিন স্থাপন তার আমলেই হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং এদেশের মানুষের মনের মণিকোঠায় তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডোনার) ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর প্রমুখ।
চট্টগ্রাম-৭ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ বলে চূড়ান্ত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত আপিল শুনানি শেষে কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শুনানি পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী জানান যে, তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে যে আপিল করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে তার নাম ঋণখেলাপি হিসেবে ছিল না।
নিজের প্রার্থিতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও সিআইবি প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একটি আপিল করা হয়েছিল। তবে, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়, অর্থাৎ গত ২৯ ডিসেম্বর জমা দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না।” ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “৮ জানুয়ারি সকালে হঠাৎ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাকে ঋণখেলাপি দেখানোর চেষ্টা করা হয় এবং সে দিনই নতুন একটি সিআইবি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ওই দিন রাতেই আমার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়। বিষয়টি ষড়যন্ত্র কিনা, তা দেশের মানুষের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।”
হুম্মাম কাদের চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে ইস্যু করা সিআইবি প্রতিবেদনের ওপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা আমলে নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিশন তার প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দিয়েছে এবং এতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য যে, নির্বাচন কমিশন আজ সকাল থেকে ৩৮১ থেকে ৪৮০ নম্বর পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি গ্রহণ করছে, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলমান থাকবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে '১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য' নামক একটি রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, যেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রেখে বাকি ২৫০টি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দলের মধ্যে আসন সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই নির্বাচনী ঐক্যে ইসলামী আন্দোলনকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে দলটির সাথে আলোচনার চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে। বৈঠকের অগ্রগতি সম্পর্কে খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি জানান, “আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। ৫০ আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের জন্য। তারা না এলে পরবর্তী সময় বাকি আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।”
জোটের লক্ষ্য ও রাজনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। এই জোট নিয়ে আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে, এটা জনগণ বুঝে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে, এটা সবার প্রত্যাশা। যেসব মতভিন্নতা হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো কেটে যাবে। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা হবে এই জোট যেন অটুট থাকে। কারও মতানৈক্য থাকলেও জোট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, “৩০০ আসনে কোনো দলীয় প্রার্থী হবে না, সবাই জোটের প্রার্থী হবে। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করবে।” এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে বলেন, “প্রথম কথা হচ্ছে আমরা কোন ঝামেলার ভেতরে নাই এবং আমাদের ভেতরে যে আলাপ, আলোচনা হচ্ছে। কিছুটা মতভিন্নতা হচ্ছে, এটাকে এটা ঝামেলা বলা যায় না। দ্বিতীয়ত হচ্ছে আমরা কথা বলবো রাত ৮টায়।”
আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো— “১১ দলের আসন সমঝোতার লক্ষ্য কী? সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমঝোতার সুনির্দিষ্ট একটি ‘রাজনৈতিক স্মারক’ নির্ধারণ করা।” এছাড়া তিনি দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনসহ “কিছু আসন ওপেন রাখা”র প্রস্তাবও দেন। এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইসলামপন্থিদের ‘একবক্স’ নীতি বড় প্রত্যাশা তৈরি করলেও “সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসে নাই।” তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে, জোটের অন্য দলগুলোর সঙ্গে তাদের বহুমাত্রিক আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় সতর্ক করে বলেন, “সম্প্রতি লক্ষ্য করছি, কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন মন্তব্য বা লেখালেখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেছেন।” তিনি সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ রাখতে চাই—সত্যিই যদি আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধরনের সব কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের কারণে তার দল রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান। বৈঠকে মূলত আসন্ন নির্বাচনের বিভিন্ন আইনগত দিক এবং নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো বাড়িতে কয়েকশ পোস্টাল ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া একজনের নামে বরাদ্দ করা ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে—এমন অনিয়মও সামনে এসেছে। এই অবস্থায় প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া, স্ক্যান করার পদ্ধতি এবং বিপুল পরিমাণ ব্যালট পাওয়ার ঘটনায় দায় কার, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এর প্রেক্ষিতে কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আজই প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান বিধি অনুযায়ী স্লিপে কোনো দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি ব্যবহারের সুযোগ নেই, যা পুনর্বিবেচনা করার জন্য তিনি কমিশনের কাছে জোরালো আবেদন জানান। তিনি মনে করেন, নির্বাচন কমিশন চাইলে জনস্বার্থে এই বিধানে পরিবর্তন আনতে পারে।
এই বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ১১ দলের জোটের আসন ভাগাভাগি বা সমঝোতা বিষয়ে আজ রাতেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং আন্দোলনরত ১১ দলের প্রধান সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত এবং স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে (২য় তলা) একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলনে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে চূড়ান্ত তালিকা ও সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে জানাবেন।
আজকের জরুরি বৈঠকে আসন সমঝোতার জোটে থাকা ১০টি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। তাদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিলেও জোটের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই এই ১১টি দল নিজেদের মধ্যে আসন বন্টন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই আলোচনার পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং কোন দল কয়টি আসনে বা কোন কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তা পরিষ্কার হবে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সংবাদ সম্মেলনে জোটের পরবর্তী নির্বাচনী কৌশল নিয়েও বিস্তারিত জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাবরণ করা বিএনপির নেতাকর্মীদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জেল-জুলুম, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, তারা ইতিহাসে সাহসী সৈনিক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।
শনিবার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কারানির্যাতিত নেতাকর্মীদের মিলন মেলা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইগাতী উপজেলার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গায়েবি মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমনমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে কারাবন্দী হওয়া বিএনপির আট শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্যাতিত, আপসহীন ও সাহসী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যক্তি জীবনে সীমাহীন ত্যাগ ও বেদনা বহন করেও তিনি কখনো স্বৈরাচারী শক্তির কাছে মাথা নত করেননি। নির্যাতন, শোষণ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রশ্নে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অবিচল।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ ও সংগ্রাম চিরকাল উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আন্দোলন-সংগ্রামে যারা হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারানির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারাও ভবিষ্যতে সাহসী সৈনিক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই মিলন মেলা ও মিলাদ মাহফিল কোনো আনন্দের আয়োজন নয়, বরং শোকের প্রতিফলন। তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে দলীয় ঐক্য সুসংহত করে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান আকন্দ। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইগাতী উপজেলার আট শতাধিক কারানির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক আবুল হোসেন সরকার।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ১২ দলীয় জোটের নেতারা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করেন তারা।
এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এ সাক্ষাৎ হয়েছে। সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ১২ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিমসহ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা ছিলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গুম থেকে ফিরে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে গুলশান চেয়ারপারসন কার্যালয়ে তিনি সাক্ষাৎ করেন।
গুলশান কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানানোর জন্য গুলশান কার্যালয়ে যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। শোক বইতে স্বাক্ষর শেষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরে তারেক রহমানের হাতে তার প্রকাশিত বই তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী প্রয়াত জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম আজমের পুত্র। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে দীর্ঘ ৮ বছর তাকে গুম করে ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ফিরেন আসেন।
সব বিবেধ ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেরপুর জেলা বিএনপির নেতারা। গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে শেরপুর জেলা বিএনপির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিএনপির নেতারা।
মাধবপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শেরপুর-১ সদর আসনের এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার বাসভবনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও শহর বিএনপির আহ্বায়ক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান, আবু রায়হান রুপম, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাসহ জেলা বিএনপির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএনপির সকলেই একমত পোষণ করেন যে, ধানের শীষ দলের প্রতীক। কাজেই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
রাত আটটা থেকে শুরু হয়ে ৬ ঘণ্টা চলা এ মিটিং শেষে রাত দুইটার সময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ সাংবাদিকদের জানান, আমরা শেরপুর-১ সদর আসনসহ জেলার তিনটি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। দলের প্রার্থীর পক্ষে যে সকল নেতাকর্মী কাজ করবেনা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সফিকুল ইসলাম মাসুদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আসন সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আমরা আশা করছিলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সেটি হয়নি। তবে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।” তিনি জোটের শরিকদের একাংশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, “তিনশ আসনেই একটি দল প্রচার করছে (প্রচারণা চালাচ্ছে), জোটের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এসব মিথ্যাচার করলে তাদের সঙ্গে সামনে পথচলা কষ্টকর হয়ে যাবে।”
দলের আগামী কর্মপন্থা নির্ধারণে বর্তমানে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। গাজী আতাউর রহমান জানান যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সব স্তরের নেতা ও প্রার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং মজলিসে আমেলার বৈঠকেও এ নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। ওয়ান বক্স পলিসির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “২০ তারিখ (২০ জানুয়ারি) হলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হলো ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ। তাই না? ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।” জোটের পরিধি বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, “আমাদের সঙ্গে অনেকেরই, পাঁচ দলের বাইরেও অনেকেরই আমাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ১২ দলের মধ্যে যারা আছে, এদের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরেও আরও আলোচনা হচ্ছে।”
ইসলামী আন্দোলন এককভাবে ভোটের মাঠে লড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মুখপাত্র বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কথাবার্তা হচ্ছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অগ্রসর হবে ইসলামী আন্দোলন। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাদের নিয়ে পথ চলবেন তারা।” সমসাময়িক রাজনীতি ও জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘোষণা দিয়ে এসেছেন, তারা সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করার জন্য আলোচনা করবেন। এই আলোচনা নির্বাচনের পরেও হবে। জাতীয় সরকারের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। জামায়াতের আমির বলেছেন- খালেদা জিয়া ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ঐক্যের পাটাতনের উপরে দাঁড়িয়ে তারা আগামীতে রাষ্ট্র চালাবেন। তবে সেই ঐক্যের পাটাতন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই পাটাতন আবার মেরামত করার জন্য বলেছেন জামায়াতের আমির। এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে কি না।”
বিভাজিত রাজনীতির সুবিধা অন্য কোনো দল পাবে কি না, এমন প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেন, “এটা তো স্বাভাবিক। এর দায় কি আমাদের? এখানে যদি কেউ সুবিধা পায় সেটা পাইতে পারে। কারণ রাজনীতি সবসময় একই ধারায় চলে না। এখানে উত্থান-পতন হবে, জোয়ার-ভাটা হবে। কেউ একসময় উৎসাহী হবে, দেখা যাবে তারাই আবার একসময় নিরুৎসাহী হয়ে যাবে। জোয়ার ভাটা তো আছে এবং গতি সবসময় একরকম থাকে না। একসময় মধ্যম গতি থাকে আবার একসময় দ্রুত গতি হয়, শ্লথ হয়, সবই হয়। তো আশা করি ইনশআল্লাহ আমাদের ঐক্যের যেই পাটাতনটা আমরা তৈরি করেছিলাম, সেটা রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা করবো।” বিএনপির সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি তো ফিক্সড করে ফেলেছে তাদের জোট এবং তাদের যে ডিজাইন সেটা তো হয়ে গেছে।”
আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন চললেও ইসলামী আন্দোলন এখনো জাতীয় ঐক্য রক্ষার পক্ষে কাজ করছে। গাজী আতাউর রহমান বলেন, “নির্বাচনি আসন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। নানান প্রতিকূলতা থাকলেও ন্যূনতম সমঝোতা যাতে থাকে, ইসলামী আন্দোলন সেই চেষ্টা করে যাবে।” তবে তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, “আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু সংকট আছে, যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনকে মেনে নিতে হবে, এই রাজনীতি আমাদের দল অতীতেও করেনি। কেউ ইসলামী আন্দোলনকে অবহেলা করলে সেটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায় না।”
নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জনমত জরিপকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন এই নেতা। তিনি বলেন, “অনেকে সমীক্ষাকে মানদণ্ড ধরেন। এসব জরিপ কারা করছে মানুষ সেটি বুঝে। এগুলো বেইনসাফি করার পথ উন্মুক্ত করছে। এসব ভাঁওতাবাজি জরিপ দিয়ে নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করলে সেখানে বিপর্যয় হবে।” দলটির লক্ষ্য সবার সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলন সবার সঙ্গে সম্মান এবং শ্রদ্ধার সম্পর্ক রাখতে চায়। তবে সবাইকে সবসময় একই সঙ্গে পথ চলতে হবে, এমন নয়। যদি পথ ভিন্নও হয়, সুসম্পর্ক যাতে থাকে, সেই চেষ্টা ইসলামী আন্দোলনের থাকবে।” শেষে তিনি আবারো পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে এগোতে চেয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। সমঝোতার মানে কেউ কারও ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না। সেই পরিবেশ থাকলে আসন কমবেশি নিয়ে সমস্যা থাকতো না। তিনশ আসনেই একটি দল প্রচার করছে, জোটের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এসব মিথ্যাচার করলে তাদের সঙ্গে সামনে পথচলা কষ্টকর হয়ে যাবে।”