‘আগুনসন্ত্রাস ও নাশকতার রাজনীতি’ ছেড়ে বিএনপিকে ‘সঠিক পথে’ ফিরে আসতে ৩৬ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে বিএনপি সঠিক পথে না এলে তাদের অপরাজনীতির কালো হাত ভেঙে দেয়া হবে।
সোমবার রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শান্তি সমাবেশ থেকে বিএনপিকে শেষ বার্তা দিলাম, সর্বশেষ বার্তা, ৩৬ দিনের আলটিমেটাম দিলাম, ৩৬ ঘণ্টা নয়। ৩৬ দিনের মধ্যে অপরাজনীতি, আগুনসন্ত্রাস, নাশকতার রাজনীতি ছাড়তে হবে। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। যদি এ সময়ের মধ্যে বিএনপি সঠিক পথে না আসে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের অপরাজনীতির কালো হাত গুঁড়িয়ে দেব, ভেঙে দেব।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে রোববার দলটির দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘তারা তাদের নেত্রীর জন্য কিছুই করতে পারেনি। শেখ হাসিনার দয়া ও মহানুভবতায় খালেদা জিয়া বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘ফখরুলের লজ্জা করে না। আজকে ৩৬ ঘণ্টা আলটিমেটাম দিচ্ছে, কিন্তু ৩৬ মিনিটও বিএনপি খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করতে পারেনি। বাংলাদেশের কোথাও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ৩৬ মিনিটও আন্দোলন হয়নি। আজকে আওয়ামী লীগকে আলটিমেটাম দিচ্ছে।’
‘৩৬ দিনের আলটিমেটাম দিলাম, ঠিক হয়ে যান। কোমর তো ভেঙে গেছে, হাঁটুও ভেঙে গেছে গোলাপবাগের গরুর হাটে, গর্তে পড়ে কোমর ভেঙে গেছে। ফখরুল এখন ঠিক হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। বিএনপির নেতারা এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। বাজার খারাপ, লোক আসে না।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি যদি অস্ত্র নিয়ে আসে ওই হাত ভেঙে দিতে হবে। যদি আগুন নিয়ে আসে ওই হাত পুড়িয়ে দিতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর।’
আওয়ামী লীগ সরকার কারও ভিসানীতির তোয়াক্কা করে না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বার্তা দিয়ে দিচ্ছি, কারও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা আমরা করি না। বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি কারও নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করার জন্য নয়। এ দেশ রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছি কারও নিষেধাজ্ঞা মানার জন্য নয়। আমার গণতন্ত্র আমি করবো। আমার নির্বাচন আমি করবো। তুমি কে? সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে আটলান্টিকের ওপার থেকে নিষেধাজ্ঞা দেবে? এ দেশ গ্যাবনের আলী বঙ্গোর দেশ নয়। এ দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ।’
‘আমি জানি সারা দুনিয়ার কোথাও গণতন্ত্র ত্রুটিমুক্ত নয়। আজকে যারা নিষেধাজ্ঞার কথা বলে, তাদের নিজেদের দেশেই গণতন্ত্র ত্রুটিমুক্ত নয়, মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পতাকা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। কিছুই তারা করতে পারছে না।’
সরকার দেশের জনগণকেই কেবল পরোয়া করে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘জনগণ ছাড়া কোনো নিষেধাজ্ঞা, ভিসানীতি আমরা মানি না, মানবো না। আমার নির্বাচন আমি করবো, আমার নিয়মে আমি করবো। সংবিধান কীভাবে নির্বাচন করতে হবে বলে দিয়েছে। কারও খবরদারিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র চলবে না। কারও খবরদারিতে বাংলাদেশের নির্বাচন চলবে না।’
বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ওপর ভর করেছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা ভর করেছি জনগণের ওপর। ভিসা-টিসা বাস্তবে দেখা যাবে। এটাই আমাদের ক্ষমতার ভিত্তি, উৎস। জনগণের সঙ্গে ক্ষমতায় আছি, আগামী জানুয়ারিতে নৌকায় করে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবো।’
আপস নয়, রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে বলে জানিয়ে দেন কাদের। তিনি বলেন, ‘রাজপথে এসে অবস্থান নেবেন, সেই খেলা আর খেলতে দেওয়া হবে না। সুযোগ একটাই; নির্বাচনে আসেন। নির্বাচনে যদি না আসেন খেলার আগেই হেরে যাবেন।’
নির্বাচন যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনা ছাড়া কারও অধীনে নির্বাচন মেনে নেবে না, নির্বাচন হবে না।’
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের কষ্ট ও দুঃখ দূর করার জন্য বিদেশিদের কাছে তদবির করে বেড়াচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের আজ শেখ হাসিনার মতো ঈমানদার নেতা আছেন, আল্লাহর আশীর্বাদ ততদিন বাংলাদেশের জনগণের ওপর আছে। হতাশ হবেন না। সাময়িক কষ্ট চলে যাবে, সুদিন আবার আসবে।’
‘আওয়ামী লীগ যখন খেলবে তখন ফাউল করলে পা ভেঙে যাবে’, যোগ করেন কাদের।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির পলাতক দণ্ডিত নেতা তারেক রহমানের ওপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কী হলো ফখরুল সাহেব?’
আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি দল মাথা গরম করব না। ওরা করুক তাফালিং। এই তাফালিং আর কয়দিন? লাফাইতে লাফাইতে আবার বসে যাবে।’
মন্ত্রী জানান, ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন হবে। তার আগে ৭ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন হবে। ওইদিন রাজধানীর দিয়াবাড়িতে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শবনম জাহান শিলা ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়নি। তার দাবি, সরকার পরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী সুবিধা প্রদান করছে, যার ফলে নির্বাচনী পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রংপুর নগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নানামুখী হুমকি ও ভয়ভীতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অথচ এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নির্বাক ভূমিকা পালন করছে।
জি এম কাদের বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অন্য দলগুলোকে চাপে রেখে কেবল একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন জনগণের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, এই অসম আচরণের কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে জাপা চেয়ারম্যান কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। জি এম কাদের এই গণভোটকে সংবিধান পরিপন্থী আখ্যায়িত করে বলেন, যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়, তবে জাতীয় সংসদ তার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা হারাবে এবং একটি নির্দিষ্ট শক্তির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট বর্জন করে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি একে কোনো দলীয় এজেন্ডা নয় বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায় এবং বিকল্প শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির দিকেই তাকিয়ে আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতার লোভে নয়, দেশের কল্যাণে রাজনীতি করে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির, মো. আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাকসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপির সুপরিচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজের গভীর আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের আমিনপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি রূপক ভাষায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, “আমার একটা হাঁসও যেন শেয়াল চুরি না করে। গুণে গুণে হাঁস আপনারা খোঁয়াড়ে তুলবেন। ১৫ বছর হাল চাষ করলাম, বীজ দিলাম, ধান লাগালাম। ফসল কাটার সময় যদি মরুভূমি আসে, কেমনটা লাগে? ঠিক আছে—আমার হাঁস, আমার চাষ করা ধানই খাবে।”
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজপথে সক্রিয় থেকে দল ও রাজনীতির জন্য শ্রম দিলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্যে হতাশার প্রতিফলন ঘটে। তিনি আক্ষেপের সুরে জানান যে, দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করার পর যখন ফসল ঘরে তোলার মাহেন্দ্রক্ষণ আসে, তখন সবকিছু হাতছাড়া হয়ে যাওয়া একজন একনিষ্ঠ কর্মীর জন্য চরম বেদনাদায়ক। তবে ব্যক্তিগত বঞ্চনার কথা বললেও তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানে অনড় থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গণসংযোগ চলাকালে তাঁর এই আবেগঘন ও রূপকধর্মী বক্তব্যে উপস্থিত অনেক নেতা-কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাঁর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। মূলত তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। তিনি দাবি করেছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির নাম ও আবেগকে ব্যবহার করছেন। শনিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আবদুল কাদের এই অভিযোগ করেন। তার মতে, ৫ আগস্টের পর জাতি যে ধরনের ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করেছিল, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বর্তমান কর্মকাণ্ড তার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং তিনি অযথা বিবাদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের তার পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আন্দোলনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখার দাবি করে হম্বিতম্বি করলেও তারা মাঠে তাকে সেভাবে দেখেননি। আবদুল কাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরপরই বাংলামোটরের বিয়াম ভবনে অনুষ্ঠিত একটি সভার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে আসিফ মাহমুদ, নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলমের উপস্থিতিতে আন্দোলনের জুনিয়র লেয়ারের সদস্যরা নাসীরুদ্দীনের লিয়াজোঁ কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের প্রশ্ন ছিল, হঠাৎ করে এসে তিনি কীভাবে এমন নীতিনির্ধারণী পদে স্থান পেলেন।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীনের রাজনৈতিক অতীত এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির, ছাত্র ফেডারেশন এবং এবি পার্টির মতো দল ভেঙে আসার ইতিহাস রয়েছে। তাই নতুন এই উদ্যোগেও তিনি বিভাজন সৃষ্টি করবেন কি না, তা নিয়ে জুনিয়ররা শুরু থেকেই সন্দিহান ছিলেন। সেই সময় লিয়াজোঁ কমিটিতে তাকে রাখার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া হলে নাহিদ ইসলাম জানিয়েছিলেন যে, আন্দোলনের সময় নাসীরুদ্দীন তাকে একদিন আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনে সহায়তা করেছিলেন। মূলত তার জ্যেষ্ঠতা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর যুক্তিতেই তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন কাদের।
আবদুল কাদের আক্ষেপ করে বলেন, লিয়াজোঁ কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শপথ করে অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি অতীতের মতো আর কোনো দল বা উদ্যোগ ভাঙবেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কর্মকাণ্ডে সেই অঙ্গীকারের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই সমন্বয়ক। নাসীরুদ্দীনের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে নোংরামি উল্লেখ করে কাদের বলেন, তিনি পায়ে পাড়া দিয়ে ঝামেলা বাধানোর চেষ্টা করছেন, যা দেশের মানুষ বা ছাত্রসমাজ কেউই প্রত্যাশা করে না। নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে প্রকাশ্যে এনেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে এবং দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। রবিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ের ওপর কড়াকড়ি নজর দেওয়া হবে, যার একটি হলো মানুষের নিরাপত্তা এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন।
সমাবেশে তারেক রহমান বিগত সময়ে বিএনপি সরকারের শাসনামলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীতে যখন বিএনপি দেশ পরিচালনা করেছে, তখন দলের কেউ অন্যায় করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি। তিনি আশ্বাস দেন যে, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি এক আবেগঘন আহ্বান জানান। তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোটের দিন তারা যেন তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে এবং ফজরের নামাজ শেষে সোজা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যান। বিগত ১৫ বছরে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এখনো নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। তাই হারানো অধিকার ফিরে পেতে এবং ষড়যন্ত্র রুখতে ধানের শীষের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমালোচনা করার চেয়ে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনা করে কারও পেট ভরবে না বা লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা ক্ষমতায় গিয়ে সবসময় মানুষের জন্য কাজ করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন, যার মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে বিএনপি প্রধানের বক্তব্যে। তিনি নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও নালা সচল করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন এবং প্রয়োজনে খাল খনন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন। এছাড়া বিএনপি সরকারের আমলে চট্টগ্রামে ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসলে আরও নতুন ইপিজেড তৈরি করা হবে এবং চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থেই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করা মোটেও ঠিক নয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে হিন্দু, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। এমতাবস্থায় রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে আনলে তা পক্ষপাতিত্বের সৃষ্টি করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। রবিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির মূল পার্থক্য হলো বিএনপি একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। জনগণ বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ধরে চেনে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখে। বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে তারা কেবল মামলা আর পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছেন। সারা দেশে দলের প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঠাকুরগাঁও জেলাতেই সাড়ে ৭ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। মামলা মোকাবিলার কারণে নেতাকর্মীদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে এবং বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন যে, আওয়ামী লীগ অতীতে যা করেছে, বিএনপির কেউ ক্ষমতায় গেলে তেমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবে না।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের মায়েদের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ড ব্যবহার করে তারা ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল ও আটার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। এছাড়া হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা সেবা পাওয়া এবং সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় নির্বাহে এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষকদের উন্নয়নের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, কৃষকদের জন্য আলাদা কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ পাবেন। গণসংযোগ ও পথসভায় স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তারা স্লোগানে স্লোগানে মহাসচিবের বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী। রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকেই মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকা। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত ছেয়ে গেছে রঙ-বেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুনে।
সকাল থেকেই মাঠের প্রবেশপথগুলোতে নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে দলবেঁধে মিছিল নিয়ে আসছেন, আবার দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেকে আগের রাত থেকেই মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। আগেভাগে আসা কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন পর দলের চেয়ারম্যানকে কাছে থেকে একনজর দেখার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তারা ভোর না হতেই মাঠে উপস্থিত হয়েছেন। সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে।
এর আগে দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন এবং লালদিঘী ময়দানে বক্তব্য রেখেছিলেন।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, আজকের কর্মসূচি বেশ ঠাসা। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘পলিসি ডায়ালগ’-এ অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। মঞ্চসহ পুরো সমাবেশস্থলকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিন স্তরের নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে। রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত মঞ্চ এলাকায় কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের ইয়েলো জোনে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক রাখা হয়েছে এবং পুরো মাঠকে সাধারণ সমর্থকদের জন্য গ্রিন জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের উৎপাদিত পণ্যের ওপর যেমন লেখা থাকে মেইড ইন বাংলাদেশ, তেমনি আওয়ামী লীগ হলো মেইড ইন ইন্ডিয়া- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এক সময় রাজনৈতিক দল ছিল, এখন মাফিয়া পার্টি। এই দলটি এখন বাংলাদেশের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের উৎপাদিত পণ্যের ওপর যেমন লেখা থাকে মেইড ইন বাংলাদেশ, তেমনি আওয়ামী লীগ হলো মেইড ইন ইন্ডিয়া। ইন্ডিয়ার মাল ইন্ডিয়ায় রপ্তানি হয়ে গেছে, এখন দেশে নতুন করে পাকিস্তানি মাল আসবে নাকি?’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গরিব মানুষ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়নের পক্ষের দল বিএনপি।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।’
ধর্মীয় বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যারা দেশ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা না দিয়ে শুধুই জান্নাতের কথা বলছে, তারা মানুষের ঈমান নষ্ট করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পক্ষে থাকা দল বিএনপি।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লার ফাজেলপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর পক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে।’ একটি বিশেষ দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা প্রথমে ৫ দল ও পরে ৮ দলে গঠনের মাধ্যমে এক বাক্স নীতিতে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছে। তারা পাকা ধানের ভেতর মই দিয়ে ধান নষ্ট করে ফেলল। তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। তারা ইসলামের লেবেল লাগিয়ে আমাদের ধোঁকা দিয়েছে।’
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘তারা গোপনে গোপনে পাশের দেশের সঙ্গে মিটিং করে আমাদের বিশ্বাসে আঘাত করেছে। যারা ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করে এদের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইসলামকে এরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে জবাই করবে। এরা ইসলামের আশা চিন্তার ফসলকে নষ্ট করেছে।’ শরিয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তরুণ ও সর্বস্তরের জনগণকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারি না। এখন একটা বাক্সই ইসলামের পক্ষে যেটা হাতপাখার বাক্স।
তরুন ভোটারদের প্রথম ভোট ইসলামের পক্ষে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। মা বোন মুরব্বিদের বলবো একবারের জন্য হাতপাখায় ভোট দিয়ে দেখেন। ফতুল্লার মাটি ইসলামের পক্ষের ঘাঁটি।’ সমাবেশে মুফতি ইসমাইল সিরাজী ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, লোকমান হোসেন জাফরি, দেলোয়ার হোসেন সাকী এবং মুফতি রেজাউল করিম আবরারসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
আমি আপনাদের লোক। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি এমপি থাকাকালীন আপনাদের পাশে ছিলাম। পাশে থেকে কাজ করেছি। আগামী নির্বাচনে এমপি হলে আপনাদের পাশে থেকেই কাজ করতে চাই।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বামনা উপজেলার ১নং বোকাবুনিয়া ইউনিয়ন স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক ৩ বারের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি জনসাধারণের উদ্দেশে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমি যতদিন এমপি ছিলাম বিগত সব এমপি মিলে যতটুকু কাজ করেছে আমি তার চেয়ে বেশি করেছি যার সাক্ষী এবং প্রত্যক্ষদর্শী আপনারা। এমন কোন রাস্তা -ঘাট নেই যা করিনি। বিগত পনেরো বছর ফ্যাসিস্টরা উন্নয়নের নামে আপনাদেরকে শুধু ধোঁকা দিয়েছে। আমি এমপি হলে পুনরায় আপনাদের পাশে নিয়ে কাজ করতে চাই ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন জামায়াত ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে দেশের বিরোধিতা করেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। তাদের কারণেই মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছে। ২ লাখ মা বোন ধর্ষিত হয়েছে। জামায়াত কখনোই ক্ষমতায় যাইনি, না গিয়েই তারা দেশের ক্ষতি করার জন্য কাজ করছে। তারা দেশকে একটি অস্থিতিশীল এবং জঙ্গি রাষ্ট্র বানাতে চায়। একাত্তরের বিরোধিতার জন্য তারা নাকি সরি বলেছে, আপনাদের কাছে (জনসাধারণ) প্রশ্ন রেখে বলছি, তারা যদি ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিনত করে এবং তাদের জন্য যদি আবারো ১০ লাখ লোকের মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে তারা যদি এসে সরি বলে তাহলে কি সব সমাধান হয়ে যাবে? তারা কখনোই দেশের ভালো চায় না।
সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এদেশে কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমার যতটুকু অধিকার রয়েছে হিন্দু ভাই-বোনদের ও ঠিক ততটুকুই অধিকার রয়েছে। তাদের দিকে যদি কেউ রক্তচক্ষু দেখায় তাহলে তাদেরকে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোট নিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট আমার আপনার অধিকার। এই অধিকারকে রক্ষা করতে সকলে সজাগ থাকতে হবে। ধানের শীষের যে গণজোয়ার বইছে সে গণজোয়ারে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেই সকলকে ঘরে ফিরতে হবে।
জনসভায় বামনা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ থেকে শুরু করে বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ১০ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী প্রীতম দাস তার প্রতীক ‘শাপলার কলি’ নিয়ে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। তার এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রচারণাকালে প্রীতম দাস কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা এবং জনসমাগমস্থলে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কুশলবিনিময় করেন।
গণসংযোগকালে তিনি উন্নয়ন, টেকসই গণতন্ত্র এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি তার বক্তব্যে প্রাধান্য পাচ্ছে।
নির্বাচনী এই প্রচারণায় এনসিপি ছাড়াও জোটভুক্ত দল হিসেবে জেলা যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিকশক্তির নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। নেতা-কর্মীদের স্লোগান, পোস্টার এবং লিফলেটে পুরো নির্বাচনী এলাকা এখন মুখর।
জানা যায়, প্রীতম দাসের সহজ-সরল জীবনযাপন, স্পষ্টবাদিতা এবং নতুন ধারার রাজনীতির আহ্বান তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মাঝে এই ক্রমবর্ধমান জনসম্পৃক্ততা মৌলভীবাজার-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে ‘শাপলার কলি’ প্রতীককে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
উন্নয়ন ও অধিকারের প্রশ্নে প্রীতম দাসের এই জয়যাত্রা শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় জেলাবাসী।
প্রচারণাকালে প্রীতম দাস বলেন, ‘কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল পর্যটক এলাকায় বিভিন্ন সমস্যা আমি চিহিৃত করেছি। সেসব এলাকায় আমি কাজ করব। যেমন-চা-শ্রমিক, খাসিয়া জনগোষ্ঠী, পর্যটন শিল্পে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাট, হাওড় টিলা, স্কুল-কলেজ। এসব ক্ষেত্রে আমরা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বেকারদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষীতদের চাকরির ব্যবস্থা, চা-শ্রমিকদের জন্য যা যা প্রয়োজন আমি তা করব। রাস্তাঘাট ও পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করে আমার যা করণিয় সেটা করে যাব।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে জীবনদানকারী বীর শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের মানুষকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজি করেনি। বর্তমানেও করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের পরিষ্কার ঘোষণা হলো আমরা চাঁদাবাজি করব না, কাউকে করতেও দেব না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আমিরে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশের যুবকদের বেকার অবস্থায় দেখতে চাই না। আমরা বেকারদের ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করতে চাই না। আমরা যুবকদের হাতকে কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। সকল যুবক-যুবতীর হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। জামায়াতে ইসলামী জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বগুড়াবাসীর প্রাণের দাবি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং দ্বিতীয় যুমনা সেতু নির্মাণ করা হবে।’
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দবিবুর রহমানর, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী গোলাম রব্বানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাড. হেলাল উদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে তিনি বগুড়া জেলার ৭টি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস শনিবার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে তাঁর শৈশবের বিদ্যাপীঠ মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সামাজিক অবক্ষয় রোধে একক প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, "মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা।" ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাঁর নির্বাচনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান যে, "৫ আগস্টের পর দুই মাস চাঁদাবাজ মুক্ত করতে আমি স্পেশাল টিম করেছিলাম। হটলাইন খুলেছিলাম। দুটি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছিলাম। চাঁদাবাজির খবর পেলেই আমরা পুলিশ নিয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়িয়েছি। এই দুই মাস আমার এলাকা শান্ত ছিলো। যখনই দায়িত্ব প্রত্যাহার করলাম তখন পুলিশও অফ হয়ে গেলো। আবার শুরু হলো চাঁদাবাজি। এতে প্রায় সব দলই জড়িত হলো। আমি যাদের নিয়ে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করবো তারা চায় সংস্কার। তারাও জড়িত এই চাঁদাবাজিতে।"
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন যে, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ছিল, তবে এর সাথে একাত্তরের বীরত্বগাঁথার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁর ভাষায়, "৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ আর ২৪ এক করা যাবে না। কারণ, ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে, আর ২৪ স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন।" দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের অসামান্য ত্যাগ, কারাবরণ ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও একটি দেশ পরিকল্পিতভাবে এদেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে এবং বিগত সরকার সচেতনভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন যে, বর্তমান প্রজন্মের মেধাবিকাশ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে হলে তাদের খেলাধুলা ও বই পড়ার প্রতি অধিক মনোযোগী হতে হবে। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিব্যবহারকে তিনি মাদকের ন্যায় এক ভয়াবহ ও মারাত্মক রোগের সাথে তুলনা করেন, যা সন্তানদের প্রতিনিয়ত বিপথগামী করছে। নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রযুক্তিগত আসক্তি কাটিয়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার পথে ফিরে আসার পরামর্শ দেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। মতবিনিময় শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বিদ্যালয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন।
দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি শেষে এক বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের মাটিতে পা রেখেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ২০০৫ সালের ৬ মে শেষবার চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান, ফলে বিশ বছর পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে বন্দরনগরীতে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর প্রতিটি মোড় ও প্রধান সড়ক এখন ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুন আর তোরণে, যা নেতাকর্মীদের মাঝে এক বাড়তি উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।
মহাসমাবেশ সফল করতে নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। সেখানে প্রায় দুই হাজার বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এই মঞ্চে এক সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সামনের অংশে রাখা হয়েছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার। জনসভার শব্দ প্রক্ষেপণের জন্য মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস এলাকা পর্যন্ত দুই শতাধিক মাইক ও ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স স্থাপন করা হয়েছে। মাঠকে চলাচলের উপযোগী করতে সমতল করার পাশাপাশি পানি ছিটিয়ে পরিবেশ অনুকূল রাখার চেষ্টাও চোখে পড়েছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে পুরো পলোগ্রাউন্ড এলাকাকে কঠোর নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করার পাশাপাশি সমাবেশস্থলকে তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করবেন। ইয়েলো জোনে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্লক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো মাঠটি গ্রিন জোনের আওতাভুক্ত। তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে এক বিশাল প্রত্যাশার সঞ্চার হয়েছে, যা চট্টগ্রামের জনসমুদ্রে প্রতিফলিত হবে বলে দলীয় সূত্রগুলো মনে করছে।