দেশের উন্নয়নযাত্রা অব্যাহত রাখতে (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী।
সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতি ধরে রাখতে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন। এটাই আমরা চাই, সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন বাংলাদেশে যেন গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকে।
সরকার পতনের হুমকি দিয়ে বিএনপি আবারও নিজেদের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দলটির হুমকিতে আওয়ামী লীগ আরও ঐক্যবদ্ধ হয়। বিএনপি কর্মগুণে নিজেরাই নিজ দলের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য শাজাহান খান বলেন, বিএনপি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বলে, যেন মামা বাড়ির আবদার।
তিনি বলেন, বিএনপির জনসমর্থন নেই অথচ বলে গণ-অভ্যুত্থানের কথা। এটা দলটির রাজনৈতিক অজ্ঞতা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দাবি করেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র করতেই বিএনপি নানা ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে, আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বিএনপি একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করে যাচ্ছে। তবে সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব হচ্ছে দেশে যাতে কেউ শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে না পারে। জনজীবনে নিরাপত্তা যাতে কেউ বিনষ্ট করতে না পারে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূরুল আমিন রুহুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আব্দুর রহমান প্রমুখ।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমঝোতা জোটে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। নিজেদের জন্য বরাদ্দ করা আসন নিয়ে অসন্তুষ্ট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটি এখন এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া এনসিপিসহ (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নতুন কয়েকটি দল জোটের সদস্য হওয়ায় আসন বণ্টনের জটিলতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন বাস্তবতায় জামায়াত বলছে, কোনো দল বের হয়ে গেলেও জোটে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। আলাদাভাবে সব দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এমন প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ৭টি ইসলামী দল নিয়ে একটি জোট গঠন করে। এরই মধ্যে এই জোট বেশ কিছু জনসভাও করেছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে জোটে যোগ দেয় তরুণদের দল এনসিপি।
আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে এই জোটের শরিকদের দ্বিমত সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। লিয়াজোঁ কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। ইসলামী আন্দোলন তাদের জন্য বরাদ্দ করা ৩৫টি আসনে সন্তুষ্ট নয়। এরই মধ্যে তারা ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সমঝোতা না হলে এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে লড়ব। তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যদি সম্মানজনক সমঝোতা হয়, তবে আমরা প্রার্থিতা তুলে নেব। তবে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, কোনো ‘ব্যাকডোর’ দিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে না।’
জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা অবশ্য বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই চূড়ান্ত সমঝোতা হবে। তবে কেউ এককভাবে নির্বাচন করলে তার প্রভাব জোটের ওপর পড়বে না।
দলটির কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইনশাল্লাহ চূড়ান্তভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমানে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) চলছে। এটি শেষ হয়ে গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দাঁড়াবে। এর ফাঁকেই আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে, দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত চলে আসবে।’
এনসিপি, এবি পার্টিসহ বর্তমানে জামায়াতের এই জোটে ১১টি দল রয়েছে। শরিকদের দাবি, নতুন দলগুলোর অন্তর্ভুক্তিতে আসন বণ্টনের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন যে, তাঁর মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই শোকাতুর সময়ে দেশ ও বিদেশের অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া পাওয়া গেছে, তা তাঁদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তারেক রহমানের মতে, এই তিন দিনে তাঁরা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন যে, খালেদা জিয়া ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন। তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক এবং নিজ বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার এক অটল প্রেরণা, যা রাজনৈতিক গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিচয় ও আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের অত্যন্ত দ্রুত সমন্বয় ও সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই এমন এক স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজনটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের দেওয়া সম্মানসূচক 'গার্ড অব অনার' ও শেষ সালাম তাঁর মায়ের দীর্ঘ জীবন ও অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ, বিশ্বনেতৃবৃন্দ এবং কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে পাওয়া শোকবার্তাকে তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, জানাজায় বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মিশন ও প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রমাণ করে যে, দেশের সীমানার বাইরেও তাঁর মায়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান বিদ্যমান। এছাড়া দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে যেভাবে সাধারণ মানুষ জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানিয়েছে, সেই দৃশ্য জিয়া পরিবার কখনোই ভুলবে না। পরিশেষে তিনি জানান যে, এই কঠিন সময়ে জনগণের যে ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি ও সহমর্মিতা তাঁরা পেয়েছেন, সেটিই তাঁদের প্রধান শক্তি ও সান্ত্বনা। এই সংহতিকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ধারণ করে তাঁরা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে চলবেন বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পদত্যাগের ধারা থামছেই না। এবার দলটির ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান এবং পদত্যাগপত্রটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। নীলিমা দোলা ফরিদপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতির মেয়ে এবং জুলাই পরবর্তী সময়ে এনসিপির সক্রিয় মুখ ছিলেন। তাঁর এই পদত্যাগ দলটির আদর্শিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক রণকৌশল নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী বা ‘সেন্ট্রিস্ট’ রাজনীতির নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
নীলিমা দোলার অভিযোগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল দলটির সাম্প্রতিক ডানপন্থী ঝোঁক এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট। তিনি দাবি করেন, এনসিপি এখন পুরোপুরিভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়েছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তাঁর মতে, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট কোনো কৌশলগত জোট নয়, বরং এটি সাধারণ নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে করা একটি সমঝোতা। এই প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র দেওয়ার নামে চরম প্রতারণা করা হয়েছে বলেও তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। যারা দল ত্যাগ করছেন তাদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা দলে চলছে, তাকে তিনি নেতৃত্বের একটি পরিকল্পিত ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাতে দলের এই পরিবর্তনকে বৈধতা দেওয়া সহজ হয়।
দলের ভেতরে থেকে নীলিমা দোলা নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর আক্ষেপ, গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রান্তিক মানুষের ওপর চলা অনাচার ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলটিকে দীর্ঘ সময় ভাবতে হয়েছে। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দলের মনমরা ও দায়সারা মনোভাব তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ এই দলটির ওপর যে বিশ্বাস রেখেছিল, নেতৃত্বের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে গত কয়েক মাসে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।
সবশেষে সৈয়দা নীলিমা দোলা এনসিপি নেতৃত্বের প্রতি একটি কড়া বার্তা দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থান কোনো ধর্মীয় বিপ্লব ছিল না এবং এর সুফল ঘরে তুলতে ধর্মীয় রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপি বর্তমানে এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে পুরোনো আওয়ামী বয়ানকেই প্রতিষ্ঠিত করার পথে হাঁটছে। দলের বর্তমান নেতৃত্বকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানালেও তিনি বিশ্বাস করেন যে, আসন্ন কঠিন সময়ে দেশের সাধারণ জনতা এই সব অসংগতির সমুচিত জবাব দেবে। এনসিপি ছাড়াও জুলাইয়ের অন্য একটি পক্ষশক্তি বর্তমান আছে—এমন মন্তব্য করে তিনি তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন যে, প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেই তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান দেশকে এক নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। শনিবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। রিজভী উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়ার দেখানো আদর্শ ও নৈতিকতাকে ধারণ করে এগিয়ে গেলেই দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে এবং জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যাবে। এই সময় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী আরও বলেন যে, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে এ দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য যে নিরন্তর লড়াই ও সংগ্রাম করে গেছেন, সেই একই পতাকা এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। তাঁর নেতৃত্বেই এ দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি একটি নতুন দিগন্তের দিকে যাত্রা করবে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রেখে যাওয়া অঙ্গীকার ও আদর্শকে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাঁকে কারাগারে অন্তরীণ রেখেছিল এবং সুচিকিৎসা না দিয়ে এক ধরনের অশুভ চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অটুট মনোবল এবং অদম্য দেশপ্রেমের কারণে কোনো হুমকিই তাঁকে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি থেকে সরাতে পারেনি।
বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্রের অনন্য দিকগুলো তুলে ধরে রিজভী বলেন, হাজারো ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের মুখেও তিনি কখনো কুরুচিপূর্ণ বা সুরুচিবিবর্জিত শব্দ উচ্চারণ করেননি। তাঁর অনন্য আত্মসংযম ও মার্জিত আচরণের মাধ্যমেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে, যারা নোংরা কথা বলে তারা জনগণের কাছে ধিকৃত হয়, আর যারা সৌজন্যবোধ বজায় রাখে তাদেরকেই সাধারণ মানুষ ও ইতিহাস মহিমান্বিত করে। রিজভী বিশ্বাস করেন যে, খালেদা জিয়ার এই ইস্পাত কঠিন মনোবল ও অটল ধৈর্য আগামী প্রজন্মের কাছে সাহসের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। শোকাতুর এই সময়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতাকর্মী তাঁর আদর্শকে পাথেয় করে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় শপথ নিয়েছেন বলেও তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দুর্যোগপূর্ণ ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের পথে লড়াই করার একমাত্র প্রেরণার উৎস। তিনি রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা এবং অঙ্গীকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট কমিটির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘বেগম জিয়া একটি পরিবারের মায়ের মতো ছিলেন, যার উপস্থিতি সন্তানদের শক্তি জোগায়। ঠিক তেমনি তিনি হুমকির মুখেও দেশ না ছেড়ে গোটা জাতির অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।’
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যা বলতেন তা-ই করার চেষ্টা করতেন এবং কখনও অসত্য ওয়াদা করেননি, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রজন্মের জন্য একটি বড় শিক্ষা।
বেগম জিয়ার অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা স্মরণ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন এই দেশ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও উপজাতি–সবার। তার আশ্রয়ে প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিরাপদ বোধ করত।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ষড়যন্ত্র করে তিলে তিলে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। শত বিদ্রুপ ও কটু কথার মুখেও খালেদা জিয়া কখনও পাল্টা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য না করে নিজের সাংস্কৃতিক ও চারিত্রিক উচ্চতা বজায় রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিশেষে, বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করে রিজভী বলেন, তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, যা কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারবে না। শোকসভায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে গণমানুষের প্রত্যাশা হলো শহীদের রক্তের আকাঙ্ক্ষা- নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সরকার গঠিত হবে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল পৌনে ৪টায় কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জনগণ ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, ভোটের সুষ্ঠু ও পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকতে হবে। নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনারকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষিত তফসিলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিতে একদিনের সফরে কক্সবাজার আসেন।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে তিনি কক্সবাজার পৌঁছান। পরে সেখান থেকে শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ স্থানীয় একটি মসজিদে সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি সম্প্রতি নিমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া দৈনিক আমার দেশ এর কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার আনসার হোসেনের শিশু ছেলে রিতাজ হোসেনের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে মরহুমের বাসায় গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
মধ্যাহ্নভোজ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে প্রার্থীদের পূর্ব নির্ধারিত মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের প্রথমদিনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের দিন ধার্য ছিল। এতে কক্সবাজার-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ৫ জন্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। এ নিয়ে এই নির্বাচনে আসনটিতে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে।
এসব প্রার্থীরা হলেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াত ইসলামীর কক্সবাজার শহর শাখার আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও গণঅধিকার পরিষদের আব্দুল কাদের। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়াস্থ নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল চারটার কিছু সময় আগে তিনি দোয়ায় অংশ নিতে রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে (আজাদ মসজিদ) যান।
এরপর জামাতের সঙ্গে আসরের নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। নামাজ শেষে তার মা ও দলের চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক এই সরকারপ্রধানের জন্য এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে তার দল বিএনপি।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরীসহ অনেকে।
মসজিদে নারীদের পৃথক নামাজের স্থান থেকে দোয়ায় অংশ নেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, তার মেয়ে জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তার মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনেরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন।
এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া পড়া হয়েছে। মুসল্লি ও সাধারণ মানুষজন এই দোয়ায় অংশ নেন। জুমার নামাজ শেষে এই দোয়া মাহফিল হয়।
দোয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করা হয়। এরপর দোয়ায় খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। আল্লাহপাক যেন তাকে জান্নাতের বাসিন্দা করেন- এ কামনাও করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার থেকে ২ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।
শোকের শেষ দিন দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন খালেদা জিয়া। এর পরদিন বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও জানাজা শেষে তাকে স্বামী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নওগাঁ জেলায় বিএনপির অন্তত ছয়জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কোনো কোনো আসনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোটের সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তবে দলের একটি অংশের ধারণা, শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলা নিয়ে মোট ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁ-২ ও নওগাঁ-৪ ছাড়া বাকি চারটি আসনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপির ছয়জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থী হওয়া এসব নেতার দাবি, কর্মী-সমর্থকদের চাপ ও অনুরোধেই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। গত সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নওগাঁর ছয়টি আসনে মোট ৫৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ হলেও জমা পড়েছে ৪১টি। এর মধ্যে নওগাঁ-১ আসনে আটজন, নওগাঁ-২ আসনে ছয়জন, নওগাঁ-৩ আসনে আটজন, নওগাঁ-৪ আসনে সাতজন, নওগাঁ-৫ আসনে সাতজন এবং নওগাঁ-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ছয়টি আসনেই বিএনপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে প্রার্থী ঘোষণার পর নওগাঁ-২ বাদে বাকি পাঁচটি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কর্মী-সমর্থকেরা আন্দোলনে নামেন। এরপরও দলীয় সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আসায় মনোনয়নবঞ্চিত নয়জন নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন, যাঁদের মধ্যে ছয়জন শেষ পর্যন্ত জমা দেন।
নওগাঁ-১ আসন :
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ছালেক চৌধুরী, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মাহমুদুস সালেহীন।
ছালেক চৌধুরী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এলাকায় রাজনীতি করছি। মানুষের ভালোবাসায় তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। সাধারণ ভোটারদের চাপেই মনোনয়ন জমা দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকব কি না, তা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
নুরুল ইসলাম জানান, কর্মী-সমর্থকেরাই তার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দলের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
নওগাঁ-২ আসন : এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনবারের সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জোহা খান। মনোনয়নবঞ্চিত নেতা খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।
নওগাঁ-৪ আসন : এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইকরামুল বারী টিপু। এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী এম এ মতিন দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও আক্কাস আলী মোল্লা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।
নওগাঁ-৫ আসন : জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক সনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও পরপর তিনবার পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার নেতা-কর্মীদের মতে এখানে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন হয়নি। তাদের চাপেই মনোনয়ন জমা দিয়েছি।
নওগাঁ-৬ আসন :
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ রেজাউল ইসলাম। তবে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনবারের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির।
আলমগীর কবির বলেন, কালোটাকার নির্বাচনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এসেছি। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য। আত্রাই-রাণীনগরের মানুষ আমাকে চায় বলেই প্রার্থী হয়েছি।
দলীয় প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম পাল্টা বক্তব্যে বলেন, দলের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।
অন্যান্য দল নওগাঁর ছয়টি আসনে বিএনপির ১২ জন প্রার্থীর বাইরে জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছয়জন, জাতীয় পার্টির পাঁচজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিল হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বাদ জুমা ভূতের গলি জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।
দোয়া মাহফিলের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সারাজীবন দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেছেন। তার দেশপ্রেম ও সততা সত্যিকার অর্থেই সবার জন্য অনুকরণীয়।
দোয়া মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শত অত্যাচার সহ্য করেও দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, তার ওপর যে অত্যাচার হয়েছিল, মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি তা সহ্য করে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজকে গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। কিন্তু তিনি সেই গণতন্ত্র দেখে যেতে পারলেন না।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার পেছনে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিগত সময়ে খালেদা জিয়াকে এমন কিছু করা হয়েছে, যাতে তিনি দ্রুত সময়ে পৃথিবী ত্যাগ করেন।
দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান মামুনুল হকের: বেলা পৌনে তিনটার দিকে কবর জিয়ারত করতে আসেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক। কবর জিয়ারতের শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
মামুনুল হক বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের আপসহীন নেত্রী। তারা নেত্রীর জন্য দোয়া করতে এসেছেন। এ সময় দেশবাসীকেও খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কবর জিয়ারত করতে এসে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পুরো জীবনে দেশের স্বার্থরক্ষায় কাজ করেছেন। আমরা তার জন্য দোয়া করতে এসেছি। তার নীতি ও আদর্শ ধারণ করে আগামী দিনে দেশ ও গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে- এটাই প্রত্যাশা।’
অশ্রুসিক্ত অসংখ্য মানুষ: অশ্রুসিক্ত হয়ে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন অসংখ্য মানুষ। তারা প্রার্থনা করছেন, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী যেন কবরে শান্তিতে থাকেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পরে জিয়া উদ্যানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তাদের মধ্যে কেউ বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক; কেউবা খালেদা জিয়াকে পছন্দ করেন বলে তার কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা এসেছেন।
ভোলা জেলার লালমোহন থেকে এসেছেন ৬২ বছর বয়সী আবুল কালাম। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন। তিনি বলেন, নেত্রীর জানাজায় আসতে পারিনি। তাই কবর জিয়ারত করতে এসেছি।
নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া মামলার তথ্য সংক্রান্ত জটিলতায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচএম হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান এই সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে দুপুরে তার প্রার্থিতা প্রাথমিক পর্যায়ে স্থগিত রাখা হলেও পরবর্তী শুনানি শেষে বিকেলে চূড়ান্তভাবে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় হামিদুর রহমান আজাদ তার বিরুদ্ধে থাকা মোট ৭২টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছিলেন। এর মধ্যে ৭০টি মামলায় তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহারের মাধ্যমে আইনি দায়মুক্ত হয়েছেন বলে জানান। তবে অবশিষ্ট দুটি মামলার মধ্যে একটি ঢাকার সিএমএম আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা, যা বর্তমানে হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত রয়েছে। অন্যটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলা, যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আপিল বিভাগে বিচারাধীন এই মামলার প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে না পারায় তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, তারা আইনি নথিপত্র সংগ্রহ করছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তারা মনে করছেন, উচ্চ আদালতে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দাখিল করলে হামিদুর রহমান আজাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ পুনরায় সুগম হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে গণমানুষের একমাত্র প্রত্যাশা হলো একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদের রক্তের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করা, যার মাধ্যমে দেশে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সরকার গঠিত হবে। দেশের জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য এখন উন্মুখ হয়ে আছে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা মাঠ পর্যায়ে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকতে হবে এবং নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এদিন কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কক্সবাজার-১ ও কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদসহ ৩ জনের প্রার্থিতা বৈধ এবং ২ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ঘোষিত অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার শহর শাখার আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং গণঅধিকার পরিষদের আব্দুল কাদের। অন্যদিকে, তথ্যগত ত্রুটি বা আইনি কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্যের গরমিল থাকায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন। শুক্রবার সকালে বগুড়া জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বগুড়া-১, ২ ও ৩ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়।
মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়াও একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্দার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। এর আগে দিনের শুরুতেই বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে শাহজাদী আলম লিপির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হলফনামায় প্রার্থীর দেওয়া তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে গিয়ে কিছু অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়, যার ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের এই কার্যক্রম প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলমান রয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মনোনয়নপত্র অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে।