জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের দাবি করেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার নিকৃষ্ট রেকর্ড করেছে সরকার। শনিবার এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরেই বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। তাই সম্প্রতি ডিম, পিঁয়াজ ও আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার; কিন্তু একদিনও সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্যে পণ্য বিক্রি করেননি খুচরা বিক্রেতারা। ডিম প্রতি পিচ ১২ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা এবং পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৬৪ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করতে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার; কিন্তু বাজারে ১২ টাকার ডিম প্রতি পিচ ১২টাকা ৫০ পয়সা, ৩৫ থেকে ৩৬ টাকার আলু প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং ৬৪ থেকে ৬৫ টাকার পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার মনিটরিং বলতে কিছুই নেই। কারা এবং কেন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে সরকার তাদের ধরতে পারছে না কেন? মজুতদার ও অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে সরকার কি জিম্মি?
বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, সরকার মানুষের কষ্ট বোঝে না। বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চায় দেশের মানুষ। এখন দেশের মানুষের কাছে নিত্যপণ্যের বাজার যেন মূর্তিমান আতঙ্ক।
তিনি বলেন, গদি টিকিয়ে রাখতে সরকার যতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে, তার অর্ধেক সচেতন হলেও বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে না। আসলে সরকার গদির লোভে দেশের মানুষের কথা ভুলে গেছে। অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নির্মূল করে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় মাত্রায় রাখতে সরকারের প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামীর নির্বাচন হবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কোন দিকে যাবে সেটা নির্ধারণের নির্বাচন। আগামীর নির্বাচন হবে বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের নির্বাচন। শুধু তাই নয় শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমরা যে প্রস্তুতি করেছি সেটা বাস্তবায়নের নির্বাচন, সুতারং আমরা মনে করি আগামীর নির্বাচন হবে এই জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে মহিলা দলের কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামীর সংসদে এমন আইন প্রণয়ন করা হবে যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বিএনপি এমন একটা সংসদ চায় যেখানে আর প্রশংসার স্তুতিবাক্য বা তোষামুদির প্রচলন হবেনা। সংসদ সদস্যরা মানুষের জন্য কথা বলবে, সেই সংসদে বিরোধিতা থাকবে। এমন সংসদ করে পৃথিবীর বুকে নজির স্থাপন করতে চায় বিএনপি।
তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন জাতির বাক বদলে দিবে গণতন্ত্র দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে, সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান একটি শক্তিশালী ভিত্তি পাবে। তার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে সেই সব প্রতিষ্ঠান কাজ করবে।
আগামীতে আর কোনো গণতান্ত্রিক সরকার লাইনচ্যুত হতে পারবেনা। বিএনপি এমন একটি সংসদ বির্নিমান করতে চায়, যে সংসদে আর শুধু নৃত্যগীত হবেনা, সেই সংসদে মানুষের কথা বলা হবে, কোনো সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না। সংসদে মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে এবং এদেশের গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলা হবে।
এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আলী আহমদ, সদস্য সচিব শরিফুল আলমসহ মহিলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) তিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ অর্ধশতাধিক ইউপি সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। রাজধানী ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিলকিস জাহান শিরিন এবং পিরোজপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত এবং সাবেক সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলুসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় অঙ্গসংগঠনের নেতারাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপিতে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন ৫ নম্বর চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু, পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার এবং ৪ নম্বর ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ করিম তালুকদার ইমন। এই তিন চেয়ারম্যানের পাশাপাশি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও বিএনপিতে নাম লিখিয়েছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর পর পিরোজপুর-১ আসনে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ যারা আজ বিএনপিতে যোগদান করেছেন, দল তাদের উষ্ণ স্বাগত জানায় এবং এর মাধ্যমে জেলায় বিএনপির ভিত্তি আরও মজবুত হলো।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন দৃঢ় অবস্থান তাকে জাতীয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর শ্রদ্ধা ও উচ্চাসনে আসীন করেছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা ছিল অসাধারণ, যিনি জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়ন করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এমএ জলিল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আবেগাপ্লুত হয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সহকর্মীর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় বেগম জিয়া ছিলেন সর্বদা আপসহীন এবং এক অতন্ত্র প্রহরী। তার দেশপ্রেম, ত্যাগ, ধৈর্য ও সততা আগামী প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য গভীর অনুধাবন ও অনুসরণের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বেগম জিয়াকে কখনোই আপস করতে বা ভিন্ন কিছু ভাবতে দেখা যায়নি। তার মতে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের আপামর জনগণের নেত্রী এবং তার আদর্শ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রজ্ঞা সবার জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান ও বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের সমর্থন নিয়ে তার ‘নতুন প্ল্যান’ বা পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী দিনে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ লতিফ ভূঁইয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। এছাড়া কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উক্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস নয় বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশপন্থি শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানী ওয়ারীতে তার নির্বাচনি কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের পরিচিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, যারা বাংলাদেশকেই চায়নি, তারা আবার রাজনীতিতে ফিরে এসে ভোটের মাঠে নামছে। শুধু তাই নয়, তারা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছিল যা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। অথচ সেই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বড় ও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
তিনি বলেন, আমি সেই সময় কারাগারে ছিলাম। তবে খবর রাখতাম সংবাদপত্রের মাধ্যমে, কিছু ভিডিও দেখে, বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিস্থিতি বুঝে নিতাম। কিন্তু কোথাও আমি সেই দলটির কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা দেখি নেই, যারা আজ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, আজ হঠাৎ করে তারা নতুন রিপাবলিকসহ নানা কথা বলছে আমরা বুঝতে পারি না তাদের এই দুঃসাহস কোথা থেকে আসে। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস এই দুটি দিনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো দুঃসাহস তাদের হয়েছে। এই বিষয়গুলো আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
ইশরাক হোসেন বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। যারা স্বাধীন বাংলাদেশকে মানে না, তাদের এদেশে থাকার নৈতিক অধিকারও নেই। কথাগুলো কঠিন, কিন্তু যখন আমরা শুনি মুক্তিযুদ্ধ ভুল ছিল তখন আর কতদিন সহ্য করব? একবার-দুবার ভুল করে বলা যেতে পারে, কিন্তু যখন এটি তাদের রাজনৈতিক বয়ানে পরিণত হয়, তখন সেটা আর দুর্ঘটনা নয়, সেটা বিশ্বাসে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা শক্তি এ অঞ্চলে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছি।
তিনি আরও বলেন, তবে একটি এজেন্ডাই বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে সবার আগে বাংলাদেশ’। এর বাইরে কোনো এজেন্ডা মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচনের পর আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব। আমরা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলমান, ধনী, গরিব সবাইকে সমান নাগরিকত্ব নিয়ে বাঁচতে দেওয়ার যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব কে এম কামরুজ্জামান নান্নু সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো গণতান্ত্রিক সরকারকে পথচ্যুত বা লাইনচ্যুত হতে দেওয়া হবে না। তিনি এমন এক নতুন সংসদ গঠনের স্বপ্ন দেখেন যেখানে আর কেবল নাচ-গান বা তোষামোদি হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার নিয়ে জোরালো আলোচনা হবে। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা পালাকাটা মাছঘাট স্টেশনে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত মহিলা দলের এক কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন যে, আগামীর সংসদে কোনো সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবে না এবং সেখানে জনগণের উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়ন করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন সংসদে আর কারো স্তুতি গাইবার বা নেতার প্রতি অযথা প্রশংসা করার কোনো সুযোগ থাকবে না। সংসদ সদস্যরা সরাসরি দেশ ও জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক কথা বলবেন এবং সেখানে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দল থাকবে। এই ধরণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে এক অনন্য নজির স্থাপন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা তখনই সার্থক হবে যখন জাতীয় সংসদ হবে আমজনতার সুখ-দুঃখের কথা বলার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে জাতির ইতিহাসের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা ঠিক কোন দিকে ধাবিত হবে। এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং এ দেশের মানুষের প্রকৃত ভোটাধিকার এবং দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বড় এক লড়াই। তিনি গুরুত্বের সাথে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান নির্বাচনি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই ভোটই প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দান করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচার রুখতে এগুলো রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
কর্মী সভায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নারী নেত্রী ও সাধারণ সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া। এছাড়াও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমদ ও সদস্য সচিব শরিফুল আলমসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন। সালাহউদ্দিন আহমেদের এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে এবং নির্বাচনি প্রস্তুতিতে তাঁদের আরও সংবদ্ধ করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরণের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আগামী দিনে একটি সুশৃঙ্খল ও জনমুখী শাসনব্যবস্থা কায়েমে সহায়ক হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ লক্ষ্য করা গেছে। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে মাটিরাঙ্গা উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁরা দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। এই গণযোগদানের ফলে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নেতাকর্মীদের বরণ করে নিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এর ইতিবাচক প্রভাব আগামী দিনের আন্দোলন এবং বিশেষ করে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ভোটের মাঠে প্রতিফলিত হবে। বিএনপিতে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মাটিরাঙ্গা পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, পৌর জাতীয় পার্টির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন এবং এনসিপির উপজেলা কমিটির সদস্য লিটন বিশ্বাস। মো. আলাউদ্দিন জানান, জনগণের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিএনপির বলিষ্ঠ ভূমিকা তাঁদেরকে দল পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করেছে।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, বিএনপিতে যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগের ওই সকল কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক মামলা নেই এবং তাঁরা ক্ষমতায় থাকাকালীন সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষতি করেননি। ফলে দলের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁদেরকে সাদরে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি এবং এনসিপির স্থানীয় নেতৃত্ব বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের মতে, দলত্যাগীদের বড় অংশই নিষ্ক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং এতে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু ইউসুফ চৌধুরী ও মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই বিশাল যোগদান অনুষ্ঠানটি মাটিরাঙ্গা এলাকায় জাতীয়তাবাদী শক্তির নতুন জাগরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারত প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়েছে বলে আমি মনে করি না। সরকার অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। আমরা খুব উদ্বিগ্ন, এটি সরকারের ব্যর্থতা। আমরা আশাবাদী নির্বাচন চলাকালীন সময়ে দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় সংস্কার, একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সবই বিএনপি নিশ্চিত করেছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের পারস্পরিক সম্মান রেখে সব রকমের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে। আমরা তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করলে তাদেরও বিরূপ আচরণ কমবে।’
পানি চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে আমাদের একটা কমিন্টমেন্ট আছে। তিস্তা, পদ্মা এবং অভিন্ন নদী যতগুলো আছে, সেগুলোর সবগুলোর ব্যাপারে আমরা ভারতের সঙ্গে এঙ্গেজ করবো। আমরা তাদের কাছ থেকে পানির হিস্যা আদায় করবো। দুটি দেশের পারস্পরিক যে সম্মান সেটা মাথায় রেখেই দাবি আদায় করার চেষ্টা করবো। আমরা যদি ভারতের সঙ্গে সঠিক ডিপ্লোমেটিক আচরণ করতে পারি তবে তাদের বিরূপ আচরণ কমে যাবে।’
বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে সরকার গঠন হলে ফ্যাসিস্ট সরকার গঠন হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘যারা সবসময় ফ্যাসিস্টদের ভয় করে এসেছে, নিজেরা কোনো কাজ করে না, বিদেশে থেকে বড় বড় কথা বলে তাদের কাছে এগুলো মনে হয়। আমরা এসব নিয়ে ভয় করি না। আমরা ফ্যাস্টিকে তাড়াতে জানি, মারতেও জানি মার খেতেও জানি।’
ভারতে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি জড়িত আছে, দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা আমাদের দেশকে অপমান করা। ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সাথে আমরা একমত। তবে এটাও মনে করি যে, ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের একমত হওয়া উচিত।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) সংসদীয় আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। চন্দনাইশের দোহাজারি এলাকায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) দুই শতাধিক প্রভাবশালী নেতা ও কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গত সোমবার দোহাজারির রূপনগর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দলবদল সম্পন্ন হয়। এতে এলডিপি থেকে আসা নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে এক ধরণের নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
যোগদান অনুষ্ঠানে এলডিপির যে সকল শীর্ষস্থানীয় নেতা বিএনপিতে শামিল হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দোহাজারি পৌরসভা এলডিপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সবুর এবং গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জাকের মাওলা। তাঁদের নেতৃত্বে বিশাল এক কর্মী বাহিনী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিলে মিছিলে অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হন। এই সময় পুরো এলাকা ধানের শীষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এলডিপির মতো মিত্র দলের বড় একটি অংশের বিএনপিতে চলে আসা এই আসনে ধানের শীষের অবস্থানকে অনেক বেশি সুসংহত করবে এবং ভোটের লড়াইয়ে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে।
বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে এই যোগদানকে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ারের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা বুঝতে পারছেন যে আগামী দিনের মুক্তি কেবল বিএনপির মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি নতুনভাবে বিএনপিতে আসা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সময়টি দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এই আসনটি তাঁকে উপহার দিতে হবে। লায়ন হেলাল উদ্দিনও তাঁর বক্তব্যে নবাগতদের অভিনন্দন জানান এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটি সফল করতে চন্দনাইশ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী এমএ হাশেম রাজু, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন এবং নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এলডিপির এই বিশাল জনশক্তির অন্তর্ভুক্তির ফলে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন গতির সঞ্চার হবে। ঐক্যবদ্ধ এই শক্তির মাধ্যমেই চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক এলাকায় বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করছেন। এই বিশাল শোডাউন মূলত চট্টগ্রামে বিএনপির ক্রমবর্ধমান সাংগঠনিক শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
সাম্য, সৌজন্য, সম্পর্কের সম্মান—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভর করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরলেন তারেক রহমান। কাঁধে তুলে নিলেন তারই বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব; মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৪০ বছর দলটির হাল ধরে রেখেছিলেন তারই মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তার এই অভিষেক শুধু একটি দলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা নয়—দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন আহ্বানও বটে। রাজনীতিতে তার উপস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানুষের প্রতি সম্মান, প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীলতা এবং জাতির প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা।
গত ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি নিচে চাপা দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির নজির সৃষ্টি করেন। রাজনীতির জাদুকর হিসেবে তিনি দেশের সব পথের মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া তারেক রহমানের বয়স ৬০ বছর। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তী রাজনৈতিক উত্থান-পতনের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী। বহু প্রতিকূলতা পারি দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি হয়ে ওঠেছেন একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।
১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনের আগে তারেক রহমান গৃহবন্দিত্ব এড়িয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এটা ছিল জনসম্মুখে তার প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য। গণমাধ্যমের কাছে তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করছিল। এর পরপরই জেনারেল এইচ এম এরশাদের স্বৈরাচারী সরকার তার কণ্ঠ রোধ করতে তাকে ও তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে একাধিকবার গৃহবন্দি করে।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর সরাসরি দলের হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্রিয় হন। সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ওই সময় তরুণ তারেক রহমান ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণায় অংশ নেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি বগুড়ায় তৃণমূল থেকে নেতা নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এই সফল উদ্যোগের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচনে উৎসাহিত করেন।
২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি স্থানীয় সমস্যা ও সুশাসন নিয়ে গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি কার্যালয় স্থাপন করেন। সেখানে তিনি বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেন। তার এই উদ্যোগের ফলেই ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। চেয়ারপারসনের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও এবং তৃণমূল থেকে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও তিনি কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যপদ গ্রহণ করেননি; বরং দলের তৃণমূল শক্তিশালী করার কাজেই মনোযোগ দেন। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে।
২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসব সম্মেলনে তিনি কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি, বয়স্কদের জন্য ভাতা, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন ব্যাগবিরোধী উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন। এসব উদ্যোগ স্কুলে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে নিবন্ধন করা অন্তত ১৮ হাজার মানুষের চিঠির জবাব দেন।
২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সামরিক শাসন জারি হলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সে সময় দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে বাধ্য করা হয়। একই সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডন যেতে হয়।
পরবর্তীতে তারেক রহমানে দেশে ফিরে আসায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। সেনাসমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আমলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে মামলা করা হয়। একাধিক মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল।
তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০০৯ সালে। তিনি বিদেশে অবস্থান করলেও অনলাইনে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং দল পুনর্গঠনের কাজে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালে তার মা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
তারেক রহমানের সঙ্গে গত এক দশক ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা দলটির কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারেক রহমানের চিন্তা ও দর্শন পুরোটাই জিয়াউর রহমানের মতো।’
২০০১ সালের পর তিনি তৃণমূলে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার ভিত্তিতেই তিনি রাজনীতিকে জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নয়নকেন্দ্রিক করার চিন্তা করেন। দেশের প্রতিটি খাত নিয়ে তিনি ওয়াকিবহাল, আরও জানার আগ্রহও তার আছে। ফলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিএনপি সঠিক নেতৃত্ব পেয়েছে।
ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনা সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছে লিফলেট বিতরণ করেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়রা ও স্থানীয় বর্তমান-সাবেক খেলোয়াড়রা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়ার এনামুল হক, আজিম উদ্দিন, রনি, স্থানীয় সাবেক ফুটবল খেলোড়ার সাজ্জু, সাবেক ক্রিকেটার রুহুল কুদ্দুস পলাশ ও অপুসহ অন্যান্যরা।
এ সময় তারা বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খেলাধুলোকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলোকে বাধ্যতামূলক করা, ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ, ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, গ্রামঅঞ্চলে খেলার মাঠের সুব্যবস্থা, দেশীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধা বঞ্চিতদের খেলার সুযোগ নিশ্চিতকরণসহ বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়ার এনামুল হক বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিএনপি যে ভাবনা তা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে খেলাধুলো শুধু শখ নয় নতুন প্রজন্মের প্রেরণা ও মর্যাদার পেশা হবে। ক্রীড়াঙ্গনে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ছেলে ও মেয়েদের সমান সুযোগ-সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করাই বিএনপির অঙ্গীকার। সে জন্য ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানে যে পরিকল্পনা সেটি সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সারা দেশের ৩০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন। আসিফ মাহমুদ জানান, এনসিপি মূলত ১১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর নির্বাচনি সমঝোতা জোটের অংশ হিসেবে এই আসনগুলোতে লড়াই করবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই তাঁদের দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি এই জোটটিকে মূলত ‘আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংস্কারের জোট’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সমর্থনে এই জোটই ইনশাআল্লাহ আগামীতে সরকার গঠন করবে।
নির্বাচনি কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা জানান যে, জোট গঠনের স্বার্থে এনসিপি অনেক ক্ষেত্রে নমনীয় হয়েছে এবং বড় ধরণের ছাড় দিয়েছে। জোটের অন্য শরিকদের মধ্যেও একই ধরণের মানসিকতা থাকায় একটি শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই জোটটি মূলত একটি কৌশলগত বা ‘স্ট্র্যাটেজিক’ জোট, এটি কোনো নির্দিষ্ট আদর্শিক জোট নয়। যেসব আসনে এনসিপির নিজস্ব কোনো প্রার্থী থাকছে না, সেই ২৭০টি আসনেও দলটি নিষ্ক্রিয় থাকবে না। বরং সেই আসনগুলোতে দলীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। তৃণমূল পর্যায়ে এনসিপির কর্মীরা মূলত গণভোটের প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় থেকে ভোটারদের সচেতন করার কাজ চালিয়ে যাবেন।
দলের ভেতরে সাম্প্রতিক কিছু পদত্যাগের ঘটনা নিয়ে আসিফ মাহমুদ তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, যারা ব্যক্তিগত বা অভিমান থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁরা আমাদের দলের অমূল্য সম্পদ বা ‘অ্যাসেট’। এখন পর্যন্ত তাঁদের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। মূলত জাতীয় সংস্কার এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এনসিপি এই ভারসাম্যপূর্ণ নির্বাচনি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দলের পক্ষ থেকে মনোনীত ৩০ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. মিজানুর রহমানের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর ও কাশিনাথপুর এলাকায় একটি মাদরাসার উন্নয়নকল্পে আয়োজিত ইসলামী মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায় যে, যারা নির্বাচনি লড়াইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লার’ পক্ষে থাকবে না, তাঁদের পবিত্র কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের অনুরোধ করেন যেন তাঁরা কোরআন ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষে জামায়াতের নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, বক্তব্যটি মাস দুয়েক আগে দেওয়া হয়েছিল এবং ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যটি আংশিক বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি ভিডিওতে যেভাবে দেখানো হয়েছে ঠিক সেভাবে কথাগুলো বলেননি, বরং তিনি সবাইকে কোরআনের পথে আসার জন্য সাধারণ আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রার্থীর এমন সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণা ও ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী বরাবরই নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য পবিত্র ধর্মকে ব্যবহার করে আসছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, যেহেতু দলটির নামের সাথে ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাই তাঁরা সুযোগ পেলেই ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, যা প্রকৃত আলেম সমাজ এবং সাধারণ মানুষ পছন্দ করে না। বিএনপি নেতার মতে, জামায়াত মূলত তাঁদের সুনির্দিষ্ট মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্মীয় মাহফিলগুলোকে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। নির্বাচনি আমেজের মধ্যে এমন মন্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সুস্থ ধারার রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বর্তমানে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফের বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এবার দলটির বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক আলী হুসাইনসহ মোট ১২ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁরা এই গণপদত্যাগের বিষয়টি জনসমক্ষে নিশ্চিত করেন। পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক কাজী মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় সদস্যরা রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা দল ছাড়ার পেছনে সংগঠনের বর্তমান গতিধারা এবং রাজনৈতিক সমীকরণের অসামঞ্জস্যতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রধান সমন্বয়ক আলী হুসাইন তাঁর লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত কারণ তুলে ধরে জানান যে, তিনি ২০২৫ সালের ৩ জুন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা এবং সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্ম ও পথচলা শুরু হয়েছিল, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটির মধ্যে সেই আদর্শের প্রতিফলন আর দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, ‘নতুন বন্দোবস্তের’ যে স্বপ্নের ভিত্তিতে তাঁরা এই সংগঠনে যুক্ত হয়েছিলেন, বর্তমানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে তার চরম ব্যত্যয় ঘটেছে। আলী হুসাইন স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান তাঁর ব্যক্তিগত দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে দলটির সঙ্গে আর পথচলা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আলী হুসাইনের সাথে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া অন্য সদস্যরা হলেন—যুগ্ম সমন্বয়ক কাজী মাহফুজুর রহমান এবং সদস্য আশিকুর রহমান সুমন, শেখ রাসেল, শেখ মিজানুর রহমান, মো. হাসান শেখ, মো. শহিদুল ইসলাম, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শেখ নাবিল হোসেন, মো. জনি, মুনিয়া আক্তার জেনি ও মো. রাতুল আহসান। পদত্যাগকারী এই নেতাদের অভিযোগ, যে আদর্শকে পাথেয় করে তাঁরা জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় কাজ করতে চেয়েছিলেন, এনসিপি এখন সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে উপজেলা পর্যায়ের একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ নেতার এমন বিদায়ে বাগেরহাট অঞ্চলে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি বড় ধরণের ধাক্কা খেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পদত্যাগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।