বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘লেভেল প্লেয়িং’ ফিল্ডের উৎসাহে নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেক দলে

আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২৩ ১৪:০৮

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই মেরুতে অবস্থান ক্ষমতাসীন দল ও রাজপথের বিরোধীদের। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি থাকলেও রাজপথের বিরোধীদের দাবির প্রতি সায় নেই সংসদের বিরোধী দলের। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্যদিকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে না থেকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে অনেক দলেই।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলোকে উৎসাহিত করতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎসাহিত করার জন্য আমরা একটা লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড তৈরি করছি। অর্থাৎ তারা যদি নির্বাচনে আসে, তারা যদি ভালো প্রার্থী দেয়, তারা যদি নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে জনগণকে আকৃষ্ট করে, সেটাতে উৎসাহ দিচ্ছি। অন্য কোনোভাবে উৎসাহিত করার উপায় গণতন্ত্রে নেই বলে আমি মনে করি।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া দলগুলোর নেতাদের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন যদি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং সরকার যদি ওই ক্ষমতা প্রয়োগে সহযোগিতা করে তবেই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে ওই রাজনৈতিক দলগুলোর। আবার অনেকেই নির্বাচন সামনে রেখে জোট গঠন করছেন বিভিন্ন দাবি সামনে এনে।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ১২টি। যদিও ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হওয়ার নজিরও সৃষ্টি হয় ওই নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়ে।

এরপর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই অংশ নেয়। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট গঠিত হয়। ওই জোট নির্বাচনের পরে অভিযোগ করে, নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। এমনকি ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে তারা।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় যুক্তফ্রণ্ট। প্রথমে ওই জোটে ড. কামাল হোসেন থাকলেও বিএনপিকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে ভেঙে যায় জোটটি। বিকল্পধারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনে জয়লাভ করে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিকল্পধারা বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ৬৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে একটি আসনেও জয় পায়নি দলটি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা তো সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা মনে করি সবাই মিলে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করা উচিত। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাল্লাহ আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নেব।

চলতি বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায় তৃণমূল বিএনপি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা দলটির চেয়ারম্যান ছিলেন। নিবন্ধন পাওয়ার ৩ দিন পর মারা যান তিনি। গত ২০ সেপ্টেম্বর তৃণমূল বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান বিএনপির সাবেক নেতা শমসের মবিন চৌধুরী। তিনি ২০১৪ সালের পর স্বেচ্ছায় বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দিয়েছিলেন। তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর আলম খন্দকার।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা নির্বাচনমুখী একটি দল। আমরা নির্বাচন করতে চাই। অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে আমরা আশা করছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে বলেও আমরা আশা করছি। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু করতে হলে আমরা আশা করব প্রশাসন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। নির্বাচন কমিশন যেন সাংবিধানিকভাবে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা প্রয়োগ করতে পারে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

২০০৭ সালে শেখ শওকত হোসেন নীলু বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলটি ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১০ হাজার ৩৪৮ ভোট পায় দলটি। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে যোগ দেয় এনপিপি। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় জোটের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় শেখ শওকত হোসেন নিলুর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করেন তিনি। ২০১৭ সালের ৬ মে মারা যান নীলু। পরে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তার ভাই শেখ ছালাউদ্দিন ছালু।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি এনপিপির নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ। এই জোটের শরিক দলগুলো হলো ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ ভাসানী, ডেমোক্রেটিক পার্টি বাংলাদেশ (ডিপিবি), বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্য ফ্রন্ট, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন (বিজিএ), বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ নাগরিক কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ কনজারভেটিভ পার্টি (বিসিপি), গণমুক্তি পার্টি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন পার্টি, বাংলাদেশ ন্যায়বিচার পার্টি, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ আইডিয়াল পার্টি ও বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ও গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চের চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার কাজে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা চাই হানাহানি বাদ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে হোক বা সমঝোতার মাধ্যমে হোক, একটা সুষ্ঠু ধারা দেশে ফিরিয়ে আনতে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেতনা বিএনপি ধ্বংস করে দিয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, আমরা চাই সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা সর্বনিম্ন ৫০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, তাদের প্রতিনিধি নিয়ে একটা নির্বাচনকালীন সরকার করা। যার মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা যায়।

নির্বাচিত নন এমন ব্যক্তিদের কেন সরকারে নেয়া হবে- জানতে চাইলে ছালাউদ্দিন বলেন, ৭ থেকে ৮টা দলের প্রতিনিধি আসবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার হবে। সেখানে সমঝোতা হতে পারে বা প্রধানমন্ত্রী ডাকলে কেউ না করবে না।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ৪ দফা দাবিতে আত্মপ্রকাশ করে ১০ দলীয় গণমুক্তি জোট। জোটটিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)। ২০১৩ সালে নিবন্ধন পায় মুক্তিজোট দলটি। ওই জোটের দাবিগুলো হচ্ছে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, মন্ত্রিসভা ছোট করতে হবে এবং মন্ত্রিসভায় বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধি যুক্ত করতে হবে। তাদের অপর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে আইন সংশোধন করতে হবে, যাতে সরকার নির্বাচন কমিশনের আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য থাকে।

১০ দলীয় জোট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গণমুক্তি জোট থেকে ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত করতে হবে আইন করে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকেই দিতে হবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো এজেন্ট দেয়া যাবে না। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু একটা নির্বাচন আমরা চাই। এইগুলো যদি হয় তাহলে নির্বাচনে যাব।’

২০১৩ সালে নিবন্ধন পায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১টি আসনে জয়লাভ করে। দলটি ১ লাখ ৭ হাজার ৯৯০ ভোট পায়, যা শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। অংশ নিয়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দলটির প্রেসিডেন্ট এস এম আবুল কালাম আজাদ। দলটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে সূত্রে জানা যায়।

অনিবন্ধিত ৫টি দল নিয়ে জাতীয় জোট গঠন করেছে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত বাংলাদেশ কংগ্রেস। ২০১৯ সালে নিবন্ধন পাওয়া দলটির চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, নতুন দল হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।

২০০৮ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায় গণফ্রন্ট। ওই বছর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৪ হাজার ৯ ভোট পায় দলটি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ২ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়েছিল, যা শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

গণফ্রন্ট চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা কোনো জোটে যাইনি। যদি দেশে নির্বাচন হয় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ থাকে তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

এ ছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নিবন্ধিত দলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি জেপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম এল), গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি আইভী আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, সব দল যার যার দলের কথা বলছেন। আমরা জনতার সঙ্গে আছি। আমরা জনতার কথা বলছি। জনতা একটি অবাধ, ‍সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। আমরা তো ১৪ দলে আছি।


তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ভাঙ্গুড়ায় ঈদ উপহার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে দলীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো হয়, যেখানে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানান (পাবনা, সিরাজগঞ্জ,৩৩০) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোজাহিদ স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন,“বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি করি। ঈদের আনন্দ যেন কোনো দলীয় নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই ঈদ উপহার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“বর্তমান সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চলমান থাকবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান,নুরুল ইসলাম বরাত, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম,মামুন ও জামাল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরকার হুমায়ুন আহমেদ মূন ও সদস্য সচিব লিখন সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ূন কবির, কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে দলীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।


শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি: রিজভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ বাগাড়ম্বর এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি।

তিনি বলেন, সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঈদযাত্রা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এবার দেশের মানুষ অত্যন্ত স্বস্তিতে ও শান্তিতে ঈদ যাপন করতে যাচ্ছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে জায়মা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন দুদকের পিপি ও ময়মনসিংহ জজ কোর্টের আইনজীবী এ কে এম আজিজুল হক খান।

নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। নোটিশ প্রেরণকারী নিজেও মর্মাহত হয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, কেন তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে না—এ বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশে যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যাডভোকেট এ কে এম আজিজুল হক খান, জজ কোর্ট, ময়মনসিংহ, জুবেদ আলী ভবন, কক্ষ নং-৮৫, ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতি।


ঝিনাইদহে এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ ২২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার (২২ মে) রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান নেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাতে পুলিশের বিশেষ পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্যরা ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রদল নেতা এনামুল কবিরের দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যার নম্বর ৪৩। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয়: ড. আব্দুল মঈন খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দেরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

শুক্রবার (২২ মে) অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে মহাকাশ ও জিওস্পেশাল গবেষণায় নতুন গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুগোপযোগী হয়ে উঠতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন মঈন খান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন মহাকাশে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে, তখন গুহার মধ্যে পড়ে থাকলে চলবে না।’

নতুন প্রজন্মের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় সময়োপযোগী ও নতুন নতুন বিষয় যুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

তিনি আরও বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা খাতে।’


পায়ে হেঁটে রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি ছুটির দিনে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২২ মে) বাদ আসর রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে হেঁটে তিনি গুলশানে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দেশজুড়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মেয়রদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই ছুটির দিনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা আগমন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ উপহারের চেক প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করতেই মূলত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পূর্বের ধারাবাহিকতায় আজকেও মেয়র ও প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতে উপহারের এই চেক পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময়ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ছুটির দিনেও সাধারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কথা বিবেচনা করা এবং প্রটোকল ভেঙে পায়ে হেঁটে কার্যালয়ে আসায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা ও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। সবাই প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করছেন।


দেশে যত অপকর্ম হচ্ছে সব জামায়াত করছে: শামসুজ্জামান দুদু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াত ‘ইসলাম ধর্ম’―কে ব্যবহার করে রাজনীতি ও ব্যবসা করছে। তিনি দাবি করেন, দেশে যত ধরনের অপকর্ম হচ্ছে তার পেছনে জামায়াত জড়িত, অথচ এসবের দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিএনপির ওপর।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের মানুষ ইতিহাস এবং বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তাই কোনো ধরনের মিথ্যাচার বা অপপ্রচার চালিয়ে জনগণের আস্থা নষ্ট করা যাবে না। বর্তমানে জনগণের মূল সমর্থন বিএনপির পক্ষেই রয়েছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশে বিভিন্ন অপকর্ম ঘটিয়ে তার দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, যারা ইসলামকে ব্যবহার করছে, তারা মূলত ইসলামের বিরুদ্ধেই ভূমিকা রাখছে এবং মিথ্যাচারই তাদের রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আগের সরকারকে কয়েকবার লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপির আমলে নির্মূল হওয়া হামের মতো রোগ পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে আবার ফিরে এসেছে। তবে বর্তমান সরকার এখন জরুরি ভিত্তিতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একই সঙ্গে দেশের ফার্মাসিস্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আগে ফার্মেসিগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে গেলেও এখন তারা জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে সারারাত সেবা দিচ্ছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

জামায়াতে ইসলামীর অতীত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে দুদু বলেন, ইতিহাসের ধারায় তারা কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ১৯৭১ সালে কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল এবং কারা পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। বর্তমানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন সেখানে প্রকৃত শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হলে একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

অপরাধীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শামসুজ্জামান দুদু স্পষ্ট করেন যে, যারা অপকর্ম করছে তারা বিএনপির কেউ নয় এবং অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। কেউ যদি বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়, তাকে অবিলম্বে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোথাও কোনো অপকর্ম হচ্ছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।


এ দেশের মানুষ জামায়াতকে কখনোই ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

এ দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে কখনোই ক্ষমতায় আনবে না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল। তাই এ দেশের মানুষ কোনোদিন তাদের ক্ষমতায় বসাবে না।

বুধবার (২০ মে) ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছার পর এলজিআরডিমন্ত্রী পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন মন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়। লালগালিচার এই রাজকীয় সংবর্ধনায় তিন মন্ত্রীই এলাকার মানুষের ভালোবাসায় অভিভূত হন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটা দল আছে, তারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। নামটা জানেন তো?’ এ সময় উপস্থিত জনতা চিৎকার করে বলে ওঠেন—‘জামায়াতে ইসলামী’।

মন্ত্রী তখন জনতার উল্লাসের মধ্যে বলেন, ‘নামটা জোরে বলতে হবে। মিথ্যা কথা বলে, ধর্মের কথা বলে এ দেশের রাজনীতি হবে না। সত্য কথা বলে রাজনীতি করতে হবে।’

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান, ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ স্থানীয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সুধিজন এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


পৃথক সচিবালয়ের জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি: বিএনপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেছেন, পৃথক সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, এটা ঠিক না। বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়।

বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘যে সব জুডিশিয়াল অফিসার সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েটের জন্য নিয়োজিত ছিলেন, গেজেট দ্বারা তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কারণ, যেহেতু অর্ডিন্যান্সটি আইনে রূপান্তরিত হয়নি, পার্লামেন্টে পাস হয়নি, সেহেতু ওনারা এটা ফাংশন করেন কীভাবে? সুতরাং, স্বাভাবিকভাবে তারা মিনিস্ট্রিতে অ্যাটাচড হবেন। পরে তাদের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মানে এই না যে, এই সেপারেট সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, এটা ঠিক না। কারণ, সেপারেট সচিবালয়ের বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বা সেপারেশনের জন্য যে সকল বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য আছে, বিএনপি বড় স্টেকহোল্ডার।

তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে যে কমিটি ছিল, সেই কমিটিতে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি ছিল না। যার ফলে বিএনপির তরফে যে বক্তব্যগুলো, সেই বক্তব্যগুলো আসেনি এবং যার ফলে বিএনপি মনে করছে অর্ডিন্যান্সটা কমপ্রিহেনসিভ ছিল না। কাজেই এখন পার্লামেন্টে পরবর্তীতে বিএনপি এটাকে কমপ্রিহেনসিভ বিল আকারে আনবে এবং এটা পরিপূর্ণভাবে কার্যকারিতা লাভ করবে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তারও কারণ নেই। এ নিয়ে ভিন্ন রকম মন্তব্যেরও কারও কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

এটা আদালত অবমাননার শামিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আদালত অবমাননা হবে কেন? সংসদে এটা এখনো পাস হয়নি। বিএনপি তো বলেনি যে, এটা আর করবে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিল আকারে এমনভাবে আনবে, যাতে পরে এ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক বা সমালোচনার সুযোগ না থাকে। এখানে আদালত অবমাননার কিছু নেই।’


শহীদ জিয়ার শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে সাত দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

ঘোষিত এই কর্মসূচি আগামী ২৫ মে শুরু হয়ে ১ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা থাকায় কর্মসূচি পালনে কিছুটা নমনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ‘প্রয়োজনে কেউ এক-দুই দিন পরে কর্মসূচি পালন করতে পারবেন’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


এনসিপি ছাড়লেন ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। রোববার নিজের ফেসবুকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

সর্দার আমিরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন।

এনসিপি ছাড়ার কারণ জানিয়ে সর্দার আমিরুল ইসলাম লেখেন, ‘গত বছরের জুন মাসে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে মধ্যপন্থি রাজনীতির নয়া শক্তি হিসেবে এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে ডানপন্থি জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত আমার উৎসাহ উদ্দীপনাকে ম্রিয়মাণ করে। তবে এই সিদ্ধান্তকে রণকৌশল বিবেচনা করে জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দলের পক্ষে কার্যক্রম অব‍্যাহত রাখি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থার বাড়ন্ত লক্ষ্য করি। ফলশ্রুতিতে শেষ দুই মাস রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা বরাবর পদত্যাগপত্র পেশ করি।’


নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ: চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী

* পিতার স্মৃতিবিজরিত খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের উদ্বোধন * চাঁদপুরসহ ২০ জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ * কৃষককে পাশে বসিয়ে কথা শুনলেন সরকারপ্রধান * সবাই চাইলে কুমিল্লাকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি * সমাবেশস্থলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর ও কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ। জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে আমরা বিএনপি জনগণের জন্য, দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব। এর থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হবে না। শনিবার (১৬ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন।

সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা যখন খাল কাটা শুরু করেছি, আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেয়া শুরু করেছি, যখন ইমাম-মোয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানী ভাতা দেয়া শুরু করেছি, বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি- তখন কিছুসংখ্যক মানুষ এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে। এর বিরোধিতা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ সচেতন ছিল বলেই তারা বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই পরিষ্কারভাবে হাজারো মানুষের সামনে আমি বলে দিতে চাই, আমরা মানুষের পক্ষ থেকে যেই সমর্থন পেয়েছি, আমরা এক এক করে সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি এ কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আমাদের কিছু করা লাগবে না, বাংলাদেশের মানুষই তাদের সেই পরিকল্পনা অবশ্যই রুখে দেবে। তাই আসুন, যে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করলে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, আমরা সেসব কাজে নেমে পড়ি।

তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আমরা সবাই এলার্ট থাকব, সচেতন থাকব। ওই বিভ্রান্তকারীদের বিভ্রান্তির ফাঁদে আমরা পা দেব না।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে খাল খনন কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে, মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি সেই কর্মসূচি যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে কৃষক কার্ড কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছে দেবার যে পরিকল্পনা সেই পরিকল্পনা যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমরা দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য যে সব কর্মসূচি নিয়েছি সেগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত করতেন না পারে, সে ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।

দেশ গঠনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য, লক্ষ্য একটাই। এ দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই কাজ আমরা শুরু করেছি। বিএনপি সব সময় একটি কথা বলে থাকে, জনগণই হচ্ছে বিএনপির সব রাজনৈতিক শক্তির উৎস এবং সেই জন্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এসব কর্মসূচি শুরু করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচির কাজ শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশকে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছিলেন। কাজেই এখন আমাদের এ দেশকে গড়ে তোলার পালা। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে ইনশাআল্লাহ আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন: চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে গতকাল বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল কারখানা তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়।

চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ফলক উন্মোচনের পরে খালের পাড়ে নেমে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে এই খোর্দ্দ খাল খনন করেছিলেন। ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তার ছেলে তারেক রহমান।

কৃষককে পাশে বসিয়ে কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বিশাল সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সমাবেশ থেকে সাইফুল ইসলাম লিটন নামের এক সাধারণ কৃষককে ডেকে নিজের পাশে বসান সরকারপ্রধান, কথা বলেন তার সঙ্গে। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তার সুখ-দুঃখের কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এমন অভূতপূর্ব ও সাধারণ আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কৃষক সাইফুল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমাকে এমন একটি অনন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসতে পারা এবং নিজের কথা সরাসরি তাকে বলতে পারা আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন ও প্রধানমন্ত্রীর এই সমাবেশ ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সকাল থেকেই প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে সমাবেশস্থলে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এছাড়া চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী: জনগণের দাবি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি হয়ে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে। দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবার আগে দেশ— এবং দেশটা সবার। গতকাল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। সভায় উপস্থিত জনতা ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’ দাবি তুললে তিনি বলেন, সবাই একমত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে উপস্থিত সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালিতে তাকে স্বাগত জানান। তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এর আগে সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ছোট ছোট মিছিলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। সাড়ে ১০টার মধ্যেই সভাটি হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বড় সমাবেশে রূপ নেয়।

পথসভায় বক্তব্য রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের যেসব পরিকল্পনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম তার ভিত্তিতে মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। যে ওয়াদা করেছি তা বাস্তবায়ন করব।

সভায় জনতার পক্ষ থেকে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক আছে। সবাই যদি এই দাবির সঙ্গে একমত হন, তাহলে বাস্তবায়ন হবে।


একযোগে এনসিপির ২২ নেতার পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্যঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে চার নেতার পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে সংবাদ সম্মেলনে যে চার নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, তারা হলেন কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, মাহতাব উদ্দীন আহমদ ও দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ। সংবাদ সম্মেলনে তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করে দলটি। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন দেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির মোট ২২ নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাফসান জানির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিখিত আকারে এই ২২ নেতার সইসহ পদত্যাগপত্র এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন বরাবর পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, একটি বড় কমিটি অনেকের হয়তো প্রত্যাশানুযায়ী হয়নি। আবার কেউ নিজে পছন্দের পদ পেয়েছেন। কিন্তু তার পছন্দের ব্যক্তিরা হয়তো বাদ পড়েছেন। তাই মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। তবে তাদের জন্য কমিটির দরজা সব সময় খোলা থাকবে।


banner close