মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
১৭ চৈত্র ১৪৩২

‘লেভেল প্লেয়িং’ ফিল্ডের উৎসাহে নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেক দলে

আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২৩ ১৪:০৮

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই মেরুতে অবস্থান ক্ষমতাসীন দল ও রাজপথের বিরোধীদের। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি থাকলেও রাজপথের বিরোধীদের দাবির প্রতি সায় নেই সংসদের বিরোধী দলের। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্যদিকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে না থেকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে অনেক দলেই।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলোকে উৎসাহিত করতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎসাহিত করার জন্য আমরা একটা লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড তৈরি করছি। অর্থাৎ তারা যদি নির্বাচনে আসে, তারা যদি ভালো প্রার্থী দেয়, তারা যদি নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে জনগণকে আকৃষ্ট করে, সেটাতে উৎসাহ দিচ্ছি। অন্য কোনোভাবে উৎসাহিত করার উপায় গণতন্ত্রে নেই বলে আমি মনে করি।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া দলগুলোর নেতাদের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন যদি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং সরকার যদি ওই ক্ষমতা প্রয়োগে সহযোগিতা করে তবেই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে ওই রাজনৈতিক দলগুলোর। আবার অনেকেই নির্বাচন সামনে রেখে জোট গঠন করছেন বিভিন্ন দাবি সামনে এনে।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ১২টি। যদিও ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হওয়ার নজিরও সৃষ্টি হয় ওই নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়ে।

এরপর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই অংশ নেয়। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট গঠিত হয়। ওই জোট নির্বাচনের পরে অভিযোগ করে, নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। এমনকি ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে তারা।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় যুক্তফ্রণ্ট। প্রথমে ওই জোটে ড. কামাল হোসেন থাকলেও বিএনপিকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে ভেঙে যায় জোটটি। বিকল্পধারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনে জয়লাভ করে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিকল্পধারা বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ৬৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে একটি আসনেও জয় পায়নি দলটি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা তো সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা মনে করি সবাই মিলে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করা উচিত। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাল্লাহ আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নেব।

চলতি বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায় তৃণমূল বিএনপি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা দলটির চেয়ারম্যান ছিলেন। নিবন্ধন পাওয়ার ৩ দিন পর মারা যান তিনি। গত ২০ সেপ্টেম্বর তৃণমূল বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান বিএনপির সাবেক নেতা শমসের মবিন চৌধুরী। তিনি ২০১৪ সালের পর স্বেচ্ছায় বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দিয়েছিলেন। তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর আলম খন্দকার।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা নির্বাচনমুখী একটি দল। আমরা নির্বাচন করতে চাই। অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে আমরা আশা করছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে বলেও আমরা আশা করছি। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু করতে হলে আমরা আশা করব প্রশাসন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। নির্বাচন কমিশন যেন সাংবিধানিকভাবে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা প্রয়োগ করতে পারে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

২০০৭ সালে শেখ শওকত হোসেন নীলু বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলটি ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১০ হাজার ৩৪৮ ভোট পায় দলটি। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে যোগ দেয় এনপিপি। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় জোটের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় শেখ শওকত হোসেন নিলুর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করেন তিনি। ২০১৭ সালের ৬ মে মারা যান নীলু। পরে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তার ভাই শেখ ছালাউদ্দিন ছালু।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি এনপিপির নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ। এই জোটের শরিক দলগুলো হলো ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ ভাসানী, ডেমোক্রেটিক পার্টি বাংলাদেশ (ডিপিবি), বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্য ফ্রন্ট, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন (বিজিএ), বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ নাগরিক কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ কনজারভেটিভ পার্টি (বিসিপি), গণমুক্তি পার্টি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন পার্টি, বাংলাদেশ ন্যায়বিচার পার্টি, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ আইডিয়াল পার্টি ও বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ও গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চের চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার কাজে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা চাই হানাহানি বাদ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে হোক বা সমঝোতার মাধ্যমে হোক, একটা সুষ্ঠু ধারা দেশে ফিরিয়ে আনতে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেতনা বিএনপি ধ্বংস করে দিয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, আমরা চাই সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা সর্বনিম্ন ৫০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, তাদের প্রতিনিধি নিয়ে একটা নির্বাচনকালীন সরকার করা। যার মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা যায়।

নির্বাচিত নন এমন ব্যক্তিদের কেন সরকারে নেয়া হবে- জানতে চাইলে ছালাউদ্দিন বলেন, ৭ থেকে ৮টা দলের প্রতিনিধি আসবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার হবে। সেখানে সমঝোতা হতে পারে বা প্রধানমন্ত্রী ডাকলে কেউ না করবে না।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ৪ দফা দাবিতে আত্মপ্রকাশ করে ১০ দলীয় গণমুক্তি জোট। জোটটিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)। ২০১৩ সালে নিবন্ধন পায় মুক্তিজোট দলটি। ওই জোটের দাবিগুলো হচ্ছে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, মন্ত্রিসভা ছোট করতে হবে এবং মন্ত্রিসভায় বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধি যুক্ত করতে হবে। তাদের অপর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে আইন সংশোধন করতে হবে, যাতে সরকার নির্বাচন কমিশনের আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য থাকে।

১০ দলীয় জোট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গণমুক্তি জোট থেকে ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত করতে হবে আইন করে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকেই দিতে হবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো এজেন্ট দেয়া যাবে না। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু একটা নির্বাচন আমরা চাই। এইগুলো যদি হয় তাহলে নির্বাচনে যাব।’

২০১৩ সালে নিবন্ধন পায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১টি আসনে জয়লাভ করে। দলটি ১ লাখ ৭ হাজার ৯৯০ ভোট পায়, যা শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। অংশ নিয়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দলটির প্রেসিডেন্ট এস এম আবুল কালাম আজাদ। দলটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে সূত্রে জানা যায়।

অনিবন্ধিত ৫টি দল নিয়ে জাতীয় জোট গঠন করেছে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত বাংলাদেশ কংগ্রেস। ২০১৯ সালে নিবন্ধন পাওয়া দলটির চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, নতুন দল হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।

২০০৮ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায় গণফ্রন্ট। ওই বছর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৪ হাজার ৯ ভোট পায় দলটি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ২ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়েছিল, যা শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

গণফ্রন্ট চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা কোনো জোটে যাইনি। যদি দেশে নির্বাচন হয় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ থাকে তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

এ ছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নিবন্ধিত দলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি জেপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম এল), গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি আইভী আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, সব দল যার যার দলের কথা বলছেন। আমরা জনতার সঙ্গে আছি। আমরা জনতার কথা বলছি। জনতা একটি অবাধ, ‍সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। আমরা তো ১৪ দলে আছি।


সরকার গঠনের পর প্রথমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান, নেতা–কর্মীদের উচ্ছ্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছেন তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তার গাড়িবহর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সাতটার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
তারেক রহমান দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেতা–কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এর আগে বিকেলে সরেজমিনে পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতা–কর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান–সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব কটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সড়কে নেতা–কর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কোনোরকমে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে পারছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
একজন নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগেও আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশে তাড়াত, গ্রেপ্তার করত। আর আজকে…আল্লাহ চাইলে কী না পারে।’


স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে আবার সেই অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে আবার সেই অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা সেইদিন আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছে, পাকিস্তান বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। আমাদেরকে ভালো করে সতর্কতার সঙ্গে সেই অপশক্তিকে পরাজিত করে স্বাধীনতার শক্তিকেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেখানেই আমাদের সাফল্য।’

গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সবাই খুব আশাবাদী আমরা সবাই আমাদের নেতা তারেক রহমানের উপরে প্রচন্ড রকমের আশাবাদী। তিনি আসার পরেই মানুষের মধ্যে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, আশা জাগিয়ে চলেছেন। দেশে এসেই তিনি বললেন-‘ আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’

তিনি বলেন, আমাদের নেতা প্রতিশোধের কথা বললেন না, প্রতিহিংসার কথা বললেন না। বললেন যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ আমি একটা পরিকল্পনা নিয়ে এসেছি দেশটাকে গড়বার।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেরকম একটা কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি গোটা বাংলাদেশকে সেই বটমলেস বাস্কেট থেকে একটা একটা সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারই যোগ্য পুত্র তারেক রহমান আজকে আমাদেরকে সেই পথ দেখাচ্ছেন।’

সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সকল অপশক্তিকে পরাজিত করে আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবের হাত শক্তিশালী করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। অতীতচারিতা ভুলে গিয়ে আমরা শুধু অর্জন করি আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ, আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতে পারে সেই কথা আমরা বলতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৮ বছর বহু নির্যাতন সহ্য করেছি, আমাদের সমস্ত জীবনটাকে ১৮ বছর ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, তছনছ করে ফেলা হয়েছে। এখানে আমি সামনে যাদের দেখতে পাচ্ছি আমার সহকর্মীবৃন্দ প্রত্যেকেই ভয়াবহভাবে নির্যাতিত নিগৃহীত। আমাদের ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল, ২০ হাজার তরুণ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। ইলিয়াস আলীসহ তিনজন নেতা, ১৭শ নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। তারপরও কিন্তু আমরা আমাদের দেশনেত্রীকে (বেগম খালেদা জিয়া) লক্ষ্য রেখে মাথা নত করিনি। করেছি কখনো? লড়াই চালিয়ে গেছি।’


বরগুনায় চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি―র সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

দল-মত নির্বিশেষে 'সবার আগে বাংলাদেশ' দেশের উন্নয়ন ও ঐক্যমতের ভিত্তি গড়ার লক্ষ্যে আলোচনা
আপডেটেড ২২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৪৫
বরগুনা জেলা প্রতিনিধি

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি সম্প্রতি বরগুনায় এক তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হারুন, সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ, জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ মামুন, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা এস.এম.আফজালুর রহমান, উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাসুদুল আলম, উপজেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, জেলা সভাপতি মুহাম্মদ হাসিবুর রহমান, বরগুনা জেলার ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে বরগুনা-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ অলি উল্লাহ নোমান।

রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সাক্ষাতকালীন সময় চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার জনগণের সরকারে রূপান্তরিত হয়েছে। এই সরকারের মূল দৃষ্টি হলো দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে বাংলাদেশ।

সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐক্যমতের ভিত্তি তৈরি করা দেশের সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন,দেশের উন্নয়ন, সামাজিক সংহতি এবং রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।

সাক্ষাতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই সাক্ষাতকে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক সংলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন,জাতীয় ঐক্য এবং সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করতে সকল দলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সাক্ষাতটি স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংলাপের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৬শে মার্চ রোববার ভোরে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওই দিন ভোর ৫টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে ২৫শে মার্চ বুধবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশেই আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, “ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”


নন্দীগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুমন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

সম্প্রতি বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বৈলগ্রামের কৃষক খলিলুর রহমানের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষক খলিলুর রহমানের পরিবার। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খলিলুর রহমানের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার তুলে দেন। যাতে তারা কিছুটা স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারে।

সেসময় তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। একটি পরিবার যখন বিপদে পড়ে, তখন আমাদের সবারই দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। আমি সেই দিকটা বিবেচনায় করে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি প্রত্যাশা করি ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। আর আমি মানুষের সুখেদুঃখে পাশে আছি এবং আগামীদিনেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।

এ সহায়তা ও ঈদ উপহার প্রদানের সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সানাউল বাকিসহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এবং এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।


ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদ অত্যন্ত আনন্দের: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আনন্দময় বলে অভিহিত করেছেন। শনিবার সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারা দেশবাসীর জন্য বড় প্রাপ্তি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হওয়ার বিষয়টিকে তিনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এক নতুন যাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে আনন্দের এই আবহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল এই ঈদকে কিছুটা বিষাদময় বলেও অভিহিত করেন। তিনি জানান, দেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই ও আকাঙ্ক্ষার পর আজ যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই পথ ধরেই দেশ আগামীতে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।

এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্যান্ডেলে ৩৫ হাজার মুসল্লিসহ আশপাশের সড়ক মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


সরকার দেশের সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর: ডেপুটি স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশেই ফিরে এসেছি, যেখানে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সদরের রামকৃষ্ণ আশ্রমের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য দল-মত, পথ, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের কাছে কে হিন্দু, কে মুসলিম-এটা মুখ্য নয়; মানুষ হিসেবে আমাদের কর্মই সবচেয়ে বড় পরিচয়। কর্মের মাধ্যমেই একজন মানুষ ও একটি সমাজের মূল্যায়ন হয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। মুসলিমদের ইমাম-খতিব, হিন্দুদের পুরোহিত ও সেবাইত, খ্রিস্টানদের ধর্মগুরুসহ সব ধর্মীয় নেতাদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাগতিক জীবনে মানুষ অনেক কিছু অর্জন করলেও তা সঙ্গে নেওয়া যায় না। ধর্মীয় শিক্ষার মূল কথা হলো মানবতা, ন্যায়, সততা ও পাপ থেকে বিরত থাকা। সব ধর্মই সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তাই একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে সমান অধিকার দিতে হবে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দেশে প্রতিটি ধর্মের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ- সবাই যেন গর্ব করে বলতে পারে, এই দেশ আমার বাংলাদেশ- সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মভেদ না করে সবাই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছিল। তখন কেউ দেখেনি কে কোন ধর্মের। ঠিক তেমনি এখন সময় এসেছে দেশ গড়ে তোলার, আর সে কাজে সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি অনুজ চক্রবর্তী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোপেশ চন্দ্র সরকার।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্কুল মাঠে আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

সেখানে তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল ছাড়া কোনো দেশের গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না। সরকার ও বিরোধী দল-এই দুই শক্তির সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমেই একটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দৃঢ় ও কার্যকর হয়। বিরোধী দল যদি দায়িত্বশীলভাবে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং দেশ এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে।

তিনি বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে সরকার ও বিরোধী দল-দুই পক্ষই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত ১৫-২০ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে বিরোধী মতপ্রকাশের পরিবেশ ছিল না। জাতীয় সংসদ অনেকটা তৎকালীন সরকারের ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত হয়েছিল এবং বিরোধী দল ছিল নামমাত্র। এই পরিস্থিতির কারণেই দেশে ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশরপাশা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জব্বার খান, বিদ্যালয়ের জমিদাতা মিল্টন ঘোষ, জালাল উদ্দিনসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


লক্ষ্মীপুরে ১৩৯ অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লক্ষ্মীপুরে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে শহরের গোহাটা সড়কের চৌধুরী ভিলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এই আয়োজনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেথুয়াই প্রোপ্রো মারমা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ১৩৯ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জনকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে এবং অবশিষ্ট ৭৮ জনকে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তার চেক দেওয়া হয়। চেক বিতরণকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন যে সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাবলম্বী করতে এবং তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে এই ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুবিধাভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে: নাটোরে হুইপ দুলু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয় সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে উল্লেখ করে সরকার দলীয় হুইপ এবং নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, প্রত্যেক পরিবারের নারীরা ফ্যামিলী কার্ডের আওতায় আসবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামেলী কার্ড বিতরন উদ্বোধনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নাটোরের একডালায় শুভেচ্ছা ফার্মের বাগানবাড়ীতে দরিদ্রদের মাঝে শাড়ী লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন । এসময় তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতারা এই সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ। তারাও মাসে মাসে মাসে সম্মানি ভাতা পাওয়া শুরু করেছেন। এছাড়া কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তি পর্যায়ের কৃষকরাও উপকৃত হবেন। সবার পাশে দাঁড়িয়ে বিএনপি জনবান্ধব সরকারে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকার সফল: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই কিছু না কিছু বৈশ্বিক ঝামেলা তৈরি হয়। এবারও দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মতো বড় সংকট সামনে এসেছে। কিন্তু সরকারের যোগ্যতার কারণে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি এবং তেলের দামও বাড়েনি। এমনকি সংকটের মধ্যেও গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের বেতন সঠিক সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।’

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি জানান, বর্তমানে ছোটখাটো পরিসরে দলের কার্যক্রম চললেও এ বছরের মধ্যেই বিএনপির দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দ্রুত কাজ চলছে এবং এ বছরের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘এক মাসে আমরা সরকারের সব ক্ষেত্রেই সাফল্য দেখছি। এরইমধ্যে পার্লামেন্ট অধিবেশন বসেছে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। তবে আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সুস্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। সরকার এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’

সান্তাহারে ট্রেনের লাইনচ্যুতির মতো দুর্ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই রেল চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ হবে।


নিখোঁজের তিন দিন পর যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইউসুফ খান (৩২) নামে এক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই গ্রামের আলমাসের ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ইউসুফ আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই গ্রামের দুলাল খানের ছেলে। তিনি আজগানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

ইউসুফ খানের ভাতিজা নীরব খান জানান, তার চাচা ইউসুফ খান শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে মাটির সাইড দেখতে যান। তার পর থেকে তিনি বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় ইউসুফ খানের বোন পান্না আক্তার মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ইউসুফ খান নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ ঘাগরাই গ্রামের আলমগীরের ছেলে রিজন এবং একই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী হানিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সন্ধ্যায় ঘাগরাই গ্রামের আলমাসের ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে ইউসুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার একটি মাটির ট্রাকের ধাক্কায় হানিফের একটি গাছ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় হানিফের সঙ্গে ইউসুফের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইউসুফ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।

মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, ইউসুফ নিখোঁজের ঘটনায় আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।


ফেসবুক পোস্টে জারা লিখলেন ‘আমি মারা যাইনি’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিংকডইনে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) ডা. তাসনিম জারার অ্যাকাউন্টটি আজ ‘মেমোরাইলাইজড’ বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এনিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ বিষয়ে সোমবার বিকালে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন তাসনিম জারা।

ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, আপনারা অনেকেই লক্ষ করেছেন যে আজ সকালে আমার লিংকডইন অ্যাকাউন্টটি ‘মেমোরাইলাইজড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

সম্ভবত আমার অ্যাকাউন্টে করা কোনো ভুল বা বিদ্বেষমূলক রিপোর্টের কারণে এমনটি ঘটেছে।

তিনি আরও লিখেছেন, আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি। আমি লিংকডইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আশা করছি শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।


মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে আগামী কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রোববার সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। এদিন বেলা ১১টায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তার (মির্জা আব্বাসের) সঙ্গে সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস সিঙ্গাপুর যাবেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা-এ চিকিৎসাধীন এই বর্ষীয়ান নেতার মস্তিষ্কে গত শুক্রবার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তার মস্তিষ্কের একটি সিটি স্ক্যান করা হয়। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদন ইতিবাচক এসেছে।

তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুই দফায় তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।


banner close