তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘যে খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দিনে নিজের মিথ্যা জন্মদিন পালন করে কেক কেটেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মদদ দিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছেন, ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করেছেন, সেই চরম প্রতিহিংসা ও জিঘাংসাপরায়ণ খালেদা জিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মহানুভবতা দেখিয়ে চলেছেন, তা নজিরবিহীন।’
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কোয়াব প্রেসিডেন্ট এ বি এম সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজামুদ্দীন মাসুদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল আলম শামীম ও লুৎফর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে বাধা দিচ্ছে বলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোনোভাবেই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। আর তারা যদি তা মনে করে তাহলে তো আদালতে যেতে পারে। আর খালেদা জিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তার কী পরিমাণ দম্ভ-অহমিকা যে—তার পুত্রবিয়োগে সমবেদনা জানাতে তার বাড়ির দুয়ারে দেশের প্রধানমন্ত্রী গিয়ে ২০ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি দরজা খোলেননি। তার আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১২টা মামলা দায়ের হয়েছিল, আমাদের সরকার তো খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেনি। তার বিরুদ্ধে সব মামলা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের। সেসব মামলার বিচার হচ্ছে, তাতেই তিনি সাজা খাটছেন।’
হাছান মাহমুদ বলেন, “শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার নির্দেশে এফবিআইয়ের এজেন্ট লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করার পরিকল্পনা হয়েছিল। পরে চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়, সেই এজেন্টের এখন বিচার হচ্ছে। খালেদা জিয়ার আমলে নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানির কাছ থেকে কিছু কম্পিউটার কেনার চুক্তি হয়েছিল, সেই কোম্পানির নাম কেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার কন্যা ‘টিউলিপ’ নামের সঙ্গে মিল, সেজন্য সেই চুক্তি তারা বাতিল করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে যারা হত্যা করেছে, জিয়াউর রহমানের পথ ধরে খালেদা জিয়াও তাদের আবার পুনর্বাসিত করেছেন।’
‘খালেদা জিয়া এতো প্রতিহিংসা দেখিয়েছেন, এতো জিঘাংসা দেখিয়েছেন। কিন্তু তার প্রতি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যে নজিরবিহীন মহানুভবতা দেখিয়ে যাচ্ছেন, সেটি কি তারা কখনো করতো?’
বিএনপি কেন নির্বাচনে আসতে চায় না, সে প্রশ্নে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া বা তারেক রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলেই বিএনপি নির্বাচন চায় না এবং এই দুই শীর্ষ নেতা আর কাউকে নেতা বানানোর জন্য বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে দিতেও চায় না’।
সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবাহিত ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ ও ছাত্র-ছাত্রীদের বাসে পৃথকভাবে বসার নির্দেশ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কাগজে খবরটা দেখেছি, এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে জেনে খুব আশ্চর্য হয়েছি। ছাত্রীরা বিয়ে করলে হলে থাকতে পারবে না, এমন সিদ্ধান্ত আমার দৃষ্টিতে একেবারেই অযৌক্তিক। পাশাপাশি এ যুগে বিশ্ববিদ্যালয় বাসে ছাত্রীরা এক জায়গায় বসবে, ছাত্ররা আরেক জায়গা বসবে—সেটিও তো অবাস্তব একটি সিদ্ধান্ত। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ কীভাবে নেয় এটা আমার বোধগম্য নয়। আমি এটা শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আনবো। কারণ এর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ শিক্ষামন্ত্রী।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২৩ বছর পর হিমালয়কন্যা পঞ্চগড় জেলা সফরে আসছেন। আগামী ১৩ জানুয়ারি দুপুর দেড়টায় তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের পাথরাজ এলাকায় পৌঁছাবেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর প্রিয় নেতাকে সশরীরে দেখার সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও এক ধরণের বাড়তি আবেগ তৈরি হয়েছে। সফরের শুরুতে তিনি পাথরাজ এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা শহীদ আরেফিনের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাবেন।
কবর জিয়ারতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই মাহফিলটি মূলত বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমান উপস্থিত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এই সফরটি মূলত তাঁর উত্তরবঙ্গ সফরের একটি অংশ, যার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ দিন পর দলীয় কাঠামোর প্রতিটি স্তরের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চাইছেন।
তারেক রহমানের এই আগমন সফল করতে জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠব্য দোয়া মাহফিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ আসনে মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। তাঁর সাথে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, যিনি পঞ্চগড়-২ আসন থেকে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও জেলা ও উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের অন্য নেতারা ভেন্যু পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেলা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তারেক রহমানের আগমনের দিন শৃঙ্খলার সাথে কর্মসূচি পালন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন যে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে তাঁরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এটি পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক সফরের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পঞ্চগড়বাসী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং জাতীয় সংসদে বহু রাজনৈতিক দলের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদেরও মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যারা মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকে ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে ডেকে কথা বলা হচ্ছে এবং তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে অবাধ্যদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এসব সংকটের চূড়ান্ত মীমাংসা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক একই সাথে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন উত্তরবঙ্গ সফর নিয়েও বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই সফরকালে কোনোভাবেই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের কবর জিয়ারত করা একটি জাতীয় পবিত্র দায়িত্ব ও সমগ্র জাতির প্রত্যাশা। তারেক রহমানের এই সফর মূলত সেই জাতীয় চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানোর একটি প্রয়াস মাত্র। সালাহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার কোনো উপাদান নেই।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, কোনোভাবেই যেন ২০২৪ সালের এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্নবিদ্ধ করা না হয়। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতীয় পর্যায়ে আরও মহিমান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ নেতা হিসেবে তারেক রহমান যদি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, তবে তা জাতীয় সংহতিকে আরও মজবুত করবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই সফরের মাধ্যমে মূলত জাতির আকাঙ্ক্ষাই প্রতিফলিত হবে। বিএনপির এই নেতা পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর দল একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে সরাসরি একনজর দেখার জন্য জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি জেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত থাকলেও, সশরীরে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সর্বশেষ ২০০৩ সালের শীতকালে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে একটি কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর তাঁর এই সফর উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাণ হারানো বীর শহীদ রায়হানুল হাসান, আল মামুন, সাহান পারভেজ ও রাকিবুল হাসানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ জানুয়ারি সড়কপথে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে এসে পৌঁছাবেন এবং শহরের ব্যুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনি আন্দোলনে শহীদ আল মামুনের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। সময় স্বল্পতা ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত অন্য শহীদদের কবর জিয়ারত করার সুযোগ না থাকলেও তাঁদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি বিশেষ কর্মসূচি পালন করবেন।
সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি বিশাল স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি মূলত সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত হচ্ছে। সেখানে তারেক রহমান উপস্থিত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এই কর্মসূচি শেষ করে ওই দিনই তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনি আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কোনো বড় জনসভা না করে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমেই তাঁরা নেতাকে বরণ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল আবেগীয় নয়, বরং আগামীর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের তৃণমূল শক্তিকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ও সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফরের মাধ্যমে জেলার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে জাতীয়তাবাদী দর্শনের শক্তি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত শহীদদের সম্মান জানানো এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়েই শেকড়ে ফিরছেন তারেক রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলায় গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতে যাচ্ছেন।
গতকাল বুধবার দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়েছে।
মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের কবর জিয়ারত করা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত বিভিন্ন দোয়া মাহফিলেও তিনি শরিক হবেন।
সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ১২ জানুয়ারি তিনি বগুড়া থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিনই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ আবু সাঈদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত করার কর্মসূচি রয়েছে তার। সফরের তৃতীয় দিন ১৩ জানুয়ারি তারেক রহমান পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করবেন এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলবেন। সফরের শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি রংপুর ও বগুড়ায় আরও কয়েকটি দাপ্তরিক ও জনহিতকর কাজ শেষে তিনি পুনরায় রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসবেন।
তারেক রহমান তার এই পুরো সফরে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের মাজার ও নিহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সাথে সরাসরি দেখা করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই সফরে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না। তারেক রহমান নিজে সকল নিয়মকানুন মেনে চলবেন এবং নেতাকর্মীদেরও শৃঙ্খলার সাথে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরাঞ্চলের এই ৯ জেলা সফর বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনেও বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ জনমনে দলটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। বর্তমানে সফরের জেলাগুলোতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) বিশৃঙ্খলা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একের পর এক পদত্যাগে সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত দলটি এখন দিশাহারা। গত দুই সপ্তাহে এনসিপির অন্তত ১৫ জন জ্যেষ্ঠ নেতা দল ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ইশতেহার কমিটি এবং নীতি ও গবেষণা শাখার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও আছেন।
প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দলটি এরই মধ্যে ভুগছে নেতৃত্বের সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতায়। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যও পারেনি ঘর ঘোছাতে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাছাড়া নির্বাচন কৌশল ঠিক করা, ইশতেহার প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও শেষ করতে পারেনি। শুধু এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছে।
এ ছাড়া কয়েকজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এতে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও দুর্বল হয়ে গেছে।
তৃণমূল নেতারা বলছেন, এমন এক সময়ে এই পদত্যাগগুলো বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে, যখন অফিস, মিডিয়া, প্রচার ও আইসিটি সেলের প্রধান ও মূল সদস্যদের অনেকেই নিষ্ক্রিয় বা দলত্যাগ করেছেন।
তাদের মতে, এখন নিয়মিত দলীয় কাজ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। খুব সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম চলছে মাত্র।
এক জ্যেষ্ঠ এনসিপি নেতা স্বীকার করেন, দলটি এখনো নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
তিনি বলেন, হাতে ৪০ দিনেরও কম সময় থাকায় এখন আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুযোগ নেই। তাই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির বদলে স্বল্পমেয়াদি কৌশলেই জোর দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব নেতৃত্ব সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এই শূন্যতা পূরণে নতুন করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইশতেহারের কাজও চলছে। আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়া শেষ হলেই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।
আরিফুল আরও বলেন, এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন সাবেক উপদেষ্টা ও সদ্য নিযুক্ত দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আরিফুলের সঙ্গে কথা বলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এনসিপি এক বিবৃতিতে জানায়, আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে।
নির্বাচন তদারকির পাশাপাশি তিনি এখন মিডিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা, ব্র্যান্ডিং, অফিস ব্যবস্থাপনা, জনসংযোগ, সদস্য সংগ্রহ এবং গবেষণা ও নীতি শাখাসহ একাধিক সেল তদারকি করবেন।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ ইউনিটের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বও তার ওপর দেওয়া হয়েছে।
দলীয় বিশৃঙ্খলা স্পষ্ট: জোট নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় থেকেই দলের ভেতরের অস্থিরতা প্রকাশ্যে আসে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাসনিম জারা দল থেকে পদত্যাগ করেন। পলিসি ও রিসার্চ উইংয়ের প্রধান এবং ইশতেহার প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা খালেদ সাইফুল্লাহও দল ছাড়েন।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, তার পদত্যাগের পর ইশতেহার কমিটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ নীতিগত কাঠামো তৈরি ও খসড়া লেখায় তার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে কমিটির বাকি সদস্য মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার নিজ নিজ নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকায় ইশতেহার প্রণয়নের কাজ প্রায় স্থবির।
সূত্রগুলো আরও জানায়, খালেদ সাইফুল্লাহ ইশতেহার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে চলে যাওয়ায় নতুন করে কাজ শুরু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য জানতে চাইলে খালেদ সাইফুল্লাহ কথা বলতে রাজি হননি।
পদত্যাগের কারণে দলের একাধিক কার্যকরী ইউনিটও প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, অফিস সেলের প্রধান সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং কৃষক উইংয়ের মুখ্য সমন্বয়ক আজাদ খান ভাসানী—সবাই দল ছেড়েছেন।
জোট সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে নারী নেতৃত্বের ওপরও। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দলীয় কর্মকাণ্ড থেকেও অনেকটাই দূরে রয়েছেন।
আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও নির্বাচন ও সাংগঠনিক কাজে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, দক্ষিণাঞ্চল সংগঠক মনজিলা ঝুমা, উত্তরাঞ্চল সংগঠক দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী এবং আরও অন্তত পাঁচজন নেতা পদত্যাগ করেছেন বা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন।
২৯ ডিসেম্বর ১১ দলীয় জোট ঘোষণার দুদিন পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জায়গায় আসিফ মাহমুদকে দলের মুখপাত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়ের মূল্য দলকে এখন চড়া দামে দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই মাস আগেই যদি অভ্যন্তরীণ মতভেদ মিটিয়ে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত, তাহলে এনসিপি ২০ থেকে ২৫টি আসনে শক্ত অবস্থানে যেতে পারত।
অস্থির নির্বাচনী পরিস্থিতিতে এই দুই মাস ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে; গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আনোয়ার হোসেন নামে আরেকজন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজার এলাকায় নাম পরিচয় না জানা বন্দুকধারীরা তাদের গুলি করে।
জানা গেছে, তাকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা ৫টি গুলি করে। মুসাব্বিরের পেটে গুলি লেগেছে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি সাহপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এডিসি ফজলুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। তাদের একজন মারা গেছেন। অন্যজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আহত সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদকে (৪২) ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. জাবেদ জানান, মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তার বাসা কেরানীগঞ্জে। রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির ও মাসুদসহ কয়েকজন কাজীপাড়া স্টারের গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি করে।
তিনি আরও জানান, দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে বিআরবি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাতে মাসুদকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। তবে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, ওই ব্যক্তি পেটের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে রাজনৈতিক সফর শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী সোমবার (১১ জানুয়ারি) তিনি তার জন্মভূমি বগুড়া সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং এই যাত্রার শুরুতেই তিনি টাঙ্গাইলে যাত্রাবিরতি করবেন। সেখানে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিলে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হবেন তারেক রহমান এবং দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ তিনি টাঙ্গাইলে পৌঁছাবেন। মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতের সময় তার সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের এই জেলা সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশ থেকেই তাকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা।
এই সফরকে ঘিরে টাঙ্গাইলে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি উল্লেখ করেন যে, টাঙ্গাইলবাসী তাদের নেতাকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তারেক রহমানের এই সফর ও দোয়া মাহফিল সফল করতে স্থানীয় বিএনপি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। টাঙ্গাইলে কর্মসূচি শেষ করে তিনি পরবর্তী গন্তব্য বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলায় চার দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সফর শুরু করতে যাচ্ছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে ইতিমধ্যে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বিএনপি। বুধবার দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়েছে। মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের কবর জিয়ারত করা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত বিভিন্ন দোয়া মাহফিলেও তিনি শরিক হবেন।
সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ১২ জানুয়ারি তিনি বগুড়া থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিনই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ আবু সাঈদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সফরের তৃতীয় দিন ১৩ জানুয়ারি তারেক রহমান পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করবেন এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলবেন। সফরের শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি রংপুর ও বগুড়ায় আরও কয়েকটি দাপ্তরিক ও জনহিতকর কাজ শেষে তিনি পুনরায় রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসবেন।
তারেক রহমান তাঁর এই পুরো সফরে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের মাজার ও নিহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সাথে সরাসরি দেখা করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই সফরে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না। তারেক রহমান নিজে সকল নিয়মকানুন মেনে চলবেন এবং নেতাকর্মীদেরও শৃঙ্খলার সাথে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরাঞ্চলের এই ৯ জেলা সফর বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনেও বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ জনমনে দলটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। বর্তমানে সফরের জেলাগুলোতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনি সমঝোতা ও আসন বণ্টন প্রক্রিয়া বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে জোটের শরিক দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোন দলের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারবেন—তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আসন বণ্টন সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন জোটের নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান এই সংকট নিরসনে আজ বুধবার ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। যদিও নেতারা দাবি করছেন যে এই জটিলতা জোটের ঐক্য বা সমঝোতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, তবে মাঠ পর্যায়ের পরিসংখ্যানে জোটের পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে।
জোটের সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শরিক দলগুলোকে মোট ৬৫টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছিল, যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একাই ৩০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি এবং এলডিপি ও খেলাফত মজলিসের অন্য অংশকে ৬টি করে আসন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সাথেও ১৮৩টি আসনে সমঝোতা হয়েছিল, যেখানে প্রাথমিকভাবে তাদের ৩১টি আসন ছাড়তে রাজি ছিল জামায়াত। কিন্তু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর দেখা গেছে, জামায়াতের ৯ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৩৯ জন, এনসিপির ৩ জন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর ফলে অনেক আসনে জোটের একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
তৃণমূল পর্যায়ের আসনগুলোতেও এই জটিলতা তীব্র হয়ে উঠেছে। যেমন, কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২ এবং ঢাকা-২-এর মতো আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা জোটের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও তাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আবার মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নূর হোসাইন নূরানীর সমর্থনে জামায়াত কোনো প্রার্থী দেয়নি, কিন্তু নূরানীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এখন সেই আসনে জোটের অন্য শরিক ইসলামী আন্দোলন বা খেলাফত মজলিস (অন্য অংশ) প্রার্থিতা দাবি করছে। এমন পরিস্থিতিতে শরিক দলগুলো একে অপরের ভাগের আসন বা জামায়াতের নিজের জন্য রাখা আসনগুলো দাবি করতে শুরু করেছে, যা জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে মেরুকরণ ও দরকষাকষির ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, যার নিজের প্রার্থিতাও কক্সবাজার-২ আসন থেকে বাতিল হয়েছে, তিনি এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে এবং প্রার্থিতা ফিরে পেলে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা সহজ হবে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমেদ শেখ স্বীকার করেছেন যে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে প্রার্থীরা মাঠ ছাড়ছেন না। আপাতত সকলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে জোটের কোন কোন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকবেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত নির্বাচনি রূপরেখা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দিল্লিতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা ও তার সরকার ভারতের সেবাদাস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা এখন আশ্রয় লাভ করেছে তার নিজের স্থান দিল্লিতে। এরা ভারতীয় দল, এরা ভারতীয় সেবাদাস সরকার ছিল। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাদা কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপি আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে সালাহউদ্দিন এ কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার বাবা বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে এবং এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছে। তারা দুজনেই একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও এক ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দীর্ঘ পনেরো-ষোল বছর এ দেশে এক নায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন। ফলাফল—ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তি শেখ হাসিনার পতন হয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকার কখনো বাংলাদেশকে স্বাধীন সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা প্রকৃতপক্ষে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে এবং রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। এরা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত দিয়েছে, আলেম সমাজের ওপর নির্যাতন করেছে এবং আলেমদের হত্যা করেছে। এরা মূলত ইসলামবিদ্বেষী সরকার ছিল।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ রাতের অন্ধকারে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছিল এবং নিরীহ মাদরাসাছাত্রদের হত্যা করেছিল। এভাবেই আওয়ামী লীগ এ দেশের গণমানুষের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল, ফলস্বরূপ আওয়ামী লীগ এ দেশ থেকে চিরতরে উৎখাত হয়েছে। সুতরাং আগামীতে কী রকম বাংলাদেশ হবে, জনগণ সেটা ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছে—একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা।
পহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজীর সভাপতিত্বে এতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার, উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় বৃহত্তর জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি। বিশেষ করে প্রধান দুই শরিক জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া দূরত্ব ঘুচাতে এখন শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে। জোটের পরিধি বেড়ে ১১ দলে উন্নীত হওয়ায় এবং এনসিপি ও এবি পার্টির মতো নতুন দলগুলো যুক্ত হওয়ায় পুরনো হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে।
প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনের দাবি তুললেও জামায়াত তাদের জন্য ৩৫-৪০টি আসন বরাদ্দের ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জামায়াত প্রায় ৩০টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি জানানোয় ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলটির নেতাদের ধারণা, জামায়াত নতুন শরিক এনসিপিকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম দাবি করেছেন, তাদের দল ১৪৩টি আসনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ইসলামী আন্দোলন কেন জামায়াতের কাছে আসন চাইবে? বরং তারাই অন্যদের আসন ছেড়ে দেওয়ার অবস্থানে আছে।
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম জানিয়েছেন, সমঝোতা পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ইসলাম ও দেশের স্বার্থ ব্যাহত হলে তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।
জামায়াতের মতে, ইসলামী আন্দোলনের ৭০-৭৫টি আসনের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। এর পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষের উস্কানি বা ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার কথা বলছেন তারা।
জোটগত আলোচনার মধ্যেই জামায়াতে ইসলামী ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪, এনসিপি ৪৪, এবি পার্টি ৫৩টি এবং এলডিপি ২৪টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছেন, আসন বণ্টন নিয়ে সংকট পুরোপুরি কাটেনি এবং বিতর্কিত আসনগুলোতে এখনো কোনো যৌথ জরিপ করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশাবাদী যে, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি নমনীয় সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগেই জোটকে ৩০০ আসনের চূড়ান্ত তালিকা ঠিক করতে হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, প্রত্যাহারের সময়সীমার আগেই তারা সমঝোতা চূড়ান্ত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
জোটের পরিধি ৮ থেকে ১১ দলে উন্নীত হওয়ায় আসন ভাগাভাগি এখন গাণিতিক জটিলতায় রূপ নিয়েছে। এনসিপিকে দেওয়া জামায়াতের বিশেষ গুরুত্ব এবং ইসলামী আন্দোলনের ‘বড় শরিক’ হিসেবে অনড় অবস্থান—এই দুইয়ের মাঝে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করাই এখন জোটের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে কখনো নির্বাচনে সফলতা লাভ করেনি বলে তাদের পরিধি বাড়িয়েছে। যাতে নির্বাচন বা ভোটের মাঠে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়।
বাংলাদেশে আগামী বারোই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
সারাদেশে ৩০০ আসনে তিন হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
নিজেদের দাবি অনুযায়ী কমপক্ষে দেড়শ আসন না পাওয়ায় চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বেশ কিছু খবর প্রকাশিত হয়।
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জোটের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৫টি আসনে নির্বাচন করতে নাখোশ দলটির নেতা-কর্মীরা। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটি।
তবে, আসন সমঝোতা নিয়ে শুধু এই দলেই অসন্তোষ তা নয়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশসহ আরো কয়েকটি দলেও এমন ক্ষোভ রয়েছে।
এই দল ৫০ আসন চাইলেও পরে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ১৩ আসন নিশ্চিত করেছে জোটের নেতৃত্ব দেওয়া জামায়াতে ইসলামী।
আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করলেও কতটি আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেই সংখ্যা গণমাধ্যমে এখনই জানাতে চাননি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদ। চূড়ান্ত হওয়ার পরে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের কথা স্বীকার করেন।
অন্যদিকে, নতুন করে জোটে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি অর্ধ শতাধিক আসন চাইলেও এখন পর্যন্ত ৩০ আসনে সমঝোতা হয়েছিল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৬টি আসনের মনোনয়ন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তরুণদের নিয়ে গঠিত নতুন এই দলটিকে।
আবার জোটের প্রার্থীদের আসন বন্টন করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নিজ দলের প্রার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের দুর্বল বিবেচনা করে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে নিজেদের সাথে বা পাশে পেতে এই জোট করেছে। কেননা এবারের নির্বাচনে দলটির সবচেয়ে বড় ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের আস্থাহীনতা থাকতেই পারে, সেজন্যই জোট। যাদের সাথে জোট করেছে তাদেরও একক শক্তিতে কিছু করার নাই। তাদের দরকার ছিল নিজেদের চেয়ে জামায়াতের মতো অপেক্ষাকৃত বড় দল। পরস্পরই পরস্পরকে ব্যবহার করছে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী। সুতরাং এখানে একটা স্বার্থের সংঘাত হলেই জোট ভেঙে যাবে।
তিনি মনে করেন, আদর্শগত কোনো জায়গা না থাকার কারণে এ ধরনের জোট বেশি দিন টেকে না।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান যে, আলোচনায় প্রধানত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং এতে ইইউ-এর পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার বাংলাদেশে একটি বড় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বর্তমান নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তাদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে বিএনপি।
সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দ্রুততম সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিটি মূলত বিএনপিরই ছিল এবং দল চায় জনগণ যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতির কথা ইইউ প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও নিবিড়ভাবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত করবে বলে দলীয় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়। তারেক রহমান ইইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপি সব সময় শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী এবং অতীতেও খালেদা জিয়ার শাসনামলে শ্রম আইন সংশোধনসহ নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এবং এর ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এর আগে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের বনানী থানার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যেখানে তিনি নিজেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শেরপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ জন নেতা-কর্মী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেরপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক ও মুখপাত্র ফারহান ফুয়াদ তুহিনের নেতৃত্বে তারা বিএনপিতে যোগদান করেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল সারে ৪টায় শেরপুর জেলা বিনপির প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যোগদান অনুষ্ঠিত হয়।
যোগদানকৃত নেতা-কর্মীরা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র সংগঠক আরাফাত রহমান তালুকদার, নাহিম আহম্মেদ নিলয়, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব মনিবুল ইসলাম, সমন্বয়ক আশিকুর রহমান আশিকসহ ৩ শতাধিক নেতা-কর্মী।
এ সময় শেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এবং শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ হযরত আলী যোগদানকৃত নেতা-কর্মীদের ফুল দিয়ে নিজেদের দলে বরণ করে নেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, শেরপুর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাশেম সিদ্দিকী বাবু, সাধারণ সম্পাদক নাইম হাসান উজ্জ্বল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমরা তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তরুণরা দেখছে তা বিএনপির পক্ষেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’
জেলার প্রধান সমন্বয়ক ও মুখপাত্র ফারহান ফুয়াদ তুহিন বলেন, ‘আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি তা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বাস্তবায়ন করতে পারবেন। কারণ তারেক রহমান তরুণদের নিয়ে ভাবছেন। এ জন্য আমরা বিএনপি তথা ছাত্রদলে যোগদান করছি।’ তিনি আগামী নির্বাচনে সকল তরুণদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।