শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩১ মাঘ ১৪৩২

দিল্লি কি এভাবে অপকর্ম চালিয়ে যেতে বলেছে: ফখরুল

বুধবার বিকেলে রাজধানীর রমনার আইইবি মিলনায়তনে পেশাজীবী কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ অক্টোবর, ২০২৩ ১৯:১১

‘তলে তলে আপস হয়ে গেছে’ এবং ‘দিল্লি আছে, আমরাও আছি’ বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দিল্লি কি আপনাদের এভাবে অপকর্ম চালিয়ে যেতে বলেছে? দিল্লি কি বলে দিয়েছে নির্বাচনের দরকার নেই। পরিষ্কার করে বলেন।

সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই আন্দোলন বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর আন্দোলন নয়, এটি খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করার আন্দোলনও নয়। এই আন্দোলন করছি মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য।’

বুধবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ফখরুল এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বিলুপ্তি ও দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের—এক দফা দাবিতে ‘পেশাজীবী কনভেনশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ও গণতান্ত্রিক পেশাজীবী ঐক্য পরিষদ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দিল্লি আছে, আমরাও আছি, আমরা আছি দিল্লিও আছে, এই বক্তব্যে কী বোঝাতে চাচ্ছেন। দিল্লি কি আপনাদের জানিয়েছে এভাবে অপকর্ম করতে থাকো? দিল্লি কি বলে দিয়েছে দরকার নেই নির্বাচনের। দিল্লি কি বলে দিয়েছে জোর করেই নির্বাচন ঘোষণা করে দাও। তাহলে পরিষ্কার করে বলেন।’

তিনি বলেন, ‘আজ তারা (আওয়ামী লীগ) এত বেশি পাজেলড (দ্বিধাগ্রস্ত), তাদের সাধারণ সম্পাদক (ওবায়দুল কাদের) বলছেন, কোনো ভয় নেই, তলে তলে আপস হয়ে গেছে। তারা এটা স্বীকার করলেন, এখন পর্যন্ত তারা ভয়ে ছিলেন। আপস হয়েছে কি হয়নি, সেটা আপনারা বললেন। এর আগে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (এ কে আব্দুল মোমেন) বললেন, আলোচনা-বৈঠক হয়েছে। আসলে কোনো বৈঠক বা আলোচনাই হয়নি।’

বর্তমান সরকারকে দখলদার মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, তার নিন্দা আমরা জানিয়েছি। তার বক্তব্যের মধ্যে কয়েকটি সত্য কথাও বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে একটি কথা হচ্ছে, এই দেশে যা ঘটে তা তার নির্দেশেই ঘটে। পুরো বিষয়টি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।’

দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ সারা বিশ্বে দেখতে চায়, তারাও তাদের (আওয়ামী লীগ) আর বিশ্বাস করে না। গণতান্ত্রিক ও মুক্ত সমাজের জন্য আন্দোলন করছি। আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটা ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্টদের পাল্লায় আমরা পড়েছি। রং হেডেড পারসন আমাদের শাসন করছে। তারা সংবিধানকে বিকৃত করে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তারা এটা করেছে। এবার সব একইভাবে সাজিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘গোটা জাতি, দেশে ও বিদেশে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। তারা দেশে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, চুরি—সব মিলিয়ে তারা দেশের অর্থনীতিকে রসাতলে নিয়ে গেছে। হাসপাতালে গেলে মানুষ চিকিৎসাসেবা পায় না। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে।’

গত দুই বছর ধরে রাস্তায় আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে আমাদের ২২ জনের প্রাণ গেছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। তার মানে এই নয়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে মানুষের ওপর কেউ আঘাত করলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব না। আজ সময় এসেছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন বাতিল করেছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে দেশের সব রাজনৈতিক দল, আইনজীবী সবাই যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখতে বলেছে, তখন এক ব্যক্তি শেখ হাসিনা তা পরিবর্তন করেছেন। উদ্দেশ্য একটাই, যেমন করেই হোক ক্ষমতায় থাকা।’

আগামী নির্বাচন অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক করতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার আগে পদত্যাগ করুন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করুন। তারপরে নির্বাচন হওয়ার সুযোগ আসবে। তার আগে নয়।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।


বিএনপি ও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বিএনপির এই ঐতিহাসিক সাফল্যে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, "পাকিস্তান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ইসলামাবাদ নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।" এ সময় তিনি ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে আরও বলেন, "আমি আশা করি ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ এই অঞ্চলজুড়ে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ, স্বাধীন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।"

তার এই বার্তা বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

এদিকে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।


ফেনী-১ খালেদা জিয়ার আসনে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম) সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রফিকুল আলম মজনু বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন ফেনীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক। ১২১টি ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত গণনা শেষে বিএনপির এই প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট।

এ আসনে মোট ৩ লাখ ৮১ হাজার ১৬২ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৯১ এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৬৯ জন। উল্লেখ্য যে, ফেনী-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে গণ্য হয়ে আসছিল, যেখান থেকে তিনি টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর এই আসনে রফিকুল আলম মজনুকে দলের পক্ষ থেকে মনোনীত করা হয়। এক শৌর্যপূর্ণ জয়ের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, "এই আসনটি বেগম খালেদা জিয়ার আমানত। তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।" একইসঙ্গে তিনি নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সাধারণ ভোটার, সমর্থক ও নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।


ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাণীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীর বনানীতে একটি ‘ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক’ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (বাওয়া) উদ্যোগে বনানীর কে ব্লকের ২৪ নম্বর (লেকপাড়) সড়কের ১৮ নম্বর ভবনে স্থাপিত এই ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাওয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান।

বাওয়া জানিয়েছে, দেশকে সব প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ঢাকা শহরে আহত ও অসুস্থ প্রাণীদের জরুরি সেবা দিতে বিনা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

বাওয়ার নেতারা বলেন, নতুন এই ক্লিনিকের মাধ্যমে পথপ্রাণীসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আহত কিংবা অসুস্থ প্রাণীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে তাদের প্রাণহানি কমবে। একই সঙ্গে প্রাণী সুরক্ষায় মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। উদ্বোধন শেষে তারেক রহমান ক্লিনিকের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাওয়ার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক প্রাণীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করবে।


 ‘টাকাকাণ্ডে’ জামায়াতের একাধিক নেতা আটক

* রাজধানীতে ভোট কিনতে গিয়ে জামায়াত নেতার কারাদণ্ড * ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমির ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক * কুমিল্লায় ভোট কিনতে গিয়ে আটক জামায়াত নেতা   * শরীয়তপুরে ব্যাগভর্তি টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক, ২ বছরের কারাদণ্ড * সিরাজগঞ্জে ভোট কিনতে গিয়ে জনতার ধাওয়ায় পালালেন জামায়াত নেতা * ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের টাকা দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় * বগুড়ায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগে আটক জামায়াতের কর্মী   
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ভোটের আগের দিনও এই ‘টাকাকাণ্ড’ পিছু ছাড়েনি দলটিকে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নগদ টাকাসহ নেতাকর্মী আটকের ঘটনায় দেশবাপী সমালোচার মুখে পড়ে দলটি। এদিন ঢাকার সূত্রাপুরে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সময় থানা জামায়াতের নায়েবে আমিরকে আটক করেছে সাধারণ জনগণ। তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুই দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইদিন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান আটক হন। কুমিল্লার মুরাদনগরে ভোট কিনতে গিয়ে টাকাসহ আটক হন জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হেলালী। এছাড়া শরীয়তপুরের নড়িয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ব্যাগভর্তি নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ গোলাম মোস্তফা নামে একজন জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জামায়াতের এক নেতার টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া জামায়াত নেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের একটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। গত শনিবার রাজধানীর মিরপুরে নির্বাচনী গণসংযোগের সময় পান বিক্রেতাকে ১ হাজার টাকার নোট গুঁজে দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ওই সময় শাহরিয়ার কবিরের হাতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের (ঢাকা-১৫ আসন) নির্বাচনী প্রচারপত্র ছিল।

ঢাকা: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সূত্রাপুরের ৪৪ নং ওয়ার্ড একটি চালের দোকানে থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিব ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে ফেলে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাচাই-বাছাই শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেন। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

নীলফামারী: সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তার ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন একটি তথ্য তারা জানতে পারেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেলাল উদ্দিন প্রধানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন।

ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কিসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করীম বুধবার বিকালে বলেন, জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন প্রধানের ব্যাগের টাকার পরিমাণ মোট ৭৪ লাখ।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

কুমিল্লা: ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে মুরাদনগরে জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হেলালীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার সালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নিয়ামতকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হেলালী ধামঘর গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে এবং উপজেলার সালিয়াকান্দি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতা হেলালী প্রাইভেট কারে করে নিয়ামতকান্দি গ্রামে যান। সেখানে তিনি কয়েকজন ভোটারকে টাকা দেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে।

খবর পেয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান ঘটনাস্থলে গিয়েয় অভিযুক্তকে বহনকারী প্রাইভেট কারটি জব্দ করেন। গাড়ির চালকসহ জামায়াত নেতাকে মুরাদনগর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ: কামারখন্দের ঝাঐল ইউনিয়নের ময়নাকান্দি গ্রামে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান মোস্তাক সরকার; যিনি ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর আমির। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবামাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত নেতা মোস্তাক সরকার একজনকে টাকা দিচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে গিয়ে কিছু লোকজন তার ভিডিও করতে থাকে। তখন সেখানে একজনের হাতে টাকাও দেখা যায়। ভিডিও দেখে তিনি সেই টাকা হাতের মুঠো থেকে কোমরে গুজে ফেলেন।

এ সময় ওই জামায়াত নেতা দৌড়ে পালাতে থাকেন। স্থানীয়রাও তার পিছু ধাওয়া করেন। পেছন থেকে তাকে থামতে বললেও তিনি থামেননি।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, কামারখন্দে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে জামায়াত নেতার দৌড় দিয়ে পালানোর ভিডিওটি দেখেছি। শুধু কামারখন্দে নয়, তারা বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের কাজ করছে।

শরীয়পুর: গতকাল বিকেলে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া ১নম্বর ওয়ার্ডের জলিল মাস্টারের বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেছেন- এর ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। এসময় বাড়ি থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ, কিছু খালি খাম এবং টাকা বিতরণ সম্পর্কিত কাগজপত্র উদ্ধার ও মাস্টার গোলাম মোস্তফাকে আটক করা হয়। তিনি জপসা ইউনিয়নের শহীদ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং রাজনগর এলাকার বাসিন্দা।

এই ঘটনায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর কে এম মকবুল হোসেন, জামায়াত নেতা মাহফুজ আলম ও হাসান আল মান্নানকে আটক করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া: নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামে গত সোমবার টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগে জামায়াতের কর্মীদের আটকে রাখার পর বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, মধ্যরাতে গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে বেশ কিছু লোকের সমাগম দেখে সেখানে যান তারা। সেখানে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার সৈয়দপুর (নীলফামারী), মুরাদনগর (কুমিল্লা), নড়িয়া (শরীয়তপুর), কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ), নাটোর ও নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি।


অসুস্থ রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে বুধবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটের দিকে রওনা হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রিজভীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান তুষার জানান, “জ্বর, ঠাণ্ডা এবং শ্বাসকষ্টের কারণে আজ বিকালে রহুল কবির রিজভীকে রাজধানী স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁর সহকারী আরও জানিয়েছেন যে, “রিজভী সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন”।


ভোটকেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে দুই জামায়াত এজেন্টকে সশ্রম কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার মীরপুর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ ও ভোটগ্রহণে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অপরাধে জামায়াতের ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকের দুই এজেন্টকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন— মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) এবং রাইহান হোসেন (২৩)। সাজা প্রদানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

আদালতের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ওই দুই এজেন্ট কেন্দ্রের পোলিং অফিসার মোছা. সুমনা ইসলামের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই অপরাধে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৩(২)(বি)’ অনুযায়ী কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এদিকে নির্বাচনী দায়িত্বে চরম অবহেলা ও বিধি লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার ও সহকারী শিক্ষিকা মোছা. সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বহিষ্কৃত এই পোলিং অফিসার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী।


তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন চার প্রার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এই প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট এস এম আবুল কালাম আজাদ, ডাব প্রতীকের শামীম আহমেদ, আনারস প্রতীকের মো. রাশেদুল হক এবং আপেল প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর হুমায়ুন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর প্রার্থীরা তাকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাকালে এস এম আবুল কালাম আজাদ ও শামীম আহমেদ সশরীরে উপস্থিত থেকে নিজেদের অবস্থানের কথা জানান। অন্য দুই প্রার্থী মো. রাশেদুল হক ও মঞ্জুর হুমায়ুন মুঠোফোনের মাধ্যমে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন। মূলত দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলীয় সংহতির কথা বিবেচনা করেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


জামায়াত টাকা ছড়াচ্ছে, ইসিতে বিএনপির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী দেশজুড়ে অর্থ বিলি করছে বলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে বিএনপি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য গিয়াসউদ্দিন রিমন। নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতার কাছে টাকা পাওয়াটা প্রশ্নবিদ্ধ। লক্ষ্মীপুরেও একই ঘটনা। বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের রিপোর্ট আছে। জামায়াতের নেতাদের টাকা ছড়ানোর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ রকম নিউজ ও ভিডিও ইসিতে জমা দিয়ে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জানা যায় যে, বুধবার সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন পুলিশের হাতে আটক হন। বিমানবন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হিসেবে তল্লাশিকালে তাঁর ব্যাগ ও দেহে বড় অঙ্কের অর্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আটককৃত নেতার ভাষ্যমতে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কিছুটা বেশি এবং তিনি দাবি করেন যে, ‘আমি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এই টাকা বহন করছিলাম। এর সঙ্গে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই।’ তিনি অর্থের বৈধ উৎস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।


চাঁদাবাজি ঠেকাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চালু করল ‘চাঁদাবাজ ডটকম’ ওয়েবসাইট

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-৮ আসনের জামায়াত জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চাঁদাবাজি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেওয়া তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ‘চাঁদাবাজ ডটকম’ (chandabaaj.com) নামক একটি ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান যে, নাগরিকরা এখন থেকে যে কোনো স্থানে চাঁদাবাজির শিকার হলে বা এ জাতীয় ঘটনা প্রত্যক্ষ করলে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ এই পোর্টালে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে পারবেন। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ওয়েবসাইটটি লাইভ হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ৮টি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে, যা বর্তমানে সংশ্লিষ্টরা গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করছেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

মির্জা আব্বাসের এই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাঁর বিশেষ এই ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনার এলাকায় চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটলে দেরি না করে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ তাৎক্ষণিক রিপোর্ট করুন। যাতে অপরাধীরা চিহ্নিত হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার পথ সহজ হয়।” জনগণের অধিকার সুরক্ষা এবং একটি স্বচ্ছ সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও মন্তব্য করেন যে, “আমরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চাই, সেখানে চাঁদাবাজদের কোনো ঠাঁই নেই।” এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


স্বতন্ত্র প্রার্থীর টাকা বিতরণের ভিডিও ভাইরাল হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা: আজাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের ম্যানেজার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমনের ম্যানেজারের টাকা বিতরণ করার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি, থানায় জানিয়েছি সেনাবাহিনীকে জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। টাকা বিতরণের বিষয়ে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে আড়াইহাজারে পাঁচরুখি এলাকায় তার নিজ বাড়িতে এক সংসাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ওনারা শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজে। বিএনপির নেতাকর্মীদের না খুঁজে দুর্বৃত্তদের খুঁজলে ভালো হবে।বিএনপির প্রেসিডেন্ট কে অনেকে খুঁজতেছে। তিনি তো আর সন্ত্রাসী নয়। তাহলে তাকে কেন খুঁজতেছে। আর বিএনপির প্রেসিডেন্টকে খুঁজলে জামায়াতের প্রেসিডেন্টকেও খুঁজুক। লেভেল প্লেইং ফিল্ড রাখা উচিত। শুধু শুধু কাউকে খোঁজাখুঁজি করে প্যানিক তৈরি করা ঠিক হবে না। ভোট দেওয়ার পরিবেশ সুন্দর করতে হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আঙ্গুরের সাথে সিরাজ নামে এক ব্যক্তি চলাফেরা করে, সে ডাকাতের সর্দার। সে এক বক্তব্যে বলছেন হাত কেটে ফেলবো। এসব বক্তব্য ভাইরাল হচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে। সবাইকে সমান চোখে দেখলে অবাদ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড রয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে জানা নেই।


শীর্ষ আলেম-ওলামাদের প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শীর্ষ পীর, মাশায়েখ, আলেম, ওলামা, ইমাম ও খতিবদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ঘরানার শীর্ষ পীর, মাশায়েখ ও আলেম-ওলামাদের বিএনপি’র প্রতি সমর্থনের খবরের প্রেক্ষিতে দলটির চেয়ারম্যান এ প্রতিক্রিয়া জানান।

এদিন সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারেক রহমান আলেম-ওলামাদের এই সমর্থনকে জাতির ক্রান্তিলগ্নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অভিহিত করে বলেন, “জাতির একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের শীর্ষ আলেম ওলামাদের এই অবস্থান জনগণকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেবে।” তিনি বিশ্বাস করেন যে, “আলেম ওলামাদের এই স্পষ্ট অবস্থান ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের জনগণ তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয় সঠিক নির্দেশনা পাবে বলে আমি মনে করি।” একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতাদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করে তিনি আরও বলেন, “আমি আবারও সম্মানীত আলেম ওলামাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিদের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দেশের সম্মানীত পীর, মাশায়েখ, আলেম, ওলামা, ইমাম ও খতিবদের অব্যাহত সহযোগিতা চাই।”


৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতার বিএনপিতে যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের সুসংগঠিত দুর্গে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার ঘুড়িদহ গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল যোগদান সভায় তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাঘাটা ও ফুলছড়ি এলাকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যোগদান অনুষ্ঠানে আতাউর রহমান সরকার আতার সঙ্গে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মমিতুল হক নয়নসহ বিপুলসংখ্যক সক্রিয় নেতাকর্মী বিএনপির পতাকাতলে সমবেত হন। আতাউর রহমান সাঘাটা ও গাইবান্ধার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধারে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মতো একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার দলত্যাগে স্থানীয় পর্যায়ে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকার। তিনি নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আরশাদুল কবির রাঙ্গা। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি কামরুজ্জামান সোহাগসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষে চলমান আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এই যোগদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নবাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। আতাউর রহমানের নেতৃত্বে এই বিশাল জনবল যুক্ত হওয়ায় সাঘাটা এলাকায় বিএনপির অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হলো বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাঘাটা এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবেই জাতীয় পার্টির শক্তিশালী চারণভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শীর্ষ নেতাদের দলবদল জাতীয় পার্টির জন্য এক বড় ধাক্কা। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এমন গণ-যোগদান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। নবাগতরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচনি লড়াইয়ে বিএনপি এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে গাইবান্ধার এই জনপদের রাজনৈতিক দৃশ্যপট এখন আমূল বদলে যাওয়ার পথে।


ছাত্রদলে যোগ দিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গুলশান থানা শাখার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গুলশানের একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে তারা ছাত্রদলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দলটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত থেকে নবাগতদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।

যোগদানকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নেতৃত্বে ছিলেন গুলশান থানা জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জিয়াদ এবং সদস্যসচিব সজীব সরদার নিহাল। এছাড়াও দলটির মুখ্য সংগঠক মেহেদী হাসান আরাফাত, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাব্বির আহমেদ, সহ-মুখপাত্র সায়েম দেওয়ান এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মো. জহিরুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশতাধিক সক্রিয় কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদলের পতাকা তলে সমবেত হন। এই গণ-যোগদানকে কেন্দ্র করে গুলশান এলাকায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা এবং ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তরুণ প্রজন্মের এই অংশগ্রহণ অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ। নবাগত নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং বর্তমান নেতৃত্বের বলিষ্ঠ ভূমিকায় অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা আগামীর সকল আন্দোলন-সংগ্রামে এবং ছাত্রসমাজের দাবি আদায়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পতাকাতলে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এই রাজনৈতিক মেরুকরণ স্থানীয় ছাত্র রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


banner close