শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

ভোটে-জোটে না থাকলেও সমীকরণে থাকতে চায় যারা

আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৩ ০৮:২০

ভোটে পিছিয়ে থাকলেও জোটের রাজনীতিতে এগিয়েছে অনেক রাজনৈতিক দল। বড় দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে কোনো কোনো দল। আবার কোনো দল থেকে সরকার পরিচালনায় মন্ত্রীও হয়েছে। আবার অনেক দল ভোটে নেই। নেই কোনো জোটে। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণে শক্ত অবস্থানে আসতে চায় অনেক দলই।

সংবিধান অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনড় অবস্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ‌‌‌। এ অবস্থানে সমর্থন রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিক দলগুলোর।

তবে বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা-এরশাদ) কোন অবস্থানে আছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দলটির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে এরশাদের ভাই জি এম কাদের ও স্ত্রী রওশন এরশাদের মধ্যে বরাবরই দ্বন্দ্ব চলে আসছে। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদের দায়িত্ব নিয়ে রওশন এরশাদকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ঘোষণা দেন। তবে অন্তর্দ্বন্দ্বে জেরবার জাতীয় পার্টিতে গেল আগস্টেও দলের একাংশের সমর্থন নিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন রওশন এরশাদ। আর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এ ঘোষণাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ঘোষণার ভিত্তি নেই। দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকে নাম প্রকাশ না করে জানান, রওশন এরশাদ বরাবরের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃপাধন্য হয়ে সরকারের সঙ্গে থাকতে চান, তবে সরকারবিরোধী অংশের দিকে চোখ রেখেছে জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন দলের মূল অংশ। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে এর ইঙ্গিত মেলে। যদিও নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপির বিরোধিতার সুফল হিসেবে এতদিন কখনো জোটে, কখনো শাসক দল আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে মাঠের চেয়ে সংসদে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে জাপা। ফলে ভোটের রাজনীতিতে দলটি কোনো পক্ষে যাবে, নাকি একক অবস্থানে থাকবে, তা হয়তো নির্ভর করবে তারা কোনো প্রস্তাব পাচ্ছে কি না তার ওপর।

অন্যদিকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি বিএনপির। এই দাবিতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে তার পুরোনো জোট শরিক ও নতুন কিছু দল। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত দলের সংখ্যা প্রায় ৪৩টি।

এদিকে, বৃহৎ দুই রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। যারা ক্ষমতাসীন পক্ষ বা আন্দোলনরত বিরোধীদের কোনো পক্ষেই অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ভোটের মাঠে এদের শক্ত অবস্থান তেমন একটা না থাকলেও রাজনীতির মাঠে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে বৃহৎ বলয়ের সঙ্গে দরকষাকষির কৌশলে রয়েছে দলগুলো। এ দলগুলোর অনেক নেতাই বলছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান তারা। তবে তারা কোনো জোটে নেই।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ওই ফ্রন্টের প্রধান শরিক দল ছিল বিএনপি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণফোরাম ভেঙে যায়। দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী পাল্টা গণফোরাম তৈরি করেন। অন্যদিকে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গণফোরামের মূল অংশের সাধারণ সম্পাদক হন মিজানুর রহমান।

গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতির জন্য গণতন্ত্রহীনতা বড় সংকট আখ্যা দিয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণে ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন ড. কামাল হোসেন। সেই সঙ্গে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে সংলাপের আয়োজন করতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা কর্মসূচির মধ্যে আছি। এর আগে মানববন্ধন করেছি। বিক্ষোভ মিছিল করেছি। আমাদের দলের সংসদ সদস্য সংসদে কথা বলেছেন দলের পক্ষে। ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন কর্মসূচি আসবে।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল ছিল বাংলাদেশ ন্যাপ। জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দলটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানী ওই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর জোট ভেঙে বেরিয়ে গেলেও নতুন করে কোনো জোটে অংশ নেয়নি তার দল। দলটির মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে উভয় দলের মধ্যে সংলাপ হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে আমরাও সেই নির্বাচনে অংশ নেব।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে থাকলেও দীর্ঘদিন থেকেই জোটের সঙ্গে নেই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাসদ। বিএনপির নেতৃত্বে চলমান যুগপৎ ধারার আন্দোলনের দাবির মতো দাবি থাকলেও যুগপৎ আন্দোলনে নেই দল দুটি। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে সিপিবি-বাসদ। এসব কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট।

জোটটির অন্যতম নেতা ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের বদলে বিএনপি বা অন্যদের বসানো লক্ষ্য নয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, ঐক্য ন্যাপ ও বাংলাদেশ জাসদের সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

আদর্শগত মিল না থাকায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে বাম জোট নেই বলে জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আদর্শিক অবস্থান থেকে বাম জোট আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বিদলীয় ধারার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করতে চাইছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জাসদ। চলতি বছরেই নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায় দলটি। ফেডারেল পদ্ধতির শাসন চালু করে বাংলাদেশের বিভাগগুলোকে প্রদেশে পরিণত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ ও সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু, জাতীয় সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ৭০ ধারার সংশোধন, স্বশাসিত, শক্তিশালী ও সংসদীয় পদ্ধতির স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মার্কা বাতিল, স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনসহ ৮ দফা দাবি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাসদ।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল বলে মনে করছেন বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, আমরা সবার অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন চাই। বর্তমান সরকার যেভাবে নির্বাচন করতে চাচ্ছে, সেই নির্বাচনে অংশ নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এখন আমরা কোনো জোটে নেই। ভবিষ্যতের রাজনীতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


সোনারগাঁয়ে যুবদলের ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের উদ্যেগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার বারদী খেলার মাঠে এ ইফতার ও আলোচনা সভা হয়।

ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। এ সময় বক্তব্য রাখেন, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সহসভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক, সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজিব, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ ভূইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে ইয়াসমিন নোবেল, আশরাফ মোল্লা, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক করিম রহমান প্রমুখ।

এ সময় বিএনপি, যুবদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে পদ হারালেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোয় তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দলটির সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের পরিবর্তে জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে জামাতয়াত জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমিরকে অবহিত করলেও বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে যাচাই করে দেখা যায়, চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে যেভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।

বিশেষ করে, চিঠিতে উল্লিখিত ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার অংশে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার জায়গায় ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভুল-বোঝাবুঝি অবসানের বিষয়ে জামায়াত জানায়, বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাকে জানানো হয় যে, ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমির অবগত ছিলেন না। একই সঙ্গে আগের উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের উপদেষ্টার পদায়ন চান জামায়াত আমির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখতে চান জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

এ পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

চিঠিতে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। মূলধারার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার দক্ষতা ও পেশাদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অধ্যাপক হাসান জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাংলাদেশ তথা রাষ্ট্রের জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিচক্ষণতার সঙ্গে জোরদার করতে সক্ষম হয়েছেন।

নিজের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের প্রস্তাবকে ‘নতুন’ ও ‘অভিনব’ হিসেবে অভিহিত করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তার মতে, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের পদায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য করা যাবে।

খলিলুর রহমানের কাছে শফিকুর রহমান লিখেছেন, ‘ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি একসঙ্গে পরিচালনার জন্য পদায়নটি সরকারের কাছে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করছি।’

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমানের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চিঠির বিষয়ে মাহমুদুল হাসান জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে অবহিত করেছিলেন। আমির সেখানে মৌখিক সম্মতিও দিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রীর পদমর্যাদা অংশটুকুতে জামায়াত আমিরের সম্মতি ছিল না।


এনসিপির ৮৭ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ একযোগে ৮৭ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) আয়োজিত এক জরুরি সভার পর দলটির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল সদস্য এই গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন। উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রটি ইতিমধ্যেই রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জুরাছড়ি উপজেলায় এই ৮৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিকে ৬ মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক মতভেদের জেরে পুরো কমিটি একযোগে পদ থেকে সরে দাঁড়াল। পদত্যাগকারী নেতাদের মতে, তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি মহৎ স্বপ্ন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি দলটির স্বকীয়তা ও মূল আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে তাঁরা দাবি করছেন।

অসিম চাকমা জানান, দলের বর্তমান নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক অবস্থান মেলাতে পারছেন না বলেই তাঁরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, দলটি স্বতন্ত্রভাবে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নেবে, কিন্তু জোটের রাজনীতি সেই প্রত্যাশাকে ম্লান করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় আদর্শের প্রশ্নে আপস না করে পদত্যাগ করাকেই তাঁরা যৌক্তিক মনে করেছেন। রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জুরাছড়ি কমিটির পদত্যাগপত্রটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, এই গণপদত্যাগকে কেন্দ্র করে এনসিপির উচ্চপর্যায়ে সংশয় ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মমাফিক লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন কি না সেটি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, জোট বা জামায়াত সংশ্লিষ্ট ইস্যুই যদি পদত্যাগের মূল কারণ হতো, তবে তা নির্বাচনের আগেই ঘটার কথা ছিল। ভোটের পরে এই গণপদত্যাগের নেপথ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক মহলের চাপ থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অসিম চাকমা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় এবং দলীয় আদর্শ রক্ষার স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পার্বত্য এলাকায় এই বড় পদত্যাগের ফলে এনসিপির আঞ্চলিক সংগঠনিক কার্যক্রমে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।


এবার জামায়াত নেতা তাহেরের আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন কুমিল্লা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা।

সোমবার (৯ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা.সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এর আগে ২০ এর অধিক প্রার্থী

হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।

হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের সঙ্গে দেখা যায়, ২০০১ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।


জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় দল ছাড়লেন এনসিপির আরও ৭ নেতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে এবার পদত্যাগ করেছেন দলটির রাঙামাটি জেলা কমিটির ৭ জন শীর্ষ নেতা। ধারনা করা হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করার কারণে তারা নিজেদের পদত্যাগপত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পদত্যাগ করা নেতারা হলেন– এনসিপির রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা, মিশন চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রণয় বিকাশ চাকমা, সদস্য বিনয় চাকমা ও সদস্য সুলেখা চাকমা।

‘২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুথানের চেতনা থেকে সরে এসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার স্বতন্ত্র আদর্শ ছুড়ে ফেলে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করে। সেই আদর্শের সঙ্গে জোটে থাকা এবং সেই আদর্শ লালন করা সম্ভব নয়’– এমন কারণ দেখিয়ে লিখিতভাবে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ওই সাত জন।

পদত্যাগপত্রের লিখিত কপি ফেসবুকে শেয়ার করেন তারা। এনসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা তার পদত্যাগপত্রে লেখেন, ‘অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি দলে যোগ দিয়েছিলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি আদর্শ এক সময় আমার কাছে একটা বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদী বিশ্বাসী দল মনে করেছিলাম। কিন্তু বিগত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি তার স্বতন্ত্র আদর্শ থেকে সরে এসে একটি বৃহৎ দলের সঙ্গে জোট গঠন করে। এ অবস্থায় আমার পক্ষে সেই আদর্শকে লালন করা সম্ভব হচ্ছে না। অতএব, আজ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিদায় নিলাম এবং আজকে থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘আমার জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির অনেক নেতা নাকি পদত্যাগ করেছেন আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে কোনও লিখিত আবেদন করেনি। তবে হঠাৎ করে গণহারে এভাবে পদত্যাগ করার কারণ কী তা আমরা সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখবো।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন ডা. তাসনিম জারা, সামান্থা শারমিনসহ কয়েকজন নেত্রী।


মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে আজ এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে আয়োজিত এই বৈঠকটি প্রায় ৫০ মিনিট স্থায়ী হয় এবং বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শেষ হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন।

প্রতিনিধি দলে ড. মঈন খানের পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ডা. মাহবুবুর রহমান, নায়েবা ইউসূফ এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁদের দলের অবস্থান এবং পর্যবেক্ষণগুলো মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিকের কাছে তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ৮টার পর দিল্লি হয়ে ঢাকা পৌঁছান পল কাপুর। বিমানবন্দরে তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বাগত জানান। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের কোনো মার্কিন প্রতিনিধির এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পল কাপুরের এই সফরে ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও মার্কিন প্রশাসনের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হলো।


দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের তাগিদ এমপি শিমুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

সরকারি দাপ্তরিক কাজে গতি বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও জনভোগান্তি লাঘবের তাগিদ দিয়েছেন পাবনা-৫ সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সোমবার (২ মার্চ) উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে এ তাগিদ দেন তিনি। এ সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনা দেয়াও হয়।

এ সময় কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানরা এমপি শিমুল বিশ্বাসকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে তাদের নানা সুবিধা অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এমপি শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘বিপদগ্রস্ত হয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেবা নিতে আসেন। আপনারা অনেক দায়িত্ব পালন করেন। তবুও খেয়াল রাখবেন তারা যেন অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার না হোন। দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে গতি বৃদ্ধি করতে হবে।’ ভোগান্তি ছাড়া মানুষের সেবা নিশ্চিতের করতে হবে বলেও জানান তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশের অধিকাংশ মানুষ অসহায়। এই অসহায়দের জন্য সরকার উন্নয়নমূলক ও সহায়তামূলক বিভিন্ন বরাদ্দ দেন। দ্বিতীয় ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের বরাদ্দ আসবে। এসব যেন প্রকৃত সুবিধাভোগী পান সেটি আপনাদের দেখতে হবে। এ সময় স্বচ্ছতার সাথে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।’ এসব ক্ষেত্রে এমপির অথবা রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনো হস্তক্ষেপ জনপ্রতিনিধিদের বরদাশত না করার আহ্বান এমপির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামারা তাসবিহা, সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস, এসিল্যান্ড এসএম ফুয়াদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার, কৃষি কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা আল মাহমুদ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহিমসহ সকল দপ্তর প্রধান, উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও এবি ট্রাস্টের ট্রাস্টি আখিনুর ইসলাম রেমন।


ইরানে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি: জামায়াত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশটিতে চলমান সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ রোববার দুপুরে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট এলাকায় আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। একইসঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরানের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এই ধরণের বর্বরোচিত হামলা সম্পূর্ণ গণতন্ত্রবিরোধী। তিনি জাতিসংঘ এবং ওআইসির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিশ্বের এই ক্রান্তিলগ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষ এসব সংস্থাকে প্রত্যাখ্যান করবে। বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবেশে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের ওপর এই ধরণের আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তিনি আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যার ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা প্রস্তাব জানানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। এছাড়া তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন যে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। খামেনি হত্যার এই ঘটনা কেবল ইরানের ক্ষতি নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বড় আঘাত। তাই এই সংকট নিরসনে মুসলিম দেশগুলোর নেতৃবৃন্দকে ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে আসার আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন জামায়াত কর্মীরা।


আমরা দুর্নীতিকে কখনোই প্রশ্রয় দেইনি, দেবো না: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফফরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট না করে সময় দেওয়া উচিত ভবিষ্যতের জন্য। সময় দেওয়া উচিত আমরা কত দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব, দেশকে কী করে সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করতে পারব, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে শক্তিশালী করতে পারব। সেই বিষয়গুলো আমাদের নজর দেওয়া উচিত। যার যেটা কাজ তারা সেটা করবে। যারা দুর্নীতি করবে তাদের দেখার জন্য দুদক আছে। আমরা দুর্নীতিকে কখনোই প্রশ্রয় দেইনি, দেবো না।’

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলার সরকারি দপ্তরের প্রধানের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, আমরা বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে জোর দিচ্ছি মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য।

আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের কর্মসূচি চালু করা হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে।’

এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রাণের দাবি একটি মেডিকেল কলেজ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিদর্শন টিম ইতোমধ্যে পরিদর্শন করে বলেছেন ২৭ সালে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হবে।’

জেলা প্রশাসক ইশরাত ফাজানার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলার সকল দপ্তরের প্রধানরা।


আগামী দিনের কাজ হবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের

জামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:১১
 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন। এ সময় দাওয়াত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমাদের এই ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামীদিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক আল্লাহ তাআলা দিবেন।’

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংসদে বিরোধী দলটির আমন্ত্রণে তিনি ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, অনেক আশা নিয়ে আমাদের সকলের দিকে তাকিয়ে আছে—বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সকলে এখানে একত্রিত হয়েছি, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।’

তিনি বলেন, ‘এত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এই গণতন্ত্রের যাত্রা- যেটি সূচনা হচ্ছে বা হয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে—সেটির সুযোগ পেয়েছি। এই ত্যাগের মাধ্যমেই, এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে, হাজারো মানুষের অত্যাচার, লক্ষ মানুষের নির্যাতনের মাধ্যমে আমরা আমাদের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ আমরা ফিরে পেয়েছি। সেজন্যই প্রথমেই আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।’

ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান একই টেবিলে বসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।

ইফতারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ম্ঈন খান, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ যোগ দিয়েছেন।


খুলনায় পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতাকে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার দিঘলিয়ায় দোকানে ঢুকে পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতা খান মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সেনহাটি এলাকার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুরাদ হাজী গ্রামের বাসিন্দা খান মুনসুর আহমেদের ছেলে। তিনি উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ড্রেজার (খনন) ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নিহত ব্যক্তির মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যার পর সেখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত হন। তারা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খুলনা শহর থেকে নিজ বাড়ি হাজিগ্রামে ফেরার পথে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সেনহাটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক খান মুরাদের গতি রোধ করেন। সেসময় মুরাদ দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তাকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন খান মুরাদকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে স্থানীয় ইউএনও কার্যালয়ে একটি কাজের দরপত্র নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের দুপক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির পিঠ ও ঊরুতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি যুবদল নেতা এবং হামলাকারী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সপ্তাহখানেক আগে একটি টেন্ডার নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা ও কথা-কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার জেরেই আজ রাস্তার মধ্যে পেয়ে যুবদল নেতাকে ছুরি দিয়ে কোপানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।’


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে: জামায়াত আমির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দলীয় নেতাকর্মীদের এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর এটিই হবে দ্বিতীয় বড় রাজনৈতিক লড়াই, তাই মাঠে কোনো জায়গা ফাঁকা রাখা যাবে না।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যারা ঝুঁকি নিয়ে দলের পক্ষে ছিলেন, সমাজের সেসব জায়গা থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের বাছাই করে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দিতে চায় দল। এ ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগী ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে তাদের ন্যায্য প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা তাকে জানিয়েছেন, জামায়াত পরাজিত হয়নি, বরং তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই দল সবচেয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে দাবি করে তিনি তিনটি দিক তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে অর্থবহ ঐক্য গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, তারা প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পেয়েছে। তৃতীয়ত, ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হয়েছে দলকে।

টিআইবি ও সুজনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন শুধু জামায়াত নয়, আরও অনেকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি।

ঢাকার বস্তি এলাকাগুলোতে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও টাকা, ওয়াদা কিংবা সন্ত্রাস কোনো কিছুই কাজ করেনি বলে দাবি করেন জামায়াত আমির। তার বক্তব্য, এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, তারা থামবেন না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

পরে নগরের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং অপরাধ প্রবণতা উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশের ক্ষতি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে না চাইলেও জানান, বিষয়টি নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি সরকারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, সরকারি দলের কেউ যেন অপরাধীদের পক্ষ না নেন। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অপরাধ দমন সম্ভব, আর জনগণের কল্যাণে কাজ করলে জামায়াত সহযোগিতা করবে বলেও জানান বিরোধীদলীয় নেতা।


banner close