সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ মাঘ ১৪৩২

খালেদা-তারেকের দ্বন্দ্বে বিএনপিতে বাড়ছে কোন্দল

ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর, ২০২৩ ১৪:২৩

বিএনপির রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে মা ও ছেলের লড়াই বেড়েই চলেছে। থামার কোনো লক্ষণ নেই। এদিকে শীর্ষ দুই নেতৃত্বে এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে দিশেহারা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এমনিতেই প্রায় দু-দশক তারা ক্ষমতার বাইরে। ক্ষমতায় ফেরার তেমন কোনো লক্ষণও নেই ক্যান্টনমেন্টে জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটির।

নেতা-কর্মীদের হতাশার মধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিবাদ তাদের আরও সংকটে ফেলেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের মধ্যকার লড়াই এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এ লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। বিএনপির অন্দরমহলে কান পাতলে তাকে নিয়েও গুঞ্জন শোনা যায়। সম্প্রতি ঢাকায় খালেদা জিয়াকে দেখতে এসে তিনিও নাকি তারেকের বিরুদ্ধে খালেদার ক্ষোভ বাড়াতে সাহায্য করেন। ঘটনা যাই হোক মা ও ছেলের দ্বন্দ্বে বিএনপির এখন ছন্নছাড়া অবস্থা।

খালেদা জিয়া আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার ছেলে তারেক রহমানও আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। কিন্তু অসুস্থ মাকে দাবিয়ে রেখে লন্ডন থেকে তারেক জিয়া দলের লাগাম পুরোটাই নিজের হাতে নিতে চান। তাই তিনি সেখান থেকেই একতরফা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করে চলেছেন। তবে খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচিতে সায় নেই। চেয়ারপারসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতেও পারছে না বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ। বিদেশে বসে তারেক দলকে সহিংস আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিতে চাইলেও খালেদার তাতেও আপত্তি রয়েছে বলে বিএনপির কয়েকটি সূত্র জানায়। শোনা যাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাকি এখন সরকারের সঙ্গে সমঝোতাতেও রাজি আছেন!

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে খালেদা জিয়া গত এক মাসে অন্তত তিনবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাসপাতালে তলব করেন। প্রতিবারই তাকে আন্দোলনের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন খালেদা, এমনটাই জানায় বিএনপির সূত্রগুলো। তারেকের সঙ্গে তার বিবাদের কথাও দলের মহাসচিবের সঙ্গে চেয়ারপারসনের বৈঠকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার সায় নেই বলেও শোনা যাচ্ছে। এমনকি জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়েও খালেদা ও তারেকের মধ্যে মতবিরোধ চরমে। সবমিলিয়ে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ও বড় ছেলের দ্বন্দ্বে বিএনপি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

চলতি বছরের ২৮ জুলাই ঢাকায় মহাসমাবেশ ঘিরে মা ও ছেলের বিপরীত অবস্থান প্রকাশ্যে চলে আসে। ওই দিন ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন তারেক জিয়া। এই কর্মসূচির পরদিনই ২৯ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখে অবস্থান গ্রহণ করে বিএনপি। তবে এই কর্মসূচিতে নাকি সায় ছিল না খালেদা জিয়ার। দলটির বড় অংশ এই কর্মসূচি পালনে আগ্রহী না হলেও তারেক জিয়ার ধমক খেয়ে তারা কর্মসূচি পালনে বাধ্য হয়। সহিংস অবস্থান নিলেও পুলিশের কড়াকড়ি অবস্থান ও সিনিয়র অনেক নেতা থেকে শতভাগ সমর্থন না মেলায় দিন শেষে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটাতে পারেনি বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

তারেকের নির্দেশে সংগঠিত আন্দোলন থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ ওঠে। বিদেশি কূটনীতিকরাও বুঝতে পারেন, বিএনপি সহিংসতা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে শামিল হয়েছে। দেশে অস্থির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাইছে তারেক। বিএনপির একটি মহল মনে করে, খালেদা জিয়ার এ কর্মসূচিতে আগ্রহ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রতিও তেমন উৎসাহ নেই খালেদার। আসলে খালেদা এখন মোটেই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনতে চান না।

এদিকে, ৩ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নির্দেশ ঘিরেও দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। সেই দিন তারেক জিয়াকে ৯ বছরের এবং তার স্ত্রীকে ৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। তারেক জিয়া এই কারাদণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য নির্দেশনা দেন। তিনি চেয়েছিলেন, ব্যাপক সহিংসতার মাধ্যমে অস্থির পরিবেশ তৈরি করে আওয়ামী লীগের সরকারকে বিপর্যস্ত করতে। কিন্তু তার এই হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং খেয়ালখুশিমতো দল পরিচালনার বিষয়টি বিএনপির অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। বিএনপির বেশ কিছু নেতার কাছ থেকে এমনটাও শোনা গেছে, ‘সন্ধ্যায় এসএমএস দিয়ে পরদিন আন্দোলন হয় নাকি?’

বিএনপি সূত্রের খবর, সরকারের সঙ্গে বেগম জিয়ার সমঝোতা এখন চূড়ান্তপ্রায়। আর এই সমঝোতার অংশ হিসেবেই বেগম জিয়া তারেকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন। খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, অস্টিও আর্থ্রাইটিস, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্রে জটিলতা, ফুসফুস, চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে যান গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম। তাদের কাছেও শোনা যাচ্ছে, খালেদা জিয়া ছেলের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

এদিকে, বিএনপি থেকে তারেক জিয়া ও জামায়াতকে বাদ দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে কূটনৈতিক মহলেও। সম্প্রতি ভারতের একজন সাংবাদিক দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার সিঙ্গাপুরে বৈঠক নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন। বেশ স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ভারত চায় না বিএনপি জামায়াতে ইসলাম ও তারেক জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাক। ভারতের বক্তব্য বেশ স্পষ্ট, তারেক রহমান ও সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে বাদ দিলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বিবেচনা করা হবে।

এদিকে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে তারেক রহমানের গেল নির্বাচনের মনোনয়নবাণিজ্যের বিষয়টি ততই সরব হয়ে উঠছে দলীয় ফোরামে। সমালোচকদের অনেকেই বলছেন, আগামী ৫ বছর নিজের আয়েশি জীবন নিশ্চিতের জন্য আরও একবার মনোনয়নবাণিজ্যের পথ বেছে নেবেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনেও আলোচনা হয় তারেক রহমানের মনোনয়নবাণিজ্য নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বলেন, ‘গতবার ৭০০ প্রার্থীর মনোনয়নবাণিজ্য করেছে তারেক।’ ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারেক রহমানের মনোনয়নবাণিজ্যের কারণে বিরক্ত হয়ে দল ত্যাগ করেছেন অনেক সিনিয়র নেতা-কর্মী।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এমন অনেকেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে বর্তমানে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন দিয়েছেন। অন্যদিকে যারা রাজনীতি করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা গঠন করেছেন তৃণমূল বিএনপি।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেয়া, ভারতের বেশ কিছু স্থানে জঙ্গি হামলা চালানোর পরিকল্পনা এবং আইএসআই ও দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেটি ক্ষমতায় থাকাকালে। কিন্তু ক্ষমতার বাইরে থাকাকালেও বিগত বছরগুলোতে আইএসআই ও দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে গেছেন তারেক। লন্ডনে বৈঠকও করেছেন আইএসআইয়ের সঙ্গে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের মতো ‘আদর্শ ইসলামিক রাষ্ট্র’ তথা জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর সংকল্প প্রদান করে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ থেকেও অর্থ সংগ্রহের তথ্য মেলে তার বিরুদ্ধে। দক্ষিণ এশিয়ায় এক ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদকে সমর্থনের মনমানসিকতা নিয়েই সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। কিন্তু এ বিষয়েও তারেক রহমানের সঙ্গে বিস্তর মতবিরোধ খালেদা জিয়ার।

রাজনীতির ময়দানে বিএনপির অভ্যন্তরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়েও একটা কথা বেশ প্রচলিত। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামালা চালানোর পক্ষে ছিলেন না বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু তারেক রহমান একক সিদ্ধান্তে এই হামলার পরিকল্পনা করেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্রপট চিরতর পাল্টে দেয়।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার সংলাপ, আলোচনাসহ রাজনীতির অবস্থানকে একেবারেই সংকুচিত করে দেয় এই গ্রেনেড হামলা।

সর্বশেষ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিএনপির তথা তারেক রহমানের। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে দূরত্ব বাড়ে এই দুই দলের মধ্যে। দুই দল নিজেদের ভিন্ন পথ বেছে নিতে চাইছে- এমনটাই শোনা যায় বিএনপির বিগত বছরজুড়ে একক কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে।

খালেদা জিয়ার দুর্বলতা হিসেবে কাজ করে তারেক রহমান। তারেক রহমানকে যেন দেশের কারাগারে থেকে মৃত্যুদণ্ড রায় পেতে না হয় অর্থাৎ বিচার প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করা যায়, সে কারণেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে শক্ত কোনো অবস্থানই তৈরি করেননি বেগম খালেদা জিয়া। ভবিষ্যতে তারেক আর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবে না এমন মুচলেকা দিয়ে ছেলেকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন বেগম জিয়া। আর এ কারণেই নির্বাচন থেকে বিএনপিকে গুটিয়ে রাখেন তিনি। ফল হিসেবে নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। কিন্তু তারপরও তারেক রহমানের নির্দেশে একের পর এক সহিংসতা দেখে বাংলাদেশ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে।

এদিকে বারবার সংবিধানবিরোধী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপিকে আন্দোলন ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তারেক রহমান। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি কূটনীতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটিও সামনে নিয়ে আসেননি। এ বিষয়ে কেউই কোনো আলোচনা করছেন না বিএনপি ও তার সমর্থকরা ছাড়া। এমন অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষ বিএনপিকে মূল ধারার রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে বলেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। খুব সম্ভবত একই কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আন্দোলনেও খালেদা জিয়ার সায় নেই।

২০০৮ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে নানা নাটকীয়তা চলছে বিএনপিতে। বিএনপির কেউ কেউ বলছেন, তারেক জিয়া তার মাকে জিম্মি করে রেখেছেন। বিএনপির এক দফা আন্দোলন বেগবান করতে বেগম জিয়াকে নানাভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসুক সেটি বেগম জিয়া চান না। কারণ অনির্বাচিত সরকারের তিক্ত অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। তাই তিনি নির্বাচিত সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাতেই ক্ষুব্ধ তারেক জিয়া। সেই বিরোধের কারণেই মাকে ঘন ঘন অসুস্থ বলে হাসপাতালে জিম্মি করে রাখছেন তিনি। অনেকেই বলছেন,‘তারেকের কারাগারে বেগম জিয়া বন্দি’। এমনকি, তারেকের ষড়যন্ত্রে খালেদা জিয়ার জীবন বিপন্ন হতে পারে বলেও বিএনপির একটি মহল আশঙ্কা করছে। প্রয়োজনে নিজের মায়ের প্রাণহানির কারণ হতে পারেন তারেক, এমন আশঙ্কাও ঘনীভূত হচ্ছে বিএনপিতে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের লড়াইয়ের জেরে চূড়ান্ত হতাশা বাড়ছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।


তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন ভারতের হাইকমিশনার। ৫টা ৩৫ মিনিটে বৈঠক শেষে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান প্রণয় ভার্মা।

সাক্ষাৎর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান। দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভারতীয় হাইকমিশনারকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়।

এই সাক্ষাতকালে তারেক রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাৎ দুই পক্ষের মধ্যে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কূটনৈতিক মহলে এই নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎর আগে একই দিনে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ড. ইভারস আইজাবস। সেই সাক্ষাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। একদিনে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সাথে বিএনপির এই সাক্ষাতকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হলেন মাহদী আমিন। তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা।

রোববার (৪ জানুয়ারি) গুলশানে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এখন থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে মাহদী আমিন নিয়মিত ব্রিফিং করবেন।’

এর আগে গুলশান ৯০ নম্বর রোডের বিএনপি নির্বাচনী অফিসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিষয়ক কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে।


ওসমান হাদির মৃত্যুতে বিএনপির শোক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় এ শোক প্রকাশ করা হয়।

শোক বার্তায় বলা হয়, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত।’

এর আগে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পোস্ট দেওয়া হয়।

গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।


খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তাবিষয়ক টিমের চিফ কো-অর্ডিনেটর পদে নিয়োজিত ছিলেন।


বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন জাহাঙ্গীর মোল্লা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ–৩ (তাড়াইল–করিমগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে জেলা শহরের একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ৩ নভেম্বর দলের ঘোষিত প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকায় এ আসনে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নাম রয়েছে। পরে ৬ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় আসেন। ছয় দিনের বিশ্রামের পর ১২ নভেম্বর করিমগঞ্জে নিজ বাড়িতে আসেন এবং তিন দিন অবস্থান করে আবার ঢাকায় ফিরে যান।

জাহাঙ্গীর মোল্লার দাবি, ওই সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তারা মনোনীত প্রার্থীর ‘শারীরিক, মানসিক ও স্মৃতিশক্তিজনিত দুর্বলতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে মাঠের নির্বাচনী কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীর ভোট কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ড. এম ওসমান ফারুকের রাজনৈতিক তৎপরতা এলাকায় দৃশ্যমান নয়। এতে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে এবং প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর মোল্লা নিজের মনোনয়ন পাওয়ার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফীউজ্জামান শফীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


‘শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এমনটি জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘ডা. জুবাইদা রহমান রাজনীতিতে আসবেন কি না তা একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’

তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করছে তার বিদেশ যাত্রা।

চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত। খুব শিগগিরই জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

আমীর খসরু আরও বলেন, নির্বাচনী জোট ও আসন নিয়ে আলাপ-আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। সংলাপ, আলাপ-আলোচনা সব সময়ই গণতন্ত্রের অংশ।

আলোচনা, সংলাপ চলতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান আছে। নির্বাচনের দিকে পুরো জাতি যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া প্রথম ব্যক্তি, যিনি চান গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে। নির্বাচন হোক। নির্বাচন না হওয়ায় সবাই বিভিন্ন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।


খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে জুবাইদা রহমান

আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক  

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। তার আগমনকে কেন্দ্র করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

জুবাইদা রহমান হাসপাতালের ইমার্জেন্সি লিফট দিয়ে খালেদা জিয়া যেখানে চিকিৎসাধীন, সেখানে যান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি লন্ডন থেকে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। শাশুড়িকে দেখতে সেখান থেকে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তিনি। বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটের দিকে জুবাইদা রহমান হাসপাতালটিতে পৌঁছান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

এরও আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় এবং লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হিথরো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩০২ ফ্লাইটে করে তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা করেন। এ সময় মা জুবাইদাকে বিদায় জানান মেয়ে জাইমা রহমান।

খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে দেখার পর সেখান থেকে ধানমন্ডির পৈতৃক বাসভবনে পৌঁছান জুবাইদা রহমান। আড়াই ঘন্টার বেশি সময় এভারকেয়ারে ছিলেন তিনি। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তিনি।


খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় সারাদেশে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে তিঁনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জুমার নামাজের পর মসজিদগুলোতে দলের পক্ষ থেকে এই দোয়ার আয়োজন করা হয়। দোয়া অনুষ্ঠানে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাসহ স্থানীয় জনসাধারণ অংশগ্রহণ করে।

একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা করার জন্যও অনুরোধ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিএনপির পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

নয়াপল্টনের মসজিদে আয়োজিত দোয়া মাহফিলের অংশ নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামীকাল কাতারের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছালে রোববার লন্ডনে নেওয়া হবে বেগম জিয়াকে। তবে তিঁনি ফ্লাই করতে পারবেন কি না সেটা চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম জিয়া গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। কারাগার থেকেই তার রোগের সূচনা। চিকিৎসার অভাবে গুরুতর অসুস্থ হন তিনি।’

এ সময় তিনি বেগম জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

এদিকে কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দেশে না পৌঁছানোয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডন নিয়ে যাওয়ার সময় পিছিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কারিগরি ত্রুটির কারণে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স শুক্রবার ঢাকায় আসছে না। সব ঠিক থাকলে সেটা শনিবার (৬ ডিসেম্বর) পৌঁছাতে পারে।

দলটি পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, খালেদা জিয়ার শরীর যদি যাত্রার উপযুক্ত থাকে এবং মেডিক্যাল বোর্ড যদি সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে রোববার (৭ ডিসেম্বর) তাকে লন্ডন নেওয়া হবে।


খালেদা জিয়া কখনো স্বৈরাচারের সঙ্গে আপস করেননি: আমিনুল হক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো স্বৈরাচারের সঙ্গে আপস করেননি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।
গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ঢাকা-১৪ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষের কাছে একজন অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, শুধু ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী নয়, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মাতা’ হিসেবেও জাতি তাকে শ্রদ্ধা করে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৯০’এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের দাবিতে তিনি লড়াই করে গেছেন এবং মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী হয়েছেন। গণতন্ত্রের জন্য তিনি কখনো স্বৈরাচারের সঙ্গে আপস করেননি।
অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা, দেশের শান্তি সমৃদ্ধি, নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা ওবায়দুর রহমান। ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলির সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. মাহদী আমিন, যুবদল-ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় আলেম-ওলামা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।


তফসিল ঘোষণায় আপত্তি নেই, যথাসময়ে নির্বাচন হোক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, খোদা না করুন- অনিবার্য কোনো পরিস্থিতি ছাড়া আমরা এই (নির্বাচন) প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না। আমরা চাই যথাসময়ে নির্বাচন হোক। তফসিল ঘোষণা করার যে সময় নির্ধারণ করা আছে, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির প্রতিনিধিদল এ কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রার পরই আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে এবং সম্ভবত কাল (শুক্রবার) ভোরেই তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় থাকা এবং যথাসময়ে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে দলটি।
বৈঠকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য এবং কোনো ভোটার যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিএনপি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দুটি ব্যালট থাকায় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় পোলিং বুথে ভোটারের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটের সময়কে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত করা যায় কিনা, তা বিবেচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতি বুথে ভোটারের সংখ্যা কমানো এবং মার্কিং প্লেসের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট দেওয়ার কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হয়। এছাড়া প্রয়োজনে ব্যালট বাক্সের সংখ্যাও বাড়ানোর কথা বলেছে দলটি।
বিএনপির উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন এবং আগামী রোববারের মিটিংয়ে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কমিশনও চাইছে সব ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে।
তিনি জানান, বৈঠকে ভোটার আইডি তৈরির ক্ষেত্রে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের বিকল্প হিসেবে পাসপোর্টকে ভ্যালিড ডকুমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করার জন্য জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তি হিসেবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনেক নাগরিকের, বিশেষ করে বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ন্যাশনাল আইডি নেই, কিন্তু তাদের সবারই পাসপোর্ট আছে। ন্যাশনাল আইডি ও পাসপোর্ট উভয়ই সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ভ্যালিড ডকুমেন্ট। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দিতে চাইলেও ন্যাশনাল আইডি না থাকায় পারছেন না। এ জন্য পোস্টাল ব্যালটের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও পাসপোর্টকে বিবেচনা করার অনুরোধ করা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে কোনো বেসরকারি (প্রাইভেট) প্রেস ব্যবহার না করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অতীতে সরকারি প্রিন্টিং প্রেসেই ব্যালট ছাপা হয়েছে এবং দলটির আশঙ্কা, প্রাইভেট প্রেসে ছাপানো হলে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে যেকোনো প্রাইভেট প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপানো হবে না।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও দেশের বাইরে চিকিৎসার বিষয়ে দলটির অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তার সুচিকিৎসার জন্য চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তারা আছেন এবং যথাসময়ে নির্বাচন হোক- এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিক এবং ভোটার তালিকায় নাম না থাকার বিষয়টি বড় কোনো সংকট নয়, কারণ কমিশন চাইলে এখনো নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দিতে পারে বলে জানান তিনি।


বিএনপি ক্ষমতায় আসলে শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকরি নিশ্চিত করা হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে ১ কোটি শিক্ষিত যুবকের চাকরি নিশ্চিত করে বেকারত্ব দুর করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ এই সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এদেশে কোন মানুষ বিনা চিকিৎসার মৃত্যু বরণ করবেনা। সকলের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। দরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। কৃষকদের জন্য ঋণ ও নানান সুবিধা সম্বলিত কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রচুর পরিমাণে লবনের উৎপাদন হলেও ন্যায্যমূল্য না থাকায় হতাশায় পড়েছে চাষীরা। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে লবনের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পথসভায় বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং ঐক্যের প্রতীক হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর এই দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক হলো ধানের শীষ। তাই এই দেশ এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে এবং ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইতে হবে।

একই দিনে তার নির্বাচনী এলাকা ও নিজ জন্মস্থান পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া মগনামা এবং উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। সকালের তিনি বিএনপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম মাহমুদুল করিম চৌধুরীর কবর জেয়ারত করেন। পরে তিনি মগনামা ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।


আসন্ন নির্বাচনে আরও ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির

আপডেটেড ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:৪২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আরও ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তাদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ডা. আব্দুস সালাম, দিনাজপুর-৫ এ কে এম কামরুজ্জামান, নওগাঁ-৫ জাহিদুল ইসলাম ধলু, নাটোর-৩ মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-১ সেলিম রেজা, যশোর-৫ এম ইকবাল হোসেন, নড়াইল-২ মনিরুল ইসলাম, খুলনা-১ আমির এজাজ খান, পটুয়াখালী-২ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম তালুকদার, বরিশাল-৩ জয়নাল আবেদীন, ঝালকাঠি-১ রফিকুল ইসলাম জামাল, টাঙ্গাইল-৫ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ময়মনসিংহ-৪ মো. আবু ওয়াহাব আখন্দ ওয়ালিদ, কিশোরগঞ্জ-১ মোহাম্মদ মাজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মজিবর রহমান ইকবাল।

এ ছাড়া মানিকগঞ্জ-১ এস এ জিন্নাহ কবির, মুন্সিগঞ্জ-৩ মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা-৭ হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ হাবিবুর রশিদ, ঢাকা-১০ শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৮ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, গাজীপুর-১ মো. মুজিবুর রহমান, রাজবাড়ি-২ মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, ফরিদপুর-১ খন্দোকার নাসিরুল ইসলাম, মাদারীপুর-১ নাদিরা আক্তার, মাদারীপুর-২ জাহান্দার আলী খান, সুনামগঞ্জ-২ নাসির হোসেন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৪ নুরুল ইসলাম।

সিলেট-৪ আরিফুর হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ রেজা কিবরিয়া, কুমিল্লা-২ মো. সেলিম ভুঁইয়া, চট্টগ্রাম-৩ মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৬ গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৫ নাজমুল মোস্তফা আমীন, কক্সবাজার-২ আলমগীর মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।


খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি, দেশে আসছেন জোবাইদা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তিঁনি সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

দলটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পরামর্শ ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই কাতারের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে লন্ডনে নেওয়া হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ও চিকিৎসক জোবাইদা রহমান লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি ঢাকায় পৌঁছে খালেদা জিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন এবং অবস্থা অনুকূল থাকলে তার সঙ্গেই লন্ডন যাত্রা করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে কাতার জানায়, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তারা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দিতে প্রস্তুত। চিকিৎসকদের সম্মতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরেই তা রওনা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ ১৪ জন তাঁর সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তার শারীরিক অবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। চিকিৎসকরা অবস্থাকে ‘স্থিতিশীল’ বলছেন। তার চিকিৎসায় যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ রিচার্ড বিলসহ দেশি–বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে।

বুধবার (৩ আগস্ট) যুক্তরাজ্য এবং চীন থেকে বিশেষজ্ঞের নতুন দুটি দল এই বোর্ডে যুক্ত হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১ ডিসেম্বর তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়।

এদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) ঘোষণার পর হাসপাতাল এলাকাজুড়ে নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যদের।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, এয়ার ট্রান্সপোর্ট প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে হাসপাতালের নিকটস্থ উন্মুক্ত মাঠে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের পরীক্ষামূলক অবতরণ ও উড্ডয়ন পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর অনুরোধ করেছে কার্যালয়।

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরেই আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও ফুসফুসজনিত জটিলতাসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্তি পেয়ে তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং ১১৭ দিন অবস্থান শেষে মে মাসে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।


banner close