শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অবরোধ করলে বিএনপির অবস্থা শাপলা চত্বরের চেয়েও করুণ হবে: কাদের

ছবি: ফোকাস বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর, ২০২৩ ২০:০২

আন্দোলেনের নামে রাজধানী অবরোধ করলে বিএনপির অবস্থা শাপলা চত্বরের চেয়েও করুণ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘অবরোধ করলে বিএনপি অবরোধ হয়ে যাবে। এখন চুরি করে ঢুকছো (ঢাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আগমন) ? এরপরে পালাবার পথ পাবা না। শাপলা চত্ত্বর থেকে শেষ রাতে সবাই পালায় গেল না? এবিএনপির আরও করুণ পরিণতি হবে।’

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে যুবলীগ আয়োজিত যুব সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সোমবার সাড়ে ৩টার পর থেকে যুবলীগের সমাবেশ শুরু হয়। কিন্তু দুপুর একটার পর থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা এবং গাজীপুর জেলা ও মহানগর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা আসতে শুরু করেন।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরেশের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শুরু করে ১০ মিনিটের বেশি সময় বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের। তিনি বিএনপির ১৮ অক্টোবরের কর্মসূচি, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ওই দিন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশনা দেন কাদের।

যুবলীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা সিটির খবর রাখেন? ১৮ (অক্টোবর) তারিখ সামনে রেখে মির্জা ফখরুল.. বিএনপি ডিসেম্বর মাসের (২০২২) মতো তাদের নেতাকর্মীদের সারা বাংলাদেশ থেকে ঢাকা আনতে শুরু করেছে। হোটেলগুলোতে খালি নাই। সব সিট তারা বুক করে ফেলেছে। ঢাকা শহরে নতুন বাড়ি হচ্ছে, খালি ফ্ল্যাট আছে সব তারা বুক করে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘আবার ডিসেম্বর মাসের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম। ফখরুলের আন্দোলন, বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপিই হচ্ছে ভুয়া। এরা ঢাকা শহরে লোক জমায়েত করবে, অবরোধ করবে, এই শহরে সচিবালয় থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবরোধ করার কর্মসূচি তারা ১৮ তারিখে ঘোষণা করবে। তারা সেই ষড়যন্ত্র করছে।’

১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা কর্মীদের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা জমায়েত হব। এখন প্রবেশ করছো (বিএনপি) চুরি করে, চুরি করে এসে এস আত্মীয়-স্বজনের বাসায়। ফখরুল বলেছে অতিরিক্ত কাপড় আনতে, ক্ষমতা দখল করার জন্য, তো আমরা কি দাঁড়ায়া ললিপপ খাবো? যুবলীগের যুবকরা, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আমরাও প্রস্তুত আছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরাও সেদিন আন্দোলনে নবতর পথযাত্রার সূচনা করবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আন্দোলনের মিছিল বয়ে নিয়ে যাব বিজয়ের বন্দরে।’

শেখ হাসিনা মাথানত করেন না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। ফখরুল সাহস পাচ্ছে বিদেশ থেকে। আমরা সাহস পাচ্ছি বিদেশি সমীক্ষা এসেছে আগামী নির্বাচনে শতকরা ৭০ ভাগ লোক শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট দেবে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন থেকে সাহস পাচ্ছি, শেখ হাসিনার মতো সাহসী নেতার নেতৃত্বে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ভয় করি না। যতক্ষণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে ততক্ষণ কোন ভয় নেই। আল্লাহ পাকও আমাদের সঙ্গে আছে। কারণ আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আছি। আমরা নীতির পক্ষে আছি, গণতন্ত্রের পক্ষে আছি, জনগণের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, থাকবে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঝে মাঝে আজগুবি বার্তা ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি বলে হাওয়া থেকে পাওয়া খবর।’

বিএনপির আন্দোলনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘টাকা পয়সার নতুন চালান আসছে। মালপানি ভালোই। গত ডিসেম্বরের চেয়েও সরবরাহ এখন একটু বেশি। টাকার বস্তার উপর বসে আছে। ফখরুল টাকা দিয়ে আন্দোলন (ডিসেম্বর,২০২২) হয়নি। ওই টাকার আন্দোলন গোলাপবাগের গরুর হাটের গর্তের মধ্যে চলে গেছে। এখন আবার আন্দোলন?’

পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন বিএনপিকে আন্দোলনের সাহস জোগাচ্ছে মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা জানি না। এ খবর হাচা না, মিছা? মিথ্যা কথা আর কত বলবা ফখরুল? পশ্চিমা বিশ্বের যারা বাংলাদশে এসেছে, যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, বিদেশে বলেছে, দেশে বলেছে, তারা বলেছে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। এ কথা আমেরিকাও বলেছে, এ কথা ইউরোপও বলে দিয়েছে। ফখরুল কোত্থোকে হাওয়া থেকে মিচা, আজগুবি খবর..।’

বিএনপিকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘ফাউল করলেই লাল কার্ড। লাল কার্ড তৈয়ার হয়ে আছে। আওয়ামী লীগের অ্যাকশন, যুবলীগের অ্যাকশন..ডাইরেক্ট অ্যাকশন। খেলা হবে। ডাইরেক্ট অ্যাকশন চলবে।’


শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ মে, ২০২৬ ২২:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গভীর শ্রদ্ধাভরে এই মহান নেতাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। তার জীবনকালে স্বজাতির চরম ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।’

শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে জাতির ইতিহাসে এক বীর নায়কের স্থান অর্জন করেছেন। ২৬ মার্চ তার স্বাধীনতার ঘোষণার অভয়মন্ত্রে দেশের তরুণ ছাত্র, শ্রমিক, যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে হানাদার বাহিনীর ধ্বংসের শক্তি প্রতিহত করে দেশবাসী বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। বিজয়ের পরে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক দমনমূলক শাসন-শোষনের জাঁতাকলে দেশের মানুষ ভয়াবহ অরাজকতার মধ্যে পতিত হয়। মানুষের নাগরিক অধিকারগুলো হরণ করা হয়, গণতন্ত্রকে দেওয়া হয় কবর। নির্মম একদলীয় দুঃশাসন আইন করে চালু করা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে মুছে দেওয়া হয় স্বেচ্ছাচারী আক্রমণে। একদলীয় প্রভুত্ববাদের অধীনতার নাগপাশে বন্দি করা হয় সারা জাতিকে।’

তৎকালীন অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘নৈরাজ্যের সেই সময়ে সিপাহি ও জনতা মিলিত হয়ে রাজপথে গড়ে তোলে প্রবল প্রতিরোধ। সিপাহি-জনতার মিলিত স্রোতে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি করা হয়। জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় অভিসিক্ত হন। জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্রসহ নাগরিক স্বাধীনতা। গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক সার্থকতা নিশ্চিত করেন। শুরু করেন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেন। ব্যক্তিজীবনেও দুর্নীতি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণকে তিনি ঘৃণা করতেন। তার অন্তর্গত স্বচ্ছতা তাকে দিয়েছে এক অনন্য ঈর্ষণীয় উচ্চতা। তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কারণেই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয় এবং অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।’

জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক শাহাদাত ও তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশবিরোধী চক্র তার বিরুদ্ধে নীলনকশা আঁটতে শুরু করে। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একজন মহান দেশপ্রেমিককে হারায় দেশবাসী। তবে চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোনাে ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরূক হয়ে অবস্থান করেন। তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াও আপসহীনতা নিয়ে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র, দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা করে। নিখাদ দেশপ্রেমিক শহীদ জিয়াকে কখনো তার বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি। তিনি সারা জীবন আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে গেছেন আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে।’

বিগত শাসনামলের সমালোচনা ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বন্দি করেছিল ফ্যাসিবাদের কারাগারে। গুম, খুন, নির্যাতন ও জুলুম ছিল পতিত ফ্যাসিবাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র হাতিয়ার। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে এক লুটেরা মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী। এ অবস্থায় অপরুদ্ধ গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারে ছাত্র, শ্রমিক, জনতাসহ সব গণতন্ত্রকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি, প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরমতসহিঞ্চুতাসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রকে স্থীতিশীল ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রির প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় জীবনের সব সংকট, সংগ্রাম ও বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’ পরিশেষে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দলীয় নেতা-কর্মী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।


সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে: রুহুল কবির রিজভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত চলছে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকারের যে ভুলগুলো আছে তা আপনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু চক্রান্ত করা, ষড়যন্ত্র করা এবং নানাভাবে চক্রান্তের ইঙ্গিত দেওয়া এটা এদেশের মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেয় নি, কখনো নিবেও না।’

এ সময় তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান।

রিজভী জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবে দলটি। এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি। পরে বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও একই ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।


ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় প্রভাব সহ্য করা হবে না, সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া কালিবাড়ী বড় মাঠের পশ্চিম পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি চলবে না; যাদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা থাকবে, কেবল তারাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ সময় ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং উল্লেখ করেন যে, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির প্রেক্ষিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে উপাচার্য নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক ও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


মারা গেলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই বর্ষীয়ান জননেতার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা দবিরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির আঙিনায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের প্রারম্ভে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আদর্শে দীক্ষিত হলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ঠাকুরগাঁও-২ নির্বাচনী এলাকা থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বিরল অনন্য কীর্তি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

দীর্ঘ সংসদীয় জীবনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ সময় কারান্তরীণ থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার নিমিত্তে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


দেশ ও জনগণের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকলকে ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, কোরবানি কোন হত্যা নয় এটি সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। ত্যাগের মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। আজকের দিনে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন— আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশের স্বার্থে , মুসলমানদের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সকল মুসলমান যেন শান্তিতে থাকেন, যুদ্ধবিগ্রহের মধ্য দিয়ে যেন ক্ষতি না হয় এই দোয়া করি। আমাদের কোরবানি যেন আল্লাহ তা’লা কবুল করেন। এ সময় সবাইকে, মনের কলুষতা পরিত্যাগেরও আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।


এনসিপির আয়ের প্রধান উৎস চাঁদাবাজি: রাশেদ খাঁন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে চাঁদাবাজি বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, এ্যানী ভাই কোরবানী দিচ্ছেন সেই প্রশ্ন করছেন। কিন্তু আপনারা রূপায়নে একটি অফিস নিয়ে লাখ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছেন সেই টাকা কোথায় পাচ্ছেন? নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী গাড়িতে ঘুরে বেড়াই। সাথে প্রটোকল নিয়ে যায়। সেই টাকা কোথায় পায়। সার্জিস আলম নাহিদ ইসলামের আয়ের উৎস কোথায়?

এনসিপি নেতাদের আরও সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে বিএনপি বা জামায়াতের কোন হাত নেই। এই চুক্তি এনসিপি করিয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমালোচনা করে রাশেদ বলেন, রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার ভুলে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অমানুষের মতো আজেবাজে কথা বলছে। ঝিনাইদহ সফরকালে সে অস্ত্রধারী ক্যাডার নিয়ে এসেছিল। তার ওপরে ছাত্রদলের কেউ হামলা করেনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেয়া ছাড়া উপায় নেই। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের যেখানে যাবে, তাকে আরও হেনস্তার শিকার হতে হবে। বিএনপি নয়, সাধারণ জনগন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো বেয়াদবদের শায়েস্তা করবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত কখনোই দেশের ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। জামায়াত সব সময় অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। আজ তারা বিএনপি সরকারকে পতনে ভয় দেখায়। জামায়াত-এনসিপি মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই অপশক্তিকে আর দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।
সেসময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির হাসান মোহন, উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা তবিবুর রহমান মিনি উপস্থিত ছিলেন।


ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বিবৃতিটি বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষর করে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ দুনিয়াজুড়ে মুসলমানদের আমি পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাই। আমি কামনা করি তাদের অবিরাম সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। ঈদুল আজহা সকলের জীবনকে করে তুলুক আনন্দময়… মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমি এ প্রার্থনা জানাই।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আজহা, যা ‘ত্যাগের উৎসব’ নামেও পরিচিত। ঈদুল আজহার তাৎপর্য হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এ কারণে বিশ্ব মুসলিম ঈদুল আজহার উৎসবে মিলিত হয়। মনের অশুভ অন্ধকার দূর করে সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের মূল শিক্ষার উৎসই হলো পশু কুরবানি। কুরবানির মহিমান্বিত শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ঈদুল আজহার প্রধান শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন। এটি ত্যাগের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের উৎসব। এর মাধ্যমে মুসলমানেরা মহান আল্লাহ পাকের প্রতি নিবেদিত বান্দা হওয়ার প্রেরণা পায়। প্রতিটি উৎসবই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের চিত্তবৃত্তি ও ঔদার্য প্রসারিত করে। উৎসব মানবজাতিকে সম্প্রীতির অটুট বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং সামাজিক অন্ধকারের গহন থেকে মানবিক আলোর ভূমিতে সমবেত করে।


তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ভাঙ্গুড়ায় ঈদ উপহার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে দলীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো হয়, যেখানে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানান (পাবনা, সিরাজগঞ্জ,৩৩০) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোজাহিদ স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন,“বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি করি। ঈদের আনন্দ যেন কোনো দলীয় নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই ঈদ উপহার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“বর্তমান সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চলমান থাকবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান,নুরুল ইসলাম বরাত, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম,মামুন ও জামাল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরকার হুমায়ুন আহমেদ মূন ও সদস্য সচিব লিখন সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ূন কবির, কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে দলীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।


শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি: রিজভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ বাগাড়ম্বর এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি।

তিনি বলেন, সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঈদযাত্রা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এবার দেশের মানুষ অত্যন্ত স্বস্তিতে ও শান্তিতে ঈদ যাপন করতে যাচ্ছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে জায়মা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন দুদকের পিপি ও ময়মনসিংহ জজ কোর্টের আইনজীবী এ কে এম আজিজুল হক খান।

নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। নোটিশ প্রেরণকারী নিজেও মর্মাহত হয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, কেন তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে না—এ বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশে যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যাডভোকেট এ কে এম আজিজুল হক খান, জজ কোর্ট, ময়মনসিংহ, জুবেদ আলী ভবন, কক্ষ নং-৮৫, ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতি।


ঝিনাইদহে এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ ২২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার (২২ মে) রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান নেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাতে পুলিশের বিশেষ পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্যরা ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রদল নেতা এনামুল কবিরের দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যার নম্বর ৪৩। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয়: ড. আব্দুল মঈন খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দেরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

শুক্রবার (২২ মে) অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে মহাকাশ ও জিওস্পেশাল গবেষণায় নতুন গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুগোপযোগী হয়ে উঠতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন মঈন খান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন মহাকাশে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে, তখন গুহার মধ্যে পড়ে থাকলে চলবে না।’

নতুন প্রজন্মের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় সময়োপযোগী ও নতুন নতুন বিষয় যুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

তিনি আরও বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা খাতে।’


পায়ে হেঁটে রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি ছুটির দিনে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২২ মে) বাদ আসর রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে হেঁটে তিনি গুলশানে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দেশজুড়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মেয়রদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই ছুটির দিনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা আগমন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ উপহারের চেক প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করতেই মূলত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পূর্বের ধারাবাহিকতায় আজকেও মেয়র ও প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতে উপহারের এই চেক পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময়ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ছুটির দিনেও সাধারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কথা বিবেচনা করা এবং প্রটোকল ভেঙে পায়ে হেঁটে কার্যালয়ে আসায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা ও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। সবাই প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করছেন।


banner close