আন্দোলেনের নামে রাজধানী অবরোধ করলে বিএনপির অবস্থা শাপলা চত্বরের চেয়েও করুণ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘অবরোধ করলে বিএনপি অবরোধ হয়ে যাবে। এখন চুরি করে ঢুকছো (ঢাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আগমন) ? এরপরে পালাবার পথ পাবা না। শাপলা চত্ত্বর থেকে শেষ রাতে সবাই পালায় গেল না? এবিএনপির আরও করুণ পরিণতি হবে।’
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে যুবলীগ আয়োজিত যুব সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সোমবার সাড়ে ৩টার পর থেকে যুবলীগের সমাবেশ শুরু হয়। কিন্তু দুপুর একটার পর থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা এবং গাজীপুর জেলা ও মহানগর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা আসতে শুরু করেন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরেশের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শুরু করে ১০ মিনিটের বেশি সময় বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের। তিনি বিএনপির ১৮ অক্টোবরের কর্মসূচি, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ওই দিন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশনা দেন কাদের।
যুবলীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা সিটির খবর রাখেন? ১৮ (অক্টোবর) তারিখ সামনে রেখে মির্জা ফখরুল.. বিএনপি ডিসেম্বর মাসের (২০২২) মতো তাদের নেতাকর্মীদের সারা বাংলাদেশ থেকে ঢাকা আনতে শুরু করেছে। হোটেলগুলোতে খালি নাই। সব সিট তারা বুক করে ফেলেছে। ঢাকা শহরে নতুন বাড়ি হচ্ছে, খালি ফ্ল্যাট আছে সব তারা বুক করে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘আবার ডিসেম্বর মাসের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম। ফখরুলের আন্দোলন, বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপিই হচ্ছে ভুয়া। এরা ঢাকা শহরে লোক জমায়েত করবে, অবরোধ করবে, এই শহরে সচিবালয় থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবরোধ করার কর্মসূচি তারা ১৮ তারিখে ঘোষণা করবে। তারা সেই ষড়যন্ত্র করছে।’
১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা কর্মীদের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা জমায়েত হব। এখন প্রবেশ করছো (বিএনপি) চুরি করে, চুরি করে এসে এস আত্মীয়-স্বজনের বাসায়। ফখরুল বলেছে অতিরিক্ত কাপড় আনতে, ক্ষমতা দখল করার জন্য, তো আমরা কি দাঁড়ায়া ললিপপ খাবো? যুবলীগের যুবকরা, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আমরাও প্রস্তুত আছি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরাও সেদিন আন্দোলনে নবতর পথযাত্রার সূচনা করবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আন্দোলনের মিছিল বয়ে নিয়ে যাব বিজয়ের বন্দরে।’
শেখ হাসিনা মাথানত করেন না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। ফখরুল সাহস পাচ্ছে বিদেশ থেকে। আমরা সাহস পাচ্ছি বিদেশি সমীক্ষা এসেছে আগামী নির্বাচনে শতকরা ৭০ ভাগ লোক শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট দেবে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন থেকে সাহস পাচ্ছি, শেখ হাসিনার মতো সাহসী নেতার নেতৃত্বে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ভয় করি না। যতক্ষণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে ততক্ষণ কোন ভয় নেই। আল্লাহ পাকও আমাদের সঙ্গে আছে। কারণ আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আছি। আমরা নীতির পক্ষে আছি, গণতন্ত্রের পক্ষে আছি, জনগণের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, থাকবে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঝে মাঝে আজগুবি বার্তা ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি বলে হাওয়া থেকে পাওয়া খবর।’
বিএনপির আন্দোলনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘টাকা পয়সার নতুন চালান আসছে। মালপানি ভালোই। গত ডিসেম্বরের চেয়েও সরবরাহ এখন একটু বেশি। টাকার বস্তার উপর বসে আছে। ফখরুল টাকা দিয়ে আন্দোলন (ডিসেম্বর,২০২২) হয়নি। ওই টাকার আন্দোলন গোলাপবাগের গরুর হাটের গর্তের মধ্যে চলে গেছে। এখন আবার আন্দোলন?’
পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন বিএনপিকে আন্দোলনের সাহস জোগাচ্ছে মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা জানি না। এ খবর হাচা না, মিছা? মিথ্যা কথা আর কত বলবা ফখরুল? পশ্চিমা বিশ্বের যারা বাংলাদশে এসেছে, যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, বিদেশে বলেছে, দেশে বলেছে, তারা বলেছে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। এ কথা আমেরিকাও বলেছে, এ কথা ইউরোপও বলে দিয়েছে। ফখরুল কোত্থোকে হাওয়া থেকে মিচা, আজগুবি খবর..।’
বিএনপিকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘ফাউল করলেই লাল কার্ড। লাল কার্ড তৈয়ার হয়ে আছে। আওয়ামী লীগের অ্যাকশন, যুবলীগের অ্যাকশন..ডাইরেক্ট অ্যাকশন। খেলা হবে। ডাইরেক্ট অ্যাকশন চলবে।’
ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ আলোচনার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। এমন চাপের মধ্যে ইরানকে আলোচনায় বসতে রাজি করাতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্প ইরানকে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন।
শর্তগুলো কি?
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো—
১। সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরানো।
২। ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া
৩। ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া।
৪। মিসাইল পোগ্রাম বা উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া।
৫। সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে যেসব সশস্ত্র মিত্র বাহিনী আছে তাদের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা চাথাম হাউজের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্সের মতে, ট্রাম্পের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দাবি হলো, যেটি ইরানের মানতে খুবই কষ্ট হবে, সেটি হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘এসব মিসাইল একমাত্র রক্ষাকবচ যেগুলো শত্রুদের হাত থেকে ইরানের সরকারকে রক্ষা করছে। এসব মিসাইল ছাড়া ইরান খালি এবং ইসরাইলের আকাশ শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ইরানের কোনো সরকারই এ থেকে রক্ষা পাবে না।’
ইরান শর্ত না মানলেই হবে হামলা
ইরানকে যে পাঁচটি শর্ত দেওয়া সেগুলো শুধুমাত্র মানাই অসম্ভব নয়, এগুলো দেওয়া হয়েছে যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর বর্তমান যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটি অনুযায়ী প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দ্বিতীয় হামলা চালাবে।
ইরানকে সহায়তায় প্রস্তুত হাজার হাজার ইরাকি
ইরানে মার্কিন হামলা হলে দেশটিকে রক্ষায় সহায়তা করতে প্রস্তুত হাজার হাজার ইরাকি। এনিয়ে ইতোমধ্যে হাজার হাজার ইরাকি একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের অন্তত ৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ইরাক ও পূর্বদিকের প্রতিবেশী দেশ (ইরান), এবং তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’ বিনা পারিশ্রমিকে’ রক্ষা করতে তারা প্রস্তুত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং ইরানকে সহায়তা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আমরা আমাদের প্রস্তুতি ঘোষণা করছি। সেইসঙ্গে আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যেই ইরাকের হাজার হাজার নাগরিক এমন ঘোষণা দিলো। এর আগে একাধিকবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে অতর্কিত হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানে সরকার পতন ও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে ইরানের উপকূলীয় জলসীমার কাছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো অবস্থান করছে। ইসরায়েলও জানিয়েছে, যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত।
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু
আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠক করবেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই বৈঠকে ইরান নিয়ে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প আলোচনা করবেন বলে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
গত শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, সামনে তাদের মধ্যে আরও আলোচনা হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা চাথাম হাউজের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্স, ট্রাম্পের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দাবি হলো, যেটি ইরানের মানতে খুবই কষ্ট হবে, সেটি হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘এসব মিসাইল একমাত্র রক্ষাকবচ যেগুলো শত্রুদের হাত থেকে ইরানের সরকারকে রক্ষা করছে। এসব মিসাইল ছাড়া ইরান খালি এবং ইসরায়েলের আকাশ শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ইরানের কোনো সরকারই এ থেকে রক্ষা পাবে না।
ইরানকে যে পাঁচটি শর্ত দেওয়া সেগুলো শুধুমাত্র মানাই অসম্ভব নয়, এগুলো দেওয়া হয়েছে যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর বর্তমান যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটি অনুযায়ী প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দ্বিতীয় হামলা চালাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো হওয়া মার্কিন বাহিনী যদি হামলা চালায় তবে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারের গণমাধ্যম আল জাজিরাকে এমনটি জানিয়েছেন। এসব হামলাকে ঘাঁটিগুলো যেখানে অবস্থিত সেই দেশগুলোতে আক্রমণ হিসেবে দেখা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার পরদিন আরাগচি এসব মন্তব্য করেছেন।
এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয়েই পারমাণবিক আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করে তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা চালানোর পর ওমানেই প্রথম তেহরান ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।
বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। আর মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।
আরাগচি জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা কবে হবে, তার তারিখ নির্ধারিত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের প্রথমদিকেই আলোচনা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আশপাশে নৌ ও বিমান বহরসহ বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসতে হবে, এর পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও আশপাশের অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে; অন্যথায় ফের ইরানের হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বইছে ভোটের হাওয়া। হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের পক্ষে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তার সহধর্মিণী মোস্তেকা আনোয়ার।
নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত সময়ে মোস্তেকা আনোয়ার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের আনাচে-কানাচে দিন-রাত গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে তার সরব উপস্থিতি এবং আন্তরিক আলাপচারিতা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীর পক্ষে তার সহধর্মিণীর এই জোরালো প্রচারণা এবং জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে এক ধরনের ইতিবাচক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রচারণা চলাকালে নারী ভোটার রাবেয়া খাতুন (৪৫) বলেন, ডা. লিটন সাহেবের বউ নিজে আমদের ঘরে আইসা খোঁজখবর নিছেন। তার কথা আর ব্যবহার দেইখা আমরা খুব খুশি। ১২ তারিখ কেন্দ্রে গিয়া আমরা ধানের শীষেই দিব।"
নতুন ভোটার সুমি আক্তার (২৩) তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন "নতুন ভোটার হিসেবে ভোট নিয়া আমার খুব আগ্রহ। মোস্তেকা আপা যখন আমদের সাথে কথা বললেন, মনে হইলো তিনি আমদের পরিবারের একজন। তিনি নারীদের অধিকার আর এলাকার উন্নয়নের কথা বলছেন। উনার প্রচারণায় আমরা মহিলারা অনেক সাহস পাইছি।" গণসংযোগকালে মোস্তেকা আনোয়ার বলেন, "মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও সাড়া আমি পাচ্ছি, তাতে ইনশাআল্লাহ ১২ই ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয়ের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। ত্রিশালের মানুষের সুখে-দুঃখে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন সবসময় পাশে ছিলেন এবং আগামীতেও আপনাদের পাশে থাকবেন।
রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান বলেছেন, ‘পলিসি মেকিং প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে, ছাত্র নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত নারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ‘পাইপলাইন’ তৈরি করতে হবে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলে যোগ্য নারী নেতৃত্বকে সামনে আনা সম্ভব হবে না।
রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইএসএস) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজনীতি ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পৃক্ততা না থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয় না। উপযুক্ত অভিভাবকত্ব ও সহায়তা ছাড়া নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারে না। পুরুষদের জন্য নানা সুযোগ থাকলেও নারীরা এখনো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাই নারীদের জন্যও কার্যকর সংযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনীতিতে অর্থনৈতিক বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জাইমা রহমান বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে নারী নেত্রীদের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। এতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের মেধা কাজে লাগিয়ে একটি ভিন্নধর্মী রাষ্ট্র গড়তে হলে চিন্তায় পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেই নারীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ থাকা প্রয়োজন যাতে নারী নেত্রী বা কর্মীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে দল দায় নেয় এবং তাদের পাশে দাঁড়ায়।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইফতেখার আহসান হাসান। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা ইফতেখার আহসান হাসান তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন নেতা। তিনি একসময় জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী।
ইফতেখার আহসান হাসান বলেন, জাতীয় পার্টি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল। যারা এই চেতনায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য লাঙ্গলই ভরসার প্রতীক। তিনি আরও বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’ জাতীয় পার্টি আজও সেই আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করছে।
একসময় জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা-১ আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গণসংযোগকালে ভোটারদের কাছ থেকে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান ইফতেখার আহসান হাসান।
গণসংযোগ ও পথসভায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম হাজারি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান সাদেক, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হক নাইমসহ ছাত্র ও যুব সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর আচরণ ও উসকানিমূলক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আরামবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি করে তাকে অশান্তিতে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণাকে শিষ্টাচারবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “১১ দলীয় জোটের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন। আমি যেন নির্বাচনের দিন ১২ তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারি এই দোয়া চাই।”
মির্জা আব্বাস দাবি করেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী এমন কিছু অশালীন কথা বলছেন যার মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকায় মারামারি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো ধরনের উসকানিতে তিনি পা দেবেন না। তবে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনে একটি কৃত্রিম সংকট বা ‘সিনক্রিয়েট’ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আরামবাগের গণসংযোগ শেষে তিনি ফকিরাপুল এলাকায় প্রচার চালান এবং বিকেলে কমলাপুর কালভার্ট রোড থেকে বাবে রহমত উটখামার পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখেন। সন্ধ্যার দিকে তিনি সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার মতে, ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তার দায় অন্য দলের ওপর চাপানোর নীল নকশা তৈরি করছে, কারণ তাদের সমর্থিত গোষ্ঠী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন।
যাদের দেশ পরিচালনার ন্যূনতম অভিজ্ঞতা নেই, তারা কীভাবে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেয়—সেই প্রশ্ন তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে নিজেদের লোক বসানো আছে বলেই তারা এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই কর্মকর্তারা প্রয়োজনে তাদের ইচ্ছেমতো নির্বাচনের ফল পরিবর্তন বা ম্যানিপুলেট করার কাজ করবেন। নির্বাচনী মাঠের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে আসার এবং সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।
যশোরের মণিরামপুরে উপজেলা বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান মফিজের সুস্থতা কামনায় পৌরসভার ৫ নং তাহেরপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় মণিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে তার দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মণিরামপুর কারিমিয়া ক্যাডেট স্কিম কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আহসান কবীর।
দোয়া মাহফিলে ৫ নং তাহেরপুর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিন কুমার বাবু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান, ঠিকাদার সিদ্দিকুর রহমান, মণিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বি এম এনামুল হক, সাবেক শিক্ষক মুজিবুর রহমান, শিক্ষক শাহজাহান আলী, সাংবাদিক ও শিক্ষক জি এম ফারুক আলম, তাহেরপুর আকুঞ্জী মসজিদের মুহতামিম আক্তারুজ্জামান এবং পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কাজী ইমরানসহ শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মফিজুর রহমান মফিজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত এবং চিকিৎসাধীন। গত বুধবার হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকায় সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল মোমেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
ইসলামী আন্দোলনের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছেন, 'এই দেশ দূর্নীতির দিক থেকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তখনকার সময় যারা দূর্নীতির সাথে জড়িত ছিল, ওইসব দূর্নীতিবাজদের সাথে ইসলামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে একটি জোটভুক্ত দলও দূর্নীতির অংশীদার হয়েছিল। তারা এর দায় কোনক্রমে এড়াতে পারবেন না।'
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চরফ্যাশন সরকারি টি. বি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরফ্যাশন উপজেলা শাখার উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করিম বলেন, 'যখন আমরা ইসলামের পক্ষে একটি ভোটের বাক্স তৈরি করেছিলাম। তখন বাংলাদেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছিল। মানুষ অধীর আগ্রহে দিনক্ষণ গুণেছিল। কিন্তু তখন ইসলামের নাম ব্যবহার করা একটি দল ভারতের সাথে গোপনে বৈঠক করে দেশ গঠন করতে স্বপ্ন দেখেছে। আমরা আমেরিকা ও ভারতের ইনসাফ দেখতে চাই না, আমরা মদিনার এবং ইসলামের ইনসাফ দেখতে চাই।'
তিনি বলেন, 'ইসলাম মানে শরিয়া, আমরা হজ্ব করি, রোজা রাখি ও নামাজ আদায় করি এটাই শরিয়া। এখন যারা বলে 'আমরা শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবো না তবে প্রচলিত আইনে দেশ চালাবো' আসলে এদের বাস্তবতা হলো বাহ্যিকটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু ভিতরটা 'মাকাল ফল'।'
উপস্থিত ছিলেন ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ইসলামি আলোচক হাবিবুর রহমান মেজবাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহ প্রচার সম্পাদক কে এম শরিয়ত উল্লাহ।
জামায়াত যদি কোনও কারণে দেশে ক্ষমতায় আসে, এই দেশ পাকিস্তান রাষ্ট্র পরিচালনার কায়দায় তারা পরিচালনা করবেন। তাদের নিজস্ব বাহিনী দিয়ে তখন দেশ পরিচালনা করবে। জামাতের রাজাকার ও আলবদররা মিলে দেশটাকে পরাধীন বানাবে। রাস্তা দিয়ে তখন কেউ হাঁটতে পারবে না। এদের ভোট দিয়ে দেশটাকে পাকিস্তান বানিয়ে মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করবেন না। এদের চেয়ে খারাপ এ পৃথিবীতে কেউ জন্মগ্রহণ করেনি। আপনারা জানেন এই দেশে একমাত্র বিএনপি রক্ষা করতে পারে। বিএনপি গনতন্ত্র বার বার রক্ষা করেছে আর অন্য দলগুলো সেই গনতন্ত্র বার বার নষ্ট করেছে। আজ যদি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা না হতো তাহলে এদেশ আজ মালয়েশিয়া সিংগাপুরে রুপ নিত। বাহাদুরপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন যশোর-৮৫ শার্শা-১ আসন এর ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন।
শনিবার (৭ জানুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহেব আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে সাখারীপোতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি লিটন বলেন, 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রার স্বার্থে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।' আপনারা জানেন এরা নারীদের বোরকা পরিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে পাঠাচ্ছে। তারা বাচ্চাদের বিস্কুট ও চকলেট দিচ্ছে আর মায়েদের বলছে ভোট দিলে জন্নতের টিকিট পাওয়া যাবে। যারা এমন দাবি করে, তারা মহাপাপ করছে। আপনারা বলেন, জান্নাত দেওয়ার একমাত্র মালিক মহান আল্লাহত্লা । সম্প্রতি একাধিক অভিযোগ উঠেছে এসব নারীরা বাড়িতে গিয়ে বিকাশ নাম্বার চাচ্ছে তাদের ভোট দিলে ওই বিকাশে টাকা পাঠানো হবে। তিনি এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে পারবে। যদি আমরা ধানের শীষকে বিজয় করতে না পারেন তবে আগামী দিন মাথা উচু করে দাড়াতে পারবেন না।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, সে দিন জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতা ঘোষনা না দিত তাহলে আজ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র হতো না। তিনি এদেশের মানুষকে শিখিয়েছে কি ভাবে আত্ননির্ভরশীল হতে হয়। তিনি শিখিয়েছেন খাল কেটে কি ভাবে ফসল উৎপাদন করে কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটাতে হয়। জিয়াউর রহমান একজন সৎ মানুষ ছিলেন। আর সেই নেতার দল বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল। তিনি রনাঙ্গনে যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করিয়েছে। বাংলাদেশ এর মানুষকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল তা তিনি বাস্তবায়ন করতে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন এদেশের কিছু বিপথগামী সৈনিক ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু,শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, সভাপতি আবুল হাসান জহির সহসভাপতি মহসিন কবির, যুগ্ম সধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম বাবু, বেনাপোল পৌর বিএনপির যুগ্ম সধারন সম্পাদক মেহেরুল্লাহ মেম্বার শার্শা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম প্রমুখ।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বটতলী শাহ্ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে নির্বাচনী গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. তারেক, সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ, যুগ্ম সম্পাদক শেজাম, জাকারিয়া, তারিকুল, জাহেদ, রবিন, শিহাব, রোহান, তানবীর, মোরশেদ, জিতু, রাজু, জিহান, তৌহিদ, তোহা, খোকা, তারেক ও রিয়াদসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. তারেক বলেন,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জননেতা লায়ন হেলাল উদ্দীন ভাইয়ের পক্ষে এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ছাত্রদল রাজপথে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে নিজের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর দল এককভাবে নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা এই নেতা প্রস্তাবিত জাতীয় সরকার গঠনের ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং সেই লক্ষ্যেই বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট চাইছে। গত শুক্রবার দলীয় কার্যালয়ে বসে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের প্রশ্নে তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁকে বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তবে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের পরিণাম ভোগ করতে হবে ঠিকই, কিন্তু জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনে বিএনপির প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২৯২টিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি কয়েকটি আসন তাদের মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ জরিপ ও বর্তমান জনমতের ভিত্তিতে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যদি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মিলেই জাতীয় সরকার গঠন করে তবে সংসদে প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে কার ভূমিকা থাকবে? তিনি একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার স্বার্থে সংসদে ভালো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারেক রহমান ভারসাম্যপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী নীতির কথা তুলে ধরেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে যারা অনুকূল ও উপযুক্ত প্রস্তাব নিয়ে আসবে, বাংলাদেশ তাদের সাথেই অংশীদারত্ব গড়ে তুলবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়েও নিজের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনই তাঁর হবু সরকারের মূল লক্ষ্য হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রত্যাবাসন হতে হবে একটি নিরাপদ পরিবেশে। মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখনই কেবল তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর আগ পর্যন্ত মানবিক কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় তাদের বাংলাদেশে বসবাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকার আগামী দিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে সেই দলের নেতাদের ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই প্রমাণ। পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে এবং জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশে বিপুলসংখ্যক বোরকা এবং নিকাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন যে- জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার নির্দেশেই এসব সিল তৈরি করা হয়েছে।
এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য, জব্দকৃত আলামত ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। এটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী মুখমণ্ডল খুলে ভোটার শনাক্তকরণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে- ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা হজের ছবি তোলার সময় যেভাবে মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক। একইভাবে ভোটগ্রহণের সময় নারী পোলিং অফিসারের সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নারী কক্ষে যথাসম্ভব নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, এর আগেও আমরা দেখেছি, ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনার কারণে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও আমরা পেয়েছি। আমরা দেখলাম, রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে সেই দলেরই এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাহলে কি তারা নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? এমনই যদি হয়, তবে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি।
মাহদী আমিন বলেন, আরেকটি গুরুতর বিষয় আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগে নানান অসংগতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে সর্বাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই পাশার রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন। যদিও বাস্তবে হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষই এই সংস্থার তথাকথিত কার্যালয় এবং লোকবল বলতে একজনই, যা এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এর আগেও আমরা নির্বাচন কমিশনে অবহিত করেছি যে, পর্যবেক্ষকের নামে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
আমরা মনে করি, এসব বিষয় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায়। অতএব অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে বিভিন্ন নির্বাচনি আসনে জনসভায় অংশ নেবেন। আগামীকাল রোববার তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬টি নির্বাচনী আসনের জনসভায় যোগদান করবেন। ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বরে দুপুর ২টায়, ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী দুই নস্বর ওয়ার্ড লাল মাঠ তথা মেট্রো স্টেশনের পাশে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে, ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোল চত্বর সংলগ্ন সেনপাড়া পর্বতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে, ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে, ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী ক্লাব মাঠে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডার সাতারকুলের সানভ্যালী মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, সোমবার তারেক রহমান তার নিজের নির্বাচনি এলাকা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৭টি সহ মোট ৮টি নির্বাচনী জনসভায় যোগদান করবেন। ঢাকা-১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ খেলার মাঠে বেলা ১১টায়, ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে দুপুর ১২টায়, ঢাকা-৮ আসনের পীর জঙ্গি মাজার রোডে দুপুর ১টায়, ঢাকা-৯ আসনের বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে দুপুর ২টায়, ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে দুপুর ৩টায়, ঢাকা-৪ আসনের জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে বিকেল ৪টায়, ঢাকা-৬ আসনের ধূপখোলা মাঠে বিকেল ৫টায় এবং ঢাকা-৭ আসনের লালবাগ বালুর মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার দেখে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কেউ যদি নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করে এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয় বরং জাতিকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। নীলফামারী জেলা কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এ জেলাকে আমরা কৃষি অঞ্চল হাব হিসেবে গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি জয় লাভ করলে আমাদের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হবে। ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই।
নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হবে। কারণ নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড প্রত্যেক কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।
তারেক রহমান আরও বলেন, এই এলাকা কৃষি নির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াবো, তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করবো। যাতে কর্মসংস্থান হয়। যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা লাগবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এসএম সাইফুল্লাহ রুবেল।
‘বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা’
খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনও ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা-এমনটাই বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনও লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায় আমরা মানুষের জন্য কি করবো। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনও ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।
একইসঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দেন দলটির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, আমাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বললেন যে এই এলাকার এয়ারপোর্টটার কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সরকার গঠন হলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই এলাকার এয়ারপোর্ট ইনশাআল্লাহ চালু করব।
২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এখন দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের। ২৪ এও একই। এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও তাই হবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না।
নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।
ঠাকুরগাঁও কৃষনির্ভর এলাকা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াবো তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করবো। যাতে কর্মসংস্থান হয়। বহু যুবক আছে যারা বেকার। যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগীতা লাগবে।
তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উত্তরাঞ্চল সফরের শেষ জেলা হিসেবে দিনাজপুরের জনসভায় হাজির হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর তার আগমনকে ঘিরে বিরামপুরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। উত্তরাঞ্চলের পানির অভাব মেটাতে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ৩টার দিকে জেলার বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় এসে পৌঁছান তিনি। উৎসবমুখর পরিবেশে তাকে বরণ করে নিতে আগেই সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই জেলার ১৩টি উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় প্রতীক নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
জনসভায় তারেক রহমান তার বক্তব্যে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে একগুচ্ছ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন, দিনাজপুরের জগৎবিখ্যাত লিচু ও আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে। এই জেলার চালকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী কী করবে, তার একটি রূপরেখা দেন তারেক রহমান, প্রতিটি গৃহিণী ও খেটে খাওয়া নারীর কাছে '
‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে।
একটি দল যারা একাত্তরে বাংলাদেশ চায়নি, দেশের স্বাধীনতা চায়নি যাদের কারণে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে ২ লাখ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে তারা এখন দেশের শাষণক্ষমতা চায়, দেশের মালিকানা চায়। যাদের নিজেদেরই কোনো ঈমান নেই তারা অন্যের ঈমান নষ্ট করে ক্ষমতায় যেতে চায়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বরগুনা -২ (বেতাগী- বামনা -পাথরঘাটা) আসনের বামনা সরকারি কলেজ মাঠে বামনা উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বরগুনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি আরো বলেন, যারা মানুষের ঈমান নিয়ে প্রতারণায় লিপ্ত হয়ছে আর যাই হোক তারা মানুষের ভালো চায় না দেশের ভালো চায় না। তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।
মনি আরো বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে, মানুষের অধিকারের কথা বলে। মানুষ ভালোভাবে খেয়ে পড়ে যেন স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে সেই বিশ্বাস আর প্রতিশ্রুতিই বিএনপির রাজনীতি। বিএনপি কাউকে জান্নাতের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে ফায়দা নিতে চায় না। বিএনপি চায় মানুষ বেঁচে থাকতে তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। অন্যদিকে একটি দল একেক সময় একেক কথা বলে আর মিথ্যা আশ্বাসে সাধারণ মানুষের অধিকার বিক্রি করে রাজনীতি করতে চায়। দেশকে তারা আফগানিস্তান বানাতে চায়। তাদের ভন্ডামী মানুষ বুঝে গেছে।
উন্নয়নের স্বার্থে মনি আরো বলেন, বিএনপিই একমাত্র দল যে দল উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আমি ৩ বারের এমপি ছিলাম। সব মিলিয়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তার সিংহভাগই আমার হাতে করা। রাস্তা -ঘাট, স্কুল -কলেজ, মসজিদ - মাদ্রাসা, বিদ্যুৎ যা কিছু আমার এলাকায় হয়েছে তার সবই আমার হাত ধরে। যারা উন্নয়নে বিশ্বাস করে না, যারা সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাস নিয়ে প্রতারণা করছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের দ্বারা উন্নয়ন তো দূরের কথা মানুষের মৌলিক অধিকারটুকুও তারা বিক্রি করে দিবে যেভাবে ফ্যাসিস্ট চক্র গত ১৫ বছরে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল।
সমাবেশে আগত সাধারণ জনতার উদ্দেশে মনি আরো বলেন, এখানে মা বোনসহ যারা উপস্থিত রয়েছেন তাদের প্রত্যেকের ভোট দেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনাদের অধিকার যেন কোনো মোনাফেক গোষ্ঠী কেড়ে নিতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একটি চক্র ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মিশনে নেমেছে। আপনাদের অধিকার আপনাদের ভোট দেশের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নে প্রয়োগ করুন।