আন্দোলেনের নামে রাজধানী অবরোধ করলে বিএনপির অবস্থা শাপলা চত্বরের চেয়েও করুণ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘অবরোধ করলে বিএনপি অবরোধ হয়ে যাবে। এখন চুরি করে ঢুকছো (ঢাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আগমন) ? এরপরে পালাবার পথ পাবা না। শাপলা চত্ত্বর থেকে শেষ রাতে সবাই পালায় গেল না? এবিএনপির আরও করুণ পরিণতি হবে।’
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে যুবলীগ আয়োজিত যুব সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সোমবার সাড়ে ৩টার পর থেকে যুবলীগের সমাবেশ শুরু হয়। কিন্তু দুপুর একটার পর থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা এবং গাজীপুর জেলা ও মহানগর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা আসতে শুরু করেন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরেশের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শুরু করে ১০ মিনিটের বেশি সময় বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের। তিনি বিএনপির ১৮ অক্টোবরের কর্মসূচি, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ওই দিন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশনা দেন কাদের।
যুবলীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা সিটির খবর রাখেন? ১৮ (অক্টোবর) তারিখ সামনে রেখে মির্জা ফখরুল.. বিএনপি ডিসেম্বর মাসের (২০২২) মতো তাদের নেতাকর্মীদের সারা বাংলাদেশ থেকে ঢাকা আনতে শুরু করেছে। হোটেলগুলোতে খালি নাই। সব সিট তারা বুক করে ফেলেছে। ঢাকা শহরে নতুন বাড়ি হচ্ছে, খালি ফ্ল্যাট আছে সব তারা বুক করে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘আবার ডিসেম্বর মাসের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম। ফখরুলের আন্দোলন, বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপিই হচ্ছে ভুয়া। এরা ঢাকা শহরে লোক জমায়েত করবে, অবরোধ করবে, এই শহরে সচিবালয় থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবরোধ করার কর্মসূচি তারা ১৮ তারিখে ঘোষণা করবে। তারা সেই ষড়যন্ত্র করছে।’
১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা কর্মীদের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা জমায়েত হব। এখন প্রবেশ করছো (বিএনপি) চুরি করে, চুরি করে এসে এস আত্মীয়-স্বজনের বাসায়। ফখরুল বলেছে অতিরিক্ত কাপড় আনতে, ক্ষমতা দখল করার জন্য, তো আমরা কি দাঁড়ায়া ললিপপ খাবো? যুবলীগের যুবকরা, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আমরাও প্রস্তুত আছি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরাও সেদিন আন্দোলনে নবতর পথযাত্রার সূচনা করবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আন্দোলনের মিছিল বয়ে নিয়ে যাব বিজয়ের বন্দরে।’
শেখ হাসিনা মাথানত করেন না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। ফখরুল সাহস পাচ্ছে বিদেশ থেকে। আমরা সাহস পাচ্ছি বিদেশি সমীক্ষা এসেছে আগামী নির্বাচনে শতকরা ৭০ ভাগ লোক শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট দেবে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন থেকে সাহস পাচ্ছি, শেখ হাসিনার মতো সাহসী নেতার নেতৃত্বে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ভয় করি না। যতক্ষণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে ততক্ষণ কোন ভয় নেই। আল্লাহ পাকও আমাদের সঙ্গে আছে। কারণ আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আছি। আমরা নীতির পক্ষে আছি, গণতন্ত্রের পক্ষে আছি, জনগণের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, থাকবে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঝে মাঝে আজগুবি বার্তা ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি বলে হাওয়া থেকে পাওয়া খবর।’
বিএনপির আন্দোলনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘টাকা পয়সার নতুন চালান আসছে। মালপানি ভালোই। গত ডিসেম্বরের চেয়েও সরবরাহ এখন একটু বেশি। টাকার বস্তার উপর বসে আছে। ফখরুল টাকা দিয়ে আন্দোলন (ডিসেম্বর,২০২২) হয়নি। ওই টাকার আন্দোলন গোলাপবাগের গরুর হাটের গর্তের মধ্যে চলে গেছে। এখন আবার আন্দোলন?’
পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন বিএনপিকে আন্দোলনের সাহস জোগাচ্ছে মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা জানি না। এ খবর হাচা না, মিছা? মিথ্যা কথা আর কত বলবা ফখরুল? পশ্চিমা বিশ্বের যারা বাংলাদশে এসেছে, যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, বিদেশে বলেছে, দেশে বলেছে, তারা বলেছে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। এ কথা আমেরিকাও বলেছে, এ কথা ইউরোপও বলে দিয়েছে। ফখরুল কোত্থোকে হাওয়া থেকে মিচা, আজগুবি খবর..।’
বিএনপিকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘ফাউল করলেই লাল কার্ড। লাল কার্ড তৈয়ার হয়ে আছে। আওয়ামী লীগের অ্যাকশন, যুবলীগের অ্যাকশন..ডাইরেক্ট অ্যাকশন। খেলা হবে। ডাইরেক্ট অ্যাকশন চলবে।’
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লংমার্চের নামে মূলত ‘লংড্রাইভ’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রবিবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে যেভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হয়েছিল, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত ঠিক একইভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজপথে নামার অপচেষ্টায় সাহস জোগাচ্ছে। এ সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজপথে বিভ্রান্তিকর কর্মসূচি পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্থায়ীভাবে বর্জন করেছে এবং দলটির নেতাকর্মীরা সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। ফলে তাদের পুনর্বাসনের কোনো রাজনৈতিক সুযোগ অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত বট বাহিনী ও সাইবার সেল ব্যবহারের মাধ্যমে জামায়াত নেতারা পরিকল্পিতভাবে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা কিংবা প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর তোয়াক্কা না করে তারা কেবল এই অপপ্রচারমূলক সাইবার বাহিনীর ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতে চাচ্ছেন।
দেশের কৃষকদের উদ্দেশ্যে সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী স্পষ্ট করেন, দেশে কোনো বাস্তব সারের ঘাটতি নেই। বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের একটি অংশ অবৈধ মজুতদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। সরকার খুব দ্রুত এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং সার বিতরণ ব্যবস্থাকে একটি স্বচ্ছ কাঠামোর আওতায় পুনর্বিন্যাস করার কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন এবং প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীনসহ স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর গুলশানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গোপন যোগাযোগ ও আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শনিবার সকালে ঝিনাইদহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির ভার্চুয়াল উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সচেতনতামূলক র্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ যৌথভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ঠিক একইভাবে জামায়াতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে আওয়ামী লীগ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস পাচ্ছে। জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রে আপত্তি না থাকার কথা জানালেও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এই ফ্যাসিবাদী শক্তির রাজনীতি আর কখনো মেনে নেবে না।
এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক র্যালিতে সরাসরি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী। কর্মসূচি চলাকালে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু ও আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা এবং যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাজ থেকে ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন চিরতরে নির্মূল করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সংগঠনটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, নারীদের সার্বিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে তাঁদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা অপরিহার্য। দীর্ঘ ত্যাগ ও প্রতিকূল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মহিলা দলের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্র পরিচালনায়ও পুরুষদের মতোই সমান পারদর্শী বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রত্যেকে সরাসরি মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য না হলেও তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তাই প্রতিটি নেতাকর্মীই এই জাতীয় নেতৃত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, নারীদের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। সরকারের এসব জনকল্যাণমূলক ও নারীবান্ধব উদ্যোগের বার্তা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অতীতের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মহিলা দলের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারীবান্ধব রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দলকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও জনমুখী করতে বড় ধরনের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। দীর্ঘদিন পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন বিএনপির অন্যতম অগ্রাধিকার।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে বিএনপির সামনে নতুন ধরনের সাংগঠনিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দলের অনেক নেতা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দায়িত্বে থাকায় সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন কাউন্সিল ও নিয়মিত কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের নবায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এই বাস্তবতায় জাতীয় কাউন্সিলকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন হিসেবে নয়, বরং নেতৃত্ব নবায়ন, তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং সংগঠনকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
কাউন্সিলের পথে বিএনপি: দলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আজ শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা, গ্রেপ্তার ও সাংগঠনিক নানা সীমাবদ্ধতায় দীর্ঘ সময় তা সম্ভব হয়নি।
দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, কাউন্সিল আয়োজনের একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় কাউন্সিল করা গেলে তা দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে করেন তিনি।
৭২ জেলা-মহানগর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ: কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পুনর্গঠনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কোথাও আংশিক কমিটি রয়েছে, কোথাও সম্মেলনও বাকি।
এসব কমিটি পুনর্গঠন, অসম্পূর্ণ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। দলের নেতারা মনে করছেন, তৃণমূলই রাজনৈতিক সংগঠনের মূল শক্তি। দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন না হলে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
তাই কাউন্সিলের আগে তৃণমূলকে সক্রিয় করার উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অঙ্গসংগঠনেও নেতৃত্বের নবায়ন: মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্রের হিসাবে, ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ৯টির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষ করে ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ এবং নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যেও তৎপরতা বেড়েছে। অনেক তরুণ নেতা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের ভূমিকার তথ্য দলের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরছেন। তবে নতুন নেতৃত্ব আনার অর্থ অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়া নয়। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে সংগঠনকে আরও কার্যকর করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন নেতারা।
ঢাকা দক্ষিণে তিন সম্ভাব্য নাম: সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই মহানগরেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
আলোচনায় রয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
তিনজনের রাজনৈতিক শক্তির জায়গাও আলাদা। ইশরাক হোসেনের বড় শক্তি পুরান ঢাকার সঙ্গে পারিবারিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ, তরুণদের মধ্যে পরিচিতি এবং আগের সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা। আব্দুস সালামের শক্তি নগর প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে হাবিব উন নবী খান সোহেলের রয়েছে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত যোগাযোগ।
তবে এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নিজস্ব ভোটভিত্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
আট বিশেষ টিমে ঢাকা দক্ষিণের প্রস্তুতি: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ইতিমধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে আটটি বিশেষ সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে।
এসব টিমের মাধ্যমে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা, জনপ্রিয়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, দল সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ টিমগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।
ঢাকা উত্তরে নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। তবে আসন্ন সিটি নির্বাচন এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বে আমিনুল হক, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং এবিএম আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদে আমিনুল হকের নামকে এগিয়ে রাখছেন মহানগর উত্তরের একটি অংশের নেতাকর্মী। এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও তাকে আলোচনায় রেখেছে। আর মামুন হাসানের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, নেতৃত্ব নির্ধারণে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্থানীয় নির্বাচন হবে তৃণমূলের পরীক্ষা: ঢাকার বাইরে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বিএনপির মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
তবে একাধিক প্রার্থী মাঠে নামার কারণে ভোট বিভক্তির সম্ভাবনা ঠেকাতে আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দল সমর্থিত প্রার্থী একজন থাকবে এবং সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে—এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের আগেই সতর্ক করা হচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা এবং একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূল সংগঠনের সক্ষমতা যাচাইয়ের বড় সুযোগ। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ: জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাস নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মহাসচিব পদটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কঠিন সময়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার নাম স্থায়ী মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল ও মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সংগঠন: বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি শক্তিশালী দলীয় সংগঠন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সাফল্য ধরে রাখা কঠিন। এ কারণে জাতীয় কাউন্সিল, জেলা-মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গসংগঠনে নতুন নেতৃত্ব এবং স্থানীয় নির্বাচন—সবগুলো উদ্যোগকে একই সাংগঠনিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়মিত কাউন্সিল ও নেতৃত্ব নবায়নের মাধ্যমে তৃণমূলে নতুন প্রাণসঞ্চার করতে চায় দলটি। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে সুযোগ দিলে সংগঠনে নতুন চিন্তা, কর্মপদ্ধতি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়বে বলে মনে করছেন নেতারা। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিএনপির সামনে এখন বড় লক্ষ্য—রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে আরও কার্যকর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনমুখী করা। জাতীয় কাউন্সিল সেই পুনর্গঠনের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে নতুন সাংগঠনিক শক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নবায়ন থেকে জেলা-মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গসংগঠনে তরুণদের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে বিএনপি এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের আরও সুসংগঠিত করার পথে এগোচ্ছে।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের তীব্র সমালোচনা করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার সকালে রাজধানীর ডিআরইউ সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক কর্মীসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দাবি করেন, সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা হলে পূর্ববর্তী সরকারের প্রতিটি ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অন্তত শতকোটি টাকার দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উন্মোচিত হবে।
নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, উপদেষ্টা পরিষদ ও বিশেষত ছাত্র উপদেষ্টাদের ভূমিকার কারণে সেই জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিপ্লবের নাম ভাঙিয়ে জনসমক্ষে আসা এসব ছাত্র উপদেষ্টা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকীর্ণ দলীয় ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। তাঁরা ফ্যাসিবাদী মানসিকতা বজায় রেখে সুবিধাবাদী নানা মহলের সঙ্গে আঁতাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে তরুণ সমাজের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জনআকাঙ্ক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
বর্তমান সরকারে নিজের ছয় মাসের দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেউ কোনো সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমাণ করতে পারবে না এবং যেদিন এমন অভিযোগের সত্যতা মিলবে, সেদিনই তিনি নিজ দায়িত্বে পদ ছাড়বেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাধারণ মানুষের দেওয়া করের টাকায় রাষ্ট্রের সব স্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়; তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত জবাবদিহির জায়গা থেকে জনগণের প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোপনে ভারত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে যাননি; পলাতক শেখ হাসিনা এবং শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের দেশে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কোনো অবস্থাতেই ভারত সফর করবেন না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিকে একটি সামগ্রিক জাতীয় সংকট আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি কাম্য ছিল। অথচ জামায়াতসহ বিরোধী শিবির বাস্তব সমাধানের পথ না খুঁজে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অজুহাতে ধারাবাহিক লংমার্চের ডাক দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্মসূচি পালনের পর রংপুরে পুনরায় লংমার্চের ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে লংমার্চ করে কি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার নিরসন সম্ভব।
জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থে দলটি যেকোনো পক্ষের সঙ্গেই সমঝোতা করতে পারে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের গোপন চক্রান্তের অংশ হিসেবেই জামায়াত ভারতের সঙ্গে যোগসাজশ করে দেশকে অশান্ত করতে মাঠে নেমেছে এবং বর্তমানে জামায়াত আমিরের রাজনৈতিক ভাষা ও আওয়ামী লীগের বক্তব্য কার্যত একই সূত্রে গাঁথা। এই ষড়যন্ত্র রুখতে জামায়াতের অতীত ও বর্তমান চরিত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে পূর্ণ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় ঝিনাইদহসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসন এবং জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় তরুণ ও কিশোরদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেন। এ কর্মসূচিতে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সম্পাদক এম শাহজাহান আলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সমীনুজ্জামান সমীন এবং জেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ইমরান হোসেনসহ দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ মেলার বিষয়ে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এই নোটিশ পাঠান।
গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। নোটিশে দাবি করা হয়, আনুষ্ঠানিক তদন্ত কিংবা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য দেওয়ার ফলে আসিফ মাহমুদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিডিয়া ট্রায়ালের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের একটি বার্তা আদান-প্রদান গ্রুপে দুদক কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যটিকে ‘ভুলবশত’ আখ্যা দিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’র অংশটুকু বাদ দিতে অনুরোধ জানালেও, প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি।
আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসংগতি তুলে ধরে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারিক আদেশ কার্যকরের অংশ হিসেবে ১১২ জন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে সম্পূর্ণ অবান্তর উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন, অথচ উক্ত পদোন্নতির ঘটনাটি ঘটে তাঁর পদত্যাগের পাঁচ মাস পর ২০২৬ সালের ১১ মে, অর্থাৎ পরবর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মাথায়।
নোটিশে উক্ত দুদক কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গণমাধ্যম-এ প্রচারিত বক্তব্যটি নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার এবং ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিতর্কিত বক্তব্যটি প্রত্যাহার করা না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানিসহ দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার নম্বরে পরিবর্তন এনে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে বর্তমান বিএনপি সরকারের ‘নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ক্ষমতাসীনরা ব্যাপক মাত্রায় দলীয়করণের চর্চা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সচিবালয়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিতর্কিত ও অযোগ্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা। কিন্তু বর্তমান সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন এক নতুন নিয়মের প্রচলন করতে যাচ্ছে, যার ফলে প্রকৃত মেধাবীদের অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিস্তর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উল্লিখিত গ্রেডগুলোর নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও ভাইভাতে সমান ৫০ নম্বর বরাদ্দের বিষয়টিকে গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এই জামায়াত নেতা। তার মতে, লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে যেকোনো চাকরিপ্রার্থীর মেধা, প্রস্তুতি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়। উপরন্তু, এসব খাতা পুনরায় মূল্যায়ন বা সংরক্ষণের সুযোগ থাকে। পক্ষান্তরে, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অনেকাংশেই পরীক্ষকের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভর করে। এমন পরিস্থিতিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি করা হলে তা কৃত্রিমভাবে প্রার্থীদের মেধার পার্থক্য তৈরি করবে, যা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা যোগ্য প্রার্থীদের তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে।
নিম্ন গ্রেডের এসব চাকরিতে দেশের অসংখ্য বেকার তরুণ-তরুণী অংশ নেন, যাদের বেশিরভাগই অত্যন্ত কষ্টে ও সীমিত খরচে নিজেদের প্রস্তুত করেন। তাই কেবল ভাইভাতে বেশি নম্বর রেখে তাদের লিখিত পরীক্ষার ফল উল্টে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে জানান গোলাম পরওয়ার। জালিয়াতি বা প্রক্সি ঠেকানোর খোঁড়া যুক্তিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর বদলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি, কড়া ডিজিটাল নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে এসব অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।
অতীতে দেশের প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের যে অপসংস্কৃতি ছিল, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মানুষ তার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে। পুনরায় নতুন কোনো মোড়কে সেই পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা অনুচিত। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রশাসন চাই, যেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় হবে তার মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতা, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়’।
সবশেষে সরকারের প্রতি বিতর্কিত এই নিয়োগ বিধিমালা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ঘুস বাণিজ্য, রাজনৈতিক সুপারিশ ও স্বজনপ্রীতির মতো অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই নতুন বাংলাদেশে অতীত বৈষম্য ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি দেশের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তাঁর মধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিচ্ছবি বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্তারিত বক্তব্যে তিনি এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ওই বার্তায় রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক অবস্থানের দ্বিমুখী চরিত্র দাবি করে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘রুমিন ফারহানা আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়! যখন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের ফেসবুক পোস্ট আর রুমিন ফারহানা আপার ফেসবুক পোস্টের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না, তখন বলতেই হয়, জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি রুমিন ফারহানা আপা! হয়তো এ পারফরম্যান্স দেখে রুমিন ফারহানা আপাকে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব দিতে পারে শেখ হাসিনা।’ অতীতে বিএনপিতে থাকাকালীন অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান তৎপরতার বৈপরীত্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি গতকাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার বক্তব্য তার অতীত বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক! ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়ার আগে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী এমপি হয়ে সংসদ গিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের ফটোকপি গতকাল বিএনপির বিরুদ্ধে উত্থাপন করেছেন রুমিন ফারহানা আপা!’
সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সমর্থন জানানোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী উল্লেখ করেন, ‘কিন্তু তিনি কি ভুলে গেছেন যে, কিছুদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সময় জামায়াতের ৯০ জন এমপি কিভাবে হট্টগোল করছিল? নিজেরা যে সংস্কৃতির সূচনা করেছে, সেই ধরনের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কথা বলা তো বেমানান!’ এর পাশাপাশি সংসদে জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্যেরও কড়া জবাব দেন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের শাসনকাল নিয়ে মাসুদের সমালোচনার জবাবে রাশেদ খাঁন স্পষ্ট করেন যে, সেটি ছিল বিএনপি ও জামায়াতের সমন্বয়ে গঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ জোট সরকার এবং ওই মন্ত্রিসভায় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী খোদ কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে সেই সরকারের দিকে আঙুল তোলা প্রকারান্তরে নিজেদের কর্মকাণ্ডেরই বিরুদ্ধাচরণ।
সংসদের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ বিশ্লেষণ করে রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, ‘পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, জাতীয় সংসদে জামায়াত এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানারা সবাই আওয়ামী বয়ানের পক্ষে বেঁধেছে জোট!’ বক্তব্যের ইতি টানতে গিয়ে অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কের অবতারণা করে তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেন, ‘কিন্তু জাতি কি ভুলে গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা আপা হাসনাত আবদুল্লাহকে ফকিন্নির বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছিলেন?’
কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদরাসায় আজ মঙ্গলবার আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম দেশের বর্তমান অবস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বর্তমান শাসনব্যবস্থা দেশটিকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দুর্নীতির ভয়াবহতা তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, “গত নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল, তবু আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমলের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। মনে হচ্ছে পাতি শৃগালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়েছি আমরা।”
দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আদর্শিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রেজাউল করীম। তিনি দাবি করেন, দলটি তাদের লোগো ও ইশতেহারে ইসলামি ভাবধারা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী দলের লোগো থেকে আকিমুদদ্বিন কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। এতে ওখানে ইসলাম কথাটি আর থাকে না। তাই ইসলামী দল বলাও যায় না। গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াত যে ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে, এ কথা কোথাও বলেনি। পাশাপাশি জামায়াতের আমির সে সময় বলেছিলেন- তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবেন না, প্রচলিত আইনে চালাবেন। সব মিলিয়ে বলা চলে জামায়াত আর ইসলামী দল নয়।” বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে দলটির অতীত কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করেছে। সেখান থেকে ফিরে সংসদে দলের আমির বলেছেন- বিদ্যুতের সমস্যা বর্তমান সরকারে সৃষ্ট নয়। তাহলে এতো তেল গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ কেন করলেন? এমন দ্বিমুখি আচরণ কেন?”
বিএনপির কর্মকাণ্ড ও প্রতিশ্রুতির বিষয়েও চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে দলটি বিচ্যুত হচ্ছে। বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি নির্বাচনের আগে ওয়াদা করেছিল ক্ষমতায় গেলে শরিয়াবিরোধী কোনো আইন করবে না। কিন্তু সে ওয়াদা রাখছে না। সংসদে তারা এরই মধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদন দিয়েছে। তারা শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না আসলে আমরা প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হবো।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ ধরে অটুট থাকবে।
তিনি বলেন, সম্প্রীতির এই বন্ধন যুগ যুগ ধরে চর্চিত ও লালিত হবে। আমাদের যে জাতীয় দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, সেটাই ধারণ করে।
আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের এই মৃত্তিকার গভীরে আছে আমাদের সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আমাদের ভ্রাতৃত্ব। আমরা একে অপরের সাথে আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকেই একটি জাতীয় সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এই জাতীয় সত্তার একটা দার্শনিক রূপ দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তা হলো- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘এই কাঠামোর মধ্যে, এই ডালির মধ্যে, এই একটি পাত্রের মধ্যে প্রতিটি ধর্ম, সম্প্রদায় ও সমস্ত নৃগোষ্ঠী রয়েছে। প্রত্যেকেই এখানে তার আসন পেতে পারে। প্রত্যেকেরই এখানে জায়গা আছে। প্রত্যেকেই গর্ব করে বলতে পারে আমরা বাংলাদেশি।’
তিনি বলেন, আমরা যুগ যুগ ধরে একই সমাজে, একই গ্রামে, একই মহল্লায় বসবাস করেছি। নানা ধরনের শক্তি ও চক্রান্তকারীরা এই অটুট বন্ধন ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন ধ্বংস করার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সবার মাঝে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আমরা হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় এবং নৃগোষ্ঠী একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি এবং আমাদের সম্প্রীতি রক্ষা করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে, ঈদ-মিলাদুন্নবীতে অংশগ্রহণ করি এবং প্রত্যেকেই সেই উৎসবের আনন্দ ভোগ করি।’
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, আজকে তিনটি ধর্ম সম্প্রদায়ের তিনটি ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে— হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়, খ্রিস্টান ধর্ম সম্প্রদায় এবং বৌদ্ধ ধর্ম সম্প্রদায়। এসব ট্রাস্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের দেবালয় ও উপাসনালয়গুলো যাতে সমৃদ্ধশালী ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় এবং পূজারি ও ভক্তরা সেখানে সুন্দরভাবে প্রার্থনা ও আরাধনা করতে পারেন, সে বিষয়টি ট্রাস্ট দেখবে।
ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যরা স্ব স্ব সম্প্রদায়ের অত্যন্ত যোগ্য ও দক্ষ মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখবেন, পর্যালোচনা করবেন এবং পরিচালনা করবেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বস্থানীয় মানুষের মধ্যে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। তারা কেউ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নন, তারা বিএনপিতে গোটা জাতির নেতৃত্ব দেন।
লংমার্চের নামে বিরোধী দল ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে বিরোধীরা রাজপথে আন্দোলন করে বেড়ালেও সাধারণ জনগণ তাদের এই ভূমিকা ভালোভাবে দেখছে না। দায়িত্বশীল বিরোধী দলের মতো সংসদে নিজেদের দাবি বা প্রস্তাব না তুলে তারা রাজপথ বেছে নিয়েছে, যা মূলত সরকারের সার্বিক উন্নয়ন ঢাকা দেওয়ারই অপচেষ্টা।’ রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিজভী।
লংমার্চের নামে বিরোধী দল গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বিরোধী দল রাজপথে লংমার্চের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে এবং দলকে সেগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে দেখা যাচ্ছে, যা স্পষ্টত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। জনগণের সামনে যেসব শব্দ উচ্চারণ করা যায় না, তা প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে বিরোধী দল তাকে দমন-পীড়ন বলে দাবি করে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।
জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল শুধু সমালোচনাই করে যাচ্ছে, অথচ সংকট নিরসনে তাদের গঠনমূলক কোনো প্রস্তাবনা নেই। তারা সংসদে এই বিষয়ে কোনো পরামর্শ না দিয়ে বাইরে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক অর্জনগুলোকে তারা জনগণের সামনে তুলে না ধরে আড়াল করার চক্রান্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যবহৃত সব বিলবোর্ড ও ব্যানার অবিলম্বে খুলে ফেলতে হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, মাহমুদুর রহমান সুমন, আসাদুল করিম শাহীন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, জাহিদুল কবির প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধী দল গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে রাজপথে লংমার্চের নামে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি বা প্রস্তাব পেশ না করে রাজপথ বেছে নেওয়া মূলত সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে আড়াল করার একটি ব্যর্থ অপচেষ্টা মাত্র। সাধারণ মানুষ বিরোধীদের এই নেতিবাচক রাজনীতিকে মোটেও ইতিবাচকভাবে দেখছে না বলে তিনি দাবি করেন।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, লংমার্চের কর্মসূচি পালনকালে বিরোধী দল সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশ্রাব্য শব্দ ব্যবহার করছে, যা স্পষ্টতই অপরাধমূলক এবং কুরুচিপূর্ণ। এই ধরণের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তারা সেটিকে ‘দমন-পীড়ন’ বলে প্রচার করে বিশ্বজুড়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রিজভী মনে করেন, এটি মূলত গণতন্ত্র বিনষ্ট করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।
জ্বালানি সংকট এবং দেশের অর্থনৈতিক অর্জন নিয়ে বিরোধীদের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক সংবাদগুলো তারা আড়াল করতে চাইছে। জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে সহযোগিতা না করে তারা কেবল ভিত্তিহীন সমালোচনাতেই লিপ্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তারা জাতীয় সংসদে গঠনমূলক প্রস্তাব না দিয়ে বাইরে অরাজকতা সৃষ্টির পথ বেছে নিচ্ছে?
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও জানান, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পাঁচ দিনব্যাপী সকল কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই উপলক্ষে তিনি দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিবেশ রক্ষায় যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে লাগানো সকল বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করার জন্য তিনি নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।