আন্দোলেনের নামে রাজধানী অবরোধ করলে বিএনপির অবস্থা শাপলা চত্বরের চেয়েও করুণ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘অবরোধ করলে বিএনপি অবরোধ হয়ে যাবে। এখন চুরি করে ঢুকছো (ঢাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আগমন) ? এরপরে পালাবার পথ পাবা না। শাপলা চত্ত্বর থেকে শেষ রাতে সবাই পালায় গেল না? এবিএনপির আরও করুণ পরিণতি হবে।’
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে যুবলীগ আয়োজিত যুব সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সোমবার সাড়ে ৩টার পর থেকে যুবলীগের সমাবেশ শুরু হয়। কিন্তু দুপুর একটার পর থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা এবং গাজীপুর জেলা ও মহানগর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা আসতে শুরু করেন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরেশের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শুরু করে ১০ মিনিটের বেশি সময় বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের। তিনি বিএনপির ১৮ অক্টোবরের কর্মসূচি, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ওই দিন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশনা দেন কাদের।
যুবলীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা সিটির খবর রাখেন? ১৮ (অক্টোবর) তারিখ সামনে রেখে মির্জা ফখরুল.. বিএনপি ডিসেম্বর মাসের (২০২২) মতো তাদের নেতাকর্মীদের সারা বাংলাদেশ থেকে ঢাকা আনতে শুরু করেছে। হোটেলগুলোতে খালি নাই। সব সিট তারা বুক করে ফেলেছে। ঢাকা শহরে নতুন বাড়ি হচ্ছে, খালি ফ্ল্যাট আছে সব তারা বুক করে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘আবার ডিসেম্বর মাসের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম। ফখরুলের আন্দোলন, বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপিই হচ্ছে ভুয়া। এরা ঢাকা শহরে লোক জমায়েত করবে, অবরোধ করবে, এই শহরে সচিবালয় থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবরোধ করার কর্মসূচি তারা ১৮ তারিখে ঘোষণা করবে। তারা সেই ষড়যন্ত্র করছে।’
১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা কর্মীদের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা জমায়েত হব। এখন প্রবেশ করছো (বিএনপি) চুরি করে, চুরি করে এসে এস আত্মীয়-স্বজনের বাসায়। ফখরুল বলেছে অতিরিক্ত কাপড় আনতে, ক্ষমতা দখল করার জন্য, তো আমরা কি দাঁড়ায়া ললিপপ খাবো? যুবলীগের যুবকরা, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আমরাও প্রস্তুত আছি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরাও সেদিন আন্দোলনে নবতর পথযাত্রার সূচনা করবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আন্দোলনের মিছিল বয়ে নিয়ে যাব বিজয়ের বন্দরে।’
শেখ হাসিনা মাথানত করেন না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। ফখরুল সাহস পাচ্ছে বিদেশ থেকে। আমরা সাহস পাচ্ছি বিদেশি সমীক্ষা এসেছে আগামী নির্বাচনে শতকরা ৭০ ভাগ লোক শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট দেবে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন থেকে সাহস পাচ্ছি, শেখ হাসিনার মতো সাহসী নেতার নেতৃত্বে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ভয় করি না। যতক্ষণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে ততক্ষণ কোন ভয় নেই। আল্লাহ পাকও আমাদের সঙ্গে আছে। কারণ আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আছি। আমরা নীতির পক্ষে আছি, গণতন্ত্রের পক্ষে আছি, জনগণের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, থাকবে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঝে মাঝে আজগুবি বার্তা ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি বলে হাওয়া থেকে পাওয়া খবর।’
বিএনপির আন্দোলনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘টাকা পয়সার নতুন চালান আসছে। মালপানি ভালোই। গত ডিসেম্বরের চেয়েও সরবরাহ এখন একটু বেশি। টাকার বস্তার উপর বসে আছে। ফখরুল টাকা দিয়ে আন্দোলন (ডিসেম্বর,২০২২) হয়নি। ওই টাকার আন্দোলন গোলাপবাগের গরুর হাটের গর্তের মধ্যে চলে গেছে। এখন আবার আন্দোলন?’
পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন বিএনপিকে আন্দোলনের সাহস জোগাচ্ছে মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা জানি না। এ খবর হাচা না, মিছা? মিথ্যা কথা আর কত বলবা ফখরুল? পশ্চিমা বিশ্বের যারা বাংলাদশে এসেছে, যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, বিদেশে বলেছে, দেশে বলেছে, তারা বলেছে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। এ কথা আমেরিকাও বলেছে, এ কথা ইউরোপও বলে দিয়েছে। ফখরুল কোত্থোকে হাওয়া থেকে মিচা, আজগুবি খবর..।’
বিএনপিকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘ফাউল করলেই লাল কার্ড। লাল কার্ড তৈয়ার হয়ে আছে। আওয়ামী লীগের অ্যাকশন, যুবলীগের অ্যাকশন..ডাইরেক্ট অ্যাকশন। খেলা হবে। ডাইরেক্ট অ্যাকশন চলবে।’
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ, গাজীপুর এবং রাজধানীর উত্তরায় দিনব্যাপী গণসংযোগ ও জনসভায় অংশ নেবেন। আজ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত টানা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী সফর শুরু হবে। দিনের প্রথম কর্মসূচিতে তিনি ময়মনসিংহে যাবেন। সেখানে দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। ময়মনসিংহের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঢাকার পথে রওয়ানা হবেন এবং পথিমধ্যে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে যোগ দেবেন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছয়টায় গাজীপুরের রাজবাড়ি মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি ভাষণ দেবেন। এরপর সেখান থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখ উত্তরায় আসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সন্ধ্যা সাতটায় উত্তরা আজমপুর ঈদগাহ মাঠে দিনের সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। টানা কর্মসূচি শেষে রাত আটটার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরবেন বলে দলীয় শিডিউলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দিতে তারেক রহমান ক্লান্তিহীনভাবে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। আজকের এই তিন জনসভাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই, কারণ একাত্তরই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, অথচ যারা শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, আজ তারা আবার দেশ শাসনের জন্য ভোট চাচ্ছে। তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ করবেন না। আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই। কারণ ওটাই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এ কথা বলেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করে—তারা সংখ্যালঘু, তাদের ওপর নির্যাতন হতে পারে। কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিষ্কার করে বলে গেছেন—এই দেশের সংখ্যালঘু কেউ নাই সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশের সবাই সমান নাগরিক। তাই কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই বুক উঁচু করে দাঁড়াবেন, আমরা আপনাদের পাশেই থাকব।’
বিএনপি মহাসচিব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, বিএনপি সবসময় আপনাদের অধিকার রক্ষা করবে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার, বিশেষ করে মা-বোনদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি আপসহীন থাকবে।’
এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যে সময় কোনো রাস্তা ছিল না ঘাট ছিল না, বিদ্যুৎ ছিল না সেই সময় আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছিলেন। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যা করেছিলাম গত ১৫ বছরে তার সংস্কার পর্যন্ত হয়নি। বর্তমানে রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসলে ধুলা-বালি খেতে হয়। আমি খেটে খাওয়া মানুষের এমপি ছিলাম আপনাদের সমর্থন আর ভালোবাসায় খেটে খাওয়া মানুষের এমপি হয়েই আপনাদের পাশে থেকে বাকি জীবন সেবা করে যেতে চাই।
বরগুনা - ২ (পাথরঘাটা- বামনা- বেতাগী) আসনের ৪নং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বরগুনা- আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় গত ১৫ বছরে কোন উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি আমার মেধা-শ্রম দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি বরগুনা- ২ কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কর্মসংস্থান তৈরির জন্য জাহাজ রিপেয়ারিং কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই। আমার মৎসজীবী ভাইদের পাশে আবারও দাঁড়াতে চাই ইনশাল্লাহ।
নূরুল ইসলাম মনি তার বক্তব্যে আরো বলেন,যারা এখনো মানুষের হক মেরে খান যারা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে লিপ্ত তারা ভালো হয়ে যান। আমি কোনো সন্ত্রাসী চাঁদাবাজকে কোনোরকম অন্যায় কাজ করতে দেব না। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে নিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট পতিত স্বৈরাচার। আমি যদি নির্বাচিত হই যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন ইনশাল্লাহ আমি বাকি জীবন পূর্বে ও যেমন আপনাদের কল্যাণে কাজ করেছি ভবিষ্যতেও আপনাদের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, যারা দেশ চায়নি, যাদেরকে আপনারা কখনো চোখে ও দেখেননি তারা এখন দেশের মালিকানা চায়। তারা আপনাদের অধিকার ভোট চায়।
জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় নিয়ে আপনারা ঘরে ফিরবেন। একটি চক্র ভোট চাওয়ার নামে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় পরিণত করার পাঁয়তারা করছে। তাদের থেকে সাবধানে থাকবেন।
জনসভায় সর্বস্তরের জনগণ থেকে শুরু করে বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের ডামের মোড় এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের ব্যানারে গত রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে কে বা কারা ওই এলাকায় টানানো নির্বাচনী প্রচারণামূলক ব্যানারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সোমবার সকালে পোড়া ব্যানার দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠলেও এ ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মহিলাদের অংশগ্রহণে উঠান বৈঠক হয়েছে। সোমবার দুপুরে গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে সৈয়দপুর খেলার মাঠে এ বৈঠক হয়।
উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম খান তারেকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর কন্যা ডা. সাফওয়াত বিনতে সালাম সাবা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ইদ্রিস মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল সরকারসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, পরাজিত শক্তি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করে তাদের ঐক্যকে নস্যাৎ করে দিতে হবে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডী ফুলতল মোড়ে এনসিপির নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সামনে আছে। যে দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর অপেক্ষা করেছিলাম।
সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। এখন আমাদের রক্ত দিতে হবে না। শুধুমাত্র ব্যালেটে সীল দিতে হবে। গণ ভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে যা অর্জন করেছি তা রক্ষা করতে পারবো।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ১৭ বছর ধরে সংস্কার সংস্কার করে আসছিল। যখন সংস্কারের সময় আসলো তখন তাদের কথা বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক এ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জুবায়ের হাসান আরিফ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বদরুল হক, বোয়ালখালী এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন প্রমুখ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের দর্জি পাড়ায় শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারত করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দরা।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য ২১ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বহিষ্কৃতরা হলেন- বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মজিবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ফকির, টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিম, কিশোরগঞ্জ জেলাধীন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাড. মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারুইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
উল্লিখিত নেতাদের দলের প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শেরপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি জামায়াত নেতাদের বিভিন্ন দেশের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জামায়াতের নেতৃবৃন্দ গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সাথে বৈঠক করেছেন। এখন বৈঠক করবেন বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস ও কূটনীতিকদের সঙ্গে। বৈঠক করেন কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু গোপনে কেন? এটা আমাদের চিন্তিত করেছে। নিশ্চয় এর মধ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে।’ তিনি মনে করেন, এই গোপনীয়তা রাজনৈতিক মহলে নানা সন্দেহের উদ্রেক করছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জোট ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে রেজাউল করিম বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে আমরা ইসলামের একটি বাক্স মনে করেছিলাম। কিন্তু আজ জোট থেকে আমরা আলাদা হয়েছি, কারণ সেই ইসলামের বাক্সটি ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।’ পশ্চিমা ধাঁচের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই ইসলামী নিয়ম-আদর্শ অনুযায়ী। কিন্তু তারা যে নিয়মনীতি চালু করতে চায়, তা আমেরিকার নিয়মনীতি। এসব নীতিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয় না। এটি সম্পূর্ণ ধোঁকাবাজি। আমরা যে কারণে একসঙ্গে ছিলাম, সেই কারণেই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছি।’ ইসলামী আন্দোলনের আমির দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তারা একা হয়ে যাননি বরং মহান আল্লাহ এবং দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের পাশে রয়েছে।
উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি খন্দকার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মুফতি শহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বহু নেতাকর্মী বক্তব্য প্রদান করেন। চরমোনাই পীরের ভাষণ শেষে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিশাল পথমিছিল বের করা হয়, যা শ্রীবরদী বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের মাধ্যমে হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি প্রকৃত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমেই সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার দুর্গম বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আবদুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়া শক্তি যাদের মধ্যে কখনোই কোনো রাজনৈতিক চরিত্র বিদ্যমান ছিল না।
আওয়ামী লীগের প্রতি এখনো যারা সহানুভূতি রাখেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন। কারণ, আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি। তারা বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। অবশেষে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং নিজেদের দেশ ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে।’
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন যে, শেখ হাসিনা একা পালিয়ে গেলেও দলের সাধারণ কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তিনি কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবার তো আর দিল্লি যাওয়ার সুযোগ হয়নি, শেখ হাসিনাও সবাইকে নিয়ে যেতে পারেনি। দেশে যারা রয়ে গেছে, আমাদের অনেক ভাই-বন্ধু, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত ছিলেন, তারা রাজনীতি করতেই পারেন। সেটি তাদের স্বাধীনতা। তবে আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন।’ তিনি প্রত্যাশা করেন যে সাবেক আওয়ামী লীগ কর্মীদের ভুল এখন ভেঙেছে এবং তারা এখন থেকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবেন।
একই সঙ্গে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট চাওয়া একটি দলের সমালোচনা করে তিনি জনগণকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই পথসভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলটিকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি জামায়াত নেতার এই বক্তব্যকে ‘রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনা’ এবং ‘পদ্ধতিগত নারীবিদ্বেষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে নাছির উদ্দিন নাছির উল্লেখ করেন, জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা কেবল ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপমান নয়; বরং এটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতি ও উচ্চশিক্ষার ইতিহাসের প্রতি চরম ধৃষ্টতা। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডাকসুর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা জামায়াতের দেউলিয়া রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
ছাত্রদল সম্পাদক অভিযোগ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্টতই নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মানসিকতার পরিচায়ক। তিনি একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যাদের রাজনৈতিক ডিএনএতে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ইতিহাস মিশে আছে, তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি এই দলটি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে তারা নারীদের গৃহবন্দি করে মধ্যযুগীয় কায়দাঁয় দেশ পরিচালনা করবে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি থামিয়ে দেবে।
বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনায় যারা লম্বা বিবৃতি দেন, জামায়াত নেতার এমন জঘন্য বক্তব্যের পর তাদের রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে বর্তমান ডাকসু এখন ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছে। তিনি একে ডাকসুর জন্য লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন নাছির উদ্দিন। তিনি সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে বয়োজ্যেষ্ঠদের লাঞ্ছিত করা এবং শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানোর মতো অমানবিক আচরণের অভিযোগ আনেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, সর্বমিত্র চাকমা ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত এবং তার এসব স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের পেছনে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ‘জুলুমবাজের’ ঠাঁই হতে পারে না উল্লেখ করে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমানের ধমনীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রক্ত প্রবাহিত। তাই দেশপ্রেমিক তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকবে।
সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের কখনোই প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র বা দেশপ্রেম ছিল না। তারা বাংলাদেশকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেকে বাঁচাতে একাই পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তার সব কর্মী বা সমর্থক দেশ ছাড়ার সুযোগ পাননি। যারা দেশে রয়ে গেছেন, তাদের রাজনীতি করার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীলদের ভুল পথ পরিহার করে স্বাধীনতাপন্থি শক্তির পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একটি বিশেষ মহল ধর্মের দোহাই দিয়ে কিংবা ‘জান্নাতের টিকিট’ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি ভোটারদের এসব বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার অনুরোধ জানান। বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যে নেতা নিজের কর্মী-সমর্থকদের বিপদে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, জনগণ আর এমন নেতা চায় না। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, যারা আওয়ামী লীগ করত, শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিত এবং নৌকায় ভোট দিত, তাদের সবাইকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতৃত্বের পুনরাবৃত্তি দেশবাসী আর দেখতে চায় না।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোট দেওয়া নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার, কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার জনগণকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অধিকার চাইতে গিয়ে মানুষকে জেল খাটতে হয়েছে, মারধর ও গুলির শিকার হতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে টিকতে না পেরে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিগত দিনের সেই দুঃশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
গণসংযোগে মির্জা ফখরুল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর দলের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, আমরা আমানতের খেয়ানত করি না। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, চাকরি বা নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ বাণিজ্য বরদাস্ত করা হবে না। স্কুলের শিক্ষক কিংবা দপ্তরি নিয়োগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চাকরির জন্য আমরা নিজেরা যেমন কোনো টাকা নেব না, তেমনি অন্য কাউকেও নিতে দেব না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের বিষয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, যারা একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছে এবং এ দেশের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, তারা এখন আবার ভোট চাইতে আসছে। যে দল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ না করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। পথসভায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ মীর মুগ্ধের যমজ ভাই মীর স্নিগ্ধ অবশেষে নিজের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলমান নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা ‘ভাই ব্যবসা’ করতে নয়, বরং নিজের ভাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই তিনি রাজনীতির মাঠে নেমেছেন। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে স্নিগ্ধ উল্লেখ করেন, ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন যে, প্রচলিত পথে ন্যায়বিচার পাওয়া ক্রমশ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে উঠছে। বিচার আদায়ের এই সংগ্রামকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতেই তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, মাত্র ২০ টাকার একটি ফরম পূরণ করে তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েই কেবল হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো কার্যকরভাবে আদায় করা সম্ভব।
নিজের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরে স্নিগ্ধ জানান, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং ভাই মুগ্ধসহ জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিনা পারিশ্রমিকে ‘জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দিনরাত কাজ করেছেন। তিনি স্মরণ করেন, পাবলিক বাসে চড়ে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ফাইলের পেছনে ছুটতে গিয়ে তাঁকে অনেক ধকল সইতে হয়েছে। এমনকি এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নিজের পেশাগত জায়গা অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং থেকেও নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যার ফলে তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারও থমকে গিয়েছিল। তবু তিনি হাল ছাড়েননি, কারণ তাঁর কাছে ভাইয়ের হত্যার বিচার এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই ছিল মুখ্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ঘিরে ওঠা ‘ভাই ব্যবসা’ বা ভাইয়ের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন স্নিগ্ধ। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া কাউকে অসৎ বা সুবিধাবাদী বলা কতটা যৌক্তিক? তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজে এমন একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে যে দায়িত্ব পালন বা রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া মানেই অসৎ উদ্দেশ্য থাকা। স্নিগ্ধ জোর দিয়ে বলেন, যদি তিনি ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ বা আখের গোছানোর চিন্তা করতেন, তবে রাজনীতির এই কণ্টকাকীর্ণ পথ বেছে নিতেন না। রাজনীতিকে যারা ব্যবসায় পরিণত করেছে, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয়, এটি জনগণের অধিকার আদায়ের মাধ্যম। তিনি মূলত সেই প্রচলিত ধারার বাইরে এসে ভাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ করতেই এই পথে পা বাড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।