রাজনৈতিক নানা মেরুকরণের ফলে দেশের বড় দুই দলের এক সময়ের মিত্ররাই এখন তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক সময় জোটে থাকা, সমঝোতায় থাকা রাজনৈতিক দল ও নেতারা এখন বিরোধী রাজনৈতিক বলয়ে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির মিত্ররা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বলয়ে অবস্থান নিয়েছে।
‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’- বহুল প্রচলিত এই বাক্যটির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় যখন ভোটের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আদর্শগত মিল না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দল তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট গঠন হয়েছিল ২০০৪ সালে। জোটের শরিক দল হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণফোরাম ছিল। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগেই ওই দলগুলো জোট ছেড়ে চলে যায়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে জোটটি। ক্ষমতার বলয়ে থাকাবস্থায় ভাঙনের মুখে পড়ে জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল ও জাতীয় পার্টি।
নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে সিপিবি-বাসদ। এসব কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের অন্যতম নেতা ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের বদলে বিএনপি বা অন্যদের বসানো আমাদের লক্ষ্য নয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, ঐক্য ন্যাপ ও বাংলাদেশ জাসদের সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’
আদর্শগত মিল না থাকায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে বাম জোটে নেই বলে জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আদর্শিক অবস্থান থেকে বাম জোট আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বিদলীয় ধারার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করতে চাইছে।
সিপিবি ও বাসদ বর্তমানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক দল ছিল বিএনপি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণফোরাম ভেঙে যায়। দলটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী আলাদা গণফোরাম তৈরি করেন। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হন মিজানুর রহমান।
গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতির জন্য গণতন্ত্রহীনতা বড় সংকট আখ্যা দিয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণে ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন ড. কামাল হোসেন। সেই সঙ্গে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে সংলাপের আয়োজন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে জাসদ ভেঙে শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান গঠন করেন বাংলাদেশ জাসদ। দলটি চলতি বছরে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। বাংলাদেশ জাসদ বর্তমানে ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। মূলত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ১৪ দলীয় জোট ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাসদ।
দলটির সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবার অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন চাই। বর্তমান সরকার যেভাবে নির্বাচন করতে চাচ্ছে সেই নির্বাচনে অংশ নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এখন আমরা কোনো জোটে নেই।’ ভবিষ্যতের রাজনীতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওই বছরই গঠন করেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন রাজনৈতিক দল। দলটি ২০০৮ সালে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি দলটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জাতীয় যুক্তফ্রন্ট গঠন হয় বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ও গণফোরামের নেতৃত্বে। পরে গণফোরাম বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলে বিকল্প ধারা ওই জোটে যোগ দেয়নি। বিকল্প ধারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনে জয়লাভ করে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দলটির মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা মনে করি সবাই মিলে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করা উচিত। আমরা আশা করি বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নেব।’
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই শমসের মুবিন চৌধুরী বিএনপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূতের বিএনপির বৈঠকের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর আগে দলটির কূটনীতিক তৎপরতায় কাজ করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দেন। বর্তমানে তৃণমূল বিএনপি নামে রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শমসের মুবিন চৌধুরী। দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলম খন্দকার।
উল্লেখ্য, এক সময়ে বিএনপির ডাকসাইটে নেতা ও বারবার মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ২০১৫ সালে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেছিলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তৃণমূল বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন শমসের মুবিন চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনমুখী একটি দল। আমরা নির্বাচন করতে চাই। অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে আমরা আশা করছি।’
২০০৭ সালে শেখ শওকত হোসেন নিলু বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলটি ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১০ হাজার ৩৪৮ ভোট পায় দলটি। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে যোগ দেয় এনপিপি। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় জোটের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় শেখ শওকত হোসেন নিলুর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করেন তিনি। ২০১৭ সালে ৬ মে মারা যান নিলু। পরবর্তীতে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তার ভাই শেখ ছালাউদ্দিন ছালু। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি এনপিপির নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ও গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চের চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশ করা, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই হানাহানি বাদ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে হোক বা সমঝোতার মাধ্যমে হোক একটা সুষ্ঠু ধারা দেশে ফিরিয়ে আনতে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেতনা বিএনপিই ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
যশোরের মণিরামপুরে উপজেলা বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান মফিজের সুস্থতা কামনায় পৌরসভার ৫ নং তাহেরপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় মণিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে তার দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মণিরামপুর কারিমিয়া ক্যাডেট স্কিম কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আহসান কবীর।
দোয়া মাহফিলে ৫ নং তাহেরপুর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিন কুমার বাবু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান, ঠিকাদার সিদ্দিকুর রহমান, মণিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বি এম এনামুল হক, সাবেক শিক্ষক মুজিবুর রহমান, শিক্ষক শাহজাহান আলী, সাংবাদিক ও শিক্ষক জি এম ফারুক আলম, তাহেরপুর আকুঞ্জী মসজিদের মুহতামিম আক্তারুজ্জামান এবং পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কাজী ইমরানসহ শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মফিজুর রহমান মফিজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত এবং চিকিৎসাধীন। গত বুধবার হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকায় সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল মোমেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
ইসলামী আন্দোলনের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছেন, 'এই দেশ দূর্নীতির দিক থেকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তখনকার সময় যারা দূর্নীতির সাথে জড়িত ছিল, ওইসব দূর্নীতিবাজদের সাথে ইসলামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে একটি জোটভুক্ত দলও দূর্নীতির অংশীদার হয়েছিল। তারা এর দায় কোনক্রমে এড়াতে পারবেন না।'
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চরফ্যাশন সরকারি টি. বি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরফ্যাশন উপজেলা শাখার উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করিম বলেন, 'যখন আমরা ইসলামের পক্ষে একটি ভোটের বাক্স তৈরি করেছিলাম। তখন বাংলাদেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছিল। মানুষ অধীর আগ্রহে দিনক্ষণ গুণেছিল। কিন্তু তখন ইসলামের নাম ব্যবহার করা একটি দল ভারতের সাথে গোপনে বৈঠক করে দেশ গঠন করতে স্বপ্ন দেখেছে। আমরা আমেরিকা ও ভারতের ইনসাফ দেখতে চাই না, আমরা মদিনার এবং ইসলামের ইনসাফ দেখতে চাই।'
তিনি বলেন, 'ইসলাম মানে শরিয়া, আমরা হজ্ব করি, রোজা রাখি ও নামাজ আদায় করি এটাই শরিয়া। এখন যারা বলে 'আমরা শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবো না তবে প্রচলিত আইনে দেশ চালাবো' আসলে এদের বাস্তবতা হলো বাহ্যিকটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু ভিতরটা 'মাকাল ফল'।'
উপস্থিত ছিলেন ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ইসলামি আলোচক হাবিবুর রহমান মেজবাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহ প্রচার সম্পাদক কে এম শরিয়ত উল্লাহ।
জামায়াত যদি কোনও কারণে দেশে ক্ষমতায় আসে, এই দেশ পাকিস্তান রাষ্ট্র পরিচালনার কায়দায় তারা পরিচালনা করবেন। তাদের নিজস্ব বাহিনী দিয়ে তখন দেশ পরিচালনা করবে। জামাতের রাজাকার ও আলবদররা মিলে দেশটাকে পরাধীন বানাবে। রাস্তা দিয়ে তখন কেউ হাঁটতে পারবে না। এদের ভোট দিয়ে দেশটাকে পাকিস্তান বানিয়ে মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করবেন না। এদের চেয়ে খারাপ এ পৃথিবীতে কেউ জন্মগ্রহণ করেনি। আপনারা জানেন এই দেশে একমাত্র বিএনপি রক্ষা করতে পারে। বিএনপি গনতন্ত্র বার বার রক্ষা করেছে আর অন্য দলগুলো সেই গনতন্ত্র বার বার নষ্ট করেছে। আজ যদি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা না হতো তাহলে এদেশ আজ মালয়েশিয়া সিংগাপুরে রুপ নিত। বাহাদুরপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন যশোর-৮৫ শার্শা-১ আসন এর ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন।
শনিবার (৭ জানুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহেব আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে সাখারীপোতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি লিটন বলেন, 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রার স্বার্থে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।' আপনারা জানেন এরা নারীদের বোরকা পরিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে পাঠাচ্ছে। তারা বাচ্চাদের বিস্কুট ও চকলেট দিচ্ছে আর মায়েদের বলছে ভোট দিলে জন্নতের টিকিট পাওয়া যাবে। যারা এমন দাবি করে, তারা মহাপাপ করছে। আপনারা বলেন, জান্নাত দেওয়ার একমাত্র মালিক মহান আল্লাহত্লা । সম্প্রতি একাধিক অভিযোগ উঠেছে এসব নারীরা বাড়িতে গিয়ে বিকাশ নাম্বার চাচ্ছে তাদের ভোট দিলে ওই বিকাশে টাকা পাঠানো হবে। তিনি এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে পারবে। যদি আমরা ধানের শীষকে বিজয় করতে না পারেন তবে আগামী দিন মাথা উচু করে দাড়াতে পারবেন না।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, সে দিন জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতা ঘোষনা না দিত তাহলে আজ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র হতো না। তিনি এদেশের মানুষকে শিখিয়েছে কি ভাবে আত্ননির্ভরশীল হতে হয়। তিনি শিখিয়েছেন খাল কেটে কি ভাবে ফসল উৎপাদন করে কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটাতে হয়। জিয়াউর রহমান একজন সৎ মানুষ ছিলেন। আর সেই নেতার দল বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল। তিনি রনাঙ্গনে যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করিয়েছে। বাংলাদেশ এর মানুষকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল তা তিনি বাস্তবায়ন করতে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন এদেশের কিছু বিপথগামী সৈনিক ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু,শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, সভাপতি আবুল হাসান জহির সহসভাপতি মহসিন কবির, যুগ্ম সধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম বাবু, বেনাপোল পৌর বিএনপির যুগ্ম সধারন সম্পাদক মেহেরুল্লাহ মেম্বার শার্শা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম প্রমুখ।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বটতলী শাহ্ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে নির্বাচনী গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. তারেক, সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ, যুগ্ম সম্পাদক শেজাম, জাকারিয়া, তারিকুল, জাহেদ, রবিন, শিহাব, রোহান, তানবীর, মোরশেদ, জিতু, রাজু, জিহান, তৌহিদ, তোহা, খোকা, তারেক ও রিয়াদসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. তারেক বলেন,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জননেতা লায়ন হেলাল উদ্দীন ভাইয়ের পক্ষে এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ছাত্রদল রাজপথে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে নিজের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর দল এককভাবে নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা এই নেতা প্রস্তাবিত জাতীয় সরকার গঠনের ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং সেই লক্ষ্যেই বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট চাইছে। গত শুক্রবার দলীয় কার্যালয়ে বসে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের প্রশ্নে তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁকে বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তবে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের পরিণাম ভোগ করতে হবে ঠিকই, কিন্তু জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনে বিএনপির প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২৯২টিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি কয়েকটি আসন তাদের মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ জরিপ ও বর্তমান জনমতের ভিত্তিতে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যদি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মিলেই জাতীয় সরকার গঠন করে তবে সংসদে প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে কার ভূমিকা থাকবে? তিনি একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার স্বার্থে সংসদে ভালো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারেক রহমান ভারসাম্যপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী নীতির কথা তুলে ধরেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে যারা অনুকূল ও উপযুক্ত প্রস্তাব নিয়ে আসবে, বাংলাদেশ তাদের সাথেই অংশীদারত্ব গড়ে তুলবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়েও নিজের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনই তাঁর হবু সরকারের মূল লক্ষ্য হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রত্যাবাসন হতে হবে একটি নিরাপদ পরিবেশে। মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখনই কেবল তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর আগ পর্যন্ত মানবিক কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় তাদের বাংলাদেশে বসবাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকার আগামী দিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে সেই দলের নেতাদের ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই প্রমাণ। পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে এবং জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশে বিপুলসংখ্যক বোরকা এবং নিকাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন যে- জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার নির্দেশেই এসব সিল তৈরি করা হয়েছে।
এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য, জব্দকৃত আলামত ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। এটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী মুখমণ্ডল খুলে ভোটার শনাক্তকরণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে- ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা হজের ছবি তোলার সময় যেভাবে মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক। একইভাবে ভোটগ্রহণের সময় নারী পোলিং অফিসারের সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নারী কক্ষে যথাসম্ভব নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, এর আগেও আমরা দেখেছি, ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনার কারণে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও আমরা পেয়েছি। আমরা দেখলাম, রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে সেই দলেরই এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাহলে কি তারা নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? এমনই যদি হয়, তবে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি।
মাহদী আমিন বলেন, আরেকটি গুরুতর বিষয় আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগে নানান অসংগতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে সর্বাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই পাশার রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন। যদিও বাস্তবে হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষই এই সংস্থার তথাকথিত কার্যালয় এবং লোকবল বলতে একজনই, যা এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এর আগেও আমরা নির্বাচন কমিশনে অবহিত করেছি যে, পর্যবেক্ষকের নামে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
আমরা মনে করি, এসব বিষয় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায়। অতএব অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে বিভিন্ন নির্বাচনি আসনে জনসভায় অংশ নেবেন। আগামীকাল রোববার তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬টি নির্বাচনী আসনের জনসভায় যোগদান করবেন। ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বরে দুপুর ২টায়, ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী দুই নস্বর ওয়ার্ড লাল মাঠ তথা মেট্রো স্টেশনের পাশে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে, ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোল চত্বর সংলগ্ন সেনপাড়া পর্বতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে, ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে, ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী ক্লাব মাঠে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডার সাতারকুলের সানভ্যালী মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, সোমবার তারেক রহমান তার নিজের নির্বাচনি এলাকা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৭টি সহ মোট ৮টি নির্বাচনী জনসভায় যোগদান করবেন। ঢাকা-১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ খেলার মাঠে বেলা ১১টায়, ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে দুপুর ১২টায়, ঢাকা-৮ আসনের পীর জঙ্গি মাজার রোডে দুপুর ১টায়, ঢাকা-৯ আসনের বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে দুপুর ২টায়, ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে দুপুর ৩টায়, ঢাকা-৪ আসনের জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে বিকেল ৪টায়, ঢাকা-৬ আসনের ধূপখোলা মাঠে বিকেল ৫টায় এবং ঢাকা-৭ আসনের লালবাগ বালুর মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার দেখে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কেউ যদি নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করে এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয় বরং জাতিকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। নীলফামারী জেলা কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এ জেলাকে আমরা কৃষি অঞ্চল হাব হিসেবে গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি জয় লাভ করলে আমাদের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হবে। ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই।
নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হবে। কারণ নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড প্রত্যেক কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।
তারেক রহমান আরও বলেন, এই এলাকা কৃষি নির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াবো, তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করবো। যাতে কর্মসংস্থান হয়। যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা লাগবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এসএম সাইফুল্লাহ রুবেল।
‘বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা’
খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনও ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা-এমনটাই বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনও লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায় আমরা মানুষের জন্য কি করবো। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনও ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।
একইসঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দেন দলটির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, আমাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বললেন যে এই এলাকার এয়ারপোর্টটার কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সরকার গঠন হলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই এলাকার এয়ারপোর্ট ইনশাআল্লাহ চালু করব।
২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এখন দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের। ২৪ এও একই। এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও তাই হবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না।
নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।
ঠাকুরগাঁও কৃষনির্ভর এলাকা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াবো তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করবো। যাতে কর্মসংস্থান হয়। বহু যুবক আছে যারা বেকার। যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগীতা লাগবে।
তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উত্তরাঞ্চল সফরের শেষ জেলা হিসেবে দিনাজপুরের জনসভায় হাজির হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর তার আগমনকে ঘিরে বিরামপুরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। উত্তরাঞ্চলের পানির অভাব মেটাতে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ৩টার দিকে জেলার বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় এসে পৌঁছান তিনি। উৎসবমুখর পরিবেশে তাকে বরণ করে নিতে আগেই সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই জেলার ১৩টি উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় প্রতীক নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
জনসভায় তারেক রহমান তার বক্তব্যে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে একগুচ্ছ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন, দিনাজপুরের জগৎবিখ্যাত লিচু ও আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে। এই জেলার চালকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী কী করবে, তার একটি রূপরেখা দেন তারেক রহমান, প্রতিটি গৃহিণী ও খেটে খাওয়া নারীর কাছে '
‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে।
একটি দল যারা একাত্তরে বাংলাদেশ চায়নি, দেশের স্বাধীনতা চায়নি যাদের কারণে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে ২ লাখ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে তারা এখন দেশের শাষণক্ষমতা চায়, দেশের মালিকানা চায়। যাদের নিজেদেরই কোনো ঈমান নেই তারা অন্যের ঈমান নষ্ট করে ক্ষমতায় যেতে চায়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বরগুনা -২ (বেতাগী- বামনা -পাথরঘাটা) আসনের বামনা সরকারি কলেজ মাঠে বামনা উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বরগুনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি আরো বলেন, যারা মানুষের ঈমান নিয়ে প্রতারণায় লিপ্ত হয়ছে আর যাই হোক তারা মানুষের ভালো চায় না দেশের ভালো চায় না। তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।
মনি আরো বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে, মানুষের অধিকারের কথা বলে। মানুষ ভালোভাবে খেয়ে পড়ে যেন স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে সেই বিশ্বাস আর প্রতিশ্রুতিই বিএনপির রাজনীতি। বিএনপি কাউকে জান্নাতের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে ফায়দা নিতে চায় না। বিএনপি চায় মানুষ বেঁচে থাকতে তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। অন্যদিকে একটি দল একেক সময় একেক কথা বলে আর মিথ্যা আশ্বাসে সাধারণ মানুষের অধিকার বিক্রি করে রাজনীতি করতে চায়। দেশকে তারা আফগানিস্তান বানাতে চায়। তাদের ভন্ডামী মানুষ বুঝে গেছে।
উন্নয়নের স্বার্থে মনি আরো বলেন, বিএনপিই একমাত্র দল যে দল উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আমি ৩ বারের এমপি ছিলাম। সব মিলিয়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তার সিংহভাগই আমার হাতে করা। রাস্তা -ঘাট, স্কুল -কলেজ, মসজিদ - মাদ্রাসা, বিদ্যুৎ যা কিছু আমার এলাকায় হয়েছে তার সবই আমার হাত ধরে। যারা উন্নয়নে বিশ্বাস করে না, যারা সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাস নিয়ে প্রতারণা করছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের দ্বারা উন্নয়ন তো দূরের কথা মানুষের মৌলিক অধিকারটুকুও তারা বিক্রি করে দিবে যেভাবে ফ্যাসিস্ট চক্র গত ১৫ বছরে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল।
সমাবেশে আগত সাধারণ জনতার উদ্দেশে মনি আরো বলেন, এখানে মা বোনসহ যারা উপস্থিত রয়েছেন তাদের প্রত্যেকের ভোট দেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনাদের অধিকার যেন কোনো মোনাফেক গোষ্ঠী কেড়ে নিতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একটি চক্র ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মিশনে নেমেছে। আপনাদের অধিকার আপনাদের ভোট দেশের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নে প্রয়োগ করুন।
রাজধানীতে দুই দিনে মোট ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার ও সোমবার (৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি) এসব জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। শনিবার রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোববার ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬টি সংসদীয় আসনে জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনে নিজ নির্বাচনী এলাকা ইসিবি চত্বরে বেলা ২টায় প্রথম জনসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। এরপর ঢাকা-১৬ আসনে পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে ২টা ৪০ মিনিটে, ঢাকা-১৫ আসনে মিরপুর-১০ গোলচত্বর–সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে সাড়ে ৩টায়, ঢাকা-১৪ আসনে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেটে ৪টা ২০ মিনিটে, ঢাকা-১৩ আসনে শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে ৫টা ১০ মিনিটে এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডা সাতারকুলের সানভ্যালি মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
পরদিন সোমবার নিজ নির্বাচনী এলাকা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৭টি সংসদীয় আসনের মোট ৮টি জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। বেলা ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনে বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর খেলার মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। এরপর ঢাকা-১০ আসনে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে দুপুর ১২টায়, ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গী মাজার রোডে বেলা ১টায়, ঢাকা-৯ আসনে মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠে বেলা ২টায়, ঢাকা-৫ আসনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে বেলা ৩টায়, ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন-শ্যামগঞ্জ রোডে বিকেল ৪টায়, ঢাকা-৬ আসনে ধুপখোলা মাঠে বিকেল ৫টায় এবং ঢাকা-৭ আসনে লালবাগ বালুর মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এসব জনসভায় তারেক রহমান দলের ঘোষিত ইশতেহার, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য দেবেন।
ফেনী ১ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের প্রতীকের পাশেই মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বলেছেন, আমাদের মা খালেদা জিয়া বাড়ি এ এলাকায়। এখান থেকে মাকে নির্বাচিত করে আপনারা বার বার প্রধানমন্ত্রী করেছেন। আজ মা নেই, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। ইনশাল্লাহ মা খালেদার অসম্পূর্ণ কাজ আমাকে করার সুযোগ দিবেন। আমরা প্রত্যেকটি কাজ সমাপ্ত করব। এলাকার দীর্ঘদিন আমাদের ভোটের অধিকার ছিল না, উন্নয়নও হয়নি। কে কী করেছেন সেটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। এলাকার মানুষের যা যা প্রয়োজন তা আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমি তা করে দেখাতে চাই। মা খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার আমার জীবন দিয়ে হলেও বাস্তবায়ন করব।
ফেনীর পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধ বিশ্বাসীদেরকে সম্মান করতে চাই। মা-বোনদের জন্য সুন্দর সমাজ উপহার দিতে চাই। আমরা যার যার ধর্ম পালন করব আমরা কারও ধর্মের বাধা সৃষ্টি করব না। সবাই মিলে আমরা সবাইকে এক কাতারে আনতে চাই। এই এলাকার মানুষ খালেদা ভালোবাসে সম্মান করে। খালেদা জিয়ার এলাকার উন্নয়নে একসাথে কাজ করব। স্বপ্নের বাংলাদেশ এক্ষেত্রে কোন দলমত বুঝি না। আমাদের দল সরকার গঠন করলে মানুষের প্রয়োজনের কাজগুলো আমরা সম্পন্ন করব। নার্সিং ইনস্টিটিউট, মেডিকেল কলেজ, তিনটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করব।
পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, সহ গ্রামবিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমদ, জেলা আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মিজানুর রহমান মিন্টু, জমিয়তে উলামায়ে দলের পক্ষে মাওলানা আবুল খায়ের মাসুম।
পৌর সদস্য সচিব মাহবুবুল হক মজুমদার ও উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আলিম মাকসুদের যৌথ পরিচালনায় এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল মনি, পৌর আহ্বায়ক ইউসুফ মাহফুজ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানজিনা আক্তার এলিনা, ছাত্র অধিকারের জেলা সভাপতি ইউসুফ বাপ্পী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিকুর রহমান, পৌর যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক মিসফাকুস সামাদ রনি।
জনসভায় জমিয়তে ওলামায়ে নেতারা ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন জানান। এছাড়া জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
এতে ঝিনাইদহ ৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিয়ার রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মহেশপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল হাই, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি উবাইদুর রহমান, মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ, কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন খান, কোটচাঁদপুর পৌর জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি হাফেজ মুজাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে সংসদ সদস্য প্রার্থী মতিয়ার রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কোন ধর্ষণ, নারী নির্যাতন থাকবে না। কোরআনকে বাদ দিয়ে কোন আইন হবে না। আমাদের লক্ষ্য কোরআনের বাংলাদেশ, সোনার বাংলাদেশ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আইন ও সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বান্দরবানের রুমায় ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরীর পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রুমা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ জাবেদ রেজার নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১১টায় রুমা বাজারে চারিদিকে অলিগলিতে ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন।
প্রচারণাকালে জেলার বিএনপি নেতা লুসাইমং, জসিম উদ্দিন তুষার, জেলার সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চনুমং মার্মা, জেলা বিএনপির মহিলা নেত্রী অ্যাডভোকেট উম্যাসিং মার্মা, আবিদুর রহমান , রুমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি থোয়াইচিংঅং মার্মা, মো. ইদ্রিছ মিয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুপ্রু মার্মা, পিয়ানঙাক বম, রোয়াংছড়ি উপজেলার বিএনপি নেতা মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা ও রুমার বিএনপি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ভানরৌপুই, মেমং মার্মা ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পিপলু মার্মা।
এ সময় রুমা চার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষেরা লিফলেট বিতরণে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রুমা বাজার প্রাঙ্গণে এক গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জাবেদ রেজা বলেন, ‘দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এই নির্বাচনে ধানের শীষের জয় অপরিহার্য।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করে সাচিংপ্রু জেরীকে বিজয়ী করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাবেদ রেজা।
নির্বাচনী এই গণসংযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে সকালে খক্ষ্যংঝিরি বাজারে ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভোটারদের লিফলেট বিতরণ করেন জেলার বিএনপি সদস্য সচিব জাবেদ রেজা, লুসাইমং ও চনুমং এর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে রুমা বাজারে পথ সভার পরে মুনলাই পাড়ায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী ময়দানে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ তৈরি করলেন বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের দুই প্রার্থী। ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের আমন্ত্রণে তার শাহজাহানপুরের বাসভবনে এক চা-চক্রে অংশ নিয়েছেন ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আলোচিত মডেল মেঘনা আলম।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে এক হৃদ্যতাপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ সাক্ষাতের আগে মেঘনা আলমের নির্বাচনী প্রচারণার সমন্বয়ক তাহরিন জেরিন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের দেওয়া ‘চায়ের দাওয়াত গ্রহণ করেছেন মেঘনা আলম।’
নির্বাচনের অন্তিম মুহূর্তে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে বৈঠক শেষে মেঘনা আলম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও ও বেশ কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অত্যন্ত হাসিখুশি ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলাপচারিতায় রত দেখা যায়। নির্বাচনী প্রচারণার তুঙ্গস্পর্শী ব্যস্ততার মাঝে এমন আকস্মিক বৈঠক সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকই এই সাক্ষাৎকে কেবল সাধারণ সৌজন্য হিসেবে দেখছেন না, বরং এর পেছনে গভীর কোনো কৌশলগত মেরুকরণ বা বিশেষ রাজনৈতিক পরিকল্পনার আভাস থাকতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। ঢাকা-৮ আসনের এই নির্বাচনী লড়াইয়ের দৃশ্যপটে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর এমন সহাবস্থান এখন রাজনীতির নতুন এক চর্চায় পরিণত হয়েছে।