বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পুরোনো মিত্ররা এখন আ. লীগ-বিএনপির প্রতিপক্ষ

আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর, ২০২৩ ১৫:০৫

রাজনৈতিক নানা মেরুকরণের ফলে দেশের বড় দুই দলের এক সময়ের মিত্ররাই এখন তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক সময় জোটে থাকা, সমঝোতায় থাকা রাজনৈতিক দল ও নেতারা এখন বিরোধী রাজনৈতিক বলয়ে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির মিত্ররা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বলয়ে অবস্থান নিয়েছে।

‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’- বহুল প্রচলিত এই বাক্যটির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় যখন ভোটের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আদর্শগত মিল না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দল তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট গঠন হয়েছিল ২০০৪ সালে। জোটের শরিক দল হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণফোরাম ছিল। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগেই ওই দলগুলো জোট ছেড়ে চলে যায়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে জোটটি। ক্ষমতার বলয়ে থাকাবস্থায় ভাঙনের মুখে পড়ে জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল ও জাতীয় পার্টি।

নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে সিপিবি-বাসদ। এসব কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের অন্যতম নেতা ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের বদলে বিএনপি বা অন্যদের বসানো আমাদের লক্ষ্য নয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, ঐক্য ন্যাপ ও বাংলাদেশ জাসদের সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’

আদর্শগত মিল না থাকায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে বাম জোটে নেই বলে জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আদর্শিক অবস্থান থেকে বাম জোট আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বিদলীয় ধারার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করতে চাইছে।

সিপিবি ও বাসদ বর্তমানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক দল ছিল বিএনপি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণফোরাম ভেঙে যায়। দলটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী আলাদা গণফোরাম তৈরি করেন। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হন মিজানুর রহমান।

গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতির জন্য গণতন্ত্রহীনতা বড় সংকট আখ্যা দিয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণে ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন ড. কামাল হোসেন। সেই সঙ্গে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে সংলাপের আয়োজন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে জাসদ ভেঙে শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান গঠন করেন বাংলাদেশ জাসদ। দলটি চলতি বছরে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। বাংলাদেশ জাসদ বর্তমানে ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। মূলত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ১৪ দলীয় জোট ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাসদ।

দলটির সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবার অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন চাই। বর্তমান সরকার যেভাবে নির্বাচন করতে চাচ্ছে সেই নির্বাচনে অংশ নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এখন আমরা কোনো জোটে নেই।’ ভবিষ্যতের রাজনীতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওই বছরই গঠন করেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন রাজনৈতিক দল। দলটি ২০০৮ সালে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি দলটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জাতীয় যুক্তফ্রন্ট গঠন হয় বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ও গণফোরামের নেতৃত্বে। পরে গণফোরাম বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলে বিকল্প ধারা ওই জোটে যোগ দেয়নি। বিকল্প ধারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনে জয়লাভ করে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দলটির মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা মনে করি সবাই মিলে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করা উচিত। আমরা আশা করি বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নেব।’

প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই শমসের মুবিন চৌধুরী বিএনপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূতের বিএনপির বৈঠকের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর আগে দলটির কূটনীতিক তৎপরতায় কাজ করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দেন। বর্তমানে তৃণমূল বিএনপি নামে রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শমসের মুবিন চৌধুরী। দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলম খন্দকার।

উল্লেখ্য, এক সময়ে বিএনপির ডাকসাইটে নেতা ও বারবার মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ২০১৫ সালে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেছিলেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তৃণমূল বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন শমসের মুবিন চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনমুখী একটি দল। আমরা নির্বাচন করতে চাই। অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে আমরা আশা করছি।’

২০০৭ সালে শেখ শওকত হোসেন নিলু বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলটি ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১০ হাজার ৩৪৮ ভোট পায় দলটি। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে যোগ দেয় এনপিপি। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় জোটের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় শেখ শওকত হোসেন নিলুর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করেন তিনি। ২০১৭ সালে ৬ মে মারা যান নিলু। পরবর্তীতে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তার ভাই শেখ ছালাউদ্দিন ছালু। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি এনপিপির নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ও গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চের চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশ করা, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই হানাহানি বাদ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে হোক বা সমঝোতার মাধ্যমে হোক একটা সুষ্ঠু ধারা দেশে ফিরিয়ে আনতে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেতনা বিএনপিই ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


নির্বাচিত

দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। দুর্গোৎসব ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা মোকাবিলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যাতে চক্রান্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে যে, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হতে পারে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, তাদের ১৬ বছরের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনাকে ব্যবহার করে প্রতিবেশী ভারতকে এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ভারতের সমর্থনে ক্ষমতায় ছিল এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এসব বক্তব্য রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিযোগ; সভায় এর পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়নি।

রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে, যাতে ভারতের কাছে এই বার্তা দেওয়া যায় যে বিএনপি সরকারের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক চন্দন বসু মুক্ত এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

অধিকার ও সুযোগে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় বাধা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয় যেন মানুষের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করা হবে এবং প্রতিনিধিদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে।

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরও শুভেচ্ছা জানান। তিনি দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

মতবিনিময় শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য ২ কোটি টাকা চাইলেও বিশেষ বিবেচনায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দের অর্থ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা সরাসরি নিজেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শ্রমিক অধিকার রক্ষা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকারকে শ্রমবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এমপ্লয়ার্সের (আইওই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। বৈঠকে শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং শ্রম খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ ও শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতেও কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওইর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সুচিন্তিত পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।

বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থানে এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ইপিজেডের জন্য পৃথক আইনের পরিবর্তে দেশের সামগ্রিক শ্রম আইনের আওতায় এগুলোকে আনার বিষয়ে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, তাদের সফর এবং সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিল্পে শান্তি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ও কার্যকর সামাজিক অংশীদারিত্বের বিকল্প নেই।

মাহদী আমিন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সরকার বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করেছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ অনুমোদন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রম প্রশাসনকে দক্ষ ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শ্রমসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে সরকারের অঙ্গীকারগুলোর বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটানো হবে।

বৈঠকে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রম খাতে সাম্প্রতিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত কিংবা আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে। কিন্তু এই নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ যে সাহসী ও তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, সেটিই ছিল তার আসল অপরাধ। তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসেছি। তাই আমি অত্যন্ত গর্ব ও আপ্লুত বোধ করেছি। কথা প্রসঙ্গে তিনি আমাকে জানান, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ৯০-এর রাকসু নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। রাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি সহ-সভাপতি (ভিপি) হতে পেরেছিলাম। কিন্তু আজ যখন একজন বীর শহীদের বাবা নিজে থেকে এসে আমাকে ৯০-এর সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা বললেন, তখন আমার হৃদয় যে কতটা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভেসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

রিজভী বলেন, আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। সেই জাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পলায়ন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।


নির্বাচিত

কোনো নৈরাজ্য-অপরাধকে প্রশ্রয় দেবেন না প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সংকটে ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত শক্তির দোসররা নানামুখী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন একটি গণমুখী সরকার এবং কোনো ধরনের অপরাধ কিংবা নৈরাজ্যমূলক অপতৎপরতাকে প্রধানমন্ত্রী বিন্দুমাত্র বরদাশত করবেন না। তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখন বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যার মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সবার সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টা ও আগাম সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে এডিস মশার উপদ্রব বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে পচা ও জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডেঙ্গু পরীক্ষার পূর্বের ৫০ টাকা ফি বাতিল করে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।


নির্বাচিত

তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

শাহজালাল বিমানবন্দরে জামায়াত আমিরকে বিদায় জানান দলটির নেতারা । ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ অংশ নিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি বিমানযোগে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

যাত্রাকালে বিমানবন্দরে জামায়াত আমিরকে বিদায় জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন।

‘বাংলাদেশ ২.০-এর সংস্কারের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তুরস্ক-বাংলাদেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের যৌথ আয়োজন করেছে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় ও সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ (সিপিএসআর)। এই আয়োজনে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, গবেষক, কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নিচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তুরস্কে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ডা. শফিকুর রহমান সৌদি আরব গমন করবেন এবং সেখানে পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা ও সফর শেষে আগামী ১১ অক্টোবর সকালে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

গণঅধিকার পরিষদে জসিম উদ্দিনের পদ স্থগিত, দেওয়া হলো শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনের সদস্য পদ স্থগিত করেছে দলটি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূর ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের নির্দেশক্রমে তার সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, জসিম উদ্দিনকে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত বক্তব্য আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অথবা তার জবাব সন্তোষজনক না হলে সাংগঠনিকভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করেন জসিম উদ্দিন। এ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সমর্থনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচন কমিশনের ফলাফল অনুযায়ী, হাসনাত আবদুল্লাহ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জসিম উদ্দিন পান ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট।

দলীয় নোটিশে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কী ধরনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।


নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দিতে তুরস্কে যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ‘বাংলাদেশ ২.০-এর সংস্কারের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তুরস্ক–বাংলাদেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত’ প্রতিপাদ্যে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় ও সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ (সিপিএসআর) যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করছে। এতে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

সম্মেলনে যোগ দিতে ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ১০ অক্টোবর সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তিনি সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন। সফর শেষে আগামী ১১ অক্টোবর সকালে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সম্মেলনের মূল আলোচনায় বাংলাদেশের সংস্কারপ্রক্রিয়া এবং তুরস্ক-বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আয়োজকদের তথ্য থেকে জানা গেছে।


নির্বাচিত

‘ডিসেম্বরের হুমকিতে কোনো লাভ হবে না, জেলখানা রেডি’: সরোয়ার আলমগীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ডিসেম্বরের হুমকি’ দিয়ে কোনো লাভ হবে না মন্তব্য করে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তার বিচার হবে এবং তাকে কারাগারে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে দেশে পরিকল্পিত নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে ফটিকছড়িতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাজঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, শেখ হাসিনা আদালতে ফাঁসির আসামি। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি বাংলাদেশে ফিরলে সরাসরি কারাগারে যাবেন এবং তার বিচার হবে। ‘ডিসেম্বরের হুমকি’ দিয়ে কোনো লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফার ভিত্তিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। রাজাকার ও স্বৈরাচার ‘মিলেমিশে একাকার’ হলেও পরাজিত শক্তি বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। সমৃদ্ধ সংসদীয় এলাকা বিনির্মাণে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোবারক হোসেন কাঞ্চন। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম চৌধুরী, নাজিম উদ্দীন শাহীন, মিহির চক্রবর্তী, এজহার মিয়া, মনসুর আলম চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, নাজিম উদ্দীন বাচ্চু, শাহনেওয়াজ সেবুল, মহিবউল্লাহ বাহার, আবু আজম তালুকদার, নাছির উদ্দীন, হাফেজ জয়নাল আবেদীন, জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান, মো. হানজালা, দৌলত মিয়া, আজম খান, কামাল উদ্দিন, আবু তাহের, ওসমান চৌধুরী, হান্নান চৌধুরী, এয়াকুব শহিদ, জসিম উদ্দিন, জাহেদ মেম্বার, খালেদ বাবুল, মো. মোজাম্মেল, হাসানুল কবির, মোজাহারুল ইকবাল লাভলু, একরামুল হক ও মো. এরশাদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এর আগে উপজেলা দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজঘাট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

ভিপি নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি, সেই নেতা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

‘পাঁচ, পাঁচ-ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’—মোবাইল ফোনে এমন কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এর একদিন পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলাটি করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী। মামলায় ফারুক হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী সোলায়মান চৌধুরীর অভিযোগ, ভিপি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠায় তার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ফারুকের কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে এ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে নুরুল হক নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে দাবি করে তিনি মামলা করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের অডিওতে ফারুক হোসেনকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্টের কাজ, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ড বাবদ প্রাথমিক খরচের জন্য টাকা দাবি করতে শোনা যায়। দলীয় একটি সূত্রের দাবি, এসব কাজের জন্য তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।

অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতে ফারুক হোসেনকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক নাঈম হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফারুকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাদিম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের নির্দেশে ফারুক হোসেনকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এদিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, তার নাম ব্যবহার করে ‘ধান্দাবাজি’ করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ফারুক হোসেন। তার দাবি, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ সম্পাদনা করে অডিওটি তৈরি করেছে।

ফারুকের দাবি, তিনি পাঁচ লাখ টাকা চাননি। পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য তিনি পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। ওই ‘পাঁচ হাজার’ টাকার কথাই বিকৃত করে ‘পাঁচ লাখ’ বানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম জানান, তারা অডিওটি শুনেছেন। যাচাই করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করে ফারুক হোসেনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। অডিওটির সত্যতা, অর্থ দাবির অভিযোগ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।


নির্বাচিত

২২ জেলায় শিশুদের জন্য হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরেই ২২টি জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে (নিনস) বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে অন্তত সাড়ে তিন লাখ শিশু সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। অথচ দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নিনসের বহির্বিভাগে গত বছর চিকিৎসা নিতে পেরেছে মাত্র ৩ হাজার ৩০০ শিশু। বিপুলসংখ্যক শিশু এখনো চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগের বাইরে রয়েছে।

তিনি বলেন, পারিবারিক সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেক আক্রান্ত শিশু পরিবারেই আড়ালে থেকে যাচ্ছে। রাষ্ট্র হিসেবে এসব শিশুর অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

ড. এম এ মুহিত জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ বাজেট ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে চলতি অর্থবছরে ২২টি জেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। সেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৩০০ শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘কমিউনিটি বেসড আর্লি কেস ডিটেকশন’ বা প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। এর মাধ্যমে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিচ্ছেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন।


নির্বাচিত

নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণের সেবা করা: এলজিআরডি মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। জনগণ সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি—সবার মূল উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা। কাজের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উভয়ের লক্ষ্য এক হওয়া উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখে। তাই সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা দায়িত্ব। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত এর দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। কিন্তু জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ পাঁচ বছর। এরপর আবার জনগণের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের কাজের প্রমাণ দিয়ে নির্বাচিত হতে হয়। তাই তাদের কাজের গুরুত্ব ও জবাবদিহিতা অনেক বেশি।

গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে স্বল্পশিক্ষিত মানুষ একটি জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা পান না। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। কোনো নাগরিককে একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে যেন বারবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের হাতে থাকা ক্ষমতা জনগণের সেবা করার জন্য। মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি বা সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে না। মানুষের প্রয়োজন পূরণ ও অধিকার নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে নিবন্ধন কার্যক্রমে অনিয়ম ও ভোগান্তির ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকে জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগের বিষয়। এ অসঙ্গতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কাজী জাফর উল্ল্যাহ ও পরিবারের নামে তিন ব্যাংকে ১৫৫ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা এবং ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় তা অবরুদ্ধ করতে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (৪ অক্টোবর) দুদকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে জাফর উল্লাহ, তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামে এসব অর্থ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থের উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালিয়ে এই সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর কিংবা বেহাত হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পদগুলো অবরুদ্ধের জন্য আদালতে আবেদন দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

দুদকের নথি অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্লাহর নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে রয়েছে ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ২৯৫ টাকা।

তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাফর উল্লাহর নামে মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে রয়েছে ২৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫ টাকা।

ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে রয়েছে ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ টাকা। আরেক ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে মেঘনা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে রয়েছে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৯ টাকা। তাঁর নামে ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের তথ্যও পেয়েছে দুদক।

এ ছাড়া মেয়ে কাজী মেহেরিন জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে রয়েছে ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৫ টাকা। সব মিলিয়ে পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা।

এর আগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কাজী জাফর উল্লাহসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য পর্যালোচনা করছে সংস্থাটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে কাজী জাফর উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে দুদকের করা মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

দুদক বলছে, ব্যাংক হিসাবে থাকা বিপুল অর্থ স্থানান্তর বা বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আদালতের মাধ্যমে তা অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সম্পদ অবরুদ্ধের বিষয়টি আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করবে।


নির্বাচিত

banner close