রাজনৈতিক নানা মেরুকরণের ফলে দেশের বড় দুই দলের এক সময়ের মিত্ররাই এখন তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক সময় জোটে থাকা, সমঝোতায় থাকা রাজনৈতিক দল ও নেতারা এখন বিরোধী রাজনৈতিক বলয়ে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির মিত্ররা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বলয়ে অবস্থান নিয়েছে।
‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’- বহুল প্রচলিত এই বাক্যটির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় যখন ভোটের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আদর্শগত মিল না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দল তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট গঠন হয়েছিল ২০০৪ সালে। জোটের শরিক দল হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণফোরাম ছিল। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগেই ওই দলগুলো জোট ছেড়ে চলে যায়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে জোটটি। ক্ষমতার বলয়ে থাকাবস্থায় ভাঙনের মুখে পড়ে জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল ও জাতীয় পার্টি।
নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে সিপিবি-বাসদ। এসব কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের অন্যতম নেতা ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের বদলে বিএনপি বা অন্যদের বসানো আমাদের লক্ষ্য নয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, ঐক্য ন্যাপ ও বাংলাদেশ জাসদের সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’
আদর্শগত মিল না থাকায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে বাম জোটে নেই বলে জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আদর্শিক অবস্থান থেকে বাম জোট আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বিদলীয় ধারার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করতে চাইছে।
সিপিবি ও বাসদ বর্তমানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক দল ছিল বিএনপি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণফোরাম ভেঙে যায়। দলটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী আলাদা গণফোরাম তৈরি করেন। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হন মিজানুর রহমান।
গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতির জন্য গণতন্ত্রহীনতা বড় সংকট আখ্যা দিয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণে ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন ড. কামাল হোসেন। সেই সঙ্গে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে সংলাপের আয়োজন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে জাসদ ভেঙে শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান গঠন করেন বাংলাদেশ জাসদ। দলটি চলতি বছরে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। বাংলাদেশ জাসদ বর্তমানে ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। মূলত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ১৪ দলীয় জোট ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাসদ।
দলটির সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবার অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন চাই। বর্তমান সরকার যেভাবে নির্বাচন করতে চাচ্ছে সেই নির্বাচনে অংশ নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এখন আমরা কোনো জোটে নেই।’ ভবিষ্যতের রাজনীতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওই বছরই গঠন করেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন রাজনৈতিক দল। দলটি ২০০৮ সালে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি দলটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জাতীয় যুক্তফ্রন্ট গঠন হয় বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ও গণফোরামের নেতৃত্বে। পরে গণফোরাম বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলে বিকল্প ধারা ওই জোটে যোগ দেয়নি। বিকল্প ধারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনে জয়লাভ করে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দলটির মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা মনে করি সবাই মিলে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করা উচিত। আমরা আশা করি বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নেব।’
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই শমসের মুবিন চৌধুরী বিএনপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূতের বিএনপির বৈঠকের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর আগে দলটির কূটনীতিক তৎপরতায় কাজ করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দেন। বর্তমানে তৃণমূল বিএনপি নামে রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শমসের মুবিন চৌধুরী। দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলম খন্দকার।
উল্লেখ্য, এক সময়ে বিএনপির ডাকসাইটে নেতা ও বারবার মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ২০১৫ সালে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেছিলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তৃণমূল বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন শমসের মুবিন চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনমুখী একটি দল। আমরা নির্বাচন করতে চাই। অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে আমরা আশা করছি।’
২০০৭ সালে শেখ শওকত হোসেন নিলু বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলটি ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১০ হাজার ৩৪৮ ভোট পায় দলটি। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে যোগ দেয় এনপিপি। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় জোটের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় শেখ শওকত হোসেন নিলুর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করেন তিনি। ২০১৭ সালে ৬ মে মারা যান নিলু। পরবর্তীতে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তার ভাই শেখ ছালাউদ্দিন ছালু। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি এনপিপির নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ও গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চের চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশ করা, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই হানাহানি বাদ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে হোক বা সমঝোতার মাধ্যমে হোক একটা সুষ্ঠু ধারা দেশে ফিরিয়ে আনতে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেতনা বিএনপিই ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় গণভোট ইস্যুতে সামগ্রিকভাবে ‘হ্যা’ এর পক্ষে অবস্থান নেবে বিএনপি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় ও নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা সিলেট থেকে শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট পৌঁছে গভীর রাতে হজরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফরসঙ্গী আছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
এ সময় মঙ্গলবার ঢাকা-১৫ আসনের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণার আগে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ কাম্য নয়। বিএনপি থেকে এ ধরনের কোনো কাজ করা হচ্ছে না।
নির্বাচনের পূর্বমূহুর্তে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা বিধ্বংসী মওদুদীবাদী জামায়াতের জোট থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা হেফাজতের পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট পরিবর্তিত বাংলাদেশে সহীহ আকীদা বিশ্বাসী ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে ইসলামপন্থীদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছি। মওদুদীবাদী জামায়াতকে বাদ দিয়ে এক হওয়ার আহ্বান করেছি। ঈমান, আকীদা বাদ দিয়ে কারো সাথে জোট না করতে সতর্ক করেছি।
আলহামদুলিল্লাহ! মওদূদিবাদী জামায়াতের খপ্পড় থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে রাজনৈতিক পথচলা তৈরি করতে পারায় বিশেষ মোবারকবাদ জানাই। ইসলামি রাজনীতিতে হকপন্থিদেরর একক পথচলা খুবই প্রয়োজনীয় ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলেন, ইসলামপন্থী রাজনীতির জন্য এই পথচলা আগামীতে ভালো অবস্থা তৈরি করবে ইনশাআল্লাহ।
আমীরে হেফাজত আরও বলেন, জামায়াতের সাথে থাকার কারণে এ দেশের ইসলামপন্থার বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পীর সাহেব চরমোনাইর একক পথচলার সিদ্ধান্ত সেই ক্ষতির পথ অনেকটাই বন্ধ করবে বলেই আমি মনে করি, ইনশাআল্লাহ। এই সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারায় ইসলামী আন্দোলনের আমীর এবং এই দলকে বিশেষ মোবারকবাদ জানাই।
আমীরে হেফাজত তার বিবৃতিতে আরও বলেন, হেফাজত বরাবরের ন্যায় আগামী নির্বাচনেও কোনো দলের পক্ষে অবস্থান নিবেনা। তিনি বলেন,যারা নিরেট ইসলামপন্থাকে ধারণ করে জনগণ তাদেরকেই ভোট দেবেন বলে আমি আশাবাদী। যারা ইসলামের নামে মওদুদীবাদ এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে তাদেরকে আগামী নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে আগামী নির্বাচনে উলামায়ে দেওবন্দ তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সকল অনুসারী একই সাথে পথ চলবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, আগামীতে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে। এ জোটে দেশের একমাত্র জীবিত বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি চাই দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হোক। নির্বাচিত হলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সবার সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, কমিশনার ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নোয়াবাজারের খাদিজা ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাহফুজুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন।
ডা. তাহের বলেন, আগামীর নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ নির্বাচনকে তরুণ প্রজন্মের জন্য সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ উপহার দেওয়ার মাইলফলক হিসেবে নিতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার রক্ষার বাংলাদেশ। নারী অধিকারের প্রশ্নে আমরা আরও বেশি সোচ্চার রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ৫ আগস্টের বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। আমাদের যুবকেরা জীবন ও রক্ত দিয়ে দেশকে মুক্ত করেছে। আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং নতুন বাংলাদেশ গড়েছি।
ডা. তাহের দাবি করেন, ২০০১-০৬ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন না। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে তিনি দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে সার্টিফিকেট পান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মুহা. শাহজাহান, সাবেক আমীর আবদুস সাত্তার, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন ও পৌর আমীর মাওলানা মুহা. ইব্রাহিম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, রুহুল আমিন, ওয়াজী উল্লাহ ভূঁইয়া খোকন, ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।
সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, রাকসুর সাবেক সহসভাপতি এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দিয়েছিলেন। গণফোরামে যোগ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন থেকে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছিলেন।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন আবু সাইয়িদ। তখন পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন আবু সাইয়িদ। ওয়ান-ইলেভেনের পর দলে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়েন আওয়ামী লীগের তখনকার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে আবু সাইয়িদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকুর কাছে হেরে যান তিনি। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হয়েছিলেন অধ্যাপক সাইয়িদ।
চট্টগ্রামকে আসল অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেছেন, আমার বাবা (আবদুল্লাহ আল নোমান) ১৬ দফা পেশ করেছিলেন ম্যাডামের (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) কাছে। সে সময় বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আসল অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় স্থানীয় এক রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
ভোটে অন্য কেউ জিতে আসলে আপনার করণীয় কী হবে সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘সামাজিকভাবে কিছু আন্দোলন দরকার। শিক্ষা সংস্কৃতি রাজনৈতিক প্যাটার্নের জায়গায় পরিবর্তনের হাওয়া লাগা দরকার। কালচারাল রেভিলিউশন দরকার। এর জন্য গোড়াতে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মানুষের ডাকে ও সময়ের দাবিতে আজ আমি এখানে। নিজের রাজনৈতিক পদ পদবি বা কোনো জায়গায় পৌঁছার অভিলাষে আমি এখানে দাঁড়ানো নই। আমি সারাজীবনের জন্য মানুষের প্রতি কমিটেড।’
নোমান পুত্র বলেন, শুধু ১২ তারিখের জন্য না। অবশ্যই এর গুরুত্ব আছে। কিন্তু আমার যে কর্তব্য সেটা সঠিকভাবে করতে পারব কিনা সেই জায়গা থেকে খুব ভয় কাজ করছে। আমার কোনো ভুলে যেন মানুষের কোনো বিপদ না হয়। আমার ভুল হলে আপনারা পথ দেখাবেন।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘পড়াশোনা শেষে আমাদের পরিবারের যা কিছু আছে সব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড় করিয়েছিলাম। কতটুকু সফল তা আপনাদের সামনে। আমার বাবা কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু, শিক্ষা বোর্ড, সিভাসু, এয়ারপোর্ট, চুয়েটসহ উন্নয়ন নিয়ে নিরবে কাজ করে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের নেতা হিসেবে নই সামনের দিনে পলিসি মেকিং প্রসেসে কী অবদান রাখতে পারি রাখার কোনো সম্ভাবনা ও যোগ্যতা আছে কি না, সেই দিকটি অনেকগুলো বিবেচনার মধ্যে একটি বিবেচনার বিষয়। মানুষের জন্য কোনটা উপকারী ও টেকসই উন্নয়ন সেটাই সংসদের বড় একটা কাজ। মতবিনিময় সভায় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসন ১৯, রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রংপুর মহানগরের ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভাটি নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি সাংগঠনিক ঐক্য সুসংহত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহফুজ-উন-নবী ডন, সদস্য সচিব, রংপুর মহানগর বিএনপি। তিনি বলেন,“রংপুর মহানগরের নেতাকর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল। এই নির্বাচন কেবল একটি আসনের প্রতিযোগিতা নয়, এটি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ আসনে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়েই জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।”
প্রধান বক্তা শহিদুল ইসলাম মিজু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, রংপুর মহানগর বিএনপি বলেন,“ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়—এটি মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—সংসদীয় আসন ১৯, রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ এ মোকাররম হোসেন সুজনকে বিজয়ী করে জনগণের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে পৌঁছে দেওয়া।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন মোকাররম হোসেন সুজন, সংসদীয় আসন ১৯, রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।
বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার উপর যে আস্থা রেখেছে, তা আমার জন্য গর্বের পাশাপাশি এক বিশাল দায়িত্ব। এই মনোনয়ন আমাকে আরও বেশি করে জনগণের পাশে থাকার শক্তি ও প্রেরণা দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি রাজনীতিকে ক্ষমতার উৎস নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখি। নির্বাচিত হলে রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ আসনের প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার ও ন্যায্য দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলবো। জনগণের পাশে থাকা আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নুরুন্নবী চৌধুরী মিলন, আহ্বায়ক, রংপুর মহানগর যুবদল। তিনি বলেন,“তরুণ সমাজ আজ পরিবর্তন ও গণতন্ত্রের পক্ষে। মোকাররম হোসেন সুজন একজন পরীক্ষিত ও সংগ্রামী নেতা। যুবদল ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে এবং রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।”
এ সময় জহির আলম নয়ন, সদস্য সচিব, রংপুর মহানগর যুবদল বলেন,“মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। নেতাকর্মীরা জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দেবে।”
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানে অবস্থিত বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি শোকার্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেন এবং তাদের যেকোনো প্রয়োজনে দল হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছামাত্রই সেখানে আগে থেকে অপেক্ষমাণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দেখে গাড়ি থেকে নেমে আসেন তারেক রহমান। তিনি সরাসরি স্বজনদের কাছে যান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তারা যে দুর্দশা ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা তিনি অত্যন্ত মনোযোগ ও সহানুভূতির সঙ্গে শোনেন। এ সময় হতাহত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যানের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
সাক্ষাতের সময় বিএনপি চেয়ারম্যান দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, এই দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাবেন। এছাড়া আগামী নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যৌক্তিক দাবি-দাওয়া পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাইলটসহ মোট ৩৫ জন নিহত হন এবং স্কুলের বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। মর্মান্তিক সেই ঘটনার পর থেকেই হতাহতদের পরিবারগুলো নানা দাবি জানিয়ে আসছিল এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদন করে আসছিল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি ভেঙে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সিলেট সফরে যাচ্ছেন। ২০০৫ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে শেষবার সিলেট এসেছিলেন, তবে এবার তিনি আসছেন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে। দলীয় প্রধান হিসেবে সিলেটে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম জনসভা। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সফরের মূল কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতেন। সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও রেওয়াজ মেনেই তারেক রহমানও পুণ্যভূমি সিলেট থেকে তার দলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দুই আধ্যাত্মিক সাধকের মাজার জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে বেলা ১১টায় তিনি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। জনসভা শেষ করে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং পথিমধ্যে আরও বেশ কয়েকটি পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে সিলেট এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় চলছে মাইকিং, মিছিল ও প্রস্তুতি সভা। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যানকে বরণ করে নিতে সিলেটবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী সামিয়া চৌধুরী জানিয়েছেন, জনসভায় নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ভিআইপি এই সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, বিএনপি চেয়ারম্যানের ২১ ও ২২ জানুয়ারির সফর নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জনসভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আসন্ন গণভোটে দেশবাসীকে না ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। তিনি প্রস্তাবিত সংস্কার ও গণভোটকে সংবিধানবিরোধী ও অবাস্তব হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হবে। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলের ব্যানকুয়েট হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। একই অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী দলের ১৯৬টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় জিএম কাদের জানান, ঘোষিত তালিকায় ৬ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া আরও দুইজন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পেন্ডিং রয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও ২-৩ জন বৈধ প্রার্থীর তালিকায় যুক্ত হতে পারেন। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাদের বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নানামুখী কৌশলে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধার কারণে তারা নির্বাচনের মাঠে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পাচ্ছেন না বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কার ও গণভোটের বিষয়ে জিএম কাদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচার রোধের নামে যে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে আদতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে দেশ পরিচালনা করা অসম্ভব। তিনি যুক্তি দেখান যে, দেশ চালাতে হলে নির্বাহী প্রধানকে অবশ্যই পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে, অন্যথায় তিনি কখনোই তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন না। এই প্রেক্ষাপটে তিনি আসন্ন গণভোটকে দেশের স্বার্থবিরোধী আখ্যায়িত করে জনগণকে না ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপি আয়োজিত এই সভায় তিনি এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, দল ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার তিনি আর মুখ বুজে সহ্য করবেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নেমেছি কিন্তু পারছি না। ওরা যেভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বিএনপির বিরুদ্ধে, আমাদের বিরুদ্ধে; আমি ধৈর্য ধরে রাখতে পারছি না। আমি সহ্য করতে পারছি না।’
আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থানের দৃঢ়তা ব্যক্ত করে সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আমার মনের কথার কিছুটা প্রকাশ ঘটাতে চাই। আজকেই প্রথম, আজকেই শেষ। তোরা যা খুশি তাই কও, আমি কোনো কথা কমু না। আর যাই হোক, আমার গলায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে শব্দ হবে না। আমার বাড়ি ঢাকা এবং শাহজাহানপুরে; আমার ঠিকানা আছে রে ভাই। যারা ঠিকানা বিহীন তারা বলেন, আমার বাড়ির অমুক জায়গায়। আমি ঠিকানাবিহীন লোক নই, এটা মাথায় রাখতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন যে, তারা স্বৈরাচার বিদায়ের আন্দোলনে ভূমিকা রাখলেও দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জীবন বাজি রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের সাথে বর্তমানের তুলনা চলে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা যোদ্ধা, আর আমরা তো মুক্তিযোদ্ধা। আমরা একটা দেশ স্বাধীন করেছি। তোমরা কি স্বাধীন করেছ? তোমরা একটা অপশক্তিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছ ঠিক আছে, আমি স্বীকার করি। কিন্তু আমরাও আমাদের বয়সে একসময় এরশাদের মতো, হাসিনার মতো স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পরে যে যার কাজে ফেরত গিয়েছিলাম। আমরা কিন্তু বলিনি আমাদের মন্ত্রী বানাতে হবে।’
নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা কলেজে পড়তাম, ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম; সেই পড়াশোনা করতে চলে গেছি। তোমাদের মতো লোভ করিনি। তোমরা আজকে লোভ করতেছ। এত পাগল হওয়ার কী আছে ভাই? বয়স কম, রাজনীতি শেখো। ধীরে ধীরে রাজনীতি করো, দেশের উন্নতি করো- আমরা কামনা করি। রাজনীতি করার জন্য আমরা তোমাদের রাস্তায় ফুল বিছিয়ে দেব। কিন্তু অপকর্ম করার জন্য কোনো কাজ যদি করো, তার জবাব আমরা দিতে পারি ইনশাআল্লাহ।’ তিনি দল ও দেশের ক্রান্তিলগ্নে আজীবন রাজপথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, ‘দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ। তবে কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ ও কসাইদের হাতে এই দেশকে পড়তে দেবো না।’ দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় তিনি একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে যেকোনো অপশক্তির মোকাবিলায় প্রস্তুত আছেন বলে সভায় পুনর্ব্যক্ত করেন। মূলত দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার জায়গা থেকেই তিনি এই কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির সাতজন শীর্ষস্থানীয় নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন। তিনি জানান যে, রাজনৈতিক সুরক্ষা সংক্রান্ত এই আবেদনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। মূলত উল্লিখিত নেতৃবৃন্দ নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ইসি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (সাবেক এমপি), এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি) ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নিরাপত্তা চেয়েছেন।” জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে ইসি। সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং মাঠপর্যায়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই ইসি এই নির্দেশ জারি করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামীতে তার দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে রাজধানীর কড়াইল বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে কড়াইলবাসীর জন্য আধুনিক হাসপাতাল, শিশুদের জন্য স্কুল এবং খেলাধুলার জন্য মাঠ নির্মাণ করা হবে। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় স্থানীয় কড়াইলবাসী এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান বস্তিবাসীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে কড়াইলে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে এবং সেই ভবনগুলোতে বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট বা আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে মানুষকে বের করে এনে একটি সম্মানজনক ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কড়াইলবাসীর শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই হবে তার দলের অন্যতম অগ্রাধিকার। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সন্তানদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। দোয়া মাহফিলে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা মরহুম নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় পার্টির মোট ১৯৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বা জিএম কাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৈধতা পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আরও দুই থেকে তিনজন প্রার্থী এই চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হতে পারেন বলে দলটি আশা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়নি। বরং জাতীয় পার্টিকে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নানা কৌশলে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দলের অনেক প্রার্থীকে কারাগারে বসেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে দায়েরকৃত মামলাগুলো নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মামলার নামে সরকার সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। জিএম কাদের অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের বিষয়টি এখন একটি বিরাট বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। পুলিশ এবং সমাজের সুবিধাবাদি একটি অংশ এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, রাজনৈতিক কারণ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে এখন যাকে ইচ্ছা তাকে মামলার আসামি করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশের জন্য অন্তরায়।