রাজনৈতিক নানা মেরুকরণের ফলে দেশের বড় দুই দলের এক সময়ের মিত্ররাই এখন তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক সময় জোটে থাকা, সমঝোতায় থাকা রাজনৈতিক দল ও নেতারা এখন বিরোধী রাজনৈতিক বলয়ে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির মিত্ররা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বলয়ে অবস্থান নিয়েছে।
‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’- বহুল প্রচলিত এই বাক্যটির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় যখন ভোটের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আদর্শগত মিল না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দল তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট গঠন হয়েছিল ২০০৪ সালে। জোটের শরিক দল হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণফোরাম ছিল। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগেই ওই দলগুলো জোট ছেড়ে চলে যায়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে জোটটি। ক্ষমতার বলয়ে থাকাবস্থায় ভাঙনের মুখে পড়ে জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল ও জাতীয় পার্টি।
নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে সিপিবি-বাসদ। এসব কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের অন্যতম নেতা ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের বদলে বিএনপি বা অন্যদের বসানো আমাদের লক্ষ্য নয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, ঐক্য ন্যাপ ও বাংলাদেশ জাসদের সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’
আদর্শগত মিল না থাকায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে বাম জোটে নেই বলে জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আদর্শিক অবস্থান থেকে বাম জোট আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বিদলীয় ধারার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করতে চাইছে।
সিপিবি ও বাসদ বর্তমানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক দল ছিল বিএনপি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণফোরাম ভেঙে যায়। দলটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী আলাদা গণফোরাম তৈরি করেন। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হন মিজানুর রহমান।
গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতির জন্য গণতন্ত্রহীনতা বড় সংকট আখ্যা দিয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণে ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন ড. কামাল হোসেন। সেই সঙ্গে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে সংলাপের আয়োজন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে জাসদ ভেঙে শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান গঠন করেন বাংলাদেশ জাসদ। দলটি চলতি বছরে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। বাংলাদেশ জাসদ বর্তমানে ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। মূলত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ১৪ দলীয় জোট ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাসদ।
দলটির সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবার অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন চাই। বর্তমান সরকার যেভাবে নির্বাচন করতে চাচ্ছে সেই নির্বাচনে অংশ নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এখন আমরা কোনো জোটে নেই।’ ভবিষ্যতের রাজনীতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওই বছরই গঠন করেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন রাজনৈতিক দল। দলটি ২০০৮ সালে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি দলটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জাতীয় যুক্তফ্রন্ট গঠন হয় বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ও গণফোরামের নেতৃত্বে। পরে গণফোরাম বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলে বিকল্প ধারা ওই জোটে যোগ দেয়নি। বিকল্প ধারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনে জয়লাভ করে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দলটির মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা মনে করি সবাই মিলে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করা উচিত। আমরা আশা করি বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নেব।’
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই শমসের মুবিন চৌধুরী বিএনপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূতের বিএনপির বৈঠকের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর আগে দলটির কূটনীতিক তৎপরতায় কাজ করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দেন। বর্তমানে তৃণমূল বিএনপি নামে রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শমসের মুবিন চৌধুরী। দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলম খন্দকার।
উল্লেখ্য, এক সময়ে বিএনপির ডাকসাইটে নেতা ও বারবার মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ২০১৫ সালে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেছিলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তৃণমূল বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন শমসের মুবিন চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনমুখী একটি দল। আমরা নির্বাচন করতে চাই। অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে আমরা আশা করছি।’
২০০৭ সালে শেখ শওকত হোসেন নিলু বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলটি ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১০ হাজার ৩৪৮ ভোট পায় দলটি। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে যোগ দেয় এনপিপি। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় জোটের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় শেখ শওকত হোসেন নিলুর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করেন তিনি। ২০১৭ সালে ৬ মে মারা যান নিলু। পরবর্তীতে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তার ভাই শেখ ছালাউদ্দিন ছালু। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি এনপিপির নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ও গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চের চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশ করা, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই হানাহানি বাদ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে হোক বা সমঝোতার মাধ্যমে হোক একটা সুষ্ঠু ধারা দেশে ফিরিয়ে আনতে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেতনা বিএনপিই ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ৭৬তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান তিনি। বিষয়টি বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেখেন, ‘ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন। জন্মদিনে আপনার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা। সুস্বাস্থ্য ও উদ্যমের সঙ্গে ভারতীয় জনগণের প্রতি আপনার সেবা ও নিরলস কর্মযজ্ঞ চলুক; এই কামনা করি।’
বৃহস্পতিবারই নরেন্দ্র মোদি ৭৬ বছরে পা দিয়েছেন। ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের গুজরাটের ভাদনগরে তার জন্ম। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোদি ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মোদির জন্মদিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিসরেও এদিন তার জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা আসে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও ভারতীয় জনগণের সেবায় তার কর্মযজ্ঞ অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানকে বদলিপূর্বক প্রেষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হাফিজুল্লাহ খানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ন্যস্তকৃত কার্যালয়ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন খামারিরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।
বৃহস্পতিবার গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’- শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন শুধু খামারির স্বার্থে নয়, পুরো জাতির স্বার্থে জরুরি। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকুক এবং ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ খাদ্য পেতে পারেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পোল্ট্রি খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশ থেকে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি শুরু হয়েছে, যা এ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, ভেজাল খাদ্য এবং মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং খামারিদের সমস্যা সমাধানে সরকার ধারাবাহিকভাবে মাঠপর্যায়ে মতবিনিময় করছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর গাজীপুর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার), বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধিদপ্তরে পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এস. এম. হারুন-অর-রশিদ। এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় কূটনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই জার্মানি বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর একটি জার্মানি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৩৭ সাল থেকে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকার আরও বলেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংকটে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী। দেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তার অবদান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি গভীরভাবে আস্থাশীল। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের মানুষ বারবার আত্মত্যাগ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি জানান, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় কূটনীতি আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্পিকার।
জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ ও উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছিলেন। তার দাবি, তখন থেকেই দেশে গণতন্ত্র ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের নৈরাজ্যের পর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া।
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি সম্মেলনে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়েছিলেন। তখন ফ্যাসিবাদের নানা রূপ ও নৃশংসতা এতটা প্রকাশ পায়নি। কিন্তু দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারাতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাদের অনেককে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের স্বজনেরা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে ৬০ লাখের বেশি বিএনপির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা গায়েবি মামলা’ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন আইনমন্ত্রী। এসব মামলায় মৃত ব্যক্তিদেরও আসামি করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এমন নৃশংসতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, মাত্র ২০ দিনের মধ্যে রাজপথে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে গুলি করে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে—এমন দাবি রয়েছে। তার অভিযোগ, এত মানুষের মৃত্যুর পরও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে যথাযথ দুঃখ প্রকাশ বা অনুতাপ দেখা যায়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৬ বছরের হত্যা, গুম, খুন ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মানুষ যখন আন্দোলন করছিল, তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকে গুরুত্ব না দিয়ে একদিকে লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার এবং অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে অভিহিত করার যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত পতনের কারণ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সফল গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—বেগম খালেদা জিয়ার এই স্লোগান আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে। বাংলাদেশ সব নাগরিকের—হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ চাকমা, মারমা ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান।
সরকার দেশবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে উল্টো পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় প্রধান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বন্ধ বা খর্ব করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রবাসীদের প্রতি জুলুম হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রবাসীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার বন্ধ বা খর্ব করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের নাগরিক হিসেবেও তাদের অধিকার ভোগ করবেন—এটাই স্বাভাবিক।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে চতুর্থবারের মতো অচলাবস্থা যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের বিজয় চায়। সংসদে এবং সংসদের বাইরে অন্যায় ও জনস্বার্থবিরোধী কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা তার বিরুদ্ধে কথা বলবেন। জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বিরোধী দল ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মুখ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে তিনি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার যদি উল্টো পথে হাঁটে, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকারের উচিত জনগণের প্রত্যাশা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বীর উত্তম।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান কাদের সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় দুজনের মধ্যে পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় হয়।
বঙ্গভবনের প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ও কাদের সিদ্দিকী দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
সৌজন্য সাক্ষাতে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য ১২০টি নির্বাচনি প্রতীক নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত প্রতীক তালিকায় ‘নৌকা’ প্রতীকটি রাখা হলেও এর পাশে ‘স্থগিত’ উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে এটি বরাদ্দযোগ্য প্রতীকের তালিকার বাইরে রয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি সংশোধন করে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে এটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি (১) সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ২০-এর দফা (১)-এর অধীন স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে।
প্রকাশিত তালিকায় মোট ১২০টি প্রতীক রয়েছে। এর মধ্যে আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কাস্তে, কাপ-পিরিচ, কাঁচি, কাঁঠাল, ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, চেয়ার, ছাতা, জাহাজ, টর্চ লাইট, টেলিভিশন, ট্রাক, ট্র্যাক্টর, ডাব, তারা, বই, বক, বটগাছ, বাইসাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, লাঙল, লিচু, সিংহ, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালি আঁশ, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হেলিকপ্টার ও হ্যান্ডশেকসহ বিভিন্ন প্রতীক রয়েছে। তালিকায় ‘না’ প্রতীকও যুক্ত করা হয়েছে।
তালিকার ৬৫ নম্বরে রয়েছে ‘নৌকা’। তবে প্রতীকটির পাশে স্পষ্টভাবে ‘স্থগিত’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানের কারণে স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে অন্য তালিকাভুক্ত প্রতীক থেকে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার বিধান কার্যকর হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনের মাধ্যমে শুধু প্রতীকের তালিকাই নয়, নির্বাচনি কার্যক্রমের কিছু বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। প্রজ্ঞাপনটিতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন তালিকায় বিভিন্ন প্রচলিত প্রতীকের পাশাপাশি ‘না’ প্রতীক রাখার বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। প্রকাশিত বিধান অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত ও প্রাপ্য প্রতীক থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে করা প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রকোনা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আক্তারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনসিপির নেত্রকোনা জেলা কমিটির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে সাদিয়া আক্তারকে নেত্রকোনা জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের কাছে এসব জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। গত ৮ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা শহরের কুরপার এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে ভুক্তভোগী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা থানায় সাদিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ৯ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে বুধবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাদিয়া আক্তার।
এদিকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির পাশাপাশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ায় বিষয়টি এখন সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাদিয়ার ব্যাখ্যা ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার কারণে আদানি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সম্মান রক্ষা করেছেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থানরত আসামিদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। এটিকে গভীর কোনো চক্রান্তের অংশ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে বিচার চলছে এমন ব্যক্তিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।
ব্রিকস সম্মেলনের বিষয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান না থাকায় তারেক রহমান সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। কিন্তু তিনি না যাওয়ার কথা জানানোর পরদিনই কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছে বলে সাধারণ মানুষও অনুধাবন করতে পারছে।
দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে রিজভী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সুশাসনের কারণে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যমান জ্বালানি সংকট কাটাতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ চলছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশে বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছে, যেখানে বিরোধী দল অবাধে সমালোচনা করতে পারছে কিন্তু কারো ওপর জুলুম বা গুমের ঘটনা ঘটছে না।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রিজভী বলেন, একাত্তরের শহীদ মধুর স্মৃতির প্রতি অপমানজনক কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কোথাও তদবির করেননি বলে দাবি করেছেন মডেল, অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। বরং বিএনপিতে যোগ দেওয়াই তার ইচ্ছা ছিল এবং এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিজেই ভয়েস বার্তা পাঠিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন মেঘনা আলম।
স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম দাবি করেন, বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তিনি কারও কাছে তদবির করেননি। দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়াই তার ইচ্ছা ছিল। এ বিষয়ে তিনি তারেক রহমানকে ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পরিবর্তে শুধু দিকনির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, তার আহ্বানে ৫০০ থেকে ১ হাজার মানুষ দলের হয়ে কাজ করতে প্রস্তুত ছিলেন।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মেঘনা আলম বলেন, মৎস্যজীবী প্রান্তিক মানুষের একটি সংগঠনকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তার দাবি, প্রস্তাবিত কমিটিতে দলের সাবেক মহাসচিব নিজেই তার নাম স্বাক্ষর করেছেন।
২০২৩-২৪ সালের কোনো কাগজপত্র দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি বিএনপির সমর্থক ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন মেঘনা আলম। সে সময় তিনি পূর্বের রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগের কথাও জানান।
নিজের স্ট্যাটাসে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিচয় ব্যবহার করে দলের হয়ে মাঠে বা অনলাইনে কাজ না করা ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন মেঘনা আলম। তার দাবি, এসব ব্যক্তি নিয়মিত দলের সমালোচনা করেন।
এ ধরনের ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি ‘বিএনপির আবর্জনা’ শব্দটি ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে দলের সমর্থক ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
স্ট্যাটাসে নারীদের নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মেঘনা আলম।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে বিএনপির সব নারীকে নিরাপদ রাখতে হবে। নারীদের একে অন্যের প্রতি হিংসা না করার আহ্বানও জানান তিনি।
নারী নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার প্রবণতার সমালোচনা করে মেঘনা বলেন, নির্যাতনের শিকার নারীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে নিরাপত্তা দেওয়া জরুরি।
মেঘনা আলমের এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাসে দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বুধবার রাতে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘উনি স্থানীয় (সরকার প্রতিমন্ত্রী) যেটা বলেছেন, সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না’—স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ‘এত নতজানু, এত মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন দিয়ে এই ইলেকশন তো কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না।’
বুধবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে সম্পন্ন করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করে। প্রথম ধাপের নির্বাচন ১২ নভেম্বর এবং শেষ ধাপের নির্বাচন আগামী ২৭ মে করার পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রকাশ্যে ওই সময়সূচি নিয়ে আপত্তি জানান। এরপরই নির্বাচন কমিশন তার ঘোষিত রূপরেখাকে ‘পুরোপুরি প্রাথমিক’ বলে পুনর্ব্যাখ্যা করে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার কথা জানায়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘তফসিলের প্রাথমিক ঘোষণার পর মন্ত্রীর মন্তব্যের পরের দিনই ভোল পাল্টে ফেলা—এত নতজানু, এত মেরুদণ্ডহীন ইলেকশন কমিশন দিয়ে এই ইলেকশন তো কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না। এটা আমি দেশবাসীর বিবেচনার জন্য পেশ করছি।’
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, ‘তারা কোনো সাংবিধানিক দায়িত্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে তাদের আচরণে মনে হচ্ছে না। তাহলে কী করে একজন সিনিয়র সেক্রেটারি যিনি বললেন যে, মন্ত্রীর কথা শিরোধার্য, আমি তাঁর ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করার মত ধৃষ্টতা দেখাতে পারব না—উনার মেরুদণ্ড কোথায়?’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য করার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এখন তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার উদ্যোগকে তিনি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে দাবি করেন।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং তাদের পদত্যাগের দাবিও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে সরকারি অর্থ ব্যয় করে কেউ নির্বাচনের আগে পরোক্ষভাবে প্রচারের সুযোগ পেলে নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে না। তাদের নির্বাচনে অযোগ্য করতে হবে। আর তাদের এক্ষুনি পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে বোঝা যাচ্ছে, সরকার এদের প্রশাসক এ জন্য নিয়োগ করেছে যে ইলেকশন ঘোষণা হলে ওরাই প্রার্থী হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে আট দাবি জানান পরওয়ার। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, কোনো মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী বা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ না করা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত না করা এবং দ্রুত একটি সুস্পষ্ট, চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা। একই সঙ্গে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ ও কার্যকর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়া। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমান সরকারের নিয়োগ করা প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া নয় দফা দাবি বাস্তবায়নের কথাও বলেন পরওয়ার।
গুপ্ত রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিতকারীরা কখনো তাদের ভালো চায় না; বরং নিজেদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের গুপ্ত রাজনীতি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাকিব বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই সতর্ক থাকবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তোমাদের যদি গুপ্ত রাজনীতি করতে উৎসাহিত করে, নোংরামি করতে উৎসাহিত করে, তোমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবে।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের শিক্ষা, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগী হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন যেন তাদের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে নবীনদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নবীন শিক্ষার্থীদের বিসিএসকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে না নেওয়ার পরামর্শ দেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমি বিসিএস ক্যাডার হতে পারলাম না বলে আমার জীবন শেষ, পরিবার ও ক্যারিয়ার শেষ—এটি পুরোপুরি ভুল ও মিথ্যা ধারণা।’
দেশে বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে রাকিব বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরেও হাজার হাজার কর্মসংস্থান রয়েছে। সেখানে বাইরের দেশ থেকে মানুষ এসে কাজ করছেন। তাদের বেতন ও ক্যারিয়ার অনেক ভালো পর্যায়ে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন তরুণ শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান।
তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন নবীন শিক্ষার্থীদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দর্শন ধারণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘সত্যিকারের দেশপ্রেম যদি কেউ শিখিয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিখিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে, রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে এবং তার শাহাদাতের মধ্য দিয়েও তিনি দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন।’
জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের সভাপতিত্বে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে প্রায় ২ হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে নিজেদের অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহ দিতে জবি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপহার ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।