আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই দিন রাজধানীর নয়াপল্টন ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে দুই দলের ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনমনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ঢাকায় সমাবেশ হলেও দেশবাসীর নজর ২৮ অক্টোবর ঘিরে। সংঘাতের আশঙ্কা জনমনে থাকলেও বিশ্লেষকরা বড় ধরনের কিছু ঘটার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন। তবে তারা ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
তারা মনে করছেন, যেহেতু ঢাকার বাইরে থেকে বহুসংখ্যক নেতা-কর্মী আসার সম্ভাবনা রয়েছে- তাই নাটকীয়ভাবে কিছু ঘটলেও ঘটতে পারে। তা ছাড়া তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজপথের বিরোধী দল তাদের দাবির পক্ষে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। সেই শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় হবে কি না তা নির্ভর করবে আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা কতটুকু তার ওপর। অন্যদিকে, বড় ধরনের সংঘাত ও সহিংসতা এড়াতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) চিঠি দিয়েছে দলটি। একই দিনে ঢাকায় পৃথক পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরাও। যদিও ওই দিনের মহাসমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা কোনো নেতা-কর্মীকে অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দিইনি। তিনি তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দিতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বিএনপি ও তার আন্দোলন-সঙ্গীদের কর্মসূচির দিনে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারাও রাজপথে তাদের শক্তির মহড়া দিয়ে নিজেদের শক্তি ও জনপ্রিয়তা প্রদর্শন করতে চায়। সমাবেশের অনুমতি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এর ফলে নিকট-দূরত্বে প্রধান দুই দলের সমাবেশ ঘিরে সহিংসতা ও নাশকতার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে জনমনে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়, সরকারের পতন চায়। তারা এ দাবির পক্ষে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সে দাবি আদায় হবে কি না তা নির্ভর করবে আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা কতটা পেল। একই দিনে ক্ষমতাসীনদের কর্মসূচি ডাকার সমালোচনা করেন তিনি।
২৮ অক্টোবর সমাবেশ ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীদের উচিত ইশতেহার নিয়ে হাজির হওয়া, আলাপ-আলোচনা করা। ক্ষমতাসীন দলের এ ধরনের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ এড়িয়ে চলা দরকার। কারণ বিরোধীরা তার দাবির পক্ষে যত কর্মসূচি ডাকবে, সব কর্মসূচিতেই যদি ক্ষমতাসীনরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ডাকে, তা হলে তার শক্তি ক্ষয় হবে, সে দুর্বল হয়ে পড়বে। তা হলে নির্বাচন কীভাবে করবে? বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছি না। যদি হয়ও, সেটা হবে বিচ্ছিন্ন অথবা নাটকীয় কিছু।
এদিকে ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে দুই দলের সমাবেশ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। কী হচ্ছে, কী হবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে, এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। যদিও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করছেন, ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে তেমন কিছুই হবে না। কারণ ওই দিন রাজপথ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবেন তারা।
মহাসমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা করে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এ সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব, সকল বিভাগের সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা বিভাগের সকল মহানগর ও জেলাগুলোর সভাপতি/আহবায়ক/সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি/আহ্বায়ক/সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রতিটি কর্মসূচি আমরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে করে আসছি। ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হবে। সিকিউরিটি জন্য আমাদের নিজস্ব যে ব্যবস্থা দরকার, সেটাও নিচ্ছি। কোনো নেতা-কর্মীকে ঢাকায় এসে বসে পড়তে তো বলিনি। বরং বলেছি, ২৮ তারিখের কর্মসূচির পরে যে যার জায়গায় চলে যাবে। পরবর্তী কর্মসূচির জন্য অপেক্ষা করবে। ২৮ অক্টোবর আমরা এমন কোনো কর্মসূচি দেব না যে, তারা (নেতা-কর্মীরা) ঢাকায় বসে থাকবে।
এদিকে ২৮ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের যৌথ আয়োজনে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবে বলে দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। এতে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। সমাবেশ সঞ্চালনা করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।
আওয়ামী লীগ শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত করতে চায় বলে দলটির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য ঢাকা মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিনিধি সম্মেলন করা হচ্ছে। ওইসব সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকার নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ওই দিন সমাবেশের পাশাপাশি সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন বলেও মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা জানান, শুধু ঢাকা মহানগর নয়- রাজধানীর আশপাশের গাজীপুর জেলা, মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের নেতা-কর্মীদেরও ঢাকায় আসার নির্দেশনা দেয়া হবে। একই সঙ্গে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকেও সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সংগঠনগুলো এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, গতকাল রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সংবিধান মেনেই নির্বাচন হবে। অবরোধ, দখলের হুমকি দিয়ে তাদের খায়েশ পূর্ণ হবে না। ঢাকা অবরোধ, দখলের নামে আবার অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও–পোড়াওয়ের হুমকি আসছে। যাঁরা মনে মনে স্বপ্ন দেখছেন অবরোধ করে, রাস্তা দখল করে আগের মতো বাস, রেল, মানুষ পুড়িয়ে বাংলাদেশের সংবিধানকে কচুকাটা করবেন, সেটা কোনো দিন হবে না। আমরা হতে দেব না।’
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ সফল করতে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীদের ঢাকায় এনে বড় লোক সমাগম করতে চায় দলটি। তার অংশ হিসেবে জেলায় জেলায় সফর করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।
আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির মহাসমাবেশ, ছোট সমাবেশ, মাঝারি সমাবেশ এবং তাদের হাঁটা, দৌড় বা বসা কর্মসূচি, ভবিষ্যতে হয়তো হামাগুড়ি দেয়া কর্মসূচি আসবে- এগুলোতে আমরা কখনো চাপ অনুভব করি নাই। আমরা রাজপথের দল, আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকব। ২৮ তারিখেও রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে।’
তবে জনমনে যত শঙ্কাই থাকুক না কেন, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় নাশকতার কোনো আশঙ্কা দেখছে না পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেব। আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আমাদের কাছে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই।’
তবে বিএনপি শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের ডাক দিলেও তাদের যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা আছে তারা থাকবেন পুলিশের রেড মার্কিংয়ে। ডিবিপ্রধান জানিয়েছেন, ‘চেকপোস্টে পুলিশের কড়াকড়ি ও তল্লাশি অভিযান থাকবে। আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারেও পুলিশ সক্রিয় থাকবে।’
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে রোপণকৃত গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কেটে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিজ বাড়িতে যাতায়াতের পথ সুগম করার লক্ষ্যে তিনি এ কাজ করেছেন, যা দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।
জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন রোধে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙন প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সভাপতির বাড়িতে যেতে হলে বাঁধের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাতায়াতে সমস্যার কারণে গত ৫ আগস্টের পর থেকে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০-১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছ কেটে ধাপে ধাপে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (সদ্য পদ স্থগিত হওয়া) জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের দাবি, তিনি একটি গাছও কাটেননি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মিঠামইন থানার ওসি সরকারি নাম্বারে কল করা হলে কলটি রিসিভ করেন উপপরিদর্শক আল মোমেন। তিনি জানান, বেরিবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ফয়েজুর রাজ্জাক বাদী হয়ে আঙ্গুর মিয়া নামে একজনের নামউল্লেখ করে আরও দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রীর মাদকবিরোধী কঠোর ঘোষণার পরপরই শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। বিশেষ অভিযানে ইয়াবা সেবনের সময় হাতেনাতে ৭ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চৌধুরীকান্দি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব হাসান খান।
সূত্র জানায়, চৌধুরীকান্দি এলাকার একটি বাড়িতে ইয়াবা বেচাকেনা ও সেবন চলছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে এসআই আলমগীর, এসআই নুরুল ইসলাম, এসআই রুহুল, এএসআই শামিমসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানের সময় ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় নবীপুর গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৭), মো. জুলহাস আহমেদ (৫৫), রামধনীমুড়া এলাকার মো. মশিউর রহমান (৪৫), মো. ইয়াসিন (৩০), মো. সবুর মিয়া, নিমাইকান্দি এলাকার মো. মনির হোসেন (৪৫) ও মো. সোহেল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটকের পর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। শুনানি শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্ত ৭ জনকে মোট ১ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা এবং প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান জানান, মাননীয় ধর্মমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়েকোবাদ নিজ এলাকায় প্রথম সফরে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। তার ওই ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়।
যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, তাদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেইন (কায়কোবাদ)।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইসলামী বইমেলা-২০২৬ এর উদবোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, আল্লাহর হুকুম পালন ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। তার হুকুম পালন ছাড়া পৃথিবীতে শান্তি আসবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যে ভূমিকা রাখছে, আমরা তাতে অভিভূত। তাদের ভূমিকার কারণে ফাউন্ডেশন থেকে যেসব ইসলামিক বই বের হচ্ছে, সেগুলো পড়ে আমরা ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবো।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায় অবিচার করেছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অত্যাচারকারী, জুলুমবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ইসলামের নাম নিয়ে ধর্ম ব্যবসা করতে চায়, তাদেরকে কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ছালাম খান প্রমুখ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ইশরাক হোসেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়াজ শুরু হওয়ায় এখানে মেয়র পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেরিভায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন এই ঘোষণা দেন।
এর আগে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক পদে বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দেয়। দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামকে প্রশাসক করা হয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে ২০২০ সালে শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন। তখন ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেটও প্রকাশিত হয়। তবে তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরোধিতার কারণে ইশরাকের আর মেয়রের চেয়ারে বসা হয়নি।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের সূচনা করেন এমপি মো. রায়হান সিরাজী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা আমীর মাও. নায়েবুজ্জামান, উপজেলা নায়েবে আমীর মো. তাজ উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি মাও. সাইফুল ইসলাম, মাও. আব্দুল হালিম, আশরাফুল আলম, মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ নেতারা। এছাড়াও কর্মসূচিতে অংশ নেন উপজেলা পরিবার স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলেমুল বাসার এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজানুল হাসান। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও এতে সম্পৃক্ত হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রায়হান সিরাজী বলেন, একটি হাসপাতাল শুধু চিকিৎসা প্রদানের স্থান নয়, এটি মানুষের আশা-ভরসার কেন্দ্র। এখানে আগত রোগী ও স্বজনদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। তিনি স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ও পরিবেশগত মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরে অতিথিরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। স্বেচ্ছাসেবকরা হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং রোগী-স্বজনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ করেন।
কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে মিলন হোসেন হত্যার বিচারের দাবিতে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিক্ষোভ মিছিলটি নন্দীগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সমনের এসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন ও সাধারণ সম্পাদক নূরনবীসহ অন্যান্য বক্তারা মিলন হোসেনকে ছাত্রদল কর্মী দাবি করে তার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে থানা ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বুড়ইল গ্রামের দিলবর হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (১৭) নামে ওই কিশোরকে পূর্ব শত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। গত শুক্রবার রাতে নিহতর বাবা ১৩ জনের নামে নন্দীগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ আটক ইউনিয়নের যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি মারফত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত নেতা আনোয়ারুল সাপমাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ও ওই গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে।
এর আগে, গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তরফ কামাল গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে আনোয়ারুল ইসলাম (৩৮) তার নিজ বাড়ি থেকে ব্যাগের ভেতরে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের ২৮৫ পাতা পাওয়া যায়, যার প্রতিটি পাতায় ১০টি করে মোট ২,৮৫০টি ট্যাবলেট ছিল।
জানা গেছে, অভিযানে আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার শয়নকক্ষ তল্লাশি করে ড্রয়ারে রাখা একটি প্লাস্টিক ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটের ওজন প্রায় ১.১৯৭ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা । এ গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাড. রুহুল আমিনকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রায়পুর হাইস্কুল মাঠে গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর রায়পুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আমির হামজা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা তালিমুল বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন, জেলা তারবিয়াতি সেক্রেটারি মো. জিয়াউর রহমান, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হযরত মাওলানা হাফিজুর রহমান, সাজেদুর রহমান, জীবননগর উপজেলা আমীরসহ স্থানীয় নেতারা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক কর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, তৎকালীন পুলিশ কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার প্রায় ৭ বছর পর এ আদেশ এলো।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন এ নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তৎকালীন বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান, উপপুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া, বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই রাসেল মিয়া, এএসআই এরফান হোসেন মিদুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস, এএসআই মেহেদি হাসান মোল্লা ও কনস্টেবল ফয়জুল।
মামলার বাদী মো. মশিউল আলম খান পলাশ, যিনি বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
বাদী পলাশ অভিযোগ করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দলীয় প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে তিনি সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকায় লিফলেট বিতরণের উদ্দেশ্যে প্রার্থীর সঙ্গে রওনা হলে নদীপথে তিনদিক থেকে স্পিডবোটে ধাওয়া করা হয়।
বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত প্রথমে বন্দর থানার ওসিকে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। পরে ঘটনাস্থল কোতোয়ালি মডেল থানার আওতাভুক্ত দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে বিষয়টি কয়েক মাস ঝুলে থাকে।
অবশেষে গত রোববার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ও অনুভূতির বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার নজির থাকলেও বিএনপি সবসময় জনগণের সেন্টিমেন্ট ধারণ করে পথ চলেছে। তিনি বলেন, ‘দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’ গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাভারস্থ বিসিএস লাইভস্টক একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) ক্যাডার কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কখনোই দেশের মানুষের অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবসহ মানুষের অধিকার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনগুলোতেও বিএনপির ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণআন্দোলনেও বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পকারখানার বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় দেশের নদ-নদী দূষিত হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এ প্রেক্ষাপটে কৃষিভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন গড়ে তুলতে পারলে একদিকে যেমন অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে। তাই কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ হলেই দেশ হবে উন্নত।’
নবনিযুক্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের কর্মকর্তা। কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়—রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।’ তিনি কর্মকর্তাদের উপজেলাসহ মাঠপর্যায়ে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, উন্নত ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ প্রশিক্ষণার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরবর্তী নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর এই ঘোষণা রাজধানীর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ইশরাক হোসেন সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছিলেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভায় স্থান পান ইশরাক। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
সাবেক মেয়র ও বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেন এর আগেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সংসদ সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের মধ্যেই পুনরায় সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত তাঁর দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে সরকার সঠিক সময়ে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এমন সময়ে ইশরাক হোসেনের এই প্রকাশ্য ঘোষণা আগামী দিনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বেশ চ্যালেঞ্জিং ও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সংবাদটি প্রচারিত হওয়ার পর থেকে তাঁর সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রতিটি পরিকল্পনা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করব।’
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র রমজানের তৃতীয় দিনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
ইফতারসামগ্রী বিতরণকালে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে আমিনুল হক বলেন, ‘যারা ঘরে ঘরে গিয়ে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির নামে প্রতারণা করেছেন এবং মিথ্যাচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কেউ কেউ টাকা ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।’ এসব অপচেষ্টা থেকে সচেতন থাকার জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আমিনুল হক আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিটি কথা ও পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তব রূপ পাবে।’ এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তার অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন আছেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।
বেগম সেলিমা রহমানের রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থতা কামনায় তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।