আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই দিন রাজধানীর নয়াপল্টন ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে দুই দলের ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনমনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ঢাকায় সমাবেশ হলেও দেশবাসীর নজর ২৮ অক্টোবর ঘিরে। সংঘাতের আশঙ্কা জনমনে থাকলেও বিশ্লেষকরা বড় ধরনের কিছু ঘটার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন। তবে তারা ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
তারা মনে করছেন, যেহেতু ঢাকার বাইরে থেকে বহুসংখ্যক নেতা-কর্মী আসার সম্ভাবনা রয়েছে- তাই নাটকীয়ভাবে কিছু ঘটলেও ঘটতে পারে। তা ছাড়া তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজপথের বিরোধী দল তাদের দাবির পক্ষে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। সেই শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় হবে কি না তা নির্ভর করবে আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা কতটুকু তার ওপর। অন্যদিকে, বড় ধরনের সংঘাত ও সহিংসতা এড়াতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) চিঠি দিয়েছে দলটি। একই দিনে ঢাকায় পৃথক পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরাও। যদিও ওই দিনের মহাসমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা কোনো নেতা-কর্মীকে অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দিইনি। তিনি তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দিতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বিএনপি ও তার আন্দোলন-সঙ্গীদের কর্মসূচির দিনে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারাও রাজপথে তাদের শক্তির মহড়া দিয়ে নিজেদের শক্তি ও জনপ্রিয়তা প্রদর্শন করতে চায়। সমাবেশের অনুমতি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এর ফলে নিকট-দূরত্বে প্রধান দুই দলের সমাবেশ ঘিরে সহিংসতা ও নাশকতার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে জনমনে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়, সরকারের পতন চায়। তারা এ দাবির পক্ষে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সে দাবি আদায় হবে কি না তা নির্ভর করবে আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা কতটা পেল। একই দিনে ক্ষমতাসীনদের কর্মসূচি ডাকার সমালোচনা করেন তিনি।
২৮ অক্টোবর সমাবেশ ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীদের উচিত ইশতেহার নিয়ে হাজির হওয়া, আলাপ-আলোচনা করা। ক্ষমতাসীন দলের এ ধরনের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ এড়িয়ে চলা দরকার। কারণ বিরোধীরা তার দাবির পক্ষে যত কর্মসূচি ডাকবে, সব কর্মসূচিতেই যদি ক্ষমতাসীনরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ডাকে, তা হলে তার শক্তি ক্ষয় হবে, সে দুর্বল হয়ে পড়বে। তা হলে নির্বাচন কীভাবে করবে? বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছি না। যদি হয়ও, সেটা হবে বিচ্ছিন্ন অথবা নাটকীয় কিছু।
এদিকে ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে দুই দলের সমাবেশ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। কী হচ্ছে, কী হবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে, এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। যদিও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করছেন, ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে তেমন কিছুই হবে না। কারণ ওই দিন রাজপথ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবেন তারা।
মহাসমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা করে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এ সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব, সকল বিভাগের সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা বিভাগের সকল মহানগর ও জেলাগুলোর সভাপতি/আহবায়ক/সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি/আহ্বায়ক/সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রতিটি কর্মসূচি আমরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে করে আসছি। ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হবে। সিকিউরিটি জন্য আমাদের নিজস্ব যে ব্যবস্থা দরকার, সেটাও নিচ্ছি। কোনো নেতা-কর্মীকে ঢাকায় এসে বসে পড়তে তো বলিনি। বরং বলেছি, ২৮ তারিখের কর্মসূচির পরে যে যার জায়গায় চলে যাবে। পরবর্তী কর্মসূচির জন্য অপেক্ষা করবে। ২৮ অক্টোবর আমরা এমন কোনো কর্মসূচি দেব না যে, তারা (নেতা-কর্মীরা) ঢাকায় বসে থাকবে।
এদিকে ২৮ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের যৌথ আয়োজনে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবে বলে দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। এতে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। সমাবেশ সঞ্চালনা করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।
আওয়ামী লীগ শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত করতে চায় বলে দলটির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য ঢাকা মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিনিধি সম্মেলন করা হচ্ছে। ওইসব সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকার নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ওই দিন সমাবেশের পাশাপাশি সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন বলেও মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা জানান, শুধু ঢাকা মহানগর নয়- রাজধানীর আশপাশের গাজীপুর জেলা, মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের নেতা-কর্মীদেরও ঢাকায় আসার নির্দেশনা দেয়া হবে। একই সঙ্গে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকেও সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সংগঠনগুলো এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, গতকাল রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সংবিধান মেনেই নির্বাচন হবে। অবরোধ, দখলের হুমকি দিয়ে তাদের খায়েশ পূর্ণ হবে না। ঢাকা অবরোধ, দখলের নামে আবার অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও–পোড়াওয়ের হুমকি আসছে। যাঁরা মনে মনে স্বপ্ন দেখছেন অবরোধ করে, রাস্তা দখল করে আগের মতো বাস, রেল, মানুষ পুড়িয়ে বাংলাদেশের সংবিধানকে কচুকাটা করবেন, সেটা কোনো দিন হবে না। আমরা হতে দেব না।’
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ সফল করতে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীদের ঢাকায় এনে বড় লোক সমাগম করতে চায় দলটি। তার অংশ হিসেবে জেলায় জেলায় সফর করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।
আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির মহাসমাবেশ, ছোট সমাবেশ, মাঝারি সমাবেশ এবং তাদের হাঁটা, দৌড় বা বসা কর্মসূচি, ভবিষ্যতে হয়তো হামাগুড়ি দেয়া কর্মসূচি আসবে- এগুলোতে আমরা কখনো চাপ অনুভব করি নাই। আমরা রাজপথের দল, আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকব। ২৮ তারিখেও রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে।’
তবে জনমনে যত শঙ্কাই থাকুক না কেন, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় নাশকতার কোনো আশঙ্কা দেখছে না পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেব। আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আমাদের কাছে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই।’
তবে বিএনপি শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের ডাক দিলেও তাদের যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা আছে তারা থাকবেন পুলিশের রেড মার্কিংয়ে। ডিবিপ্রধান জানিয়েছেন, ‘চেকপোস্টে পুলিশের কড়াকড়ি ও তল্লাশি অভিযান থাকবে। আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারেও পুলিশ সক্রিয় থাকবে।’
শিশুশ্রম নিরসনে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শিশুদের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংসদে বিদ্যমান আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্লাটফর্ম (ক্লেপ)-এর সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) এ সংলাপের আয়োজন করে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের পাশাপাশি সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের করের টাকায় যারা বেতন পান, তাদের কর্মকাণ্ডের যথাযথ তদারকি থাকতে হবে। একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাহী বিভাগের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।
কায়সার কামাল বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে শুধু আইন করলেই হবে না, এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ একই সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকর্মে নিয়োগ না করার জন্য সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিশুদের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংসদে বিদ্যমান আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান ডেপুটি স্পিকার।
পথশিশুদের বিষয়ে কায়সার কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, পথশিশুরাও একটি সুন্দর জীবনের দাবিদার। পর্যায়ক্রমে তাদের রাস্তা থেকে ঘরে ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে রাজনীতিকরণ না করার আহ্বান জানান।
এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমান।
সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, আন্না মিনজ ও শওকত আরা আক্তার।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপ-পরিচালক এম. রবিউল ইসলাম, ক্লেপের সদস্য এ কে এম মাকসুদ, আইএলওর জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক পাবলো নেরুদা, শাপলা নীড় বাংলাদেশের মাহফুজা পারভীন, এএসডির কর্মসূচি পরিচালক লুৎফুন নাহার কান্তা, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা এবং স্ক্যানের সহ-সভাপতি আফতাবুজ্জামান প্রমুখ।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণহত্যায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, মেজর আখতারুজ্জামানকে ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কার্যত গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জামায়াত আমিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ খান লেখেন, গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় জামায়াতের আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে যাকে তিনি শেখ হাসিনা বলে উল্লেখ করেছেন, তাকেও কি ক্ষমা করে দেওয়া হয়নি?
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতি জামায়াতের যে অবস্থান দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের অবস্থান অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও নেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ খান তাঁর পোস্টে ১৯৭১ সালের গণহত্যায় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, এ কারণেই ২০২৪ সালের গণহত্যার বিষয়টি দলটির কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। মেজর আখতারুজ্জামানকে ঘিরে জামায়াতের আমির ও নেতাকর্মীদের অবস্থানকে তিনি এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দেওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ বা অপরাধগুলো কি ক্ষমা হয়ে গেছে? একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণহত্যায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হলে জামায়াত কীভাবে তা মোকাবিলা করবে—এ প্রশ্নও রাখেন।
সবশেষে রাশেদ খান প্রশ্ন করেন, জামায়াতে ইসলামী কি সত্যিই ‘অপরাধীদের পুনর্বাসন কারখানায়’ পরিণত হতে চায়।
এর আগে ২ অক্টোবর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করেন।
আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পক্ষে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আখতারুজ্জামান দলের নেতা নন; তিনি প্রাথমিক পর্যায়ের সদস্য।
খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার ধানমন্ডির গ্রিনরোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার, কলাবাগানে ‘গ্রিনরোড এস্টেট সরকারি কর্মচারী সমাজকেন্দ্র’ আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সড়কমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি পেশা ও জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। জাতীয় পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে সুনাম অর্জনকারী খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো জয়কে উপভোগ করা এবং পরাজয়কে মেনে নেওয়া উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এই ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রিনরোড স্টাফ কোয়ার্টারের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, বিনোদনমূলক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আসছেন। এ ধরনের আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
তিনি জানান, এবারের ফুটবল টুর্নামেন্টে ১৬টি দল অংশ নেয়। একাধিক ম্যাচের পর চারটি দল চূড়ান্ত পর্বে ওঠে। ফাইনাল ম্যাচে খেলোয়াড়দের গতি, বল নিয়ন্ত্রণ, সঠিক পাস, আক্রমণাত্মক কৌশল ও দলীয় সমন্বয় প্রশংসনীয় ছিল।
তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, তরুণরা যত বেশি খেলাধুলা ও অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তত বেশি যোগ্য ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রজন্ম গড়ে উঠবে। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, দলীয় চেতনা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে।
ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার ও এলাকার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সবাইকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে টুর্নামেন্টের বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সড়কমন্ত্রী।
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি মামলাটি প্রত্যাহার, রিমান্ডের আদেশ বাতিল এবং আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে ঢাকার একটি আদালত বিমানবন্দরকেন্দ্রিক মামলায় আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল বলে স্বীকার করেছে। তাঁর দাবি, সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলে আখতারুজ্জামান যথার্থ কাজ করেছেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ অক্টোবরের ঘটনায় অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রায় ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিমানবন্দরে নেমে লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলি না পেয়ে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভিআইপি যাত্রী হিসেবে উত্তেজিত হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করা নাগরিক অধিকারের অংশ।
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে জামায়াতের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেননি। তবে মামলায় সরকারি কাজে বাধা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। এরপরও তাঁকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করার সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, আখতারুজ্জামান কি দুর্ধর্ষ অপরাধী বা খুনি যে তাঁকে এভাবে আদালতে হাজির করা হয়েছে?
তিনি বলেন, ‘এই মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।’
সমাবেশে বিএনপির প্রতিও আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি জামায়াতকে ‘গুপ্ত’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বা ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত না করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনগণই বিচার করবে কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ সময় একসঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলনে ছিল এবং ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। তাঁর বক্তব্য, সে সময় জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বা ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলা হয়নি।
বিএনপির বর্তমান বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হতো, এখন বিএনপির কিছু নেতা-মন্ত্রীও একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির বক্তব্যের এত মিল কেন।
দিল্লির সঙ্গে বিএনপির কোনো গোপন যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ ও প্রশ্ন হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে। সরকার ভালো কাজ করলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ হলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে তার বিরোধিতা করবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের স্বার্থ ও গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করছে। সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতি’ বা দিল্লির স্বার্থের কোনো মিল থাকলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লির ইশারায় যারা কাজ করছে, তাদের ‘শয়তানের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, বাংলার মাটিতে তাদের কোনো স্থান হবে না। তিনি বলেন, দিল্লির শাসন বা ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘বাংলাদেশ আল্লাহর জমিন।’ দিল্লির ইশারায় যারা কাজ করছে, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাদের হেডকোয়ার্টার দিল্লিতে, তাদের দিল্লিতেই চলে যেতে হবে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করে ভূমিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে গোপনে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং দেশের ভেতর থেকেই ক্ষতি করেছে। ১৯৯৬ সালের মতো আগামী ডিসেম্বরেও একই ধরনের চক্রান্তের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মওদুদী প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু দাবি করেন, তাকে ব্রিটিশরা তৈরি করেছিল এবং তিনি ভারতের দালাল ছিলেন। মুসলমানদের বিভক্ত করার জন্যই তাকে তৈরি করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে মেয়র নির্বাচনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলেম-ওলামাদের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা বসে আছেন, তাদের সরিয়ে আগামীতে ঈদগাহ, বড় মসজিদ ও ধর্মীয় অনুদানের দায়িত্ব আলেম-ওলামাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন এবং মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের কঠিন সময়ে পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন মিজানুর রহমান মিনু। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরাপদ, স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা তাজউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
‘মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে।’ মন্তব্য করে ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেছেন, আওয়ামী লীগের মমতাজ প্রকাশ্য ছিলেন এবং তার কর্মকাণ্ডও ছিল সরাসরি। অন্যদিকে জামায়াতের ক্ষেত্রে হিজাব পরে ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে ইসলামের ক্ষতি করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা নিয়ে সমালোচনা করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাদানী লেখেন, ‘ওই মমতাজও সংসদে সবজান্তা মাতব্বরের মতো সিয়াসিত্তার হাদিস কউত, এটাও সবজান্তা হাদিস বলে! ভাবসাবও সেইম।’
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘কেন জানি মনে হচ্ছে, জামায়াত পশ্চিমাদের থেকে ক্ষমতা পাওয়ার আশায় এদেশের ইসলামপন্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসছে। আমরা ইসলামের নামে যা তা করব, পারলে কী করবা কর?’
মাদানীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগের ‘চ্যাপ্টার ক্লোজ’ এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় আগামী মেয়াদে ভোটের মাঠকে তিনি জামায়াতের জন্য সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।
তার মতে, সমস্যা পশ্চিমা বিশ্ব। পশ্চিমারা জামায়াতকে ইসলামপন্থী মনে করলে ক্ষমতায় আসতে দেবে না—এমন ধারণা থেকেই দলটি পশ্চিমাদের কাছে নিজেদের অবস্থান প্রমাণের চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি লেখেন, ‘অতএব, পশ্চিমের কাছে নিজেদের (জামায়াতকে) প্রমাণ করতে হবে, আওয়ামী লীগ-বিএনপির চেয়েও আল্ট্রা ফ্রো-মেক্স স্টাইলে আরও আপডেট পুরোপুরি সেকুলার আমরাও!’
জামায়াতের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মাদানী বলেন, আগে কেউ যা করেনি, সেগুলোও তারা করছে এবং এর মাধ্যমে পশ্চিমাদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের বাস্কেটবল আয়োজন এবং জামায়াতের এক নারী এমপির হাতে পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
মাদানী আরও লেখেন, ‘জামায়াত-শিবিরকে বলি, ভাইরে, আমার কষ্টের জীবনে আপনারা সহযোগিতা করছেন, খোঁজখবর নিছেন। তাই আপনাদের প্রতি একটা ইমোশন-সিমপ্যাথি কাজ করে। আপনাদের দলীয় অবস্থান নিয়ে অন্যদের মতো আমি বিরোধিতা করি না। সমালোচনার জন্য সমালোচনাও করি না।’
তবে পশ্চিমাদের খুশি করার জন্য জামায়াত যদি এভাবে ইসলামপন্থীদের চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে তিনি শুধু ইস্যুভিত্তিক বিরোধিতা করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
পোস্টের শেষাংশে মাদানী লেখেন, ‘আমাকে মেরে ফেলা না হলে, আমি একা বিরোধিতায় লাগলে লোড নিতে পারবেন না, পাগল হয়ে যাবেন! প্লিজ, আল্লাহর ওয়াস্তে, আল্লামা সাঈদী রহ.-এর শাহাদাতে রঞ্জিত দলটাকে আর নিচে নামায়েন না! আপাতত এতটুকু চাওয়া।’
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা নন, তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য বলে দাবি করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের জামায়াতের ১৪ জন সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন। তিনি সহযোগী সদস্য বা প্রাথমিক সদস্য হয়েছেন।
জামায়াতে সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর কর্মী, এরপর সদস্য এবং পরে নেতা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে আখতারুজ্জামান ‘সিম্পল’ সদস্য মাত্র।
এটিএম আজহারুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের কোনো নেতা কোনো বক্তব্য দিলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় না। কিন্তু এমন কোনো বক্তব্য বা তথ্য সামনে এলে, যার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব, তখন তাকে জামায়াতের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, টকশোতে যারা কথা বলেন, তারাই আবার বলেন যে জামায়াতে গেলেই নেতা হওয়া যায় না। অথচ আখতারুজ্জামানকে জামায়াতের নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দরে প্রতিবাদ করার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন প্রতিবাদ করা হয়েছিল বা তার কী অপরাধ ছিল, তা তদন্তের আগেই তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সরকার আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে। আইনের আশ্রয় নেয়ার নামে আইনকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমনের পথ বেছে নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারের জন্য সুখকর হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপির উদ্দেশে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জেল-জুলুম দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করা যাবে বলে যদি তারা মনে করে, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এর আগের রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলাটির বাদী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব। পরে আদালত শনিবার (৩ অক্টোবর) আখতারুজ্জামানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরে ‘ইমাম-ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন ও দোয়া অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) পিরোজপুর জেলা পরিষদ চত্বরে জেলা ওলামা দলের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ধর্ম মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম জামাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনে ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম’’ ও ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’’ সংযোজনের মাধ্যমে বিএনপি ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীলতার প্রমাণ দিয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী দেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মূল্যায়ন ও যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার কাজ বাস্তবায়িত করা হবে।’
তিনি আরও জানান, সাধারণ শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষাকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা রোধে প্রতিটি বিদ্যালয়ে অন্তত একজন করে কওমি বা আলিয়া ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিগত ১৭ বছর ধরে আলেমদের ওপর চলা নজরদারি ও বিধিনিষেধের অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জননেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে আলেম-ওলামারা চরম নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি মসজিদে ইমাম-খতিবদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং দেশ গড়ার কাজে ওলামা সমাজকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল কাজ করে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব এস. এম. সাইদুল ইসলাম কিসমত।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং জেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক ওলামা-মাশায়েখ ও বিএনপি নেতারা অংশ নেন।
পালিয়ে যাওয়া সংগঠনের (আওয়ামী লীগ) সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট যারা পালিয়ে গেছে, তাদের সংগঠনটা ১৭ বছরের অপকর্মের কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই। বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে তারা কিছু অপকর্ম করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে আমরা একটু সজাগ ও সতর্ক থাকব।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড মহিলা দলের নবগঠিত কমিটির পরিচিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলে যারা আছেন, তাদেরকে চিন্তা করতে হবে, যে বিএনপি সরকারি দল, ৬ মাসে সব কাজ করা সম্ভব না। তাহলে বিরোধী দল এখন কথায় কথায় মিছিল করবে, মিটিং করবে, লংমার্চ ও রোডমার্চ করবে, এটা কি মানানসই?
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে উনারা বলেছেন, উনারা আল্লাহর দল। উনারা আপনাদেরকে জান্নাত দিতে পারবে। তারা এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে দুর্বল জায়গায় আঘাত করে, আমাদের মা-বোনদের ভোট নেওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রকৃতপক্ষে কোনো দল কি জান্নাত দিতে পারে? জান্নাত সম্পূর্ণ ঈমান এবং আকিদার ব্যাপার। এটা আল্লাহর হুকুম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বেল্লাল হোসেন, মহিলা দল নেতা ছকিনা বেগম, তাজনেহার বেগম, নাজমুন নাহার ও রাবেয়া বেগম প্রমুখ।
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে জামায়াত নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ও চান্দপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যৌথ উদ্যোগে মিছিলটি বের হয়। মিছিল থেকে ‘মেজর রঞ্জনের মুক্তি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ আবু হানিফ, সাধারণ সম্পাদক আরজু মিয়া, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি কামরুজ্জামান শাহ, উপজেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, চান্দপুর ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোতাহার উদ্দিন ও গচিহাটা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনসহ জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে ওই দিন বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করেন। মামলাটি থানায় ৬ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
একই দিন বিকেলে মামলার এজাহার আদালতে উপস্থাপন করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তা গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলামকে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আখতারুজ্জামান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকার বিমানবন্দরে অনিয়ম, যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনাকে চাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে হয়রানিমূলক গ্রেফতার করা হয়ে থাকলে তা দেশের জন্য একটি অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির অবিলম্বে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা সাজানো মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেছেন—এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিরাজ করার কারণেই ওই ঘটনার পরপরই দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কেবল সাধারণ যাত্রী হয়রানি, বিশেষ করে প্রবাস ফেরত বাংলাদেশিদের প্রতি অবহেলা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে উপস্থিত ভুক্তভোগী যাত্রীরাই তাঁর উত্থাপিত প্রমাণের প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও অসংগতি ঢাকা দিতে যদি এই গ্রেফতার করা হয়ে থাকে, তবে সচেতন জনগণ তা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, এমন কতজন গণঅভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী লোককে জামায়াত শিবির তাদের দলে ভিড়িয়েছে, সেটির তালিকা হওয়া দরকার।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লিখেন, ‘২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে ফেস দ্যা পিপলের টকশতো মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীকে রাজাকারের বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছিলেন। আন্দোলন করছে জামায়াত-শিবির রাজাকারের বাচ্চারা ইত্যাদি বলে শিক্ষার্থীদের যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করেছিলেন তিনি। এমনকি আমি গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় আমাকে পর্যন্ত রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেয় এই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সাহেব!’
তিনি আরও লিখেন, ‘দেখেন, গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ও শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার তো জেলে থাকার কথা, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর শেল্টারে তিনি হয়ে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা! তার মুক্তি দাবিতে আন্দোলন করে ও জামায়াতের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রকৃতপক্ষে গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে!’
পরিশেষ তিনি লিখেন, ‘এমন কতজন গণঅভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী লোককে জামায়াত শিবির তাদের দলে ভিড়িয়েছে, সেটির তালিকা হওয়া দরকার।’
জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই মুক্তি দাবি করেন।
বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র ওমরা পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি অন্যান্য যাত্রীর মতোই নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। এর প্রতিবাদে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ নিজেই জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, অথচ তদন্তের আগেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দায়ের করা হয় এবং সেই মামলায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ নিয়ে হয়রানি, লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি, এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ঘোরানো এবং নারী, অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের অতিরিক্ত ভোগান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানসহ বহু যাত্রী যে ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, সেবার মান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠারও দাবি জানাচ্ছি।