বিএনপি প্রকাশ্যে সহিংসতার হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শান্তি চায়। তবে শান্তি সমাবেশে আক্রমণ হলে নেতা-কর্মীরা বসে থাকবে না। জনগণের জানমাল রক্ষায় আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর।’
সেতুমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বনানীর সেতু ভবনে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। ২৮ অক্টোবর এই টানেলের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি যদি গায়ে পড়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করতে আসে, তখন তো আমরা চুপচাপ বসে থাকব না। আমাদের কর্মীরা কি তখন শান্ত থাকবে? আমরা বিএনপির সভাস্থলে হামলা করতে যাব না। কিন্তু আমাদের সমাবেশে হামলা করলে আমরাও বসে থাকব না। পাল্টা হামলা করব।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা বিএনপির সমাবেশে হামলা করিনি, করবও না। কারণ আমরা সরকারে আছি। আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমরা নির্বাচনে শান্তি চাই। নির্বাচনের আগের পরিবেশটাতেও শান্তি চাই। আমরা দেশ চালাচ্ছি, তাই অশান্ত পরিবেশ হতে দেব না।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকের এই উন্নয়ন, বিরোধীরা স্বপ্নেও কখনো এমন উন্নয়ন দেখেনি। এমন উন্নয়নের কথা ভাবতেও পারেনি। তারা আন্দোলন করছে। আমরা একদিকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় রাজপথে সতর্ক পাহারায় আছি, অন্যদিকে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা উসকানি দেব কেন? আমাদের উসকানি দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। শান্তিপূর্ণভাবে দেশটাকে চালাতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই, নির্বাচনের আগে ও পরের পরিবেশ শান্ত চাই। বিএনপি আজকের এসব উন্নয়ন স্বপ্নেও দেখেনি। তারা শুধু আন্দোলনই করেছে। আওয়ামী লীগ যেমন কাজ করেছে, তেমনি রাজপথেও সতর্ক থেকেছে। বিএনপির সমালোচনার জবাব কাজের মাধ্যমে দিচ্ছি। বিদেশি চাপের বিষয়ে অবহিত নই, আমাদের নির্বাচন আমরা করব, বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে তারা নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ২৯ তারিখ মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছে।’
‘বিএনপি একাত্তরের চেতনাকে ধারণ করে না। তারা ধারণ করে সাতচল্লিশের দ্বিজাতিতত্ত্বে। তারা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। এর শেষ কোথায়? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠানো কি তাদের সর্বশেষ টার্গেট?’
ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামের পথ থেকে সরে যাওয়ায় ইসলামী আন্দোলন এই ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে বৈঠকে দলটি প্রচলিত আইনে দেশ পরিচালনা করার ওয়াদা করেছেন। তবে শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার উদ্দেশ্যই ইসলামী আন্দোলন কাজ করছে। ফলে এটা আমাদের সাথে সাংঘর্ষিক।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত আমির তারেক রহমানের সাথে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন। এর অর্থ, সমঝোতার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন তারা। দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় ছিলেন সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করছি না।’
জোট ভাঙার নেপথ্যে ভোটব্যাংক ইস্যুতে জামায়াতের কটাক্ষও দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ৯ ডিসেম্বর জামায়াত আমির ও পীর সাহেব একান্তে আলোচনায় বসেছিলেন। সেই আলোচনায় প্রথম আলোর জরিপের কথা টেনে বলা হয় ইসলামী আন্দোলনের ভোট জিরো দশমিক সামথিং। এটা পীর সাহেব এক প্রকার সরাসরি অপমান করা। এই ঘটনার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বিকল্প চিন্তা করা শুরু করে।’
এসময় ইসলামপন্থিদের কেউ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসতে চাইলে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না পুনরায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করার পর তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আ. রাজ্জাক তালুকদার সজীব এক ক্ষুদে বার্তায় বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হার্ট অ্যাটাক করেছেন। পিজিতে (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) নিয়ে যাচ্ছি।’ মান্নার সুস্থতা কামনায় তাঁর দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, মাহমুদুর রহমান মান্না ইতিপূর্বেও কয়েকবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন; সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি প্রথমবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন এবং সে সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছিল। বর্তমানে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি) রাখা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশে এখনও যে কয়লা এবং গ্যাস রয়েছে সেগুলো কুক্ষিগত করার জন্য আঞ্চলিক মহাশক্তি ও বৈশ্বিক মহাশক্তি ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরাম, ঢাকা আয়োজন করেছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে যে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছে সেই বিদ্যুৎ প্লান্টটি খোদ ভারত সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদের সময় প্রকল্পটি বাংলাদেশের রামপালেও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই ধরনের দেশবিরোধী প্রকল্প বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে কখনোই করানো সম্ভব হয়নি বলেই তাকে জেলে ঢোকানো হয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রাজধানীতে গ্যাস সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কদমতলী থানা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর জুরাইন এলাকায় মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, সারা দেশে যেই গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে এটি কৃত্রিম সংকট। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ এলপি গ্যাস পাচ্ছে না। সরকারের ভেতরে ও বাহিরে আওয়ামী দোসরদের কারণে সরকার অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নিতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বারবার সতর্ক করেছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে সরকারের ভেতরে এবং বাহিরে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে। কিন্তু সরকার সেটি করতে পারেনি। আজকে কৃত্রিম গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি এসব কারা করছে?- ক্ষমতার মসনদে বসতে আওয়ামী দোসরদের রক্ষা করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভিনদেশী আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত থেকেও আমাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করায় আমরা তাকে ও বিএনপিকে নেতৃত্বে রেখে আন্দোলন করেছিলাম। সেসময় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনে মিত্রদের সাথে নিয়ে নির্বাচন করবেন এবং একটি জাতীয় সরকার গঠন করবেন। ৩১দফা শুধু বিএনপির একার নয়, যুগপৎ আন্দোলনে সকল দলের সমর্থিত একটি দলিল, যার মধ্যে জুলাই সনদের অধিকাংশ কথা আছে। তাই আমরা ভেবেচিন্তে সিদ্বান্ত নিয়েছি যে, আগামীতে বিএনপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে হবে এবং যুগপৎ
আন্দোলনকারী সকল দলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন হবে।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আ. হাই পঞ্চায়েতের সভাপতিত্বে ও কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি আবুল বাশার এর সঞ্চালনায় গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত সাবেক চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত স্মরণ সভায় উপজেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, যুবদল, কেন্দ্রীয় গণফোরাম ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গণঅধিকার ও বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষে আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে সংসদে পাঠানোর দাবি জানান।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ বা এনপিএ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বিকেল ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি ‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’ স্লোগানকে সামনে রেখে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করে। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে এক বিশাল জনসমাগমে পরিণত হয়।
নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন জনগণের সেবার পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত হয়ে পড়েছে। এনপিএ-র মূল লক্ষ্য হলো এই ক্ষমতা-কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তর করা।
সংগঠনটি তাদের লক্ষ্য অর্জনে আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের পূর্ণ পৃথকীকরণসহ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানিয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তারা লুটপাট ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষিতে ভর্তুকি, সহজ কৃষিঋণ এবং শিল্প শ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামো নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় এনপিএ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্পের কারণে দেশের প্রাণ-প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে। নদী দখল ও দূষণ রোধ করে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে তারা। একই সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করে জাতি, ধর্ম ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে সব প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নতুন এই রাজনৈতিক উদ্যোগটি।
এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে শেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত আলোচিত ধানের শীষের এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেরপুর সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমাজসেবকসহ সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শেরপুর সদরের লছমনপুর রোজবার্গ অটো রাইস মিল মিলনায়তনে লছমনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজ সেবকসহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এ সময় শেরপুর-১ সদর আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. হযরত আলী, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন, সদর উপজেলা যুবদলের পারভেজ মিয়া, সদস্য সচিব আওয়াল সরকার, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, সুলতান আহমেদসহ আরো অনেকে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, কেউ অন্যায় করলে সে যে দলেরই হউক, রেহাই পাবে না। তবে বিনা অন্যায়ে কেউ জেলে যাবেনা, হয়রানির শিকার হবেনা। কারণ আমি যানি, একটা পরিবারের কেউ জ্বেলে গেলে সেই পরিবারের কি কষ্ট হয়। কারণ আমার বাবা মিথ্যা মামলায় তিন বছর জেলে ছিলেন। কাজেই আমি আপনাদের কাছে এটুকুই বলব আমি আপনাদের মেয়ে হিসেবে কাউকে আমি কষ্ট দিবো না৷ বিনা অপরাধে কাউকে হয়রানি হতে দেব না।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. হযরত আলী বলেন, আমি নিজে জেলে ছিলাম, আমার চেয়ে কেউ আর এ কষ্টের কথা বেশি জানেনা। আমি আপনাদের ওয়াদা করতে পারি আমাদের দ্বারা কেউ হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। তিনি বলেন, আমি কারোর কাছে কোনো অন্যায় তদবির করি নাই। অথচ আমাকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ের বিরুদ্ধেও ভুয়া ভিডিও, অডিও বক্তব্য তৈরি করে প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এবিষয়ে সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে উপস্থিত নেতাকর্মীরা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে অংশগ্রহণ না করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণা দেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল কোনো জোট বা আসন সমঝোতায় যাচ্ছে না, বরং একক শক্তি হিসেবেই ভোটের মাঠে লড়বে।
গাজী আতাউর রহমান জানান, নির্বাচনের জন্য তারা শুরুতে ২৭০টি আসনে প্রার্থী দিলেও বর্তমানে ২৬৮ জন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। বাছাই প্রক্রিয়ায় দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হলেও বাকিরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না। এর মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের সাথে আসন ভাগাভাগির সমস্ত গুঞ্জন নাকচ করে দিল দলটি।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ২৫৩টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়, যেখানে জামায়াত ১৭৯টি এবং অন্যান্য শরিক দলগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে লড়ার কথা জানায়। সেই তালিকায় ইসলামী আন্দোলনসহ আরও দুটি দলের আসন সমঝোতা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল।
আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে এককভাবে নির্বাচনী যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত বার্তা প্রদান করল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণামঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের জন্য চেয়ার রাখা হলেও তিনি বা তার দলের কেউ সেখানে যোগ দেননি। ফলে এখন পর্যন্ত কার্যত ১০ দলকে সমঝোতায় দেখা গেল।
নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ১০ দলের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। সেখানে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনে সমঝোতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷
রাত আটটায় এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতিও শুরু হয় ঘণ্টাখানেক আগে। তবে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৮টা ৪০ মিনিটে। সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
তিনি জানান, সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসনে এবং জুলাই গণঅঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে। ঐক্যভুক্ত মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসন পাচ্ছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সমঝোতায় থাকলেও তাদের আসন এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান জামায়াত নেতা তাহের।
আশা করছি তারা থাকবেন: জামায়াত আমির: পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জোট ভাঙেনি, জোট আছে। কোনো একটা দল যে কারণেই হোক একমত হলো না। এর মানে তো জোট ভাঙা নয়। এটি আসলে জোটও নয়, নির্বাচনী ঐক্য।
ইসলামী আন্দোলনের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘একটি দল সূচনায় আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে না। এটা ভাঙনের কোনো ব্যাপার নয়। তারা নিজেদের নিয়ে আরও বোঝাপড়া করছেন৷ তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা আশা করছি, তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’
এদিকে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলের অবস্থান জানাতে আজ শুক্রবার বিকেল তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন। ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে রাত সাড়ে আটটার দিকে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ঐক্যের মূল বক্তব্য তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন৷
সংবাদ সম্মেলন শেষে ১০ দলের নেতারা হাতে হাত দিয়ে ওপর তুলে ধরে ঐক্যের বার্তা দেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল গত বুধবার। বিকেল সাড়ে চারটায় ওই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও পরে স্থগিত করা হয়। মূলত সমঝোতায় আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা৷ এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সপরিবারে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যমুনায় প্রবেশ করে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ি। তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান ছিলেন। বৈঠক শেষে তারা রাত সোয়া ৯টার দিকে যমুনা ত্যাগ করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান সপরিবারে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ি যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়।
জানা গেছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সবার সহযোগিতা চান প্রধান উপদেষ্টা৷ তারেক রহমানও এই বিষয়ে পূর্ণ সায় দেন। দলের পক্ষ থেকে শতভাগ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। পরে সবাইকে নিয়ে রাতে খাবার খান প্রধান উপদেষ্টা ও তারেক রহমান।
বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
গত নভেম্বরে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ও বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনপূর্ব সময়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে বিএনপি প্রধানের এ বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ জুন লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করলে বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। দেশে আসার ২১ দিন পর প্রধান উপদেষ্টা বাসভবনে দেখা করলেন। যদিও এরমধ্যে গত ৩১ ডিসেম্বর প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় সাক্ষাৎ হয় ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের।
এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে যমুনা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে।
প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানিয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি বিএনপির প্রতিনিধি দল।
সাক্ষাৎ শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাদের জানানো উচিত। পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। সেজন্য আমরা বলেছি, সমস্ত নির্বাচনী এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকবে, তাদের নাম ও মার্কাসহ সাধারণ ব্যালটই সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার হোক। এ বিষয়ে আমরা স্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। সমস্ত মার্কাসহ ব্যালট সব আসনে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় সংশ্লিষ্ট সব প্রার্থীর নাম ও মার্কাসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার হয়, সেটিই প্রত্যেক এলাকায় পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। আশা করি, নির্বাচন কমিশন এটি গ্রহণ করবে এবং বিবেচনা করবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কিছু আইনি ও আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে আমরা নির্বাচন কমিশনে এসেছিলাম। আজকে আমরা আইনগত কিছু পয়েন্ট এবং আচরণবিধির কিছু বিষয় কমিশনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এসব বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি, এর বেশি কিছু বলার নেই। তারা এসব বিবেচনা করবেন। বৈঠকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’
বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালেটগুলো প্রবাসীদের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি, তবে এ বিষয়ে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যারা পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও প্রেরণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রেরিত ব্যালটগুলো বিভিন্নভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। এককভাবে কোনো বাড়িতে ২০০–৩০০ ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও জব্দ করা হচ্ছে, কোথাও ভোটিং শুরু হয়ে গেছে। যেটা ২২ জানুয়ারি হওয়া উচিত ছিল, সেখানে অনিয়ম ঘটছে। যেহেতু প্রবাসীদের ভোটদানের এই নিয়ম প্রথমবারের মতো কার্যকর হচ্ছে, তাই কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রবাসীদের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে—কীভাবে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, ভোট কীভাবে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কোথাও একসঙ্গে ২০০–৩০০ ব্যালট থাকলে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। এসব বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে, সেটিও দেখার বিষয়।’
বিভিন্ন দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর স্থগিত করা হয়েছে কমিশনের অনুরোধে। এটি রাজনৈতিক সফর ছিল না। কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য বা ভিডিও প্রকাশিত হলেও কমিশন নির্বিকার রয়েছে। আশা করি তারা বিষয়টি ঠিকভাবে সমাধান করবে।’
বৈঠকে আরও ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আজীবন আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের জমি বরাদ্দ দাতা। অনুষ্ঠানে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে খতমে কোরআন ও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আমীর খসরু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর একজন সাধারণ গৃহবধূ হয়েও বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ইতিহাস গড়েছেন। ১৯৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়গুলোতেও গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি দুর্যোগে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির কথা ভেবেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য মানবিক ও গণতান্ত্রিক নেত্রী।
প্রধান বক্তা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ছাড়াও চট্টগ্রামের ইউএসটিসি, ডায়বেটিক হসপিটাল, কিডনি হাসপাতালসহ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেন বেগম খালেদা জিয়া। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন, ক্যান্সার বিভাগে ওভাল মেশিন স্থাপন তার আমলেই হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং এদেশের মানুষের মনের মণিকোঠায় তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডোনার) ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর প্রমুখ।
চট্টগ্রাম-৭ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ বলে চূড়ান্ত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত আপিল শুনানি শেষে কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শুনানি পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী জানান যে, তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে যে আপিল করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে তার নাম ঋণখেলাপি হিসেবে ছিল না।
নিজের প্রার্থিতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও সিআইবি প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একটি আপিল করা হয়েছিল। তবে, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়, অর্থাৎ গত ২৯ ডিসেম্বর জমা দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না।” ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “৮ জানুয়ারি সকালে হঠাৎ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাকে ঋণখেলাপি দেখানোর চেষ্টা করা হয় এবং সে দিনই নতুন একটি সিআইবি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ওই দিন রাতেই আমার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়। বিষয়টি ষড়যন্ত্র কিনা, তা দেশের মানুষের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।”
হুম্মাম কাদের চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে ইস্যু করা সিআইবি প্রতিবেদনের ওপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা আমলে নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিশন তার প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দিয়েছে এবং এতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য যে, নির্বাচন কমিশন আজ সকাল থেকে ৩৮১ থেকে ৪৮০ নম্বর পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি গ্রহণ করছে, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলমান থাকবে।