দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ঘিরে কী ঘটতে যাচ্ছে আগামীকাল? এ নিয়ে দেশব্যাপী চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, মানুষের মনে ততই বাড়ছে শঙ্কা, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা।
ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নয়াপল্টনে তাদের কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। দুই দলই তাদের সমাবেশ সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি হামলা বা ভাঙচুরের মতো কোনো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে তারা শক্ত হাতে তা প্রতিহত করবে।
এদিকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল নাশকতার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালকের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হবে।
অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, তারা তাদের ঘোষণা অনুযায়ী বায়তুল মোকাররম ও নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবে। এক পক্ষ সরকার পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাচ্ছে। অপর পক্ষ বর্তমান সরকারের অধীনেই সংবিধান সম্মতভাবে নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
এ অবস্থায় নগরবাসীর মনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। কারণ বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দুই দলের নেতারাই গত কদিন ধরে একে ওপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা নিজ কার্যালয়ের সামনেই সমাবশে করবেন, অন্য কোনো স্থানের কথা তারা চিন্তাও করছেন না। আর তাতে বাধা দিলে সারা ঢাকা শহরে নেতাকর্মীদের ছড়িয়ে পড়তে বলছেন তারা।
এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওই দিনই মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) চিঠি দিয়েছে।
কিন্তু ডিএমপি জামায়াতের সমাবেশের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই ঢাকা শহরে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া জনদুর্ভোগ কমাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে রাস্তায় সমাবেশ না করে অন্য স্থান দেখতে বলেছে ডিএমপি।
কিন্তু জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি না দিলে তারা বিএনপির সমাবেশে মিশে যেতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। কেউ কেউ বলছেন সমাবেশের অনুমতি না পেলে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে দলটি।
আওয়ামী লীগ বলছে, বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটেই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে তারা শান্তি সমাবেশ করবে। যদি বিএনপি বা অন্য কেউ ওই দিন সমাবেশের নামে অরাজকতা করে বা তাদের ওপর আক্রমণ করে তাহলে পাল্টা আক্রমণ করবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ওই দিন শহরের পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দলটি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামীকাল (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করাসহ ৭টি বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ তার সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সমাবেশে লোক সমাগম সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এবং সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হবে। সমাবেশে প্রায় ২ লাখ লোক সমাগম হবে বলে তারা জানিয়েছে। সমাবেশটি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে পল্টন মোড়, জিপিও মোড়, শিক্ষা ভবন, গোলাপ শাহ মাজার, নগর ভবন, নবাবপুর সড়ক, মহানগর নাট্যমঞ্চ সড়ক, দৈনিক বাংলা মোড় এবং মতিঝিল সড়ক, স্টেডিয়াম সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে তারা চিঠিতে উল্লেখ করেছে।
এ পরিস্থিতিতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের কথা মনে করছেন অনেকেই। ওই দিন ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিন। ওই দিনই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র দেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত নির্দলীয় তত্ত্বাধায়ক সরকারের বিষয়টির ফয়সালা হয়নি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নির্দলীয় তত্ত্বাধায়ক সরকারের বিষয়ে ছিল অনড়। সে সময় ২৮ অক্টোবর সামনে রেখে ঢাকা শহরে ছিল টানটান উত্তেজনা। আওয়ামী লীগ পল্টন ময়দানে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং নেতা-কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে আসতে বলে। বিএনপি ওই দিন নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ও জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশের কর্মসূচি নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে সেদিন ব্যাপক সংঘাতের ঘটনায় বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছিল।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশের বিষয়ে ডিএমপির অবস্থান তুলে ধরেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী ২৮ তারিখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সমাবেশের বিষয়ে জিরো টলারেন্স। কোনোভাবেই ঢাকা শহরে জামায়াতকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। আর জনদুর্ভোগ কমাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে রাস্তায় সমাবেশ না করে অন্য স্থান দেখতে বলেছে ডিএমপি।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, যারা ঢাকা শহরে সভা-সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তাদের রাস্তায় নয়, রাস্তা বাদ দিয়ে অন্যত্র উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ করার কথা বলা হয়েছে। সেটা খোলা স্থান বা মাঠও হতে পারে।
তিনি বলেন, ঢাকা একটি মেগা সিটি। এখানে যদি লাখ লাখ লোকের সমাবেশ হয়, তাহলে দুই-আড়াই কোটি নগরবাসীর সমস্যা হয়, যারা অসুস্থ তাদের হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যেতে সমস্যা হয়। ঢাকাবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে রাস্তা বাদ দিয়ে অন্য কোনো জায়গায় করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। অন্য কোথায় তারা সমাবেশ করবে, সেটি তারাই নির্ধারণ করুক।
বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে একই রকম চিঠি দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আর রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অন্যত্র সমাবেশ করার কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আমরা আশা করছি, রাজনৈতিক দলগুলো নগরবাসীর ভোগান্তি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা পল্টনেই সমাবেশ করবেন। যদি তারা এ সিদ্ধান্তেই অটল থাকে, তাহলে ডিএমপির অবস্থান কী হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় মাঠ গরম করা বা কর্মীদের চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে অনেক ধরনের কথা বলেন। তা আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি না। আমরা বিবেচনা করছি আইনসংগত কথা।’
ডিএমপি কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা মহানগরে সমাবেশ করতে হলে অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি নিতেই হবে। এটি আইনিভাবেই বাধ্যতামূলক। কেউ যদি সেটা না করে, তবে তা আইনের বরখেলাপ হবে। সুতরাং আমরা আশা করব, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সভা-সমাবেশ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে, পুলিশকে সহযোগিতা করবে।
ওই দিন শাপলা চত্বরে জামায়াতের ডাকা সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব কুমার বলেন, জামায়াতের বিষয়ে ডিএমপির অবস্থান লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। জামায়াতকে ঢাকা শহরের কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দল। দলটির নিবন্ধন হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছে। সুতরাং জামায়াতকে কোনো ধরনের স্পেস দেয়ার সুযোগ নেই। জামায়াত কোনো স্পেস পাবে না। তাদের বিষয়ে সহযোগিতা নয়, শূন্য সহিষ্ণুতার (জিরো টলারেন্স) নীতি। এরপরও যদি তারা অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করতে চায়, তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘এটি মিথ্যা কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ঘিরে ডিএমপি কাউকে গ্রেপ্তার করে না। আমাদের ক্রাইম ডিভিশনের প্রত্যেক থানার ওসি ও ডিসিকে বলা আছে, যারা ওয়ারেন্টের আসামি, সন্দেহজনক আসামি, মামলা বা তদন্তভুক্ত আসামি, নাশকতা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে অন্য সাধারণকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই।’
একই ধরনের পরিস্থিতিতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পল্টন ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। রাজধানীজুড়ে প্রায় ১৫ হাজারের মতো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তারপরও সেদিন সংঘাত বন্ধ ছিল না। ওই দিন বায়তুল মোকাররম এলাকায় ১৪ দলীয় জোট ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জামায়াত-শিবিরের চার কর্মী ও ওয়ার্কার্স পার্টির এক কর্মী মারা যান। ওই দিন সারা দেশে ১১ জন নিহত হন।
এ অবস্থায় নগরবাসীর মনে শঙ্কা বিরাজ করছে। সবার মনেই প্রশ্ন- কী হবে কাল রাজধানী ঢাকায়? অনেকেই ভাবছেন, কালকের সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে সংঘাত-সংঘর্ষসহ যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর এ প্রেক্ষাপটে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, সারা দেশেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই কিছু না কিছু বৈশ্বিক ঝামেলা তৈরি হয়। এবারও দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মতো বড় সংকট সামনে এসেছে। কিন্তু সরকারের যোগ্যতার কারণে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি এবং তেলের দামও বাড়েনি। এমনকি সংকটের মধ্যেও গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের বেতন সঠিক সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।’
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি জানান, বর্তমানে ছোটখাটো পরিসরে দলের কার্যক্রম চললেও এ বছরের মধ্যেই বিএনপির দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দ্রুত কাজ চলছে এবং এ বছরের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘এক মাসে আমরা সরকারের সব ক্ষেত্রেই সাফল্য দেখছি। এরইমধ্যে পার্লামেন্ট অধিবেশন বসেছে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। তবে আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সুস্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। সরকার এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’
সান্তাহারে ট্রেনের লাইনচ্যুতির মতো দুর্ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই রেল চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ হবে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইউসুফ খান (৩২) নামে এক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই গ্রামের আলমাসের ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ইউসুফ আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই গ্রামের দুলাল খানের ছেলে। তিনি আজগানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
ইউসুফ খানের ভাতিজা নীরব খান জানান, তার চাচা ইউসুফ খান শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে মাটির সাইড দেখতে যান। তার পর থেকে তিনি বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় ইউসুফ খানের বোন পান্না আক্তার মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ইউসুফ খান নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ ঘাগরাই গ্রামের আলমগীরের ছেলে রিজন এবং একই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী হানিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সন্ধ্যায় ঘাগরাই গ্রামের আলমাসের ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে ইউসুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার একটি মাটির ট্রাকের ধাক্কায় হানিফের একটি গাছ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় হানিফের সঙ্গে ইউসুফের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইউসুফ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, ইউসুফ নিখোঁজের ঘটনায় আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
লিংকডইনে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) ডা. তাসনিম জারার অ্যাকাউন্টটি আজ ‘মেমোরাইলাইজড’ বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এনিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এ বিষয়ে সোমবার বিকালে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন তাসনিম জারা।
ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, আপনারা অনেকেই লক্ষ করেছেন যে আজ সকালে আমার লিংকডইন অ্যাকাউন্টটি ‘মেমোরাইলাইজড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
সম্ভবত আমার অ্যাকাউন্টে করা কোনো ভুল বা বিদ্বেষমূলক রিপোর্টের কারণে এমনটি ঘটেছে।
তিনি আরও লিখেছেন, আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি। আমি লিংকডইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আশা করছি শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রোববার সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। এদিন বেলা ১১টায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তার (মির্জা আব্বাসের) সঙ্গে সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস সিঙ্গাপুর যাবেন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা-এ চিকিৎসাধীন এই বর্ষীয়ান নেতার মস্তিষ্কে গত শুক্রবার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তার মস্তিষ্কের একটি সিটি স্ক্যান করা হয়। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদন ইতিবাচক এসেছে।
তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুই দফায় তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, দলটির নেতা-কর্মী ছাড়াও নিহতের স্বজনরা বক্তব্য দেন।
সে সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, ‘জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। তার মাথায় বাশ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।’
এদিকে তরু মুন্সীর মৃত্যু স্টোকজনিত কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াত। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা জামায়াতের থানা আমীর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানী করে। যে কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়।’ তরু মুন্সীর মৃত্যু স্টোকজতিন কারণে হয়েছে উল্লেখ করে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তরু মুন্সী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্টোক করেন।’ যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারীকর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মহিলাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সাথে বিএনপিকর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর অবস্থা গুরুতর হলে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে মারা যায় তরু মুন্সী। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীনের সঞ্চালনায় ও সভাপতি আব্দুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু (এমপি)।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ (এমপি)।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। নীলফামারী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সাইফুল্লাহ রুবেল, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম।
ইফতার ও আলোচনা সভায় এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর বিএনপিরসহ সভাপতি এসএম ওবায়দুর রহমান, শফিকুল ইসলাম জনি, জিয়াউল হক জিয়া, সি. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, হাফিজ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক আবু সরকার, উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ রশিদুল হক সরকার, সাধারণ সম্পাদক শেখ বাবলু প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসকদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় পানি পান করার সময় হঠাৎ করেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সেখানে উপস্থিত মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের কাছ থেকে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এসময় জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাও তার সঙ্গে ছিলেন।
এদিকে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতারাও হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে আসেন। তারা দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন।
মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের উদ্যেগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার বারদী খেলার মাঠে এ ইফতার ও আলোচনা সভা হয়।
ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। এ সময় বক্তব্য রাখেন, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সহসভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক, সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজিব, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ ভূইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে ইয়াসমিন নোবেল, আশরাফ মোল্লা, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক করিম রহমান প্রমুখ।
এ সময় বিএনপি, যুবদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোয় তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দলটির সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের পরিবর্তে জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে জামাতয়াত জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমিরকে অবহিত করলেও বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে যাচাই করে দেখা যায়, চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে যেভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।
বিশেষ করে, চিঠিতে উল্লিখিত ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার অংশে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার জায়গায় ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভুল-বোঝাবুঝি অবসানের বিষয়ে জামায়াত জানায়, বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাকে জানানো হয় যে, ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমির অবগত ছিলেন না। একই সঙ্গে আগের উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
নিজের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখতে চান জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।
এ পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চিঠিতে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। মূলধারার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার দক্ষতা ও পেশাদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অধ্যাপক হাসান জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাংলাদেশ তথা রাষ্ট্রের জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিচক্ষণতার সঙ্গে জোরদার করতে সক্ষম হয়েছেন।
নিজের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের প্রস্তাবকে ‘নতুন’ ও ‘অভিনব’ হিসেবে অভিহিত করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
তার মতে, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের পদায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য করা যাবে।
খলিলুর রহমানের কাছে শফিকুর রহমান লিখেছেন, ‘ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি একসঙ্গে পরিচালনার জন্য পদায়নটি সরকারের কাছে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করছি।’
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমানের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চিঠির বিষয়ে মাহমুদুল হাসান জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে অবহিত করেছিলেন। আমির সেখানে মৌখিক সম্মতিও দিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রীর পদমর্যাদা অংশটুকুতে জামায়াত আমিরের সম্মতি ছিল না।
রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ একযোগে ৮৭ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) আয়োজিত এক জরুরি সভার পর দলটির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল সদস্য এই গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন। উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রটি ইতিমধ্যেই রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জুরাছড়ি উপজেলায় এই ৮৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিকে ৬ মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক মতভেদের জেরে পুরো কমিটি একযোগে পদ থেকে সরে দাঁড়াল। পদত্যাগকারী নেতাদের মতে, তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি মহৎ স্বপ্ন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি দলটির স্বকীয়তা ও মূল আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে তাঁরা দাবি করছেন।
অসিম চাকমা জানান, দলের বর্তমান নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক অবস্থান মেলাতে পারছেন না বলেই তাঁরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, দলটি স্বতন্ত্রভাবে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নেবে, কিন্তু জোটের রাজনীতি সেই প্রত্যাশাকে ম্লান করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় আদর্শের প্রশ্নে আপস না করে পদত্যাগ করাকেই তাঁরা যৌক্তিক মনে করেছেন। রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জুরাছড়ি কমিটির পদত্যাগপত্রটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, এই গণপদত্যাগকে কেন্দ্র করে এনসিপির উচ্চপর্যায়ে সংশয় ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মমাফিক লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন কি না সেটি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, জোট বা জামায়াত সংশ্লিষ্ট ইস্যুই যদি পদত্যাগের মূল কারণ হতো, তবে তা নির্বাচনের আগেই ঘটার কথা ছিল। ভোটের পরে এই গণপদত্যাগের নেপথ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক মহলের চাপ থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অসিম চাকমা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় এবং দলীয় আদর্শ রক্ষার স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পার্বত্য এলাকায় এই বড় পদত্যাগের ফলে এনসিপির আঞ্চলিক সংগঠনিক কার্যক্রমে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন কুমিল্লা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা।
সোমবার (৯ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা.সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এর আগে ২০ এর অধিক প্রার্থী
হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।
হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের সঙ্গে দেখা যায়, ২০০১ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে এবার পদত্যাগ করেছেন দলটির রাঙামাটি জেলা কমিটির ৭ জন শীর্ষ নেতা। ধারনা করা হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করার কারণে তারা নিজেদের পদত্যাগপত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পদত্যাগ করা নেতারা হলেন– এনসিপির রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা, মিশন চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রণয় বিকাশ চাকমা, সদস্য বিনয় চাকমা ও সদস্য সুলেখা চাকমা।
‘২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুথানের চেতনা থেকে সরে এসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার স্বতন্ত্র আদর্শ ছুড়ে ফেলে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করে। সেই আদর্শের সঙ্গে জোটে থাকা এবং সেই আদর্শ লালন করা সম্ভব নয়’– এমন কারণ দেখিয়ে লিখিতভাবে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ওই সাত জন।
পদত্যাগপত্রের লিখিত কপি ফেসবুকে শেয়ার করেন তারা। এনসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা তার পদত্যাগপত্রে লেখেন, ‘অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি দলে যোগ দিয়েছিলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি আদর্শ এক সময় আমার কাছে একটা বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদী বিশ্বাসী দল মনে করেছিলাম। কিন্তু বিগত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি তার স্বতন্ত্র আদর্শ থেকে সরে এসে একটি বৃহৎ দলের সঙ্গে জোট গঠন করে। এ অবস্থায় আমার পক্ষে সেই আদর্শকে লালন করা সম্ভব হচ্ছে না। অতএব, আজ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিদায় নিলাম এবং আজকে থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘আমার জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির অনেক নেতা নাকি পদত্যাগ করেছেন আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে কোনও লিখিত আবেদন করেনি। তবে হঠাৎ করে গণহারে এভাবে পদত্যাগ করার কারণ কী তা আমরা সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখবো।’
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন ডা. তাসনিম জারা, সামান্থা শারমিনসহ কয়েকজন নেত্রী।