শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ মাঘ ১৪৩২

কী ঘটতে যাচ্ছে কাল?

শেখ শফিকুল বারী
প্রকাশিত
শেখ শফিকুল বারী
প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৩ ১৪:০২

দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ঘিরে কী ঘটতে যাচ্ছে আগামীকাল? এ নিয়ে দেশব্যাপী চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, মানুষের মনে ততই বাড়ছে শঙ্কা, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা।

ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নয়াপল্টনে তাদের কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। দুই দলই তাদের সমাবেশ সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি হামলা বা ভাঙচুরের মতো কোনো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে তারা শক্ত হাতে তা প্রতিহত করবে।

এদিকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল নাশকতার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালকের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হবে।

অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, তারা তাদের ঘোষণা অনুযায়ী বায়তুল মোকাররম ও নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবে। এক পক্ষ সরকার পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাচ্ছে। অপর পক্ষ বর্তমান সরকারের অধীনেই সংবিধান সম্মতভাবে নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

এ অবস্থায় নগরবাসীর মনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। কারণ বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দুই দলের নেতারাই গত কদিন ধরে একে ওপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা নিজ কার্যালয়ের সামনেই সমাবশে করবেন, অন্য কোনো স্থানের কথা তারা চিন্তাও করছেন না। আর তাতে বাধা দিলে সারা ঢাকা শহরে নেতাকর্মীদের ছড়িয়ে পড়তে বলছেন তারা।

এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওই দিনই মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) চিঠি দিয়েছে।

কিন্তু ডিএমপি জামায়াতের সমাবেশের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই ঢাকা শহরে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া জনদুর্ভোগ কমাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে রাস্তায় সমাবেশ না করে অন্য স্থান দেখতে বলেছে ডিএমপি।

কিন্তু জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি না দিলে তারা বিএনপির সমাবেশে মিশে যেতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। কেউ কেউ বলছেন সমাবেশের অনুমতি না পেলে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে দলটি।

আওয়ামী লীগ বলছে, বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটেই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে তারা শান্তি সমাবেশ করবে। যদি বিএনপি বা অন্য কেউ ওই দিন সমাবেশের নামে অরাজকতা করে বা তাদের ওপর আক্রমণ করে তাহলে পাল্টা আক্রমণ করবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ওই দিন শহরের পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দলটি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামীকাল (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করাসহ ৭টি বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ তার সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সমাবেশে লোক সমাগম সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এবং সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হবে। সমাবেশে প্রায় ২ লাখ লোক সমাগম হবে বলে তারা জানিয়েছে। সমাবেশটি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে পল্টন মোড়, জিপিও মোড়, শিক্ষা ভবন, গোলাপ শাহ মাজার, নগর ভবন, নবাবপুর সড়ক, মহানগর নাট্যমঞ্চ সড়ক, দৈনিক বাংলা মোড় এবং মতিঝিল সড়ক, স্টেডিয়াম সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে তারা চিঠিতে উল্লেখ করেছে।

এ পরিস্থিতিতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের কথা মনে করছেন অনেকেই। ওই দিন ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিন। ওই দিনই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র দেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত নির্দলীয় তত্ত্বাধায়ক সরকারের বিষয়টির ফয়সালা হয়নি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নির্দলীয় তত্ত্বাধায়ক সরকারের বিষয়ে ছিল অনড়। সে সময় ২৮ অক্টোবর সামনে রেখে ঢাকা শহরে ছিল টানটান উত্তেজনা। আওয়ামী লীগ পল্টন ময়দানে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং নেতা-কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে আসতে বলে। বিএনপি ওই দিন নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ও জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশের কর্মসূচি নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে সেদিন ব্যাপক সংঘাতের ঘটনায় বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছিল।

এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশের বিষয়ে ডিএমপির অবস্থান তুলে ধরেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী ২৮ তারিখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সমাবেশের বিষয়ে জিরো টলারেন্স। কোনোভাবেই ঢাকা শহরে জামায়াতকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। আর জনদুর্ভোগ কমাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে রাস্তায় সমাবেশ না করে অন্য স্থান দেখতে বলেছে ডিএমপি।

যুগ্ম কমিশনার বলেন, যারা ঢাকা শহরে সভা-সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তাদের রাস্তায় নয়, রাস্তা বাদ দিয়ে অন্যত্র উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ করার কথা বলা হয়েছে। সেটা খোলা স্থান বা মাঠও হতে পারে।

তিনি বলেন, ঢাকা একটি মেগা সিটি। এখানে যদি লাখ লাখ লোকের সমাবেশ হয়, তাহলে দুই-আড়াই কোটি নগরবাসীর সমস্যা হয়, যারা অসুস্থ তাদের হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যেতে সমস্যা হয়। ঢাকাবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে রাস্তা বাদ দিয়ে অন্য কোনো জায়গায় করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। অন্য কোথায় তারা সমাবেশ করবে, সেটি তারাই নির্ধারণ করুক।

বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে একই রকম চিঠি দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আর রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অন্যত্র সমাবেশ করার কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আমরা আশা করছি, রাজনৈতিক দলগুলো নগরবাসীর ভোগান্তি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা পল্টনেই সমাবেশ করবেন। যদি তারা এ সিদ্ধান্তেই অটল থাকে, তাহলে ডিএমপির অবস্থান কী হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় মাঠ গরম করা বা কর্মীদের চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে অনেক ধরনের কথা বলেন। তা আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি না। আমরা বিবেচনা করছি আইনসংগত কথা।’

ডিএমপি কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা মহানগরে সমাবেশ করতে হলে অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি নিতেই হবে। এটি আইনিভাবেই বাধ্যতামূলক। কেউ যদি সেটা না করে, তবে তা আইনের বরখেলাপ হবে। সুতরাং আমরা আশা করব, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সভা-সমাবেশ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে, পুলিশকে সহযোগিতা করবে।

ওই দিন শাপলা চত্বরে জামায়াতের ডাকা সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব কুমার বলেন, জামায়াতের বিষয়ে ডিএমপির অবস্থান লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। জামায়াতকে ঢাকা শহরের কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দল। দলটির নিবন্ধন হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছে। সুতরাং জামায়াতকে কোনো ধরনের স্পেস দেয়ার সুযোগ নেই। জামায়াত কোনো স্পেস পাবে না। তাদের বিষয়ে সহযোগিতা নয়, শূন্য সহিষ্ণুতার (জিরো টলারেন্স) নীতি। এরপরও যদি তারা অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করতে চায়, তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘এটি মিথ্যা কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ঘিরে ডিএমপি কাউকে গ্রেপ্তার করে না। আমাদের ক্রাইম ডিভিশনের প্রত্যেক থানার ওসি ও ডিসিকে বলা আছে, যারা ওয়ারেন্টের আসামি, সন্দেহজনক আসামি, মামলা বা তদন্তভুক্ত আসামি, নাশকতা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে অন্য সাধারণকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই।’

একই ধরনের পরিস্থিতিতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পল্টন ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। রাজধানীজুড়ে প্রায় ১৫ হাজারের মতো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তারপরও সেদিন সংঘাত বন্ধ ছিল না। ওই দিন বায়তুল মোকাররম এলাকায় ১৪ দলীয় জোট ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জামায়াত-শিবিরের চার কর্মী ও ওয়ার্কার্স পার্টির এক কর্মী মারা যান। ওই দিন সারা দেশে ১১ জন নিহত হন।

এ অবস্থায় নগরবাসীর মনে শঙ্কা বিরাজ করছে। সবার মনেই প্রশ্ন- কী হবে কাল রাজধানী ঢাকায়? অনেকেই ভাবছেন, কালকের সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে সংঘাত-সংঘর্ষসহ যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর এ প্রেক্ষাপটে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, সারা দেশেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।


জামায়াত মুখে বলে এক, আর গোপনে বৈঠক করে ভারত-আমেরিকার সঙ্গে: রেজাউল করীম

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত শুক্রবার রাতে আয়োজিত এই সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, জামায়াত প্রকাশ্যে এক কথা বললেও গোপনে আমেরিকা ও ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বৈঠক যদি হতেই হয় তবে তা গোপনে কেন? জামায়াতের এমন দ্বিমুখী আচরণকে তিনি ‘ডাল মে কুচ কালো হে’ বা সন্দেহজনক বলে অভিহিত করে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন এসব বুঝতে শিখেছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রেজাউল করীম বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যারা একবার সুযোগ পেয়েও শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা এখন নতুন করে কী উন্নয়ন করবে তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের মানুষ আর আগের মতো বোকা নয় যে তাদের বারবার ধোঁকা দেওয়া যাবে।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চরমোনাই পীর জানান, তিনি চেয়েছিলেন ইসলামের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি বা ‘ইসলামী বক্স’ তৈরি করে দেশ পুনর্গঠনে কাজ করতে। তবে নেতৃত্বের নীতিগত অবস্থান ও কর্মপন্থা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, একশ্রেণির ক্ষমতালোভী ইসলামের কথা বললেও আসলে বর্তমান প্রচলিত আইনেই দেশ চালাতে চায়। ৫৪ বছর ধরে যে নিয়মে ইনসাফ কায়েম হয়নি, সেই একই নিয়মে নতুন করে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিকে তিনি একটি রাজনৈতিক ধোঁকা হিসেবে বর্ণনা করেন।

উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, যারা দেশ ও ইসলামকে ভালোবাসেন তারা যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের সূচনা করেন। তিনি মনে করেন, এখন আর চুপ থাকার সময় নেই এবং পরিবর্তনের জন্য হাতপাখাই একমাত্র বিকল্প।

নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী ছাইফুল্লাহ প্রধান, নরসিংদী-৩ আসনের ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া এবং নরসিংদী-৫ আসনের বদরুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জনসভাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। মূলত জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক বৈপরীত্যকে লক্ষ্য করেই চরমোনাই পীর তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ ব্যয় করেন।


জামায়াত নেতা তাহের মুসলিম বিশ্বের তরুণদের আইডল: সাদিক কায়েম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মুসলিম বিশ্বের তরুণদের জন্য এক অনন্য ‘আইডল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আজ শনিবার সকালে উপজেলার এইচজে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ব্যানারে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাদিক কায়েম ডা. তাহেরের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও চারিত্রিক গুণাবলি তুলে ধরে তাঁকে আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

সাদিক কায়েম বলেন, ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শুধু চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসেনানীই নন, তিনি নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রনেতা হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। চৌদ্দগ্রামের এই কৃতি সন্তান আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর এবং তাঁর আদর্শ আজ বিশ্বজুড়ে মুসলিম যুবসমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ৫৪ বছরে দেশে অনেক সরকার এসেছে এবং গেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের প্রতিশ্রুতি ও কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক ছিল। তবে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং দলের আমির প্রতিটি শহিদ পরিবারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, যারা গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনামলে রাজপথে থেকে নির্যাতিত হয়েছেন এবং সর্বাবস্থায় জনগণের পাশে ছিলেন, ভোটাররা এবার তাদেরই জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবার তাদেরই ভোট দেবে যারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এবং যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ ও শোষণমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গঠনই এখন নতুন প্রজন্মের মূল লক্ষ্য।

বিশাল এই নির্বাচনী জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ডা. তাহেরের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো চৌদ্দগ্রাম এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ ও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


বিএনপিতে যোগ দিলেন জামায়াতের ৩০ নেতাকর্মী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ৩০ জন সক্রিয় নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। গত শুক্রবার শহরের পাবলিক হেলথ এলাকায় আয়োজিত বিএনপির এক নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষে এই যোগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ধানের শীষের প্রার্থীর হাতে ফুল দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিট কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুল হক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্বে এই ৩০ জন নেতাকর্মী বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তারা রাঙামাটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এই ধরণের বড় দলবদল বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও চাঙ্গা করবে বলে মনে করছেন সাধারণ কর্মীরা।

যোগদানকারী নেতারা তাদের বক্তব্যে জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রলোভনের কারণে নয়, বরং বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা থেকেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মো. আজিজুল হক বলেন, তারা দীর্ঘ সময় জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির গণমুখী রাজনীতি তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এখন থেকে তারা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ান বলেন, বিএনপি মূলত দেশপ্রেম এবং মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, যা কেবল ধর্মভিত্তিক কোনো গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। যারা এই জাতীয়তাবাদী আদর্শকে মনেপ্রাণে লালন করেন, তাদের সবার জন্যই বিএনপির দরজা সব সময় খোলা থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নবাগতরা কোনো সংকীর্ণতা ছাড়াই মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবেন এবং নির্বাচনী ময়দানে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন।

উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ভুট্টোসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এই যোগদানের ফলে রাঙামাটির নির্বাচনী সমীকরণে বিএনপির অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। মূলত বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারই এই দলবদলের মূল ভিত্তি বলে নবাগতরা উল্লেখ করেন।


আজ সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ শনিবার সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলা সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফর শেষে সড়কপথে ঢাকা ফেরার পথে এই দুই জেলায় আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে যমুনা পাড়ের এই দুই জনপদে নেতাকর্মীদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ ও গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় তারেক রহমান রংপুুুুর থেকে রওনা হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়ায় বিসিক শিল্প পার্কে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। সেখানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি সিরাজগঞ্জ এবং পাবনা জেলার সকল সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের পর সিরাজগঞ্জে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সফর।

সিরাজগঞ্জের জনসভা সফল করতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও ব্যাপক প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু নিয়মিতভাবে জনসভাস্থল পরিদর্শন করে তদারকি করছেন। নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং এটি সিরাজগঞ্জের তৃণমূল রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল সামাল দিতে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও গঠন করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে সড়কপথেই তারেক রহমান টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বিকেল ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকার খোলা মাঠে এক বিশাল জনসভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর টাঙ্গাইল জেলায় এটিই তার প্রথম রাজনৈতিক সফর। ইতিপূর্বে গত ১১ জানুয়ারি এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অনুরোধে তা স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে আজ টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

টাঙ্গাইলের এই জনসভা নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, পুরো টাঙ্গাইল জেলা এখন তারেক রহমানের আগমনে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। সমাবেশস্থলটি জনসমুদ্রে পরিণত করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর আগে একাধিক প্রস্তুতি সভা ও কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা হয়েছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও জনসভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কড়া নজরদারি রাখছেন।

গত তিন দিন ধরে দেশের উত্তরাঞ্চলে তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। রাজশাহী ও রংপুরের কর্মসূচি শেষ করে আজ তিনি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের পথ ধরে ঢাকায় ফিরবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তারেক রহমানের এই সরাসরি সফর ও জনসভা উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দল আরও সুসংগঠিত হবে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে।


আপনাদের আস্থা, ভালোবাসাই বিএনপির শক্তি, ধানের শীষের শক্তি: নূরুল ইসলাম মনি

বেতাগী সরিষামুড়ী কালিকাবাড়ী ভোরা হাতেম আলী স্কুল মাঠে জনসমাবেশে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি | ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

আপনাদের হৃদয়ে গাঁথা আস্থা, ভালোবাসাই বিএনপির শক্তি, ধানের শীষের শক্তি, আমার শক্তি। আমার নির্বাচনী আসন ছিল পাথরঘাটা, বামনা। এই নির্বাচনে বেতাগী যুক্ত হয়েছে। আমি এমপি থাকাকালীন আমার নির্বাচনী আসনগুলোতে যে সমস্ত কাজ করেছি ইনশাআল্লাহ আপনাদের ভোটে আমি নির্বাচিত হলে বেতাগী থেকেই আমার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু করতে চাই।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের বেতাগী সরিষামুড়ী কালিকাবাড়ী ভোরা হাতেম আলী স্কুল মাঠে জনসমাবেশে মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে এসব কথা বলেন ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, আজ আপনাদের উপস্থিতি আর ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ। অনেকেই অনেক কথা বলে আমি ভিন্ন কথা বলি। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসেনি। আপনারা বামনা-পাথরঘাটায় যাবেন, খোঁজ নিবেন, খোঁজ নিয়ে যদি দেখেন আমি উন্নয়ন করেছি, গণমানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত করেছি তবেই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

মনি আরো বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের ভালো থাকা, সাধারণ মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করে। তারেক রহমান অনেক পরিকল্পনা নিয়ে ধানের শীষের কাণ্ডারী হয়েছেন। তিনি কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড আরো বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা যা গণমানুষের জীবনযাত্রার সাথে প্রতিনিয়ত জড়িত সেসব বিষয় সামনে রেখেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের প্রত্যেকের উচিত দেশকে ভালো রাখতে, দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ধানের শীষে ভোট দিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানানো।

দেশের প্রতিটি নাগরিক দিন শেষে ভালো থাকতে চায়। সেই ভালো রাখার দায়িত্ব নিয়েই বিএনপি আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।

বিএনপি চায় গণমানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন।

অন্যদিকে একটি দল সাধারণ মানুষকে জীবিত রেখেই মেরে ফেলতে চায়। তারা জান্নাতের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে মানুষের ইমান নিয়ে খেলছে। তারা জানাতের টিকিটের বিনিময়ে ভোট চায়। এসব ভণ্ডদের কাছ থেকে আপনাদের সাবধানে থাকতে হবে। যারা দেশ চায়নি তারা এখন দেশের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র বানাতে চায়।

সময় গড়ানোর আগেই জনসভা জনসমুদ্রে রুপ নেয়। নবীন-প্রবীণের আনন্দ -উল্লাসে ‘মনি ভাই - ধানের শীষ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সভাস্থল। সাধারণ জনতার সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।


ছাত্রজনতার জীবন উৎসর্গের মূল্য দিতে চাই, গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিন

রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান | ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর ব্যুরো ও বগুড়া প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। আমাদের যেকোনো মূল্যে এই ত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে। যে অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ ওয়াসিমসহ হাজারো ছাত্রজনতা জীবন উৎসর্গ করেছে-তাদের সেই জীবনের মূল্য দিতে চাই। সেজন্য আমরা জুলাই সনদে সই করেছি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের সম্মানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাত ৮টা ৩১ মিনিটে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাঁহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় পৌঁছালে নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। নির্বাচনী জনসভা সভাপতিত্ব করবেন রংপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু।

সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, বিভিন্ন থানা ছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা কালেক্টরেট ঈদগাঁ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। মানুষের ঢলে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুর অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও কৃষিপ্রধান অঞ্চল। শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা এবং সঠিক ব্যক্তির সঠিক নেতৃত্বের। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সারাদেশে কৃষকদের কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা সুদসহ মওকুফ করব। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।’

তিনি আরো বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে ঐক্য ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ। জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকতে হবে।

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?’ জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

এর আগে পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান।

কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি শহীদ আবু সাঈদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন তিনি। ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা।

এ সময় রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর -৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল ইসলাম দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ছিলেন।

এদিকে, দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় রংপুর। দলীয় প্রধানের জনসভায় যোগ দিতে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে বাস মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে আসেন নেতারা।

সমাবেশে রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবিব দুলুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া: এর আগে বেলা ১১টায় বগুড়া শহরতলির ছিলিমপুরে চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণকালে তারেক রহমান বলেন, আসুন- সবাই মিলে একটি মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

এ সময় শিশু-কিশোররা নিজেদের তৈরি হস্তশিল্প পণ্য তারেক রহমানকে উপহার দেয় এবং ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গান গেয়ে শোনায়। তারেক রহমান গভীর মনোযোগ ও আগ্রহ নিয়ে প্রতিবন্ধীদের কথা শোনেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিবন্ধীরা আমাদেরই ভাই ও বোন। তারা আমাদের সমাজ ও পরিবারের অংশ। তাদের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে, যা আমাদের অনেকের মধ্যে নেই। তাই আমাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়ব। আমাদের দেশে সব মানুষ যেন সমান মর্যাদা পায়। প্রতিবন্ধীদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ করে দিতে হবে; তারা যেন দুনিয়ার আলো-বাতাসে আর দশজনের মতো বাঁচতে পারেন—সে দায়িত্ব আমাদের সবার।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, প্রতিবন্ধীদেরকেও সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারাও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে। আজকের শিশুরা আগামী দিনে দেশ গড়ার মহান সৈনিক হবে। তাদের নিয়ে আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে।

অনুষ্ঠানে ডা. জোবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে ২০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

পরে তারেক রহমান বগুড়া শহরতলির শাকপালা এলাকায় নিজের গড়া পার্ক পরিদর্শন করেন। এরপর শহরের স্টেশন রোডে নিজের প্রতিষ্ঠিত বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করে সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দোয়ায় অংশগ্রহণ ও মুসল্লিদের উদ্দেশে কথা বলেন তিনি। সেখান থেকে শিবগঞ্জের মহাস্থানগড়ে গিয়ে হজরত শাহ্ সুলতান বলখী মাহিসওয়ারী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমান শিবগঞ্জের মোকামতলায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখানে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলায় পথসভা শেষে তারেক রহমান ও অন্যরা রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিকালে রংপুরে জুলাই শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত এবং নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। পরে বগুড়া ফিরে হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

আজ শনিবার সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। সিরাজগঞ্জে যাওয়ার আগে বগুড়ায় তার নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ করার কথা রয়েছে। সিরাজগঞ্জ শিল্প পার্কে দুপুর ২টায় জনসভায় যোগ দেবেন। আর বিকাল ৪টায় টাঙ্গাইলের জনসভায় বক্তব্য শেষে রাতে ঢাকায় গুলশান বাসভবনে পৌঁছাবেন।


নরসিংদীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি 

নরসিংদীর বেলাবতে নিখোঁজের তিন দিন পর সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাগের বাজার এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান বেলাব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন।

নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) বাজনাব ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামের মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে আজিমুল কাদের নিজ এলাকার নিজের পোল্ট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন।

স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরদিন বুধবার বেলাব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা একটি ডোবায় তার মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

আজিমুলের ভাগ্নে মো. উমর ফারুক বলেন, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন আগে তার মামা পোল্ট্রি খামারে কাজ করার জন্য দুইজন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাদের একজনের নাম রুবেল হলেও অপরজনের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পরিবারের জানা নেই।

ওই দুই শ্রমিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ওই খামারে থাকা সব মুরগিও উধাও।

পুলিশ পরিদর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, জিডি করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল। খবর পেয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।


একাত্তরে হিন্দুদের নির্যাতনকারীরাই নতুন রূপে ফিরে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

পেকুয়া সদরের বিশ্বাস পাড়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

একাত্তরে হিন্দুদের নির্যাতনকারীরাই নবরূপে ফিরে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস‌্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একাত্তরে যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতন করেছিল; তারাই আবার নতুন রূপে ফিরে এসে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। তাদের হাতে এ দেশের সকল নাগরিক নিরাপদ কিনা দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন রাখেন সালাহউদ্দিন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে তার নির্বাচনী এলাকা পেকুয়া সদরের বিশ্বাস পাড়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।

সালাহউদ্দিন বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি ধর্মভিত্তিক দলের হাতে এ দেশের সনাতন ধর্মালম্বী ভাইবোনদের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, ত্যাগ শিকার করতে হয়েছিলো। যা সনাতন ধর্মালম্বী ভাইবোনদের পূর্ব পুরুষেরা জানেন। যারাই স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি কিংবা স্বাধীনতা চায়নি; তারাই সনাতনী ভাইবোনদের এমন নির্যাতন করেছিল।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির শাসনামলে এ দেশের সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ছিল। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি এ দেশের সব মানুষকে নিয়ে যারাই এই ভূ-খণ্ডে বসবাস করেন তাদের সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আমরাও কোনো ধরনের জাতি বিভক্তি, ধর্মীয় বিভক্তি কিংবা বর্ণ বিভক্তি চাই না। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশি হিসেবে বসবাস করতে চাই।

পেকুয়া উপজেলা বিশ্বাস পাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দময় বিশ্বাস তিলকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, বিশ্বাস পাড়া কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রমেশ বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন বিশ্বাস, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অংতোয়াইচিং রাখাইন, বারবাকিয়া লোকনাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির সভাপতি রিপন কান্তি নাথ, বারবাকিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিতোষ নাথ, ‍শিলখালী বিষ্ণু মন্দিরের সভাপতি মাস্টার অনিল কান্তি শিলসহ আরও অনেকে।


পিরোজপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় পিরোজপুরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পরে পিরোজপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে পুরাতন পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন মাঠে এই দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পিরোজপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ‎উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর ১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, সাবেক জেলা বিএনপির ১ নং যুগ্ন আহবায়ক শেখ রিয়াজ উদ্দিন রানা সহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সাংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।‎

উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে পবিত্র কোরআন খতম করানো হয়।‎

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা সদ্যপ্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে আলোচনা করেন।‎​

​আলোচনা সভা শেষে এক বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত (পরকালীন শান্তি) কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

​অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা দেশনেত্রীর আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


ন্যায়-ইনসাফের দেশ গড়তে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি: ফেনীতে শফিকুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

‘ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার জন্যই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এবার আর পেছনে নয়, সামনে এগোবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা এ ম্যারাথনে সঙ্গী হবেন। জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, এবার ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।’

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমীর এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, একটি মহল প্রচার করছে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমানে ইসলামী শিক্ষা ধরে রেখেছে তারাই। কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা। আমরা কথা নয়, কাজে প্রমাণ করব। যারা ভয় দেখায় তারা মতলববাজ। ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার জন্যই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। পেছনে নয়, সামনে এগোবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা এই ম্যারাথনে সঙ্গী হবেন। শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, এবার ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।

এর পূর্বে সকাল ৮টা থেকে জনসমাবেশ শুরু হয়। জনসভায় জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ। এ সময় জামায়াত-শিবির ও ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ফেনীর সন্তান বেগম খালেদা জিয়াসহ জামায়াতের প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরণ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।


নারী হেনস্তার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ও দেশব্যাপী হামলা-নৈরাজ্য ও নারী হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রশিবির। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন সহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নারায়ে তাকিবির, আল্লাহু আকবর; ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ; প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ মারার মাস্টারপ্ল্যান; বিএনপির অনেক গুণ, নির্বাচনে মানুষ খুন; আমার ভাই শহীদ কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই; বিএনপির কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও; চাঁদাবাজদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও ইত্যাদি স্লোগান দেন।

শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, আমরা জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছি এদেশে ইনসাফ কায়েমের জন্য কিন্তু বর্তমানে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি দল ভেবেছে আমরা ক্ষমতায় চলেই এসেছি, এই ভেবে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে তারা আমাদের ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কেন্দ্র করে তাদের অপকর্ম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, অপকর্মের কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়ে মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তারা আমাদের মা-বোনের গায়ে হাত তোলা শুরু করেছে। যে নেতাকর্মীরা আমার মা-বোনদের গায়ে হাত দিয়েছে তাদের বলতে চাই, আপনার হাত না থাকলে কীভাবে চলতে হবে তা প্র‍্যাকটিস করে আসবেন। শুধু চাঁদাবাজ কেন কোন অন্যায় সহ্য করবো না। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদাবাজের বিরোধীতা করেই যাবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনেকে আমাদেরকে ভয় দেখায়। এ দেশের ছাত্রসমাজ ও ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন ধরে বাঘের সাথে লড়াই করে আসছে, বানর যদি আমাদের ভয় দেখাতে আসে তাহলে লেজ ধরে দুইটা ঘুরান দিয়ে মামুর বাড়ি পাঠাই দিব। আসুন সব ভেদাভেদ ভুলে একসাথে নির্বাচনকে উপভোগ করি।


প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মির্জা আব্বাসের অঙ্গীকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং তাঁদের প্রাত্যহিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ঢাকা বধির হাইস্কুলে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রায় ২০০ জন বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বিশেষ সভায় মির্জা আব্বাস গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়। তাঁরা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই ভাই, আমাদেরই আত্মীয়।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া লিখিতভাবে পেশ করলে মির্জা আব্বাস তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্বাচনের পরপরই এসব বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘তোমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য, তোমাদের জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্য আমাদের যা করা দরকার, একজন মানুষ হিসেবে উপলব্ধি করে নির্বাচনের পরপরই আমরা সেই ব্যবস্থা শুরু করব, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি তাঁদের লিখিত দাবিনামাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন এবং মন্তব্য করেন যে তাঁদের প্রয়োজন আরও গভীর ও ব্যাপক। তিনি এ সময় বলেন, ‘তোমাদের দাবি–দাওয়াগুলো আমি দেখলাম। এই দাবি–দাওয়ার কাগজের কোনো প্রয়োজন নাই।…যে দাবি তোমরা দিয়েছো, এতে তোমাদের হবে না। তোমাদের আরও অনেক অনেক প্রয়োজন আছে। যেগুলো তোমরা লিখতে পারো নাই। এ প্রয়োজনটা আমরা বুঝি।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা আব্বাস মানবিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান যে, সুচিকিৎসার মাধ্যমে যাঁদের সমস্যা সমাধান সম্ভব, তাঁদের জন্য সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবেও এগিয়ে আসবেন। বিশেষ করে কোনো শিশুর মুখে কথা ফোটানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বা একটি শিশুর কথা বলার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সামান্যতম ভূমিকা রাখতে পারলেও সেটিই হবে তাঁর জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। মূলত প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে সমাজের মূলধারায় তাঁদের সম্পৃক্ত করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।


ভোটের দিনে প্রবীণ ভোটারদের জন্য রিকশার ব্যবস্থা থাকবে : আমিনুল হক

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার নবম দিনে মিরপুর ১১ নম্বর বাজার রোড, নাভানা ও তালতলা বস্তি সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। প্রচারণাকালে তিনি ভোটের দিন প্রবীণ ভোটারদের যাতায়াত সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান যে, যানচলাচল বন্ধ থাকলেও বয়োবৃদ্ধদের ভোটকেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত রিকশার ব্যবস্থা রাখা হবে। আমিনুল হক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যাতে তারা নিরাপদে ভোট দিয়ে আবার বাড়ি ফিরতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।’ সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে তার এলাকার ১৩৭টি ভোটকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এলাকার বিশাল একটি অংশ জুড়ে বসবাসরত প্রায় ৭০ হাজার উর্দুভাষী ভোটারের উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে আমিনুল হক বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব লাভের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে কারণেই এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিএনপির একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।’ নির্বাচনে জয়লাভ করলে এই উর্দুভাষী মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ সন্তোষজনক উল্লেখ করে আমিনুল হক জানান যে, তারা অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে প্রচারণার মাঝে তিনি প্রতিপক্ষ জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে, জামায়াতের একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে ভোট ক্রয়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের একটি চক্র ঘরে ঘরে গিয়ে বিকাশ নম্বর ও এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে।’ এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলের নীতি-নির্ধারকদের অবহিত করার পাশাপাশি খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।


banner close