‘বিএনপি নির্বাচন ভন্ডুল করতে আবার মজ্জাগত সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগস্ত করার লক্ষ্যে বিএনপি জামায়াত চিরাচরিতভাবে সন্ত্রাসী কমকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপির তথাকথিত সমাবেশ ঘিরে যে আশঙ্কা ছিল সেটা আজ সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় বলে সহিংসতা করেছে।’
‘বিএনপি পরিকল্পিত সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে’ অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘গত দুদিনে বিএনপি কী করেনি। আন্দোলনের নামে সবই করেছে। সব অপকর্মের নির্লজ্জ প্রদর্শন করেছে।’
তিনি বলেন, “বিএনপি প্রকাশ্যে পুলিশ হত্যা করেছে, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেছে, হাসপাতালে অগ্নিসংযোগ করেছে। এগুলো তারেক জিয়ার ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশে’র স্বরূপ।”
‘বিএনপি ঐতিহ্যগতভাবে সন্ত্রাসী দল’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে শতশত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে তারা।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ সময় বিএনপি এবং জামায়াতকে সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন প্রমুখ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ভিত্তি এবং একে বাদ দিলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব চিন্তা করা সম্ভব নয়। সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম প্রগতিশীল দলগুলোর নবগঠিত জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, একটি আধুনিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী—সকল শ্রেণির মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। তিনি মনে করেন, একাত্তরের চেতনা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
বৈঠক শেষে আলোচনার বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানান বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ। তিনি উল্লেখ করেন যে, মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে সমবেদনা জানাতে এবং কার্যালয়ে রক্ষিত শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে শোক প্রকাশের পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বাম নেতারা এই সময় রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দাবি জানান যেন কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রস্তাবিত ‘জাতীয় সরকার’ গঠন সংক্রান্ত গুঞ্জন নিয়ে বৈঠকে কথা উঠলে তারেক রহমান তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে, জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। জামায়াত হয়তো বাইরে এই বিষয়ে কথা বলছে, কিন্তু বিএনপির সঙ্গে তাদের আলোচনা কেবল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়টিতে সীমাবদ্ধ। এর মাধ্যমে তিনি জোটের ভবিষ্যৎ রণকৌশল সম্পর্কে চলমান জল্পনার অবসান ঘটান এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে বাম দলগুলোর সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বৈঠকের এক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে বলে ইঙ্গিত দিলে তারেক রহমান তাকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সমালোচনা ছাড়া সুস্থ গণতন্ত্র চর্চা অসম্ভব এবং তিনি বিশ্বাস করেন আলোচনা ও সমালোচনা সমান্তরালভাবে চললেই দেশ সঠিক পথে থাকবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধিদলে ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, নাজমুল হক প্রধান, ডা. মুশতাক হোসেন এবং মোশরেফা মিশুর মতো প্রবীণ ও প্রভাবশালী বাম নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও বাম দলগুলোর এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ভবিষ্যতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় ঐক্য গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। দেশের অগ্রগতির স্বার্থে এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রাখতে সরকার ও বিরোধী দলের সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।
বৈঠকটি এক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকাল, আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখেছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অপরিসীম। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকল পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করলে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শামিল হলে বাংলাদেশ খুব দ্রুত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
মতবিনিময় সভার আগে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা কার্যালয়ে রক্ষিত শোক বইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানান। বাম জোটের পক্ষ থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া এবং নাজমুল হক প্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় এক ডজন নেতা এই প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে জানানো হয় যে, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় সংহতি বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
আলোচনায় বাম জোটের নেতারাও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. মুশতাক হোসেন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, ইকবাল কবীর জাহিদ এবং মোশরেফা মিশুর মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতে রাজপথের সকল শক্তির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও বামপন্থী দলগুলোর এই শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ এবং ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থ রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবন দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে। সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে এ্যাবের (অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাগ্রিকালচারিস্টস বাংলাদেশ) অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। মঈন খান উল্লেখ করেন যে, যখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা ও ব্যক্তিগত আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন খালেদা জিয়া ছিলেন সম্পূর্ণ আপসহীন এবং তাঁর কাছে দেশ ও মানুষের স্বার্থই ছিল সবার উপরে।
মঈন খান তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল এ দেশের সাধারণ মানুষ, কোনো অস্ত্র বা বন্দুকের শক্তি নয়। তিনি আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে লড়াই করেছেন এবং জেল-জুলুম কিংবা অন্য কোনো প্রতিকূলতার কাছে মাথানত করেননি। ড. মঈন খানের মতে, খালেদা জিয়া নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যে দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তা বিরল। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবনই ছিল মূলত রাজপথের সংগ্রামের এক জীবন্ত ইতিহাস, যা তাঁকে জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে দিয়েছে।
সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া শেষে তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে খালেদা জিয়ার আদর্শ ও দেশপ্রেম বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য সবচাইতে বড় পাথেয়। সুবিধাবাদী গোষ্ঠী যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বারবার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, তখন খালেদা জিয়াই ছিলেন প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর দেখানো সেই সংগ্রামের পথ ধরেই জাতীয়তাবাদী শক্তি আগামী দিনে একটি সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবে বলে মঈন খান দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ ও নৈতিকতা ধারণ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তাঁর নিজ জেলা ও রাজনৈতিক সূতিকাগার বগুড়ায় পা রাখতে যাচ্ছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র এরই মধ্যে বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এই নির্বাচনি আবহের মধ্যেই প্রায় ১৯ বছর ১৮ দিন পর তিনি বগুড়া সফর করবেন, যা ঢাকার বাইরে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সফর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। দলীয় সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আগামী ১১ জানুয়ারি (রবিবার) তারেক রহমান সরাসরি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সফরের বিস্তারিত সূচি অনুযায়ী, ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এক বিশাল গণ-দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত থেকে তাঁর মরহুমা মাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর সাথে অংশ নেবেন। এরপর তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। যাত্রাপথে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার জিয়ারত করার কর্মসূচিও তাঁর রয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও শিবগঞ্জ আসনের প্রার্থীর নেতৃত্বে তাঁকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনে অবস্থিত তাঁর প্রিয় বাসভবন ‘গ্রিন এস্টেট’ নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাড়িটি ২০০০ সালে সংস্কার করে ‘গ্রিন এস্টেট’ নাম দেওয়া হয়েছিল এবং ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই বাড়ি থেকেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ধারণা, নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ এবং সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবারও তিনি এই ঐতিহাসিক বাড়িতেই অবস্থান করবেন। নেতাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলায় বগুড়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সাথে এই সফর সফল করার যাবতীয় পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার গাবতলী এলাকা থেকেই ২০০১ সালে তারেক রহমান দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবনে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি তাঁর নির্বাচনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবারও বগুড়াকেই বেছে নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বগুড়া সফর কেবল একটি নির্বাচনি প্রচারণাই নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। বগুড়া থেকে শুরু হয়ে এই সফরের প্রভাব সারা দেশের নির্বাচনি মাঠেই ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে বিএনপি সমর্থকরা মনে করছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারা সাক্ষাৎ করেন। এসময় ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন- এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন।
তিনি বলেন, আমরা বৈঠক করতে আসিনি, এসেছিলাম শোক জানাতে। যেহেতু বেগম জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, পথিকৃৎ ছিলেন, তাই এসেছিলাম শোক জানাতে। তবে তারেক রহমান আমাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছেন, ক্ষমতায় এলে সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন।
মীর নাসির বলেন, আমরা জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষাব্যবস্থা এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের কথা শুনেছেন, নোট নিয়েছেন। আমরা বলেছি অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে ব্যবসায়ীদের সফল করতে হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠক বিষয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ব্যবসায়ীদের সম্মান অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মসংস্থানের। প্রতিষ্ঠান কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতি এক নম্বর। এটাকে দাঁড় করাতে হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের নিয়ে স্বচ্ছতা আনবেন, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ সময় স্টক মার্কেট ভাইব্রেন্ট ও ব্যাংকগুলোর অবস্থা উন্নত করারও দাবি জানান। সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও মব কালচার বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।
বৈঠকের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কথা বলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেইন আকবর আলী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, উত্তরা মোটর করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী।
এছাড়া পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিসিএমইএর সভাপতি ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি আব্দুল মোকতাদির, বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, বিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামিম এহসান এবং ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার পর টানাপড়েনের মধ্যে পড়েছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি। এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছেন দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা। পদত্যাগকারী একাধিক নেতা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি থেকে সরে আসায় এবং ‘জামায়াত ট্যাগ’এড়াতে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তারা।
নির্বাচন, গণভোট ও সংস্কারের প্রশ্নে দলটির নেতারা বিগত দিনগুলোতে এক থাকলেও নতুন বছরে আদর্শিক দ্বন্দে বিভক্ত হচ্ছেন তারা। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে দ্বিমত পোষণের পাল্লা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এসবের পরও এনসিপি নেতারা আশায় রয়েছেন এই টানাপড়েন তারা কাটিয়ে উঠবেন।
নির্বাচন সামনে রেখে গত ৭ ডিসেম্বর এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছিল। সেই জোট ঘোষণার মাস না যেতেই গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট রাজনৈতিক দলের জোটে যোগ দেয় এনসিপি। তখন থেকেই এনসিপির ভেতরে টানাপড়েন শুরু হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি ছিল এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের। তারা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ ও আপত্তি জানান। চিঠিতে এনসিপির আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতাকে আপত্তির ভিত্তি বলা হয়। ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা, বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড, গুপ্তচরবৃত্তি ও এনসিপির নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সামাজিক ফ্যাসিবাদ উত্থানের আশঙ্কার কথা চিঠিতে তুলে ধরেন নেতারা।
দলটি থেকে পদত্যাগকারী একাধিক নেতা জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিতর্কিত ও লজ্জাজনক অধ্যায়। সেই সময় তারা স্বাধীনতার প্রশ্নে জাতির বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ডজন খানেক নেতা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে ছিলেন। ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ ছাড়া এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ, দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীনও পদত্যাগ করেছেন।
দলীয় নেতৃত্বে টানাপড়েনের পরও সামনের নির্বাচনে দল হিসেবে ভালোকিছু করা এবং নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। দলে বর্তমানে সক্রিয় একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, নতুন বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনে ভালো কিছু করা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করা, নতুন একটি সংবিধানের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং সবাইকে নিয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত ও পুরাতন এস্টাব্লিশমেন্টমুক্ত স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের আগামীর চ্যালেঞ্জ।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের পদ থেকে পদত্যাগ করা খান মুহাম্মদ মুরসালীন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি হচ্ছে, বাংলাদেশে যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানটি ঘটিয়েছে- এই যে শ্রমিকেরা, এই যে নারীরা, এই যে আমাদের মা-বোনেরা, এই যে ছাত্ররা, যারা রক্ত দিয়েছে—এটাই। এই শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে যদি তারা একটি পলিটিক্যাল ফোর্স তৈরি করতে সমর্থ হতো তাহলে কিন্তু বাংলাদেশে আজকে গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতিটা হুমকির মুখে পড়ত না। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শক্তিটাকে সংগঠিত না করার ফলে তারা নিজেরা দুর্বল হয়ে গেছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, আমাদের কিছু সহযোদ্ধা দলের প্রতি অভিমান দেখিয়ে দল থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন, কয়েকজন সহযোদ্ধা পদত্যাগ করেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা ডেমোক্রেটিক প্রসেস এবং এ প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি সবসময় সম্মান জানাই। দলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং দলের বৈধ ফোরামগুলো যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা সেগুলোর প্রতি সবসময় সম্মান জানাই।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। রোববার (৪ জানুয়ারি ) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে এই সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।
সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে কবি আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, কেএম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি এই প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য আতিকুর রহমান রুমনও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারেক রহমান জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতাদের সঙ্গে পেশাদারিত্বের মান উন্নয়ন ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে কথা বলেন। প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গুলশানে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা উভয় মহলেই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি সংক্ষিপ্ত আধ্যাত্মিক সফরে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে পৌঁছেছেন। আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে গমন করেন। সেখানে তিনি প্রখ্যাত এই ওলির মাজারে ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি হযরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
মির্জা ফখরুলের এই সফরকে ঘিরে সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী। মাজার জিয়ারতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৬টায় এয়ারপোর্ট রোডের উইন্ডসর হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর একটি প্রেস ব্রিফিং করার কথা রয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন যে, মহাসচিব এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের এই সিলেট সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আবহাওয়াগত ও কারিগরি কারণে মহাসচিবের এই সফরে শুরুতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশা এবং ওসমানী বিমানবন্দরে অন্যান্য ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর মির্জা ফখরুলকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটি পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বিকেল ৩টা ১৭ মিনিটে রানওয়ে স্পর্শ করে। তবে শিডিউল বিপর্যয় ও বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় জমান। মাজার জিয়ারত ও প্রেস ব্রিফিং শেষে তিনি দলীয় অভ্যন্তরীণ কিছু সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সাইফুল হকের নেতৃত্বে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে খোলা শোক বইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনা প্রদান করেন।
সাক্ষাতকার ও শোক প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দেশে একটি টেকসই ও অর্থবহ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁরা বিশদ আলোচনা করেন। এছাড়া জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সম্ভাবনা এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করার বিষয়ে তাঁরা উভয়েই ঐকমত্য পোষণ করেন।
বৈঠককালে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে এই ধরনের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মূলত গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই দুই নেতার বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি বিশেষ শোকবই উন্মুক্ত করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এই শোকবইটি সর্বসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। শোকবই উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোকলিপি লিখে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে নিয়ে মনের অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা লিপিবদ্ধ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছিলেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও সমাদৃত হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীরা কীভাবে শিক্ষা ও যোগ্যতার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অগ্রগতি সাধন করতে পারে, তা তিনি বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। নাছির উদ্দীন মনে করেন, শিক্ষার্থীদের এই শোকবইয়ের প্রতিটি শব্দ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকবে।
শোকবই উন্মুক্তকরণ কর্মসূচির পাশাপাশি বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত ইস্যু মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া নিয়েও কথা বলেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মোস্তাফিজের মতো বিশ্বমানের একজন ক্রিকেটারকে কেবল উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপে বাদ দেওয়া অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তাঁর মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে ভারতের বর্তমান সরকার কট্টরপন্থী সংগঠনগুলোর কাছে এক প্রকার নতি স্বীকার করেছে। এই জাতীয় অবমাননার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় বীরদের সম্মান রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করা উচিত নয়। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও আবেগঘন পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমঝোতা জোটে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। নিজেদের জন্য বরাদ্দ করা আসন নিয়ে অসন্তুষ্ট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটি এখন এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া এনসিপিসহ (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নতুন কয়েকটি দল জোটের সদস্য হওয়ায় আসন বণ্টনের জটিলতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন বাস্তবতায় জামায়াত বলছে, কোনো দল বের হয়ে গেলেও জোটে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। আলাদাভাবে সব দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এমন প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ৭টি ইসলামী দল নিয়ে একটি জোট গঠন করে। এরই মধ্যে এই জোট বেশ কিছু জনসভাও করেছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে জোটে যোগ দেয় তরুণদের দল এনসিপি।
আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে এই জোটের শরিকদের দ্বিমত সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। লিয়াজোঁ কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। ইসলামী আন্দোলন তাদের জন্য বরাদ্দ করা ৩৫টি আসনে সন্তুষ্ট নয়। এরই মধ্যে তারা ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সমঝোতা না হলে এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে লড়ব। তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যদি সম্মানজনক সমঝোতা হয়, তবে আমরা প্রার্থিতা তুলে নেব। তবে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, কোনো ‘ব্যাকডোর’ দিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে না।’
জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা অবশ্য বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই চূড়ান্ত সমঝোতা হবে। তবে কেউ এককভাবে নির্বাচন করলে তার প্রভাব জোটের ওপর পড়বে না।
দলটির কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইনশাল্লাহ চূড়ান্তভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমানে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) চলছে। এটি শেষ হয়ে গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দাঁড়াবে। এর ফাঁকেই আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে, দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত চলে আসবে।’
এনসিপি, এবি পার্টিসহ বর্তমানে জামায়াতের এই জোটে ১১টি দল রয়েছে। শরিকদের দাবি, নতুন দলগুলোর অন্তর্ভুক্তিতে আসন বণ্টনের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন যে, তাঁর মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই শোকাতুর সময়ে দেশ ও বিদেশের অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া পাওয়া গেছে, তা তাঁদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তারেক রহমানের মতে, এই তিন দিনে তাঁরা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন যে, খালেদা জিয়া ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন। তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক এবং নিজ বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার এক অটল প্রেরণা, যা রাজনৈতিক গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিচয় ও আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের অত্যন্ত দ্রুত সমন্বয় ও সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই এমন এক স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজনটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের দেওয়া সম্মানসূচক 'গার্ড অব অনার' ও শেষ সালাম তাঁর মায়ের দীর্ঘ জীবন ও অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ, বিশ্বনেতৃবৃন্দ এবং কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে পাওয়া শোকবার্তাকে তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, জানাজায় বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মিশন ও প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রমাণ করে যে, দেশের সীমানার বাইরেও তাঁর মায়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান বিদ্যমান। এছাড়া দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে যেভাবে সাধারণ মানুষ জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানিয়েছে, সেই দৃশ্য জিয়া পরিবার কখনোই ভুলবে না। পরিশেষে তিনি জানান যে, এই কঠিন সময়ে জনগণের যে ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি ও সহমর্মিতা তাঁরা পেয়েছেন, সেটিই তাঁদের প্রধান শক্তি ও সান্ত্বনা। এই সংহতিকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ধারণ করে তাঁরা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে চলবেন বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পদত্যাগের ধারা থামছেই না। এবার দলটির ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান এবং পদত্যাগপত্রটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। নীলিমা দোলা ফরিদপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতির মেয়ে এবং জুলাই পরবর্তী সময়ে এনসিপির সক্রিয় মুখ ছিলেন। তাঁর এই পদত্যাগ দলটির আদর্শিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক রণকৌশল নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী বা ‘সেন্ট্রিস্ট’ রাজনীতির নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
নীলিমা দোলার অভিযোগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল দলটির সাম্প্রতিক ডানপন্থী ঝোঁক এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট। তিনি দাবি করেন, এনসিপি এখন পুরোপুরিভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়েছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তাঁর মতে, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট কোনো কৌশলগত জোট নয়, বরং এটি সাধারণ নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে করা একটি সমঝোতা। এই প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র দেওয়ার নামে চরম প্রতারণা করা হয়েছে বলেও তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। যারা দল ত্যাগ করছেন তাদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা দলে চলছে, তাকে তিনি নেতৃত্বের একটি পরিকল্পিত ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাতে দলের এই পরিবর্তনকে বৈধতা দেওয়া সহজ হয়।
দলের ভেতরে থেকে নীলিমা দোলা নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর আক্ষেপ, গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রান্তিক মানুষের ওপর চলা অনাচার ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলটিকে দীর্ঘ সময় ভাবতে হয়েছে। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দলের মনমরা ও দায়সারা মনোভাব তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ এই দলটির ওপর যে বিশ্বাস রেখেছিল, নেতৃত্বের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে গত কয়েক মাসে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।
সবশেষে সৈয়দা নীলিমা দোলা এনসিপি নেতৃত্বের প্রতি একটি কড়া বার্তা দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থান কোনো ধর্মীয় বিপ্লব ছিল না এবং এর সুফল ঘরে তুলতে ধর্মীয় রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপি বর্তমানে এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে পুরোনো আওয়ামী বয়ানকেই প্রতিষ্ঠিত করার পথে হাঁটছে। দলের বর্তমান নেতৃত্বকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানালেও তিনি বিশ্বাস করেন যে, আসন্ন কঠিন সময়ে দেশের সাধারণ জনতা এই সব অসংগতির সমুচিত জবাব দেবে। এনসিপি ছাড়াও জুলাইয়ের অন্য একটি পক্ষশক্তি বর্তমান আছে—এমন মন্তব্য করে তিনি তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।