প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
রোববার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সব সদস্য এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সব প্রার্থীকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, মনোনয়ন পত্রের রিসিভ কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন ফরমের ফটোকপিসহ যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল চারটার কিছু সময় আগে তিনি দোয়ায় অংশ নিতে রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে (আজাদ মসজিদ) যান।
এরপর জামাতের সঙ্গে আসরের নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। নামাজ শেষে তার মা ও দলের চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক এই সরকারপ্রধানের জন্য এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে তার দল বিএনপি।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরীসহ অনেকে।
মসজিদে নারীদের পৃথক নামাজের স্থান থেকে দোয়ায় অংশ নেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, তার মেয়ে জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তার মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনেরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন।
এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া পড়া হয়েছে। মুসল্লি ও সাধারণ মানুষজন এই দোয়ায় অংশ নেন। জুমার নামাজ শেষে এই দোয়া মাহফিল হয়।
দোয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করা হয়। এরপর দোয়ায় খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। আল্লাহপাক যেন তাকে জান্নাতের বাসিন্দা করেন- এ কামনাও করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার থেকে ২ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।
শোকের শেষ দিন দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন খালেদা জিয়া। এর পরদিন বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও জানাজা শেষে তাকে স্বামী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নওগাঁ জেলায় বিএনপির অন্তত ছয়জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কোনো কোনো আসনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোটের সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তবে দলের একটি অংশের ধারণা, শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলা নিয়ে মোট ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁ-২ ও নওগাঁ-৪ ছাড়া বাকি চারটি আসনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপির ছয়জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থী হওয়া এসব নেতার দাবি, কর্মী-সমর্থকদের চাপ ও অনুরোধেই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। গত সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নওগাঁর ছয়টি আসনে মোট ৫৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ হলেও জমা পড়েছে ৪১টি। এর মধ্যে নওগাঁ-১ আসনে আটজন, নওগাঁ-২ আসনে ছয়জন, নওগাঁ-৩ আসনে আটজন, নওগাঁ-৪ আসনে সাতজন, নওগাঁ-৫ আসনে সাতজন এবং নওগাঁ-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ছয়টি আসনেই বিএনপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে প্রার্থী ঘোষণার পর নওগাঁ-২ বাদে বাকি পাঁচটি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কর্মী-সমর্থকেরা আন্দোলনে নামেন। এরপরও দলীয় সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আসায় মনোনয়নবঞ্চিত নয়জন নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন, যাঁদের মধ্যে ছয়জন শেষ পর্যন্ত জমা দেন।
নওগাঁ-১ আসন :
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ছালেক চৌধুরী, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মাহমুদুস সালেহীন।
ছালেক চৌধুরী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এলাকায় রাজনীতি করছি। মানুষের ভালোবাসায় তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। সাধারণ ভোটারদের চাপেই মনোনয়ন জমা দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকব কি না, তা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
নুরুল ইসলাম জানান, কর্মী-সমর্থকেরাই তার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দলের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
নওগাঁ-২ আসন : এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনবারের সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জোহা খান। মনোনয়নবঞ্চিত নেতা খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।
নওগাঁ-৪ আসন : এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইকরামুল বারী টিপু। এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী এম এ মতিন দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও আক্কাস আলী মোল্লা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।
নওগাঁ-৫ আসন : জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক সনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও পরপর তিনবার পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার নেতা-কর্মীদের মতে এখানে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন হয়নি। তাদের চাপেই মনোনয়ন জমা দিয়েছি।
নওগাঁ-৬ আসন :
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ রেজাউল ইসলাম। তবে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনবারের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির।
আলমগীর কবির বলেন, কালোটাকার নির্বাচনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এসেছি। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য। আত্রাই-রাণীনগরের মানুষ আমাকে চায় বলেই প্রার্থী হয়েছি।
দলীয় প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম পাল্টা বক্তব্যে বলেন, দলের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।
অন্যান্য দল নওগাঁর ছয়টি আসনে বিএনপির ১২ জন প্রার্থীর বাইরে জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছয়জন, জাতীয় পার্টির পাঁচজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিল হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বাদ জুমা ভূতের গলি জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।
দোয়া মাহফিলের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সারাজীবন দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেছেন। তার দেশপ্রেম ও সততা সত্যিকার অর্থেই সবার জন্য অনুকরণীয়।
দোয়া মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শত অত্যাচার সহ্য করেও দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, তার ওপর যে অত্যাচার হয়েছিল, মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি তা সহ্য করে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজকে গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। কিন্তু তিনি সেই গণতন্ত্র দেখে যেতে পারলেন না।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার পেছনে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিগত সময়ে খালেদা জিয়াকে এমন কিছু করা হয়েছে, যাতে তিনি দ্রুত সময়ে পৃথিবী ত্যাগ করেন।
দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান মামুনুল হকের: বেলা পৌনে তিনটার দিকে কবর জিয়ারত করতে আসেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক। কবর জিয়ারতের শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
মামুনুল হক বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের আপসহীন নেত্রী। তারা নেত্রীর জন্য দোয়া করতে এসেছেন। এ সময় দেশবাসীকেও খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কবর জিয়ারত করতে এসে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পুরো জীবনে দেশের স্বার্থরক্ষায় কাজ করেছেন। আমরা তার জন্য দোয়া করতে এসেছি। তার নীতি ও আদর্শ ধারণ করে আগামী দিনে দেশ ও গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে- এটাই প্রত্যাশা।’
অশ্রুসিক্ত অসংখ্য মানুষ: অশ্রুসিক্ত হয়ে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন অসংখ্য মানুষ। তারা প্রার্থনা করছেন, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী যেন কবরে শান্তিতে থাকেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পরে জিয়া উদ্যানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তাদের মধ্যে কেউ বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক; কেউবা খালেদা জিয়াকে পছন্দ করেন বলে তার কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা এসেছেন।
ভোলা জেলার লালমোহন থেকে এসেছেন ৬২ বছর বয়সী আবুল কালাম। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন। তিনি বলেন, নেত্রীর জানাজায় আসতে পারিনি। তাই কবর জিয়ারত করতে এসেছি।
নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া মামলার তথ্য সংক্রান্ত জটিলতায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচএম হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান এই সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে দুপুরে তার প্রার্থিতা প্রাথমিক পর্যায়ে স্থগিত রাখা হলেও পরবর্তী শুনানি শেষে বিকেলে চূড়ান্তভাবে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় হামিদুর রহমান আজাদ তার বিরুদ্ধে থাকা মোট ৭২টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছিলেন। এর মধ্যে ৭০টি মামলায় তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহারের মাধ্যমে আইনি দায়মুক্ত হয়েছেন বলে জানান। তবে অবশিষ্ট দুটি মামলার মধ্যে একটি ঢাকার সিএমএম আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা, যা বর্তমানে হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত রয়েছে। অন্যটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলা, যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আপিল বিভাগে বিচারাধীন এই মামলার প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে না পারায় তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, তারা আইনি নথিপত্র সংগ্রহ করছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তারা মনে করছেন, উচ্চ আদালতে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দাখিল করলে হামিদুর রহমান আজাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ পুনরায় সুগম হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে গণমানুষের একমাত্র প্রত্যাশা হলো একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদের রক্তের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করা, যার মাধ্যমে দেশে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সরকার গঠিত হবে। দেশের জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য এখন উন্মুখ হয়ে আছে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা মাঠ পর্যায়ে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকতে হবে এবং নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এদিন কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কক্সবাজার-১ ও কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদসহ ৩ জনের প্রার্থিতা বৈধ এবং ২ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ঘোষিত অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার শহর শাখার আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং গণঅধিকার পরিষদের আব্দুল কাদের। অন্যদিকে, তথ্যগত ত্রুটি বা আইনি কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্যের গরমিল থাকায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন। শুক্রবার সকালে বগুড়া জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বগুড়া-১, ২ ও ৩ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়।
মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়াও একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্দার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। এর আগে দিনের শুরুতেই বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে শাহজাদী আলম লিপির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হলফনামায় প্রার্থীর দেওয়া তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে গিয়ে কিছু অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়, যার ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের এই কার্যক্রম প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলমান রয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মনোনয়নপত্র অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব এলাকা থেকে তিন দিনের মধ্যে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সদ্য প্রয়াত দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে টাঙানো ব্যানার ও পোস্টারগুলো এই অপসারণ কার্যক্রমের আওতামুক্ত থাকবে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রতীকীভাবে ব্যানার-পোস্টার অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যানার-পোস্টার রাজনৈতিক মত প্রকাশের মাধ্যম হলেও দীর্ঘ সময় এগুলো ঝুলে থাকার ফলে শহরের সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে রিজভী জানান, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই অপসারণ কাজ সম্পন্ন করবেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও উল্লেখ করেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করায় তার স্মরণে লাগানো পোস্টারগুলো হয়তো আরও কয়েক দিন থাকবে, তবে বাকি সব রাজনৈতিক প্রচারসামগ্রী দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে এবং এই কার্যক্রম সারাদেশে একযোগে চলবে। কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে সারাদেশ থেকে এসব প্রচারসামগ্রী অপসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে পাঠানো পৃথক শোকবার্তায় এই সমবেদনা জানানো হয়।
বাদশাহ সালমান তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ তারা গভীর দুঃখের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। এই শোকাবহ সময়ে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও মরহুমার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন খালেদা জিয়াকে অসীম রহমত ও ক্ষমার চাদরে আবৃত করে জান্নাতে সর্বোচ্চ স্থান দান করা হয়।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার বার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে শোকাহত হওয়ার কথা জানান। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রার্থনা করেন যেন পরম করুণাময় আল্লাহ মরহুমাকে রহমত দান করেন এবং দেশবাসীকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। শোকবার্তায় যুবরাজ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার মাগফিরাত কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই শোকবার্তাগুলো তার রাজনৈতিক প্রভাব ও মর্যাদারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, গত ১৪ মাসে তিনি বিন্দুমাত্র দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হননি। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভা মিলনায়তনে উপজেলা জামায়াতে ইসলামি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলেন, সারা বাংলাদেশের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন যে, কারো পকেট থেকে এক কাপ চায়ের টাকাও তিনি আত্মসাৎ করেননি। সংস্কার ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জোটের নেতৃত্বে তারা সরকার গঠন করবেন।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা অতীতে কেন্দ্র দখল করেছেন কিংবা আগামীতে দখলের পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন, পুলিশ বা অর্থ শক্তি ব্যবহার করে যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের ঘোষণা দেন তিনি। হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, যারা নির্বাচনকে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন এবং দেবিদ্বারের উন্নয়নের টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে। তার মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর বেইনসাফি করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তার নীতি স্পষ্ট থাকবে এবং তিনি মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে লড়াই করে যাবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি সবার প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তাকে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি রেখে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলেও তিনি অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। শেখ হাসিনা তাকে নিয়ে বিদ্রুপ করলেও তিনি কখনো কুরুচিপূর্ণ জবাব দেননি। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ধৈর্য ও জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম শহীদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক লোকমান হোসাইন, পৌর জামায়াতের আমির মো. ফেরদৌস আহমেদ এবং এনসিপির উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশ গঠনে কাজ করবে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আসনে বিকল্প প্রার্থী থাকায় নির্বাচনি কাজে কেনো প্রভাব পড়বে না। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত বা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর এমন ঘটনা ঘটলে আইনি জটিলতার কারণে স্থগিত হবার প্রশ্ন আসতে। কিন্তু এখন সে পরিস্থিতি নেই। বাছাইয়ের আগেই তিনি মারা গেছেন।
খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী আর নেই, কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে আছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে তিনি খেতাব পেয়েছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। জানাজায় যারা ঢাকায় আসতে পারেননি, তারাও গায়েবে গায়েবে জানাজায় শরিক হয়েছেন। কত মানুষ তার জানাজায় শরিক হয়েছেন, তার পরিসংখ্যান হয়তো ভবিষ্যতে আলাদাভাবে তুলে ধরা যাবে। কারণ শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সারা পৃথিবীর মানুষ জানে ও বিশ্বাস করে—গণতন্ত্রের লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে একজন সাধারণ গৃহিণী কীভাবে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের রক্ষক হতে পারেন, গণতন্ত্রের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন।
সালাহ উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে ম্যাডাম নিজের জীবন, সন্তান, পরিবার সবকিছুই ত্যাগ করেছেন। বলতে গেলে, এ দেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য, এ দেশের মাটির জন্য তার যে টান, যে ভালোবাসা, যে দেশপ্রেম—তার কোনো তুলনা নেই।
তিনি বলেন, আমরা তার সেই ত্যাগ, সেই অবদান, সেই দেশপ্রেমকে পাথেয় করেই সামনে শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেষ্টা করব। করতেই হবে—এটাই জাতির দাবি।
তিনি বলেন, আমরা সেভাবেই দেখি—খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন; তিনি সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি সব দল-মতের ঊর্ধ্বে নিজেকে তুলতে পেরেছেন, এবং এ দেশের মানুষ, এ দেশের সবাই তাকে সেই মর্যাদায় আসীন করেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও সহমর্মিতা জানাতে এ সাক্ষাৎ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎ হয়। পরে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
সাক্ষাৎকালে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। আরও ছিলেন জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোবারক হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন।
এ সময় জামায়াত আমির বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বিএনপির ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘গণতন্ত্রের মা’, ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সহমর্মিতা জানাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। গত বুধবার সংসদ ভবন এলাকায় তার ঐতিহাসিক জানাজা হয়। যেখানে লাখ লাখ মানুষ জানাজায় উপস্থিত হন। পরে জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পিতা ও পুত্রের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে তাদের সম্পদের এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের অর্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, বাবা আমিরুল ইসলাম যেখানে ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন, সেখানে ছেলে হান্নান মাসউদ দাখিল করেছেন ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।
আয়ের উৎসের ক্ষেত্রেও বাবা ও ছেলের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। গত এক বছরে হান্নান মাসউদ ব্যবসা থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করলেও তার বাবা কৃষি খাত ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সম্মানী মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
নির্বাচনি মাঠে বাবা ও ছেলে ভিন্ন দুটি রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হয়ে একতারা প্রতীকে এবং আব্দুল হান্নান মাসউদ এনসিপির হয়ে শাপলা কলি প্রতীকে লড়ছেন।
পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিরুল ইসলামের হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার কাছে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া তার মালিকানায় ২৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং কৃষি ও অকৃষি মিলিয়ে মোট ১৬৮ শতাংশ জমি রয়েছে।
এই বিষয়ে নিজের সম্পদের হিসাবের বাইরে অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আমিরুল ইসলাম।