বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৭২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন

আপডেটেড
২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ বাদে সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। বাকি দুটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে।

ঘোষিত আসনে বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন মুখসহ দলের বেশ কিছু সাবেক এমপি ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে অন্তত ৭০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ বর্তমান সংসদের ৭২ জন সদস্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে যোগ হয়েছেন নতুন বেশ কিছু মুখ।

তিন প্রতিমন্ত্রী হলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

খুলনা-৩ আসনে মন্নুজান সুফিয়ানের পরিবর্তে এস এম কামাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে কে এম খালিদের পরিবর্তে আবদুল হাই আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাকির হোসেনের পরিবর্তে বিপ্লব হাসানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনজন ছাড়া সবাই মনোনয়ন পেয়েছেন।

মনোনয়নের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্য যেকোনোবারের তুলনায় এবার বেশি নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নতুনদের মধ্যে পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, তারকা ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র অভিনেতা, স্বনামধন্য কিছু পেশাজীবীও রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে, একাদশ জাতীয় সংসদে থাকা যশোর-২ আসনের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের সাইফুজ্জামান শিখর, ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিম ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মনোনয়ন পাননি। এ ছাড়া বাদ পড়েছেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

পঞ্চগড়-১ মাজহারুল হক প্রধানের বদলে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন মো. নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া। দবিরুল ইসলামের বদলে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মাজহারুল ইসলাম। রংপুর-৫ আসনে এইচ এন আশিকুর রহমানের পরিবর্তে রাশেক রহমান। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে এম এ মতিনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে। এদিকে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. বিপ্লব হাসান। গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোয়ার হোসেনের বদলে আবুল কালাম আজাদ।

বগুড়া-৫ আসনে মো. হাবিবর রহমানের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান মজনু। নওগাঁ-৩ আসনে মো. ছলিম উদ্দীন তরফদারের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। নওগাঁ-৪ আসনে মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রাং-এর বদলি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মো. নাহিদ মোর্শেদকে। মো. আয়েন উদ্দিনের বদলে রাজশাহী-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগের বাছাই মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী-৪ আসনে এনামুল হকের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। পরিবর্তন আছে রাজশাহী-৫ আসনেও। মনোনয়ন পাননি বর্তমান এমপি মো. মনসুর রহমান। মো. হাবিবে মিল্লাতের বদলে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মাঝি এবার মোছা. জান্নাত আরা হেনরী। পরিবর্তন আছে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনেও। তানভীর ইমামের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও মেরিনা জাহানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন চয়ন ইসলাম। পাবনার একমাত্র পরিবর্তন ৪ নম্বর আসনে। মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।

মেহেরপুর-২ আসনে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো. শফিকুল আজম খাঁনের বদলে নৌকার মাঝি মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী। যশোর-২ মো. নাসির উদ্দিনের পরিবর্তে মো তৌহিদুজ্জামান এবং যশোর-৪ আসনে রনজিত কুমার রায়ের বদলে এনামুল হক বাবলা নৌকার মাঝি। বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিরুল আলম মিলনের পরিবর্তে নতুন মুখ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। খুলনা-১ আসনে পঞ্চানন বিশ্বাসের বদলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ননী গোপাল মণ্ডল। খুলনা-৩ আসনে বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বদলে এস এম কামাল হোসেন এবং খুলনা-৬ আসনে মো. আক্তারুজ্জামানের পরিবর্তে মো রশীদুজ্জামান এবার নৌকার মাঝি। এদিকে সাতক্ষীরা চার আসনের মধ্যে ৩ আসনেই পরিবর্তন রয়েছে। সাতক্ষীরা-১ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে এস এম জগলুল হায়দারের কেউই পাননি নৌকার মনোনয়ন।

এমন পরিবর্তন রয়েছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খানের পরিবর্তে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীনের পরিবর্তে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। আর ঢাকা-১১ আসনে রহমতুল্লাহর পরিবর্তে নৌকার টিকিট পেয়েছেন ওয়াকিল উদ্দিন।

ঢাকা-৫ আসনে কাজী মনিরুল ইসলামকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। আসনটির বর্তমানে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। আর ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ১৪ দলের শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে এবার ঢাকা-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বড় ছেলে সোলায়মান সেলিমকে। আর ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হাসান খান নিখিল। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আগা খান।

এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেন ও ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে বাদ পড়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমীন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা মোশাররফ হোসেন। যদিও মোশাররফ হোসেন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আর চট্টগ্রাম-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও এ বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।

বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান। সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন, সিলেট-৫ আসনের হাফিজ আহম্মেদ মজুমদার ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়া সেন।

আওয়ামী লীগে নতুন যত মুখ

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বেশকিছু নতুন মুখের পাশাপাশি গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ত্রাণমন্ত্রী ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবারও মনোনয়ন পাননি।
মনোনয়ন তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অন্য যেকোনোবারের তুলনায় বেশি নতুন মুখ এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন পঞ্চগড়-১ নাইমুজ্জামান ভুইয়া, ঠাকুরগাঁও-২ মো. মাজহারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. ইমদাদুল হক, নীলফামারী-৩ মো. গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ জাকির হোসেন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ মো. মতিয়ার রহমান, রংপুর-১ রেজাউল করিম রাজু, রংপুর-৩ তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর-৫ রাশেক রহমান, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে, কুড়িগ্রাম-৪ বিপ্লব হাসান, গাইবান্ধা-১ আফরোজা বারী ও গাইবান্ধা-৪ থেকে আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া বগুড়া-২ তৌহিদুর রহমান মানিক, বগুড়া-৩ সিরাজুল ইসলাম খান, বগুড়া-৪ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বগুড়া-৫ মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া-৭ মো. মোস্তফা আলম, নওগাঁ-৩ সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নওগাঁ-৪ নাহিদ মোরশেদ, রাজশাহী-২ মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী-৩ আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-৪ আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সিরাজগঞ্জ-২ জান্নাত আরা হেনরী, সিরাজগঞ্জ-৪ শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ চয়ন ইসলাম, পাবনা-৪ গালিবুর রহমান শরীফ, মেহেরপুর-২ আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং ঝিনাইদহ-৩ সালাউদ্দিন মিরাজী এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্যদিকে, যশোর-২ তৌহিদুজ্জামান, যশোর-৪ এনামুল হক বাবু, মাগুরা-১ সাকিব আল হাসান, বাগেরহাট-৪ বদিউজ্জামাল সোহাগ, খুলনা-১ ননি গোপাল মন্ডল, খুলনা-৩ এসএম কামাল হোসেন, খুলনা-৬ মো. রশীদুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা-২ মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা-৪ এসএম আতাউল হক, বরগুনা-২ সুলতানা নাদিরা, বরিশাল-২ তালুকার মোহাম্মদ ইউনুস, বরিশাল-৩ খালেদ হোসাইন, বরিশাল-৪ ড. শাম্মী আহমদ, বরিশাল-৬ আব্দুল হাফিজ মল্লিক, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, পিরোজপুর-৩ মো. আশরাফুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ কামরুল হাসান খান, টাঙ্গাইল-৪ মো. মাজহারুল ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল-৫ মো. মামুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়, জামালপুর-১ নুর মোহাম্মদ, জামালপুর-৪ মাহবুবুর রহমান, জামালপুর-৫ আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর-৩ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ নিলুফা আনজুম, ময়মনসিংহ-৪ মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ আব্দুল হাই আকন্দ, ময়মনসিংহ-৮ আব্দুস সাত্তার, ময়মনসিংহ-৯ আব্দুস সালাম, নেত্রকোনা-১ মোস্তাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৫ আহমদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আব্দুর কাহার আকন্দ, কিশোরগঞ্জ-৩ মো. নাসিরুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ-১ মো. আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ ছাড়াও ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৫ হারুনুর রশিদ মুন্না, ঢাকা-৬ সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ সোলাইমান সেলিম, ঢাকা-৮ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা-১১ মো. ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, গাজীপুর-৩ রুমানা আলী, নরসিংদী-৩ ফজলে রাব্বী খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আব্দুল্লাহ আল কায়ছার, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-৩ শামীম হক, সুনামগঞ্জ-১ রনজিত চন্দ্র সরকার, সুনামগঞ্জ-২ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সুনামগঞ্জ-৪ মো. সাদিক, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৫ মাসুক উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

মৌলভীবাজার-২ শফিউল আলম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ মোহাম্মদ জিল্লর রহমান, হবিগঞ্জ-১ ডা. মো. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ ময়েজ উদ্দিন শরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ফয়জুর রহমান, কুমিল্লা-১ ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, কুমিল্লা-৮ আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন, চাঁদপুর-১ ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-৩ আবুল বাশার, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলী, চট্টগ্রাম-১ মাহবুব উর রহমান, চট্টগ্রাম-২ খাদিজাতুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৪ এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ মো. আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম-১২ মোতাহেরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-১ আসনে সালাউদ্দিন আহমেদ এবার নৌকার মাঝি হয়েছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন ৫৬ জন সংসদ সদস্য। তার আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও বাদ পড়েন ৪৯ জন সংসদ সদস্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা চতুর্থবারের মতো দলের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবার জনপ্রিয় নেতাদের হাতেই তুলে দেয়া হয় দলীয় প্রতীক নৌকা। এ লক্ষ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দফায় দফায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভিত্তিতে তিনশ আসনে জনপ্রিয় নেতারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে এবং সরকারকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। কোনো পক্ষ যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে নূরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করে বলেন, ‘যে দেশে হাদির খুনির আশ্রয় পেয়েছে, তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল করার চেষ্টা করছে।’ তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেছেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি।

সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সংশোধনের জন্য সব পক্ষের সঙ্গেই বসা হচ্ছে।’ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, খতিব ও পুরোহিতদের জন্য সরকার ভাতার ব্যবস্থা করেছে। বিএনপি তাদের মূল্যবোধ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনা এবং ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি উদ্যোগ—এই বিষয়গুলোতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।


সৈয়দপুরে জিয়া মঞ্চের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

জাতীয়তাবাদী জিয়া মঞ্চের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা উপজেলা পৌর জিয়া মঞ্চের আয়োজনে, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

পরে দলীয় কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, প্রধান বক্তা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আকতার, বিশেষ অতিথি সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন (পাপ্পু)। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শওকত চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ রশিদুল হক সরকার, বিএনপি নেতা শওকত হায়াত শাহ।

এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী।

জেলা জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব মো. আরমান হামিদ এর সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জিয়া মঞ্চের সহসাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান, পৌর সভাপতি হারুন রশীদ, সাধারণ সম্পাদক বাবু, সহসম্পাদক নওশাদ, উপজেলা সভাপতি জুয়েল, মিনি, আইয়ুশাহ, মাসুদ, হাড্ডানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

আলোচনা সভায় বক্তারা জিয়া মঞ্চের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক সফল তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’ পাশাপাশি সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জিয়া মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটে। চলতি বছর সংগঠনটি ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে।


জাপানের সঙ্গে উন্নয়ন সম্পর্ক জোরদারে প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি জাপানের রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপান দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জাপানের সহযোগিতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে জাপানের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সমাজ বিনির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

এসব খাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নাগরিকসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন নতুন ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী ও জাপানের রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব কোমিনে কেন, দ্বিতীয় সচিব সোমা হানা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সংকট সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও বিনিয়োগ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ আঞ্চলিক যোগাযোগের বহুপাক্ষিক উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

এ সময় মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব উদ্যোগ যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের, বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।

চীনকে বাংলাদেশের ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নে সহযোগিতার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

এ ছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় চীনের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।


জাইমার রহমানের জাতিসংঘে নিয়োগ যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে: মাহ্দী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিয়োগে বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের পি-৩ পর্যায়ের পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাইমা রহমান।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। এমনকি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তাঁর কোনো পদায়ন হয়নি। তাঁর দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ‘দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা’ নেই।

তিনি বলেন, জাইমা রহমান সরাসরি জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়মকানুন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ বিভাগ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলেও জানান তিনি।

জাতিসংঘের পেশাগত কাঠামোর বিভিন্ন গ্রেডের বিষয় তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, পি-১ পর্যায় নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২ পর্যায়ে সাধারণত ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় এবং পি-৩ পর্যায়ের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, জাইমা রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে পি-৩ পর্যায়ের দায়িত্ব সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাইমা রহমানের নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগ তুলে মাহ্দী আমিন বলেন, নিয়োগটি বাংলাদেশ সরকারের কোনো পদায়ন নয়। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়ন কিংবা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির যে সংস্কৃতি দেখা গেছে, জাইমা রহমান সে প্রক্রিয়ায় যাননি। তিনি সরকারি প্রতিনিধিদলেরও অংশ ছিলেন না বলে জানান মাহ্দী আমিন।

তিনি আরও বলেন, নিজস্ব পেশাগত সক্ষমতা ও যোগ্যতায় আন্তর্জাতিক পরিসরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিতর্কিত না করে পেশাগত অর্জন হিসেবে দেখা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল নিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলে সদস্য ছিলেন ৩৫ জন। এর বাইরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা ছিলেন।

মাহ্দী আমিন জানান, সফরের চার কর্মদিবসে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিসহ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোট ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান। সফরের পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে একটি দল ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে প্রযুক্তি, শিল্প ও একাডেমিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। তাঁর দাবি, তিনি আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তিনটিতে বক্তব্য দেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘ উইমেন লিডার্স প্ল্যাটফর্মে অংশ নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বিশ্ব নারী নেতৃত্বের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যদর্শন তুলে ধরেন। এছাড়া মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত একটি সাইড ইভেন্টে সমাপনী বক্তব্য দেন এবং মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর দাবি, সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বিশ্ব শান্তি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, বৈশ্বিক কূটনীতিতে সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফরে।


ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নেবে। যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেটে একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা আবারও সরকারের কাছে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির দাবি জানালেও, সরকার বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নেবে।’

এদিকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভাব যেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে না পড়ে, সেদিকে সরকারের নজর রয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিলেট সদর উপজেলার সুরমা নদীর ডানতীরের কানিশাইলে নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী দুই দেশের মানুষ: ভারতীয় হাইকমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৯

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, সফরটি নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার কারণেই এ নিয়ে এত আলোচনা ও সংবাদ হচ্ছে। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিবেশ ইতিবাচক এবং সুবিধাজনক সময়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসবেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফরের তারিখ বা মাস নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সফর হবে। এ নিয়ে তাড়াহুড়োরও প্রয়োজন নেই। সফরের আগে যথাযথ প্রস্তুতি প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দুই দেশের নেতারা যখন বৈঠকে বসবেন, তখন এমন কোনো বিষয় নেই যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। যথাযথ আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশকে ইতিবাচক উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে বৈঠক করবেন। দুই নেতা কোনো এক সময়ে বৈঠকে বসবেন—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই নেতার চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ মানুষ এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার ফল সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক হবে বলে তিনি আশা করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী জানান, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। দুই নেতার অবস্থান ও চিন্তাভাবনায় মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন অধ্যায় শুরুর বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে তিনি নিজেকে ‘১০০ অ্যান্ড ১০০ শতাংশ’ আশাবাদী বলে জানান।

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমদ আযম খান। তিনি বলেন, দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখানে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা তাঁর মুখপাত্র জানাবেন। তাঁর ভাষায়, ‘শুধুমাত্রই আমাদের একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল আজকে।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান ঘিরে আগের পরিকল্পনার পরিবর্তে ফোয়ারা নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে আহমদ আযম খান বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের স্থানকে ঘিরে সেখানে ফোয়ারা নির্মাণের বিষয়ে তাঁদের কোনো আলোচনা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেখানে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার স্বাধীনতা স্তম্ভের মূল চেতনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিয়ে ভাবছে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাধীনতা স্তম্ভের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার বিষয়ে তাঁরা কাজ করবেন। মূল নকশা অপরিবর্তিত থাকবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো কাজ শুরু হয়নি। স্বাধীনতা স্তম্ভ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ রয়েছে। এটি সম্পন্ন করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে চিন্তা করছে। ভবিষ্যতে নকশা অপরিবর্তিত থাকবে নাকি পরিবর্তন হবে, তা স্পষ্ট হবে।


লাল কালির চিরকুটে বিএনপির চার নেতাকে হত্যার হুমকি

জয়পুরহাটে বিএনপির চার নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়ে লাল কালির চিরকুট। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় উড়ো চিরকুট পাঠিয়ে রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির চারজন নেতা হত্যার হুমকির খবর পাওয়া গেছে। চিরকুটে চার নেতার নামের নিচে লাল কালিতে লেখা রয়েছে হত্যা করা হবে, সময় ১৫ দিন। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রায়কালী বাজারে দলীয় কার্যালয় পরিষ্কার করার সময় একটি খামের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় চিরকুটটি পাওয়া যায়।

জানা যায়, সন্ধ্যায় রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন দলীয় কর্মী মোজাম্মেল হক মোজাম। তিনি একটি খাম দেখতে পান। খাম খুলে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট পাওয়া যায়।

চিরকুটে রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম.ইউ. আহমেদ মোশারফ, ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হেলাল হোসেন এবং কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, চিরকুটে আমারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। লাল কালি ব্যবহারের বিষয়টিও আমাদের কাছে উদ্বেগের। ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে, তা দ্রুত তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে কেউ ক্ষুব্ধ বা ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.ইউ. আহমেদ মোশারফ বলেন, এ ধরনের হুমকির ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান বুলু বলেন, ‘কার্যালয় পরিষ্কার করার সময় মোজাম্মেল হক চিরকুটটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি আমাদের জানানো হয়। পুলিশ এসে চিরকুটটি নিয়ে গেছে। এটি সত্যিকারের হুমকি, নাকি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয় দেখাতে এমন চিরকুট রেখেছে তদন্তে সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।

আক্কেলপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, ‘রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিরকুটটি জব্দ করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


জামায়াত আমিরের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিদায়ী সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে দলের আমীর ও নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরিতে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে ইয়াও ওয়েন ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন বলে তারা উল্লেখ করেন। এ ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউয়িন, কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং, অ্যাটাচে লিয়াং শুয়িং এবং পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যাটাচে ওয়াং ডাউয়েই উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।


সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে গর্ব করে: চরমোনাই পীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম খেলোয়াড়দের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে ‘অসুন্দর পরিবেশ’ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর।

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে অসুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।’ এ নিয়ে সাদিক কায়েম গর্ব করে দেশের ইতিহাসে প্রথম এমন আয়োজনের কথা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কত কায়দা! এই কায়দা কতদিন চলবে? এটা পরিবর্তনের জন্য আপনাদের ভেতরে ব্যথা আসে না? জজবা আসে না?’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পার হয়ে গেছে। স্বাধীনতার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। তবে এখনো মানুষ প্রকৃত মুক্তি পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, একই নীতিতে দেশ পরিচালিত হতে থাকলে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী ও শতবর্ষও উদযাপন করা হতে পারে। কিন্তু তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম ও খুনসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনাচার দিন দিন বাড়ছে। এসব সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, জনগণ বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেখেছে। কিন্তু প্রচলিত নীতির মাধ্যমে কোনো দলই রাষ্ট্র ও সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি।

নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা ইশতেহারের কথা পরে ভুলে গিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।

সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মী এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নৌযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং যাত্রী হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব নির্দেশনা দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সদরঘাটসহ দেশের সব যাত্রীবাহী নৌযানে নির্ধারিত ভাড়ার ডিজিটাল তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেন তিনি। এতে যাত্রীরা সহজেই প্রকৃত ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তি ও হয়রানির শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। কোনো যাত্রী যেন হয়রানি, ভোগান্তি বা অপ্রয়োজনীয় বিড়ম্বনার শিকার না হন, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নৌযান শ্রমিকদের দায়িত্বশীল ও সৌজন্যমূলক আচরণ করার নির্দেশও দেন তিনি।

সদরঘাট টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী টার্মিনালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, লঞ্চ চলাচল, ভাড়া আদায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি লঞ্চে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে টার্মিনালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন নৌ প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং টার্মিনালের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের টার্মিনাল ও নৌযানগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে হবে। ভাড়া আদায় থেকে শুরু করে নৌযানের চলাচল ও টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই নিয়মকানুন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।


বৃহস্পতিবার ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিনব্যাপী ফেনী সফরে যাচ্ছেন। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, এ সফরে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে।

প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করার কথা রয়েছে।

দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

এরপর দুপুর ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরে ডাকবাংলোয় দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করার কথা রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ১ অক্টোবর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠ থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৫টায় সড়কপথে ফেনী ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনসভাস্থল প্রস্তুত করা হচ্ছে। মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থার কাজ চলছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হচ্ছে।

সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। একইভাবে পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশেও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ চলছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ফুলগাজী ও পরশুরামের দুটি অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতির খোঁজ নেন।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের কথা ছিল। পরে সফরটি স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।


ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, রয়ে গেছে তার চরিত্র: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিবাদের নেতৃত্বের পতন হলেও তাদের চরিত্র ধারণকারী অনেকেই এখনো বাংলাদেশে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের ঝটিকা মিছিল, পটকা ও বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তবে কোনো অবস্থাতেই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।’

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এর আগে তার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের নেতৃত্ব চলে গেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের চরিত্র বহনকারী অনেক লোকই বাংলাদেশে বসবাস করছে। আমরা হঠাৎ মাঝেমধ্যে তার কিছু কিছু আলামত দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনজীবন অস্থিতিশীল করা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোথাও কোথাও ভোরবেলায় ঝটিকা মিছিল, পটকা ও বোমা ফাটানোর মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।’

বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সজাগ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই দেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘যারা গোপনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও নাশকতায় জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’


banner close