আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ বাদে সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। বাকি দুটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে।
ঘোষিত আসনে বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন মুখসহ দলের বেশ কিছু সাবেক এমপি ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে অন্তত ৭০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ বর্তমান সংসদের ৭২ জন সদস্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে যোগ হয়েছেন নতুন বেশ কিছু মুখ।
তিন প্রতিমন্ত্রী হলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।
খুলনা-৩ আসনে মন্নুজান সুফিয়ানের পরিবর্তে এস এম কামাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে কে এম খালিদের পরিবর্তে আবদুল হাই আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাকির হোসেনের পরিবর্তে বিপ্লব হাসানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনজন ছাড়া সবাই মনোনয়ন পেয়েছেন।
মনোনয়নের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্য যেকোনোবারের তুলনায় এবার বেশি নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নতুনদের মধ্যে পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, তারকা ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র অভিনেতা, স্বনামধন্য কিছু পেশাজীবীও রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে, একাদশ জাতীয় সংসদে থাকা যশোর-২ আসনের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের সাইফুজ্জামান শিখর, ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিম ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মনোনয়ন পাননি। এ ছাড়া বাদ পড়েছেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
পঞ্চগড়-১ মাজহারুল হক প্রধানের বদলে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন মো. নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া। দবিরুল ইসলামের বদলে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মাজহারুল ইসলাম। রংপুর-৫ আসনে এইচ এন আশিকুর রহমানের পরিবর্তে রাশেক রহমান। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে এম এ মতিনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে। এদিকে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. বিপ্লব হাসান। গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোয়ার হোসেনের বদলে আবুল কালাম আজাদ।
বগুড়া-৫ আসনে মো. হাবিবর রহমানের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান মজনু। নওগাঁ-৩ আসনে মো. ছলিম উদ্দীন তরফদারের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। নওগাঁ-৪ আসনে মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রাং-এর বদলি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মো. নাহিদ মোর্শেদকে। মো. আয়েন উদ্দিনের বদলে রাজশাহী-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগের বাছাই মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী-৪ আসনে এনামুল হকের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। পরিবর্তন আছে রাজশাহী-৫ আসনেও। মনোনয়ন পাননি বর্তমান এমপি মো. মনসুর রহমান। মো. হাবিবে মিল্লাতের বদলে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মাঝি এবার মোছা. জান্নাত আরা হেনরী। পরিবর্তন আছে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনেও। তানভীর ইমামের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও মেরিনা জাহানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন চয়ন ইসলাম। পাবনার একমাত্র পরিবর্তন ৪ নম্বর আসনে। মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।
মেহেরপুর-২ আসনে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো. শফিকুল আজম খাঁনের বদলে নৌকার মাঝি মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী। যশোর-২ মো. নাসির উদ্দিনের পরিবর্তে মো তৌহিদুজ্জামান এবং যশোর-৪ আসনে রনজিত কুমার রায়ের বদলে এনামুল হক বাবলা নৌকার মাঝি। বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিরুল আলম মিলনের পরিবর্তে নতুন মুখ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। খুলনা-১ আসনে পঞ্চানন বিশ্বাসের বদলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ননী গোপাল মণ্ডল। খুলনা-৩ আসনে বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বদলে এস এম কামাল হোসেন এবং খুলনা-৬ আসনে মো. আক্তারুজ্জামানের পরিবর্তে মো রশীদুজ্জামান এবার নৌকার মাঝি। এদিকে সাতক্ষীরা চার আসনের মধ্যে ৩ আসনেই পরিবর্তন রয়েছে। সাতক্ষীরা-১ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে এস এম জগলুল হায়দারের কেউই পাননি নৌকার মনোনয়ন।
এমন পরিবর্তন রয়েছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খানের পরিবর্তে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীনের পরিবর্তে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। আর ঢাকা-১১ আসনে রহমতুল্লাহর পরিবর্তে নৌকার টিকিট পেয়েছেন ওয়াকিল উদ্দিন।
ঢাকা-৫ আসনে কাজী মনিরুল ইসলামকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। আসনটির বর্তমানে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। আর ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ১৪ দলের শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে এবার ঢাকা-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বড় ছেলে সোলায়মান সেলিমকে। আর ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হাসান খান নিখিল। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আগা খান।
এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেন ও ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে বাদ পড়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমীন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা মোশাররফ হোসেন। যদিও মোশাররফ হোসেন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আর চট্টগ্রাম-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও এ বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।
বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান। সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন, সিলেট-৫ আসনের হাফিজ আহম্মেদ মজুমদার ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়া সেন।
আওয়ামী লীগে নতুন যত মুখ
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বেশকিছু নতুন মুখের পাশাপাশি গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ত্রাণমন্ত্রী ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবারও মনোনয়ন পাননি।
মনোনয়ন তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অন্য যেকোনোবারের তুলনায় বেশি নতুন মুখ এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন পঞ্চগড়-১ নাইমুজ্জামান ভুইয়া, ঠাকুরগাঁও-২ মো. মাজহারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. ইমদাদুল হক, নীলফামারী-৩ মো. গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ জাকির হোসেন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ মো. মতিয়ার রহমান, রংপুর-১ রেজাউল করিম রাজু, রংপুর-৩ তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর-৫ রাশেক রহমান, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে, কুড়িগ্রাম-৪ বিপ্লব হাসান, গাইবান্ধা-১ আফরোজা বারী ও গাইবান্ধা-৪ থেকে আবুল কালাম আজাদ।
এ ছাড়া বগুড়া-২ তৌহিদুর রহমান মানিক, বগুড়া-৩ সিরাজুল ইসলাম খান, বগুড়া-৪ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বগুড়া-৫ মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া-৭ মো. মোস্তফা আলম, নওগাঁ-৩ সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নওগাঁ-৪ নাহিদ মোরশেদ, রাজশাহী-২ মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী-৩ আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-৪ আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সিরাজগঞ্জ-২ জান্নাত আরা হেনরী, সিরাজগঞ্জ-৪ শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ চয়ন ইসলাম, পাবনা-৪ গালিবুর রহমান শরীফ, মেহেরপুর-২ আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং ঝিনাইদহ-৩ সালাউদ্দিন মিরাজী এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।
অন্যদিকে, যশোর-২ তৌহিদুজ্জামান, যশোর-৪ এনামুল হক বাবু, মাগুরা-১ সাকিব আল হাসান, বাগেরহাট-৪ বদিউজ্জামাল সোহাগ, খুলনা-১ ননি গোপাল মন্ডল, খুলনা-৩ এসএম কামাল হোসেন, খুলনা-৬ মো. রশীদুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা-২ মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা-৪ এসএম আতাউল হক, বরগুনা-২ সুলতানা নাদিরা, বরিশাল-২ তালুকার মোহাম্মদ ইউনুস, বরিশাল-৩ খালেদ হোসাইন, বরিশাল-৪ ড. শাম্মী আহমদ, বরিশাল-৬ আব্দুল হাফিজ মল্লিক, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, পিরোজপুর-৩ মো. আশরাফুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ কামরুল হাসান খান, টাঙ্গাইল-৪ মো. মাজহারুল ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল-৫ মো. মামুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়, জামালপুর-১ নুর মোহাম্মদ, জামালপুর-৪ মাহবুবুর রহমান, জামালপুর-৫ আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর-৩ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ নিলুফা আনজুম, ময়মনসিংহ-৪ মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ আব্দুল হাই আকন্দ, ময়মনসিংহ-৮ আব্দুস সাত্তার, ময়মনসিংহ-৯ আব্দুস সালাম, নেত্রকোনা-১ মোস্তাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৫ আহমদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আব্দুর কাহার আকন্দ, কিশোরগঞ্জ-৩ মো. নাসিরুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ-১ মো. আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।
এ ছাড়াও ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৫ হারুনুর রশিদ মুন্না, ঢাকা-৬ সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ সোলাইমান সেলিম, ঢাকা-৮ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা-১১ মো. ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, গাজীপুর-৩ রুমানা আলী, নরসিংদী-৩ ফজলে রাব্বী খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আব্দুল্লাহ আল কায়ছার, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-৩ শামীম হক, সুনামগঞ্জ-১ রনজিত চন্দ্র সরকার, সুনামগঞ্জ-২ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সুনামগঞ্জ-৪ মো. সাদিক, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৫ মাসুক উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-২ শফিউল আলম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ মোহাম্মদ জিল্লর রহমান, হবিগঞ্জ-১ ডা. মো. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ ময়েজ উদ্দিন শরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ফয়জুর রহমান, কুমিল্লা-১ ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, কুমিল্লা-৮ আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন, চাঁদপুর-১ ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-৩ আবুল বাশার, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলী, চট্টগ্রাম-১ মাহবুব উর রহমান, চট্টগ্রাম-২ খাদিজাতুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৪ এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ মো. আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম-১২ মোতাহেরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-১ আসনে সালাউদ্দিন আহমেদ এবার নৌকার মাঝি হয়েছেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন ৫৬ জন সংসদ সদস্য। তার আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও বাদ পড়েন ৪৯ জন সংসদ সদস্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা চতুর্থবারের মতো দলের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবার জনপ্রিয় নেতাদের হাতেই তুলে দেয়া হয় দলীয় প্রতীক নৌকা। এ লক্ষ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দফায় দফায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভিত্তিতে তিনশ আসনে জনপ্রিয় নেতারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন।
বিরোধীদলগুলো ফ্যাসিস্টদের বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীতে বিএনপির ৩টি বৃহত্তম সংগঠন– যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যেই দল গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, মানুষের অধিকার হত্যা করেছে, তাদের বর্বরতা সবকিছুকেই হার মানায়। এই তরুণদের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
জামায়াত–এনসিপিকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের বাস-ট্রেনে আগুন দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বিরোধীদল। যারা বাস ট্রেনে আগুন দেবে তাদের বিরোধিতা করছে বিএনপি। এই পরাজিত শক্তিদের আপনারা আশকারা দেবেন না।’
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমামদের ভাতা, বৃক্ষরোপণ, খাল খননের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিএনপি সরকার দেশ ও জনগণের জন্য অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনারা সরকারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, গালিগালাজ করছেন, লংমার্চ করছেন।’
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাংচুর এবং বিভিন্ন জায়গায় বাস–ট্রেনে আগুনের উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির জন্য তো আবু সাঈদ এবং মুগ্ধরা জুলাইয়ে জীবন দেয়নি।’
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আমির বলছেন, রাষ্ট্রপতি–এমপি–মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধির বিরোধীতা করবে। কিন্তু সরকার তো বেতন বৃদ্ধি করে নাই, আগে থেকেই এসব বলে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মাত্র ৩৫ জন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়েছে। এর আগে ১০০ থেকে ২০০ জন নিয়ে যাওয়ার প্রথা ছিল।’
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেই মানবিক বক্তব্য দিয়েছেন তা সারা বিশ্বের শান্তিপূর্ণ মানুষের ও গনতন্ত্রকামী মানুষের। এমন সরকার কখনো সহিংসতার রাজনীতি করতে পারে না।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম দেশথেকে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় যুব কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এসময় রেজাউল করীম বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। দেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পৌঁছাতে হবে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রমাণ হয়েছে, ইসলামের লেবেল লাগিয়ে যে দলটি মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে না, তার নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামী যুব আন্দোলনকে দেশের আদর্শিক যুবকদের অনুপ্রেরণার সংগঠন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের সহকারী সেক্রেটারি বুলবুল হত্যার বিচারসহ সব হত্যাকাণ্ড, খুন, গুম ও ধর্ষণ রুখতে যুব আন্দোলনকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান রেজাউল করীম। একই সঙ্গে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কনভেনশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ২০২৫-২৬ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত করে ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মুফতি মানসুর আহমদ সাকীকে সভাপতি, আ হ ম আলাউদ্দীন ও বায়েজিদ হোসাইনকে সহ-সভাপতি এবং মুফতি রহমাতুল্লাহ বিন হাবিবকে সেক্রেটারি জেনারেল করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, আদর্শবান যুবকরাই সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। যুব আন্দোলনের কর্মীদের আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রুহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বিত প্রয়াসে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।
বিএনপি সরকারকে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে তারা বাধ্য হবেন।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, একটি দেশের টিকে থাকা ও অগ্রগতি অনেকাংশে যুবশক্তির ওপর নির্ভরশীল। ইসলামী যুব আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক শক্তি নয়, নৈতিকতায় সমৃদ্ধ আদর্শিক নাগরিক তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে এক কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের কথা বললেও বর্তমানে যুবশক্তিকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনেরও দাবি জানান তিনি।
সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, ইসলামের নামে ধোঁকাবাজি করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, ইসলামী রাজনীতির আদর্শ নিয়ে দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। ইসলামের বিজয় ছাড়া মানবতার মুক্তি সম্ভব নয়।
ইসলামী যুব আন্দোলনের বিদায়ী সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী যুব আন্দোলনের কর্মীরা ভূমিকা রেখেছেন। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সংগঠনের প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইসলাম, দেশ ও মানবতাকে ধারণ করে সব সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না, তাদের কোনো সমাজ হবে না উল্লেখ করে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলে জিএস পদে নির্বাচন করা শেখ তানভীর বারী হামিম বলেছেন, ছাত্রলীগের কোনো সামাজিকতা হবে না। কারণ ওরা এ দেশের শত্রু।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন হামিম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক।
ফেসবুক পোস্টে হামিম লিখেছেন, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের সমাজ হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো সামাজিকতা হবে না। কারণ ওরা এ দেশের শত্রু।
ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আনাসের রক্ত, ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আবরার ফাহাদের রক্ত। বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগের প্রতি একমাত্র প্রেম থাকবে যারা বিকৃত মনস্তাত্বিকতার অধিকারী তাদের। তবে কোনো দেশপ্রেমিক মেধাবী মানুষ যেন হেনস্তা না হয়।
ছাত্র শিবিরকে ছাত্রলীগের আশ্রয়স্থল দাবি করে হামিম বলেন, সাবেক ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকেন্দ্র ছাত্রশক্তি ও সাবেক ছাত্রলীগের আশ্রয়স্থল ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বলব- দেশপ্রেমিকতার পরিচয় দিন, জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।
অতীতে ৭১ এ মাফ পেয়েছেন; জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের অংশ হয়ে দুর্নীতি করেও মাফ পেয়েছেন। এবার কিন্তু আর মাফ হবে না।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে বারবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চলমান সংকট নিরসনে বিরোধী দল তাদের নিজ খরচে এক্সাপার্ট নিয়োগ করে সেই এক্সপার্টের পরামর্শ ও মতামত সরকারের কাছে প্রস্তাব আকারে পৌঁছে দিয়েছে। তবে সরকার বিরোধী দলের সেই প্রস্তাব নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি। তিনি বলেছেন, জামায়াতসহ বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়, কিন্তু সরকার শুধু বিরোধীতার স্বার্থেই বিরোধী দলের বিরোধীতা করছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহে সাংগঠনিক সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদের বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারকে সহযোগিতা করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা বিরোধী দলে বসার পরে এ পর্যন্ত সরকারকে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় অন্তত ৩৮টি প্রস্তাবনা দিয়েছি। সরকারকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্যই ওই প্রস্তাবনাগুলো দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার জামায়াতসহ বিরোধীদলের কোনো প্রস্তাবনা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা হাস্যকর।
এর আগে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ- ২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, কুষ্টিয়া- ৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের পুরোনো প্রেম আবার জেগে উঠেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তাই বিএনপি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে চাইবে, এমনটি হওয়ার কথা নয়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের নতুন হাটখোলা মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সকালে ঝিনাইদহ সফরে এসে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত যে অযৌক্তিক লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে, সরকার তাতে কোনো বাধা দিচ্ছে না।
জামায়াতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লোকজনকে প্রটেকশন দিয়ে চাঁদাবাজির সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়ে থাকলে তা জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষেই হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সাধারণ মানুষ মনে করে না, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জনগণের প্রকৃত ভোটে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অন্যায়-অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি ঝিনাইদহের একটি সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীরও একই ভাষায় কথা বলছেন। এমনকি ছাত্রলীগ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের বক্তব্যের মধ্যেও এখন কোনো পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুটি দলের অপতৎপরতা সামাল দিয়েই সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাই জামায়াতে ইসলামীকে দেশ অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতা বন্ধ করে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কোনো অপশক্তির ঠাঁই হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট ও বৈধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। মধ্যরাতের কোনো নির্বাচনে নয়।’
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো আধিপত্যবাদী চক্রান্ত রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি কঠিন বেরিকেড তৈরি করবে।’
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে বলিষ্ঠ বক্তব্য তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথা প্রতিধ্বনিত করেছেন তারেক রহমান।’
দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের তাগিদে ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তৎকালীন নির্বাচনের ফলাফল পরিকল্পিতভাবে ম্যানিপুলেট করা হয়েছিল। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহে আয়োজিত খুলনা বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর এক সাংগঠনিক কর্মসূচি শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, দেশ ও জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ এবং ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতেই জামায়াত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে নির্বাচনের ফল জালিয়াতি ও ম্যানিপুলেট করা হয়েছিল। সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ তোলেন, বর্তমান প্রশাসন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ থেকে বহুলাংশে দূরে সরে গেছে।
সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু সরকার এটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিচ্ছে।’ তিনি সরকারের এই নেতিবাচক মানসিকতা পরিহারের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্যসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড মজবুত নয়, দুর্বল বলে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই চেয়েছিলাম। এটা হলো কমিশনারদের সিলি আনসার। মুখ বাঁচানোর জন্য উনারা বলেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ইসির যিনি চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্য যারা আছেন, তাদের বাড়ি বাংলাদেশে না। তাদের বাড়ি দুনিয়ার অন্য কোনো দেশে, যার কারণে বাংলাদেশের কোনো খোঁজখবর রাখেন না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন (উনারা) আগে জানতেন না ডিসেম্বরে কিংবা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা বিভিন্ন লেভেলে থাকে এবং এটা সারা বছর চলতে থাকে।
ভারত তথা জাতিসংঘ উদ্যোগী হলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। মুক্তি পেতে একমাত্র সমাধান নিজ দেশে সসম্মানে ফিরে যাওয়া, কিন্তু এই অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। এই ইস্যুতে বাংলাদেশ কিছুই করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে আলাপকালে তাদেরকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। চীন, ভারত তথা জাতিসংঘ উদ্যোগী হলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান সম্ভব।
রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্ঠী অনাদর, অবহেলা অশিক্ষায় বেড়ে উঠছে; যা আগামীর জন্য এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বলেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন ও মতামত শুনেন এবং সেগুলোর উত্তর দেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে ডা.শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দ্রব্যমূল্যই কেবল নয়, যাতায়াত খরচও বেড়েছে৷ বিরোধী দল রাজপথে সমাধান চায়নি, সংসদে চেয়েছিল। ৬৮ বিধিতে নোটিশ দিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এক্সপার্ট টেকনিক্যাল টিম দিতে চাইলেও সরকার গ্রহণ করেনি।
দেশের শান্তি ও গণতন্ত্র সুসংহত রাখতে সরকারকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, সরকারের যেন দায়িত্বশীল বক্তব্য দেন। তার মতে, সরকারি দল যদি নিজেই আইনশৃঙ্খলার ভায়োলেন্স করলে কিছু বলার থাকে না।
মিডিয়ার ওপর 'ওপরের' চাপ আছে, এটা সবাই বুঝে 'ওপরের' চাপ কী। কিন্তু বলে না। গণমাধ্যম ভয়ের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে বলেন তিনি।
সারাদেশে হামে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি দুঃখজনক জানিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশে নানা সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সংসদে নেই। জেলা সদরের মতো নাকি উপজেলায় সদরেও আইসিইউ দিয়ে দিবে, এগুলো অবাস্তব কথা। সবকিছুতে লুকোচুরির মানসিকতা বিদ্যমান। হামের টিকা নিয়ে তেলেসমাতি করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী এখন ‘জামায়াত লীগ’ হয়ে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াত ভূমিকা রাখছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে দলটি অবস্থান নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহের শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত অতীতে কখনো প্রধান বিরোধী দল ছিল না। একসময় দলটি বিএনপির সঙ্গে জোট করেছিল এবং মন্ত্রিসভায়ও অংশ নিয়েছিল। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও জামায়াত অংশ নিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। তার দাবি, জামায়াতের আমির আওয়ামী লীগের সমালোচনার পরিবর্তে বিএনপির সমালোচনা করছেন। বিএনপিকে ‘নব্য ফ্যাসিস্ট’, ‘জুলাইবিরোধী’ এবং ক্ষমতায় গেলে ‘আরেকটি আওয়ামী লীগ’ হয়ে যাবে—এ ধরনের বক্তব্য জামায়াতের আমির দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের যে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল, জামায়াতের আমিরের ভূমিকার কারণে সেটি তিক্ততার দিকে গেছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দলের মধ্যে আগে জোটগত সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তাদের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি দলটির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াতের ‘ছায়া প্রধানমন্ত্রী’ ও ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।
রাশেদ খাঁন বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাজে সহযোগিতা করাই ছায়া মন্ত্রিসভার দায়িত্ব হওয়া উচিত। কিন্তু রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই সময়ে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারকে সহযোগিতা না করে বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, জামায়াত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে এটি রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিযোগ; বক্তব্যের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াতের সাম্প্রতিক লংমার্চেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ করছে এবং এর মাধ্যমে সরকার পতনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তার দাবি, জামায়াতের ডাকে সাধারণ মানুষ আর রাজপথে নামবে না। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে জামায়াত চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা জামায়াতের ইন্ধনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরলে জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে একই অনুষ্ঠানে রাশেদ খাঁন বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে এমন সুযোগ আর নাও আসতে পারে। তার দাবি, সরকার ইতোমধ্যে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিরুদ্ধে ‘একাত্তরের ঘাতক’ ও ‘চব্বিশের পরাজিত শক্তি’ এক হয়েছে। জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। রাশেদ খাঁন সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, তিনি কখনো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করেননি। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন ও একে অপরকে দূরে রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, একদিন তিনি একটি খাবারের টেবিলে গিয়ে দেখেন সেখানে বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন আইনজীবী বসে আছেন। তিনি তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে একই টেবিলে বসেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগের আরও দুজন আইনজীবী সেখানে আসেন। তখন টেবিলে থাকা কয়েকজন তাকে দেখিয়ে আওয়ামী লীগের ওই আইনজীবীদের বলেন, ‘ওই যে একজন আছেন, উনি থাকলে তো এখানে বসা যাবে না—জামায়াত।’
তার ভাষ্য, ওই ঘটনায় তাকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ধরে নেওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি কখনো জামায়াত করিনি।’
তাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে একে অপরের সঙ্গে বসা, কথা বলা বা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে যে ধরনের ট্যাবু তৈরি হয়েছে, তা থেকে রাজনৈতিক দল ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, প্রগতিশীলতার কথা বললেও অনেকের মধ্যে অন্য রাজনৈতিক দলের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা নিয়ে এক ধরনের সংকীর্ণতা রয়েছে। এ ধরনের মানসিকতা রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেই একজন মানুষের সঙ্গে অন্যজনের স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক থাকবে না—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
বক্তব্যে মসজিদে নারীদের প্রবেশ ও ইবাদতের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়ে নারীরা মসজিদে যেতেন, সেখানে কথা বলতেন, প্রশ্ন করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে অংশ নিতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মসজিদে নববীর ঐতিহাসিক চর্চার কথা উল্লেখ করেন।
তাজুল ইসলাম প্রশ্ন তুলে বলেন, বাংলাদেশের কতটি মসজিদে নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক মসজিদের প্রবেশপথে ‘নারীদের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নারীদের জন্য মসজিদে ইবাদতের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তার মতে, প্রতিটি মসজিদে নারীদের নামাজের স্থান, বাথরুম ও ওজুর ব্যবস্থা থাকা উচিত।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ ইবাদতের ব্যবস্থা করা হলে তারা মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়সহ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বক্তব্যে তাজুল ইসলাম মূলত রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সামাজিক বিভাজন কমানো এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে তার মত তুলে ধরেন।
পরাজিত শক্তি বেআইনি ও সন্ত্রাসী পন্থায় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসনের গভীর ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পতন হওয়া স্বৈরাচারী শক্তি এখন বাসে আগুন, ট্রেন ও বাড়িঘরে হামলা এবং বিস্ফোরণের চক্রান্তের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করতে চায়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে রিজভী প্রকাশ করেন যে, কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। একটি বিদেশি ফোন নম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বোমার ডিভাইসের ছবি পাঠাতে বলা হচ্ছে এবং বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার লোভ দেখানো হচ্ছে।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ বছর ধরে যারা অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে চলেছে, সেই একই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে অর্থ দিয়ে অপকর্ম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে ফাসিবাদকে আবার ফিরিয়ে আনা যায়।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের নিপীড়ন, রক্তের স্রোত এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ইতিহাস দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায় শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে, তাই তাকে কোনোভাবেই পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না। পার্শ্ববর্তী দেশ তাকে ফিরিয়ে দিতে না চাইলেও, ভবিষ্যতে তাকে আদালতের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং সাজা ভোগ করতে হবে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ‘মিডনাইট’ বা রাতের আঁধারের চক্রান্তের সরকার নয়; বরং এটি গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের আস্থার সরকার। এ সরকার গণতন্ত্রের নীতি অনুযায়ী বিরোধী মত প্রকাশ ও সমালোচনাকে বাধা প্রদান করছে না। ফলে দেশে নৈরাজ্য বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে কোনো লাভ হবে না এবং চক্রান্তকারীদের সব অশুভ পরিকল্পনা জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, বিভিন্ন পক্ষ সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বেহেস্তের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা বলছে ডিসেম্বরে নাকি তাদের রানীমা দেশে আসবে। আর রাজাকাররা বলছে ডিসেম্বরে আমাদের পতন ঘটাবে।’ এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারবিরোধী বিভিন্ন পক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করেন। তার ভাষ্য, বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
সরকারের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সততা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সরকারের গতিপথ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দেশের জ্বালানি সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে পরনির্ভরশীল রাখার উদ্দেশ্যে নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন করেনি।
বকুল বলেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত বঙ্গোপসাগরে গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতের ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আগামী মাস থেকে ব্যাপক হারে পরিবার পরিকল্পনার পিলসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ শুরু করা হবে।
স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করতে নতুন ওষুধ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। মায়েদের অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসবের দিকে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন দালালের খপ্পরে পড়ে সিজারের দিকে না যান।
হামের টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় শুরুর কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগামী শনিবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি যেসব শিশু এখনো টিকা নেয়নি, তাদের টিকা দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে সকালে উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের কাটাবাড়িয়ায় পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন তিনি।
রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হলে দেশ আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, একাত্তরের ঘাতক এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি আজ একাট্টা হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে ভবিষ্যতে জামায়াত নেতাদেরই আবারও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, সরকার যখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল ধারায় আলোকপাত করছে, ঠিক তখনই একটি মহল পতিত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার হুমকির মধ্যে স্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার বদলে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের যৌক্তিক সংস্কারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি জ্বালানি সংকটের মতো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ইস্যুকে পুঁজি করে তারা লংমার্চের নামে রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
জামায়াত নেতৃত্বের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাশেদ খান বলেন, নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার যে মনোভাব জামায়াত দেখাচ্ছে, তা আত্মঘাতী। তাদের এই ইন্ধনেই নিষিদ্ধঘোষিত ও গণধিকৃত ছাত্রলীগ-যুবলীগ রাজপথে মিছিল করার দুঃসাহস পাচ্ছে। জামায়াত নেতাদের মনে রাখা উচিত যে আওয়ামী লীগকে তারা ফেরাতে চাচ্ছে, সেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে আবারও তাদের নেতাদের ফাঁসি দেবে। সুতরাং এই দেউলিয়া রাজনীতি বন্ধ করে জামায়াত নেতাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে সকালে শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খান। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।