শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

৭২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন

আপডেটেড
২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ বাদে সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। বাকি দুটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে।

ঘোষিত আসনে বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন মুখসহ দলের বেশ কিছু সাবেক এমপি ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে অন্তত ৭০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ বর্তমান সংসদের ৭২ জন সদস্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে যোগ হয়েছেন নতুন বেশ কিছু মুখ।

তিন প্রতিমন্ত্রী হলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

খুলনা-৩ আসনে মন্নুজান সুফিয়ানের পরিবর্তে এস এম কামাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে কে এম খালিদের পরিবর্তে আবদুল হাই আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাকির হোসেনের পরিবর্তে বিপ্লব হাসানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনজন ছাড়া সবাই মনোনয়ন পেয়েছেন।

মনোনয়নের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্য যেকোনোবারের তুলনায় এবার বেশি নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নতুনদের মধ্যে পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, তারকা ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র অভিনেতা, স্বনামধন্য কিছু পেশাজীবীও রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে, একাদশ জাতীয় সংসদে থাকা যশোর-২ আসনের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের সাইফুজ্জামান শিখর, ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিম ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মনোনয়ন পাননি। এ ছাড়া বাদ পড়েছেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

পঞ্চগড়-১ মাজহারুল হক প্রধানের বদলে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন মো. নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া। দবিরুল ইসলামের বদলে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মাজহারুল ইসলাম। রংপুর-৫ আসনে এইচ এন আশিকুর রহমানের পরিবর্তে রাশেক রহমান। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে এম এ মতিনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে। এদিকে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. বিপ্লব হাসান। গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোয়ার হোসেনের বদলে আবুল কালাম আজাদ।

বগুড়া-৫ আসনে মো. হাবিবর রহমানের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান মজনু। নওগাঁ-৩ আসনে মো. ছলিম উদ্দীন তরফদারের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। নওগাঁ-৪ আসনে মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রাং-এর বদলি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মো. নাহিদ মোর্শেদকে। মো. আয়েন উদ্দিনের বদলে রাজশাহী-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগের বাছাই মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী-৪ আসনে এনামুল হকের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। পরিবর্তন আছে রাজশাহী-৫ আসনেও। মনোনয়ন পাননি বর্তমান এমপি মো. মনসুর রহমান। মো. হাবিবে মিল্লাতের বদলে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মাঝি এবার মোছা. জান্নাত আরা হেনরী। পরিবর্তন আছে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনেও। তানভীর ইমামের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও মেরিনা জাহানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন চয়ন ইসলাম। পাবনার একমাত্র পরিবর্তন ৪ নম্বর আসনে। মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।

মেহেরপুর-২ আসনে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো. শফিকুল আজম খাঁনের বদলে নৌকার মাঝি মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী। যশোর-২ মো. নাসির উদ্দিনের পরিবর্তে মো তৌহিদুজ্জামান এবং যশোর-৪ আসনে রনজিত কুমার রায়ের বদলে এনামুল হক বাবলা নৌকার মাঝি। বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিরুল আলম মিলনের পরিবর্তে নতুন মুখ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। খুলনা-১ আসনে পঞ্চানন বিশ্বাসের বদলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ননী গোপাল মণ্ডল। খুলনা-৩ আসনে বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বদলে এস এম কামাল হোসেন এবং খুলনা-৬ আসনে মো. আক্তারুজ্জামানের পরিবর্তে মো রশীদুজ্জামান এবার নৌকার মাঝি। এদিকে সাতক্ষীরা চার আসনের মধ্যে ৩ আসনেই পরিবর্তন রয়েছে। সাতক্ষীরা-১ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে এস এম জগলুল হায়দারের কেউই পাননি নৌকার মনোনয়ন।

এমন পরিবর্তন রয়েছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খানের পরিবর্তে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীনের পরিবর্তে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। আর ঢাকা-১১ আসনে রহমতুল্লাহর পরিবর্তে নৌকার টিকিট পেয়েছেন ওয়াকিল উদ্দিন।

ঢাকা-৫ আসনে কাজী মনিরুল ইসলামকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। আসনটির বর্তমানে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। আর ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ১৪ দলের শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে এবার ঢাকা-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বড় ছেলে সোলায়মান সেলিমকে। আর ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হাসান খান নিখিল। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আগা খান।

এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেন ও ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে বাদ পড়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমীন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা মোশাররফ হোসেন। যদিও মোশাররফ হোসেন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আর চট্টগ্রাম-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও এ বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।

বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান। সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন, সিলেট-৫ আসনের হাফিজ আহম্মেদ মজুমদার ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়া সেন।

আওয়ামী লীগে নতুন যত মুখ

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বেশকিছু নতুন মুখের পাশাপাশি গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ত্রাণমন্ত্রী ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবারও মনোনয়ন পাননি।
মনোনয়ন তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অন্য যেকোনোবারের তুলনায় বেশি নতুন মুখ এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন পঞ্চগড়-১ নাইমুজ্জামান ভুইয়া, ঠাকুরগাঁও-২ মো. মাজহারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. ইমদাদুল হক, নীলফামারী-৩ মো. গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ জাকির হোসেন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ মো. মতিয়ার রহমান, রংপুর-১ রেজাউল করিম রাজু, রংপুর-৩ তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর-৫ রাশেক রহমান, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে, কুড়িগ্রাম-৪ বিপ্লব হাসান, গাইবান্ধা-১ আফরোজা বারী ও গাইবান্ধা-৪ থেকে আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া বগুড়া-২ তৌহিদুর রহমান মানিক, বগুড়া-৩ সিরাজুল ইসলাম খান, বগুড়া-৪ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বগুড়া-৫ মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া-৭ মো. মোস্তফা আলম, নওগাঁ-৩ সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নওগাঁ-৪ নাহিদ মোরশেদ, রাজশাহী-২ মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী-৩ আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-৪ আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সিরাজগঞ্জ-২ জান্নাত আরা হেনরী, সিরাজগঞ্জ-৪ শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ চয়ন ইসলাম, পাবনা-৪ গালিবুর রহমান শরীফ, মেহেরপুর-২ আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং ঝিনাইদহ-৩ সালাউদ্দিন মিরাজী এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্যদিকে, যশোর-২ তৌহিদুজ্জামান, যশোর-৪ এনামুল হক বাবু, মাগুরা-১ সাকিব আল হাসান, বাগেরহাট-৪ বদিউজ্জামাল সোহাগ, খুলনা-১ ননি গোপাল মন্ডল, খুলনা-৩ এসএম কামাল হোসেন, খুলনা-৬ মো. রশীদুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা-২ মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা-৪ এসএম আতাউল হক, বরগুনা-২ সুলতানা নাদিরা, বরিশাল-২ তালুকার মোহাম্মদ ইউনুস, বরিশাল-৩ খালেদ হোসাইন, বরিশাল-৪ ড. শাম্মী আহমদ, বরিশাল-৬ আব্দুল হাফিজ মল্লিক, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, পিরোজপুর-৩ মো. আশরাফুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ কামরুল হাসান খান, টাঙ্গাইল-৪ মো. মাজহারুল ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল-৫ মো. মামুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়, জামালপুর-১ নুর মোহাম্মদ, জামালপুর-৪ মাহবুবুর রহমান, জামালপুর-৫ আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর-৩ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ নিলুফা আনজুম, ময়মনসিংহ-৪ মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ আব্দুল হাই আকন্দ, ময়মনসিংহ-৮ আব্দুস সাত্তার, ময়মনসিংহ-৯ আব্দুস সালাম, নেত্রকোনা-১ মোস্তাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৫ আহমদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আব্দুর কাহার আকন্দ, কিশোরগঞ্জ-৩ মো. নাসিরুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ-১ মো. আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ ছাড়াও ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৫ হারুনুর রশিদ মুন্না, ঢাকা-৬ সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ সোলাইমান সেলিম, ঢাকা-৮ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা-১১ মো. ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, গাজীপুর-৩ রুমানা আলী, নরসিংদী-৩ ফজলে রাব্বী খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আব্দুল্লাহ আল কায়ছার, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-৩ শামীম হক, সুনামগঞ্জ-১ রনজিত চন্দ্র সরকার, সুনামগঞ্জ-২ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সুনামগঞ্জ-৪ মো. সাদিক, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৫ মাসুক উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

মৌলভীবাজার-২ শফিউল আলম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ মোহাম্মদ জিল্লর রহমান, হবিগঞ্জ-১ ডা. মো. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ ময়েজ উদ্দিন শরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ফয়জুর রহমান, কুমিল্লা-১ ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, কুমিল্লা-৮ আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন, চাঁদপুর-১ ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-৩ আবুল বাশার, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলী, চট্টগ্রাম-১ মাহবুব উর রহমান, চট্টগ্রাম-২ খাদিজাতুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৪ এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ মো. আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম-১২ মোতাহেরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-১ আসনে সালাউদ্দিন আহমেদ এবার নৌকার মাঝি হয়েছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন ৫৬ জন সংসদ সদস্য। তার আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও বাদ পড়েন ৪৯ জন সংসদ সদস্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা চতুর্থবারের মতো দলের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবার জনপ্রিয় নেতাদের হাতেই তুলে দেয়া হয় দলীয় প্রতীক নৌকা। এ লক্ষ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দফায় দফায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভিত্তিতে তিনশ আসনে জনপ্রিয় নেতারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন।


সংখ্যালঘুরা বিএনপিকে ভরসা করতে পারে: নির্বাচিত দুই হিন্দু সংসদ সদস্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে জয় পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং মাগুরা-২ (মহাম্মদপুর, শালিখা এবং মাগুরা সদর) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই।

জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত দুই হিন্দু সংসদ সদস্য— গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নিতাই রায় চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।

এই দুই হিন্দু সংসদ সদস্য সমান নাগরিকত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ভরতার বদলে সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

গত এক বছর দেড়েক ধরে ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্ক অত্যন্ত নাজুক। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত বারবার হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যখন মন্দির ও হিন্দু মালিকানাধীন সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

তবে এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলেন, সহিংসতা ধর্মীয়ভাবে সংঘটিত হয়নি। বরং এ ধরণের ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে, ধর্ম বিবেচনায় নয়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থেকে জয়ী হয়ে এই দুই হিন্দু আইনপ্রণেতা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের বিজয় একটি বার্তা দেয়। আর তা হল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমান নাগরিকত্ব রক্ষায় হিন্দু সংখ্যালঘুরা বিশ্বাস করতে পারে। বিএনপি চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলে বৌদ্ধ প্রার্থীদের নিয়ে দুইটি আসনও জয় করেছে।

দ্য ওয়্যারকে ফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সিনিয়র বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, মাগুরা-২ আসনে হিন্দু ভোটাররা ‘ব্যাপকভাবে’ তাকে সমর্থন করেছেন এবং তার দল ধর্মীয় ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ভাগ হতে দেবে না।

তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় আমাদের জন্য ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছে। তারা দেশে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। বিএনপি তাদের “নিঃশর্ত সমর্থন” সবসময় সম্মান করবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, হিন্দুরাও বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশে তাদের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার সব অধিকার রয়েছে এবং আমরা যে সব অধিকার নিশ্চিত করি তা তাদেরও রয়েছে।

ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ এবং রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকার) আসন থেকে জয়ী হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি দীর্ঘদিন ওই এলাকায় স্থানীয় সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিকত্বের ওপর আরও বেশি জোর দিয়েছেন। ১৯৯১ সালের খালেদা জিয়ার সরকারের সময় তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

দ্য ওয়্যারকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমি হিন্দু হিসেবে জন্মেছি, তবে আমার পরিচয় বাংলাদেশি।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাকে শুধু হিন্দুরাই নয়, সব ভোটারই নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি সকল মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

২০২২ সালের আদমশুমারি ও আবাসন জরিপ অনুযায়ী, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী প্রায় ১৩.১ মিলিয়ন (১৩ লাখ ১০ হাজার) এবং এটি বাংলাদেশের ১৬৫.১৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার ৭.৯৫ শতাংশ।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হিন্দুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—এই প্রশ্নে ৭৪ বছর বয়সী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, উত্তরটি গনতন্ত্রের মধ্যেই রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া কেউ তার অধিকার ভোগ করতে পারে না। আমাদের প্রথমে গণতন্ত্র এবং আইন শৃঙ্খলা প্রয়োজন

তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি। তারা নির্বাচনে অনেক অবদান রেখেছে। আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে কখনও ভুলি না।’

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ও যাদের সহায়তায় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি—তাদেরও আমরা কখনও ভুলি না।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়্যার


ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে বিএনপি। তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশনের দাবি জানানো হবে এবং এটি মূলত উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বিএনপি ভারত সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাবে যেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্দেশ্যে দ্রুত ফেরত পাঠানো হয়।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এইসব কথা বলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে তাদের নতুন সরকার তিনটি প্রধান বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করবে। এই বিষয়গুলো হলো দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং সর্বস্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা। তিনি আরও যোগ করেন যে এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র চর্চার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে এবং এই গণতান্ত্রিক যাত্রা ভবিষ্যতে আরও বেগবান হবে।

রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান যে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার আলোকেই রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পন্ন করা হবে। তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে এই সনদের প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। বিএনপির এই বিজয়কে তিনি দীর্ঘদিনের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন বিকেলের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

সবশেষে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই বৈদেশিক সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সমতা এবং মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে, যেখানে উভয় দেশের স্বার্থ ও সম্মান সমান গুরুত্ব পাবে।


১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে নতুন সরকার গঠন করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়কে জনগণের ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন নয় বরং এটি সম্পূর্ণ জনগণের একটি দল।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল একে ‘রাজনৈতিক বিজ্ঞান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন যে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে এবং গণতন্ত্রকে অবদমিত করার কারণেই উগ্রবাদের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন এবং বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে না দেওয়ার সুযোগেই জামায়াতের এই অবস্থান তৈরি হয়েছে। তবে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে বাংলাদেশের জনগণ ইতোমধ্যে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় জনগণই সব অপপ্রবণতা রুখে দিতে সক্ষম হবে।

নির্বাচনী জয় প্রসঙ্গে মহাসচিব আরও জানান যে বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও ৩১ দফার প্রতি জনগণের পূর্ণ সমর্থন ছিল বলেই এই ভূমিধস বিজয় সম্ভব হয়েছে। জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের নিয়েই ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করা হবে। এছাড়া জুলাই সনদের যেসব অংশে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং ৩১ দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রংপুর বিভাগে জামায়াতের ভালো ফলাফল নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, তবে বৃহত্তর দিনাজপুরের ১১টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি জয়ী হয়েছে এবং সেখানে জামায়াত কোনো আসন পায়নি। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে যেকোনো উগ্রবাদী প্রবণতা দূর করা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনসহ জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।


বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হলেন বরিশাল-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন

জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন। ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পরে এই বরিশাল ১ আসনটি আবার ফিরে পেল বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে আবদুস সোবাহান পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৮৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার পেয়েছেন ৫ হাজার ১১৯ ভোট। জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সেকান্দার আলী পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯০ ভোট।
ফলাফল অনুযায়ী, দুই উপজেলায় মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯২টি। বাতিল ভোট ২ হাজার ৯৮০টি। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৯৭৩।
গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। জাতীয় ভোটের ফলাফলের সাথে বহুল প্রতিক্ষিত গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। আর প্রতিটি আসনেই বিপুল ভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৪ হাজার ৩০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৫৬ জন। নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ৫৪৮ জন। বেসরকারিভাবে ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
জনাব জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আপনাদের ভালোবাসা, আস্থা ও বিপুল সমর্থনে আমাকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় আমি বরিশাল-১ বাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই বিজয় আমার একার নয়—এটি গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার সর্বস্তরের মানুষের বিজয়। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের পাশে থেকে উন্নয়ন, শান্তি ও ন্যায়ের পথে আমরা একসাথে এগিয়ে যাব।


ঢাকা-৮ আসনে বিজয়ী বিএনপির হ্যাভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাস

মির্জা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আলোচিত ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্হায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার(১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেছেন মির্জা আব্বাস। এই আসনে তিনি মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রাপ্ত ভোট নিয়ে মির্জা আব্বাসের বিস্ময় :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হওয়ার পর আসনটির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যাদের কোনও শক্তিশালী জনভিত্তি বা ভোট নেই, তারা এতো ভোট পেলো কীভাবে? এটিই প্রমাণ করে পর্দার আড়ালে কী ধরনের কারসাজি হয়েছে। অসংখ্য ব্যালট অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করেন ঢাকা-৮ আসনের নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস বলেছেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনে ব্যাপক ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। তিনি এই ধরনের অপচেষ্টাকে জাতির জন্য এক ‘অশুভ লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে নেতাকর্মীদের কোনও ধরনের বিজয় মিছিল বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি না করার নির্দেশ দেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “এখন সময় শান্ত থাকার এবং দেশ পুনর্গঠনে ধৈর্য ধারণ করার। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাই না।”
নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা শুরু থেকেই ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “জনজোয়ারের কাছে সেই ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ পর্যন্ত টেকেনি। তবে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।” পুনরায় ভোট গণনার কোনও সম্ভাবনা আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের।


অন্য সংগঠনের কেউ হলে উঠতে গেলেই ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে মব তৈরি করে: আব্দুল কাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ইসলামি ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারিত্ব এবং ‘মব’ তৈরির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী হলে উঠতে গেলেই ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে কৃত্রিম জনরোষ বা ‘মব’ তৈরি করে তাদের বাধা দিচ্ছে। আব্দুল কাদেরের মতে, ছাত্রশিবির বর্তমানে তাদের পুরোনো ও বিতর্কিত রাজনৈতিক কৌশলে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের ভীতি ও জিম্মি দশা তৈরি করেছে।

আব্দুল কাদের তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবির এক প্রকার একচ্ছত্র আধিপত্য ও দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, শিবির প্রকাশ্যে রাজনীতি না করলেও তারা প্রতিটি হলে এবং ভবনভিত্তিক গোপন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সচল রেখেছে। অন্যদিকে, অন্য কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের কেউ যদি হলের সিট পেতে চায় বা হলে অবস্থান করতে চায়, তবে শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয় দিয়ে গভীর রাতেও তাদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করে হেনেস্তা করছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরা ক্যাম্পাসে এক প্রকার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ছাত্রনেতা আব্দুল কাদের আরও অভিযোগ করেন যে, ছাত্রশিবির কেবল মাঠ পর্যায়েই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের অনুসারীদের বসিয়ে তাদের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করছে। অনলাইনে শিবিরের নেতাকর্মীদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সাইবার কার্যক্রম বর্তমানে নোংরামি, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং বিশেষ করে নারী হেনস্তার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণেই তারা এখন নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে, যদিও ইতিমধ্যে অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সবশেষে আব্দুল কাদের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, ছাত্রশিবির এখন সরাসরি সামনে না এসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্রশক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, শিবির গোপনে থেকে এই দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের দিয়ে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মোকাবিলা করাচ্ছে। তবে এনসিপি বা ছাত্রশক্তির মতো উদীয়মান সংগঠনগুলো জেনেবুঝে শিবিরের এমন কৌশলের হাতিয়ার হবে কি না এবং ভবিষ্যতে কোনো বিপদে পড়বে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। আব্দুল কাদেরের এই ফেসবুক পোস্টটি ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।


দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হলেন তারুণ্যের আইডল আন্দালিব রহমান পার্থ

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪৩
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপির জোট মনোনীত প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ গরুর গাড়ি প্রতীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের জেলা নায়েবে আমির মো. নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রায় ১৭ বছর পর এই আসনে ৩০ হাজার ৬৮৯ ভোটের ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।
সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ (সদর) আসনে চারদলীয় জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ভোলা-১ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৬১ জন। তাঁদের মধ্যে ভোট দেন ২ লাখ ৫ হাজার ৬৭১ জন। আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ওবায়েদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯১ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান (জুয়েল মিয়া) ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১০৩ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আকবর হোসাইন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯৪ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী চেয়ার প্রতীকে পান ৩০২ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান আম প্রতীকে পান ২১৩ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজুল হক সূর্যমুখী প্রতীকে পেয়েছেন ১৩৩ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮২টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৪৪ হাজার ৩৭৪টি; যার শতকরা হার ৫১.৭১।
শুক্রবার সকালে ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে পার্থ তিন কারণে জয়ী হয়েছেন। এক নম্বর কারণ হচ্ছে, তিনি ভোলার উন্নয়নের রূপকার নাজিউর রহমান মঞ্জুর বড় ছেলে। দুই নম্বর হচ্ছে, আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ঐক্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হন এবং তিন নম্বর কারণ হলো, ব্যক্তিগতভাবে সারা দেশের মানুষ আন্দালিব রহমান পার্থকে চেনেন, ভালোবাসেন। তিনি অনেকের কাছে আইকন। তরুণদের আইডল। ভোলার মানুষ মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুকে বিশ্বাস করেছিলেন। বর্তমানে আন্দালিব রহমান পার্থকেও ভোলাবাসী বিশ্বাস করে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আগামী দিনে বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজগুলো তাঁর ছেলে পার্থ করবেন বলে মনে করি।’


নেত্রকোনা-১ আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী বিএনপির ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সবাইকে সাথে নিয়ে করতে চান এলাকার উন্নয়ন

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৩
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, কায়সার কামাল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট।
অর্থাৎ ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী। সমতল, পাহাড় ও আংশিক হাওরবেষ্টিত এই জনপদে মোট ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনে কায়সার কামাল ও গোলাম রব্বানী ছাড়াও জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাসদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে নেত্রকোনা-১ আসনটি হাজং বিদ্রোহ, তেভাগা ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মতো নানা যুগান্তকারী ঘটনার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে গারো, হাজং ও বাঙালি অধ্যুষিত এই জনপদে নিরলস প্রচার ও জনসেবা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রথাগত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বা শোডাউনের পরিবর্তে তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডে অধিক মনোযোগী হন। নিজ উদ্যোগে কয়েক হাজার দরিদ্র রোগীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও অস্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং মন্দির, গির্জা, মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উপাসনালয় সংস্কারের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। গৃহহীনদের ঘর প্রদানসহ তার এই বিশেষ জনকল্যাণমুখী ধারার রাজনীতিই মূলত এবারের নির্বাচনে বিশাল জয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
প্রত্যাশিত এই বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কায়সার কামাল বলেন, "আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জাতি, বর্ণ ও ধর্ম–নির্বিশেষে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। তাদের কাছে দেওয়া ওয়াদা যেন আমি রক্ষা করতে পারি, আমার জন্য সেই প্রার্থনা করবেন। আমি যেন সব সময় জনগণের সেবক হয়ে থাকতে পারি। এ ছাড়া এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশকে সুন্দর রাখার ব্যাপারেও আমি সব সময় সজাগ থাকব। সবাইকে নিয়োজিত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দুর্গাপুর–কলমাকান্দার উন্নয়নে কাজ করব।" তার এই বক্তব্যে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর কায়সার কামালের এই বিজয়কে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরবাসী তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

পরাজিত প্রার্থীদের সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করতে চান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিহিংসামুক্ত এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ডাক দিয়েছেন।
তিনি জানান যে, "প্রতিহিংসার রাজনীতি আর নয়। আমার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে নিয়ে বন্ধুসুলভ আচরণ বজায় রেখে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই, যাতে মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে সেটা পূরণ করতে পারি।"
দীর্ঘ দেড় দশক পর সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে তিনি ফ্যাসিবাদের অবসানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্ট রেজিমের পরে এবার প্রত্যাশিত নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে। বিগত তিন নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি সুষ্ঠুভাবে। এবার সদিচ্ছায় ভোট দিয়েছে, তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যে জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের প্রতি সম্মান জানাই। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। কিন্তু প্রতিহিংসার রাজনীতি আর নয়, আমার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে নিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বন্ধুসুলভ আচরণ বজায় রেখে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই, যাতে মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে সেটা পূরণ করতে পারি।" ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনার এই জনপদে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হবে বলে ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন।
দেশজুড়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। কায়সার কামাল মনে করেন, জনগণের সদিচ্ছায় গঠিত এই নতুন সরকার দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার পরিচয় দেবে। মূলত প্রতিহিংসার বদলে সহযোগিতার রাজনীতি চর্চা করার মাধ্যমে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের যে অঙ্গীকার করেছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।


জামায়াতকে ‘উগ্রবাদী দল’ বললেন মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে একটি ‘উগ্রবাদী দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, দেশে জামায়াতের এই উত্থানের পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসন ও দমন-পীড়নমূলক নীতি প্রধানত দায়ী। তাঁর মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখার ফলেই এমন চরমপন্থী শক্তির মাথা চাড়া দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যখনই কোনো দেশে প্রকৃত গণতন্ত্রকে চেপে ধরা হয় এবং জনগণের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখনই সেখানে উগ্রবাদী শক্তিগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঠিক সেটিই ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নমূলক শাসন এবং বিরোধী দলকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়ার কারণেই জামায়াতের বর্তমান এই অবস্থান তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করে বিরোধী মতকে কোণঠাসা করার ফলেই এই উগ্রবাদী শক্তির উত্থান সহজতর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের কথা উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ ইতোমধ্যে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করেছেন। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যা প্রমাণ করে জনগণ একটি সুষ্ঠু, সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের এই শক্তিশালী ম্যান্ডেটের মাধ্যমে আগামীতে দেশে সকল প্রকার রাজনৈতিক অপপ্রবণতা ও উগ্রবাদ রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি এসময় মন্তব্য করেন।


নেতাকর্মীশূন্য নিস্তব্ধ জামায়াত কার্যালয়ে হাজির হলেন শফিকুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ এক নিরুত্তাপ ও শান্ত পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে, যা গতকালের নির্বাচনি উত্তাপের চেয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত। নির্বাচনের দিন ও ফলাফল ঘোষণার পূর্বরাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও আজ সেখানে গুটিকয়েক কর্মী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কাউকে দেখা যায়নি।

গতকাল পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হলেও এখন এটি সুনিশ্চিত যে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপিই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। যদিও জামায়াতে ইসলামী তাদের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়নি, তবে সংসদীয় আসনের হিসেবে এ যাবৎকালে অংশগ্রহণ করা নির্বাচনগুলোর মাঝে এবারই সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকছে তারা।

আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলের আমির শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। তবে এ সময় তিনি অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক কথা না বলেই সরাসরি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পর জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হবেন এবং উক্ত আলোচনার মাধ্যমেই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। মূলত দীর্ঘ লড়াই ও নির্বাচনি ব্যস্ততার পর মগবাজারের কার্যালয়টি এখন এক শান্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পরবর্তী দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে।


খুলনা-৫ আসনে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করবেন গোলাম পরওয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা-৫ আসনে নির্বাচনের ফলাফলে বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও উক্ত আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান যে, "চেক করে পুনর্গণনার আবেদন করার চিন্তা করছি। ৬ হাজার ভোট কেন বাতিল করা হলো সেটা আইন অনুযায়ী পুন: আবেদনের চিন্তা করছি।" নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, "নির্বাচনে ১৫০ কেন্দ্রে দায়িত্ব থাকা আমাদের অনেকেই বলছেন- কিছু অসংগতি রয়েছে। ৬ হাজার ভোট বাতিল করা হয়েছে, এটা যৌক্তিক কারণে হয়েছে কিনা, আইনের বিধান অনুযায়ী চেক করার আবেদনের চিন্তা করছি। "

নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, "আমার আসনে শুধু বিএনপি নয়, যাদের বিরুদ্ধে জুলাই হয়েছে সেই শক্তিরও একটি গোপন আতাত ছিল। আরও কিছু চক্র মিলে বড় শক্তির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। তারপরও দেড় লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছে, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।" সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে না পারলেও জনসেবার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমি কোন অন্যায় করিনি, মানুষের ওপর জুলুম করিনি, কালো টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করিনি, নৈতিকতার দিক থেকে তারা আমাদের কাছে পরাজয় বরণ করেছে। সেই দিক থেকে আমি বিজয়ী, এমপি হওয়া না হওয়ার সঙ্গে মানুষের সেবা করার কোন সম্পর্ক নেই, সেবা আমার আদর্শ, এটা করে যাব।" মূলত নৈতিক বিজয় এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।


জনতার ভালোবাসায় সিক্ত তারেক রহমান, জুমার নামাজে যাওয়ার পথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নেভি হেড কোয়ার্টার মসজিদের পথে রওনা হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় দলীয় প্রধানের বাসভবনের সামনে সমবেত হওয়া বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায় এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে তিনি কিছুক্ষণ গাড়ি থামিয়ে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় করেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান নিজেই গাড়ির দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে কয়েকজনের পরিচয় জানতে চাইলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে ওঠেন, "আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।" জনসাধারণের এমন আবেগঘন আহ্বানের জবাবে তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তারেক রহমান বলেন, "আমার প্রতি আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার জন্য দোয়া করবেন।" এরপর তিনি নির্ধারিত নেভি হেড কোয়ার্টার মসজিদে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। মূলত নির্বাচনী বিজয়ের আবহ ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই সাধারণ উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।


ঝালকাঠি-১ আসনে হেরে গেলেন আলোচিত জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর -কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ৬২ হাজার ১০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৫ হাজার ১২০টি ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনের ৯০টি কেন্দ্রে ভোটগণনা শেষে এ ফল ঘোষণা করা হয় এবং প্রাপ্ত তথ্যমতে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০ জন, যেখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। ঝালকাঠি জেলার দুটি আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে সদর-নলছিটি বা ঝালকাঠি-২ আসনে ৮ জন প্রার্থী লড়াইয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার ভোটারদের রায়ে বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামালের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে এই আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটল।


banner close