শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৭২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন

আপডেটেড
২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ বাদে সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। বাকি দুটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে।

ঘোষিত আসনে বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন মুখসহ দলের বেশ কিছু সাবেক এমপি ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে অন্তত ৭০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ বর্তমান সংসদের ৭২ জন সদস্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে যোগ হয়েছেন নতুন বেশ কিছু মুখ।

তিন প্রতিমন্ত্রী হলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

খুলনা-৩ আসনে মন্নুজান সুফিয়ানের পরিবর্তে এস এম কামাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে কে এম খালিদের পরিবর্তে আবদুল হাই আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাকির হোসেনের পরিবর্তে বিপ্লব হাসানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনজন ছাড়া সবাই মনোনয়ন পেয়েছেন।

মনোনয়নের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্য যেকোনোবারের তুলনায় এবার বেশি নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নতুনদের মধ্যে পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, তারকা ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র অভিনেতা, স্বনামধন্য কিছু পেশাজীবীও রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে, একাদশ জাতীয় সংসদে থাকা যশোর-২ আসনের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের সাইফুজ্জামান শিখর, ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিম ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মনোনয়ন পাননি। এ ছাড়া বাদ পড়েছেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

পঞ্চগড়-১ মাজহারুল হক প্রধানের বদলে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন মো. নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া। দবিরুল ইসলামের বদলে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মাজহারুল ইসলাম। রংপুর-৫ আসনে এইচ এন আশিকুর রহমানের পরিবর্তে রাশেক রহমান। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে এম এ মতিনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে। এদিকে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. বিপ্লব হাসান। গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোয়ার হোসেনের বদলে আবুল কালাম আজাদ।

বগুড়া-৫ আসনে মো. হাবিবর রহমানের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান মজনু। নওগাঁ-৩ আসনে মো. ছলিম উদ্দীন তরফদারের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। নওগাঁ-৪ আসনে মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রাং-এর বদলি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মো. নাহিদ মোর্শেদকে। মো. আয়েন উদ্দিনের বদলে রাজশাহী-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগের বাছাই মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী-৪ আসনে এনামুল হকের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। পরিবর্তন আছে রাজশাহী-৫ আসনেও। মনোনয়ন পাননি বর্তমান এমপি মো. মনসুর রহমান। মো. হাবিবে মিল্লাতের বদলে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মাঝি এবার মোছা. জান্নাত আরা হেনরী। পরিবর্তন আছে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনেও। তানভীর ইমামের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও মেরিনা জাহানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন চয়ন ইসলাম। পাবনার একমাত্র পরিবর্তন ৪ নম্বর আসনে। মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।

মেহেরপুর-২ আসনে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো. শফিকুল আজম খাঁনের বদলে নৌকার মাঝি মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী। যশোর-২ মো. নাসির উদ্দিনের পরিবর্তে মো তৌহিদুজ্জামান এবং যশোর-৪ আসনে রনজিত কুমার রায়ের বদলে এনামুল হক বাবলা নৌকার মাঝি। বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিরুল আলম মিলনের পরিবর্তে নতুন মুখ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। খুলনা-১ আসনে পঞ্চানন বিশ্বাসের বদলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ননী গোপাল মণ্ডল। খুলনা-৩ আসনে বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বদলে এস এম কামাল হোসেন এবং খুলনা-৬ আসনে মো. আক্তারুজ্জামানের পরিবর্তে মো রশীদুজ্জামান এবার নৌকার মাঝি। এদিকে সাতক্ষীরা চার আসনের মধ্যে ৩ আসনেই পরিবর্তন রয়েছে। সাতক্ষীরা-১ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে এস এম জগলুল হায়দারের কেউই পাননি নৌকার মনোনয়ন।

এমন পরিবর্তন রয়েছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খানের পরিবর্তে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীনের পরিবর্তে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। আর ঢাকা-১১ আসনে রহমতুল্লাহর পরিবর্তে নৌকার টিকিট পেয়েছেন ওয়াকিল উদ্দিন।

ঢাকা-৫ আসনে কাজী মনিরুল ইসলামকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। আসনটির বর্তমানে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। আর ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ১৪ দলের শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে এবার ঢাকা-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বড় ছেলে সোলায়মান সেলিমকে। আর ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হাসান খান নিখিল। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আগা খান।

এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেন ও ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে বাদ পড়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমীন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা মোশাররফ হোসেন। যদিও মোশাররফ হোসেন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আর চট্টগ্রাম-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও এ বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।

বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান। সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন, সিলেট-৫ আসনের হাফিজ আহম্মেদ মজুমদার ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়া সেন।

আওয়ামী লীগে নতুন যত মুখ

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বেশকিছু নতুন মুখের পাশাপাশি গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ত্রাণমন্ত্রী ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবারও মনোনয়ন পাননি।
মনোনয়ন তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অন্য যেকোনোবারের তুলনায় বেশি নতুন মুখ এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন পঞ্চগড়-১ নাইমুজ্জামান ভুইয়া, ঠাকুরগাঁও-২ মো. মাজহারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. ইমদাদুল হক, নীলফামারী-৩ মো. গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ জাকির হোসেন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ মো. মতিয়ার রহমান, রংপুর-১ রেজাউল করিম রাজু, রংপুর-৩ তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর-৫ রাশেক রহমান, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে, কুড়িগ্রাম-৪ বিপ্লব হাসান, গাইবান্ধা-১ আফরোজা বারী ও গাইবান্ধা-৪ থেকে আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া বগুড়া-২ তৌহিদুর রহমান মানিক, বগুড়া-৩ সিরাজুল ইসলাম খান, বগুড়া-৪ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বগুড়া-৫ মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া-৭ মো. মোস্তফা আলম, নওগাঁ-৩ সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নওগাঁ-৪ নাহিদ মোরশেদ, রাজশাহী-২ মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী-৩ আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-৪ আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সিরাজগঞ্জ-২ জান্নাত আরা হেনরী, সিরাজগঞ্জ-৪ শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ চয়ন ইসলাম, পাবনা-৪ গালিবুর রহমান শরীফ, মেহেরপুর-২ আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং ঝিনাইদহ-৩ সালাউদ্দিন মিরাজী এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্যদিকে, যশোর-২ তৌহিদুজ্জামান, যশোর-৪ এনামুল হক বাবু, মাগুরা-১ সাকিব আল হাসান, বাগেরহাট-৪ বদিউজ্জামাল সোহাগ, খুলনা-১ ননি গোপাল মন্ডল, খুলনা-৩ এসএম কামাল হোসেন, খুলনা-৬ মো. রশীদুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা-২ মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা-৪ এসএম আতাউল হক, বরগুনা-২ সুলতানা নাদিরা, বরিশাল-২ তালুকার মোহাম্মদ ইউনুস, বরিশাল-৩ খালেদ হোসাইন, বরিশাল-৪ ড. শাম্মী আহমদ, বরিশাল-৬ আব্দুল হাফিজ মল্লিক, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, পিরোজপুর-৩ মো. আশরাফুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ কামরুল হাসান খান, টাঙ্গাইল-৪ মো. মাজহারুল ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল-৫ মো. মামুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়, জামালপুর-১ নুর মোহাম্মদ, জামালপুর-৪ মাহবুবুর রহমান, জামালপুর-৫ আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর-৩ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ নিলুফা আনজুম, ময়মনসিংহ-৪ মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ আব্দুল হাই আকন্দ, ময়মনসিংহ-৮ আব্দুস সাত্তার, ময়মনসিংহ-৯ আব্দুস সালাম, নেত্রকোনা-১ মোস্তাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৫ আহমদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আব্দুর কাহার আকন্দ, কিশোরগঞ্জ-৩ মো. নাসিরুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ-১ মো. আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ ছাড়াও ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৫ হারুনুর রশিদ মুন্না, ঢাকা-৬ সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ সোলাইমান সেলিম, ঢাকা-৮ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা-১১ মো. ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, গাজীপুর-৩ রুমানা আলী, নরসিংদী-৩ ফজলে রাব্বী খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আব্দুল্লাহ আল কায়ছার, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-৩ শামীম হক, সুনামগঞ্জ-১ রনজিত চন্দ্র সরকার, সুনামগঞ্জ-২ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সুনামগঞ্জ-৪ মো. সাদিক, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৫ মাসুক উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

মৌলভীবাজার-২ শফিউল আলম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ মোহাম্মদ জিল্লর রহমান, হবিগঞ্জ-১ ডা. মো. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ ময়েজ উদ্দিন শরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ফয়জুর রহমান, কুমিল্লা-১ ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, কুমিল্লা-৮ আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন, চাঁদপুর-১ ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-৩ আবুল বাশার, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলী, চট্টগ্রাম-১ মাহবুব উর রহমান, চট্টগ্রাম-২ খাদিজাতুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৪ এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ মো. আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম-১২ মোতাহেরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-১ আসনে সালাউদ্দিন আহমেদ এবার নৌকার মাঝি হয়েছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন ৫৬ জন সংসদ সদস্য। তার আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও বাদ পড়েন ৪৯ জন সংসদ সদস্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা চতুর্থবারের মতো দলের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবার জনপ্রিয় নেতাদের হাতেই তুলে দেয়া হয় দলীয় প্রতীক নৌকা। এ লক্ষ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দফায় দফায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভিত্তিতে তিনশ আসনে জনপ্রিয় নেতারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন।


একযোগে এনসিপির ২২ নেতার পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্যঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে চার নেতার পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে সংবাদ সম্মেলনে যে চার নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, তারা হলেন কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, মাহতাব উদ্দীন আহমদ ও দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ। সংবাদ সম্মেলনে তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করে দলটি। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন দেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির মোট ২২ নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাফসান জানির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিখিত আকারে এই ২২ নেতার সইসহ পদত্যাগপত্র এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন বরাবর পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, একটি বড় কমিটি অনেকের হয়তো প্রত্যাশানুযায়ী হয়নি। আবার কেউ নিজে পছন্দের পদ পেয়েছেন। কিন্তু তার পছন্দের ব্যক্তিরা হয়তো বাদ পড়েছেন। তাই মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। তবে তাদের জন্য কমিটির দরজা সব সময় খোলা থাকবে।


আওয়ামী লীগের কারণেই পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত দেশের মানুষ: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের কারণে দেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভারতের ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করেছিল, যার প্রভাব এখনো দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহভাবে পড়ছে। ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারাদেশ থেকে লাখো মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ফারাক্কার উদ্দেশে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নেন।

ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই বাঁধ এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে, যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, মাওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিলের মাধ্যমে শুধু ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদই জানাননি, বরং বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরেও আনেন। এরপর থেকেই ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত হতে শুরু করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফারাক্কা দিবস আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং যেকোনো অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। এ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।


প্রতিহিংসা নয়, সম্প্রীতি: ভোলায় হাফিজ ইব্রাহিমের ‘সহনশীল রাজনীতির’ নতুন মডেল

আপডেটেড ১৩ মে, ২০২৬ ২৩:১৭
ভোলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন প্রতিহিংসা আর সংঘাতের সংস্কৃতি চিরচেনা রূপ, ঠিক তখন ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন (ভোলা-২) আসনে বইছে ভিন্ন হাওয়া। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিমের হাত ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সূচিত হয়েছে এক নতুন ‘সহনশীল ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি’।

প্রতিশোধের বিপরীতে শান্তির বার্তা: গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের অনেক স্থানে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেও বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানে চিত্রটা ভিন্ন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, সেখানে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হননি। কোনো মামলা বা হামলার ভয় ছাড়াই তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খাঁন জানান, হাফিজ ইব্রাহিম বারবার একটি বার্তাই দিচ্ছেন— ‘রাজনীতি হবে জনগণের কল্যাণে, প্রতিশোধের জন্য নয়।’ তার এই নির্দেশনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত: অতীতের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে যাওয়ার এক বিরল উদাহরণ তৈরি হয়েছে এই এলাকায়।

বিএনপি নেতাদের মতে, বিগত সরকারের আমলে হাফিজ ইব্রাহিমের নিজ বাসভবন একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে এবং তাকে মাসের পর মাস অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল। অথচ ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আলী আজম মুকুলের বাড়িতে কোনো ধরনের হামলা বা ভাঙচুর হতে দেননি তিনি।

সামাজিক বিচারে দলমতের ঊর্ধ্বে: রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এখন সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করছে স্থানীয় বিএনপি।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শহীদুল আলম নাসিম জানান, এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন বিরোধ নিয়ে তাদের কাছে আসছেন। দলমত নির্বিশেষে ‘যিনি সঠিক, তিনিই বিচার পাচ্ছেন’—এমন নীতিতে কাজ করছেন তারা। তাদের মতে, অতীতের অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার এটাই উপযুক্ত সময়।

জনমনে স্বস্তি ও বিশ্লেষকদের অভিমত: দীর্ঘদিন পর সংঘাতহীন এই রাজনৈতিক পরিবেশ সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাফিজ ইব্রাহিমের এই ‘সহাবস্থানের রাজনীতি’ যদি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে ন্যায়বিচার ও শান্তির পথে হাঁটার এই উদ্যোগটি বর্তমানে ভোলার রাজনৈতিক মহলে একটি প্রশংসনীয় মডেলে পরিণত হয়েছে।


গাঁজা সেবন না করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হওয়া যায় না: রাশেদ খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাঁজা সেবন না করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হওয়া যায় না বলে মন্তব্য করে বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেছেন, তীতে সে জামায়াতে ইসলামীকে গালিগালাজ করেছে। এখন জামায়াতের সঙ্গে মিতালি করে বিএনপিকে গালিগালাজ করছে ।

বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে রাশেদ খান বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতে ইসলামীকে বলেছে (১) জামায়াতে ইসলামী ভারতের এক্সটেনশন, (২) সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে, (৩) মুনাফেকের দল, (৪) ধর্মের নামে চেতনার ব্যবসা করছে, (৫) জামায়াতের মুখে এক অন্তরে আরেক, (৬) জামায়াতের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থি ইত্যাদি!

তিনি বলেন, একটা দল সম্পর্কে এতকিছু বলার পরে আবার সেই দল থেকে আসন নিয়ে নির্বাচন করা, এটা একমাত্র গাঁজা সেবন করলেই সম্ভব! আমি এনসিপিকে বলবো, দ্রুত তার ডোপ টেস্ট ও চিকিৎসা করুন। অন্যথায় তার শরীরে প্রতিদিন যে পরিমাণ নিকোটিন ঢুকছে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় আবোলতাবোল বকছে.. না জানি আবার জামায়াতে যোগদান করে এনসিপিকে নিয়ে কি বলা শুরু করে যে, এনসিপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করা শুরু করেছে…! জামায়াতে ইসলামী পারেও বটে!

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের রাজনীতিকে নিয়ে একেরপর এক প্রশ্ন তোলা নাসীরুদ্দীন পাওটয়ারীই আজকাল তাদের আইডল। কারণ সে এখন রুপ বদলে ফেলে জামায়াতপন্থি হয়েছে! পডকাস্টে বলেও বেড়াচ্ছে, সে নাকি শিবিরের সাথী ছিলো! অথচ ক্যাম্পাসে দেখেছি, সে বাম করে….! একজন লোক শিবির থেকে বাম হয় কিভাবে?’


সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। আগামীকাল (১৪ মে) বাদ জোহর মীরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের এস রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।


জনস্বাস্থ্যের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকার: সিপিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতারা বলেছেন, ‘জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের সুবিধা ও ব্যক্তিস্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল।’

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথাগুলো বলা হয়। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

সমাবেশ শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ১৯ মের মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। তা না হলে অবস্থানসহ ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি অবহেলা ও ব্যর্থতার ফল বলে মন্তব্য করেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নেওয়ার পরও স্বাস্থ্য খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা থাকার কথা বলা হলেও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা কেনা হয়নি। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেয়ে নিজেদের সুবিধা আদায়, অনিয়মের মামলা প্রত্যাহার ও ব্যক্তিস্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল। ইউনিসেফের কাছ থেকে টিকা কিনলে কমিশন পাওয়া যাবে না—এই কারণে টিকা কেনা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠেছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় জনগণ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

হামে মৃত্যুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না।

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইতোমধ্যে চার শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে, তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। বিপুলসংখ্যক পরিবার সন্তান হারিয়ে শোকাহত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য দায়ী সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

হাম নিয়ে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় প্রচার–প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না উল্লেখ করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল। স্মারকলিপি পাঠ করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন।


সীমান্তে ভারতের কাটাতারের বেড়া দক্ষিণ এশিয়ার জন্য উদ্বেগজনক: নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে কাটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষার যুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। গত সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, সীমান্ত কখনো কেবল মানচিত্রের কতগুলো রেখা নয়; এটি মানুষের জীবন, মানবাধিকার, পারিবারিক বন্ধন এবং ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনা মানবিক বিবেককে প্রতিনিয়ত নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, সভ্য বিশ্বে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ভয়, গুলি বা বিভেদের দেয়াল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়। বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক নীতিমালার আলোকে প্রতিটি মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষা নিশ্চিত করে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সীমান্ত পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক শত বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভাষার মেলবন্ধনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে কাটাতারের বেড়া বা বিভেদের অবকাঠামো নির্মাণ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, দূরত্ব ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতের চেয়ে সংহতি এবং দেয়ালের চেয়ে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা বেশি জরুরি। ভয় নয় বরং আস্থার ভিত্তিতেই কেবল এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।

সীমান্তে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নতুন করে কাটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে শক্তভাবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি দেশের সার্বভৌম স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি বিশ্বাস করেন, ন্যায়ভিত্তিক কূটনীতি এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমেই কেবল একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে দেয়ালের বদলে সহযোগিতার মানসিকতা প্রাধান্য পাবে।


গুম-খুনের তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালে বিএনপির ফের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২ হাজার ২৭৬ নেতাকর্মীকে অপহরণের পর গুম এবং ক্রসফায়ারের নামে হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পুনরায় আবেদন করেছে দলটি।

সোমবার (১১ মে) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং গুম, খুন ও মামলাবিষয়ক সমন্বয়ক।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি একই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিয়েছিল বিএনপি। তবে দীর্ঘ সময়েও তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় দলটি আবারও আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।

নতুন অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পরিকল্পিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে পুনরায় ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে।


ড. ইউনূসকে বিয়ের দাওয়াত দিলেন সাদিক কায়েম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স'র অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণের লক্ষ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা জনাব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ সাক্ষাৎ হয়েছে। এসময় বিবাহ অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানালে তিনি আমার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসময় জুলাইয়ের শহীদ নাফিজের স্মৃতি সংবলিত একটি স্মারক চিত্রকর্ম তার হাতে তুলে দেই। জুলাইকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে জুলাই কনফারেন্সসহ ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরি আমরা।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘এসময় তিনি তরুণদের উদ্যোগ ও কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে আমাদেরকে তিনি ধন্যবাদ এবং সাধুবাদ জানিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণমানুষের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার, উপেক্ষিত জনরায় এবং নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আমরা দেখেছি, তা বাস্তবায়নে আগামীর পথচলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সার্বিক সহযোগিতা ও মূল্যবান পরামর্শ চেয়েছি। একইসাথে ৫ আগস্ট পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের হাল ধরার জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।’


দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে আয়োজিতব্য ‘বিশ্ব মানবাধিকার শহর ফোরাম ২০২৬’ সম্মেলনে অংশ নিতে আজ রোববার রাতে ঢাকা ত্যাগ করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ তাঁর এই আন্তর্জাতিক সফরে মানবাধিকার সুরক্ষা, নাগরিক অধিকারের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন ও আলোচনায় অংশ নেবেন। সম্মেলনের পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। সেখানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানাবিধ সমস্যা, সম্ভাবনা এবং দেশের উন্নয়নে তাঁদের অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

সফরের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের দক্ষিণ কোরিয়া চ্যাপ্টার আয়োজিত একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক ও কমিউনিটি সংযোগমূলক অনুষ্ঠানেও তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ১০ দিনের এই সফর শেষে আগামী ১৯ মে রাতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নতুন সংগ্রামে নামতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদে প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য আমাদের ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে। আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো-আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।

নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন কারণ ভোট দেয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দিব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে। নারী পুরুষ শিশু সকলে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে, আমাদের উপরে যে রকম অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে, গুম খুনের শিকার হতে হচ্ছে তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা বিতর্ক করব, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করব।

তারেক রহমান বলেন, আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সেজন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।

এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট(কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়।

দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেন।

প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সাথে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।


বিরোধী দলের সহযোগিতা উপেক্ষা করলে ফের রাস্তায় নামব: নাহিদ ইসলাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘টালবাহানা করে সরকার জুলাই সনদকে এড়িয়ে যেতে চায়। গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী অবিলম্বে সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন করতে হবে। এ নিয়ে কোনো ছলচাতুরী চলবে না।’

শনিবার (৯ মে) দুপুরে গুলশানের একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এমন মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সভার আয়োজন করে দলের সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি। সংলাপে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

‘সংস্কার বাস্তবায়নে আমরা আবার রাস্তায় যেতে চাই না। আমরা কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না। রাস্তায় যাওয়া আমাদের শেষ অপশন (উপায়)। কিন্তু সরকার যদি বিরোধী দলের সহযোগিতাকে উপেক্ষা করে, আমরা রাস্তায় যেতে বাধ্য হব’, কূটনীতিকদের উদ্দেশে জানান নাহিদ ইসলাম।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের ভাষ্য, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তারা বিরোধিতা শুরু করেছেন। এতে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রত্যাখ্যান করছে। রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে। সরকার ইতিবাচক সাড়া না দিলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে, যোগ করেন তিনি।

এ সময় আরও ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, সারোয়ার তুষার, সংরক্ষিত আসনের এমপি ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তারিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।


বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শুক্রবার (৮ মে) জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত শাপলা চত্বর শহীদদের স্মরণে আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

এ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কখনও ইসলাম অবমাননাকারীদের প্রশ্রয় দেয়নি বরং শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার ও শহীদদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইদিন হরতালের ডাক দিয়েছিল বিএনপি।

তিনি বলেন, সংসদে শাপলা শহীদদের সম্মান দিয়েছে বিএনপি। শাপলা চত্বর শহীদদের পরবর্তী দায়িত্ব বিএনপি অবশ্যই পালন করবে। একটি রাজনৈতিক দল তখনই সত্যিকার অর্থে সফল হয়, যখন শুধু নিজের দলীয় কর্মীদের কাছেই নয়, বরং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের সীমাবদ্ধ গণ্ডির বাইরে গিয়ে বৃহত্তর সমাজের শক্তি ও মানুষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া।

তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও চিরন্তন বিষয়গুলোতে সব মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি হয়। যেমন- ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা কিংবা দেশের স্বার্থের প্রশ্নে মানুষ দল-মত ভুলে এক হয়ে যায়। অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেও জাতির এই ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।

শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখানোর উপায় হলো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও উন্নয়নের লক্ষ্যকে ধরে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, ১৯৫২, ১৯৬৯, জুলাই আন্দোলনসহ দেশের সব ঐতিহাসিক সংগ্রামের সম্মিলিত ফলাফলই হলো বাংলাদেশ। এসব আত্মত্যাগের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তাই কে ক্ষমতায় আছে বা নেই, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি জাতীয় দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা পালন করা হবে। এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। তিনি শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।


banner close