মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৭২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন

আপডেটেড
২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ বাদে সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। বাকি দুটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে।

ঘোষিত আসনে বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন মুখসহ দলের বেশ কিছু সাবেক এমপি ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে অন্তত ৭০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ বর্তমান সংসদের ৭২ জন সদস্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে যোগ হয়েছেন নতুন বেশ কিছু মুখ।

তিন প্রতিমন্ত্রী হলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

খুলনা-৩ আসনে মন্নুজান সুফিয়ানের পরিবর্তে এস এম কামাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে কে এম খালিদের পরিবর্তে আবদুল হাই আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাকির হোসেনের পরিবর্তে বিপ্লব হাসানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনজন ছাড়া সবাই মনোনয়ন পেয়েছেন।

মনোনয়নের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্য যেকোনোবারের তুলনায় এবার বেশি নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নতুনদের মধ্যে পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, তারকা ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র অভিনেতা, স্বনামধন্য কিছু পেশাজীবীও রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে, একাদশ জাতীয় সংসদে থাকা যশোর-২ আসনের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের সাইফুজ্জামান শিখর, ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিম ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মনোনয়ন পাননি। এ ছাড়া বাদ পড়েছেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

পঞ্চগড়-১ মাজহারুল হক প্রধানের বদলে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন মো. নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া। দবিরুল ইসলামের বদলে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মাজহারুল ইসলাম। রংপুর-৫ আসনে এইচ এন আশিকুর রহমানের পরিবর্তে রাশেক রহমান। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে এম এ মতিনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে। এদিকে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. বিপ্লব হাসান। গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোয়ার হোসেনের বদলে আবুল কালাম আজাদ।

বগুড়া-৫ আসনে মো. হাবিবর রহমানের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান মজনু। নওগাঁ-৩ আসনে মো. ছলিম উদ্দীন তরফদারের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। নওগাঁ-৪ আসনে মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রাং-এর বদলি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মো. নাহিদ মোর্শেদকে। মো. আয়েন উদ্দিনের বদলে রাজশাহী-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগের বাছাই মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী-৪ আসনে এনামুল হকের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। পরিবর্তন আছে রাজশাহী-৫ আসনেও। মনোনয়ন পাননি বর্তমান এমপি মো. মনসুর রহমান। মো. হাবিবে মিল্লাতের বদলে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মাঝি এবার মোছা. জান্নাত আরা হেনরী। পরিবর্তন আছে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনেও। তানভীর ইমামের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও মেরিনা জাহানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন চয়ন ইসলাম। পাবনার একমাত্র পরিবর্তন ৪ নম্বর আসনে। মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।

মেহেরপুর-২ আসনে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো. শফিকুল আজম খাঁনের বদলে নৌকার মাঝি মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী। যশোর-২ মো. নাসির উদ্দিনের পরিবর্তে মো তৌহিদুজ্জামান এবং যশোর-৪ আসনে রনজিত কুমার রায়ের বদলে এনামুল হক বাবলা নৌকার মাঝি। বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিরুল আলম মিলনের পরিবর্তে নতুন মুখ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। খুলনা-১ আসনে পঞ্চানন বিশ্বাসের বদলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ননী গোপাল মণ্ডল। খুলনা-৩ আসনে বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বদলে এস এম কামাল হোসেন এবং খুলনা-৬ আসনে মো. আক্তারুজ্জামানের পরিবর্তে মো রশীদুজ্জামান এবার নৌকার মাঝি। এদিকে সাতক্ষীরা চার আসনের মধ্যে ৩ আসনেই পরিবর্তন রয়েছে। সাতক্ষীরা-১ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে এস এম জগলুল হায়দারের কেউই পাননি নৌকার মনোনয়ন।

এমন পরিবর্তন রয়েছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খানের পরিবর্তে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীনের পরিবর্তে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। আর ঢাকা-১১ আসনে রহমতুল্লাহর পরিবর্তে নৌকার টিকিট পেয়েছেন ওয়াকিল উদ্দিন।

ঢাকা-৫ আসনে কাজী মনিরুল ইসলামকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। আসনটির বর্তমানে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। আর ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ১৪ দলের শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে এবার ঢাকা-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বড় ছেলে সোলায়মান সেলিমকে। আর ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হাসান খান নিখিল। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আগা খান।

এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেন ও ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে বাদ পড়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমীন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা মোশাররফ হোসেন। যদিও মোশাররফ হোসেন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আর চট্টগ্রাম-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও এ বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।

বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান। সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন, সিলেট-৫ আসনের হাফিজ আহম্মেদ মজুমদার ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়া সেন।

আওয়ামী লীগে নতুন যত মুখ

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বেশকিছু নতুন মুখের পাশাপাশি গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ত্রাণমন্ত্রী ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবারও মনোনয়ন পাননি।
মনোনয়ন তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অন্য যেকোনোবারের তুলনায় বেশি নতুন মুখ এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন পঞ্চগড়-১ নাইমুজ্জামান ভুইয়া, ঠাকুরগাঁও-২ মো. মাজহারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. ইমদাদুল হক, নীলফামারী-৩ মো. গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ জাকির হোসেন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ মো. মতিয়ার রহমান, রংপুর-১ রেজাউল করিম রাজু, রংপুর-৩ তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর-৫ রাশেক রহমান, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে, কুড়িগ্রাম-৪ বিপ্লব হাসান, গাইবান্ধা-১ আফরোজা বারী ও গাইবান্ধা-৪ থেকে আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া বগুড়া-২ তৌহিদুর রহমান মানিক, বগুড়া-৩ সিরাজুল ইসলাম খান, বগুড়া-৪ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বগুড়া-৫ মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া-৭ মো. মোস্তফা আলম, নওগাঁ-৩ সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নওগাঁ-৪ নাহিদ মোরশেদ, রাজশাহী-২ মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী-৩ আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-৪ আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সিরাজগঞ্জ-২ জান্নাত আরা হেনরী, সিরাজগঞ্জ-৪ শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ চয়ন ইসলাম, পাবনা-৪ গালিবুর রহমান শরীফ, মেহেরপুর-২ আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং ঝিনাইদহ-৩ সালাউদ্দিন মিরাজী এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্যদিকে, যশোর-২ তৌহিদুজ্জামান, যশোর-৪ এনামুল হক বাবু, মাগুরা-১ সাকিব আল হাসান, বাগেরহাট-৪ বদিউজ্জামাল সোহাগ, খুলনা-১ ননি গোপাল মন্ডল, খুলনা-৩ এসএম কামাল হোসেন, খুলনা-৬ মো. রশীদুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা-২ মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা-৪ এসএম আতাউল হক, বরগুনা-২ সুলতানা নাদিরা, বরিশাল-২ তালুকার মোহাম্মদ ইউনুস, বরিশাল-৩ খালেদ হোসাইন, বরিশাল-৪ ড. শাম্মী আহমদ, বরিশাল-৬ আব্দুল হাফিজ মল্লিক, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, পিরোজপুর-৩ মো. আশরাফুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ কামরুল হাসান খান, টাঙ্গাইল-৪ মো. মাজহারুল ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল-৫ মো. মামুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়, জামালপুর-১ নুর মোহাম্মদ, জামালপুর-৪ মাহবুবুর রহমান, জামালপুর-৫ আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর-৩ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ নিলুফা আনজুম, ময়মনসিংহ-৪ মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ আব্দুল হাই আকন্দ, ময়মনসিংহ-৮ আব্দুস সাত্তার, ময়মনসিংহ-৯ আব্দুস সালাম, নেত্রকোনা-১ মোস্তাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৫ আহমদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আব্দুর কাহার আকন্দ, কিশোরগঞ্জ-৩ মো. নাসিরুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ-১ মো. আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ ছাড়াও ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৫ হারুনুর রশিদ মুন্না, ঢাকা-৬ সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ সোলাইমান সেলিম, ঢাকা-৮ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা-১১ মো. ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, গাজীপুর-৩ রুমানা আলী, নরসিংদী-৩ ফজলে রাব্বী খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আব্দুল্লাহ আল কায়ছার, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-৩ শামীম হক, সুনামগঞ্জ-১ রনজিত চন্দ্র সরকার, সুনামগঞ্জ-২ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সুনামগঞ্জ-৪ মো. সাদিক, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৫ মাসুক উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

মৌলভীবাজার-২ শফিউল আলম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ মোহাম্মদ জিল্লর রহমান, হবিগঞ্জ-১ ডা. মো. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ ময়েজ উদ্দিন শরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ফয়জুর রহমান, কুমিল্লা-১ ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, কুমিল্লা-৮ আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন, চাঁদপুর-১ ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-৩ আবুল বাশার, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলী, চট্টগ্রাম-১ মাহবুব উর রহমান, চট্টগ্রাম-২ খাদিজাতুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৪ এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ মো. আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম-১২ মোতাহেরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-১ আসনে সালাউদ্দিন আহমেদ এবার নৌকার মাঝি হয়েছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন ৫৬ জন সংসদ সদস্য। তার আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও বাদ পড়েন ৪৯ জন সংসদ সদস্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা চতুর্থবারের মতো দলের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবার জনপ্রিয় নেতাদের হাতেই তুলে দেয়া হয় দলীয় প্রতীক নৌকা। এ লক্ষ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দফায় দফায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভিত্তিতে তিনশ আসনে জনপ্রিয় নেতারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন।


এনসিপির দুই নেতা নিলো ২৫ কোটি আর অন্যান্য উপজেলা পেলো ১০-১৫ লাখ টাকা, এটা ত বৈষম্যহীন নীতির পরিপন্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রকল্পের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা বরাদ্দের অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলার জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার এই ঘটনাকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দুই নেতা যদি সত্যিই এই টাকা না নিয়ে থাকেন, তবে যেন প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেন।

রোববার (৩১ মে) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেলা পরিষদের প্রশাসক তাঁর আগের বক্তব্যের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকা প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময়ে কুমিল্লার অন্যান্য উপজেলাগুলোর কপালে জুটেছে মাত্র ১০ থেকে ২৬ লাখ টাকা।

নিজস্ব তহবিল এবং এডিপির টাকার এমন অসমান বণ্টনকে উনাদের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন মোস্তাক মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে এই নতুন অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মহলে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত।

অবশ্য বক্তব্যের শেষভাগে কিছুটা সুর নরম করে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্পষ্ট করেন যে, নেতারা এই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন—এমন দাবি তিনি করছেন না। বরং প্রকল্পের আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের দুই এলাকায় মেগা বরাদ্দ ভাগিয়ে নেওয়ার কারণে তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো যে চরম অবহেলার শিকার হয়েছে, তিনি মূলত সেই পদ্ধতিগত বৈষম্যের কথাই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁয় বিএনপির বস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ১৬:৪১
নওগাঁ প্রতিনিধি

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁ জেলা বিএনপির উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩০মে) সকালে নওগাঁ শহরের কেডির মোড়স্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু,। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নূর ই আলম মিঠু, মোঃ শফিউল আজম ভিপি রানা এবং খায়রুল আলম গোল্ডেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রহমান রিপন।

বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। পরে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ মে, ২০২৬ ২২:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গভীর শ্রদ্ধাভরে এই মহান নেতাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। তার জীবনকালে স্বজাতির চরম ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।’

শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে জাতির ইতিহাসে এক বীর নায়কের স্থান অর্জন করেছেন। ২৬ মার্চ তার স্বাধীনতার ঘোষণার অভয়মন্ত্রে দেশের তরুণ ছাত্র, শ্রমিক, যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে হানাদার বাহিনীর ধ্বংসের শক্তি প্রতিহত করে দেশবাসী বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। বিজয়ের পরে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক দমনমূলক শাসন-শোষনের জাঁতাকলে দেশের মানুষ ভয়াবহ অরাজকতার মধ্যে পতিত হয়। মানুষের নাগরিক অধিকারগুলো হরণ করা হয়, গণতন্ত্রকে দেওয়া হয় কবর। নির্মম একদলীয় দুঃশাসন আইন করে চালু করা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে মুছে দেওয়া হয় স্বেচ্ছাচারী আক্রমণে। একদলীয় প্রভুত্ববাদের অধীনতার নাগপাশে বন্দি করা হয় সারা জাতিকে।’

তৎকালীন অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘নৈরাজ্যের সেই সময়ে সিপাহি ও জনতা মিলিত হয়ে রাজপথে গড়ে তোলে প্রবল প্রতিরোধ। সিপাহি-জনতার মিলিত স্রোতে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি করা হয়। জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় অভিসিক্ত হন। জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্রসহ নাগরিক স্বাধীনতা। গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক সার্থকতা নিশ্চিত করেন। শুরু করেন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেন। ব্যক্তিজীবনেও দুর্নীতি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণকে তিনি ঘৃণা করতেন। তার অন্তর্গত স্বচ্ছতা তাকে দিয়েছে এক অনন্য ঈর্ষণীয় উচ্চতা। তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কারণেই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয় এবং অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।’

জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক শাহাদাত ও তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশবিরোধী চক্র তার বিরুদ্ধে নীলনকশা আঁটতে শুরু করে। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একজন মহান দেশপ্রেমিককে হারায় দেশবাসী। তবে চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোনাে ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরূক হয়ে অবস্থান করেন। তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াও আপসহীনতা নিয়ে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র, দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা করে। নিখাদ দেশপ্রেমিক শহীদ জিয়াকে কখনো তার বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি। তিনি সারা জীবন আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে গেছেন আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে।’

বিগত শাসনামলের সমালোচনা ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বন্দি করেছিল ফ্যাসিবাদের কারাগারে। গুম, খুন, নির্যাতন ও জুলুম ছিল পতিত ফ্যাসিবাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র হাতিয়ার। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে এক লুটেরা মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী। এ অবস্থায় অপরুদ্ধ গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারে ছাত্র, শ্রমিক, জনতাসহ সব গণতন্ত্রকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি, প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরমতসহিঞ্চুতাসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রকে স্থীতিশীল ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রির প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় জীবনের সব সংকট, সংগ্রাম ও বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’ পরিশেষে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দলীয় নেতা-কর্মী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।


সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে: রুহুল কবির রিজভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত চলছে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকারের যে ভুলগুলো আছে তা আপনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু চক্রান্ত করা, ষড়যন্ত্র করা এবং নানাভাবে চক্রান্তের ইঙ্গিত দেওয়া এটা এদেশের মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেয় নি, কখনো নিবেও না।’

এ সময় তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান।

রিজভী জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবে দলটি। এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি। পরে বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও একই ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।


ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় প্রভাব সহ্য করা হবে না, সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া কালিবাড়ী বড় মাঠের পশ্চিম পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি চলবে না; যাদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা থাকবে, কেবল তারাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ সময় ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং উল্লেখ করেন যে, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির প্রেক্ষিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে উপাচার্য নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক ও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


মারা গেলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই বর্ষীয়ান জননেতার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা দবিরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির আঙিনায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের প্রারম্ভে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আদর্শে দীক্ষিত হলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ঠাকুরগাঁও-২ নির্বাচনী এলাকা থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বিরল অনন্য কীর্তি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

দীর্ঘ সংসদীয় জীবনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ সময় কারান্তরীণ থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার নিমিত্তে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


দেশ ও জনগণের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকলকে ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, কোরবানি কোন হত্যা নয় এটি সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। ত্যাগের মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। আজকের দিনে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন— আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশের স্বার্থে , মুসলমানদের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সকল মুসলমান যেন শান্তিতে থাকেন, যুদ্ধবিগ্রহের মধ্য দিয়ে যেন ক্ষতি না হয় এই দোয়া করি। আমাদের কোরবানি যেন আল্লাহ তা’লা কবুল করেন। এ সময় সবাইকে, মনের কলুষতা পরিত্যাগেরও আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।


এনসিপির আয়ের প্রধান উৎস চাঁদাবাজি: রাশেদ খাঁন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে চাঁদাবাজি বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, এ্যানী ভাই কোরবানী দিচ্ছেন সেই প্রশ্ন করছেন। কিন্তু আপনারা রূপায়নে একটি অফিস নিয়ে লাখ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছেন সেই টাকা কোথায় পাচ্ছেন? নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী গাড়িতে ঘুরে বেড়াই। সাথে প্রটোকল নিয়ে যায়। সেই টাকা কোথায় পায়। সার্জিস আলম নাহিদ ইসলামের আয়ের উৎস কোথায়?

এনসিপি নেতাদের আরও সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে বিএনপি বা জামায়াতের কোন হাত নেই। এই চুক্তি এনসিপি করিয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমালোচনা করে রাশেদ বলেন, রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার ভুলে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অমানুষের মতো আজেবাজে কথা বলছে। ঝিনাইদহ সফরকালে সে অস্ত্রধারী ক্যাডার নিয়ে এসেছিল। তার ওপরে ছাত্রদলের কেউ হামলা করেনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেয়া ছাড়া উপায় নেই। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের যেখানে যাবে, তাকে আরও হেনস্তার শিকার হতে হবে। বিএনপি নয়, সাধারণ জনগন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো বেয়াদবদের শায়েস্তা করবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত কখনোই দেশের ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। জামায়াত সব সময় অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। আজ তারা বিএনপি সরকারকে পতনে ভয় দেখায়। জামায়াত-এনসিপি মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই অপশক্তিকে আর দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।
সেসময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির হাসান মোহন, উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা তবিবুর রহমান মিনি উপস্থিত ছিলেন।


ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বিবৃতিটি বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষর করে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ দুনিয়াজুড়ে মুসলমানদের আমি পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাই। আমি কামনা করি তাদের অবিরাম সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। ঈদুল আজহা সকলের জীবনকে করে তুলুক আনন্দময়… মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমি এ প্রার্থনা জানাই।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আজহা, যা ‘ত্যাগের উৎসব’ নামেও পরিচিত। ঈদুল আজহার তাৎপর্য হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এ কারণে বিশ্ব মুসলিম ঈদুল আজহার উৎসবে মিলিত হয়। মনের অশুভ অন্ধকার দূর করে সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের মূল শিক্ষার উৎসই হলো পশু কুরবানি। কুরবানির মহিমান্বিত শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ঈদুল আজহার প্রধান শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন। এটি ত্যাগের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের উৎসব। এর মাধ্যমে মুসলমানেরা মহান আল্লাহ পাকের প্রতি নিবেদিত বান্দা হওয়ার প্রেরণা পায়। প্রতিটি উৎসবই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের চিত্তবৃত্তি ও ঔদার্য প্রসারিত করে। উৎসব মানবজাতিকে সম্প্রীতির অটুট বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং সামাজিক অন্ধকারের গহন থেকে মানবিক আলোর ভূমিতে সমবেত করে।


তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ভাঙ্গুড়ায় ঈদ উপহার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে দলীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো হয়, যেখানে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানান (পাবনা, সিরাজগঞ্জ,৩৩০) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোজাহিদ স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন,“বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি করি। ঈদের আনন্দ যেন কোনো দলীয় নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই ঈদ উপহার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“বর্তমান সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চলমান থাকবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান,নুরুল ইসলাম বরাত, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম,মামুন ও জামাল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরকার হুমায়ুন আহমেদ মূন ও সদস্য সচিব লিখন সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ূন কবির, কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে দলীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।


শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি: রিজভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ বাগাড়ম্বর এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি।

তিনি বলেন, সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঈদযাত্রা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এবার দেশের মানুষ অত্যন্ত স্বস্তিতে ও শান্তিতে ঈদ যাপন করতে যাচ্ছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে জায়মা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন দুদকের পিপি ও ময়মনসিংহ জজ কোর্টের আইনজীবী এ কে এম আজিজুল হক খান।

নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। নোটিশ প্রেরণকারী নিজেও মর্মাহত হয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, কেন তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে না—এ বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশে যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যাডভোকেট এ কে এম আজিজুল হক খান, জজ কোর্ট, ময়মনসিংহ, জুবেদ আলী ভবন, কক্ষ নং-৮৫, ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতি।


ঝিনাইদহে এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ ২২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার (২২ মে) রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান নেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাতে পুলিশের বিশেষ পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্যরা ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রদল নেতা এনামুল কবিরের দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যার নম্বর ৪৩। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


banner close