আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ বাদে সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। বাকি দুটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে।
ঘোষিত আসনে বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন মুখসহ দলের বেশ কিছু সাবেক এমপি ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে অন্তত ৭০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ বর্তমান সংসদের ৭২ জন সদস্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে যোগ হয়েছেন নতুন বেশ কিছু মুখ।
তিন প্রতিমন্ত্রী হলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।
খুলনা-৩ আসনে মন্নুজান সুফিয়ানের পরিবর্তে এস এম কামাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে কে এম খালিদের পরিবর্তে আবদুল হাই আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাকির হোসেনের পরিবর্তে বিপ্লব হাসানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনজন ছাড়া সবাই মনোনয়ন পেয়েছেন।
মনোনয়নের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্য যেকোনোবারের তুলনায় এবার বেশি নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নতুনদের মধ্যে পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, তারকা ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র অভিনেতা, স্বনামধন্য কিছু পেশাজীবীও রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে, একাদশ জাতীয় সংসদে থাকা যশোর-২ আসনের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের সাইফুজ্জামান শিখর, ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিম ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মনোনয়ন পাননি। এ ছাড়া বাদ পড়েছেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
পঞ্চগড়-১ মাজহারুল হক প্রধানের বদলে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন মো. নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া। দবিরুল ইসলামের বদলে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মাজহারুল ইসলাম। রংপুর-৫ আসনে এইচ এন আশিকুর রহমানের পরিবর্তে রাশেক রহমান। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে এম এ মতিনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে। এদিকে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. বিপ্লব হাসান। গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোয়ার হোসেনের বদলে আবুল কালাম আজাদ।
বগুড়া-৫ আসনে মো. হাবিবর রহমানের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান মজনু। নওগাঁ-৩ আসনে মো. ছলিম উদ্দীন তরফদারের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। নওগাঁ-৪ আসনে মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রাং-এর বদলি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মো. নাহিদ মোর্শেদকে। মো. আয়েন উদ্দিনের বদলে রাজশাহী-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগের বাছাই মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী-৪ আসনে এনামুল হকের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। পরিবর্তন আছে রাজশাহী-৫ আসনেও। মনোনয়ন পাননি বর্তমান এমপি মো. মনসুর রহমান। মো. হাবিবে মিল্লাতের বদলে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মাঝি এবার মোছা. জান্নাত আরা হেনরী। পরিবর্তন আছে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনেও। তানভীর ইমামের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও মেরিনা জাহানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন চয়ন ইসলাম। পাবনার একমাত্র পরিবর্তন ৪ নম্বর আসনে। মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।
মেহেরপুর-২ আসনে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো. শফিকুল আজম খাঁনের বদলে নৌকার মাঝি মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী। যশোর-২ মো. নাসির উদ্দিনের পরিবর্তে মো তৌহিদুজ্জামান এবং যশোর-৪ আসনে রনজিত কুমার রায়ের বদলে এনামুল হক বাবলা নৌকার মাঝি। বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিরুল আলম মিলনের পরিবর্তে নতুন মুখ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। খুলনা-১ আসনে পঞ্চানন বিশ্বাসের বদলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ননী গোপাল মণ্ডল। খুলনা-৩ আসনে বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বদলে এস এম কামাল হোসেন এবং খুলনা-৬ আসনে মো. আক্তারুজ্জামানের পরিবর্তে মো রশীদুজ্জামান এবার নৌকার মাঝি। এদিকে সাতক্ষীরা চার আসনের মধ্যে ৩ আসনেই পরিবর্তন রয়েছে। সাতক্ষীরা-১ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে এস এম জগলুল হায়দারের কেউই পাননি নৌকার মনোনয়ন।
এমন পরিবর্তন রয়েছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খানের পরিবর্তে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীনের পরিবর্তে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। আর ঢাকা-১১ আসনে রহমতুল্লাহর পরিবর্তে নৌকার টিকিট পেয়েছেন ওয়াকিল উদ্দিন।
ঢাকা-৫ আসনে কাজী মনিরুল ইসলামকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। আসনটির বর্তমানে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। আর ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ১৪ দলের শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে এবার ঢাকা-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বড় ছেলে সোলায়মান সেলিমকে। আর ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হাসান খান নিখিল। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আগা খান।
এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেন ও ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে বাদ পড়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমীন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা মোশাররফ হোসেন। যদিও মোশাররফ হোসেন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আর চট্টগ্রাম-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও এ বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।
বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান। সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন, সিলেট-৫ আসনের হাফিজ আহম্মেদ মজুমদার ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়া সেন।
আওয়ামী লীগে নতুন যত মুখ
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বেশকিছু নতুন মুখের পাশাপাশি গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ত্রাণমন্ত্রী ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবারও মনোনয়ন পাননি।
মনোনয়ন তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অন্য যেকোনোবারের তুলনায় বেশি নতুন মুখ এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন পঞ্চগড়-১ নাইমুজ্জামান ভুইয়া, ঠাকুরগাঁও-২ মো. মাজহারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. ইমদাদুল হক, নীলফামারী-৩ মো. গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ জাকির হোসেন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ মো. মতিয়ার রহমান, রংপুর-১ রেজাউল করিম রাজু, রংপুর-৩ তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর-৫ রাশেক রহমান, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে, কুড়িগ্রাম-৪ বিপ্লব হাসান, গাইবান্ধা-১ আফরোজা বারী ও গাইবান্ধা-৪ থেকে আবুল কালাম আজাদ।
এ ছাড়া বগুড়া-২ তৌহিদুর রহমান মানিক, বগুড়া-৩ সিরাজুল ইসলাম খান, বগুড়া-৪ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বগুড়া-৫ মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া-৭ মো. মোস্তফা আলম, নওগাঁ-৩ সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নওগাঁ-৪ নাহিদ মোরশেদ, রাজশাহী-২ মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী-৩ আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-৪ আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সিরাজগঞ্জ-২ জান্নাত আরা হেনরী, সিরাজগঞ্জ-৪ শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ চয়ন ইসলাম, পাবনা-৪ গালিবুর রহমান শরীফ, মেহেরপুর-২ আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং ঝিনাইদহ-৩ সালাউদ্দিন মিরাজী এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।
অন্যদিকে, যশোর-২ তৌহিদুজ্জামান, যশোর-৪ এনামুল হক বাবু, মাগুরা-১ সাকিব আল হাসান, বাগেরহাট-৪ বদিউজ্জামাল সোহাগ, খুলনা-১ ননি গোপাল মন্ডল, খুলনা-৩ এসএম কামাল হোসেন, খুলনা-৬ মো. রশীদুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা-২ মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা-৪ এসএম আতাউল হক, বরগুনা-২ সুলতানা নাদিরা, বরিশাল-২ তালুকার মোহাম্মদ ইউনুস, বরিশাল-৩ খালেদ হোসাইন, বরিশাল-৪ ড. শাম্মী আহমদ, বরিশাল-৬ আব্দুল হাফিজ মল্লিক, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, পিরোজপুর-৩ মো. আশরাফুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ কামরুল হাসান খান, টাঙ্গাইল-৪ মো. মাজহারুল ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল-৫ মো. মামুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়, জামালপুর-১ নুর মোহাম্মদ, জামালপুর-৪ মাহবুবুর রহমান, জামালপুর-৫ আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর-৩ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ নিলুফা আনজুম, ময়মনসিংহ-৪ মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ আব্দুল হাই আকন্দ, ময়মনসিংহ-৮ আব্দুস সাত্তার, ময়মনসিংহ-৯ আব্দুস সালাম, নেত্রকোনা-১ মোস্তাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৫ আহমদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আব্দুর কাহার আকন্দ, কিশোরগঞ্জ-৩ মো. নাসিরুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ-১ মো. আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।
এ ছাড়াও ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৫ হারুনুর রশিদ মুন্না, ঢাকা-৬ সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ সোলাইমান সেলিম, ঢাকা-৮ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা-১১ মো. ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, গাজীপুর-৩ রুমানা আলী, নরসিংদী-৩ ফজলে রাব্বী খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আব্দুল্লাহ আল কায়ছার, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-৩ শামীম হক, সুনামগঞ্জ-১ রনজিত চন্দ্র সরকার, সুনামগঞ্জ-২ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সুনামগঞ্জ-৪ মো. সাদিক, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৫ মাসুক উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-২ শফিউল আলম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ মোহাম্মদ জিল্লর রহমান, হবিগঞ্জ-১ ডা. মো. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ ময়েজ উদ্দিন শরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ফয়জুর রহমান, কুমিল্লা-১ ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, কুমিল্লা-৮ আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন, চাঁদপুর-১ ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-৩ আবুল বাশার, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলী, চট্টগ্রাম-১ মাহবুব উর রহমান, চট্টগ্রাম-২ খাদিজাতুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৪ এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ মো. আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম-১২ মোতাহেরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-১ আসনে সালাউদ্দিন আহমেদ এবার নৌকার মাঝি হয়েছেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন ৫৬ জন সংসদ সদস্য। তার আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও বাদ পড়েন ৪৯ জন সংসদ সদস্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা চতুর্থবারের মতো দলের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবার জনপ্রিয় নেতাদের হাতেই তুলে দেয়া হয় দলীয় প্রতীক নৌকা। এ লক্ষ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দফায় দফায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভিত্তিতে তিনশ আসনে জনপ্রিয় নেতারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন।
মাদারীপুরে নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় শিবচর উপজেলায় তাইজুল ইসলাম নামে এক জামায়াত নেতাকে দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের নিজ বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর সন্ধ্যা থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাতের মধ্যে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও গ্রুপে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাইজুল ইসলাম কোনো ইউনিটের সভাপতি নয়। তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ আসার পর তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে বাসায় এনে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেন তিনি। এ ধরনের অপরাধীদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’
এদিকে, নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তাইজুল ইসলাম দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যে নারীকে দেখা গেছে, তিনি তার স্ত্রী।
ঘটনা জানাজানির পর থেকে তাইজুল ইসলাম আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফোনেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জামায়াতে ইসলামীর শিবচর উপজেলা শাখার আমির মো. সরোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, নিলখী ইউনিয়নের ওই এলাকাটি শিবচরের একটি দুর্গম অঞ্চল। তিনি এই দুর্গম এলাকায় (তাইজুল ইসলাম) দাওয়াত ও প্রচারণার কাজ করতেন। যেহেতু তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাই স্থানীয়রা তাকে ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেই মনে করতেন। আগে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে মানুষ তাকে ভালো জানতেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানার পর তাকে আমাদের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারীপুর জামায়াতের জেলা আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমান বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো ছাড় নেই, সে যেই হোক। দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটাও সঠিক নেওয়া হবে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. রাকিবুল হাসান জানান, আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আপাতত পুলিশের কাছে আর কোনো নতুন তথ্য নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া একটি সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত একক প্রার্থী এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তা বৈধ বলে ঘোষণা করেন উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান।
উক্ত আসনে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এলিজা জামান একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ঘোষিত তফসিলের নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য রয়েছে। এই নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে কমিশন।
এর আগে গত ১ অক্টোবর দলটির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ফলে আসনটি শূন্য হয়েছিল। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।
জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি আসনে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনপ্রণেতারা নির্বাচিত হন এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। প্রচলিত নির্বাচনী আইনের বিধান মোতাবেক সাধারণ নির্বাচনে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতিক হারে এই ৫০টি সংরক্ষিত আসন বণ্টিত হয়। বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি আনুপাতিক হারে ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন লাভ করে, যার একটিতে পূর্বে মিষ্টিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া এলিজা জামান বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ক্রেডিট নেওয়ার অথবা সস্তা বাহবা পাওয়ার জন্য দেওয়া আইজিপির বক্তব্যে দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে স্বস্তির বদলে বিব্রত ও ভীত করবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিলে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি চিকিৎসাসেবা (মেডিক্যাল ক্যাম্প) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান একটি সরকারের পক্ষে সব কথা বলেন, তা সরকারকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে ভীত পাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করে। পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা আছেন, তাদেরকে কাজে লাগান। নিরপেক্ষভাবে ও স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগ করলে সমাজে কোনো অপরাধ থাকবে না। কিন্তু সস্তা ক্রেডিট বা বাহবা নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কথা বললে তা দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকেও বিব্রত করবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তরুণদের স্বাধীনভাবে দক্ষ করে তুলে দেশের উৎপাদন ও উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জাতির পুনর্গঠনে তরুণ সমাজকে বিশৃঙ্খল নয়, বরং মূল অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মী রক্তদান, মানবিক সেবা, বৃক্ষরোপণ এবং উৎপাদনমুখী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
যুবদলের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি, সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, ফেরদৌস মুন্না, এজমাল হোসেন পাইলট, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. তারেকুজ্জামান, আবুল মনসুর খান দীপক, খন্দকার আল আশরাফ মামুন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, নির্বাহী কমিটির সদস্য এবিএম মহসিন বিশ্বাসসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ধারাবাহিক আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও রাজপথের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল নিজেদের বিএনপির এক ইস্পাতকঠিন অগ্রবর্তী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে যুবদলের অগণিত নেতাকর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী জানান, আজ থেকে ৪৮ বছর পূর্বে স্বাধীনতার ঘোষক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে সংগঠনের সূচনা হয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে তা আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের সর্ববৃহৎ ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
বিগত সরকারের আমলের তীব্র রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাহসিকতা ও আপসহীনতার প্রতীক যুবদলকে দীর্ঘদিন ধরে নির্মম রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাসের পর মাস কারাবরণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় নেতাকর্মীদের যাবজ্জীবন সাজার মুখোমুখি করা হলেও তারা নিজেদের আদর্শিক কর্তব্য ও গণতান্ত্রিক লড়াই থেকে একচুলও সরে যাননি।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রূপরেখা প্রসঙ্গে রিজভী উল্লেখ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎপাদন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণকল্যাণ এবং সামাজিক সুরক্ষাকেন্দ্রিক যে নতুন ধারার রাজনীতির ডাক দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে যুবদল কার্যকর চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। দেশ পুনর্গঠন ও নাগরিকের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের প্রতিটি পদক্ষেপে তারেক রহমানের বিশ্বস্ত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে এই সংগঠন।
এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১১টায় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ শেষে মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্য দিয়েই নিজের প্রত্যক্ষ রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলের সামনের সারিতে সক্রিয় থাকা থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের পেছনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।
রাজনীতিতে নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তারেক রহমান লেখেন, ‘শুভ ভাই সঠিক বলেছেন, প্রাণের সংগঠন ছাত্রদলের হাত ধরেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা। ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলের একেবারে সামনের লাইনেই ছিলাম। আমার মনে আছে রানীর দিঘির পাড়ে সন্ধ্যায় কুবি, ছাত্রলীগের শহর শাখা আমার গলায় অ্যান্টিকাটার ধরেছিল। ২০১৩-তে কোটা আন্দোলনে আমরা একটা টিম ঢাকায় এসে অংশ নিলে চারুকলার সামনে আক্রান্ত হই। ১৪-এর নির্বাচনকেন্দ্রিক হরতাল-অবরোধে খুব সক্রিয় ছিলাম আমি। এরপর থেকেই রাজনীতি থেকে সরিয়ে নিই নিজেকে, পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি।’
কোটা আন্দোলন পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘২০১৩-এর কোটা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৭-তে ঢাকায় ঢুকি পুনরায় কোটা আন্দোলন করতে। ১৮-এর কোটা আন্দোলনের উদ্যোগটা আমিই নিই, অদ্ভুত সব কৌশল ছিল, মনে হলে মায়া লাগে।’
তৃণমূল শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার স্মৃতিচারণ করে তারেক লেখেন, ‘১৮-এর কোটা আন্দোলন শুরুর আগে পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়তাম, হাতে লেখা লিফলেট সবার টেবিলে টেবিলে রেখে দিতাম। অনেক কষ্টে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করেছিলাম একটা বড় আন্দোলনের জন্য। কনফিডেন্স, ওরাকল সার্বিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছিল তাদের লাইব্রেরিগুলোতে যেন আমি কাজ করতে পারি। কনফিডেন্সে সানোয়ার স্যার একজন শিক্ষক হয়েও সবটা দিয়ে এই আন্দোলনে সহযোগিতা করেছেন।’
সেই সময়কার রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রথম প্রতিরোধ সম্পর্কে তারেক রহমান লেখেন, ‘তখন আমি আর কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তবে ছাত্ররাজনীতির সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি কোটা আন্দোলনে। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আমিসহ ৫৪ জন আটক হলে, আমার বন্ধু বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মোশারফ হোসাইনকে ফোন করলে, ছাত্রদলের অপর সহযোদ্ধা কামরুল ভাইয়ের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে অবরুদ্ধ করে। আমাদের মুক্তি পর্যন্ত সেই অবরোধ জারি ছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অবরোধ ছিল কোটা আন্দোলনের প্রথম রাজপথের প্রতিরোধ। কুবিতে তানভীর, হানিফ, তরিকুল অসাধারণ কাজ করেছে সে সময়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমার গা শিউরে উঠে কুবিয়ান হয়ে, ঢাবিতে ছাত্রলীগের ডেরায় ঢুকে কীভাবে এই আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’ এরপর অন্যান্য নেতাদের যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীন মোহাম্মদ ভাই, ভিপি নুর ভাই, রাশেদ খান ভাই, মামুন ভাই, ফারুক হাসান ভাই, সোহরাব হোসেন ভাইয়েরা এসে আমার সঙ্গে যুক্ত হলেন, সবাই মিলে অসাধারণ এক লড়াইয়ের অধ্যায় ছিল।’
রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিবর্তন বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সময়ের প্রেক্ষাপটে ছাত্র অধিকার গঠন, সেখান থেকে যুব, গণ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ গঠন। বিভেদ, ভুল-বোঝাবুঝি থেকে আলাদা হলাম। মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের উদ্যোগে গঠিত আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক আমি। রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো স্যারের কাছ থেকেই আমি শিখেছি।’
নিজের আদর্শিক চেতনা ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের সম্পৃক্ততা জানিয়ে তারেক রহমান লেখেন, ‘তবে জাতীয়তাবাদের এই লড়াইয়ের শিক্ষা ছাত্রদল হতেই পেয়েছি। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, গণতন্ত্রের মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শই আমার শিকড় ছিল। এমনকি, ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পণ্য বর্জন আন্দোলন, এক দফার যুগপৎ আন্দোলন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের সুযোগ্য সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, পরামর্শেই কাজ করেছি।’
এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তারেক রহমানের ছাত্রদলে সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। রবিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘স্নেহের ছোট ভাই তারেক রহমান। একসময়কার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য ছিল। তোমার জন্য শুভকামনা রইল। ২০১১-২০১৩ সালে আন্দোলনে কল দিলে বা মেসেজ দিলে সরব উপস্থিতি ছিল তোমার, একসঙ্গে বহুদিন হাসিনাবিরোধী হরতাল, অবরোধে সময় দিয়েছো। সেই থেকে এখন অবধি তোমার হাসিনাবিরোধী অবস্থান প্রশংসা পাবার মতো।’
পরাজিত শক্তির সাথে কেউ আতাঁত করে সুবিধা নিতে চাইলে তার দায় তাদেরকেই নিতে হবে, জনগণ তাদের প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত। যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্মরণ করিয়ে দেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিল। আবারও কোনো শক্তি গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চাইলে, জনগণ তা প্রতিহত করবে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের যৌথসভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, জাতীয় প্রেসক্লাবে বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় যোগ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।’ দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন ন্যায়নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল একজন মানুষ। তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলেও তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত বা কেনার চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।’
স্মরণসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তন না হলে ক্ষমতায় যিনিই আসবেন, তিনিই আবার ‘শেখ হাসিনা’ হয়ে উঠবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, ‘শুধু ড্রাইভার বা চালক পরিবর্তন করে লাভ নেই, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল মেশিনই পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে সবচেয়ে দক্ষ চালক দিয়েও গাড়িকে সঠিক পথে নেওয়া সম্ভব নয়।’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারি রয়্যাল পার্টি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক মতবিনিময় সভার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপি প্রধান বলেন, ‘দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং এখনও কোথাও কোথাও সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন না আনলে বর্তমান ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখি না। ভারত মূলত বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপে রাখতে আওয়ামী লীগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে দেশপ্রেমই মুখ্য।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ‘কেবল নামমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলেই চলবে না; প্রধান উপদেষ্টা ও পুরো পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো একক দল নিজেদের পছন্দসই লোক দিয়ে সরকার গঠনে অপচেষ্টা চালালে এনসিপি তা প্রতিহত করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা দাবিতে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের নদী ভরাট, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধে স্থানীয়দের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, মুন্সীগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩২৩ মহিলা-২৩-এর উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ আসনে বিএনপি ও জোটের পক্ষ থেকে এলিজা জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত ছিল। আজ ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগমীকাল ২৮ অক্টোবর আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে আগামী ২৯ অক্টোবর।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ নভেম্বর। পরদিন ২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ নভেম্বর।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় আসেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
এ ঘটনার পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পরে তার পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।
এরপর শূন্য আসনে উপনির্বাচনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। সেই নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থী হিসেবে এলিজা জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হলো।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সত্যনিষ্ঠ ও আদর্শবান সাংবাদিকরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গিয়াস কামাল চৌধুরী, আতাউস সামাদ ও ফয়েজ আহমেদের মতো সাংবাদিকরা সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তাদের সাহসিকতা, নীতিবোধ ও দৃঢ় অবস্থান স্বৈরাচারের পতনের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদের শাসনামলে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে মানুষ বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার ওপর নির্ভর করতেন। সে সময় ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী এবং বিবিসির সাংবাদিক আতাউস সামাদের সংবাদ পরিবেশন ছিল মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কণ্ঠেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের খবর জানতে পারতেন সাধারণ মানুষ।’
তিনি বলেন, ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতো। গ্রেপ্তার ও হয়রানির মধ্যেও গিয়াস কামাল চৌধুরী সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন চালিয়ে গেছেন। নিরাপত্তার কারণে কখনো কখনো তাকে সংবাদ পাঠানোর স্থানও গোপন রাখতে হতো। পেশাগত দায়িত্বের প্রতি এমন নিষ্ঠা ও সাহসিকতাই তাকে মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘ওই সময়ের অনেক সাংবাদিক ছিলেন নীতিবান, দৃঢ়চেতা ও আপসহীন। নানা প্রলোভন ও চাপের মুখেও তারা আদর্শ থেকে সরে আসেননি। সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার যে দৃষ্টান্ত তারা রেখে গেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্যও অনুসরণীয়।’
গিয়াস কামাল চৌধুরীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার অসাধারণ বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা এবং তরুণদের প্রতি আন্তরিক ও স্নেহশীল আচরণ তাকে মুগ্ধ করত। তিনি শুধু একজন সাহসী সাংবাদিকই ছিলেন না, ছিলেন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।’
আলোচনা সভায় গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রুহুল কবির রিজভী।
অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জাতির যেকোনো সংকটে গণঅধিকার পরিষদ পথ দেখাবে উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন ‘গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ হঠাৎ করে কিংবা কোনো আলাদিনের চেরাগে আজকের রাজনৈতিক অবস্থানে আসেননি। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন ও রক্তের বিনিময়ে তাদের এই অবস্থান তৈরি হয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আল-রাজি কমপ্লেক্সে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।’
নুরুল হক নুর আরও বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির আস্ফালন দেখার জন্য বিগত সময়ে লড়াই-সংগ্রাম করা হয়নি। একটি দল জুলাইয়ের চেতনার কথা বলে মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে বাধা দেয়; তারা দেশকে এমন অসভ্যতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের স্বাধীনতাবিরোধী তকমা আড়াল করতেই তারা এমন কর্মকাণ্ড করছে। এই গুপ্ত সংগঠনগুলো দেশের অগ্রগতি চায় না।’
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী রাজনীতিতে গণঅধিকার পরিষদকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব চেষ্টা কখনো সফল হবে না।’
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— দলের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, মুখপাত্র আবু হানিফ, মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম, মহানগর দক্ষিণের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি নাদিম হাসান, আইনজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট খালিদ হাসান, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গণঅধিকার পরিষদ। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, আপনি (শেখ হাসিনা) আসেন, আমরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছি। বাংলাদেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের লড়াই-সংগ্রাম শেষে গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে এ সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। ভঙ্গুর অর্থনীতির এই দেশে জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
সরকারকে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করার সুযোগ দিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একসঙ্গে লড়াই করা বিরোধী দলগুলোর প্রতি তিনি আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
রুহুল কুদ্দুস দুলু বলেন, বিগত প্রায় ২০ বছর দেশে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন, রক্ত ও দীর্ঘ ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সীমাহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতার আওতায় আনার মতো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্জিত গণতন্ত্র যেন পুনরায় বিপন্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় রমিজ উদ্দিন কাজীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মোস্তফা কামাল মজুমদার ও সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার উর্মি। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে আর লংমার্চ, রোডমার্চ বলে কিছু থাকবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলগুলোর দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় গোলাম পরওয়ার এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। তাই তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের নামে জুলাই সনদের সাথে বেইমানি করছে। এই প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি। গণভোটের মাধ্যমে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে, হচ্ছে। সরকার ১ কোটি লোককে চাকরি দেবে বলেছে। সেখানে উল্টোটা হচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ। আইন এবং শৃঙ্খলা কোনোটাই নেই। সরকারে যারা আছে তারা বিচার পাচ্ছে। যারা সরকারে নেই তারা বিচার পাচ্ছে না। বন্ধ ব্যাংক চালুর ব্যবস্থা করেন। এতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
জামায়াত নেতা আরও বলেন, প্রবাসে যারা আছেন তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখছে না। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কিন্তু তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে না। কিছু এমপি আছে তারা এলাকায় কোনো ভূমিকা রাখেন না।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নয়, আধিপত্যবাদের স্বপক্ষের শক্তি।’ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর কাঁটাবন মসজিদে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ কর্তৃক লগি-বইঠা হত্যাকাণ্ডে শহীদ ও আহতদের স্মরণে’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।
স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি তারাই যারা শত জুলুম-নির্যাতনের পরও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি উল্লেখ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, দেশের সংকটকালে জনগণকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি রেখে একমাত্র জামায়াতে ইসলামী কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা স্বেচ্ছায় নির্বাসনে লন্ডন বা দিল্লি চলে যায়নি। যারা দেশ ছেড়ে নিজেদের প্রভুর দেশ দিল্লি আর লন্ডন চলে যায়, তারা কখনো স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হতে পারে না, দেশপ্রেমিক হতে পারে না।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সেদিন আওয়ামী লীগ মূলত আধিপত্যবাদী শক্তির সহযোগিতায় জামায়াত-শিবিরকে নিঃশেষ করতে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে এ দেশে আবারও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চক্রান্তে লিপ্ত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ‘লগি-বইঠা হত্যাকাণ্ডের’ বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, দ্রুত ২৮ অক্টোবরের করা মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে হবে। নতুবা জাতি বুঝে নেবে, বিএনপি ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচার না করার নিশ্চয়তা দিয়ে আধিপত্যবাদের সঙ্গে আঁতাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানীসহ অনেকে।