বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
৯ মাঘ ১৪৩২

৭২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন

আপডেটেড
২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ বাদে সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। বাকি দুটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে।

ঘোষিত আসনে বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন মুখসহ দলের বেশ কিছু সাবেক এমপি ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে অন্তত ৭০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ বর্তমান সংসদের ৭২ জন সদস্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে যোগ হয়েছেন নতুন বেশ কিছু মুখ।

তিন প্রতিমন্ত্রী হলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

খুলনা-৩ আসনে মন্নুজান সুফিয়ানের পরিবর্তে এস এম কামাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে কে এম খালিদের পরিবর্তে আবদুল হাই আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাকির হোসেনের পরিবর্তে বিপ্লব হাসানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনজন ছাড়া সবাই মনোনয়ন পেয়েছেন।

মনোনয়নের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্য যেকোনোবারের তুলনায় এবার বেশি নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নতুনদের মধ্যে পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, তারকা ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র অভিনেতা, স্বনামধন্য কিছু পেশাজীবীও রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে, একাদশ জাতীয় সংসদে থাকা যশোর-২ আসনের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের সাইফুজ্জামান শিখর, ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিম ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মনোনয়ন পাননি। এ ছাড়া বাদ পড়েছেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

পঞ্চগড়-১ মাজহারুল হক প্রধানের বদলে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন মো. নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া। দবিরুল ইসলামের বদলে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মাজহারুল ইসলাম। রংপুর-৫ আসনে এইচ এন আশিকুর রহমানের পরিবর্তে রাশেক রহমান। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে এম এ মতিনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে। এদিকে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. বিপ্লব হাসান। গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোয়ার হোসেনের বদলে আবুল কালাম আজাদ।

বগুড়া-৫ আসনে মো. হাবিবর রহমানের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান মজনু। নওগাঁ-৩ আসনে মো. ছলিম উদ্দীন তরফদারের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। নওগাঁ-৪ আসনে মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রাং-এর বদলি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মো. নাহিদ মোর্শেদকে। মো. আয়েন উদ্দিনের বদলে রাজশাহী-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগের বাছাই মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী-৪ আসনে এনামুল হকের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। পরিবর্তন আছে রাজশাহী-৫ আসনেও। মনোনয়ন পাননি বর্তমান এমপি মো. মনসুর রহমান। মো. হাবিবে মিল্লাতের বদলে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মাঝি এবার মোছা. জান্নাত আরা হেনরী। পরিবর্তন আছে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনেও। তানভীর ইমামের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও মেরিনা জাহানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন চয়ন ইসলাম। পাবনার একমাত্র পরিবর্তন ৪ নম্বর আসনে। মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।

মেহেরপুর-২ আসনে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো. শফিকুল আজম খাঁনের বদলে নৌকার মাঝি মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী। যশোর-২ মো. নাসির উদ্দিনের পরিবর্তে মো তৌহিদুজ্জামান এবং যশোর-৪ আসনে রনজিত কুমার রায়ের বদলে এনামুল হক বাবলা নৌকার মাঝি। বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিরুল আলম মিলনের পরিবর্তে নতুন মুখ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। খুলনা-১ আসনে পঞ্চানন বিশ্বাসের বদলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ননী গোপাল মণ্ডল। খুলনা-৩ আসনে বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বদলে এস এম কামাল হোসেন এবং খুলনা-৬ আসনে মো. আক্তারুজ্জামানের পরিবর্তে মো রশীদুজ্জামান এবার নৌকার মাঝি। এদিকে সাতক্ষীরা চার আসনের মধ্যে ৩ আসনেই পরিবর্তন রয়েছে। সাতক্ষীরা-১ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে এস এম জগলুল হায়দারের কেউই পাননি নৌকার মনোনয়ন।

এমন পরিবর্তন রয়েছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খানের পরিবর্তে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীনের পরিবর্তে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। আর ঢাকা-১১ আসনে রহমতুল্লাহর পরিবর্তে নৌকার টিকিট পেয়েছেন ওয়াকিল উদ্দিন।

ঢাকা-৫ আসনে কাজী মনিরুল ইসলামকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। আসনটির বর্তমানে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। আর ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ১৪ দলের শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে এবার ঢাকা-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বড় ছেলে সোলায়মান সেলিমকে। আর ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হাসান খান নিখিল। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আগা খান।

এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেন ও ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে বাদ পড়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমীন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা মোশাররফ হোসেন। যদিও মোশাররফ হোসেন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আর চট্টগ্রাম-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও এ বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।

বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে এ বছর মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান। সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন, সিলেট-৫ আসনের হাফিজ আহম্মেদ মজুমদার ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়া সেন।

আওয়ামী লীগে নতুন যত মুখ

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বেশকিছু নতুন মুখের পাশাপাশি গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ত্রাণমন্ত্রী ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবারও মনোনয়ন পাননি।
মনোনয়ন তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অন্য যেকোনোবারের তুলনায় বেশি নতুন মুখ এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন পঞ্চগড়-১ নাইমুজ্জামান ভুইয়া, ঠাকুরগাঁও-২ মো. মাজহারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. ইমদাদুল হক, নীলফামারী-৩ মো. গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ জাকির হোসেন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ মো. মতিয়ার রহমান, রংপুর-১ রেজাউল করিম রাজু, রংপুর-৩ তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর-৫ রাশেক রহমান, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে, কুড়িগ্রাম-৪ বিপ্লব হাসান, গাইবান্ধা-১ আফরোজা বারী ও গাইবান্ধা-৪ থেকে আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া বগুড়া-২ তৌহিদুর রহমান মানিক, বগুড়া-৩ সিরাজুল ইসলাম খান, বগুড়া-৪ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বগুড়া-৫ মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া-৭ মো. মোস্তফা আলম, নওগাঁ-৩ সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নওগাঁ-৪ নাহিদ মোরশেদ, রাজশাহী-২ মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী-৩ আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-৪ আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সিরাজগঞ্জ-২ জান্নাত আরা হেনরী, সিরাজগঞ্জ-৪ শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ চয়ন ইসলাম, পাবনা-৪ গালিবুর রহমান শরীফ, মেহেরপুর-২ আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং ঝিনাইদহ-৩ সালাউদ্দিন মিরাজী এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্যদিকে, যশোর-২ তৌহিদুজ্জামান, যশোর-৪ এনামুল হক বাবু, মাগুরা-১ সাকিব আল হাসান, বাগেরহাট-৪ বদিউজ্জামাল সোহাগ, খুলনা-১ ননি গোপাল মন্ডল, খুলনা-৩ এসএম কামাল হোসেন, খুলনা-৬ মো. রশীদুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা-২ মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা-৪ এসএম আতাউল হক, বরগুনা-২ সুলতানা নাদিরা, বরিশাল-২ তালুকার মোহাম্মদ ইউনুস, বরিশাল-৩ খালেদ হোসাইন, বরিশাল-৪ ড. শাম্মী আহমদ, বরিশাল-৬ আব্দুল হাফিজ মল্লিক, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, পিরোজপুর-৩ মো. আশরাফুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ কামরুল হাসান খান, টাঙ্গাইল-৪ মো. মাজহারুল ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল-৫ মো. মামুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়, জামালপুর-১ নুর মোহাম্মদ, জামালপুর-৪ মাহবুবুর রহমান, জামালপুর-৫ আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর-৩ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ নিলুফা আনজুম, ময়মনসিংহ-৪ মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ আব্দুল হাই আকন্দ, ময়মনসিংহ-৮ আব্দুস সাত্তার, ময়মনসিংহ-৯ আব্দুস সালাম, নেত্রকোনা-১ মোস্তাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৫ আহমদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আব্দুর কাহার আকন্দ, কিশোরগঞ্জ-৩ মো. নাসিরুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ-১ মো. আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ ছাড়াও ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৫ হারুনুর রশিদ মুন্না, ঢাকা-৬ সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ সোলাইমান সেলিম, ঢাকা-৮ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা-১১ মো. ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, গাজীপুর-৩ রুমানা আলী, নরসিংদী-৩ ফজলে রাব্বী খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আব্দুল্লাহ আল কায়ছার, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-৩ শামীম হক, সুনামগঞ্জ-১ রনজিত চন্দ্র সরকার, সুনামগঞ্জ-২ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সুনামগঞ্জ-৪ মো. সাদিক, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৫ মাসুক উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

মৌলভীবাজার-২ শফিউল আলম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ মোহাম্মদ জিল্লর রহমান, হবিগঞ্জ-১ ডা. মো. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ ময়েজ উদ্দিন শরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ফয়জুর রহমান, কুমিল্লা-১ ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, কুমিল্লা-৮ আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন, চাঁদপুর-১ ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-৩ আবুল বাশার, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলী, চট্টগ্রাম-১ মাহবুব উর রহমান, চট্টগ্রাম-২ খাদিজাতুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৪ এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ মো. আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম-১২ মোতাহেরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-১ আসনে সালাউদ্দিন আহমেদ এবার নৌকার মাঝি হয়েছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন ৫৬ জন সংসদ সদস্য। তার আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও বাদ পড়েন ৪৯ জন সংসদ সদস্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা চতুর্থবারের মতো দলের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবার জনপ্রিয় নেতাদের হাতেই তুলে দেয়া হয় দলীয় প্রতীক নৌকা। এ লক্ষ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দফায় দফায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভিত্তিতে তিনশ আসনে জনপ্রিয় নেতারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিএনপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় গণভোট ইস্যুতে সামগ্রিকভাবে ‘হ্যা’ এর পক্ষে অবস্থান নেবে বিএনপি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় ও নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা সিলেট থেকে শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট পৌঁছে গভীর রাতে হজরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি।

মাহদী আমিন আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফরসঙ্গী আছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

এ সময় মঙ্গলবার ঢাকা-১৫ আসনের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণার আগে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ কাম্য নয়। বিএনপি থেকে এ ধরনের কোনো কাজ করা হচ্ছে না।


জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করায় চরমোনাই পীরকে অভিনন্দন হেফাজত আমীরের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

নির্বাচনের পূর্বমূহুর্তে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা বিধ্বংসী মওদুদীবাদী জামায়াতের জোট থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা হেফাজতের পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট পরিবর্তিত বাংলাদেশে সহীহ আকীদা বিশ্বাসী ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে ইসলামপন্থীদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছি। মওদুদীবাদী জামায়াতকে বাদ দিয়ে এক হওয়ার আহ্বান করেছি। ঈমান, আকীদা বাদ দিয়ে কারো সাথে জোট না করতে সতর্ক করেছি।

আলহামদুলিল্লাহ! মওদূদিবাদী জামায়াতের খপ্পড় থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে রাজনৈতিক পথচলা তৈরি করতে পারায় বিশেষ মোবারকবাদ জানাই। ইসলামি রাজনীতিতে হকপন্থিদেরর একক পথচলা খুবই প্রয়োজনীয় ছিল।

বিবৃতিতে আরও বলেন, ইসলামপন্থী রাজনীতির জন্য এই পথচলা আগামীতে ভালো অবস্থা তৈরি করবে ইনশাআল্লাহ।

আমীরে হেফাজত আরও বলেন, জামায়াতের সাথে থাকার কারণে এ দেশের ইসলামপন্থার বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পীর সাহেব চরমোনাইর একক পথচলার সিদ্ধান্ত সেই ক্ষতির পথ অনেকটাই বন্ধ করবে বলেই আমি মনে করি, ইনশাআল্লাহ। এই সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারায় ইসলামী আন্দোলনের আমীর এবং এই দলকে বিশেষ মোবারকবাদ জানাই।

আমীরে হেফাজত তার বিবৃতিতে আরও বলেন, হেফাজত বরাবরের ন্যায় আগামী নির্বাচনেও কোনো দলের পক্ষে অবস্থান নিবেনা। তিনি বলেন,যারা নিরেট ইসলামপন্থাকে ধারণ করে জনগণ তাদেরকেই ভোট দেবেন বলে আমি আশাবাদী। যারা ইসলামের নামে মওদুদীবাদ এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে তাদেরকে আগামী নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে আগামী নির্বাচনে উলামায়ে দেওবন্দ তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সকল অনুসারী একই সাথে পথ চলবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আগামীতে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে: ডা. তাহের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, আগামীতে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে। এ জোটে দেশের একমাত্র জীবিত বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি চাই দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হোক। নির্বাচিত হলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সবার সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, কমিশনার ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নোয়াবাজারের খাদিজা ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাহফুজুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন।

ডা. তাহের বলেন, আগামীর নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ নির্বাচনকে তরুণ প্রজন্মের জন্য সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ উপহার দেওয়ার মাইলফলক হিসেবে নিতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার রক্ষার বাংলাদেশ। নারী অধিকারের প্রশ্নে আমরা আরও বেশি সোচ্চার রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ৫ আগস্টের বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। আমাদের যুবকেরা জীবন ও রক্ত দিয়ে দেশকে মুক্ত করেছে। আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং নতুন বাংলাদেশ গড়েছি।

ডা. তাহের দাবি করেন, ২০০১-০৬ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন না। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে তিনি দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে সার্টিফিকেট পান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মুহা. শাহজাহান, সাবেক আমীর আবদুস সাত্তার, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন ও পৌর আমীর মাওলানা মুহা. ইব্রাহিম।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, রুহুল আমিন, ওয়াজী উল্লাহ ভূঁইয়া খোকন, ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।


বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক মন্ত্রী আবু সাইয়িদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, রাকসুর সাবেক সহসভাপতি এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দিয়েছিলেন। গণফোরামে যোগ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন থেকে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন আবু সাইয়িদ। তখন পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন আবু সাইয়িদ। ওয়ান-ইলেভেনের পর দলে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়েন আওয়ামী লীগের তখনকার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে আবু সাইয়িদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকুর কাছে হেরে যান তিনি। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হয়েছিলেন অধ্যাপক সাইয়িদ।


চট্টগ্রামকে আসল অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে: সাঈদ আল নোমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামকে আসল অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেছেন, আমার বাবা (আবদুল্লাহ আল নোমান) ১৬ দফা পেশ করেছিলেন ম্যাডামের (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) কাছে। সে সময় বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আসল অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় স্থানীয় এক রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

ভোটে অন্য কেউ জিতে আসলে আপনার করণীয় কী হবে সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘সামাজিকভাবে কিছু আন্দোলন দরকার। শিক্ষা সংস্কৃতি রাজনৈতিক প্যাটার্নের জায়গায় পরিবর্তনের হাওয়া লাগা দরকার। কালচারাল রেভিলিউশন দরকার। এর জন্য গোড়াতে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের ডাকে ও সময়ের দাবিতে আজ আমি এখানে। নিজের রাজনৈতিক পদ পদবি বা কোনো জায়গায় পৌঁছার অভিলাষে আমি এখানে দাঁড়ানো নই। আমি সারাজীবনের জন্য মানুষের প্রতি কমিটেড।’

নোমান পুত্র বলেন, শুধু ১২ তারিখের জন্য না। অবশ্যই এর গুরুত্ব আছে। কিন্তু আমার যে কর্তব্য সেটা সঠিকভাবে করতে পারব কিনা সেই জায়গা থেকে খুব ভয় কাজ করছে। আমার কোনো ভুলে যেন মানুষের কোনো বিপদ না হয়। আমার ভুল হলে আপনারা পথ দেখাবেন।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘পড়াশোনা শেষে আমাদের পরিবারের যা কিছু আছে সব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড় করিয়েছিলাম। কতটুকু সফল তা আপনাদের সামনে। আমার বাবা কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু, শিক্ষা বোর্ড, সিভাসু, এয়ারপোর্ট, চুয়েটসহ উন্নয়ন নিয়ে নিরবে কাজ করে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের নেতা হিসেবে নই সামনের দিনে পলিসি মেকিং প্রসেসে কী অবদান রাখতে পারি রাখার কোনো সম্ভাবনা ও যোগ্যতা আছে কি না, সেই দিকটি অনেকগুলো বিবেচনার মধ্যে একটি বিবেচনার বিষয়। মানুষের জন্য কোনটা উপকারী ও টেকসই উন্নয়ন সেটাই সংসদের বড় একটা কাজ। মতবিনিময় সভায় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রংপুরে স্থানীয় বিএনপির মতবিনিময় সভা

রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ আসনে ধানের শীষের বিজয়ে ঐক্যের বার্তা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসন ১৯, রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রংপুর মহানগরের ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভাটি নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি সাংগঠনিক ঐক্য সুসংহত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহফুজ-উন-নবী ডন, সদস্য সচিব, রংপুর মহানগর বিএনপি। তিনি বলেন,“রংপুর মহানগরের নেতাকর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল। এই নির্বাচন কেবল একটি আসনের প্রতিযোগিতা নয়, এটি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ আসনে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়েই জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।”

প্রধান বক্তা শহিদুল ইসলাম মিজু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, রংপুর মহানগর বিএনপি বলেন,“ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়—এটি মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—সংসদীয় আসন ১৯, রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ এ মোকাররম হোসেন সুজনকে বিজয়ী করে জনগণের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে পৌঁছে দেওয়া।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মোকাররম হোসেন সুজন, সংসদীয় আসন ১৯, রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।

বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার উপর যে আস্থা রেখেছে, তা আমার জন্য গর্বের পাশাপাশি এক বিশাল দায়িত্ব। এই মনোনয়ন আমাকে আরও বেশি করে জনগণের পাশে থাকার শক্তি ও প্রেরণা দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,“আমি রাজনীতিকে ক্ষমতার উৎস নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখি। নির্বাচিত হলে রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ আসনের প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার ও ন্যায্য দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলবো। জনগণের পাশে থাকা আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নুরুন্নবী চৌধুরী মিলন, আহ্বায়ক, রংপুর মহানগর যুবদল। তিনি বলেন,“তরুণ সমাজ আজ পরিবর্তন ও গণতন্ত্রের পক্ষে। মোকাররম হোসেন সুজন একজন পরীক্ষিত ও সংগ্রামী নেতা। যুবদল ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে এবং রংপুর–গঙ্গাচড়া–১ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।”

এ সময় জহির আলম নয়ন, সদস্য সচিব, রংপুর মহানগর যুবদল বলেন,“মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। নেতাকর্মীরা জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দেবে।”


মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস তারেক রহমানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানে অবস্থিত বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি শোকার্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেন এবং তাদের যেকোনো প্রয়োজনে দল হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছামাত্রই সেখানে আগে থেকে অপেক্ষমাণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দেখে গাড়ি থেকে নেমে আসেন তারেক রহমান। তিনি সরাসরি স্বজনদের কাছে যান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তারা যে দুর্দশা ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা তিনি অত্যন্ত মনোযোগ ও সহানুভূতির সঙ্গে শোনেন। এ সময় হতাহত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যানের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

সাক্ষাতের সময় বিএনপি চেয়ারম্যান দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, এই দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাবেন। এছাড়া আগামী নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যৌক্তিক দাবি-দাওয়া পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাইলটসহ মোট ৩৫ জন নিহত হন এবং স্কুলের বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। মর্মান্তিক সেই ঘটনার পর থেকেই হতাহতদের পরিবারগুলো নানা দাবি জানিয়ে আসছিল এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদন করে আসছিল।


তারেক রহমান সিলেট যাচ্ছেন আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি ভেঙে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সিলেট সফরে যাচ্ছেন। ২০০৫ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে শেষবার সিলেট এসেছিলেন, তবে এবার তিনি আসছেন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে। দলীয় প্রধান হিসেবে সিলেটে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম জনসভা। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সফরের মূল কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতেন। সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও রেওয়াজ মেনেই তারেক রহমানও পুণ্যভূমি সিলেট থেকে তার দলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দুই আধ্যাত্মিক সাধকের মাজার জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে বেলা ১১টায় তিনি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। জনসভা শেষ করে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং পথিমধ্যে আরও বেশ কয়েকটি পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে সিলেট এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় চলছে মাইকিং, মিছিল ও প্রস্তুতি সভা। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যানকে বরণ করে নিতে সিলেটবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী সামিয়া চৌধুরী জানিয়েছেন, জনসভায় নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভিআইপি এই সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, বিএনপি চেয়ারম্যানের ২১ ও ২২ জানুয়ারির সফর নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জনসভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন গণভোটে দেশবাসীকে না ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। তিনি প্রস্তাবিত সংস্কার ও গণভোটকে সংবিধানবিরোধী ও অবাস্তব হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হবে। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলের ব্যানকুয়েট হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। একই অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী দলের ১৯৬টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় জিএম কাদের জানান, ঘোষিত তালিকায় ৬ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া আরও দুইজন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পেন্ডিং রয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও ২-৩ জন বৈধ প্রার্থীর তালিকায় যুক্ত হতে পারেন। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাদের বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নানামুখী কৌশলে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধার কারণে তারা নির্বাচনের মাঠে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পাচ্ছেন না বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কার ও গণভোটের বিষয়ে জিএম কাদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচার রোধের নামে যে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে আদতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে দেশ পরিচালনা করা অসম্ভব। তিনি যুক্তি দেখান যে, দেশ চালাতে হলে নির্বাহী প্রধানকে অবশ্যই পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে, অন্যথায় তিনি কখনোই তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন না। এই প্রেক্ষাপটে তিনি আসন্ন গণভোটকে দেশের স্বার্থবিরোধী আখ্যায়িত করে জনগণকে না ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ ও কসাইদের হাতে এই দেশকে পড়তে দেবো না: মির্জা আব্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিএনপি আয়োজিত এই সভায় তিনি এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, দল ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার তিনি আর মুখ বুজে সহ্য করবেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নেমেছি কিন্তু পারছি না। ওরা যেভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বিএনপির বিরুদ্ধে, আমাদের বিরুদ্ধে; আমি ধৈর্য ধরে রাখতে পারছি না। আমি সহ্য করতে পারছি না।’

আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থানের দৃঢ়তা ব্যক্ত করে সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আমার মনের কথার কিছুটা প্রকাশ ঘটাতে চাই। আজকেই প্রথম, আজকেই শেষ। তোরা যা খুশি তাই কও, আমি কোনো কথা কমু না। আর যাই হোক, আমার গলায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে শব্দ হবে না। আমার বাড়ি ঢাকা এবং শাহজাহানপুরে; আমার ঠিকানা আছে রে ভাই। যারা ঠিকানা বিহীন তারা বলেন, আমার বাড়ির অমুক জায়গায়। আমি ঠিকানাবিহীন লোক নই, এটা মাথায় রাখতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন যে, তারা স্বৈরাচার বিদায়ের আন্দোলনে ভূমিকা রাখলেও দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জীবন বাজি রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের সাথে বর্তমানের তুলনা চলে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা যোদ্ধা, আর আমরা তো মুক্তিযোদ্ধা। আমরা একটা দেশ স্বাধীন করেছি। তোমরা কি স্বাধীন করেছ? তোমরা একটা অপশক্তিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছ ঠিক আছে, আমি স্বীকার করি। কিন্তু আমরাও আমাদের বয়সে একসময় এরশাদের মতো, হাসিনার মতো স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পরে যে যার কাজে ফেরত গিয়েছিলাম। আমরা কিন্তু বলিনি আমাদের মন্ত্রী বানাতে হবে।’

নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা কলেজে পড়তাম, ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম; সেই পড়াশোনা করতে চলে গেছি। তোমাদের মতো লোভ করিনি। তোমরা আজকে লোভ করতেছ। এত পাগল হওয়ার কী আছে ভাই? বয়স কম, রাজনীতি শেখো। ধীরে ধীরে রাজনীতি করো, দেশের উন্নতি করো- আমরা কামনা করি। রাজনীতি করার জন্য আমরা তোমাদের রাস্তায় ফুল বিছিয়ে দেব। কিন্তু অপকর্ম করার জন্য কোনো কাজ যদি করো, তার জবাব আমরা দিতে পারি ইনশাআল্লাহ।’ তিনি দল ও দেশের ক্রান্তিলগ্নে আজীবন রাজপথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, ‘দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ। তবে কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ ও কসাইদের হাতে এই দেশকে পড়তে দেবো না।’ দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় তিনি একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে যেকোনো অপশক্তির মোকাবিলায় প্রস্তুত আছেন বলে সভায় পুনর্ব্যক্ত করেন। মূলত দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার জায়গা থেকেই তিনি এই কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।


জামায়াত আমিরসহ শীর্ষ সাত নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির সাতজন শীর্ষস্থানীয় নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন। তিনি জানান যে, রাজনৈতিক সুরক্ষা সংক্রান্ত এই আবেদনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। মূলত উল্লিখিত নেতৃবৃন্দ নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ইসি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (সাবেক এমপি), এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি) ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নিরাপত্তা চেয়েছেন।” জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে ইসি। সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং মাঠপর্যায়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই ইসি এই নির্দেশ জারি করেছে।


কড়াইলবাসীর শিক্ষা-চিকিৎসা নিশ্চিত করবে বিএনপি: তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামীতে তার দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে রাজধানীর কড়াইল বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে কড়াইলবাসীর জন্য আধুনিক হাসপাতাল, শিশুদের জন্য স্কুল এবং খেলাধুলার জন্য মাঠ নির্মাণ করা হবে। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় স্থানীয় কড়াইলবাসী এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান বস্তিবাসীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে কড়াইলে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে এবং সেই ভবনগুলোতে বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট বা আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে মানুষকে বের করে এনে একটি সম্মানজনক ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কড়াইলবাসীর শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই হবে তার দলের অন্যতম অগ্রাধিকার। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সন্তানদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। দোয়া মাহফিলে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা মরহুম নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।


জাতীয় পার্টির ১৯৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে: জিএম কাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় পার্টির মোট ১৯৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বা জিএম কাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৈধতা পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আরও দুই থেকে তিনজন প্রার্থী এই চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হতে পারেন বলে দলটি আশা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়নি। বরং জাতীয় পার্টিকে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নানা কৌশলে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দলের অনেক প্রার্থীকে কারাগারে বসেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে দায়েরকৃত মামলাগুলো নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মামলার নামে সরকার সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। জিএম কাদের অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের বিষয়টি এখন একটি বিরাট বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। পুলিশ এবং সমাজের সুবিধাবাদি একটি অংশ এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, রাজনৈতিক কারণ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে এখন যাকে ইচ্ছা তাকে মামলার আসামি করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশের জন্য অন্তরায়।


banner close