নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়ে আওয়ামী লীগ চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ নির্বাচন নিয়ে যত বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, যত অপবাদ ছাড়ানো হয়েছে, তা দেখে কিন্তু অনেকে ভেবেছিল বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সাড়া দেবেন না। কিন্তু ইতোমধ্যে শতাধিক পর্যবেক্ষক সাড়া দিয়েছেন। এ নিয়ে আমরা চিন্তিত না।’
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতান্ত্রিক, গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায় পুরো বিশ্ব’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির এমন বক্তব্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে একমত। নির্বাচনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যা বলেছে, আমরাও তাই চাই।’
নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ মেনে চলতে সারা দেশের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থী ও নেতা কর্মীদের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে। তাহলেই একটি অবাধ নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাবে।
শরিকদের হতাশ করা হবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জোট নিয়ে কোন বিভ্রন্তি নেই। এখনও সময় আছে। তবে বিজয়যোগ্য প্রার্থী না হলে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিটার হাস মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার আচরণের সীমা মেনে চলবেন বলে আশা করে সরকার। একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার হাস নিজের সীমার মধ্যে থাকবেন। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষ্য নিক এমনটি যেমন আমরা চাইনা, তেমনি অন্য কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষ্য নিক সেটাও প্রাত্যাশিত নয়।
নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপি তাদের শেষ কথা বলে দিয়েছে। তাই তাদের নিয়ে কথা বলার কোনো জায়গা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দীন নাছিম এবং দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে এক শোক বার্তায় এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সংঘটিত অমানবিক ও নৃশংস এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।
শোক বার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের নির্মম ও পৈশাচিক হামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। তাই এসব দুষ্কৃতকারীকে কঠোর হস্তে দমনের বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মত-নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। না হলে ওত পেতে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে।’
বিএনপি মহাসচিব শোক বিবৃতিতে আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনাসহ শোকার্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত এবং জ্বালানি খাতে লুটপাট বন্ধে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াসহ দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
সমাবেশ শেষে সিপিবির একটি প্রতিনিধিদল তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। এতে সাত দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল আদায় বন্ধ এবং অতিরিক্ত আদায়কৃত বিল ফেরত দেওয়া, এলপিজি বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বস্তিবাসী সাধারণ মানুষের কাছে সরকার উৎপাদিত সিলিন্ডার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিতরণ, জ্বালানি খাতে বেসরকারীকরণ নীতি পরিত্যাগ করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার, গ্যাস–সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জ্বালানিকে জনস্বার্থভিত্তিক সামাজিক সম্পদ ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদি গণমুখী জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা।
সমাবেশে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে ভয়াবহ সংকট চলছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সিপিবির সভাপতি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের দুর্ভোগকে আমলে নিচ্ছে না। সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসা চলছে এবং জনগণের দুর্ভোগকে ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি একটি পরিকল্পিত সংকট। সিন্ডিকেট না ভাঙলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।’ এ অবস্থার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘দেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারায় তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘সরকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।’ তিনি সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে গ্যাস–সংকটের সমাধান না হলে ঢাকা শহরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মেদ সাজেদুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা লুনা নূর, মহানগর উত্তরের নেতা কল্লোল বণিক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ প্রমুখ। সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষও উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, চাঁদাবাজদের ঘুম অলরেডি হারাম হয়ে গেছে। তারা কোন উপায় না পেয়ে এখন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেছে, তারা ফোনে মানুষদের হুমকি দিচ্ছে কেন্দ্র দখল করবে, ভোট দিতে দেবে না, ভোটাধিকার কেড়ে দেবে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ধলাহাস গ্রামে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা হোন্ডা-গুণ্ডার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। গুণ্ডা-হোন্ডার ভয়ভীতি দেখানোর রাজনীতি এখন আর নাই। মানুষ এখন সচেতন, তারা কোন ঋণখেলাপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। যারা নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের হক মেরে খাবে তাদের ভোট দিতে যাবে না। আপনারা যদি সংস্কার চান, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ চান, নিজের ভোট নিজে দিতে চান, ভারতীয় গুণ্ডামি বন্ধ করতে চান তাহলে গণভোটে আপনারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। আপনার হ্যাঁ ভোটেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ।
ওসমান হাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি এই চাঁদাবাজ ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তারা তাকে বাঁচতে দেয়নি, আমরা শহীদ ওসমান হাদির রেখে যাওয়া কাজ বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছি। আমরা কখনোই ওসমান হাদির মতো হতে পারব না। তিনি মুড়ি-বাতাসা নিয়ে তার নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন, তিনি চেয়েছেন বাংলাদেশে যেন ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়, চাঁদাবাজ দুর্নীতি বন্ধ হয়, মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। আজকে গ্রামে গ্রামে শহীদ হাদির জন্য দোয়া করছেন মা-বোনেরা ও বৃদ্ধ বাবারা। শহীদ ওসমান হাদি রাষ্ট্রে যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব আমরা নিলাম। আমরা শহীদ হাদির হত্যার বিচার এই দেশেই নিশ্চিত করে ঘরে ফিরে যাব। এ সময় জামায়াত ও এনসিপিসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমীর খসরুর নির্বাচন কমিশনে সম্পদ বিবরণী (হলফনামা) জমা দিয়েছেন। হলফনামা বিশ্লষেণ করে দেখা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বার্ষিক আয় গত সাত বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে তার স্ত্রী তাহেরা আলমের আয়েও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা ও আয়কর নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার ও তার পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি টাকারও বেশি। এর একটি বড় অংশ নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত এবং অস্থাবর সম্পদ।
আমীর খসরুর হলফনামা:
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খসরুর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৪ টাকা। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার বার্ষিক আয় ছিল ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ২১৯ টাকা। অর্থাৎ, সাত বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে ১১৬ শতাংশেরও বেশি।
এই রাজনীতিক হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তার আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সাইনিং মানি হিসেবে পাওয়া ৮০ লাখ টাকা, শেয়ার বোনাস থেকে ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, বন্ড ও ব্যাংক সুদ থেকে ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৮২৪ টাকা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ভাড়া থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা এবং কৃষি খাত থেকে ৪৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে তার স্ত্রী তাহেরা আলমও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ২০১৮ সালে ৯ লাখ ৬ হাজার ৪২৭ টাকা আয় দেখিয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ হলফনামায় তার বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ৮২৭ টাকা। খসরু নগদ অর্থ হিসেবে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থাকার কথা জানিয়েছেন আর তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে নগদ ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ব্যাংকে আমীর খসরুর জমা রয়েছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, আর তার স্ত্রীর রয়েছে ৩৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। শেয়ার ও বন্ডে খসরুর বিনিয়োগের মূল্য এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যেখানে তার স্ত্রীর বিনিয়োগ ৯৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে আমীর খসরুর বিনিয়োগ ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৪৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
আর খসরুর মালিকানায় রয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি, আর তার স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের একটি জিপ। দম্পতির স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকার। অস্থাবর সম্পদের হিসেবে আমীর খসরুর মালিকানায় রয়েছে ২৩ লাখ ৯ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষিজমি এবং প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকা মূল্যের চারটি ভবন। তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের দুটি স্থাবর সম্পত্তি।
সাঈদ আল নোমান:
সাঈদ আল নোমান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার পেশা ব্যবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এম. ফিল। সাঈদ আল নোমানের ব্যবসায় বার্ষিক কোনো আয় না থাকলেও তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান থেকে নিজ নামে আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫০ টাকা, চাকরি থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে সাঈদ আল নোমানের কাছে নগদ টাকা আছে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৭৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে আছে ১ কোটি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৯ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা আছে ১০ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৮১০ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৯ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার নিজ নামে বর্তমান মূল্য ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট), ডাক সঞ্চয়পত্র এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিয়োগ থেকে নিজ নামে আছে ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, বিমা ও ট্রাস্টের মূল্য নিজ নামে ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৮ টাকা এবং স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ৫ লাখ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেল অধিগ্রহণকালে নিজ নামে মূল্য দেখিয়েছেন ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীদের নামে দেখিয়েছেন ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরে তৈরি গহনা নিজ নামে অধিগ্রহণকালে মূল্য উল্লেখ করেছেন ৩০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য অধিগ্রহণকালে নিজ নামে মূল্য উল্লেখ করেছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, আসবাবপত্র নিজ নামে ১ লাখ ৫০০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ৩ লাখ টাকা, অন্যান্য (উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ও বিদেশি রেমিট্যান্স) আয় নিজ নামে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৭০ লাখ ২৬ হাজার ২২৮ টাকা। বর্তমানে নিজ নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখিয়েছেন ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ৯৫ হাজার ১৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া হলফনামায় সাঈদ আল নোমান স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে থাকা ১৬.৬৩ শতক কৃষিজমির অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ টাকা, নিজ নামে থাকা ৬০ একর অকৃষি জমির নিজ নামে অর্জনকালীন আর্থিকমূল্য দেখিয়েছেন ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, নির্ভরশীলদের নামে ২৪ দশমিক ৩৭ শতক অকৃষিজমির মূল্য জানা নেই উল্লেখ করেন। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য দেখিয়েছেন ৩ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩২ টাকা, স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৯৩২ টাকা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২৩ বছর পর হিমালয়কন্যা পঞ্চগড় জেলা সফরে আসছেন। আগামী ১৩ জানুয়ারি দুপুর দেড়টায় তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের পাথরাজ এলাকায় পৌঁছাবেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর প্রিয় নেতাকে সশরীরে দেখার সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও এক ধরণের বাড়তি আবেগ তৈরি হয়েছে। সফরের শুরুতে তিনি পাথরাজ এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা শহীদ আরেফিনের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাবেন।
কবর জিয়ারতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই মাহফিলটি মূলত বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমান উপস্থিত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এই সফরটি মূলত তাঁর উত্তরবঙ্গ সফরের একটি অংশ, যার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ দিন পর দলীয় কাঠামোর প্রতিটি স্তরের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চাইছেন।
তারেক রহমানের এই আগমন সফল করতে জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠব্য দোয়া মাহফিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ আসনে মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। তাঁর সাথে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, যিনি পঞ্চগড়-২ আসন থেকে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও জেলা ও উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের অন্য নেতারা ভেন্যু পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেলা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তারেক রহমানের আগমনের দিন শৃঙ্খলার সাথে কর্মসূচি পালন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন যে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে তাঁরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এটি পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক সফরের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পঞ্চগড়বাসী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং জাতীয় সংসদে বহু রাজনৈতিক দলের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদেরও মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যারা মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকে ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে ডেকে কথা বলা হচ্ছে এবং তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে অবাধ্যদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এসব সংকটের চূড়ান্ত মীমাংসা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক একই সাথে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন উত্তরবঙ্গ সফর নিয়েও বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই সফরকালে কোনোভাবেই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের কবর জিয়ারত করা একটি জাতীয় পবিত্র দায়িত্ব ও সমগ্র জাতির প্রত্যাশা। তারেক রহমানের এই সফর মূলত সেই জাতীয় চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানোর একটি প্রয়াস মাত্র। সালাহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার কোনো উপাদান নেই।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, কোনোভাবেই যেন ২০২৪ সালের এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্নবিদ্ধ করা না হয়। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতীয় পর্যায়ে আরও মহিমান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ নেতা হিসেবে তারেক রহমান যদি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, তবে তা জাতীয় সংহতিকে আরও মজবুত করবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই সফরের মাধ্যমে মূলত জাতির আকাঙ্ক্ষাই প্রতিফলিত হবে। বিএনপির এই নেতা পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর দল একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে সরাসরি একনজর দেখার জন্য জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি জেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত থাকলেও, সশরীরে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সর্বশেষ ২০০৩ সালের শীতকালে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে একটি কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর তাঁর এই সফর উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাণ হারানো বীর শহীদ রায়হানুল হাসান, আল মামুন, সাহান পারভেজ ও রাকিবুল হাসানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ জানুয়ারি সড়কপথে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে এসে পৌঁছাবেন এবং শহরের ব্যুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনি আন্দোলনে শহীদ আল মামুনের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। সময় স্বল্পতা ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত অন্য শহীদদের কবর জিয়ারত করার সুযোগ না থাকলেও তাঁদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি বিশেষ কর্মসূচি পালন করবেন।
সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি বিশাল স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি মূলত সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত হচ্ছে। সেখানে তারেক রহমান উপস্থিত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এই কর্মসূচি শেষ করে ওই দিনই তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনি আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কোনো বড় জনসভা না করে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমেই তাঁরা নেতাকে বরণ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল আবেগীয় নয়, বরং আগামীর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের তৃণমূল শক্তিকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ও সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফরের মাধ্যমে জেলার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে জাতীয়তাবাদী দর্শনের শক্তি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত শহীদদের সম্মান জানানো এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়েই শেকড়ে ফিরছেন তারেক রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলায় গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতে যাচ্ছেন।
গতকাল বুধবার দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়েছে।
মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের কবর জিয়ারত করা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত বিভিন্ন দোয়া মাহফিলেও তিনি শরিক হবেন।
সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ১২ জানুয়ারি তিনি বগুড়া থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিনই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ আবু সাঈদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত করার কর্মসূচি রয়েছে তার। সফরের তৃতীয় দিন ১৩ জানুয়ারি তারেক রহমান পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করবেন এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলবেন। সফরের শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি রংপুর ও বগুড়ায় আরও কয়েকটি দাপ্তরিক ও জনহিতকর কাজ শেষে তিনি পুনরায় রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসবেন।
তারেক রহমান তার এই পুরো সফরে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের মাজার ও নিহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সাথে সরাসরি দেখা করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই সফরে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না। তারেক রহমান নিজে সকল নিয়মকানুন মেনে চলবেন এবং নেতাকর্মীদেরও শৃঙ্খলার সাথে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরাঞ্চলের এই ৯ জেলা সফর বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনেও বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ জনমনে দলটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। বর্তমানে সফরের জেলাগুলোতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) বিশৃঙ্খলা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একের পর এক পদত্যাগে সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত দলটি এখন দিশাহারা। গত দুই সপ্তাহে এনসিপির অন্তত ১৫ জন জ্যেষ্ঠ নেতা দল ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ইশতেহার কমিটি এবং নীতি ও গবেষণা শাখার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও আছেন।
প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দলটি এরই মধ্যে ভুগছে নেতৃত্বের সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতায়। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যও পারেনি ঘর ঘোছাতে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাছাড়া নির্বাচন কৌশল ঠিক করা, ইশতেহার প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও শেষ করতে পারেনি। শুধু এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছে।
এ ছাড়া কয়েকজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এতে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও দুর্বল হয়ে গেছে।
তৃণমূল নেতারা বলছেন, এমন এক সময়ে এই পদত্যাগগুলো বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে, যখন অফিস, মিডিয়া, প্রচার ও আইসিটি সেলের প্রধান ও মূল সদস্যদের অনেকেই নিষ্ক্রিয় বা দলত্যাগ করেছেন।
তাদের মতে, এখন নিয়মিত দলীয় কাজ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। খুব সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম চলছে মাত্র।
এক জ্যেষ্ঠ এনসিপি নেতা স্বীকার করেন, দলটি এখনো নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
তিনি বলেন, হাতে ৪০ দিনেরও কম সময় থাকায় এখন আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুযোগ নেই। তাই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির বদলে স্বল্পমেয়াদি কৌশলেই জোর দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব নেতৃত্ব সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এই শূন্যতা পূরণে নতুন করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইশতেহারের কাজও চলছে। আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়া শেষ হলেই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।
আরিফুল আরও বলেন, এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন সাবেক উপদেষ্টা ও সদ্য নিযুক্ত দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আরিফুলের সঙ্গে কথা বলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এনসিপি এক বিবৃতিতে জানায়, আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে।
নির্বাচন তদারকির পাশাপাশি তিনি এখন মিডিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা, ব্র্যান্ডিং, অফিস ব্যবস্থাপনা, জনসংযোগ, সদস্য সংগ্রহ এবং গবেষণা ও নীতি শাখাসহ একাধিক সেল তদারকি করবেন।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ ইউনিটের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বও তার ওপর দেওয়া হয়েছে।
দলীয় বিশৃঙ্খলা স্পষ্ট: জোট নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় থেকেই দলের ভেতরের অস্থিরতা প্রকাশ্যে আসে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাসনিম জারা দল থেকে পদত্যাগ করেন। পলিসি ও রিসার্চ উইংয়ের প্রধান এবং ইশতেহার প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা খালেদ সাইফুল্লাহও দল ছাড়েন।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, তার পদত্যাগের পর ইশতেহার কমিটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ নীতিগত কাঠামো তৈরি ও খসড়া লেখায় তার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে কমিটির বাকি সদস্য মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার নিজ নিজ নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকায় ইশতেহার প্রণয়নের কাজ প্রায় স্থবির।
সূত্রগুলো আরও জানায়, খালেদ সাইফুল্লাহ ইশতেহার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে চলে যাওয়ায় নতুন করে কাজ শুরু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য জানতে চাইলে খালেদ সাইফুল্লাহ কথা বলতে রাজি হননি।
পদত্যাগের কারণে দলের একাধিক কার্যকরী ইউনিটও প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, অফিস সেলের প্রধান সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং কৃষক উইংয়ের মুখ্য সমন্বয়ক আজাদ খান ভাসানী—সবাই দল ছেড়েছেন।
জোট সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে নারী নেতৃত্বের ওপরও। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দলীয় কর্মকাণ্ড থেকেও অনেকটাই দূরে রয়েছেন।
আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও নির্বাচন ও সাংগঠনিক কাজে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, দক্ষিণাঞ্চল সংগঠক মনজিলা ঝুমা, উত্তরাঞ্চল সংগঠক দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী এবং আরও অন্তত পাঁচজন নেতা পদত্যাগ করেছেন বা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন।
২৯ ডিসেম্বর ১১ দলীয় জোট ঘোষণার দুদিন পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জায়গায় আসিফ মাহমুদকে দলের মুখপাত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়ের মূল্য দলকে এখন চড়া দামে দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই মাস আগেই যদি অভ্যন্তরীণ মতভেদ মিটিয়ে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত, তাহলে এনসিপি ২০ থেকে ২৫টি আসনে শক্ত অবস্থানে যেতে পারত।
অস্থির নির্বাচনী পরিস্থিতিতে এই দুই মাস ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে; গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আনোয়ার হোসেন নামে আরেকজন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজার এলাকায় নাম পরিচয় না জানা বন্দুকধারীরা তাদের গুলি করে।
জানা গেছে, তাকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা ৫টি গুলি করে। মুসাব্বিরের পেটে গুলি লেগেছে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি সাহপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এডিসি ফজলুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। তাদের একজন মারা গেছেন। অন্যজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আহত সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদকে (৪২) ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. জাবেদ জানান, মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তার বাসা কেরানীগঞ্জে। রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির ও মাসুদসহ কয়েকজন কাজীপাড়া স্টারের গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি করে।
তিনি আরও জানান, দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে বিআরবি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাতে মাসুদকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। তবে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, ওই ব্যক্তি পেটের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে রাজনৈতিক সফর শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী সোমবার (১১ জানুয়ারি) তিনি তার জন্মভূমি বগুড়া সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং এই যাত্রার শুরুতেই তিনি টাঙ্গাইলে যাত্রাবিরতি করবেন। সেখানে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিলে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হবেন তারেক রহমান এবং দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ তিনি টাঙ্গাইলে পৌঁছাবেন। মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতের সময় তার সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের এই জেলা সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশ থেকেই তাকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা।
এই সফরকে ঘিরে টাঙ্গাইলে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি উল্লেখ করেন যে, টাঙ্গাইলবাসী তাদের নেতাকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তারেক রহমানের এই সফর ও দোয়া মাহফিল সফল করতে স্থানীয় বিএনপি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। টাঙ্গাইলে কর্মসূচি শেষ করে তিনি পরবর্তী গন্তব্য বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলায় চার দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সফর শুরু করতে যাচ্ছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে ইতিমধ্যে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বিএনপি। বুধবার দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়েছে। মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের কবর জিয়ারত করা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত বিভিন্ন দোয়া মাহফিলেও তিনি শরিক হবেন।
সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ১২ জানুয়ারি তিনি বগুড়া থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিনই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ আবু সাঈদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সফরের তৃতীয় দিন ১৩ জানুয়ারি তারেক রহমান পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করবেন এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলবেন। সফরের শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি রংপুর ও বগুড়ায় আরও কয়েকটি দাপ্তরিক ও জনহিতকর কাজ শেষে তিনি পুনরায় রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসবেন।
তারেক রহমান তাঁর এই পুরো সফরে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের মাজার ও নিহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সাথে সরাসরি দেখা করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই সফরে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না। তারেক রহমান নিজে সকল নিয়মকানুন মেনে চলবেন এবং নেতাকর্মীদেরও শৃঙ্খলার সাথে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরাঞ্চলের এই ৯ জেলা সফর বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনেও বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ জনমনে দলটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। বর্তমানে সফরের জেলাগুলোতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনি সমঝোতা ও আসন বণ্টন প্রক্রিয়া বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে জোটের শরিক দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোন দলের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারবেন—তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আসন বণ্টন সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন জোটের নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান এই সংকট নিরসনে আজ বুধবার ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। যদিও নেতারা দাবি করছেন যে এই জটিলতা জোটের ঐক্য বা সমঝোতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, তবে মাঠ পর্যায়ের পরিসংখ্যানে জোটের পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে।
জোটের সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শরিক দলগুলোকে মোট ৬৫টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছিল, যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একাই ৩০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি এবং এলডিপি ও খেলাফত মজলিসের অন্য অংশকে ৬টি করে আসন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সাথেও ১৮৩টি আসনে সমঝোতা হয়েছিল, যেখানে প্রাথমিকভাবে তাদের ৩১টি আসন ছাড়তে রাজি ছিল জামায়াত। কিন্তু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর দেখা গেছে, জামায়াতের ৯ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৩৯ জন, এনসিপির ৩ জন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর ফলে অনেক আসনে জোটের একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
তৃণমূল পর্যায়ের আসনগুলোতেও এই জটিলতা তীব্র হয়ে উঠেছে। যেমন, কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২ এবং ঢাকা-২-এর মতো আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা জোটের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও তাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আবার মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নূর হোসাইন নূরানীর সমর্থনে জামায়াত কোনো প্রার্থী দেয়নি, কিন্তু নূরানীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এখন সেই আসনে জোটের অন্য শরিক ইসলামী আন্দোলন বা খেলাফত মজলিস (অন্য অংশ) প্রার্থিতা দাবি করছে। এমন পরিস্থিতিতে শরিক দলগুলো একে অপরের ভাগের আসন বা জামায়াতের নিজের জন্য রাখা আসনগুলো দাবি করতে শুরু করেছে, যা জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে মেরুকরণ ও দরকষাকষির ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, যার নিজের প্রার্থিতাও কক্সবাজার-২ আসন থেকে বাতিল হয়েছে, তিনি এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে এবং প্রার্থিতা ফিরে পেলে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা সহজ হবে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমেদ শেখ স্বীকার করেছেন যে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে প্রার্থীরা মাঠ ছাড়ছেন না। আপাতত সকলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে জোটের কোন কোন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকবেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত নির্বাচনি রূপরেখা।