বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতীয় পার্টির সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৫:৪৮

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের বৈঠক প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আলাদাভাবে অংশগ্রহণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে আসন বন্টনের প্রসঙ্গ আসেনি, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনমুখী দলগুলোর সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নাশকতা, গুপ্ত হামলার মতো নির্বাচন বিরোধী অপকর্ম প্রতিহত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনাই ছিল মুখ্য।’

ওবায়দুল কাদের আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ বৈঠকের মূল বিষয়টি ছিল, নির্বাচনটাকে অবাধ শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু করার জন্য যা করা দরকার তাই করা হবে। যারা নির্বাচনমুখী দল, তাদের নিয়ে সমন্বিতভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে গুপ্তহত্যা, নাশকতা ও গুপ্তহামলা প্রতিরোধ করা হবে। নির্বাচন বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবিলা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে। এজন্য ১৪ দল ও জাতীয় পার্টির সাথে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করা নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে। জাতীয় পার্টির সাথে আলোচনা নিয়ে এ নিয়ে ঢাকঢোল পেটানোর কিছু নাই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনমুখী যত রাজনৈতিক দল আছে, যাদের সঙ্গে আমাদের জোট ছিল, মানে মহাজোটে ছিল তাদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছি। তাদের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা, আমরা আমাদের সম্পর্কটা আরও জোরদার করার তাগিদ অনুভব করছি। যে কারণে ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিএনপি ততই নির্বাচন বানচালে মরিয়া হয়ে উঠছে। তাদের নাশাকতার মাত্রা আরও বিস্তৃত হতে পারে। মুরগির বাচ্চাও তাদের টার্গেট। নাশকতা, গুপ্ত হামলার ভয়াবহ যে চিত্র তা রেকর্ড স্থাপন করছে। গতকাল পর্যন্ত ছয়শ গাড়ি ভাংচুর করেছে, ১০টি রেলে আগুন দিয়েছে।’

পোশাকখাতে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নতুন শর্ত প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও একতরফা কিছু করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপ এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বন্ধু দেশগুলো বাংলাদেশের বিষয়ে চরম কোনো সিদ্ধান্ত নিতে এখন আর পক্ষপাতি নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বিদেশে বন্ধুহীন নেই। তারা জানে বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় শেখ হাসিনা কিভাবে নির্বাচন করছেন। দেশে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য নির্বাচন করছেন। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকারি ও বিরোধী দল আসবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আফম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার খবর জানে না সরকার: মীর শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না। এমনকি এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো আলোচনা বা পত্র যোগাযোগও হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে তারাও জেনেছেন যে নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি যে, নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কয়েক ধাপে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’

তবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার বিষয়টি স্বীকার করে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে। এরপর প্রস্তুতি সভা, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এ ক্ষেত্রে বাজেটসহ আরও কিছু বিষয় বিবেচনার প্রয়োজন হয়।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সেসব বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

এর আগে সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রথম ধাপের নির্বাচন সম্ভাব্যভাবে আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে।

নির্বাচনের তারিখ সরকারকে না জানিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কমিশন যে তারিখ ঘোষণা করেছে, তা প্রাথমিক। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনে আন্তঃবিভাগীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, আলোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশন কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছে কি না—জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

ফলে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির সমন্বয় কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে ইসি সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ও প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।


নির্বাচিত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত এক সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম আগামীতে আরও গতিশীল রূপ নেবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন ও রাজনৈতিক এটাচে লিং শুয়ান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আলোচনায় সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের একান্ত সচিব কাজী নজরুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেলোয়ার হোসেন (দুলু)-এর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের আওতাধীন বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন (দুলু)-এর ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে তাঁর পূর্বের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে এর আগে মো. দেলোয়ার হোসেন (দুলু)-কে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে মো. দেলোয়ার হোসেন (দুলু)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে তিনি পুনরায় বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব পদে বহাল হলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং নিজ পদে পুনর্বহালের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হলো।


নির্বাচিত

রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সহকারী কেট ওয়ার্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম ও এপিএস জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। সোমবার দলটির পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এদিন বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা মাঠপর্যায়ের সব ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পর্যায়ে এসে গেছি। অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে আমরা আভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছি।’

জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘ঢাকার ২ সিটি করপোরেশনেও আমরা ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব এবং সাংগঠনিকভাবে এখানেও আমরা আমাদের প্রার্থী মনোনীত করেছি। অফিসিয়ালি সময়মতো আমরা প্রার্থী ঘোষণা করব। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমেও এসেছে, ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি।’

দলটি জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হবেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির তিনি।

পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম।

জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের আগে তাদের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। পরবর্তীতে গত বছরের সেপ্টেম্বরের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) নির্বাচিত হন।

পাশাপাশি ২০২৪ সেশনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং পরবর্তীতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


নির্বাচিত

চোরের মায়ের বড় গলা, আসিফের অবস্থাও সে রকম: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক এমপিদের ‘প্রটেকশন’ ও পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।

একই সঙ্গে আসিফের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব দাবি করেন রাশেদ।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আওয়ামী ব্যবসায়ী ও ডামি এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে! অন্তত একজন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ও ব্যবসায়ীকে সে পুনর্বাসন করেছে, সেটা আমি জানি। এই বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আসিফ মাহমুদকে আমি সরাসরি কয়েকবার সতর্ক করেছি। কিন্তু সে তোয়াক্কা করেনি!’

‘এই বিষয়টা এনসিপির প্রত্যেক নেতা জানে। আমি তখন আসিফ মাহমুদের এই বিষয়টা তাদের জানালে তারা বলতো, ভাই, আসিফ তো আমাদের কেউ না! তার সাথে এনসিপির কোনো যোগাযোগ ও সম্পর্ক নাই! দুর্নীতি ও বিতর্কের দায় না নিতে নাহিদ ইসলাম তো বহুবার গণমাধ্যম বলেছে, দু’জন ছাত্র উপদেষ্টার সাথে এনসিপির কোন সম্পর্ক নাই!’

তিনি আরও লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলো। যে তথ্য আমি নিজে জানি। এছাড়া সে সময় আসিফের এপিএস মোয়াজ্জেম বেশকিছু তথ্য আমার কাছে আসে। এই দুজনের বিষয়ে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরেকজন উপদেষ্টাকে অবহিত করেছিলাম।’

‘‘তিনি আমার দেওয়া তথ্য পেয়ে উত্তরে বলেছিলেন, ‘আমরা যে বেতন পায়, সেটা দিয়ে চলতে পারি না, আর ওরা মানুষকে লাখ লাখ টাকা দেয়! স্বাভাবিক বেতন থেকে এটা দেওয়া যায়?’’
রাশেদ খাঁন পোস্টে লেখেন, ‘দেখেন, নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেনসহ সিনিয়র নেতারা কেন আসিফ মাহমুদের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ায় না? কারণ তারা সবাই এসব তথ্য জানে! চোরের মায়ের বড় গলা, আসিফ মাহমুদের অবস্থাও সে রকম হয়েছে!’


নির্বাচিত

আসিফ নজরুলের গ্রেপ্তার চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯
অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তিনি সরকারের মধ্যে নানা জটিলতা তৈরি করেছেন এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেননি।

সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আসিফ নজরুল দুই নম্বর লোক, ভণ্ড, প্রতারক ও মিথ্যাবাদী। তবে শিক্ষক হিসেবে তাকে সম্মান করি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আসিফ নজরুল আশ্বস্ত করেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি রাখেননি।

আমি আসিফ নজরুলকে এ জন্য দেখতে পারি না। তিনি আমাকে বলেছিলেন, সরকার গঠন হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতিকে সরাবেন।’

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে সরকার গঠনের সময় বিভিন্ন বিষয়ে ‘ভেতরে ভেতরে ঘুঁটি খেলার’ অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদসহ বিভিন্ন বিষয়ে আসিফ নজরুল নানা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আসিফ নজরুল বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। সেনানিবাসে যাওয়ার সময় আসিফ নজরুল নিজেকে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বঙ্গভবনে যাওয়ার সময় তাকে ভেতরে নেওয়া হয়নি এবং বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি ভিড়তে গেলে সেদিন সরকারই গঠন হতো না।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আসিফ নজরুলের গবাদি পশু পালনের প্রসঙ্গ টেনে তার সমালোচনা করেন বক্তা।

তিনি বলেন, ‘তিনি ইন্টেরিমের টাইমে ছাগল পালতে যাবেন কেন, গরু পালতে যাবেন কেন?’


নির্বাচিত

‘১০ শতাংশ পেলেই চলবে, কষ্ট হচ্ছে’: আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, নতুন অভিযোগগুলোতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম ও কমিশন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে বাণিজ্য, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের টেন্ডার থেকে কমিশন নেওয়া এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদক সূত্র আরও জানায়, নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণ, বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা, অর্থের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের ধরন খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, নিয়োগ ও পদায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, প্রকল্প ব্যয় এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে দুদকের নতুন অনুসন্ধানের খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যকে অনেকে দুদকের অভিযোগের বিষয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তবে নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

এর আগে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা হয়েছে। এবার তার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে অনুসন্ধানেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে।


নির্বাচিত

আসিফ নজরুলের ছাগল দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবন থেকে পোষা ছাগল চুরির পুরোনো ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসিফ নজরুলের ছাগল একটা খাওয়া হয়েছে, দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল। একটা না খাওয়াতে আমি তাদেরকে ধিক্কার জানাচ্ছি, তারা আরেকটি খায়নি কেন। আসিফ নজরুল খুব ভালো মানুষ না। গতকাল দেখলাম ইন্ট্রিম গভমেন্ট ছিল এক থেকে দেড় বছর এর মধ্যে উনি (আসিফ নজরুল) গরু ছাগল মুরগী পালা শুরু করেছেন এবং যেখানে পালতো সেখানে পুলিশের সিকিউরিটি ও দাড় করিয়েছেন। তো আসিফ নজরুলের যারা এটা (ছাগল) খেয়েছে আমি মনে করি তাদের আরেকটা খাওয়া উচিত ছিল। আমাকে ফ্রেমিং করা হচ্ছে, কিন্তু আমার দোষ নাই এটাতে। যারা খেয়েছে তাদেরকে বলেছি সামনে সুযোগ পেলে আরেকটা খেতে।’

এর আগে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ শীর্ষক একটি টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের মেয়ের পোষা প্রাণী চুরির ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ড. আসিফ নজরুল। ঘটনাটিকে জীবনের অন্যতম ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে নিঃসঙ্গতা দূর করতে তাঁর সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি এনে দেওয়া হয়েছিল। প্রাণীটির সঙ্গে তাঁর কন্যার গভীর আবেগীয় বন্ধন তৈরি হয়েছিল, যেখানে ছাগলটি নিয়মিত মেয়েটির স্কুল থেকে ফেরার প্রতীক্ষায় থাকত এবং শিশুটিও তার মুঠোফোনের পর্দায় ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করত।

পোষা প্রাণীটি চুরির পর তাঁর শিশুকন্যা মারাত্মক মানসিক আঘাত পায় বলে জানান সাবেক এই উপদেষ্টা। তীব্র কান্নাকাটির কারণে সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং দেড় দিন খাবার গ্রহণ করেনি। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না বললেও একটি অবুঝ শিশুর প্রিয় পোষা প্রাণী চুরি করে খেয়ে ফেলার এই কর্মকাণ্ডকে তিনি চূড়ান্ত নির্দয় ও অমানবিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ ভাগে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে হেয়ার রোডের বাংলো থেকে আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।


নির্বাচিত

লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লংমার্চের নামে মূলত ‘লংড্রাইভ’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রবিবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে যেভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হয়েছিল, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত ঠিক একইভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজপথে নামার অপচেষ্টায় সাহস জোগাচ্ছে। এ সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজপথে বিভ্রান্তিকর কর্মসূচি পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্থায়ীভাবে বর্জন করেছে এবং দলটির নেতাকর্মীরা সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। ফলে তাদের পুনর্বাসনের কোনো রাজনৈতিক সুযোগ অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত বট বাহিনী ও সাইবার সেল ব্যবহারের মাধ্যমে জামায়াত নেতারা পরিকল্পিতভাবে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা কিংবা প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর তোয়াক্কা না করে তারা কেবল এই অপপ্রচারমূলক সাইবার বাহিনীর ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতে চাচ্ছেন।

দেশের কৃষকদের উদ্দেশ্যে সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী স্পষ্ট করেন, দেশে কোনো বাস্তব সারের ঘাটতি নেই। বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের একটি অংশ অবৈধ মজুতদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। সরকার খুব দ্রুত এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং সার বিতরণ ব্যবস্থাকে একটি স্বচ্ছ কাঠামোর আওতায় পুনর্বিন্যাস করার কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন এবং প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীনসহ স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জামায়াতের কারণে আ.লীগ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে: রাশেদ খান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গোপন যোগাযোগ ও আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শনিবার সকালে ঝিনাইদহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির ভার্চুয়াল উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ যৌথভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ঠিক একইভাবে জামায়াতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে আওয়ামী লীগ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস পাচ্ছে। জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রে আপত্তি না থাকার কথা জানালেও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এই ফ্যাসিবাদী শক্তির রাজনীতি আর কখনো মেনে নেবে না।

এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক র‍্যালিতে সরাসরি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী। কর্মসূচি চলাকালে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু ও আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা এবং যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবে মহিলা দল: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজ থেকে ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন চিরতরে নির্মূল করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সংগঠনটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালিপূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, নারীদের সার্বিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে তাঁদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা অপরিহার্য। দীর্ঘ ত্যাগ ও প্রতিকূল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মহিলা দলের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্র পরিচালনায়ও পুরুষদের মতোই সমান পারদর্শী বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রত্যেকে সরাসরি মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য না হলেও তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তাই প্রতিটি নেতাকর্মীই এই জাতীয় নেতৃত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, নারীদের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। সরকারের এসব জনকল্যাণমূলক ও নারীবান্ধব উদ্যোগের বার্তা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অতীতের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মহিলা দলের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারীবান্ধব রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।


নির্বাচিত

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল,ঢেলে সাজছে বিএনপি

#আজ স্থায়ী কমিটির বৈঠক #আলোচনায় থাকছে—জাতীয় কাউন্সিল, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন ও স্থানীয় নির্বাচন # বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই অন্যতম অগ্রাধিকার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দলকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও জনমুখী করতে বড় ধরনের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। দীর্ঘদিন পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন বিএনপির অন্যতম অগ্রাধিকার।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে বিএনপির সামনে নতুন ধরনের সাংগঠনিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দলের অনেক নেতা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দায়িত্বে থাকায় সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন কাউন্সিল ও নিয়মিত কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের নবায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এই বাস্তবতায় জাতীয় কাউন্সিলকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন হিসেবে নয়, বরং নেতৃত্ব নবায়ন, তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং সংগঠনকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
কাউন্সিলের পথে বিএনপি: দলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আজ শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা, গ্রেপ্তার ও সাংগঠনিক নানা সীমাবদ্ধতায় দীর্ঘ সময় তা সম্ভব হয়নি।
দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, কাউন্সিল আয়োজনের একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় কাউন্সিল করা গেলে তা দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে করেন তিনি।
৭২ জেলা-মহানগর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ: কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পুনর্গঠনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কোথাও আংশিক কমিটি রয়েছে, কোথাও সম্মেলনও বাকি।
এসব কমিটি পুনর্গঠন, অসম্পূর্ণ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। দলের নেতারা মনে করছেন, তৃণমূলই রাজনৈতিক সংগঠনের মূল শক্তি। দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন না হলে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
তাই কাউন্সিলের আগে তৃণমূলকে সক্রিয় করার উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অঙ্গসংগঠনেও নেতৃত্বের নবায়ন: মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্রের হিসাবে, ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ৯টির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষ করে ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ এবং নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যেও তৎপরতা বেড়েছে। অনেক তরুণ নেতা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের ভূমিকার তথ্য দলের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরছেন। তবে নতুন নেতৃত্ব আনার অর্থ অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়া নয়। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে সংগঠনকে আরও কার্যকর করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন নেতারা।
ঢাকা দক্ষিণে তিন সম্ভাব্য নাম: সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই মহানগরেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
আলোচনায় রয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
তিনজনের রাজনৈতিক শক্তির জায়গাও আলাদা। ইশরাক হোসেনের বড় শক্তি পুরান ঢাকার সঙ্গে পারিবারিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ, তরুণদের মধ্যে পরিচিতি এবং আগের সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা। আব্দুস সালামের শক্তি নগর প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে হাবিব উন নবী খান সোহেলের রয়েছে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত যোগাযোগ।
তবে এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নিজস্ব ভোটভিত্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
আট বিশেষ টিমে ঢাকা দক্ষিণের প্রস্তুতি: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ইতিমধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে আটটি বিশেষ সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে।
এসব টিমের মাধ্যমে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা, জনপ্রিয়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, দল সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ টিমগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

ঢাকা উত্তরে নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। তবে আসন্ন সিটি নির্বাচন এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বে আমিনুল হক, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং এবিএম আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদে আমিনুল হকের নামকে এগিয়ে রাখছেন মহানগর উত্তরের একটি অংশের নেতাকর্মী। এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও তাকে আলোচনায় রেখেছে। আর মামুন হাসানের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, নেতৃত্ব নির্ধারণে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্থানীয় নির্বাচন হবে তৃণমূলের পরীক্ষা: ঢাকার বাইরে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বিএনপির মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
তবে একাধিক প্রার্থী মাঠে নামার কারণে ভোট বিভক্তির সম্ভাবনা ঠেকাতে আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দল সমর্থিত প্রার্থী একজন থাকবে এবং সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে—এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের আগেই সতর্ক করা হচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা এবং একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূল সংগঠনের সক্ষমতা যাচাইয়ের বড় সুযোগ। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ: জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাস নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মহাসচিব পদটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কঠিন সময়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার নাম স্থায়ী মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল ও মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সংগঠন: বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি শক্তিশালী দলীয় সংগঠন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সাফল্য ধরে রাখা কঠিন। এ কারণে জাতীয় কাউন্সিল, জেলা-মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গসংগঠনে নতুন নেতৃত্ব এবং স্থানীয় নির্বাচন—সবগুলো উদ্যোগকে একই সাংগঠনিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়মিত কাউন্সিল ও নেতৃত্ব নবায়নের মাধ্যমে তৃণমূলে নতুন প্রাণসঞ্চার করতে চায় দলটি। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে সুযোগ দিলে সংগঠনে নতুন চিন্তা, কর্মপদ্ধতি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়বে বলে মনে করছেন নেতারা। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিএনপির সামনে এখন বড় লক্ষ্য—রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে আরও কার্যকর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনমুখী করা। জাতীয় কাউন্সিল সেই পুনর্গঠনের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে নতুন সাংগঠনিক শক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নবায়ন থেকে জেলা-মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গসংগঠনে তরুণদের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে বিএনপি এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের আরও সুসংগঠিত করার পথে এগোচ্ছে।


নির্বাচিত

banner close