মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

বিএনপি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে চায়: ওবায়দুল কাদের

ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৭:২৭

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে সারাদেশে কর্মসূচির নামে বিএনপি সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির আগামীকালের কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখে দিতে দেশের মানুষসহ দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশে দুর্ভিক্ষ তৈরি করার অপচেষ্টাও চলছে। এতে আওয়ামী লীগ বিচলিত নয়। এসব মোকাবেলা করার মতো রাজনৈতিক দৃঢ়তা আওয়ামী লীগের আছে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে মানবাধিকার কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে। আওয়ামী লীগ মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জন্মলগ্ন থেকেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানী থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই অব্যাহত রেখেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের সব ধরনের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন গণতান্ত্রিক শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো ও এ পথকে মসৃণ করার লক্ষ্যে আমরা বিরামহীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আমাদের নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। সুতরাং নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিক কোনো কারণ আমরা দেখছি না। বরং নির্বাচনকে যারা বাধাগ্রস্ত করবার জন্য সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, জ্বালাও- পোড়াও, গুপ্ত হামলা করছে এদের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এদেশে মানবাধিকারের ইতিহাস বড়ই ট্র্যাজিক। শুরু করি যদি ১৫ই আগস্ট এ সপরিবারে অবলা নারী, অবুঝ শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বর্বরোচিত যে হত্যাকান্ড, এ ব্যাপারে মানবাধিকার নিয়ে যারা কথা বলে তাদের অনেককেই দেখেছি নীরব। তাদের অনেকেই স্বৈরশাসকদের তাঁবেদারি করেছে। অথচ এরা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম ও সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন ও মেরিনা জাহান কবিতা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


দেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার চক্রান্ত রয়েছে : মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশকে আবারও পেছনের টেনে নিয়ে যাওয়ার অনেক চক্রান্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আপনারা যারা আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, সবাই মিলে আসুন আমরা আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ- ১৯৭১ সালে যার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম, ১৯৯০ সালে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, ২০২৪ সালে যার জন্য আমার ছেলেরা রক্ত দিয়েছে, আসুন আমরা সেই বাংলাদেশকে আবার সবাই মিলে গড়ে তুলি। তাহলে আমাদের নেত্রীর প্রতি সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার ওপর ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতন, মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাবাসসহ নানা ঘটনা তুলে ধরে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবি আল মাহমুদের কবিতার লাইন ..তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলার আকাশ.. আবৃতি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার চলে যাওয়া নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে, ঐক্যের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। চক্রান্ত রয়েছে, তবে সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই একটি জাতিকে তিনি (খালেদা জিয়া) জাগিয়ে তুলেছিলেন, একটি জাতিকে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি, তার এই চলে যাওয়া আমাদেরকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে, আমাদের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করবে এবং আমরা সবাই ঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব।

গণতন্ত্রের প্রতি, দেশের উন্নয়নের প্রতি, জনগণের কল্যাণের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার একাগ্রতার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা নয়; ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশকে বিনির্মাণের বার্তা দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আর ফিরবেন না, তবে তার রেখে যাওয়া স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া একজন আইকন, যার প্রমাণ তার জানাজায় দেখা গেছে। দল, মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ সবাই তার জন্য কেঁদেছে। কারণ তারা দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছিলেন বেগম জিয়ার মধ্যে।

দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খালেদা জিয়ার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার কোনো তুলনা হয় না। একটি দল নয়, গোটা জাতির নেত্রী ছিলেন তিনি।

আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানসহ ব্যবসায়িক নেতারা বক্তব্য দেন।


হাসপাতালে কামাল হোসেন, দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তার ফুসফুসে নতুন করে নিউমোনিয়া সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. মিজানুর রহমান জানান, ৮৮ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২ জানুয়ারি তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর গত রোববার বিকেলে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শারীরিক কিছু পরীক্ষায় তার ফুসফুসে নতুন করে নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। তবে সার্বিকভাবে তার অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা তার যথাযথ যত্ন নিচ্ছেন।’

ড. কামালের অসুস্থতার খবরে দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। গণফোরামের পক্ষ থেকে সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। গত শুক্রবার তার ফুসফুসের সমস্যা বেড়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতির প্রবাদপ্রতিম এই ব্যক্তিত্ব ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন।


ভেন্টিলেশনে ওবায়দুল কাদের, অবস্থা সংকটাপন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, তাকে ভারতের কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বর্তমানে তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস প্রদানের জন্য ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ওবায়দুল কাদের ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবি করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে তার অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা কৌতূহল ছিল। হাসপাতাল সূত্র মারফত নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তবে তার অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং বর্তমান চিকিৎসাসংক্রান্ত কোন তথ্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


আমি ছাড়া আর কারও সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা নাই: অলি আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেছেন যে, বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় নেতৃত্বের মধ্যে তাঁকে বাদ দিয়ে আর কারো বাস্তব সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। সোমবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। অলি আহমদ বলেন, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সরকার পরিচালনা করেছেন, যা বর্তমানের অন্য কোনো নেতার ঝুলিতে নেই। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মতো জটিল কাজের জন্য অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া উচিত হবে না। এমনকি যারা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস করেননি, তাঁদেরকে জাতীয় সংসদে না পাঠানোর জন্যও তিনি দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

নির্বাচনী জোট ও সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে অলি আহমদ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাঁর দলের একীভূত হওয়ার গুঞ্জনকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এলডিপি জামায়াতে যোগ দেয়নি এবং জামায়াতও এলডিপিতে আসেনি। মূলত ১২টি দলের সমন্বয়ে একটি বড় নির্বাচনী জোট গঠিত হয়েছে এবং এলডিপি সেই জোটের অন্যতম প্রধান অংশীজন। জোট থেকে কয়টি আসনে এলডিপি নির্বাচন করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, ৩টি বা ৬টি নয়, বরং এর চেয়ে অনেক বেশি আসনে তাঁর দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা সময় হলে সবাই জানতে পারবেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর দল কখনো চাঁদাবাজি বা মাস্তানিকে প্রশ্রয় দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও স্বচ্ছ রাজনীতির ধারা বজায় রাখবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এলডিপি সভাপতি। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই, তবে কোনো অবস্থাতেই মোদি, অমিত শাহ বা রাজনাথ সিংদের ‘দালালি’ করবে না এলডিপি। যারা বিদেশের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট, তাঁদের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভারতকে তোষণকারী ব্যক্তিদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তিনি নির্বাচনে ভারতের পক্ষ নেওয়া বা দালালি করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। অলি আহমদের মতে, মাস্তান, চাঁদাবাজ ও বিদেশের দালালদের ভোট দিলে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে না।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসেবা নিয়ে এক উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরেন কর্নেল অলি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এলডিপি যদি সরকার গঠন করার সুযোগ পায়, তবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। সারাদেশে আন্তর্জাতিক মানের অসংখ্য হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে যাতে সাধারণ মানুষকে আর হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে না হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিবাজদের কঠোর হস্তে দমন করবে। মূলত ইনসাফ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এলডিপি কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।


একাত্তর আমাদের ভিত্তি, সমাজ হবে সবার: তারেক রহমান

আপডেটেড ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ভিত্তি এবং একে বাদ দিলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব চিন্তা করা সম্ভব নয়। সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম প্রগতিশীল দলগুলোর নবগঠিত জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, একটি আধুনিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী—সকল শ্রেণির মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। তিনি মনে করেন, একাত্তরের চেতনা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বৈঠক শেষে আলোচনার বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানান বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ। তিনি উল্লেখ করেন যে, মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে সমবেদনা জানাতে এবং কার্যালয়ে রক্ষিত শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে শোক প্রকাশের পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বাম নেতারা এই সময় রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দাবি জানান যেন কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রস্তাবিত ‘জাতীয় সরকার’ গঠন সংক্রান্ত গুঞ্জন নিয়ে বৈঠকে কথা উঠলে তারেক রহমান তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে, জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। জামায়াত হয়তো বাইরে এই বিষয়ে কথা বলছে, কিন্তু বিএনপির সঙ্গে তাদের আলোচনা কেবল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়টিতে সীমাবদ্ধ। এর মাধ্যমে তিনি জোটের ভবিষ্যৎ রণকৌশল সম্পর্কে চলমান জল্পনার অবসান ঘটান এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে বাম দলগুলোর সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে বলে ইঙ্গিত দিলে তারেক রহমান তাকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সমালোচনা ছাড়া সুস্থ গণতন্ত্র চর্চা অসম্ভব এবং তিনি বিশ্বাস করেন আলোচনা ও সমালোচনা সমান্তরালভাবে চললেই দেশ সঠিক পথে থাকবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধিদলে ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, নাজমুল হক প্রধান, ডা. মুশতাক হোসেন এবং মোশরেফা মিশুর মতো প্রবীণ ও প্রভাবশালী বাম নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও বাম দলগুলোর এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ভবিষ্যতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় ঐক্য গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান তারেক রহমানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। দেশের অগ্রগতির স্বার্থে এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রাখতে সরকার ও বিরোধী দলের সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

বৈঠকটি এক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকাল, আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখেছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অপরিসীম। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকল পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করলে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শামিল হলে বাংলাদেশ খুব দ্রুত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

মতবিনিময় সভার আগে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা কার্যালয়ে রক্ষিত শোক বইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানান। বাম জোটের পক্ষ থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া এবং নাজমুল হক প্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় এক ডজন নেতা এই প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে জানানো হয় যে, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় সংহতি বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

আলোচনায় বাম জোটের নেতারাও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. মুশতাক হোসেন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, ইকবাল কবীর জাহিদ এবং মোশরেফা মিশুর মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতে রাজপথের সকল শক্তির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও বামপন্থী দলগুলোর এই শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ এবং ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।


খালেদা জিয়ার রাজনীতি ছিল সংগ্রামের ও রাজপথের: ড. মঈন খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থ রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবন দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে। সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে এ্যাবের (অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাগ্রিকালচারিস্টস বাংলাদেশ) অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। মঈন খান উল্লেখ করেন যে, যখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা ও ব্যক্তিগত আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন খালেদা জিয়া ছিলেন সম্পূর্ণ আপসহীন এবং তাঁর কাছে দেশ ও মানুষের স্বার্থই ছিল সবার উপরে।

মঈন খান তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল এ দেশের সাধারণ মানুষ, কোনো অস্ত্র বা বন্দুকের শক্তি নয়। তিনি আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে লড়াই করেছেন এবং জেল-জুলুম কিংবা অন্য কোনো প্রতিকূলতার কাছে মাথানত করেননি। ড. মঈন খানের মতে, খালেদা জিয়া নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যে দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তা বিরল। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবনই ছিল মূলত রাজপথের সংগ্রামের এক জীবন্ত ইতিহাস, যা তাঁকে জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে দিয়েছে।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া শেষে তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে খালেদা জিয়ার আদর্শ ও দেশপ্রেম বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য সবচাইতে বড় পাথেয়। সুবিধাবাদী গোষ্ঠী যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বারবার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, তখন খালেদা জিয়াই ছিলেন প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর দেখানো সেই সংগ্রামের পথ ধরেই জাতীয়তাবাদী শক্তি আগামী দিনে একটি সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবে বলে মঈন খান দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ ও নৈতিকতা ধারণ করার আহ্বান জানান।


দুই দশক পর বগুড়া যাচ্ছেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তাঁর নিজ জেলা ও রাজনৈতিক সূতিকাগার বগুড়ায় পা রাখতে যাচ্ছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র এরই মধ্যে বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এই নির্বাচনি আবহের মধ্যেই প্রায় ১৯ বছর ১৮ দিন পর তিনি বগুড়া সফর করবেন, যা ঢাকার বাইরে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সফর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। দলীয় সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আগামী ১১ জানুয়ারি (রবিবার) তারেক রহমান সরাসরি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সফরের বিস্তারিত সূচি অনুযায়ী, ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এক বিশাল গণ-দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত থেকে তাঁর মরহুমা মাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর সাথে অংশ নেবেন। এরপর তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। যাত্রাপথে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার জিয়ারত করার কর্মসূচিও তাঁর রয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও শিবগঞ্জ আসনের প্রার্থীর নেতৃত্বে তাঁকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনে অবস্থিত তাঁর প্রিয় বাসভবন ‘গ্রিন এস্টেট’ নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাড়িটি ২০০০ সালে সংস্কার করে ‘গ্রিন এস্টেট’ নাম দেওয়া হয়েছিল এবং ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই বাড়ি থেকেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ধারণা, নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ এবং সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবারও তিনি এই ঐতিহাসিক বাড়িতেই অবস্থান করবেন। নেতাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলায় বগুড়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সাথে এই সফর সফল করার যাবতীয় পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার গাবতলী এলাকা থেকেই ২০০১ সালে তারেক রহমান দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবনে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি তাঁর নির্বাচনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবারও বগুড়াকেই বেছে নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বগুড়া সফর কেবল একটি নির্বাচনি প্রচারণাই নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। বগুড়া থেকে শুরু হয়ে এই সফরের প্রভাব সারা দেশের নির্বাচনি মাঠেই ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে বিএনপি সমর্থকরা মনে করছেন।


তারেক রহমানের সঙ্গে শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সাক্ষাৎ

তারেক রহমানের সঙ্গে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারা সাক্ষাৎ করেন। এসময় ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন- এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন।

তিনি বলেন, আমরা বৈঠক করতে আসিনি, এসেছিলাম শোক জানাতে। যেহেতু বেগম জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, পথিকৃৎ ছিলেন, তাই এসেছিলাম শোক জানাতে। তবে তারেক রহমান আমাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছেন, ক্ষমতায় এলে সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন।

মীর নাসির বলেন, আমরা জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষাব্যবস্থা এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের কথা শুনেছেন, নোট নিয়েছেন। আমরা বলেছি অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে ব্যবসায়ীদের সফল করতে হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৈঠক বিষয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ব্যবসায়ীদের সম্মান অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মসংস্থানের। প্রতিষ্ঠান কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতি এক নম্বর। এটাকে দাঁড় করাতে হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের নিয়ে স্বচ্ছতা আনবেন, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ সময় স্টক মার্কেট ভাইব্রেন্ট ও ব্যাংকগুলোর অবস্থা উন্নত করারও দাবি জানান। সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও মব কালচার বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।

বৈঠকের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কথা বলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেইন আকবর আলী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, উত্তরা মোটর করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী।

এছাড়া পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিসিএমইএর সভাপতি ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি আব্দুল মোকতাদির, বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, বিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামিম এহসান এবং ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির।


 ‘জামায়াত ট্যাগ’ এড়াতে দল ছাড়ছেন এনসিপির নেতারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার পর টানাপড়েনের মধ্যে পড়েছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি। এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছেন দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা। পদত্যাগকারী একাধিক নেতা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি থেকে সরে আসায় এবং ‘জামায়াত ট্যাগ’এড়াতে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তারা।

নির্বাচন, গণভোট ও সংস্কারের প্রশ্নে দলটির নেতারা বিগত দিনগুলোতে এক থাকলেও নতুন বছরে আদর্শিক দ্বন্দে বিভক্ত হচ্ছেন তারা। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে দ্বিমত পোষণের পাল্লা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এসবের পরও এনসিপি নেতারা আশায় রয়েছেন এই টানাপড়েন তারা কাটিয়ে উঠবেন।

নির্বাচন সামনে রেখে গত ৭ ডিসেম্বর এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছিল। সেই জোট ঘোষণার মাস না যেতেই গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট রাজনৈতিক দলের জোটে যোগ দেয় এনসিপি। তখন থেকেই এনসিপির ভেতরে টানাপড়েন শুরু হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি ছিল এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের। তারা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ ও আপত্তি জানান। চিঠিতে এনসিপির আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতাকে আপত্তির ভিত্তি বলা হয়। ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা, বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড, গুপ্তচরবৃত্তি ও এনসিপির নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সামাজিক ফ্যাসিবাদ উত্থানের আশঙ্কার কথা চিঠিতে তুলে ধরেন নেতারা।

দলটি থেকে পদত্যাগকারী একাধিক নেতা জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিতর্কিত ও লজ্জাজনক অধ্যায়। সেই সময় তারা স্বাধীনতার প্রশ্নে জাতির বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ডজন খানেক নেতা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে ছিলেন। ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ছাড়া এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ, দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীনও পদত্যাগ করেছেন।

দলীয় নেতৃত্বে টানাপড়েনের পরও সামনের নির্বাচনে দল হিসেবে ভালোকিছু করা এবং নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। দলে বর্তমানে সক্রিয় একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, নতুন বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনে ভালো কিছু করা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করা, নতুন একটি সংবিধানের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং সবাইকে নিয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত ও পুরাতন এস্টাব্লিশমেন্টমুক্ত স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের আগামীর চ্যালেঞ্জ।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের পদ থেকে পদত্যাগ করা খান মুহাম্মদ মুরসালীন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি হচ্ছে, বাংলাদেশে যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানটি ঘটিয়েছে- এই যে শ্রমিকেরা, এই যে নারীরা, এই যে আমাদের মা-বোনেরা, এই যে ছাত্ররা, যারা রক্ত দিয়েছে—এটাই। এই শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে যদি তারা একটি পলিটিক্যাল ফোর্স তৈরি করতে সমর্থ হতো তাহলে কিন্তু বাংলাদেশে আজকে গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতিটা হুমকির মুখে পড়ত না। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শক্তিটাকে সংগঠিত না করার ফলে তারা নিজেরা দুর্বল হয়ে গেছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, আমাদের কিছু সহযোদ্ধা দলের প্রতি অভিমান দেখিয়ে দল থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন, কয়েকজন সহযোদ্ধা পদত্যাগ করেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা ডেমোক্রেটিক প্রসেস এবং এ প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি সবসময় সম্মান জানাই। দলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং দলের বৈধ ফোরামগুলো যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা সেগুলোর প্রতি সবসময় সম্মান জানাই।


তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাব নেতাদের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। রোববার ( জানুয়ারি ) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে এই সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।

সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে কবি আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, কেএম মহসীন জাহিদুল ইসলাম রনি এই প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য আতিকুর রহমান রুমনও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে তারেক রহমান জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতাদের সঙ্গে পেশাদারিত্বের মান উন্নয়ন গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে কথা বলেন। প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গুলশানে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক সাংবাদিকতা উভয় মহলেই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।


হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারতে বিএনপি মহাসচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি সংক্ষিপ্ত আধ্যাত্মিক সফরে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে পৌঁছেছেন। আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে গমন করেন। সেখানে তিনি প্রখ্যাত এই ওলির মাজারে ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি হযরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

মির্জা ফখরুলের এই সফরকে ঘিরে সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী। মাজার জিয়ারতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৬টায় এয়ারপোর্ট রোডের উইন্ডসর হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর একটি প্রেস ব্রিফিং করার কথা রয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন যে, মহাসচিব এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের এই সিলেট সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আবহাওয়াগত ও কারিগরি কারণে মহাসচিবের এই সফরে শুরুতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশা এবং ওসমানী বিমানবন্দরে অন্যান্য ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর মির্জা ফখরুলকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটি পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বিকেল ৩টা ১৭ মিনিটে রানওয়ে স্পর্শ করে। তবে শিডিউল বিপর্যয় ও বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় জমান। মাজার জিয়ারত ও প্রেস ব্রিফিং শেষে তিনি দলীয় অভ্যন্তরীণ কিছু সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


তারেক রহমানের সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সাইফুল হকের নেতৃত্বে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে খোলা শোক বইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনা প্রদান করেন।

সাক্ষাতকার ও শোক প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দেশে একটি টেকসই ও অর্থবহ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁরা বিশদ আলোচনা করেন। এছাড়া জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সম্ভাবনা এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করার বিষয়ে তাঁরা উভয়েই ঐকমত্য পোষণ করেন।

বৈঠককালে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে এই ধরনের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মূলত গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই দুই নেতার বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


banner close