দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন অরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় ইসির আপিল শুনানিতে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ আমার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। এবার আমি কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে না, একটি পার্টি থেকে ডাব মার্কায় নির্বাচন করব।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে থাকার পরিবেশ যদি থাকে তাহলে আমি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। জয়ের ব্যাপারে আমি প্রতিবারই আশাবাদী ছিলাম এবারও আমি এ ব্যাপারে আশাবাদী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জয় লাভ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এলাকার লোকজনের আশ্বাসেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।’
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে হিরো আলম মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তবে যথাযথভাবে মনোনয়নপত্র পূরণ না করায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম তার প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া হিরো আলম তার হলফনামার সঙ্গে সম্পদের আয় ও ব্যয়ের বিবরণী জমা দেননি। তার হলফনামা নোটারি পাবলিক করা থাকলেও সেখানে স্বাক্ষর করেননি।
রেজিস্টার্ড হকার ছাড়া কেউ রাস্তায় বসতে পারবে না জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে হকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাতে হকারদের বসার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে নিবন্ধিত হকার ছাড়া অন্য কাউকে রাস্তায় বসতে দেওয়া হবে না। এক সপ্তাহের মধ্যে হকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘হকার পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নীতিমালার বিকল্প নাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘হকার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে হকারদের সহযোগিতা প্রয়োজন। অতীতে হকারদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘হকার পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন হকার্স সমিতির দুজন করে প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাদের মতামত নিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা হবে।’
হকারদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘হকারদের তালিকা তৈরি করে প্রত্যেককে আইডি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নিবন্ধিত হকারদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং রাস্তায় অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের বসার সুযোগ থাকবে না।’
এ ছাড়া হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তার মতে, পরিকল্পিতভাবে হকারদের পুনর্বাসন করা গেলে একদিকে যেমন তাদের জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাতেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। জোট থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে।
আজ রবিবার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠক শেষে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন ছাড়াও পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া অলি আহমদ ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। এর অবস্থান ছিল চট্টগ্রামের ষোলশহরে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পর নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে অবসর নেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (বাংলাদেশ) এর প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা জীবন দিয়ে দেশের মানুষকে মুক্ত করে দিয়েছেন। যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাওয়া যাবে না। এখনো পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানির শামিল। দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা না হলে সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নেজামে ইসলাম পার্টির আমির (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মুফতি মূসা বিন ইযহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সরকার এখন একদলীয় শাসনের দিকে হাঁটছে। তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া অন্যের বিষয়ে সামান্য পরিমাণও ভ্রুক্ষেপ করছে না। তারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়। ফ্যাসিবাদীদের নিয়ে সরকার ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে চায়—এটি হাস্যকর। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।
ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোটের আগে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেলে চলবে না। ক্ষমতার স্বাদে যদি জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদা ভুলে যাওয়া হয়, তাহলে জনগণও একদিন ভুলে যাবে যে তিনি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে যারা অযোগ্য ও স্বার্থান্বেষী লোকজন রয়েছে, তাদের সরাতে হবে। আপনার চারপাশের স্ক্রাব লোকগুলোকে সরান, না হলে তারা আপনাকে ডুবাবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি অটল থাকতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে আবারও নতুন করে বিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এক জুলাই রক্ষার প্রয়োজনে আরও হাজার জুলাই সংগঠিত হতে পারে। তাই কোনো ধরনের টালবাহানা না করে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত আইডিইবি ভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষ প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে আয়োজিত এই সমাবেশে 'মতবিরোধ নয়, ঐক্যেই গড়ি আগামীর বাংলাদেশ' শীর্ষক মূল প্রতিপাদ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সমসাময়িক রাজনীতি, সামাজিক অবক্ষয় এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দিয়ে জামায়াত আমির জানান, "আমরা সবাইকে সম্মান করি, গালি দিলে আমার কিছু আসে যায়না, তবে লাভ আছে- কেউ আমাকে অহেতুক গালি দিলে আমার কিছু গুনাহ মাফ হবে"। ইসলামের প্রচার নিয়ে অপপ্রচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আজকে ইসলামের বিরুদ্ধে অনেক খারাপ ধারণা সমাজকে দেওয়া হয়। যদি ইসলাম কায়েম হয় তাহলে নাকি হাত একটাও থাকবে না, কারণ সবাই তো চুরি করে, অন্তত এক হাত তো চলে যাবে।"
ব্যক্তিগত আঘাত বা গালমন্দকে তিনি আধ্যাত্মিক দিক থেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে বলেন, "যে বিষয়ে আমাকে গালি দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে যদি আমি সম্পৃক্ত না হই, নিশ্চিত আমার গুনাহ মাফ হবে। হাসি মুখে আমি বরণ করে নেব, বরং আমার উপকার হবে।" দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বিনয়ী আচরণের তাগিদ দেন এবং জানান যে, বিরুদ্ধাচরণকারীদের কথার মধ্যে যুক্তি থাকলে তা গ্রহণ করা উচিত, আর না থাকলেও অত্যন্ত নম্রতার সাথে তা মোকাবিলা করতে হবে।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, বর্তমানে মানুষের জীবন, সম্পদ এবং ব্যক্তিগত সম্মানের কোনো সুনিশ্চিত নিরাপত্তা নেই। তিনি মনে করেন, মেজাজের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই কারণে একে অপরের অস্তিত্ব অস্বীকার করা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো ভাই গালি দিলেও তাকে পাল্টা গালি দেওয়া যাবে না, বরং সহনশীলতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। একইসাথে উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা না ছড়ানোর জন্য তিনি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
এই সম্মেলনের আগে ডা. শফিকুর রহমান মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে জুলাইয়ের গণআন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। সেই সফর শেষে তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পূর্বের সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো ক্রমশ ভুলে যাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে এবং একটি সুন্দর আগামীর জন্য আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান ঠেকাতে ঢাকার কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত সাড়ে ১৬ বছরের জুলুম-নির্যাতন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের গণহত্যায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ শহীদ ও ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তদন্তেও প্রমাণিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তাকে আশ্রয় দেওয়া দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি বিনিময় চুক্তির স্পষ্ট অবমাননা। জামায়াত প্রত্যাশা প্রকাশ করে যে, ভারত সরকার তাদের অনড় অবস্থান সংশোধন করবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে।
একই সাথে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের তাগিদ দিয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি ও জাতিসংঘের সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে দেশের মুক্তিকামী জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, রক্তে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো পুরোনো বা নব্য ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না এবং একটি বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন প্রধান লক্ষ্য।
জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও তৃণমূলভিত্তিক করার লক্ষ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনক্রমে খুলনা মহানগর ও খুলনা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট খুলনা মহানগর কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নিয়াজ আহমেদ তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন।
মহানগর কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহসভাপতি এ. কে. এম. শফিকুল হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, এস. এম. আবু সাইদ, বনানী সুলতানা ঝুমু, এ. এ. কে. আলমগীর, খাইরুল আলম, কাউসারী জাহান মঞ্জু; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. এম. রায়হান আলমগীর, নুরুন নাহার নাজমুন নেছা জেবা, ফখরুল ইসলাম শিবলু, গাজী হাসান রুমি; সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল রহমান মিলন; সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান; কোষাধ্যক্ষ সোহেল হোসেন; দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ হোসেন; প্রচার সম্পাদক সৈকত সোহাগ; মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদা পারভীন পলি; সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক শেখ জাহিদ হোসেন; ক্রীড়া সম্পাদক ইউনুছ মিয়া; আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারহানা বিনতে হাসান; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সোয়েব খান; তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এনরোজ খান বাহার; শিল্প, চারু ও কারুকলাবিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম; সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান জুয়েল। নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন আদনান হাসান, তানভীর মনিরুজ্জামান মানিক, মাহবুব হোসাইন, মোহাম্মদ সবুর, সুলতান মাহমুদ জনি এবং রনি সানা।
অন্যদিকে, খুলনা জেলা কমিটিতে সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোল্লা মেজবাউল ইসলাম।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মুন্সী; সহসভাপতি হাফিজুর রহমান শেখ, শিকদার গোলাম রসূল, শেখ ফেরদৌস হোসেন, শিহাবুল ইসলাম শিহাব; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন মোড়ল, সাদ্দাম হোসাইন, নাজমুছ সাকিব, রাসেল আহমেদ রিপন, ফয়সাল আহমেদ; সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন; সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইমরান, মোহাম্মদ জামাল মোল্লা; দপ্তর সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির; সহদপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হাদী; প্রচার সম্পাদক মিরাজ মল্লিক; সহ-প্রচার সম্পাদক সোহাগ; স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. তৌকির আহমেদ; কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ শেখ; ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তায়িন বিল্লাহ এবং মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মোছাম্মৎ তাসলিমা বেগম।
জাতীয় নির্বাচনকালীণ সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি নড়াইল বিএনপির ছয়জন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিস্কৃত নেতৃবৃন্দরা হলেন নড়াইল সদর উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, সদর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিলু শরীফ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো.মশিয়ার রহমান সান্টু।
দলের হাই কমান্ডের কাছে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাজাপ্রাপ্ত ওই সকল নেতৃবৃন্দের ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং তাদেরকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিএনপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচির অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয় এখন থেকে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে নেতৃবৃন্দ কার্যকরী ভূমিকা রাখবেন বলে দল আশা প্রকাশ করে।
জানাযায়,জাতীয় নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে প্রথমে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জননেতা মো. মনিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন । সেই মোতাবেক মনিরুল ইসলাম দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড মনিরুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ে ড.ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনিরুল ইসলাম তা প্রত্যাখান করে তার অনুসারিদের নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। যে কারণে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড.ফরিদুজ্জামান নির্বাচনে তৃত্বীয় স্থান অর্জন করেন।
গ্যাস সংকট, লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আদায় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দান থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া মন্ডল, সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন, জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কবির, জেলা এবি পার্টির সভাপতি সুলতান মো. শামসুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মোমেন ফকিরসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, ‘দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ও ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিল্প-কারখানার উৎপাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত বা ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।’ দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে আহ্বান জানান নেতারা।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পতন শুরু হয়েছে, সামনে আরও পতন হবে। আপাতত আপনাদের পতন সামলান বালে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বানচালের চেষ্টা করেছে। তারা বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সংঘবদ্ধভাবে মব সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই কারাবন্দিদের মুক্তি দিবস উপলক্ষে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, গতকাল এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে প্রোগ্রামটি বানচাল করার উদ্দেশ্যে এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মব সৃষ্টি করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও তারা একই ধরনের মব রাজনীতি করেছে, গতকালও সেটির পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা আতঙ্কিত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে। যারা নিজেদের বিরোধী দল হিসেবেই সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না, তারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্ন দেখছে!
প্রধানমন্ত্রীর এ সহকারী আরও বলেন, সচিবালয় ঘেরাওয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অচল করার একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। জামায়াত ও এনসিপির চিন্তার মধ্যেই রাষ্ট্র অচল করার দুরভিসন্ধি রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সচিবালয় ঘেরাও হয়নি, অথচ এখন তারা সেটিই করছে।
এনসিপির নেতৃত্বের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, অন্যের অবদান অস্বীকার করলে মানুষ আপনার অবদানও মনে রাখবে না। আজ মানুষ এনসিপির অবদানও আর শুনতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণে নির্বাচন করতে চান এবং আমরা দেখেছি জামায়াতে ইসলাম সাদিক কায়েমকে (প্রার্থী) ঘোষণা করেছে। দেখেন, এটিকে কেন্দ্র করে আগামীতে জামায়াত এবং এনসিপির ভাঙন হয় কি না। নিজেদের ভাঙন সামলান। এরপরে না হয় সরকারি দলের পতন ঘটাবেন। তবে আপাতত আপনাদের পতন শুরু হয়েছে, এই পতন সামলান।
জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বে বাংলাদেশে দ্বিতীয় কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। গণঅভ্যুত্থান এত সস্তা বিষয় নয়, যোগ করেন সাবেক এ ছাত্র নেতা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সৌজন্য ও কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে নাহিদ ইসলামের সাথে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংগঠনটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেলের প্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং এনসিপির পেশাজীবী সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) আহ্বায়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের নানা দিক হাইকমিশনারের কাছে তুলে ধরেন।
এনসিপির নেতৃবৃন্দের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জোরদারকরণ, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
একই সাথে একটি সুস্থ, জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেন উপস্থিত দুই পক্ষ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর পাকা করার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের এই দুর্নীতির কারণে অনেক শহীদদের কবরের চিহ্ন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “জুলাই শহীদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আমি গিয়ে দেখি কবরের কোনো চিহ্নও নেই। তারা কবরের টাকা মেরে খেয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, বিগত প্রশাসনের অনিয়মের এমন অনেক দালিলিক প্রমাণ বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করলে তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে।
প্রতিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করা থেকে বিরত ছিল, যার ফলে বর্তমান বিএনপি সরকারকে এই বিশাল কাজ শুরু করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেক প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চিত যোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে তিনি সভায় আশ্বস্ত করেন।
আলোচনা সভায় ইশরাক হোসেন দাবি করেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির কোনো গণহত্যার রেকর্ড নেই এবং দলটি সবসময়ই দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, অতীতের কিছু রাজনৈতিক শক্তির ইতিহাস কলঙ্কিত হওয়ার কারণেই তারা বিভিন্ন স্মৃতি মুছে ফেলতে চেয়েছিল। তবে দেশের সাধারণ মানুষ জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বিস্মৃত হবে না বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে শহীদদের মর্যাদা রক্ষাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, "দেশে গ্যাস, হাম ও ডেঙ্গুসহ সব ধরনের সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তার অঙ্গীকার মোতাবেক জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি কাজ করছেন। কিন্তু সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশের বিরুদ্ধে একটি দল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।" বৃহস্পতিবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও তাঁকে ব্যর্থ করতে নানা চক্রান্ত হয়েছে। এখনো তেমন চক্রান্ত হচ্ছে।" চলমান অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে তিনি অতীতে দেশনায়কদের বিরুদ্ধে হওয়া গভীর ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা হিসেবে অভিহিত করেন।
ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "ভারত শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিয়ে জুলাই শহীদদের অসম্মান করেছে। কারণ শেখ হাসিনা বাংলাদেশের থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং নানা খুনের মামলা, দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। সে একটি দেশে পালিয়ে গেছে।" শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া ও সাজার কথা উল্লেখ করে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য করেন এই নেতা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। বুধবার সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “জামায়াত এবং শিবির—এই দুই দলকে মোকাবিলা করার জন্য একা ছাত্রদলই যথেষ্ট। আমার যুবদল লাগবে না, স্বেচ্ছাসেবক দল লাগবে না, বিএনপিও লাগবে না। শুধু ছাত্রদলই যথেষ্ট।” ছাত্রদল সভাপতি হুঁশিয়ারি দেন যে, শিবির যদি অস্ত্রের রাজনীতি ও ‘মব’ সংস্কৃতি অব্যাহত রাখে, তবে তাদের চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
রাকিবুল ইসলাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর শিবিরের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সেখানে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, শিবিরের পাশাপাশি জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও এই সহিংসতাকে সমর্থন করছেন এবং ছাত্রদলের অস্তিত্ব বিলীন করার হুমকি দিচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও শিবিরের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক আচরণ করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন। ছাত্রদল সভাপতি মনে করিয়ে দেন যে, ছাত্রদল কখনো আত্মগোপন করে রাজনীতি করেনি এবং যেকোনো আঘাতের সমুচিত জবাব দিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব আরও জানান যে, নিউমার্কেট থানা শিবিরের এক নেতা ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিবকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। শিবিরের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শুধু হুমকি দিলেই হয় না, তা বাস্তবায়নের ক্ষমতাও থাকতে হয়। তিনি দাবি করেন যে, বুধবারও ঢাকায় শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন। ছাত্রদল সভাপতি স্পষ্ট করে দেন যে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কায়দায় কোনো রাজনৈতিক অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না।
বর্তমানে জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় ছাত্রদল সারা দেশে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। রাকিবুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা শান্ত থাকলেও যদি শিবির ভবিষ্যতে আবারও ‘মববাজি’ বা অস্ত্রের আস্ফালন দেখায়, তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কঠোর জবাব তাদের আবারও পেতে হবে। মূলত শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ সুসংহত রাখা এবং সহাবস্থানের রাজনীতি নিশ্চিতেই ছাত্রদল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন।