শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
২৬ চৈত্র ১৪৩২

জ্বালাও-পোড়াও ছেড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনপি

আপডেটেড
১৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৬:৩৭
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৬:৩৬

গেল দুই বছর বিএনপিকে রাজপথের আন্দোলন ছেড়ে ভোটের লড়াইয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছিল আওয়ামী লীগ। ২০২২ সাল জুড়ে এবং ২০২৩ সালের প্রথমভাগেও বিএনপির আচরণ অনেকটা নির্বাচনমুখী ছিল। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দলটির নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগও চালায়। তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে ২০২২ সালে সরকার পতনের বেশ কিছু গুজবও ছড়ায় বিএনপি। কিন্তু ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে বদলে যায় সব কিছু। ভোটের লড়াই বাদ দিয়ে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দেয় দলটি। শেষপর্যন্ত হরতাল-অবরোধে অগ্নিসংযোগ, পুলিশ হত্যা, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলের ক্লাসরুমে আগুন দেওয়াসহ জ্বালাও-পোড়াও তথা সহিংস কর্মসূচিতে রূপ নেয় বিএনপির কার্যক্রম। কিন্তু নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই বিএনপি ঘোষণা দেয়, তারা আর কোনো কঠোর কর্মসূচিতে যাবে না। এমনকি হরতাল-অবরোধও দেবে না। বিএনপির এই বদলে যাওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছে দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পর সবচেয়ে বেশি আসন লাভ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নির্বাচনে ২৯টি দল অংশগ্রহণ করলেও শেষপর্যন্ত সিংহভাগ সংসদীয় আসন জয় করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া ১১টি আসন পায় জাতীয় পার্টি এবং একটি করে আসনে জয়লাভ করে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ এবং কল্যাণ পার্টি। আওয়ামী লীগের এই জয়ে আরও একবার ব্যাকফুটে চলে যায় বিএনপি। দলটির অভ্যন্তরীণ পক্ষপাতদুষ্ট এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নির্বাচনে ১০-১২ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিত হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো ঢাকার কয়েকটি আসন ছাড়া দেশ জুড়ে মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়েছে। সাভারের মতো কিছু কেন্দ্রে ৩ প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। ঢাকা-১৯ আসনে মুরাদ জং ও একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ও মন্ত্রী এনামকে হারিয়ে জয়ী হন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সারা দেশে গড়ে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে ভোটারবিহীন নির্বাচনের যে বাহানা বিএনপি তুলতে চেয়েছিল তাও কার্যকর হয়নি। উল্টো তাদের বিভিন্ন সহিংস কর্মসূচির সমালোচনা শুনতে হয়েছে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে।

নির্বাচনকে অবৈধ এবং পক্ষপাত বলে দাবি করে আসা বিএনপির জন্য শেষ আশার স্থান ছিল নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংস্থা, পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর স্টেটমেন্ট। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সরকারকে দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কেউ মেনে নেবে না বলেও দাবি করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদেশি সংস্থা, পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর বক্তব্য আরও একবার দলটির জন্য হতাশার কারণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা সেখানে সরকারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা বা অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ বা কূটনৈতিক সম্পর্কে বৈরিতা আনার কোনো কিছুই বলা হয়নি। উল্টো সহিংসতার জন্য বিদেশি বন্ধুদের হারানোর পাশাপাশি জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে বিএনপি।

যুক্তরাষ্ট্র কম্বোডিয়ার জন্য যে স্টেটমেন্ট প্রদান করেছে সেখানে সেই দেশটির বিরোধী দলের সংঘর্ষ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেশ কিছু তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হলেও বর্তমান সরকারকে অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এলিট ফোর্স র‍্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশনের পর থেকেই বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী থেকে শুরু করে রুমিন ফারহানা এমনকি তাদের লবিস্ট হিসেবে কাজ করে আসা মিলামা ও তার অনুজ জন ড্যানিলোভিজ সকলেই দাবি করে আসছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব বিএনপির পক্ষে থেকে তাদের অগ্নিসংযোগ ও সব কার্যক্রমকে সমর্থন দিয়ে যাবে এবং কম্বোডিয়ার মতোই আওয়ামী লীগ সরকার কোণঠাসা ও একা হয়ে যাবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্টেটমেন্ট একেবারেই ভিন্ন বার্তা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেই বার্তার ব্যাখ্যায় ওয়াশিংটনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) এশিয়া এবং বাংলাদেশবিষয়ক জ্যৈষ্ঠ উপদেষ্টা জেফরি ম্যাকডোনাল্ড এক টুইটে লেখেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেটমেন্ট: আওয়ামী লীগের বিজয়কে স্বীকৃতি প্রদান, কিছু প্রক্রিয়ার সমালোচনা, সহিংসতাকে নিন্দা জানানো এবং ভবিষ্যতে যুগপৎভাবে সহযোগিতার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার।’

সুতরাং বাস্তবিকভাবেই বলা যায়, দীর্ঘ ৩ বছরের বেশি সময় ধরে অনলাইনে ও অফলাইনে বিএনপি ও তাদের গুজবকারীরা যে দাবি করে আসছিল, তার কোনোটিই কার্যকর হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের এই স্টেটমেন্টের মাধ্যমে। উল্টো সহিংসতার জন্য নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে যার অধিকাংশের সঙ্গে জড়িত ছিল বিএনপি। বিশেষত চট্টগ্রামে নির্বাচনের দিন সরাসরি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেটমেন্টের পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্যের স্টেটমেন্ট আরও হতাশ করেছে দলটিকে। সেখানে যুক্তরাজ্য বেশ স্পষ্ট করে বলেছে, ‘নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনকালে বেশ কিছু ভয় দেখানো এবং সহিংসতার নিন্দা জানাই আমরা। রাজনৈতিক কার্যক্রমে এগুলো কোনো স্থান নেই।’

প্রশ্ন থাকে- বিএনপি ভয় দেখাল কাদের? কখন ভয় দেখাল? এর উত্তরে বলা যায়, নির্বাচনের দুদিন আগে রাতে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় চারজন নিরীহ যাত্রীকে। এ ঘটনা বেশ নাড়া দেয় দেশের সাধারণ মানুষকে। নির্বাচনের দিন চট্টগ্রাম-৮ আসনে (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) চান্দগাঁও এলাকায় ভোট প্রদানে বাধা দেওয়ায় পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। হবিগঞ্জ শহরে নির্বাচনের আগের দিন রাত ৯টার পর থেকে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রসহ বেশ কটি এলাকায় একযোগে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এক ঘণ্টার ব্যবধানে সাতটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাজধানীর পৃথক এলাকায় চারটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে এক শিশু, পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ চারজন আহত হয়। রাজধানীর মগবাজার ও মুগদায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে পৃথক এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। রাজশাহীর বাঘায় ৮ স্থানে ১০ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গাইবান্ধা-৩ আসনের পলাশবাড়ী উপজেলার রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে আধাঘণ্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসারের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া নির্বাচনের পর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের এক বিবৃতি অনুসারে, নির্বাচনের আগের দিন ৬ জানুয়ারি রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন ওয়ার্ডের যুবদলের সহসভাপতি মাহবুব রহমান ও মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আজিমুদ্দি মিয়ার নেতৃত্বে মাহবুব উর রহমান, আজিমুদ্দি, বাবলু, মিঠু, ফজল, খলিল, চিত্র, অহিদুর, রহিমসহ ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসীর দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একই উপজেলার দুই ইউনিয়নের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি ঢুকে মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেয়। তারা বলে, ‘তোমরা নৌকা মার্কার ভোটার এটা আমরা জানি। তোমাদের কষ্ট করে কেন্দ্রে যেতে হবে না। তোমাদের ভোট আমরা দিয়ে দেব। কেন্দ্রে গেলে তোমাদের জাল নৌকা সবই যাবে। ভোটকেন্দ্রে গেলে এবং নৌকায় ভোট দিলে সবাইকে এ এলাকা ছাড়তে হবে। এটা আমাদের নেতার নির্দেশ, তোমাদের জানিয়ে গেলাম।’

আরও জানানো হয়, নির্বাচনের দিন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ছেতনাই তোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ফেরার পথে বিএনপি-জামায়াতের অতর্কিত হামলায় দুজন সংখ্যালঘু আহত হয়েছেন। বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের চেরাডাঙ্গি দেওগা গ্রামের রোশনি রায় (২৫) ও জয়দেব বর্মণ (১৯)। তারা বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভোট দিতে যাওয়ার অপরাধে বিএনপি-জামায়াতের ৪০-৫০ জন দুর্বৃত্ত এসে ছুরি নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেছে।

বিএনপির এ ধরনের কার্যক্রম ২০১৩-১৪ সাল জুড়ে চালানো তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে দলটি দেশে যেমন জনবিচ্ছিন্ন হয়, তেমনিভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনীতিকদের সঙ্গে তাদের বৈঠক, আলোচনা ও সহায়তার পথও বন্ধ হয়ে যায়। কেননা এসব বিষয়েই অবগত আছে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো। এ জন্য সব আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ও দেশের স্টেটমেন্টেই ছিল সহিংসতার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস (ওএইচসিএইচআর) থেকে আসা স্টেটমেন্টেও উঠে এসেছে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার কথা। সেখানে বলা হয়, বিরোধী গ্রুপ থেকে অগ্নিসংযোগসহ রাজনৈতিক সহিংসতার তথ্যও মিলেছে।

এর পাশাপাশি বিএনপির আশার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, রাশিয়া, চীন ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বক্তব্য যেখানে জনগণের রায়কে তারা মেনে নিয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে জাপান। তবে নির্বাচনের আগে সহিংসতার ঘটনায় প্রাণহানিতে জাপান দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়াতানাবে মাসাতোর নেতৃত্বে দেশটির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। ওই দলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকার জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাইরের বিশেষজ্ঞরা ছিলেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কোবাইয়াশি মাকি তার বিবৃতিতে বলেন, জাপান আশা করে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আরও বিকাশ হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে জাপান। অর্থাৎ বর্তমান সরকারকে সমর্থনের পাশাপাশি জামায়াত-বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশটি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বিবৃতিতেও নির্বাচনককালীন ও নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানায়। সেই সঙ্গে সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানায় তারা। বিবৃতিতে তারা জিএসপি প্লাস অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য প্রকল্পে দেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অ্যাক্সেসসহ রাজনৈতিক, মানবাধিকার, বাণিজ্য এবং উন্নয়ন ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে চিহ্নিত করে- এমন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইইউ কাজ করে যাবে বলে জানানো হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের মুখপাত্র বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রয়েছে। একটি টেকসই রাজনৈতিক নিষ্পত্তি এবং প্রাণবন্ত নাগরিক সমাজের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি সক্ষম করবে।’ সেই সঙ্গে দলগুলোকে মতবিরোধ দূর করে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয় এই বিবৃতিতে। নিশ্চিতভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে রাজপথে চলমান বিএনপির আন্দোলন এই বিবৃতিতে অসমর্থন করা হয়। আর এ কারণেই নির্বাচনকালীন সহিংসতা বন্ধ ও গণতন্ত্রের পথে আসার আহ্বানের তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। কিন্তু তাদের সেই সমালোচনার পরও নির্বাচনী বিজয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল প্রেটট্রিশিয়া স্কটল্যান্ড কেসি। সেখানে তিনি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে বর্তমান সরকারের সঙ্গে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন।

সুইজারল্যান্ড অ্যাম্বেসি এক টুইট বার্তায় জানায়, বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাম্বাসাডর রেতো রেংগোলি। এ সময় নেতৃত্বে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। সেই সঙ্গে দুই দেশ নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে উন্নতি করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানানো হয়।

তারেক রহমান জনগণের ভোট বর্জনের কথা সগর্বে প্রচার করলেও বাস্তবতা হলো, বিএনপির নির্বাচন বর্জন এবং রাজনীতির নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারা ও পুলিশ হত্যার বিষয়টি কোনো দেশ সমর্থন করেনি। আওয়ামী লীগকে পুরো বিশ্ব অবাঞ্ছিত করেছে এমন ঘোষণা দেওয়া বিএনপি বর্তমানে তাদের সব আন্তর্জাতিক সমর্থন হারিয়ে একা হয়ে গেছে। মূলত নিজেদের সহিংসতার কারণেই একা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিজেও জানে বিএনপি। আর এ কারণেই তারা নির্বাচনের পর হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচি না করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও দলটির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও নেই জনসমর্থন। বরং দলটির পক্ষ থেকে যেই রাজনৈতিক মামলার দাবি জানানো হচ্ছে, সেখানেও সরাসরি সহিংসতায় অংশগ্রহণ অথবা সহিংস কার্যক্রমের নির্দেশ প্রদানের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আর এ কারণেই এ বিষয়টি নিয়েও সামনে এগিয়ে আসতে পারছে না বিএনপি। উল্টো অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে এখন দলটির পক্ষ থেকেই আদালত থেকে নেতা-কর্মীদের ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে কার্যক্রমের কথা বলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই সব সহিংস কার্যক্রম ও হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি থেকে নিজেদের অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছে দলটি।

বিষয়:

সিঙ্গপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে

আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে। সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি বর্তমানে ডাক্তারদের পূর্ণ নজরদারিতে রয়েছেন।

মির্জা আব্বাসের সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বৃহস্পতিবার বলেছেন, কেবিনে স্যারের চিকিৎসা চলছে। আগের তুলনায় উনার অবস্থা অনেকটাই ভালো। প্রতিদিন থেরাপি দেওয়া হচ্ছে এবং ডাক্তাররা ফুল কেয়ারে রেখেছেন।

এইদিন দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসার জন্য মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অবস্থান করছেন।

প্রসঙ্গত, মির্জা আব্বাস ১১ মার্চ রমজান মাসের ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারানোর পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। দেশের প্রখ্যাত নিউরো চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে দ্রুত মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ১৫ মার্চ অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।


শেরপুর-৩ উপনির্বাচনে ধানের শীষের মাহমুদুল হক রুবেল জয়ী

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মাত্র ৪৮০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। পোস্টাল ভোটসহ ১২৯টি কেন্দ্রের ফলাফল গণনা শেষে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‌‘সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্থানে জাল ভোটের ঘটনা ঘটেছে, জড়িতদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে।’

তবে ভোট চলাকালেই অনিয়মের অভিযোগ তোলে জামায়াত প্রার্থী। বিকাল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন এবং অভিযোগ করেন, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি জাল ভোট ও প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে আজ উপনির্বাচনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।


নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

* দলটির নেতাকর্মীদেরও বিচারের আওতায় আনা যাবে * শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বাতিল   * পাস হওয়া আরো পাঁচ বিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর আইন, ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ আইন’
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে নতুন আইনগত পদক্ষেপ। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। ফলে নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে পূর্বে জারি করা নিষেধাজ্ঞা আইনগত ভিত্তি পেল। এদিন আরো ছয়টি বিল সংসদে পাস হয়েছে। সেগুলো হলো-জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং

‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’।

‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত কবার শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ অন্য সুবিধাও বাতিল হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ গেজেট আকারে জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৫ মে এই আইনের অধীনে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধাদি প্রদানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য আইনটি করা হয়েছিল, যা ছিল একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য। এই বৈষম্য দূর করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনটি রহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশটিই এখন স্থায়ী বিল আকারে সংসদে পাস করা হলো।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা এ আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা এবং তাদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা ছিল। বুধবার বিলটি পাসের মাধ্যমে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও সুবিধা বিলুপ্ত হলো।

২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার নতুন এই বিলের মাধ্যমে সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিল। ফলে দেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকল।

বুধবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে তিনি বিলটি অবিলম্বে বিবেচনা এবং পাসের প্রস্তাব তুললে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।

অন্য বিলগুলোর মধ্যে ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) বিল’ পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে ‘শেখ হাসিনা’র নাম বিলুপ্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বিলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা উত্থাপন করেন। বিশেষ কমিটির কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো সরাসরি পাসের প্রক্রিয়ায় যায়।

বিলে বলা হয়েছে, বর্তমান আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় আইনটি সময়োপযোগী করতে ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন প্রয়োজন হয়েছে। সেই যুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে নতুন আইন আনা হচ্ছে।

এই সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারায় ‘সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবে’ শব্দগুলোর পর ‘বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে’ শব্দগুলো যুক্ত হয়েছে। আর ২০ ধারার সংশোধনে বলা হয়েছে, ধারা ১৮ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকার তাদের অর্থ, সম্পদ বা লেনদেন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণাও বন্ধ করতে পারবে।

বিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে ‘যে কোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান’ নিষিদ্ধ করা যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিল উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

এ বিলে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

বিলে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসরণপূর্বক প্রত্যাহার করা হবে এবং ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, এতদসম্পর্কিত নূতন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত বারিত হবে।

এ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়- বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিশ্চিত করার নিমিত্ত আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে উক্ত প্রতিরোধকর্ম এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিশ্চিত করিবার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে প্রতীয়মান হয়।

সুতরাং জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষার জন্য এ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল, ২০২৬’ প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত অধ্যাদেশটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য বিল আকারে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

বিল উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত একটি বিল সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ এই মহান সংসদে উত্থাপন করছি।

পরে অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব তুলে তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত বিলটি সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ মহান সংসদ উত্থাপিত আকারে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক।

স্পিকার কণ্ঠভোটে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। বিলটির ওপর দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী ছিল না। এরপর দফা ২, ৩ ও ৪, পরে ১ নম্বর দফা, বলবৎকরণ দফা, প্রস্তাবনা, প্রবর্তন ও শিরোনাম কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

বিল পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার সুযোগ নিয়ে বলেন, বিলটির তুলনামূলক বিবরণী তারা মাত্র তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। আইনটি ‘স্পর্শকাতর’ হওয়ায় তিনি এটি পাসের আগে কিছুটা সময় দিয়ে বিরোধী দলকে বিষয়টি দেখার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

জবাবে স্পিকার বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় ছিল, সেই পর্যায়ে আপত্তি এলে তা বিবেচনা করা যেত। এখন বিলের এই স্টেজে আর আপত্তি করার সুযোগ নাই।

এরপর বিলটির পক্ষে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিলটা হল একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত একটা অ্যামেন্ডমেন্ট।

তিনি বলেন, আগের আইনে সংশোধনের পেছনে একটি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল এবং সেই প্রেক্ষিতে এটা মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল।

স্পিকারও এ সময় বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী তাদের নিবন্ধনও স্থগিত রয়েছে। পরে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের আলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব তুললে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ ও শাস্তির বিধান রাখতে ২০০৯ সালের আইনটি করা হলেও কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত কারণ পেলে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তালিকাভুক্ত করতে পারত, কিন্তু তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না।

যেভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। দলটির নেতা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। তার তিন দিনের মাথায় মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা হতে থাকে।

আওয়ামী লীগের সময়ে যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শীর্ষ জামায়াত নেতাদের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল, সেই একই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অভ্যুত্থান দমাতে গিয়ে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে পরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ছিল অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের। ওই দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ওই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।

ওই আন্দোলনের মধ্যে ১০ মে রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে তখনকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জানান। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের গেজেট জারি হয়।

আইনের দুটি ধারায় ওই সংশোধনের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল বা সংগঠন, তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীর বিচারের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালকে।

সেখানে বলা হয়, কোনো সংগঠন যেমন রাজনৈতিক দল বা তার সহযোগী কোনো সত্তা যদি এ আইনের আওতাভুক্ত কোনো অপরাধে জড়িত থাকে বলে ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ওই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের থাকবে।

সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আর আইনজীবীরা মনে করছেন, বিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা সতর্কভাবে আইন প্রয়োগ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তিকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দণ্ডনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-ঘিওর-শিবালয়) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আনোয়ারুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী নিজাম উদ্দিন।

আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি আনোয়ারুল হক স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

১৯৪৯ সালে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামে আনোয়ারুল হকের জন্ম। ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে তিনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন।

আনোয়ারুল হক ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।


সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা দিতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনের আগে ঢাকা শহরে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকেন, তাদেরই এখানকার ভোটার হতে হবে। অন্য জায়গা থেকে ভোটের সময় ঢাকায় এসে ভোট দেওয়া চলবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের অনেক বাড়িতে আগে সাত-দশটি ভোট ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায় সেখানে ১৫০টি ভোট হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকও জানেন না এসব ভোটার কারা বা কোথা থেকে এলো। আমরা চাই, আপনি যেখানে থাকেন সেখানকারই ভোটার হোন। ঢাকা শহরে থাকবেন না, ট্যাক্স দেবেন না, অথচ ভোটের সময় নাম রাখবেন—এটা হতে পারে না।

তিনি বলেন, দেশে যখনই নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সারা বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধাবস্থা চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তা মোকাবিলা করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের অফিসে এসি চালান না, অতিরিক্ত আলো জ্বালান না। তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অথচ বিরোধীরা দেশটাকে সংকটে ফেলতে চায়।

আবদুস সালাম আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে সমালোচনা হলেও এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের সমালোচকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর পর মানুষ গণতন্ত্রের মুখ দেখছে। এক-দুই মাসে সব ঠিক করা সম্ভব নয়। তাই হঠকারী কর্মসূচি দিয়ে দেশের ক্ষতি করবেন না।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আবদুস সালাম আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পরেও ইতিহাস নিয়ে কাড়াকাড়ি হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে ক্ষমতায় ছিল, তারা মনে-প্রাণে মুক্তিযুদ্ধ চায়নি বলেই প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।


দলীয় প্রধানের পদ ছাড়লেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ও রাজনৈতিক দলকে আলাদা রাখার লক্ষ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছেড়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তার পরিবর্তে দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজেই এ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাকি বলেন, ‘সরকার ও রাজনৈতিক দলকে সাংগঠনিকভাবে পৃথক রাখার স্বার্থেই আমি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’

এ সময় তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানান, এই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চললেও এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই প্রাধান্য পাবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের একটি নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি। পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তিনি প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসকের শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন আফজাল হোসেন খান পলাশ।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুই নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আফজাল হোসেন খান পলাশ ।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূলে আমাকে ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে পাথেয় করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা মেনে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। ফরিদপুর জেলার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আমাদের গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম শুরু করলাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্নীতিকে জিরোটর্লারেস্ন ও মানবকল্যাণমুখী এবং সকলের সহযোগিতায় স্বচ্ছ ও সুন্দর জেলা গড়ার প্রত্যায় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা মো:শামীম হোসেন, খন্দকার শামসুল আরেফিন সাগর, জাকির হোসেন নিশাত, আসিব আক্তার টনি, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে এম জাফর, বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ বাবু, মুক্তার খান, জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জহরুল ইসলাম সেন্টু,মহানগর জাসাসের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ কামাল হোসেন, মাহে আলম গোগা, সেলিম মাতুব্বর, মোহাম্মদ আলেব,মোহাম্মদ সুমন, শহিদুল ইসলাম সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


দলীয় পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছেড়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।

জোনায়েদ সাকি পদ ছাড়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হলেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু।

গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন।

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে দলটির প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।

পরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শুধু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয় তাকে।


শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান। তিনি বলেন, "বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।"

এর আগে সর্বশেষ ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


মির্জা আব্বাসের শারীরিক উন্নতি, সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস/ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতির দিকে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং বর্তমানে সীমিতভাবে সবার সঙ্গে কথা বলছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান চিকিৎসার জন্য গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে গেছেন। সেখানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে তার চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে।

দলের সিনিয়র এই দুই নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।


জামায়াতও হাঁটছে আ.লীগের পথে: আবদুস সালাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীও আওয়ামী লীগের অনুসরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি সাংস্কৃতিক দলের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, ১৭ বছরে দেশটাকে আধিপত্যবাদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছে জামায়াতও সেই পথে হাঁটছে। কিন্তু তারেক রহমানের কারণে পারেনি। রাজনীতি দিয়ে আমরা আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করেছি, জামায়াতকেও মোকাবিলা করব।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিএনপির জন্ম হয়েছে এবং এ লক্ষ্য পূরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আত্মত্যাগ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম করেছেন এবং আপস করেননি। তারেক রহমানও সেই ধারাবাহিকতায় কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আব্দুস সালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও জনগণ তাকে বরণ করা প্রমাণ করেছে দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালবাসে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে তারেক রহমানকে ছোট করার জন্য। আরেকটি দলও (জামায়াত) একই চেষ্টা করেছ। দুটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি টিকে রয়েছে। সংসদ ও সরকারকে তারা অসহযোগিতা করছে। দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংস। সংসদে জাতীয় সঙ্গীত যখন বাজল, তখন তাদের ভূমিকা কী ছিল তা আমরা দেখেছি। তাদের মনে পাকিস্তান। দুটি দলই পাকিস্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে। একজন শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন আর জামায়াত পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বলেছিলেন টাকা কোনো ব্যাপার না, শুধু দুর্নীতিটা বন্ধ করতে হবে। তারেক রহমানও সেই একই পথে হাঁটছেন। নতুন সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খেলোয়াড়দের সম্মাননা দিচ্ছে।


গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জালিয়াতি করেছে: রাশেদ খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান

সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি।

পোস্টের শুরুতে রাশেদ খান বলেন, বাতিল হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ! বিল আকারে সংসদে উঠছেনা মর্মে সংবাদ প্রচার হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা আসলে কি, সেটা অনেকে বোঝার চেষ্টা করছেনা। আর বড় বিষয় হলো বোঝা ও বোঝানোর মত লোকের অভাব রয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশে একটা গণভোট হয়ে গেছে। কিন্তু গণভোটটা যেটার উপর ভিত্তি করে হয়েছে, সেটা নিয়ে ঐক্যমত কমিশনে বেশ বিতর্ক হয়েছে। ঐক্যমত কমিশন উত্থাপিত কিছু প্রস্তাবে বিএনপিসহ বেশকিছু দলের নোট অফ ডিসেন্ট ছিলো। ঠিক জাতীয় সংসদ ভবনে যখন জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর হয়, সেই বইটাতেও নোট অফ ডিসেন্ট ছিলো। স্বাক্ষরের পরে গণভোটে নেওয়ার জন্য যে দলিলটা সরকার প্রকাশ করে, সেখানে নোট অফ ডিসেন্ট বাতিল করে প্রকাশ করা হয়। এখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটা বড় ধরনের জালিয়াতি করে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা এ নেতা বলেন, ‘এরপর যখন গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ আকারে’ তখন ৪টা প্রশ্নের একটা উত্তর দেওয়ার অপশন রাখা হয়। যদি ৪টা প্রশ্নের ৪টা উত্তর দেওয়ার অপশন রাখতো, তাহলে স্বাধীনভাবে হ্যাঁ বা না দেওয়ার সুযোগ থাকতো। এখানেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরেকটা বড় ধরনের জালিয়াতি করে। আরও যে বড়ধরনের জালিয়াতি তারা করে গেছে, সেটা হলো জাতীয় নির্বাচনের পরে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে আলোচনার বিষয়বস্তুগুলো সংসদে পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে ( সংসদের দ্বৈত ভূমিকা দিয়ে ) কোন বিষয়ে ঐক্যমতে না আসলে গণভোটে যাওয়ার রাজনৈতিক সর্বসম্মতির বিধানও তারা করেনি। বেশি ভালো করতে গিয়ে তারা আগেই গণভোট বা একই দিনে করে ফেলেছে। কিন্তু সমস্ত দেশে গণভোটটা জাতীয় নির্বাচনের পরে করারই নজির রয়েছে। কিন্তু ঐক্যমত কমিশন জোর করে সবকিছু চাপিয়ে দিতে গিয়ে গণভোট আগে বা একই দিনে করার নজির সৃষ্টি করেছে। আর একারণেই বিএনপি বলছে, যে জন্য অধ্যাদেশ হয়েছিলো, সেটা তো ব্যবহার হয়ে গেছে, নতুন করে আর এটা উত্থাপনের প্রয়োজন নেই।’

রাশেদ খান বলেন, ‘এখানে বিএনপির বক্তব্যই সঠিক ছিলো, সংসদে আলাপআলোচনার মাধ্যমে ঐক্যমত না আসলে গণভোটে যাওয়া। কিন্তু বিএনপির উপর বিশ্বাস নাই, তাই জোরজবরদস্তি করে গণভোট করে ফলেছে (বিয়ের আগে বাচ্চা সৃষ্টির মত অবস্থা)। ছাত্র উপদেষ্টাদের ভাষায় ডিপ স্টেটের পরামর্শে যাতে ৫ বছরের আগে নির্বাচন না হয় এবং বড়ধরনের সংকট ঘনীভূত হয় সেজন্য এসব শয়তানি করেছিলো ঐকমত কমিশন ও সরকারের কতিপয় দুষ্টু উপদেষ্টা! এখন বিএনপি যেসব বিষয়ে সম্মতি হয়েছিলো, সেগুলোরই সংস্কার করবে, যা বিএনপি নির্বাচনের আগে থেকেই বলে আসছে৷ গণভোট অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে তোলা মানে আবারও আলোচনা করা, যে আলোচনা (with note of dissent) জাতীয় ঐক্যমত কনিশনে ইতোমধ্যে ফয়সালা হয়ে গেছে এবং আলোচনা শেষে সম্মত না হলে গণভোটে যাওয়া ( অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট)। জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার আগে এটাও কার্যকারিতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করে ফেলেছে। এই দোষ কোনোভাবেই বিএনপির না। এটা ডিপ স্টেটের পরামর্শে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার খায়েস থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কতিপয় দুষ্ট উপদেষ্টা ও কমিশনের সদস্যরা একটা ঝামেলা সৃষ্টির জন্য করেছিলো। আর নির্বাচনটা যাতে না হয়, সেজন্য সরকারের ঘাড়ে সওয়ার হয়েছিলো কয়েকটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু বিএনপির অপরাধ হলো বিচক্ষণতার সহিত নির্বাচনটা বের করে এনেছে।’


সরকার গঠনের পর প্রথমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান, নেতা–কর্মীদের উচ্ছ্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছেন তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তার গাড়িবহর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সাতটার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
তারেক রহমান দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেতা–কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এর আগে বিকেলে সরেজমিনে পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতা–কর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান–সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব কটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সড়কে নেতা–কর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কোনোরকমে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে পারছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
একজন নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগেও আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশে তাড়াত, গ্রেপ্তার করত। আর আজকে…আল্লাহ চাইলে কী না পারে।’


banner close