দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার হয়ে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আবারও বসতে যাচ্ছে জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে সংসদে বসার আগেই রীতিমতো ঝড় শুরু হয়েছে জাতীয় পার্টিতে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে দলের প্রধান উপদেষ্টা রওশন এরশাদসহ একাদশ সংসদের কিছু এমপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে যান দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এ নির্বাচনের পর পরিস্থিতি হয়ে পড়ে উত্তপ্ত। নির্বাচনে ২৬৫ আসনে প্রার্থী দিলেও ভোটের আগে তাদের খোঁজ-খবর না নেওয়ার অভিযোগে জাপা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। গতকাল একই ধরনের অভিযোগ তুলে এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে জাপা থেকে পদত্যাগ করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের ৯৬৮ নেতা। তারা বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নন, জি এম কাদের স্বৈরাচার। তার অযোগ্য নেতৃত্বে জাপা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জি এম কাদের দাবি করেন, বহিরাগতদের এনে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এটা ভিত্তিহীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ঢাকা মহানগর উত্তর, মোহাম্মদপুর, আদাবর, পল্লবী, হাতিরঝিল, মিরপুর, দারুসসালাম, শেরেবাংলা নগর, বাড্ডা, রূপনগর থানা জাপার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৯৬৮ নেতা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এই ক্ষোভ জানাতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী জমায়েত হন।
জাপার ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পাঠান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জি এম কাদের বছরখানেক ধরে বলে আসছিলেন জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে। সরকারের বিরুদ্ধে গরম গরম কথা বলে নিজেকে জাতীয় নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টাও করেছেন। জাপার নেতা-কর্মীরাও তাই তার প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে বুঝতে পারলাম, জি এম কাদের গোপনে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নিজের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত পার্টির চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু মাত্র ২৬ আসনে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছাড় পাওয়ার বিনিময়ে গোটা জাপাকে বিক্রি করে দেন।’
মহানগর উত্তর জাপার সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দলকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবের পদত্যাগের দাবি ওঠে। কিন্তু দলের এই দুরবস্থার মধ্যেও চেয়ারম্যান জি এম কাদের স্বেচ্ছাচারিতার নিকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করে নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের একের পর এক অব্যাহতি দিয়ে চলেছেন। তিনি এরশাদের নাম-নিশানা মুছে দেওয়ার চক্রান্ত করছেন। জি এম কাদের নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদের ভাষা বুঝতে না পেরে প্রতিহিংসাবশত দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু এবং ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন নেতাকে মৌখিকভাবে অব্যাহতির কথা জানিয়েছেন।’
মহানগর উত্তর জাপার বিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক এস এম হাসেমের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে ছিলেন অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সাহিন আরা সুলতানা রিমা, হাতিরঝিল থানা জাপা সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুম, মোহাম্মদপুর থানা সভাপতি নজরুল ইসলাম মুকুল, রূপনগর থানার সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ খান, শেরেবাংলা থানার সভাপতি আশরাফুল হক শিবলী, আদাবর থানার সভাপতি মকবুল হোসেন মুকুল, পল্লবী থানার সভাপতি আসাদ খান সামী, ছাত্র সমাজের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদপুর থানা যুব সংহতির সভাপতি আমজাদ হোসেনসহ বিভিন্ন থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ সময় অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া চৌধুরীসহ আমানত হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা খুরশিদ আলম খুশু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সবাই একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
আশরাফুল ইসলাম শিবলী বলেন, ‘জি এম কাদের জাপাকে প্রাইভেট কোম্পানিতে রূপান্তরিত করেছেন। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন তার কাছে নেই, মূল্যায়ন করা হয় তার চাটুকারদের। এর প্রতিবাদে জি এম কাদেরের জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করছি।’
হাতিরঝিল থানা সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, ‘৮২ সাল থেকে এ দল করছি। পল্লিবন্ধু এরশাদের গড়া দল ধ্বংস করে দিয়েছেন জি এম কাদের।’
মোহাম্মদপুর থানার সভাপতি নজরুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘যে ইমাম নামাজে ভুল করে তার নেতৃত্বে নামাজ পড়া যায় না। তেমনি জি এম কাদেরের মতো লোকের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি করা সম্ভব নয়।’
পল্লবী থানার সভাপতি আসাদ খান সামী বলেন, ‘জি এম কাদের নিজেকে জনবন্ধু বলে দাবি করেন। উনি তো কর্মীবন্ধুই হতে পারেননি। জনবন্ধু হন কীভাবে?’
সাহিন আরা সুলতানা রিমা তার বক্তব্যে বলেন, ‘এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টির সবচেয়ে অযোগ্য নেতা জি এম কাদের। কর্মীরা গণপদত্যাগ করছেন, অথচ তার লজ্জা নেই। থাকবে কী করে, দল তো তিনি বানাননি।’
অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ‘জি এম কাদের জাতীয় পার্টিকে মুদির দোকান মনে করেন। সারা দিন বনানীর দোকানে বসেন। আর তার সিন্ডিকেট দিনভর দোকানদারি করে সন্ধ্যার সময় জি এম কাদেরকে লেনদেনের হিসাব দেন। সারা দেশের সঙ্গে জি এম কাদেরের কোনো যোগাযোগ নেই। দলকে তিনি ধ্বংস করে ফেলেছেন। দলের এই বিপর্যয়ের জন্য জি এম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নুর পদত্যাগ দাবি করছি।’
আসন বণ্টন নিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই অস্থিরতা চলছে জাপায়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় ২৬ আসন পেলেও ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে মাত্র ১১ আসন পেয়ে ভরাডুবি হয়েছে জাপার। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ভোট সমাপ্ত হয়েছে ২৯৯ আসনে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ জিতেছে ২২৩টি আসনে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২টি আসন পেয়েছে স্বতন্ত্র সদস্যরা, যাদের ৫৮ জনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের নেতা বা দলীয় সাবেক এমপি। একাদশ সংসদে জাতীয় পার্টির ছিল ২৩টি আসন, এ নির্বাচনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। দলের এ ভরাডুবির জন্য জি এম কাদের এবং মুজিবুল হক চুন্নুকে দায়ী করে তাদের পদত্যাগ দাবি তুলেছেন লাঙ্গলের পরাজিত প্রার্থীরা।
তাদের দাবি, তৃণমূলের নেতাদের মতামতের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বেইমানি করেছেন জি এম কাদের। লাঙলের প্রার্থীদের মাথা বিক্রি করে সরকারের কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সেই টাকার হিসাব দাবি করেন লাঙ্গলের প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ‘নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। জাপা চেয়ারম্যান তার স্ত্রী শেরিফা কাদেরের জন্য আসন বাগাতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বলি দিয়েছেন।’
সমঝোতার বাইরেও ২৩৯ আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী ছিল। তিনটি বাদে সব আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সুবিধার জন্য প্রার্থী দেন জি এম কাদের। কিন্তু ভোটে নামিয়ে কারও খবর নেননি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে টাকা পেলেও প্রার্থীদের দেননি।
তবে সরকারের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে গত ১৫ জানুয়ারি বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি বাংলাদেশের কোনো লোক যদি বলতে পারে আমি বা চেয়ারম্যান কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি- তাহলে পদত্যাগ করব।’
এ ঘটনার আগের দিন এক সভা করে লাঙ্গলের ১২২ প্রার্থী অভিযোগ করেন, সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তহবিল তছরুপ করেছেন শীর্ষ নেতারা। প্রার্থীদের ভোটে নামিয়ে প্রতিশ্রুত খরচ দেওয়া দূরে থাক, খবরও নেননি।
একই অভিযোগ তুলে বনানী কার্যালয় ঘেরাও করেন প্রার্থীরা। তাদের দাবি, ভোটের প্রচারের সময় ২১ প্রার্থী সরে যান খরচ না পেয়ে।
এ বিষয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘এগুলো হলো গল্প। অনেকেই মনে করেছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেহেতু কথাবার্তা হয়েছে, ২৬ আসন দিয়েছে, সেহেতু অনেক টাকাও দিয়েছে। শত শত কোটি টাকা দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের কেন আমরা টাকা দিলাম না, এটা তাদের মনের আসল ব্যথা। নির্বাচন ঠিকমতো হয় নাই, তারা পাস করেননি, এটা আসল ব্যথা নয়। দু-একজন ছাড়া বাকিদের আসল ব্যথা- আমরা শত কোটি টাকা পেয়েছি, তাদের দিইনি।’
তার পাল্টা প্রশ্ন, ‘শতকোটি টাকা কে দেবে? সরকার টাকা দেবে কেন? সরকার যদি টাকা দেয়, তাহলে এটা জানার বাকি থাকবে?’
সে সময় বিশেষ সভায় চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের সমালোচনা করায় প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট-২ আসনের জাপার প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১২ জানুয়ারি গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়কে দলের সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম পাঠানো ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কাজী ফিরোজ রশিদকে কো-চেয়ারম্যান ও সুনীল শুভরায়কে প্রেসিডিয়াম সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন, যা এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘দলের নেতা হয়ে এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ্যে দেওয়া অমার্জনীয় কাজ। তাই চেয়ারম্যান তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। তারা এগুলো ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারতেন।’
এদিকে, গতকালের গণপদত্যাগ সম্পর্কে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি যতদূর জানি সংবাদ সম্মেলনে যারা ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই বহিরাগত। আর যারা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, তারা কোনো যুক্তিসংগত বা বস্তুনিষ্ঠ কোনো অভিযোগ করতে পারেননি। তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আর ঢাকা মহানগরের ২০টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতা-কর্মীরা ওই সময় আমার সঙ্গে আরেকটি সভায় ছিলেন। তাই তাদের সঙ্গে এত লোক থাকে কী করে? ওরা বহিরাগত।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছেন তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তার গাড়িবহর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সাতটার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
তারেক রহমান দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেতা–কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এর আগে বিকেলে সরেজমিনে পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতা–কর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান–সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব কটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সড়কে নেতা–কর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কোনোরকমে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে পারছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
একজন নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগেও আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশে তাড়াত, গ্রেপ্তার করত। আর আজকে…আল্লাহ চাইলে কী না পারে।’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে আবার সেই অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা সেইদিন আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছে, পাকিস্তান বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। আমাদেরকে ভালো করে সতর্কতার সঙ্গে সেই অপশক্তিকে পরাজিত করে স্বাধীনতার শক্তিকেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেখানেই আমাদের সাফল্য।’
গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সবাই খুব আশাবাদী আমরা সবাই আমাদের নেতা তারেক রহমানের উপরে প্রচন্ড রকমের আশাবাদী। তিনি আসার পরেই মানুষের মধ্যে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, আশা জাগিয়ে চলেছেন। দেশে এসেই তিনি বললেন-‘ আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’
তিনি বলেন, আমাদের নেতা প্রতিশোধের কথা বললেন না, প্রতিহিংসার কথা বললেন না। বললেন যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ আমি একটা পরিকল্পনা নিয়ে এসেছি দেশটাকে গড়বার।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেরকম একটা কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি গোটা বাংলাদেশকে সেই বটমলেস বাস্কেট থেকে একটা একটা সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারই যোগ্য পুত্র তারেক রহমান আজকে আমাদেরকে সেই পথ দেখাচ্ছেন।’
সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সকল অপশক্তিকে পরাজিত করে আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবের হাত শক্তিশালী করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। অতীতচারিতা ভুলে গিয়ে আমরা শুধু অর্জন করি আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ, আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতে পারে সেই কথা আমরা বলতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৮ বছর বহু নির্যাতন সহ্য করেছি, আমাদের সমস্ত জীবনটাকে ১৮ বছর ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, তছনছ করে ফেলা হয়েছে। এখানে আমি সামনে যাদের দেখতে পাচ্ছি আমার সহকর্মীবৃন্দ প্রত্যেকেই ভয়াবহভাবে নির্যাতিত নিগৃহীত। আমাদের ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল, ২০ হাজার তরুণ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। ইলিয়াস আলীসহ তিনজন নেতা, ১৭শ নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। তারপরও কিন্তু আমরা আমাদের দেশনেত্রীকে (বেগম খালেদা জিয়া) লক্ষ্য রেখে মাথা নত করিনি। করেছি কখনো? লড়াই চালিয়ে গেছি।’
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি সম্প্রতি বরগুনায় এক তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হারুন, সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ, জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ মামুন, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা এস.এম.আফজালুর রহমান, উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাসুদুল আলম, উপজেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, জেলা সভাপতি মুহাম্মদ হাসিবুর রহমান, বরগুনা জেলার ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে বরগুনা-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ অলি উল্লাহ নোমান।
রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সাক্ষাতকালীন সময় চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার জনগণের সরকারে রূপান্তরিত হয়েছে। এই সরকারের মূল দৃষ্টি হলো দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে বাংলাদেশ।
সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐক্যমতের ভিত্তি তৈরি করা দেশের সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন,দেশের উন্নয়ন, সামাজিক সংহতি এবং রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।
সাক্ষাতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই সাক্ষাতকে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক সংলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন,জাতীয় ঐক্য এবং সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করতে সকল দলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সাক্ষাতটি স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংলাপের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আসন্ন মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৬শে মার্চ রোববার ভোরে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওই দিন ভোর ৫টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ২৫শে মার্চ বুধবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশেই আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, “ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
সম্প্রতি বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বৈলগ্রামের কৃষক খলিলুর রহমানের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষক খলিলুর রহমানের পরিবার। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খলিলুর রহমানের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার তুলে দেন। যাতে তারা কিছুটা স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারে।
সেসময় তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। একটি পরিবার যখন বিপদে পড়ে, তখন আমাদের সবারই দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। আমি সেই দিকটা বিবেচনায় করে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি প্রত্যাশা করি ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। আর আমি মানুষের সুখেদুঃখে পাশে আছি এবং আগামীদিনেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
এ সহায়তা ও ঈদ উপহার প্রদানের সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সানাউল বাকিসহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এবং এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আনন্দময় বলে অভিহিত করেছেন। শনিবার সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারা দেশবাসীর জন্য বড় প্রাপ্তি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হওয়ার বিষয়টিকে তিনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এক নতুন যাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে আনন্দের এই আবহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল এই ঈদকে কিছুটা বিষাদময় বলেও অভিহিত করেন। তিনি জানান, দেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই ও আকাঙ্ক্ষার পর আজ যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই পথ ধরেই দেশ আগামীতে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্যান্ডেলে ৩৫ হাজার মুসল্লিসহ আশপাশের সড়ক মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশেই ফিরে এসেছি, যেখানে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সদরের রামকৃষ্ণ আশ্রমের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য দল-মত, পথ, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের কাছে কে হিন্দু, কে মুসলিম-এটা মুখ্য নয়; মানুষ হিসেবে আমাদের কর্মই সবচেয়ে বড় পরিচয়। কর্মের মাধ্যমেই একজন মানুষ ও একটি সমাজের মূল্যায়ন হয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। মুসলিমদের ইমাম-খতিব, হিন্দুদের পুরোহিত ও সেবাইত, খ্রিস্টানদের ধর্মগুরুসহ সব ধর্মীয় নেতাদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাগতিক জীবনে মানুষ অনেক কিছু অর্জন করলেও তা সঙ্গে নেওয়া যায় না। ধর্মীয় শিক্ষার মূল কথা হলো মানবতা, ন্যায়, সততা ও পাপ থেকে বিরত থাকা। সব ধর্মই সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তাই একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে সমান অধিকার দিতে হবে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দেশে প্রতিটি ধর্মের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ- সবাই যেন গর্ব করে বলতে পারে, এই দেশ আমার বাংলাদেশ- সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মভেদ না করে সবাই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছিল। তখন কেউ দেখেনি কে কোন ধর্মের। ঠিক তেমনি এখন সময় এসেছে দেশ গড়ে তোলার, আর সে কাজে সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি অনুজ চক্রবর্তী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোপেশ চন্দ্র সরকার।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্কুল মাঠে আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
সেখানে তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল ছাড়া কোনো দেশের গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না। সরকার ও বিরোধী দল-এই দুই শক্তির সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমেই একটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দৃঢ় ও কার্যকর হয়। বিরোধী দল যদি দায়িত্বশীলভাবে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং দেশ এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে।
তিনি বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে সরকার ও বিরোধী দল-দুই পক্ষই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত ১৫-২০ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে বিরোধী মতপ্রকাশের পরিবেশ ছিল না। জাতীয় সংসদ অনেকটা তৎকালীন সরকারের ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত হয়েছিল এবং বিরোধী দল ছিল নামমাত্র। এই পরিস্থিতির কারণেই দেশে ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশরপাশা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জব্বার খান, বিদ্যালয়ের জমিদাতা মিল্টন ঘোষ, জালাল উদ্দিনসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
লক্ষ্মীপুরে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে শহরের গোহাটা সড়কের চৌধুরী ভিলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এই আয়োজনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেথুয়াই প্রোপ্রো মারমা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ১৩৯ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জনকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে এবং অবশিষ্ট ৭৮ জনকে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তার চেক দেওয়া হয়। চেক বিতরণকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন যে সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাবলম্বী করতে এবং তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে এই ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুবিধাভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয় সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে উল্লেখ করে সরকার দলীয় হুইপ এবং নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, প্রত্যেক পরিবারের নারীরা ফ্যামিলী কার্ডের আওতায় আসবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামেলী কার্ড বিতরন উদ্বোধনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নাটোরের একডালায় শুভেচ্ছা ফার্মের বাগানবাড়ীতে দরিদ্রদের মাঝে শাড়ী লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন । এসময় তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতারা এই সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ। তারাও মাসে মাসে মাসে সম্মানি ভাতা পাওয়া শুরু করেছেন। এছাড়া কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তি পর্যায়ের কৃষকরাও উপকৃত হবেন। সবার পাশে দাঁড়িয়ে বিএনপি জনবান্ধব সরকারে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই কিছু না কিছু বৈশ্বিক ঝামেলা তৈরি হয়। এবারও দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মতো বড় সংকট সামনে এসেছে। কিন্তু সরকারের যোগ্যতার কারণে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি এবং তেলের দামও বাড়েনি। এমনকি সংকটের মধ্যেও গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের বেতন সঠিক সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।’
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি জানান, বর্তমানে ছোটখাটো পরিসরে দলের কার্যক্রম চললেও এ বছরের মধ্যেই বিএনপির দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দ্রুত কাজ চলছে এবং এ বছরের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘এক মাসে আমরা সরকারের সব ক্ষেত্রেই সাফল্য দেখছি। এরইমধ্যে পার্লামেন্ট অধিবেশন বসেছে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। তবে আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সুস্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। সরকার এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’
সান্তাহারে ট্রেনের লাইনচ্যুতির মতো দুর্ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই রেল চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ হবে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইউসুফ খান (৩২) নামে এক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই গ্রামের আলমাসের ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ইউসুফ আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই গ্রামের দুলাল খানের ছেলে। তিনি আজগানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
ইউসুফ খানের ভাতিজা নীরব খান জানান, তার চাচা ইউসুফ খান শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে মাটির সাইড দেখতে যান। তার পর থেকে তিনি বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় ইউসুফ খানের বোন পান্না আক্তার মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ইউসুফ খান নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ ঘাগরাই গ্রামের আলমগীরের ছেলে রিজন এবং একই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী হানিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সন্ধ্যায় ঘাগরাই গ্রামের আলমাসের ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে ইউসুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার একটি মাটির ট্রাকের ধাক্কায় হানিফের একটি গাছ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় হানিফের সঙ্গে ইউসুফের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইউসুফ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, ইউসুফ নিখোঁজের ঘটনায় আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
লিংকডইনে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) ডা. তাসনিম জারার অ্যাকাউন্টটি আজ ‘মেমোরাইলাইজড’ বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এনিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এ বিষয়ে সোমবার বিকালে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন তাসনিম জারা।
ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, আপনারা অনেকেই লক্ষ করেছেন যে আজ সকালে আমার লিংকডইন অ্যাকাউন্টটি ‘মেমোরাইলাইজড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
সম্ভবত আমার অ্যাকাউন্টে করা কোনো ভুল বা বিদ্বেষমূলক রিপোর্টের কারণে এমনটি ঘটেছে।
তিনি আরও লিখেছেন, আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি। আমি লিংকডইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আশা করছি শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রোববার সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। এদিন বেলা ১১টায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তার (মির্জা আব্বাসের) সঙ্গে সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস সিঙ্গাপুর যাবেন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা-এ চিকিৎসাধীন এই বর্ষীয়ান নেতার মস্তিষ্কে গত শুক্রবার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তার মস্তিষ্কের একটি সিটি স্ক্যান করা হয়। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদন ইতিবাচক এসেছে।
তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুই দফায় তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।