বিএনপির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিকে ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির অ্যাকশনের এই কর্মসূচি, এটা যদি ইস্যুভিক্তিক হয় তাহলে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি খাদের গভীরে চলে যাচ্ছে। আগে তো খাদের কিনারায় ছিল। এখন গভীরে যাচ্ছে।’
‘বিএনপি এখনো বড় রাজনৈতিক দল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা এখন নিষ্ক্রীয় আছে। ভুল করেছে। ভুল রাজনীতির চোরাবালিতে আটকে গেছে।’
‘বিএনপির ১৩ জন নেতা-কর্মী কারাগারে মারা গেছে’ এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা মারা গেছেন তারা কোথায় মারা গেলেন? কীভাবে মারা গেলেন? কোন জেলখানা বা কাস্টাডিতে মারা গেলেন? অন্ধকারে ঢিল ছুড়লে তো হবে না।’
মেট্রোরেলের চাহিদা ও ভিড় বাড়ার প্রেক্ষাপটে বগি বাড়ানোর বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মেট্রোতে বগি বাড়ানোর সুযোগ নেই। মেট্রো তো বাংলাদেশ রেলওয়ে না যে যখন-তখন বগি বাড়াবে। এটা তো একটা প্রযুক্তিগত বিষয়। পৃথিবীর কোথাও ৫টির বেশি বগি মেট্রোরেলে নেই। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৬টি আছে। তবে চাহিদার কারণে ১০ মিনিট থেকে ৮ মিনিট পর পর মেট্রো দেয়া যায় কিনা সেটা নিয়ে কাজ চলছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কথা বেশি না বলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে রাতারাতি বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। জনস্বার্থকে প্রাধ্যান্য দিয়েই কাজ করছে সরকার।’
বর্তমান মন্ত্রিসভার পরিধি বাড়ছে কিনা প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন। তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে কোনো না কোনো সময় মন্ত্রী আসবেন।’ সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের পর নির্বাচিতদের মধ্য থেকেও মন্ত্রী হতে পারেন।’
এর আগে সকালে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত।
পরে সাংবাদিকদের রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত জানান, বৈঠকে বাংলাদেশে জ্বালানি, কৃষি, সড়ক ও সেতুসহ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছে।
সরকারকে একই সঙ্গে দুই দিক থেকে প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। তাঁর দাবি, একদিকে সংসদে থাকা বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বিষয়টি একই দিন ঢাকা টাইমস ও আরটিভিসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
আবু হানিফ তাঁর পোস্টে বলেন, বর্তমানে সংসদে থাকা বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বর্তমান বিরোধী দল একযোগে কাজ করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।
দ্রুত তথ্য প্রকাশের পরামর্শ
প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় সরকারের করণীয় তুলে ধরে আবু হানিফ বলেন, সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রচারিত তথ্যের বিপরীতে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। এতে দেরি হলে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারকে একই সঙ্গে দুই দিকের প্রচারণা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি তথ্য দ্রুত ও স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বরের আরেকটি বক্তব্যেও আবু হানিফ জামায়াত, এনসিপি ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন।
আবু হানিফের সর্বশেষ বক্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো রাজনৈতিক প্রচারণা মোকাবিলায় সরকারের তথ্য দেওয়ার কৌশল নিয়ে তাঁর মতামত ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে।
বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মানুষ জীবন দিলেও দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তাঁর দাবি, যে নীতিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, সেই নীতিতে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী কিংবা শতবর্ষ উদযাপন করলেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।
মঙ্গলবার আইএবির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম ও খুনসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনাচার বাড়ছে। তাঁর অভিযোগ, এসব অনাচার দূর করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দলকে জনগণ ক্ষমতায় বসিয়ে পরীক্ষা করেছে। কিন্তু প্রচলিত নীতির মধ্যে থেকে কোনো দলই সমাজ ও রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার পর দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে।
চরমোনাই পীর বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না ইনশাআল্লাহ।’
সম্মেলনে আইএবির মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দলের শীর্ষ নেতারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে চাঁদাবাজি ও ধোঁকাবাজি থাকবে না বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে জনবিস্ফোরণ হতে সময় লাগবে না।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। দলটি ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন করতে চায়।
এর আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। জুলাইয়ে দলটির পক্ষ থেকে সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আইএবির সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলিতে নেতাকর্মীদের ছড়িয়ে পড়তে হবে। শরিয়াহর পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ওয়ার্ডগুলো থেকেই শরিয়াহর বিজয় শুরু হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জনগণ তাঁদের নির্বাচিত করলে ঢাকা মহানগরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আইএবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আশরাফুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলামসহ নগর কমিটির নেতারা।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতার পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাড্ডা ক্লিনিক ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনাগুলোও সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তবে এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে।
রাশেদ খাঁন লেখেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই নীরব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আবার সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেখ হাসিনার জন্মদিনে মাশরাফি কোনো পোস্ট দেননি, তবে ২০২৬ সালে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি এতদিন নীরব থাকলেও এখন সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুলের নামও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগকে আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে জামায়াত ও এনসিপির কর্মকাণ্ড ভূমিকা রাখছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছে এবং লংমার্চ থেকে ডিসেম্বর মাসে সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, বিরোধী দলগুলোর এমন কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বাস ও ট্রেনে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে।
জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগের কথিত ‘আগুন সন্ত্রাস’কে তারা প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর এমন অবস্থানের কারণে প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় আগে থেকে থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক রাড্ডা ক্লিনিক ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনাকেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে দেশে ফেরার পর এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও পরিকল্পিতভাবে আলোচনার বিষয় অন্যদিকে নেওয়া হয়েছে।
তবে নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের বরাতে ঘটনাটিকে পাশের জমির মালিকের সঙ্গে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশেদ খাঁনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে এই পোস্টের জবাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে যুক্ত করা যেতে পারে।
জনগণের সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বিভিন্ন জেলায় কৃত্রিম সারের সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, দেশের কোথাও প্রকৃত অর্থে সারের সংকট নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনেও প্রতিমন্ত্রীর সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে এমন বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘সার নিয়ে সংকট আছে বলে আমি মনে করি না। সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলোতেই হচ্ছে, যেসব জেলায় বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে তারা নির্বাচিত হয়েছে—সেসব জেলায় সারের কৃত্রিম সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে।’
তিনি দাবি করেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর ও নড়াইল জেলায় কৃত্রিম সারের সংকট তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এসব জেলার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি মানুষ জানে। অন্যদিকে বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর ও সিলেট বিভাগে একই ধরনের সংকট নেই বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের জন্য যেসব কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে, সেগুলো বাধাগ্রস্ত করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিশ্বের বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তেল ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও দাম কমানো হবে বলে সরকারের ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ সমস্যা সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের রংপুরের লং মার্চের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, দেশে তেলের সরবরাহ না থাকলে লং মার্চে ব্যবহৃত বিপুলসংখ্যক গাড়ির জ্বালানি কোথা থেকে এসেছে।
বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সুচিন্তিত কোনো মতামত থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। সংসদে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে রাজপথের বক্তব্যের মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের দুই কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, কৃষি কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে চারটি পর্যায় থাকবে। প্রথমে ভূমিহীন, এরপর প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের কৃষকদের পর্যায়ক্রমে কার্ড দেওয়া হবে। বর্তমানে কৃষকদের তালিকাভুক্তির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং কিছু জেলায় এর পাইলটিং শুরু হয়েছে।
এ সময় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ এবং শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জনগণের সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বিভিন্ন জেলায় কৃত্রিম সারের সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, দেশের কোথাও প্রকৃত অর্থে সারের সংকট নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনেও প্রতিমন্ত্রীর সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে এমন বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘সার নিয়ে সংকট আছে বলে আমি মনে করি না। সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলোতেই হচ্ছে, যেসব জেলায় বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে তারা নির্বাচিত হয়েছে—সেসব জেলায় সারের কৃত্রিম সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে।’
তিনি দাবি করেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর ও নড়াইল জেলায় কৃত্রিম সারের সংকট তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এসব জেলার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি মানুষ জানে। অন্যদিকে বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর ও সিলেট বিভাগে একই ধরনের সংকট নেই বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের জন্য যেসব কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে, সেগুলো বাধাগ্রস্ত করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিশ্বের বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তেল ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও দাম কমানো হবে বলে সরকারের ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ সমস্যা সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের রংপুরের লং মার্চের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, দেশে তেলের সরবরাহ না থাকলে লং মার্চে ব্যবহৃত বিপুলসংখ্যক গাড়ির জ্বালানি কোথা থেকে এসেছে।
বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সুচিন্তিত কোনো মতামত থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। সংসদে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে রাজপথের বক্তব্যের মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের দুই কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, কৃষি কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে চারটি পর্যায় থাকবে। প্রথমে ভূমিহীন, এরপর প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের কৃষকদের পর্যায়ক্রমে কার্ড দেওয়া হবে। বর্তমানে কৃষকদের তালিকাভুক্তির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং কিছু জেলায় এর পাইলটিং শুরু হয়েছে।
এ সময় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ এবং শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী সফরে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে সফরের কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন—প্রথম পর্যায়’ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। দুপুর দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন। সেখানে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে কিছু সময় অবস্থান করবেন।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টায় সড়কপথে ফেনী ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। রাত ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রশাসনের প্রস্তুতিও চলছে। পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সফর ঘিরে নিরাপত্তা ও ভেন্যু প্রস্তুতি পরিদর্শনের তথ্যও এসেছে।
অনুষ্ঠানস্থলে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে পানির ট্যাংক, পোর্টেবল টয়লেটসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে মেরামত ও সংস্কার করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পাশাপাশি পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশেও সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। পরে সফরটি স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
আগামী বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী সফরে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে সফরের কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন—প্রথম পর্যায়’ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। দুপুর দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন। সেখানে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে কিছু সময় অবস্থান করবেন।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টায় সড়কপথে ফেনী ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। রাত ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রশাসনের প্রস্তুতিও চলছে। পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সফর ঘিরে নিরাপত্তা ও ভেন্যু প্রস্তুতি পরিদর্শনের তথ্যও এসেছে।
অনুষ্ঠানস্থলে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে পানির ট্যাংক, পোর্টেবল টয়লেটসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে মেরামত ও সংস্কার করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পাশাপাশি পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশেও সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। পরে সফরটি স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সমন্বয় ও গতিশীলতা আনতে ২৩ সদস্যের সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ উপ-কমিটির প্রধান করা হয়েছে দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক উপ-কমিটিতে রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজন উপ-প্রধান থাকবেন। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি বিভাগে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন।
এনসিপি জানিয়েছে, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে একই বৈঠকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা এবং বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।
দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি বলেছেন, ‘প্রশাসনের কার্যকর তদারকি ও দায়িত্বশীলতার ঘাটতির কারণে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশালের চরমোনাই মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা ও সিটি ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এবং বরিশাল বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও সিটি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘দেশের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার চর্চা জরুরি।’ তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের অধিকার ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে প্রশাসনকে আরও সক্রিয়, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
সম্মেলনে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানান। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ এমপি।
সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও সিটি ওয়ার্ড থেকে আগত প্রতিনিধিদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কাউকে খুশি করতে নয়, দেশের প্রয়োজন ও যাত্রীচাহিদা বিবেচনা করেই বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং এর পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডাও নেই।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের বড় উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে মিশ্র বহরের প্রয়োজন রয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন চুক্তিতে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। দুই দফায় বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে। বোয়িংও নতুন ১১টি উড়োজাহাজের অর্ডারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এপ্রিলের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির মূল্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। তবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজের দাম, অর্থায়ন ও সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বোয়িংয়ের নতুন অর্ডারের মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার দীর্ঘপাল্লার রুটের জন্য এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি পাল্লার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যবহারযোগ্য। বোয়িং জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহর আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ।
বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে বাইরের কোনো চাপ রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ বাংলাদেশের প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও উড়োজাহাজ কেনা হবে।
তিনি বলেন, যাত্রীসেবার মান বাড়ানো, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বিমানের বহর সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, বোয়িং কেনার বিষয়টি দেশের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো পক্ষ বাংলাদেশকে তা কিনতে বাধ্য করছে না।
বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং বিনিয়োগ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাওসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।
বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক রুট পুনরায় চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, এ নিয়ে কারিগরি মূল্যায়ন চলছে। কারিগরি সমস্যার কারণে আগে এ রুটের কার্যক্রম স্থগিত হয়েছিল। পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরকে সার্বিকভাবে সার্থক উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দিয়েছেন। ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপরাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বিভিন্ন সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের বিকাশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কম মূলধন বিনিয়োগে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে—এমন শিল্পখাতকে আগামী দিনে সরকার অগ্রাধিকার দেবে।
সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) আয়োজিত প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণ ও নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৭২২ জনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ৬৪২ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প একসঙ্গে বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তাই আগামী দিনে সরকার যেসব শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেবে, তার মধ্যে এসব খাত অন্যতম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন শিল্পের প্রয়োজন, যেখানে তুলনামূলক কম মূলধন বিনিয়োগ করে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের প্রসার ঘটলে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানি সম্ভাবনাও বাড়বে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের পরিধি যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে বিটাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়াকে বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জনের পর সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন—এটাই এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সার্থকতা বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁরা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তিন মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, সনদ অর্জন করেছেন এবং এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার দায়িত্ব এখন তাঁদের নিজেদের।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী দিনে আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের আকার আরও বড় করা হবে। একই সঙ্গে বিটাককে আরও আধুনিক ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় বিটাকের প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ব শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দেশের সব পর্যায় ও সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, শুধু একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অব্যাহত শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে আপডেট রাখার মানসিকতা থাকতে হবে।
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও দক্ষ কর্মী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, আরএফএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ, ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচ এম আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
পরে শিল্পমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ এবং নিয়োগপত্র প্রদান করেন। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগকে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না। তবে এ বক্তব্যের পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার তথ্য উল্লেখ করেননি। তিনি হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার বিকেলে মিরপুর-১-এর ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই সহায়তা দিয়ে শুরু, প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও সহযোগিতা করা হবে।
রাড্ডা কেন্দ্রের হামলার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেওয়ার মতো ব্যবস্থা জনগণ দেখতে চায় না। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ অপরাধ করে পরে অন্য পক্ষকে দায়ী করার চেষ্টা করলেও সেটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সুযোগ না পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অপমান-হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে রাজধানীতে একের পর এক ঘটনা ঘটেছে।
মোহাম্মদপুরে বাড়ি দখলের জন্য দিনের বেলায় অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে হামলার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ওই বাড়ির বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গও তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, একটি স্টুডিও হামলা করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ঘটনাটিকে চাঁদাবাজির বদলে জমিজমার বিরোধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকলেও রাতের বেলায় এভাবে কারও সম্পত্তিতে হামলার আইনগত সুযোগ কোথায়?
কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কারও সম্পদে হামলা বা দখলের সুযোগ নেই।
রাড্ডা কেন্দ্রসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে বিরোধী দলকে জড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তাঁর দলের কেউ এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। এমনকি তিনি নিজে জড়িত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণ এ ধরনের অপরাধের অবসান দেখতে চায় এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা বন্ধ করতে হবে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ কেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সোমবার ভাঙা একটি কক্ষেই সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম চালুর খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় শিশু, অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এর আগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর কথা জানিয়েছিলেন।
এদিকে শফিকুর রহমানের ঘোষিত ৫০ লাখ টাকা সহায়তা কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা সংস্কার ও প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহে ব্যবহার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মাধ্যমে মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে দেশব্যাপী চলমান চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ‘প্রতীকী গণভিক্ষা ও পুনর্বাসন দানবাক্স’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, চাঁদাবাজি ছাইড়া দে’ এবং ‘ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, চাঁদাবাজের আস্তানা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে রাজধানীর বাংলামোটরে ‘পুনর্বাসন দানবাক্স’ স্থাপন এবং গণভিক্ষা কর্মসূচির ঘোষণা দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১৭ বছর ধরে সরকারদলীয় অনাহারী নেতাকর্মীদের জন্য এবার গণভিক্ষা কর্মসূচি! ভিক্ষা দিন—আপনার ১ টাকাই হয়তো একজনকে চাঁদাবাজির পথ থেকে দূরে রাখবে।’
কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দান করুন, চাঁদাবাজি বন্ধ করুন; সতেরো বছরের অভুক্ত চাঁদাবাজদের জাতীয় পুনর্বাসনে আপনিও অংশ নিন।’
কৃষকদের দেশের ‘আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা। কৃষকদের সম্মান জানানো ও কৃষি খাতে নতুন উদ্ভাবন এবং অসামান্য অবদানে উৎসাহ দিতে ‘প্রেসিডেন্ট কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। পরে প্রেসিডেন্টের প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাতে কৃষক সমিতির অন্যান্য সদস্য মো. আব্দুল জলিল (লিচু কিতাব), মো. হাসান আলী (ড্রাগন হাসান), মোছা. বেলী বেগম (সবজি বেলী), মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার (মাছ তালেব), মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস উইং জানায়, সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে একটি আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি। কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রম, নতুন নতুন উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে দেশে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতি করেন না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কৃষকের এই অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
কৃষিপণ্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রেসিডেন্ট।
তিনি কৃষকদের এ বিষয়ে আরও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান। মধ্যস্বত্বভোগী ও বিপণনব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য বাজারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং কৃষকদের উন্নয়নে সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। এ খাতে ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ের মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাতে কৃষক সমিতির প্রতিনিধি দল কৃষকদের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস উদযাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের পুরস্কার প্রদান উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া শস্যবীমা চালু, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে কৃষকদের সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
কৃষকদের সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করাসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন, অচিরেই কৃষকেরা এসব উদ্যোগের সুফল পাবেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ খাতে বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনাও রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানিতে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আধুনিক শিল্প-কারখানা এবং হিমাগার স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন প্রেসিডেন্ট। খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহারের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
কৃষিঋণের সুদের হার, বিশেষ করে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট।
বঙ্গভবনের এই সাক্ষাতে কৃষকদের উৎপাদন, ন্যায্যমূল্য, ঋণ, বাজারজাতকরণ, স্বীকৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কৃষি খাতে উদ্ভাবন ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন পুরস্কার চালুর উদ্যোগের কথা জানানোর পাশাপাশি কৃষকদের জাতীয় অর্থনীতি ও খাদ্যব্যবস্থায় অবদানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।