বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
৯ মাঘ ১৪৩২

মিউনিখ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে নিমন্ত্রণ বাংলাদেশের গুরুত্বকেই তুলে ধরে

ওবায়দুল কাদের
ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:০১

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিমন্ত্রণ ও বক্তব্যে অংশ নেয়া বাংলাদেশের গুরুত্বকেই তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে সমালোচনামুখরও ছিল বহির্বিশ্বের একটা অংশ। তারপরও আজকে এই সংকটে সিকিউরিটির মতো সেনসেটিভ ইস্যুতে নিমন্ত্রণ করা ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে অংশ নেয়া বাংলাদেশের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ও শান্তির পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। সবচেয়ে বেশি জোরালো বক্তব্য- যেটা আগে কোনো নেতা এই দুঃসাহস দেখাতে পারেননি ‘স্টপ জেনোসাইড ইন গাজা’। এখানে শেখ হাসিনার সাহসী কূটনীতিই আমরা দেখলাম।’

দেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও সার্বভৌমত্বে আওয়ামী লীগ আঘাত করেছে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোনো বিবেকবান রাজনীতিবিদ এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। এটা হচ্ছে পাগলের অসংলগ্ন প্রলাপ।

তিনি বলেন, বিএনপি রাজনীতিতে মিথ্যাচার চিরজীবনই। তাদের রাজনীতিতে মিথ্যাচার অপরিহার্য বিষয়। এটা তাদের চিরাচরিত মিথ্যাচারের ধারাবাহিকতা।’

দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার- বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিরোধী দলের এখন আর কিছু নেই। জনগণ নেই, তাদের কর্মীরাও নেই। এখন কিছু না কিছু তো জনগণ ও কর্মীদের সামনে বলতে হবে। এজন্য কথামালার চাতুরি তারা করছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিছু কিছু জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, আবার কিছুকিছু অন্যের দাম কমতির দিকে। বাজার ওঠানামা চিরদিনই আছে। বিশ্ব প্রতিক্রিয়ায় দ্রব্যমূল্য বাড়ছে বলে সরকার এখানে কোন উদাসীনতা দেখায়নি। সক্রিয় আছে, সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে নেই- যা করণীয় অবশ্যই করছি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগার থেকে বের হয়ে একই ধরনের সাজানো নাটকের পুনরাবৃত্তি শুরু করেছেন- দাবি করে কাদের বলেন, ‘তার একই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শুনছি। এখন তারা নাকি আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। তো প্রশ্ন হচ্ছে- কোথা থেকে কোথায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন, আবার কোথা থেকে কোথায় ঘুরবেন সেটা আমাদের জানা নেই। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর বক্তব্য আমরা আগেও শুনেছি। কিন্তু কোন বছর ঘুড়ে দাঁড়াবেন? এ বছর, নাকি আগামী বছর? এই ডিসেম্বরে নাকি আগামী অক্টোবরে? কবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন? আসলে এসব কথা বিএনপি নেতারা বারবার বলে জনগণের কাছে নিজেদেরকেই খাটো করছেন।’

মানুষ জেনেশুনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মনে করেছিল, নির্বাচন প্রতিহত করতে পারবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

‘তারা বলেছিলেন, নির্বাচনের পর আমরা সরকার গঠন করতে পারবো না। তারা আরও বলেছিলেন- সরকার গঠন করতে পারলেও কয়েক দিনের বেশি টিকবে না। তাদের এসব বক্তব্যের বাস্তবতা কতটুকু? আসলে হতাশা থেকে বিএনপি নেতারা এখন অনেক কিছুই বলছেন।’

মিয়ানমার ইস্যুতে কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের সব পক্ষের গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছে। সেখানে যুদ্ধ পরিহার করে শান্তির জন্য ইন্টেলিজেন্ট ডিপ্লোম্যাসি নিয়ে কাজ করছে সরকার।’

‘গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ভাঙা হচ্ছে’- বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাতীয় পার্টির আজকে যারা সংসদে বিরোধী দল গঠন করেছে এর বাইরে যারা জাতীয় পার্টির নামে কোনো একটা ভাগ সৃষ্টি করছে- সেটা তাদের নিজেদের ব্যাপার। এতে জাতীয় সংসদে থাকা জাতীয় পার্টির কেউ নেই। জাতীয় সংসদে যারা বিরোধী দল তারা সংসদ সদস্য। এর বাইরে যারা করছেন, তারা কেউ সংসদ সদস্য নন। কাজেই এ নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানো কিংবা উদ্বেগের কিছু নেই।’

রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বায়ু দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন ও পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইটের ভাটা বন্ধ করা একটা বড় কাজ।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


বেহেস্ত-দোজখের টিকেট বিক্রেতারা ভোটের আগেই মানুষ ঠকাচ্ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ উল্লেখ করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেমন দিল্লি নয়, তেমন পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। এবং যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।’

সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রথম নির্বাচনী জনসভায় দেশবাসীর সাহায্য ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ। কিন্তু নির্বাচনের আগে একটি দল আল্লাহর নামে বেহেস্ত ও দোজখের টিকেট বিক্রি শুরু করেছে। তারা ক্ষমতায় আসার আগেই মানুষকে ঠকানো শুরু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। প্রিয় ভাইবোনেরা, ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি, সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের সম্মানহানি হয়েছে। তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।’

বিএনপি দেশের প্রত্যেক মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হঠকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের টেক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি। এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শুধু ভোট, শুধু কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না, মানুষকে সাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি মাঠভর্তি মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘কাবা শরিফের মালিক কে? এই দিনদুনিয়া, আমরা যে পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? এই সূর্য–নক্ষত্র যা দেখি, এর মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে? দোজখের মালিক কে?’ তারেক রহমানের প্রশ্নের উত্তরে সবাই ‘আল্লাহ’ বলে সমস্বরে উচ্চারণ করলে তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই সাক্ষ্য দিলেন, পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কী অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কী দাঁড়াল? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে, টিকিট দেব, বলছে না? যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে সেটা শিরক করা হচ্ছে না? যেটার মালিক আল্লাহ একমাত্র। সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পর কেমন ঠকানো ঠকাবে, আপনারা বুঝেন এবার।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, কীভাবে আমি–ডামি নির্বাচন হয়েছে, কীভাবে নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছে। এই তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।’

সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান আসেন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এবং প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন। তিনি আসার আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে সমাবেশস্থল।

তারেক রহমান জনসভায় আসার পর নেতা-কর্মীরা ‘দুলা ভাই, দুলা ভাই’—স্লোগানে চারপাশ মুখর করে তোলেন। মঞ্চে উঠে বিএনপির চেয়ারম্যান হাত নেড়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্রায় শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে সিলেট বিভাগের চার জেলার সংসদীয় আসনের বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। মঞ্চে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় অনেক নেতা বক্তব্য দেন।

এর আগে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নেতা-কর্মীরা আজ সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। তারা ধানের শীষ, বিএনপি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন। অনেকে মাথায় ধানের শীষের ছবিসংবলিত টুপি আর কপালে দলীয় পতাকা বেঁধে সভায় হাজির হন। বাইরে থাকা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিকের ধানের শীষ কিনেও অনেকে সভায় আসেন।

ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গও এসেছে: আজকের জনসভায় ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগানে বারবার উঠে এসেছে ‘গুম হওয়া’ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর নাম। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য ঢাকার বনানী থেকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ‘গুম’ হন।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে ইলিয়াস আলীসহ সিলেট অঞ্চলের গুমের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্যে ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

এদিকে মাঠের এক পাশে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য নির্ধারিত জায়গাও রাখা ছিল।

আরও ছয় স্থানে জনসভা: সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসংলগ্ন ছয় জেলার আরও ছয়টি স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেন। এর মধ্যে প্রথমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেন।

পরে তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর পার্কে এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জ গাউসিয়া এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। এসব জনসভায় তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।


সাতক্ষীরায় গণঅধিকার পরিষদের ১২ নেতা কর্মী জামায়াতে যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা-৩ সংসদীয় আসন (আশাশুনি–কালিগঞ্জ) এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের আশাশুনি উপজেলার খায়রুল আলম ও মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ১২ জন নেতাকর্মী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

এক যোগদান অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও সাবেক এসপি মাওলানা রিয়াছাতের পুত্র নুরুল আফসারের উপস্থিতিতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হন। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে আসা নেতাকর্মীদের যোগদানে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। তারা আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জামায়াতে ইসলামীর আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মধ্যে একটি নৈতিক ও গণমুখী মিল রয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন যোগদানকারীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদে রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে তারা গণমানুষের অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে জামায়াতে ইসলামীকে উপর্যুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।


বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভৈরবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তার জ্বর আসে এবং তিনি বমি করেন। পরে তাকে দ্রুত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। পরীক্ষায় তার শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বর্তমানে তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৩ শতাংশ থাকলেও অক্সিজেন সাপোর্টে তা ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে।

তিনি আশঙ্কামুক্ত কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।’


সমাবেশ মঞ্চেই নামাজ আদায় করলেন তারেক রহমান

মৌলভীবাজারে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশ মঞ্চেই নামাজ আদায় করলেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৌলভীবাজারের (শেরপুর) আইনপুরে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সমাবেশ চলাকালীন মাগরিবের আজানের সময় হলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সমাবেশ মঞ্চেই নামাজ আদায় করেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে বিকেল থেকেই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখছিলেন।

জনসভা উপলক্ষে জেলার সাতটি উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে সমবেত হন। এই সমাবেশ থেকেই মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

প্রার্থীরা হলেন— মৌলভীবাজার-১ আসনের নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের মুজিবুর রহমান চৌধুরী হাজী মুজিব। মাগরিবের নামাজের পর পুনরায় সমাবেশের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।


উৎসবমুখর পরিবেশে বেনাপোলে বিএনপি'র নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রতিক বরাদ্দের পর উৎসব মুখর পরিবেশে যশোরের সীমান্ত―বর্তী উপজেলা শার্শায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের নির্বাচনী এক মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে বেনাপোল বল্ড ফিল্ড থেকে চেকপোষ্ট পর্যন্ত বড় একটি মিছিল অনুষ্টিত হয়।

মছিলে বেনাপোল পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিএনপি যুবদল ছাত্রদল মহিলাদল সহ সহযোগিদলের হাজার হাজার নেতা কমী মিছিলে অংশ গ্রহন করেন। নির্বাচনী মিছিলে নেতাকর্মীরা ব্যানার প্লেকার্ড নিযে যোগদেন ।

এসময উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষ প্রতিকের বিএনপির এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন.পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দীন ও সাধারন সম্পাদক আবু তাহের ভারতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

যশোর ৮৫ শার্শা ১ আসনে বিএনপি. জামাত জাতীয় পাটি ও ইসলামি শাসন তন্ত্রের ৪ জন প্রার্থী প্রতিন্দিতা করছেন।

৮৫ যশোর-১ (শার্শা উপজেলা)মোঃ নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি), মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান(জামায়াতে ইসলামী), মোঃ বকতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন),জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি জিএম কাদের)। এ আসনে বিএনপি ও জামাত ইসলামি বাংলাদেশ এর কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নাই।


সরকারের একটি মহল বিশেষ কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করছে: মির্জা আব্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণার প্রথম দিনেই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি দাবি করেছেন, সরকারের ভেতরে থাকা একটি বিশেষ মহল সুনির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজধানীর শান্তিবাগ স্কুল এবং পুরাতন রমনা থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, যখন রাষ্ট্রের কোনো প্রধান নির্দিষ্ট কাউকে ইঙ্গিত করে তার বিজয়ের আগাম বার্তা দেন, তখন বুঝতে হবে তাদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় জয়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে অনেক কিছু না বললেও তিনি অনেক কিছুই জানেন এবং প্রয়োজনে তা প্রমাণ করতে পারবেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষ যেভাবে শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষায় কথা বলছেন, নিজের বয়স এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি তার প্রত্যুত্তর দিতে পারছেন না। তবে প্রতিপক্ষ যা-ই বলুক, তাতে নিজের কোনো রাজনৈতিক ক্ষতি দেখছেন না মির্জা আব্বাস। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণকে তিনি তার নিজের সন্তানের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ওই প্রার্থী এমন সব জায়গায় আঘাত করে কথা বলছেন যাতে তিনি প্রতিক্রিয়া দেখান। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া দেখানোর বয়স পার হয়ে গেছে। তিনি প্রতিপক্ষকে তার ছেলের চেয়েও কম বয়সী উল্লেখ করে বলেন, নিজের ছেলে যেমন বাসায় দুষ্টুমি করে, তিনিও ধরে নিয়েছেন ওই প্রার্থী ছেলের মতোই দুষ্টুমি করছেন।

নির্বাচন ব্যবস্থা ও ফলাফল নিয়ে নিজের শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন ঢাকা-৮ আসনের এই প্রার্থী। তিনি সরাসরি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা নির্বাচন প্রভাবিত করার আশঙ্কার কথা জানান। তার মতে, সরকারের একটি মহল বিশেষ কিছু প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য সক্রিয় হতে পারে এবং সেখানে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে অপচেষ্টা যে হবে তা তিনি নিশ্চিত। তবুও সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মির্জা আব্বাস জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অতীতে প্রতিটি সুষ্ঠু নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন এবং এবারও যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবে ইনশাআল্লাহ তিনি জয়লাভ করবেন। দলীয় কর্মীদের মনোবল দেখে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন তিন শতাধিক নেতাকর্মী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। বুধবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা সদরের আল মদিনা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই দলবদল সম্পন্ন করেন। এলডিপি থেকে আসা এই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে দলে বরণ করে নেন উপজেলা পর্যায়ের বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী। দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবু সেলিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম জাহেদ চৌধুরী এবং দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী নুরুল আলম নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন যে তিনি অতীতেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে তিনি বিএনপির রাজনীতি চালিয়ে যেতে চান। তিনি বিএনপিকে এ দেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়টি দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে আগামী নির্বাচনে এই আসনটি তাকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিএনপিতে যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


একটি দল নির্বাচনের আগেই মুসলমানদের শিরক করাচ্ছে: তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনের আগেই একটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে এবং মুসলমানদের দিয়ে শিরক করাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা নির্বাচনের আগে মানুষকে এভাবে প্রতারিত করছে, তারা নির্বাচনের পরে কী ধরনের আচরণ করবে তা সহজেই অনুমেয়। এই হঠকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে তারেক রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ দেখেছে কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই করা হয়েছে। তিনি বিগত নির্বাচনগুলোকে আমি-ডামি নির্বাচন এবং নিশিরাতের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন যে, এই তথাকথিত নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখন সময় এসেছে মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠার।

দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শুধু ভোট বা কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিলেই হবে না, মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে এবং দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে যুবসমাজকে কাজে লাগানোর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

সিলেটের এই বিশাল জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেরার পথে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন ছয়টি জেলার আরও ছয়টি স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় ভাষণ দেবেন। এর মধ্যে প্রথমেই তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরবর্তীতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।


বিগত দিনে আমি-ডামি, নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে: তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত ১৬ বছরের শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের মানুষ কেবল ব্যালট ছিনতাই, আমি-ডামি প্রার্থী আর নিশিরাতের নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত দিনে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক এবং ভোটাধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গত দেড় দশকে বিএনপিকে অনেক নেতাকর্মী হারাতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে এই দেশকে কার্যত অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে রাখা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্লোগান তোলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, এমনকি অন্য কোনো দেশও নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। বিগত সরকারের উন্নয়নের বয়ানকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি দেশের এই লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সার্বিক অবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বক্তব্যে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা দেশ থেকে পালিয়েছে এবং জনগণের অধিকার হরণ করেছে, তারাই সিলেটের সন্তান ইলিয়াস আলীর মতো হাজার হাজার মানুষকে গুম ও হত্যা করেছে। নেতাকর্মীদের গুম ও খুনের মিথ্যা মামলা দিয়ে জর্জরিত করে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের আজকের এই সমাবেশ সম্ভব হয়েছে চব্বিশের আন্দোলনে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। তার মতে, একাত্তরের অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণতন্ত্রকামী জনতা পুনরায় রক্ষা করেছে।

তারেক রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টেক ব্যাক বাংলাদেশ বা দেশ পুনরুদ্ধারের মিশনের অর্ধেক পূর্ণ হয়েছে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এখন ধানের শীষকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পথে মূল যাত্রা শুরু হবে। নারীদের উন্নয়নে বিএনপির অতীত অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।


ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে বিএনপি: তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দল আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবারের প্রধান নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের জন্য পৃথক কৃষক কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকালে সিলেটের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি হন এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, সত্যিকারের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারলেই কেবল নাগরিকরা তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে পারে। এমনকি শহরের উন্নয়ন বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো কাজগুলোর জন্যও একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তার দলের নীতিনির্ধারণী পরিকল্পনাগুলো তরুণদের সামনে তুলে ধরেন।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যেতে ইচ্ছুক, তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করবে বিএনপি। এছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের বা পিপিপি মডেলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের নানা প্রান্তের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং দেশকে নিয়ে নিরন্তর ভাবনার ফসল হিসেবেই তিনি এসব পরিকল্পনা সাজিয়েছেন।

এই মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের সঙ্গে এই কথোপকথন নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপিকে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সিলেটে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শুরু: লোকে লোকারণ্য সমাবেশস্থল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জনসভা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই জনসভাকে ঘিরে পুরো সিলেট নগরী যেন এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

জনসভা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। ভোর থেকেই সিলেট বিভাগ ও এর আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে স্রোতের মতো নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে প্রবেশ করতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সবার গন্তব্য ছিল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, যা দুপুরের আগেই জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর সিলেটে কোনো জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখছেন এবং কর্মীরা অধীর আগ্রহে তাদের নেতার বার্তা শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এর আগে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর তিনি মাজার জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই বিএনপি তাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করল, যা দেশের রাজনীতির মাঠে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সিলেটে তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট সফরের শুরুতেই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেটের একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে এই বিশেষ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন এবং তাদের ভাবনাগুলো শুনছেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি আগামীর বাংলাদেশ গঠন, রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের ভূমিকা নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, এই মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ও ভাবনাগুলো শোনা। দেশ গড়ার কাজে তরুণদের কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় এবং তাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো কী, সে বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেই বিএনপি চেয়ারম্যান এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণরা মূলত সাধারণ শিক্ষার্থী, যারা সরাসরি তাদের মতামত দলীয় প্রধানের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তারেক রহমান অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের কথা শুনছেন এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবসমাজের ক্ষমতায়ন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন।

এই মতবিনিময় পর্ব শেষ করেই তারেক রহমান সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। দীর্ঘ সময় পর সিলেটে এসে তিনি প্রথমেই তরুণদের সঙ্গে সময় কাটানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তরুণদের সঙ্গে এই সেশন শেষ করে তিনি জনসমুদ্রে ভাষণ দেবেন, যেখানে নির্বাচনী ইশতেহার ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


সিলেট থেকে শুরু বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা: তারেক রহমানের অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান পূণ্যভূমি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পর বিএনপি প্রধানের এই সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে পুরো নগরীজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।

দলীয় প্রধানের আগমন উপলক্ষে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠসহ পুরো সিলেট নগরী ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। গতকাল বুধবার রাত থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন এবং অনেকে মাঠেই রাত্রিযাপন করেন। আজকের এই জনসভায় তারেক রহমান সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং নির্বাচনী দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখবেন। মঞ্চ ও মাইকসহ যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সস্ত্রীক সিলেটে পৌঁছান তারেক রহমান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, তারেক রহমানের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তারসহ দলের শীর্ষ নেতারা। সিলেটে পৌঁছেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং সেখানে নফল নামাজ আদায় করেন। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন। এরপর গভীর রাতে তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলামে অবস্থিত তার শ্বশুরবাড়িতে যান এবং সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুরুব্বিদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।

শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। সিলেটের প্রবাসী-অধ্যুষিত বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি প্রতিটি জেলায় উন্নত ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দেন, যাতে যুবকরা দক্ষ হয়ে বিদেশে গিয়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে পারে। এছাড়া তিনি কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করার কথা জানান। গত ১৬ বছরে মানুষের কেড়ে নেওয়া বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

আজকের কর্মসূচি অনুযায়ী, সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ফেরার পথে তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারেও তার পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের এই দীর্ঘ রোডমার্চ নির্বাচনী মাঠে দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


banner close