মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
৬ মাঘ ১৪৩২

দেশ ধ্বংসের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে তৎপর বিএনপি : ওবায়দুল কাদের

আপডেটেড
২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৯
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৮

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দেশ ধ্বংসের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে তৎপর বিএনপি। দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই।’

আজ বৃহষ্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই এই বিবৃতি প্রদান করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সেনা ছাউনিতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিল। সূচনা-লগ্ন থেকেই বিএনপি অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পথ রুদ্ধ করে রাজনীতি করে আসছে। সুতরাং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে গণতন্ত্র ও সুশাসনের কথা বেমানান।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সন্ত্রাসী রাজনীতির প্রতিভূ ও জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলাটা ভূতের মুখে রাম নাম ছাড়া কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘একুশে আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় নির্বিচারে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের যারা হত্যা করেছিল, যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল, যারা দশ ট্রাক অস্ত্র আমদানি করেছিল, যারা অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টি করে শত শত নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, সেই খুনিদের দল যখন জননিরাপত্তা নিয়ে কথা বলে তখন জনগণ আরও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক নির্বিচারে কাউকে গ্রেফতার করে হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতে স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপির যে সকল সন্ত্রাসী ও ক্যাডাররা অগ্নিসন্ত্রাস এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের উপর হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতার করাটা কোনোভাবেই হয়রানিমূলক হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের আইন ও বিচারের মুখোমুখি করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য। একথা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও প্রমাণিত যে, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের জনগণ যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বস্তিতে বসবাস করছে। যেকোনো মূল্যে দেশের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করে যাবো।’


তারেক রহমান আন্তর্জাতিক মহলের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ নেতা: হুমায়ূন কবির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১১ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে দলটির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেছেন যে, "২৫ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক রিটার্নের পরে বিএনপির চেয়ারম্যানকে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের সদস্যরা।"

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিএনপির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আজকের সূচিতে ১১ জন রাষ্ট্রদূত উনার (তারেক রহমান) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামীতে সরকার গঠন করলে বিএনপি কী ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা উনি নিচ্ছেন। উন্নয়ন ভাবনা, আমাদের ৩১ দফার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উনার (তারেক রহমান) ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে, উন্নয়ন প্ল্যানে, কী কী থাকছে এই বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে।" হুমায়ুন কবিরের মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ আস্থা ও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি জানান যে, "অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও কিছু প্রোগ্রেস আছে। এখানে আমাদের একটা কন্টিনিউটি থাকবে এবং বিভিন্ন পজিটিভ এক্সচেঞ্জেস তারেক রহমানের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতদের অত্যন্ত ফলপ্রস আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে, কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন করা যায়।" আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "সামনে ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। আসলে নির্বাচন আমরা খুবই এক্সাইটেড। এটা ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন এখন হচ্ছে এবং হতে যাচ্ছে। তারাই এনভায়রনমেন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট এবং ভালো একটা প্রসেসের দিকে বাংলাদেশ যাচ্ছে। তাই যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ এখন নির্বাচন নিয়ে এক্সাইটেড।" এই মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় রাজনীতি: তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দোষারোপের রাজনীতিতে মানুষের পেট ভরে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দোষারোপের রাজনীতিতে মানুষের পেট ভরে না। মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো সবচেয়ে বড় রাজনীতি। রাজনীতি হওয়া উচিত দেশের মানুষের জন্য। আমরা অতীতে দেখেছি মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক রাজনৈতিক দল অন্য দলের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করছে, দোষারোপ করছে। বহু বছর ধরে রাজনীতির এই ধারাবাহিকতা চলে আসছে। তবে, একটি পরিবর্তন প্রয়োজন। বিএনপি সেই পরিবর্তনের শুরুটা করেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে যশোরের আলোচিত শিশু আফিয়ার পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে এই আয়োজন করে যশোর জেলা বিএনপি।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আফিয়ার মতো দেশে এমন অসংখ্য অসহায় পরিবার আছে। বিএনপি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে এমন আফিয়াদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা সব সময় করে আসছে। তবে, শুধু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এই বিশাল দায়িত্ব বহন করা বিএনপির জন্য অত্যন্ত কঠিন। সেজন্য আমরা বলেছি, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন পেলে আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এই সেবাগুলো নিশ্চিত করব।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘কৃষকদের জন্য আমরা কৃষিকার্ডের কথা বলেছি। শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত মানুষের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা বলেছি।’

ভারি বর্ষণ কিংবা সীমান্তের ওপার থেকে পানি ছেড়ে দিলে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল প্লাবিত হয়। এজন্য শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন প্রকল্প ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিংবা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া সব সময়ই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে কাজ করেছেন। আমিও সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। এজন্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে আবারও খাল খনন প্রকল্প শুরু করা হবে। বেগম জিয়া নারীদের শিক্ষার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার সুফল এরই মধ্যে বাংলাদেশের নারী সমাজ পেয়েছে। সেই শিক্ষিত নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য আমাদের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা পর্ব শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আফিয়ার পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর করেন বিএনপি নেতারা।


৯০তম জন্মবার্ষিকী: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা

আপডেটেড ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ (বিএনপি) সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম।

সকাল থেকেই রাজধানী বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির মহানগর থানা ওয়ার্ডের শতশত নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে এসে জড়ো হন।

বেলা ১১টায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো পর সংগঠনগুলো একে একে শ্রদ্ধা জানায়।


গণভোটের প্রচারণার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ইসি: নাহিদ ইসলাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণভোটের প্রচারণার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব না।

গতকাল সোমবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই অভিযোগ করেন।

পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনের দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরে পড়বে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে নিরপেক্ষ আচরণ প্রয়োজন, তা আমরা মাঠে দেখছি না। ইসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। এমন নির্বাচন হলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরে পড়বে।’

দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপির প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ইসি বিএনপির চাপে তাদের বৈধতা দিয়েছে। দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি কোন দলের, সেটা বিষয় না; আইনের প্রয়োগ যাতে সুষ্ঠু হয়। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। ইসিকে কোনো দল বা শক্তির সামনে নতজানু না হওয়ার আহ্বান জানাই।’

ইসি একটা দলের চাপে পড়েছে জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘একটা দলের চাপে পড়ে আইনের অবস্থান থেকে সরে এসে তাদের বৈধতা দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ইসি। আইনি লড়াইয়েও বাধার চেষ্টা আছে। আমাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো আমাকেই শোকজ দেওয়া হলো।’

মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসিকে চাপ প্রয়োগ করা তারেক রহমানের পরিকল্পনা কি না, সে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইসি এমন আচরণ অব্যাহত রাখলে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হব।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন ও আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।


তারেক রহমানের আহ্বানে কুমিল্লায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

আপডেটেড ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৫০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও সিটি করপোরেশন) আসনে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী নেতা হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরপাড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানান। তিনি দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর প্রতি অনানুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানান।

হাজি ইয়াছিন বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।’ ১৫ জানুয়ারি দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে দলীয় স্বার্থে তাকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাজি ইয়াছিন বলেন, ‘দলের আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও দেশ-জাতির কল্যাণে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে তিনি রাজনীতি করেন। দলীয় দায়িত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে তার স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলাম।’

সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘হাজি ইয়াছিনের এই সিদ্ধান্ত কুমিল্লার রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে কুমিল্লা যে বঞ্চনা ও সংকটে পড়েছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কায়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হানসহ জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, এর আগে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে অনেকবার আন্দোলন করেছেন হাজি ইয়াছিন সমর্থকরা। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নেন।


নিরাপত্তা সংকট ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমির হামজার সব মাহফিল স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামগ্রিক সংকট বিবেচনা করে মুফতি আমির হামজা তাঁর পূর্বনির্ধারিত সকল ওয়াজ ও তাফসির মাহফিল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মাহফিল আয়োজনে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, নিরাপত্তা সংকট ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমার ওয়াজ বা তাফসির মাহফিলের সব শিডিউল (সময়সূচি) আজ থেকে স্থগিত ঘোষণা করছি।’ এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে আয়োজক কমিটি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের যে অসুবিধা হবে, সেটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি আরও বলেন, ‘এমন কঠিন সিদ্ধান্তের জন্য আমার তাফসির মাহফিলের সিডিউল নেওয়া আয়োজক কমিটির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনাদের দোয়ায় শামিল রাখবেন।’ মূলত ব্যক্তিগত ও জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আজ থেকে তাঁর সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূচি স্থগিত রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।


বক্তব্য প্রদানকালে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত আমিরের ইন্তেকাল

আপডেটেড ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তৃতা করার একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করেন এবং মঞ্চেই বসে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শহরের মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায় যে, ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই প্রতিবাদে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাহ চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক তারার মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের জন্য মিলিত হয়। সেখানে সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার সময়ই মূলত অধ্যাপক আবুল হাশেম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।

অধ্যাপক আবুল হাশেম ব্যক্তিগত জীবনে পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।


এনসিপির ক্রাউড ফান্ডিং শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনতে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো বড় ধনী ব্যক্তি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অর্থের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অনুদানের মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিশেষ অনলাইন ডোনেশন প্ল্যাটফর্ম ও ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রমের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এই প্রক্রিয়ার কারিগরি ও স্বচ্ছতার দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিটি প্রার্থীর পোস্টারে একটি করে নির্দিষ্ট কিউআর কোড সংযুক্ত থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটার বা সমর্থকরা যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে, যেমন নাহিদ ইসলামকে সরাসরি সহায়তা করতে চান, তবে তারা সহজেই সেই কিউআর কোড স্ক্যান করে অনুদান পাঠাতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, একজন প্রার্থী জনগণের কাছ থেকে মোট কত টাকা অনুদান পেলেন এবং সেই অর্থ রাজনৈতিক প্রয়োজনে কীভাবে ব্যয় করছেন, তার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চিত্র জনগণের সামনে উপস্থাপন করা।

অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার মাধ্যমেই দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন এনসিপির নেতারা। তারা জানান, প্রার্থীরা যাতে বিজয়ের পর কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যবসায়ীর কাছে নয়, বরং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমকে ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করে ফরহাদ সোহেল সমালোচনা করেন যে, সেখানে হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এনসিপি পরিষ্কার জানিয়েছে, তারা হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি বা জোরজবরদস্তিমূলক পেশিশক্তি ব্যবহারকারী কোনো প্রার্থীকে সংসদে দেখতে চায় না এবং অনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কেউ তাদের দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেবে না।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ দলের নীতিগত অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিকভাবে কোনো ধরনের পরাধীনতা বা ‘বাইন্ডিংস’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা নীতিগতভাবে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান গ্রহণ করবেন না। এর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ১০ টাকা বা ১০০ টাকার মতো ক্ষুদ্র অনুদানকেই তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের এই ক্ষুদ্র অংশগ্রহণই হবে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি। অনুদান প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে চালু করা ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যে কেউ স্বচ্ছভাবে অর্থ প্রদান করতে পারবেন, যা দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে সহায়তা করবে।


আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিচার দেশের মাটিতেই হবে: ছাত্রদল সম্পাদক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই করার হুশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই ছাত্র প্রতিনিধি পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা হয়ে বিপুল পরিমাণ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, যা এখন দেশের মানুষের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’। সোমবার দুপুরের দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

নাছির উদ্দিন নাছির তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিনি এখন নির্বাচন কমিশনে এসে চোখ রাঙানোর চেষ্টা করছেন। ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কারও চোখ রাঙানি বা হুমকিতে কমিশনের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি কমিশনকে সংবিধান, আইন ও জনগণের দেওয়া ক্ষমতার বলে মেরুদণ্ড সোজা করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন যে, আসিফ মাহমুদের হুমকি-ধমকিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভীত নয় এবং তারা মাঠেই থাকবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চলমান ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি শাবিপ্রবি উপাচার্যকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এতটা মিথ্যাচার করেননি। অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপাচার্য সেই চিঠি গোপন রাখেন এবং কোনো ছাত্র সংগঠনকে তা জানাননি। নাছির উদ্দিনের দাবি, উপাচার্য পরবর্তীতে ঢাকায় এসে তদবির করে তার পছন্দের সংগঠন ছাত্রশিবিরকে জেতানোর উদ্দেশ্যে নির্বাচনের তারিখ ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন।

শাবিপ্রবি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে টানা ছয় দিন প্রচারণা বন্ধ রাখা হয়েছে, যা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের অন্তরায়। তিনি জানান, শাবিপ্রবিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত ১৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মধ্য থেকে ইতিমধ্যে আটজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিতর্কিত কমিশন ও বিতর্কিত উপাচার্যকে দায়িত্বে রেখে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। উপাচার্যকে ‘ভণ্ড ও প্রতারক’ অভিহিত করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অনতিবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেন নাছির উদ্দিন। দাবি আদায় ও তিনটি বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।


বাগাতিপাড়ায় খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে ব্যারিস্টার পুতুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নেকবর হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন মিঠু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সা: সম্পাদক রশীদ চৌধুরী এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শফিকসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশের জন্য তার অবদান এবং স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।


৫ জেলার ৬ নেতাকে সুখবর দিলো বিএনপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর অংশ হিসেবে ৫টি জেলার ৬ জন নেতাকে দলে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে অতীতে এই নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় রবিবার তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দলে ফিরে আসা এই ৬ জন নেতা দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে সিলেটের দুইজন এবং মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও জামালপুরের একজন করে নেতা রয়েছেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতারা হলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. খায়রুল আমিন আজাদ, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আবুল কাশেম, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার লিয়াকত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম, কক্সবাজার পৌর বিএনপির সদস্য আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী এবং জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফখরুজ্জমান মতিন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে দলের পুরনো ও ত্যাগী নেতাদের ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়াটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তৃণমূলের কর্মীরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একইভাবে ৩ জন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের দলে ফিরিয়েছিল বিএনপি। ধারাবাহিক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দলের ভেতরে ঐক্য সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য খায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় বিএনপির পক্ষ থেকে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহাদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বিষয়গুলোও এই সৌজন্য সাক্ষাতের আলোচনায় স্থান পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিএনপির যোগাযোগ ও তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এল।


নির্বাচন কমিশনের ওপর বিএনপির শতভাগ আস্থা রয়েছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের দলের শতভাগ আস্থা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আগামীতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের বিদায়ের পর দেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন যে, বিগত সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করার শপথ তারা গ্রহণ করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় হয়তো কিছু ছোটখাটো সমস্যা হয়েছে, তবে কমিশন তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, এই কমিশনের প্রতি বিএনপির পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করেন যে কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে সফল হবে।

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আব্দুল মঈন খানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন দলের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।


banner close