রোববার, ২৩ জুন ২০২৪

বিএনপি রাজনীতি থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে: ওবায়দুল কাদের

ফাইল ছবি
আপডেটেড
১০ মার্চ, ২০২৪ ১৬:৫৯
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১০ মার্চ, ২০২৪ ১৬:৫৮

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রমাণ হয়েছে যে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই এদেশের গণতন্ত্র নিরাপদ। তিনি দেশের বাস্তবতা বোঝেন আর বিএনপি তা বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনীতি থেকে ক্রমে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে দেশের রাজনীতির যে বাস্তবতা, এই বাস্তবতায় বিএনপির মতো একটা দল রিয়ালিটির সাথে এদের কন্টাক্ট ক্রমেই হারিয়ে ফেলছে। প্রমাণ হয়েছে যে, শেখ হাসিনার হাতেই এদেশের গণতন্ত্র নিরাপদ। শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে এটাই বাস্তবতা- তাঁর (শেখ হাসিনার) হাতে যতদিন আছে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রিয়ালিটি বোঝেন, তিনি মানুষের চোখের ভাষা, মনের ভাষা বুঝতে পারেন- যেটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। বোঝে না বলেই তারা রাজনীতিতে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বিএনপি’র সমমনাদের সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সমমনস্করা যদি ষড়যন্ত্র করে, সন্ত্রাস করে আর বিএনপির সেখানে সংশ্লিষ্টতা নেই- এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। সন্ত্রাস যেখানে আছে, বিএনপি সেখানে আছে।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক রিপোর্ট নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের নিজস্ব একটা হিসাব নিকাশ আছে এবং পশ্চিমী বিশ্বের এলায়েন্স, সে এলায়েন্স রক্ষা করার বিষয়টি আছে, তারা কিছু নীতিমালা অনুসরণ করে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছে, এখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তারা তাদের সুরেই কিছুটা সুর মিলিয়েছে। তবে আমরা গুরুত্ব দিব মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে কী বলেছেন, তাতে। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তাছাড়া মানদন্ডের বিষয়টি একেক জনের কাছে একেক রকম।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল, এই নির্বাচনের মানদন্ড যদি খুবই তলানিতে গিয়ে পৌঁছাত, তাহলে আজকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওয়াশিংটন হাউসের প্রশংসাসূচক মন্তব্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতাম। বাংলাদেশের বাস্তবতায় নির্বাচনের মানদণ্ড ঠিক আছে।’

ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনসহ ২৩১টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে ভোট পড়েছে গড়ে ৬০ শতাংশ। নির্বাচন মোটামুটি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করেনি।’ ভোট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হওয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানান।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই নির্বাচনে অনেক জায়গায় বিএনপি নেতারা অংশ নিয়েছেন। কিছু নেতা জয়লাভও করেছেন। এই নির্বাচনে কোন দলীয় প্রতীক ছিল না। এই নির্বাচনের পরও বিএনপির মুখে নির্বাচন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আর কোনো কথা বলার যৌক্তিকতা থাকে না। তারা যত দোষ নন্দ ঘোষ- এ ধরনের একটা আচ্ছন্ন মানসিকতায় ভুগছে এবং সেটাই তারা করে যাচ্ছে।’

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবির জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন কোন দুঃখে? মামা বাড়ির আবদার!’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আফজাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।


শেখ হাসিনার উন্নয়ন অনেকে দেখতে পায় না: কাদের

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আজ রোববার বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৪ ১৮:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র চলছে দেশি-বিদেশি। শেখ হাসিনার উন্নয়ন অনেকে দেখতে পায় না। একটি দল অন্তরজ্বালায় জ্বলছে। ওরা দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে। পূর্ণিমা রাতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখে। এরা আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রু। তারা আমাদের দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। ১৫ ও ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড তারা। সেই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

আজ রোববার আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাস করেন, সকলের কাছে আহ্বান, আমাদের ভুলত্রুটি নেই এটি বলব না। তারপরও শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের জনগণের একমাত্র আস্থার ঠিকানা। আসুন, সকলে মিলে বঙ্গবন্ধুর কন্যার হাতকে শক্তিশালী করি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সবচেয়ে কীর্তি নিজের টাকায় পদ্মা সেতু। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে চোর অপবাদ দিয়ে সরে গিয়েছিল। সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমি নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করব। তিনি প্রমাণ করেছেন, আমরা বীরের জাতি, আমরাও পারি। পদ্মা সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রতীক, সাহসের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এই অর্জনের জনক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই দেশের আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় দুটি লিগ্যাসি তৈরি হয়েছে। একটি স্বাধীনতার জন্য, এটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তিনি নেই। তার মৃত্যু নেই। তিনি আছেন অমর হয়ে। আরেকটি লিগ্যাসি অর্থনৈতিক মুক্তির, সেটি শেখ হাসিনার। যতদিন বাংলা আছে, ততদিন শেখ হাসিনাও অমর হয়ে থাকবে। তিনি আমাদের ম্যাজিশিয়ান অব পলিটিক্স।


আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৪ ১৫:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভায় অংশ নিতে দলে দলে জড়ো হয়েছেন নেতাকর্মীরা। আজ রোববার বিকালে এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বক্তৃতা করবেন।

সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকগুলো বেলা সাড়ে ১১টায় খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন।

জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এরপর শুরু হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠা পাওয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পায় বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এ দলে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার মেয়ে শেখ হাসিনা, যিনি টানা চার মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছেন।

আলোচনা সভায় অংশ নিতে আসা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য জি এম আরিফুজ্জামান বলেন, ‘গৌরবময় ৭৫ বছরের পথচলায় আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের জন্য নানা অবদান রেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এছাড়া ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে এ দলটি মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করেছে। তাই এই দলের প্রতি মানুষের এত ভালোবাসা।’

বিষয়:

সাম্প্রদায়িক অপশক্তি প্রতিহত করাই আ. লীগের আগামীর চ্যালেঞ্জ: কাদের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৪ ১২:৩১
বাসস

বর্ণচোরা বিএনপির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করাই আওয়ামী লীগের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার সকালে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘আমাদের দলের জন্মদিনে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে আমাদের রক্তমূল্যে অর্জিত বিজয়কে সুসংহত করব। আমাদের চলার পথে প্রধান বাধা বর্ণচোরা বিএনপি। মুক্তিযুদ্ধের নামে এই বর্ণচোরারা ভাঁওতাবাজি করে। সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী শত্রু আজ আমাদের অভিন্ন শত্রু।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই সাম্প্রদায়িক অভিন্ন শত্রু বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়। আজ আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের আজ শপথ এই অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে এবং আমাদের বিজয়কে আমরা সুসংহত করব। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণ করব। এটাই আজকের দিনের শপথ।’

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, অঙ্গীকার ও শপথ সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সৃষ্টি হয়েছিল জানিয়ে দলটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ এই দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। আমরা এক কথায় বলতে পারি, সংগ্রাম, সাফল্য ও সংস্কৃতির বর্ণিল প্রতিভাসের নাম আওয়ামী লীগ। দুটি পর্বে আমাদের এই সংগ্রাম, আন্দোলন, অর্জন উন্নয়নকে যদি ভাগ করি একটি অংশে স্বাধীনতা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা কেন্দ্রাতীত শক্তি হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পলাশীতে ১৭৫৭ সালে যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, ১৯৪৯ সালে সে সূর্য আবার উদিত হয়েছিল। উদিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, অঙ্গীকার ও শপথকে সামনে রেখে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়ে প্রতিরোধের দাবানল ছড়িয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গাই। আমরা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সৃষ্টির পতাকা ওড়াই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার ছয় বছর পর শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অন্ধকারে আশার আলো হয়ে এসেছিল। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেছিলেন বলেই গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে। তিনি এসেছিলেন বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনরুত্থান হয়েছে। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল স্বাধীনতার আদর্শের প্রত্যাবর্তন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার অর্জন বাংলাদেশের জন্য সারা পৃথিবীতে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বব্যাংককে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন আমরাও পারি। আমাদের সামর্থ্যের প্রতীক, আমাদের সক্ষমতার প্রতীক এই পদ্মা সেতু নিজের টাকায় করেছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকায় মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবারি গভীর সমুদ্র বন্দর, স্যাটেলাইট, ৬৮ বছরের সীমান্ত সমস্যা,ছিটমহল সমস্যার সমাধান এসব অর্জন বঙ্গবন্ধুর কন্যার।

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লির সফর নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা নিয়ে এসেছেন সেটা নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দিল্লি­ গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলে যাননি। বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে এখানে যা বলার দরকার কোনো কিছু বলতে সংকোচ করেননি। ভুলে যাননি।

এর আগে সকাল ৭টায় আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে দলের অন্যান্য নেতারাও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।


আ. লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উপলক্ষে আজ রোববার সকালে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে এই দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটলেও পরে শুধু আওয়ামী লীগ নাম নিয়ে অসাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে বিকাশ লাভ করে।

এর আগে আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে সকাল ৭ টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

পরে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা তার দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেক দফা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আামির হোসেন আমু, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কাজি জাফরুল্লাহ, শাজাহান খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সিমিন হোসেন রিমি ও ডা.মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএমমোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আফজাল হোসেন, এম এম কামাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসিম কুমার উকিল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় নেতাকর্মীদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ‘শুভ শুভ শুভ দিন আওয়ামী লীগের জন্মদিনসহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এছাড়া যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ, তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগ, ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বিষয়:

জন্ম থেকেই মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আ.লীগ

আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৪ ০০:১৮
ফারাজী আজমল হোসেন

আজ ২৩ জুন উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা প্লাটিনাম জয়ন্তী। জন্মলগ্ন থেকেই দলটি এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রার সারথি। নানা সংকট, সংগ্রাম আর চরম জুলুম-নির্যাতন, নিপীড়ন অতিক্রম করে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে প্রগতি আর উন্নয়নের অগ্রযাত্রায়। যখন পশ্চিম পাকিস্তানের নির্যাতন ও একচেটিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে কোণঠাসা ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম, তখন সাধারণ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে একমাত্র দল হিসেবে এগিয়ে আসে সেটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। ফল হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেনের ‘রোজ গার্ডেন’ প্যালেসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। ১৭৫৭ সালের এই ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতারা দলের আত্মপ্রকাশের দিন হিসেবে এ তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন দেশের মানুষের মুক্তির পথে যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে।

প্রতিষ্ঠাকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। প্রতিষ্ঠার সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দি ছিলেন। সেই অবস্থায় তাঁকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। অন্যদিকে পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নাম রাখা হয় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। এর সভাপতি হন গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু নিজেকে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের এক বিরাট চ্যালেঞ্জে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশের ভেতর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির নানা ষড়যন্ত্র ও অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু সফলভাবে বাংলাদেশের পুনর্গঠনের কাজটি করেছিলেন তাঁর সততা ও অসাধারণ দেশপ্রেমের কারণে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তাকে হত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয় তার নেতৃত্বে যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের উন্নয়নকে। কেননা, পাকিস্তান যখন ১৬ ডিসেম্বরের আগেই দেশের রিজার্ভ শূন্য করে চলে যায়, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে এবং দেশের অধিকাংশ সড়ক, রেল ও নৌপথ বিধ্বস্ত করে যায়, তখন পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নেতা-কর্মীদের কথায় বেশ স্পষ্ট ছিল যে, বঙ্গবন্ধুরে নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থরাষ্ট্র হতে যাচ্ছে। কিন্তু মাত্র ৩ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের এমন বক্তব্য থমকে যায়। এমনকি তৎকালীন সময় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া হেনরি কিসিঞ্জারও বাংলাদেশের এই উন্নয়নকে ভালোভাবে নেননি। আর বাংলাদেশকে ব্যর্থরাষ্ট্রে পরিণত করার অংশ হিসেবেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেষ রাতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এবং আত্মীয়স্বজনদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আর এর মাধ্যমে থমকে যায় একটি সদ্য স্বাধীন দেশের উন্নয়নের পথের অগ্রযাত্রা, যা আবারও গতি পায় ১৯৯৬ সালে দেশের ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর।

জন্ম থেকেই স্বৈরচারী শাসকদের বিরুদ্ধে জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগ। ১৯৭৫ সালে থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টানা স্বৈরশাসকরা অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা যখন করে রাখে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা জিয়াউর রহমানের পর ক্ষমতায় আসেন আরেক স্বৈরশাসক হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। তবে এদের বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে রাজপথে লড়াই করেছে আওয়ামী লীগ।

১৯৮১ সালের ১৭ মে জীবনের মায়া উপেক্ষা করে দেশে ফিরে সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। গত ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরলসভাবে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন দমনে চলে খুন, হত্যা, জেল, জুলুম, নির্যাতন। রক্তের সিঁড়ি বেয়ে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ঢেউয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। এরশাদের পতন ত্বরান্বিত ও গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয় ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। অবসান হয় স্বৈরশাসনের, আর মুক্তি পায় গণতন্ত্র। এর পরও নানা ষড়যন্ত্রের কারণে গণতন্ত্রের পথচলা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ।

সংঘাতময় এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে সেনাবাহিনী। জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। তবে যখন অসাংবিধানিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে এই সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে রাখে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দ্রুততম সময়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রদানে বাধ্য করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। আবারও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সাংবিধানিক ভিত্তিতে পরিচালিত হতে থাকে দেশ যা এখনো চলমান রয়েছে।

অর্জনে পরিপূর্ণ আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। প্লাটিনাম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন করলেও সরাসরি সরকার গঠন করে দলটি ভূমিকা রাখতে পেরেছে এখন পর্যন্ত সাতবার। এর মধ্যে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভায় পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের কারণে নিজ মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি দলটি। অন্যদিকে একাত্তরে পাকিস্তানের হত্যাযজ্ঞের পর দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হলে আবারও ৩ বছরের কিছু বেশি সময়ের জন্য সরকার গঠন করে দলটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর সামরিক শাসনের জাঁতাকালে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। বিদেশে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ পূর্ণ মেয়াদে তার মন্ত্রিসভার কার্যকাল পূরণ করে। এরপর ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টানা চারটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ দীর্ঘ এ সময়ে বাংলাদেশে অর্জনের তালিকাটা অনেক লম্বা।

এদিকে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বাণীতে শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ এবং ২১০০ সালের মধ্যে ‘ডেল্টা পরিকল্পনা’ বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে তিনি দলের সব নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি

৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আজ সূর্য উদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৭টায় ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরস্থ ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

এ ছাড়া সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।


‘৭৫ বছরে আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ সাম্প্রদায়িক শক্তি’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৭৫ বছরে আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ সাম্প্রদায়িক শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আগামীকাল রোববার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২২ জুন) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সবাই প্রস্তুত। গতকাল থেকেই উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন এ দেশের স্বাধীনতা। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জন এ দেশের উন্নয়ন। বিজয়কে এখনো সুসংহত করতে পারিনি, সাম্প্রদায়িকতা এখনো বিজয়ের প্রধান অন্তরায়। ৭৫ বছরের আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ সাম্প্রদায়িক শক্তি।

কাদের বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বার্তা হলো নতুন প্রজন্ম এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন। রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছিল, আছে এবং থাকবে।

রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ বানানোর জন্য অপতৎপরতা চালাচ্ছে একটি মহল এমন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অসৎ ব্যবসায়ী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে।


মধ্যরাতে হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, হঠাৎ করে অসুস্থতাবোধ করায় খালেদা জিয়াকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে।

জানা গেছে, হঠাৎ করে খালেদ জিয়ার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে শায়রুল কবির খান জানান, এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। তার শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। রিপোর্টগুলো আসলে তার অসুস্থতার ধরণ সম্পর্কে জানা যাবে।


আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় মানুষের ঢল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে লাখো মানুষের ঢল নামিয়ে দলের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্লাটিনাম জুবিলি) উপলক্ষে ‘বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও শোভাযাত্রা’ করেছে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

আগামী ২৩ জুন দলটির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। যানজট এড়াতে শোভাযাত্রাটি ছুটির দিন আজ শুক্রবার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীর ১৫টি নির্বাচনী এলাকা, ৪১টি থানা এবং শতাধিক ওয়ার্ড থেকে অজস্র মিছিলের স্রোত এসে মিশেছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে। পুরো রাজধানীই পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। ৫২ বছর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্থানে পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল ঠিক সেই স্থান থেকেই শোভাযাত্রা শুরু করে আওয়ামী লীগ।

দলের প্লাটিনাম জুবিলি উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড এবং মিরপুর রোড হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত বাসভবন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে রাস্তার ওপর স্থাপিত মঞ্চে শোভাযাত্রা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফি, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে শোভাযাত্রা-পূর্ব সমাবেশে বিএনপি-জামায়াতসহ দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দলের নেতারা।

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ নেমেছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের ঢল। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে একযোগে বিজয় শোভাযাত্রা করে মিলিত হয় সোহরাওয়ার্দীর সামনে। অজস্র মিছিলের স্রোতে দুপুর ২টার আগেই শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন মোড় পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ট্রাকে লাগানো মাইকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নিতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি সংবলিত পোস্টার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে হাজির হয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। একই সঙ্গে লাল-সবুজ টি-শার্ট, ক্যাপ, শাড়ি পরে, হাতে নৌকা, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে, নেচে-গেয়ে জনতার স্রোত নামে রাজপথে।

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা উপলক্ষে সকাল থেকে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শাখা থেকে নেতা-কর্মীরা নানা সাজে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেন। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় দেখা মিলেছে দুটি হাতির, যা শোভাযাত্রায় আসা নেতা-কর্মীদের বিশেষ দৃষ্টি কেড়েছে। হাতি দুটির ওপর দুইজন করে চারজন মাহুতকে দেখা গেছে।

দলীয় কোনো নেতা-কর্মী হাতির পিঠে না চাপলেও হাতির মাথার সামনে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমের ছবি সংবলিত পোস্টার। এ ছাড়া হাতির পিঠে আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি করা বিশাল ব্যানার বাঁধা হয়েছে।

বিষয়:

আওয়ামী লীগ কচুপাতার ওপর শিশির বিন্দু নয়: কাদের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ১৭:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন- পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমাদের ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কচুপাতার ওপর শিশির বিন্দু আওয়ামী লীগ নয় যে একটু টোকা লাগলেই পড়ে যাবে। একটু ধাক্কা লাগলে সরে যাওয়ার পাত্র নয় আওয়ামী লীগ। বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপি হচ্ছে ভুয়া। ভুয়া দলের সঙ্গে জনগণ নেই।

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার বিকেলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধনীতে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, আন্দোলন করবেন? ২৮ অক্টোবরের মতো পালিয়ে যাবেন না তো? বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপির নেতৃত্ব ভুয়া। এই ভুয়া দলের ভুয়া আন্দোলনে জনগণ নেই। আগেও ছিল না ভবিষ্যতেও থাকবে না। যে আন্দোলনে জনগণ নেই সেই আন্দোলন, আন্দোলন নয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মাথা নত করার দল নয়, ব্যক্তি অপরাধ করলে দুদক স্বাধীন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচার করার সৎ সাহস আছে শেখ হাসিনার। আজকে যে চক্রান্ত চলছে এটা আওয়ামী লীগকে হটানোর জন্য কি না এটা ভেবে দেখতে হবে। আজকে আন্দোলনের নামে যদি আবার আগুন নিয়ে মাঠে নামে, খুনের রাজনীতি করেন, আওয়ামী লীগ তার জবাব দিতে প্রস্তুত আছে।

নেতাকর্মীদের গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাবধানে থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। ফখরুলরা আজ গুজব ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে৷ সেনাবাহিনীর প্রতিও তাদের সেই মতলব আছে। তারা আজকে গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিবাজ দল বানানোর চক্রান্ত চলছে।

আওয়ামী লীগ বিরোধী অপপ্রচারে গণমাধ্যমও জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, কিছু কিছু মিডিয়া সেই অপপ্রচারে নেমেছে। আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তি নিয়ে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আছে। আওয়ামী লীগ মাথা নত করার দল নয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।


‘জিয়া-খালেদা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৈরী করে দেশের ক্ষতি করেছে’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি করে দেশের ক্ষতি করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের সঙ্গে সব সমস্যা আলোচনার টেবিলে সমাধান করবো। বন্ধুত্বপূর্ণ, ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক চাই। জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখবো না।

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সিলেটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ত্রাণ কার্যক্রম এবং উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। সিলেট অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের পানিবন্দি মানুষকে সাধ্যমতো সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার ছাড়া আমাদের তিন দিক ভারত বেষ্টিত। তাই যেকোনো সমস্যার সমাধান করব আলোচনার মাধ্যমে। আমাদের যে সীমান্ত সমস্যা ছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তা পার্লামেন্টে তুলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সে সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণভাবে কাজ করছেন।

কাদের বলেন, পৃথিবীর কোথাও কখনো শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশে তা শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে, কারণ আমরা সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা যায়। অথচ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ভারতের সঙ্গে বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। খালেদা জিয়া তো ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানিচুক্তির কথা বলতেই ভুলে গিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হীরকজয়ন্তী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভাসহ ১০ দফা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীতে শুক্রবার (২১ জুন) বেলা ৩টায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।


সার্বভৌমত্ব চলে গেলে আমাদেরই বেশি ব্যথা লাগবে: কাদের

সচিবালয়ে সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদপরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বুধবার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চান‌ আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াই‌। তাদের উসকানির ফাঁদে আমরা পড়তে পারি না। আমরা সরকারে আছি, আমাদের দায়িত্ব আছে, কর্তব্য আছে। সার্বভৌমত্ব চলে গেলে আমাদেরই ব্যথা লাগবে বেশি। কারণ, এ জাতির মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার লড়াইয়ে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

সচিবালয়ে সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদপরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে আজ বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন করে, তবে বাংলাদেশ বসে বসে আঙুল চুষবে না বলেও এসময় মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল তখন (মুক্তিযুদ্ধের সময়) কী করেছেন, কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, তা জানি না। এসব কথা বলে লাভ নেই। সার্বভৌমত্ব ঠিক আছে।’

সেন্টমার্টিন ইস্যুতে সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছে বলে বিএনপি যে অভিযোগ করেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের একটা ভাষা আছে– সরকারি দলের সিদ্ধান্তকে তারা নতজানু আখ্যায়িত করে। কিন্তু কীভাবে নতজানু, সেটা একটু ব্যাখ্যা করে দিক না। সেন্টমার্টিনে যে গুলিটা এসেছে, সেটা মিয়ানমার সরকার করেনি। এটা আরাকান আর্মি নামের যে বিদ্রোহীরা আছে, তাদের গুলি।’

যেকোনো উসকানির মুখে বাংলাদেশ যুদ্ধে না জড়িয়ে আলাপ-আলোচনায় সমাধানে বিশ্বাসী বলেও মত দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

কাদের বলেন, ‘সেখানে যে জাহাজের কথা বলা হয়েছে সে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবশেষ যখন রোহিঙ্গারা স্রোতের মতো বাংলাদেশে ঢুকেছিল, তখনও অনেকে উসকানি দিয়েছিল। আমাদের আকাশসীমা কখনো কখনো অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ওয়াশিংটনে। তখন বাহিনী প্রধানদের তিনি ফোন করে নির্দেশ দেন, যেকোনো অবস্থাতেই আমরা যেন যুদ্ধে না যাই। মিয়ানমার উসকানি দিলে আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করব। একটা সমাধান বের করব, যুদ্ধে জড়াব না।

তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে, আলাপ-আলোচনার সময় পেরিয়ে যদি যায়, যদি সত্যিই তারা আক্রমণে আসে, তখন কী আমরা বসে থাকব, আমরা বসে বসে আঙুল চুষব? আমাদেরও পাল্টা জবাব দিতে হবে। তাদের (মিয়ানমার) অভ্যন্তরীণ ৫৪টি গোষ্ঠী আছে। ওদের অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যা। আমরা সীমান্তে আছি, গুলি এসে লাগতে পারে, গুলির আওয়াজ আসতে পারে, এটা সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন না। তাদের নৃতাত্ত্বিক বিদ্রোহীরা আছে। তাদের থেকেই এসব ঘটনা ঘটছে। সেটার জন্য কেনো মিয়ানমার সরকারকে দায় দেব? যতদিন সম্ভব শেষ পর্যন্ত আমরা দেখব।


যতই প্রভাবশালী হোক দুর্নীতি করলে কারো ছাড় নেই: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ ঘোষণা দিয়েছেন এবং দুদককেও স্বাধীন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যতই প্রভাবশালী হোক দুর্নীতি করলে কারো ছাড় নেই।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। যে যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, দুর্নীতি করলে তদন্ত হবে। দুদক এটি করবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়তে চায় না। সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তেমন অভিযোগ আসেনি। তবে দুর্নীতি হলে তদন্ত হবে, বিচার হবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন, দুদকও স্বাধীন। যে যতো প্রভাবশালী হোক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করা যাবে। তদন্ত শেষে মামলা করা যাবে, মানে বিচারের আওতায় আসবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করেনি। তার ব্যাপারে কি করে জানবো? সরকারের নজরে আসার আগে সরকার কিভাবে ব্যবস্থা নেবে? যখনই কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নজরে এসেছে ব্যবস্থা নিয়েছি। গণমাধ্যমে আসার পর কিংবা সরকারের নজরে আসার পর সরকার কারো দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি এমন ঘটনা ঘটেনি।

মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ঈদের আনন্দ নেই, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এতো কিছুর পরেও মূল্যস্ফীতির কারণে ঈদের আনন্দ নেই, বিএনপির এমন মন্তব্য ঠিক নয়। পবিত্র ঈদের দিনেও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও সমালোচনা করতে ছাড়েননি তারা।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে ১ কোটি ৪ লাখের বেশি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার প্রথম দিনেই ৩ লাখের বেশি কোরবানি হয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে ঈদ ব্যাহত হয়েছে, বিএনপির এ তথ্য ঠিক নয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সমালোচনা করে বিএনপিসহ তাদের সমর্থকরা দেশটাকে শ্রীলঙ্কা বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। মূল্যস্ফীতি আছে তবে এটা কমাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে। আলোচনার বিষয়বস্তু প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঠিক করে রেখেছেন। তিস্তা বা গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে কি-না এটি এখনও জানা নেই।

মিয়ানমারের ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বেও কোথায় আঘাত করছে তারা? বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কোনো লঙ্ঘন মিয়ানমার সরকার করেনি।


‘কোরবানির তাৎপর্য অনুধাবন করে শান্তি-কল্যাণের পথ রচনা করতে হবে’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির তাৎপর্য ও মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি-কল্যাণের পথ রচনার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ সোমবার দেওয়া এক শুভেচ্ছা ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পবিত্র ঈদে আমি দেশবাসীসহ প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি সবাইকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা- ঈদ মোবারক।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, বছর ঘুরে আবার এসেছে ঈদ-উল-আজহা। ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল। মহান আল্লাহ পাকের প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের নিদর্শনে ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। আমাদেরকে কোরবানির তাৎপর্য এবং মর্মার্থ অনুবাধন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে হবে। আর এজন্য সবাইকে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হওয়ার বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অর্জনের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভারসাম্যপূর্ণ, শোষণহীন, ন্যায়নিষ্ঠ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তা সফল করতে প্রয়োজন নিষ্ঠা, সততা ও ত্যাগ। অকৃত্রিম ভালোবাসা ও ত্যাগের আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলে প্রতিষ্ঠিত হবে প্রত্যাশিত শান্তি ও সৌহার্দ্য।

দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একটি অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কর্ম ও চিন্তায় ত্যাগ, আনুগত্য এবং সততা চর্চায় নিবেদিত হওয়ার আহবান জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ঐক্যের মন্ত্রে উজ্জ্বীবিত হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার পথ রচনা করতে হবে।’


banner close