রমজান মাসে কর্মসূচি চলমান রাখার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপি জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিএনপি নেতাদের অর্বাচীন বক্তব্য ও মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রমজান সংযমের মাস। এ মাসেও বিএনপির নেতারা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলমান রাখার কথা বলছে। রমজান মাসে কর্মসূচি চলমান রাখার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপি জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। তাদের এই কর্মসূচি রমজানের মধ্যেও জনভোগান্তি সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ তারা দেশের জনগণকে কোনোভাবেই স্বস্তিতে থাকতে দিতে চায় না। আমরা আগেই বলেছি, রমজানে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপি আরও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।’
বিএনপি এক যুগের বেশি সময় ধরে তাদের তথাকথিত সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের পাঁয়তারা করে আসছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তাদের ডাকে জনগণ কখনোই সাড়া দেয়নি। বরং তারা জনগণ দ্বারা বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ফলে বিএনপি তথাকথিত আন্দোলনের মাধ্যমে গণসম্পৃক্ততার কোনো স্বরূপ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি সর্বদাই গণবিরোধী অবস্থানে থেকে রাজনীতি করে আসছে। তাই বিএনপির পক্ষে কখনোই গণআন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরোক্ষভাবে বন্দিত্বের কথা বলছে; তারা নাকি স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে না। অথচ তারা নিয়মিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে, চড়া গলায় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভুলের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে, ভুল রাজনীতির ফ্রেমে বন্দি হয়ে আছে। তারা খুনি-দুর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারী তারেক রহমানের নেতৃত্বের দাসত্বে বন্দি হয়ে আছে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় বা বিবেক জাগ্রত না হলে তারা এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবে না। বন্দি অবস্থায় থাকতে থাকতে ভ্রমের কারণে তারা তাদের বন্দিত্বের দায়ভার সরকারের উপরে চাপানোর অপচেষ্টা করছে।’
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। রমজান মাসে জনগণের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বদা জনগণের পাশে ছিল এবং থাকবে।’
বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। বিএনপি আপামর জনগণের জন্য রাজনীতি করে। সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে। তাই আপনারা উন্নয়নের জন্য ধানের শীষে ভোট দিন। দেশকে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটার ৭ নং কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুক চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
নিজ এলাকার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে অন্যদের চেয়ে যদি আমি বেশি উন্নয়ন করে থাকি, তাহলে আমাকে ধানের শীষে ভোট দেবেন। যতজন এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের চেয়ে যদি আমি বেশি চাকরি দিয়ে থাকি, তাহলে ধানের শীষে ভোট দেবেন। আমি এলাকার উন্নয়নের জন্য জীবন ও যৌবন বিলিয়ে দিয়েছি। এখনো দিতে প্রস্তুত আছি।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের জন্য একটি পরিষ্কার বক্তব্য আছে। প্রথমত, তারা চায় জীবনের নিরাপত্তা। এরপর তারা জানমাল এবং ধর্মের নিরাপত্তা চায়। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং আমি যদি এমপি হই, তাহলে বরগুনা-২ আসনে সব হিন্দুদের জীবনের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আপনারা গত ১৭ বছর আপনাদের মূল্যবান ভোট দিতে পারেননি। তারা দিনের ভোট রাতেই দিয়ে দিত। তারা মানুষের গণতন্ত্র কেড়ে নিয়ে এক দলীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। আমরা সেই স্বৈরতন্ত্র হতে মুক্ত হয়ে মুক্ত স্বাধীন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলছি। তাই আপনাদের হাতে যে একটি শক্তিশালী ভোট প্রদানের শক্তি রয়েছে তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োগ করবেন। ধানের শীষে ভোট দেবেন।
তিনি আরো বলেন, এই সংসদীয় আসনে আমার আমলে কোনো চাঁদাবাজি ছিল না এবং কোনো চাঁদাবাজের স্থান বরগুনা-২ আসনে হয়নি। এই এলাকার সব উন্নয়নে আমার অবদান রয়েছে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের ব্যবস্থা সবই করেছি। জেলেদের জন্য চালের কার্ডের ব্যবস্থা করেছি, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত গিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এবারের নির্বাচনে এই অঞ্চলের মানুষ আমার সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আমি যদি কাজ করে থাকি আপনাদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে থাকি তাহলে আমার কর্মের জন্যই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবার নিয়ম অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাবে, যার মাধ্যমে একজন নাগরিক রাষ্ট্রের সকল মৌলিক সেবাগ্রহণ করতে পারবেন। অথচ একটি দল এখন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে; কিন্তু তারা নিজেরা জান্নাতে যাবে কিনা, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। জনগণ এখন আর মিষ্টি কথায় ভুলবে না। যারা এই বাংলাদেশই চায়নি তারা দেশের মালিকানা চাচ্ছে। তারা বেফাঁস কথাবার্তা বলে মা-বোনদের বেইজ্জতি করছে। আমাদের ইসলাম ধর্মকে নিয়ে তারা ভণ্ডামি করছে। তাদের সমগ্র দেশের মানুষ বয়কট করবে আপনারা দেখবেন।’
জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনী আমেজ।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত আদর্শ থেকে বঞ্চিত হয়নি বিএনপি। তলাবিহীন ঝুড়ির দুর্নাম ঘুচিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তিতে খালেদা জিয়াও সেই পথ ধরে এগিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে, কিন্তু এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপি দিয়েছিল। এটি নথিবদ্ধ (ডকুমেন্টেড)। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই।
তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই বিএনপি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার সরকার তৎকালীন ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’কে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন সংস্থা হিসেবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ গঠন করে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে প্রথম বছর থেকেই দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ অগ্রগতি লাভ করতে শুরু করে। ফলে ২০০২ সালে প্রকাশিত টিআইবি রিপোর্টে বাংলাদেশের স্কোর ০.৪ থেকে উন্নীত হয়ে ১.২ হয়। ২০০৩ সালে ১.৩, ২০০৪ সালে ১.৪, ২০০৫ সালে ১.৫ এবং ২০০৬ সালে ২.০। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে দুর্নীতি কমতে থাকে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির ফলে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের স্কোর আবারও কমতে থাকে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার। বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করবে না।
তারেক রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের অনেক বিষয় আছে। আমাদের অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন। একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল— সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি, সেখানে আমরা বলেছিলাম যে, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ ভোটাধিকার বা ভোটের বিষয়টি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্যই তা হতে হবে নিরপেক্ষ ভোট— যে ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকবে।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি— বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।
প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্যের শেষে আবারও দুর্নীতি ও সুশাসন নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমার দলের পক্ষ হয়ে আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে চাই যে—আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইনশাআল্লাহ সরকার গঠনে সক্ষম হলে, আমাদের সর্বাধিক আর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে এই তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করা— দুর্নীতি, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা। যে কোনো মূল্যে আমরা এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।
ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নোংরা ও নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররাই ব্যালটের মাধ্যমে সকল অনাচার ও মিথ্যাচারের মোক্ষম জবাব দেবেন।
রাজধানীর পশ্চিম শান্তিবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি এসব কথা বলেন। নিজ এলাকার মানুষের প্রতি গভীর আস্থা ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জনগণ অনেক সচেতন। তারা ভালোভাবেই বুঝে কাকে দিয়ে এলাকার কাজে লাগবে। আমি জয়লাভ করলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে আছি, আর না করলেও আমি তাদের সঙ্গে আছি। আমি এলাকার সন্তান। আমার বাবা-মাসহ পরিবার কবর এলাকাতেই।’
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘রাজনীতি করতে গিয়ে ফেরারি জীবন কাটিয়েছি। শত বিপদেও এলাকার মানুষের পাশে থেকেছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আমার দ্বারা কারও অনিষ্ট হয়নি, বরং আমার কাছে এসে ফিরে গেছে এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
নির্বাচনী পরিবেশকে সুস্থ ও উৎসবমুখর রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি কারও সম্পর্কে সমালোচনা করি না। চরিত্রহনন রাজনৈতিক কালচারের মধ্যে পড়ে না। তাই বলছি অপরের বিরুদ্ধে নোংরামি না করে এলাকাবাসীর জন্য অতীতে কি করেছেন এবং আগামীতে কি করবেন তা বলে জনগণের কাছে ভোট চান। নির্বাচনকে কুলসিত না করে উৎসবমুখর করে তোলেন।’
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর সদর–৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বিরামহীনভাবে জোরদার নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী উঠান-বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড পূর্ব বিল মাহমুদপুর জুলহাস মাতুব্বরের ডাংগি গ্রামে উঠান-বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষের বিকল্প নেই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন অনিবার্য। ফরিদপুর সদর–৩ আসনের সার্বিক উন্নয়নে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি।
এলাকার সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উঠান-বৈঠকে আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার মৃধা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আমদান হোসেন অনু, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দা সুমাইয়া, আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আদিল উদ্দিন মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, যুবদল নেতা আলী আহসান তুষার, ভিপি বাবু, আকরাম মৃধা, ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-ঘিওর- শিবালয়) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এস.এ জিন্নাহ কবির বলেছেন, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী প্রতারণা করে মিথ্যা কথা বলে ভোট দেওয়ার পায়তারা করছে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। স্বাধীনতাবিরোধী মিথ্যাবাদী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে চরাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়ন করব। যমুনা নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করব, রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করব। যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র, পাকা রাস্তা, বিমানবন্দর, মিল কলকারখানা গড়ে তোলা হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড আলোকদিয়ার বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে যমুনা নদীর চরে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জিন্নাহ কবির কথাগুলো বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্ত ও ৩ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এ দেশীয় রাজাকার জামায়াতে ইসলামী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে।
স্বাধীনতাবিরোধী মিথ্যাবাদী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশবিরোধী অপশক্তি জামায়াতে ইসলামী ষড়যন্ত্র করছে। দেশবিরোধীদের সাথে জাতীয়তাবাদী দলের কিছু বিশ্বাসঘাতক যোগ দিয়েছে। বিএনপির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারী জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হলে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করব। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির, সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের ভোট চাইতে হবে। আমরা সবাই ধানের শীষের কর্মী সকল বেদাভেদ ভুলে তারেক রহমানের ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
তেওতা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. করিম শেখ এর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন সরকার, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাক হোসেন দিপু, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মাকসুদুল হক মুকুল, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, জেলা আরাফাত রহমান কোকো প্রজন্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, শিবালয় উপজেলা বিএনপির রহমত আলী লাভলু বেপারী, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মিজানুর রহমান লিটন, জেলা কৃষকদলের সাবেক জামিলুর রহমান মনি, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, উলাইল চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, তেওতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন আনন্দ, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সাবেক ভাই চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবু, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ইউপি সদস্য মো. মিন্টু মোল্লা, জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রাজা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম মাহিদ, জেলা শ্রমিক দল নেতা মোহাম্মদ আলীয়ার হোসেন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদল সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী, জেলা যুবদলের সদস্য মোসলেম উদ্দিন, মানিকগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, মানিকগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সভাপতি সিনবাদ খান প্রমুখ।
কক্সবাজারের অফুরন্ত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এই পর্যটন নগরীকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিশেষ করে জেলার সমুদ্রসম্পদ নির্ভর অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমিকে শক্তিশালী করতে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। কক্সবাজার-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সবচাইতে ধন সম্পদে পরিপূর্ণ একটা জেলা। এ জেলায় রাব্বুল আলামিন আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর যেখানে নির্মিত হচ্ছে, এই সমুদ্রবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক দ্বার হিসেবে পরিণত করা হবে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। এছাড়াও আমার ভাই কাজল ব্লু-ইকোনমির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন। ইনশআল্লাহ সেই বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার ভূমিহীন মানুষের অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি, খাস, পিএফ জায়গায় যারা ঘূর্ণিঝড়সহ নানা কারণে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, আমরা ক্ষমতায় এলে তাদের উচ্ছেদ করা হবে না। দলিল থেকে শুরু করে সবার সাথে আলোচনা করে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় আমরা তা করব। লবণ চাষিরা সবসময় অবহেলিত, কিন্তু বিএনপি তাদের পাশে থাকে। নায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ এই শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
সমাবেশে উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের পক্ষে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় কক্সবাজারের পরীক্ষিত এই নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামীর সরকার হবে বিএনপির সরকার। সভার প্রধান বক্তা লুৎফুর রহমান কাজল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘অপার সম্ভাবনাময় কক্সবাজারে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে, ১২ তারিখ এই সমুদ্র জনপদ ধানের শীষের জয়ে ধন্য হয়ে উঠবে। আপনারা পাশে থাকুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে নিয়ে সমৃদ্ধ কক্সবাজার গড়ব।’ সদর, রামু ও ঈদগাঁও এলাকা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য যে, নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে এসে সালাহউদ্দিন আহমদ দ্বিতীয়বারের মতো ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিলেন। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি উখিয়ায় কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী-রাজিবপুর-চিলমারী) বিএনপি মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ মো. আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার যাদুরচর নতুনগ্রামের নিজ বাড়িতে মতবিনিময় সভা করেন। কুড়িগ্রাম -৪ বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে ভোটারদের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে মত প্রকাশ করেন। এমপি নির্বাচিত হলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নদীভাঙন, বেকার সমস্যা সমাধান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ মোকাবেলায় সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলার বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, ড. মোহাম্মদ আলী, যুবদল সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী-রাজিবপুর উপজেলার সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, বিভিন্ন দল ক্ষমতায় গিয়ে সোনার বাংলা, সবুজ বাংলা কিংবা ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দেয়। আমি অত প্রতিশ্রুতি দেব না। আল্লাহ যদি কামিয়াব করেন, আমি ১৮ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো। দুর্নীতি যখন থাকবে না, তখন সকল মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে আমতলী পৌরসভার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, হিন্দু ভাইদের বলবো, চরমোনাইয়ে হিন্দুরা কতটা নিরাপদ, খোঁজ নিয়ে দেখেন। মায়ের কোল যেমন নিরাপদ, তারাও তেমনি চরমোনাইতে নিরাপদ। ইনশাআল্লাহ আপনারাও নিরাপদে থাকবেন।
চরমোনাই পীর অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি দল সারাদেশে টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। অথচ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা সংখ্যালঘুদের জান-মালের হেফাজত এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করেছে।
অন্য দলের প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ভদ্র ও সভ্য। আমাদের টালবেন না, বিরক্ত করবেন না। করলে এমনভাবে গর্জন শুরু হবে, যা আর প্রতিহত করতে পারবেন না।
তিনি বরগুনা-১ আসনকে একটি মডেল আসনে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্য কোনো আসনে জয় না হলেও ইনশাআল্লাহ বরগুনা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জয়লাভ করবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আসমত আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বরগুনা-২ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক কেএম শরিয়ত উল্লাহ, মুফতি হাবিবুর রহমান, আমতলী উপজেলা সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী ও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. বায়েজিদসহ অন্যান্য নেতারা।
গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এর পক্ষে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জ খেয়াঘাট বালির মাঠে নির্বাচনী জনসভা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শাহ রিয়াজুল হান্নান।
তিনি বলেন, বিজয়ী হলে সবার জন্য বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। সেইসাথে চাঁদাবাজিমুক্ত ঐক্যবদ্ধ কাপাসিয়া গড়ে তোলা হবে। তিনি সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও আধুনিক কাপাসিয়া গড়তে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরিহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলেন, বিগত দিনে আমার পিতাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি- মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি সোলায়মান মোল্লা। সাধারণ সম্পাদক মাসুম সরকার প্রাণবন্ত পরিচালনায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি আবুল হাশেম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার রাহাত রহমান টুকু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবু মোঃ আব্দুল্লাহ আল কাকন, মোঃ কবির আহমেদ সরকার, মোঃ মাসুদ মোল্লা, সাহাদাত উল্যাহ মুন্না, শহীদুল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন শেখ, আব্দুল করিম বেপারী, রুহুল আমিন মোল্লা, খালেদ হোসেন খান, আবুল হোসেন মোড়ল, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, গোলাম, মোস্তফা ভুইয়া, দুর্গাপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি নার্গিস সুলতানা, মিজানুর রহমান, সাহাদাত হোসেন, শিবলু আলম সোহেল প্রমুখ।
এসময় আরো ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন শেখ, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, অ্যাডভোকেট মোঃ মীর সেলিম, চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান মোড়ল, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আনোয়ার হোসেন সোহেল প্রমুখ।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়া ২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করে না। নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে নাজেহাল ও হয়রানী না করতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। ভেড়ামারার বাহাদুরপুর রায়টা নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নির্বাচনি পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।
বুলবুল আহমেদ বুলুর সভাপতিত্বে ও শিহাবুল ইসলামের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাগিব রউফ চৌধুরী।
স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশ্য রাগিব চৌধুরী বলেন, এ আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছে। আপনারা যোগ্য দেখে পক্ষ নেবেন। তিনি বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি জনসম্মুখে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আসলাম উদ্দিন, জানবার হোসেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি বুলবুল আবু সাঈদ শামীম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইন্দোনেশিয়া সিটু, বাহাদুরপুর ইউপি বিএনপির সভাপতি বকুল হোসেন, সম্পাদক আসলাম উদ্দিন, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান জামাল প্রমুখ ছিলেন।
দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সমাজে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাজনীতি করবেন না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী, পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লা হাইস্কুল মাঠে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
কায়কোবাদ বলেন, যারা দুর্নীতিবাজ, যারা চাঁদাবাজ, যারা সমাজে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত তাদের দলে কোনো স্থান হবে না। তাদের সঙ্গে আমি রাজনীতি করবো না এবং তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কও থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এক সময় কেউ ভাবেনি এই জালিম সরকার এভাবে বিতাড়িত হবে। আমিও কখনো ভাবিনি সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে এসে নির্বাচন করার সুযোগ পাব। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের দোয়ার বরকতেই আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে আল্লাহ আমাকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আল্লাহর দয়ায় এবং আপনাদের সমর্থনে আবার এমপি হলে মুরাদনগর আর নেতাদের কথায় চলবে না। মুরাদনগর চলবে জনগণের কথায়। জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেই সব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, সৎ, নিষ্ঠাবান, দেশপ্রেমিক ও ভালো মানুষদের নিয়েই আমি রাজনীতি করবো এবং তাদেরই নেতৃত্বে নিয়ে আসবো। অসৎ ও চাঁদাবাজদের দলে কোনো জায়গা হবে না।
কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপনের সভাপতিত্বে জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও তোফাজ্জল হোসেন লিটনের যৌথ সঞ্চালনায় পথসভায় উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন, দেখবেন শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের উন্নয়ন কীভাবে করা হয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে চা-শ্রমিকদের কল্যাণ এবং কৃষকদের উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পুরানবাজারে আয়োজিত বিএনপির এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) এবং শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, চাশ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড বিতরণ, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার মাধ্যমে কৃষিখাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার–৪ আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, লন্ডন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খছরুজ্জামান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন এবং সদস্য মিজানুর রহমান। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শের আলী হেলালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করে বলেছেন, নিক্সন চৌধুরীর কালো টাকা ব্যবহার হচ্ছে ফরিদপুর ৪ আসনের নির্বাচনে। এছাড়া আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা, সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী নির্বাচনে নাশকতার চেষ্টা করছেন। তার দুই এপিএস এলাকায় গিয়ে মানুষকে টাকা পয়সা দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাধ্যমে। বিদেশে বসে নিক্সন চৌধুরী এই এলাকার মানুষকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।
তিনি বলেন বাড়ি বাড়ি মহিলা পাঠিয়ে বিভিন্নভাবে টাকা দিচ্ছেন সেই ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। এরা বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে এই গোষ্ঠী। প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই মহড়া দিচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কিছু হলে এর দায় তাঁর দল নিবেনা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সদরপুরের কাঠপট্টিস্থ তার বাড়িতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, এ আসনে নিক্সন চৌধুরী একাধিকবার এমপি ছিলেন। তার অনেক লোকও রয়েছেন। তাদের নিয়ে নির্বাচন বানচাল করার জন্য তিনি একাধিকবার জুম মিটিং, গ্রুপ মিটিং করেছেন। তাঁর কাছে প্রচুর কালো টাকা। এই কালো টাকা ব্যবহার করে নির্বাচন ম্যানিপুলেট করছেন। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ এবং তার সমর্থকরা প্রকাশ্যে নিক্সন চৌধুরীর সহযোগী নজরুল সহ কয়েকজনের সহযোগিতায় লুটের কালো টাকা দিয়ে রাতের অন্ধকারে গাড়ি বহর নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। নিক্সন চৌধুরী যেই টাকা ছড়াচ্ছে এবং তাঁর লোকগুলো যেই তৎপরতা চালাচ্ছে তাতে পরিবেশ নষ্ট করছে।
এসময় সদরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান, চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদল আমীন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম খন্দকার, জেলা কৃষকদের সেক্রেটারি মুরাদ হোসেন, মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মামুন অর রশীদ মামুন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।