বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

বিএনপি নেতারা ক্লান্ত, কর্মীরা হতাশ: ওবায়দুল কাদের

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ মার্চ, ২০২৪ ১৬:১৬

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির নেতারা ক্লান্ত, কর্মীরা হতাশ। এ অবস্থায় গালিগালাজ করা ছাড়া তাদের করার কিছু নেই। দলটি এখন ইফতার পার্টির নামে সরকারের অন্ধ সমালোচনা করছে।’

আজ দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শ্রমিক লীগ এবং কৃষক লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ইফতার পার্টি করে, এটাকে ইফতার পার্টি বলবো নাকি গীবত পার্টি বলবো। আওয়ামী লীগের গীবত করার জন্যই ইফতার পার্টি। স্রষ্টার প্রশংসার জন্য নয়, ইফতার পার্টির নামে ঢালাওভাবে সরকারের সমালোচনা করে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে বিএনপি মিথ্যা বললে, জবাব তো দিতেই হবে। তারা মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করুক। তাহলে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা গায়ে পড়ে কিছু বলতে যাব না।’

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপিকে ভাঙ্গার অভিযোগ নিয়ে এক বিএনপি নেতার বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে আমরা কেন ভাঙতে যাব? আমাদের কি কোনো দুর্বলতা আছে, যে বিএনপি থেকে লোক এনে সে ঘাটতি পূরণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী আছে। গত নির্বাচনে দেখেছেন প্রার্থিতা ফরম নিতে কত ভিড়। আওয়ামী লীগে কোনো দুর্ভিক্ষ নেই।’

গত জাতীয় নির্বাচনে কিংস পার্টির সৃষ্টি নিয়ে সরকারের ভূমিকা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি দল কিংস পার্টি করতে যাবে কেন? নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের এখানে অনেক ফুল ফোটে। কোনটা কিংস পার্টি, কোনটা প্রজা পার্টি এ সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আমরা প্রত্যেককে রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখি। নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন দেয়।’

আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নির্বাচনের আগে কিংস পার্টি খ্যাত বিএনএমতে যোগদানের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখেছি। এ সম্পর্কে আমার কিছু জানা ছিল না। এখন সাকিব আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করেছে, জয়লাভও করেছে। নমিনেশন পার্টির কাছে চাওয়ার সময় সে দলের প্রাথমিক সদস্য হয়েছেন। তার আগে তো সাকিব আমাদের দলের কেউ ছিল না।’

প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া নিয়ে বিএনপির এক নেতার বক্তব্যর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা বন্ধু রাষ্ট্র বলতে ভারতকে বুঝিয়েছে। গণতন্ত্র তো আমাদের ঠিকই আছে। নির্বাচনও হয়েছে। বিএনপির বন্ধুপ্রতিম দেশের কাছে সাহায্য চাওয়ার অর্থ তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেওয়া। নির্বাচন ছাড়া তাদের কেউ ক্ষমতায় বসাবে। এটা তো হতে পারে না। ক্ষমতায় বসাবে দেশের জনগণ। জনগণের সমর্থন ছাড়া সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মানদন্ড নিয়ে মার্কিন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের প্রতিবেদন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের গণতন্ত্রের বিষয়ে আমাদের একটা মানদন্ড আছে। পৃথিবীর কেউ পারফেক্ট নয়। আমরাও সেই দাবি করি না। আমেরিকার এক সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আমি নির্বাচিত না হলে রক্ত বন্যা বয়ে যাবে। এটা কোন গণতন্ত্র? নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সাবেক প্রেসিডেন্ট আজ পর্যন্ত মেনে নেয়নি। কাজেই মানদন্ড বোঝা মুশকিল।’

সড়ক পরিবহমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে ২১ বছর সামরিক শাসক এবং তার অনুসারীরা ক্ষমতায় ছিল। দেশে গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না। গণতন্ত্রের নামে যারা ক্ষমতায় বসেছে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি মার্কা প্রহসনের নির্বাচন করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হ্যাঁ-না ভোট আরেকটা প্রহসন। যারা ওয়ান ইলেভেনের সময় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার করেছে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য। সেখান থেকে অস্বাভাবিক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থেকেছে। কাজে আমাদের মানদন্ড ভিন্নতর।’

২৯টি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, সরকারের বেধে দেওয়া কিছু পণ্যের দাম এরই মধ্যে কমেছে। অন্যান্য পণ্যের দামও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। অপেক্ষা করুন। চেষ্টা করলে ফল পাওয়া যাবে।’

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী ও আনিসুল ইসলাম প্রমুখ।


মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে রাজনৈতিক সফর শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী সোমবার (১১ জানুয়ারি) তিনি তার জন্মভূমি বগুড়া সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং এই যাত্রার শুরুতেই তিনি টাঙ্গাইলে যাত্রাবিরতি করবেন। সেখানে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিলে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হবেন তারেক রহমান এবং দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ তিনি টাঙ্গাইলে পৌঁছাবেন। মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতের সময় তার সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের এই জেলা সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশ থেকেই তাকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা।

এই সফরকে ঘিরে টাঙ্গাইলে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি উল্লেখ করেন যে, টাঙ্গাইলবাসী তাদের নেতাকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তারেক রহমানের এই সফর ও দোয়া মাহফিল সফল করতে স্থানীয় বিএনপি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। টাঙ্গাইলে কর্মসূচি শেষ করে তিনি পরবর্তী গন্তব্য বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


উত্তরবঙ্গের ৯ জেলায় যাচ্ছেন তারেক রহমান, নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

আপডেটেড ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলায় চার দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সফর শুরু করতে যাচ্ছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে ইতিমধ্যে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বিএনপি। বুধবার দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়েছে। মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের কবর জিয়ারত করা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত বিভিন্ন দোয়া মাহফিলেও তিনি শরিক হবেন।

সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ১২ জানুয়ারি তিনি বগুড়া থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিনই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ আবু সাঈদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সফরের তৃতীয় দিন ১৩ জানুয়ারি তারেক রহমান পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করবেন এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলবেন। সফরের শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি রংপুর ও বগুড়ায় আরও কয়েকটি দাপ্তরিক ও জনহিতকর কাজ শেষে তিনি পুনরায় রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসবেন।

তারেক রহমান তাঁর এই পুরো সফরে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের মাজার ও নিহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সাথে সরাসরি দেখা করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই সফরে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না। তারেক রহমান নিজে সকল নিয়মকানুন মেনে চলবেন এবং নেতাকর্মীদেরও শৃঙ্খলার সাথে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরাঞ্চলের এই ৯ জেলা সফর বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনেও বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ জনমনে দলটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। বর্তমানে সফরের জেলাগুলোতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।


জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বিপাকে জামায়াত ও এনসিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনি সমঝোতা ও আসন বণ্টন প্রক্রিয়া বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে জোটের শরিক দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোন দলের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারবেন—তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আসন বণ্টন সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন জোটের নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান এই সংকট নিরসনে আজ বুধবার ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। যদিও নেতারা দাবি করছেন যে এই জটিলতা জোটের ঐক্য বা সমঝোতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, তবে মাঠ পর্যায়ের পরিসংখ্যানে জোটের পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে।

জোটের সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শরিক দলগুলোকে মোট ৬৫টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছিল, যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একাই ৩০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি এবং এলডিপি ও খেলাফত মজলিসের অন্য অংশকে ৬টি করে আসন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সাথেও ১৮৩টি আসনে সমঝোতা হয়েছিল, যেখানে প্রাথমিকভাবে তাদের ৩১টি আসন ছাড়তে রাজি ছিল জামায়াত। কিন্তু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর দেখা গেছে, জামায়াতের ৯ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৩৯ জন, এনসিপির ৩ জন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর ফলে অনেক আসনে জোটের একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

তৃণমূল পর্যায়ের আসনগুলোতেও এই জটিলতা তীব্র হয়ে উঠেছে। যেমন, কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২ এবং ঢাকা-২-এর মতো আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা জোটের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও তাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আবার মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নূর হোসাইন নূরানীর সমর্থনে জামায়াত কোনো প্রার্থী দেয়নি, কিন্তু নূরানীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এখন সেই আসনে জোটের অন্য শরিক ইসলামী আন্দোলন বা খেলাফত মজলিস (অন্য অংশ) প্রার্থিতা দাবি করছে। এমন পরিস্থিতিতে শরিক দলগুলো একে অপরের ভাগের আসন বা জামায়াতের নিজের জন্য রাখা আসনগুলো দাবি করতে শুরু করেছে, যা জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে মেরুকরণ ও দরকষাকষির ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, যার নিজের প্রার্থিতাও কক্সবাজার-২ আসন থেকে বাতিল হয়েছে, তিনি এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে এবং প্রার্থিতা ফিরে পেলে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা সহজ হবে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমেদ শেখ স্বীকার করেছেন যে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে প্রার্থীরা মাঠ ছাড়ছেন না। আপাতত সকলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে জোটের কোন কোন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকবেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত নির্বাচনি রূপরেখা।


হাসিনার সরকার ছিল ভারতের সেবাদাস : সালাহউদ্দিন আহমদ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দিল্লিতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা ও তার সরকার ভারতের সেবাদাস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা এখন আশ্রয় লাভ করেছে তার নিজের স্থান দিল্লিতে। এরা ভারতীয় দল, এরা ভারতীয় সেবাদাস সরকার ছিল। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাদা কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপি আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে সালাহউদ্দিন এ কথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার বাবা বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে এবং এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছে। তারা দুজনেই একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও এক ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দীর্ঘ পনেরো-ষোল বছর এ দেশে এক নায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন। ফলাফল—ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তি শেখ হাসিনার পতন হয়েছে।

শেখ হাসিনার সরকার কখনো বাংলাদেশকে স্বাধীন সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা প্রকৃতপক্ষে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে এবং রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। এরা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত দিয়েছে, আলেম সমাজের ওপর নির্যাতন করেছে এবং আলেমদের হত্যা করেছে। এরা মূলত ইসলামবিদ্বেষী সরকার ছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ রাতের অন্ধকারে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছিল এবং নিরীহ মাদরাসাছাত্রদের হত্যা করেছিল। এভাবেই আওয়ামী লীগ এ দেশের গণমানুষের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল, ফলস্বরূপ আওয়ামী লীগ এ দেশ থেকে চিরতরে উৎখাত হয়েছে। সুতরাং আগামীতে কী রকম বাংলাদেশ হবে, জনগণ সেটা ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছে—একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা।

পহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজীর সভাপতিত্বে এতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার, উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন।


আসন ভাগাভাগি নিয়ে এগারো দলীয় জোটে টানাপড়েন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় বৃহত্তর জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি। বিশেষ করে প্রধান দুই শরিক জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া দূরত্ব ঘুচাতে এখন শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে। জোটের পরিধি বেড়ে ১১ দলে উন্নীত হওয়ায় এবং এনসিপি ও এবি পার্টির মতো নতুন দলগুলো যুক্ত হওয়ায় পুরনো হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে।

প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনের দাবি তুললেও জামায়াত তাদের জন্য ৩৫-৪০টি আসন বরাদ্দের ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জামায়াত প্রায় ৩০টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি জানানোয় ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলটির নেতাদের ধারণা, জামায়াত নতুন শরিক এনসিপিকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম দাবি করেছেন, তাদের দল ১৪৩টি আসনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ইসলামী আন্দোলন কেন জামায়াতের কাছে আসন চাইবে? বরং তারাই অন্যদের আসন ছেড়ে দেওয়ার অবস্থানে আছে।

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম জানিয়েছেন, সমঝোতা পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ইসলাম ও দেশের স্বার্থ ব্যাহত হলে তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।

জামায়াতের মতে, ইসলামী আন্দোলনের ৭০-৭৫টি আসনের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। এর পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষের উস্কানি বা ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার কথা বলছেন তারা।

জোটগত আলোচনার মধ্যেই জামায়াতে ইসলামী ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪, এনসিপি ৪৪, এবি পার্টি ৫৩টি এবং এলডিপি ২৪টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছেন, আসন বণ্টন নিয়ে সংকট পুরোপুরি কাটেনি এবং বিতর্কিত আসনগুলোতে এখনো কোনো যৌথ জরিপ করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশাবাদী যে, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি নমনীয় সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগেই জোটকে ৩০০ আসনের চূড়ান্ত তালিকা ঠিক করতে হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, প্রত্যাহারের সময়সীমার আগেই তারা সমঝোতা চূড়ান্ত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

জোটের পরিধি ৮ থেকে ১১ দলে উন্নীত হওয়ায় আসন ভাগাভাগি এখন গাণিতিক জটিলতায় রূপ নিয়েছে। এনসিপিকে দেওয়া জামায়াতের বিশেষ গুরুত্ব এবং ইসলামী আন্দোলনের ‘বড় শরিক’ হিসেবে অনড় অবস্থান—এই দুইয়ের মাঝে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করাই এখন জোটের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে কখনো নির্বাচনে সফলতা লাভ করেনি বলে তাদের পরিধি বাড়িয়েছে। যাতে নির্বাচন বা ভোটের মাঠে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়।

বাংলাদেশে আগামী বারোই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

সারাদেশে ৩০০ আসনে তিন হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

নিজেদের দাবি অনুযায়ী কমপক্ষে দেড়শ আসন না পাওয়ায় চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বেশ কিছু খবর প্রকাশিত হয়।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জোটের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৫টি আসনে নির্বাচন করতে নাখোশ দলটির নেতা-কর্মীরা। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটি।

তবে, আসন সমঝোতা নিয়ে শুধু এই দলেই অসন্তোষ তা নয়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশসহ আরো কয়েকটি দলেও এমন ক্ষোভ রয়েছে।

এই দল ৫০ আসন চাইলেও পরে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ১৩ আসন নিশ্চিত করেছে জোটের নেতৃত্ব দেওয়া জামায়াতে ইসলামী।

আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করলেও কতটি আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেই সংখ্যা গণমাধ্যমে এখনই জানাতে চাননি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদ। চূড়ান্ত হওয়ার পরে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের কথা স্বীকার করেন।

অন্যদিকে, নতুন করে জোটে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি অর্ধ শতাধিক আসন চাইলেও এখন পর্যন্ত ৩০ আসনে সমঝোতা হয়েছিল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৬টি আসনের মনোনয়ন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তরুণদের নিয়ে গঠিত নতুন এই দলটিকে।

আবার জোটের প্রার্থীদের আসন বন্টন করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নিজ দলের প্রার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের দুর্বল বিবেচনা করে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে নিজেদের সাথে বা পাশে পেতে এই জোট করেছে। কেননা এবারের নির্বাচনে দলটির সবচেয়ে বড় ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের আস্থাহীনতা থাকতেই পারে, সেজন্যই জোট। যাদের সাথে জোট করেছে তাদেরও একক শক্তিতে কিছু করার নাই। তাদের দরকার ছিল নিজেদের চেয়ে জামায়াতের মতো অপেক্ষাকৃত বড় দল। পরস্পরই পরস্পরকে ব্যবহার করছে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী। সুতরাং এখানে একটা স্বার্থের সংঘাত হলেই জোট ভেঙে যাবে।

তিনি মনে করেন, আদর্শগত কোনো জায়গা না থাকার কারণে এ ধরনের জোট বেশি দিন টেকে না।


তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ইইউ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান যে, আলোচনায় প্রধানত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং এতে ইইউ-এর পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার বাংলাদেশে একটি বড় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বর্তমান নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তাদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে বিএনপি।

সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দ্রুততম সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিটি মূলত বিএনপিরই ছিল এবং দল চায় জনগণ যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতির কথা ইইউ প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও নিবিড়ভাবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত করবে বলে দলীয় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়। তারেক রহমান ইইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপি সব সময় শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী এবং অতীতেও খালেদা জিয়ার শাসনামলে শ্রম আইন সংশোধনসহ নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এবং এর ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এর আগে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের বনানী থানার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যেখানে তিনি নিজেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতা-কর্মী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ জন নেতা-কর্মী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেরপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক ও মুখপাত্র ফারহান ফুয়াদ তুহিনের নেতৃত্বে তারা বিএনপিতে যোগদান করেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল সারে ৪টায় শেরপুর জেলা বিনপির প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যোগদান অনুষ্ঠিত হয়।

যোগদানকৃত নেতা-কর্মীরা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র সংগঠক আরাফাত রহমান তালুকদার, নাহিম আহম্মেদ নিলয়, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব মনিবুল ইসলাম, সমন্বয়ক আশিকুর রহমান আশিকসহ ৩ শতাধিক নেতা-কর্মী।

এ সময় শেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এবং শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ হযরত আলী যোগদানকৃত নেতা-কর্মীদের ফুল দিয়ে নিজেদের দলে বরণ করে নেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, শেরপুর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাশেম সিদ্দিকী বাবু, সাধারণ সম্পাদক নাইম হাসান উজ্জ্বল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমরা তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তরুণরা দেখছে তা বিএনপির পক্ষেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’

জেলার প্রধান সমন্বয়ক ও মুখপাত্র ফারহান ফুয়াদ তুহিন বলেন, ‘আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি তা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বাস্তবায়ন করতে পারবেন। কারণ তারেক রহমান তরুণদের নিয়ে ভাবছেন। এ জন্য আমরা বিএনপি তথা ছাত্রদলে যোগদান করছি।’ তিনি আগামী নির্বাচনে সকল তরুণদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।


গরিব-খেটে খাওয়া মানুষরাই বেশি হয়রানির শিকার হয় : রুহুল কবীর রিজভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘দেশে গরিব, খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষরাই সবচেয়ে বেশি হয়রানি এবং নির্যাতনের শিকার হয়। সেই নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের পেশাকে মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মোটরযান চালক দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনটির সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা উদ্বোধনও করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, শুধু মিছিল-মিটিং করার উদ্দেশে ‘জাতীয়তাবাদী’ নাম ব্যবহার করে সংগঠন গড়ে তোলার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমাজে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাতে হবে। শুধু মিছিল-মিটিংয়ের জন্য সংগঠন তৈরি করলেই হবে না। মোটরযান চালকসহ এই পেশার মানুষরা যেন সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে, পুলিশি হয়রানির শিকার না হয়, সেসব বিষয়কে সামনে রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি আমেরিকায় দেখেছি, বাংলাদেশের অনেক বিএ পাস, এমএ পাস, এমনকি ইঞ্জিনিয়ার-ডাক্তাররাও সেখানে উবার বা ট্যাক্সি চালান। তারা ওই পেশায় যুক্ত থেকেও উন্নতমানের জীবন যাপন করেন, বাড়ি কেনেন। সেখানে কোন শ্রেণিভেদ নেই। সেখানে একজন ট্যাক্সিচালক ও একজন পেশাজীবীর সামাজিক মূল্য সমান। আমাদের দেশেও এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ছোট কাজ-বড় কাজের বিভাজন থাকবে না। এই লক্ষ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ৩১ দফা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন এবং অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী শফু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল, আয়োজক সংগঠনের সংগঠক সঞ্জয় দে রিপন, প্রধান সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান তুষার, সদস্যসচিব এ কে এম ভিপি মুসা প্রমুখ।


আমাকে ভোট দিলে তারেক রহমানকে বিজয়ী করা হবে: রাশেদ খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও গণ অধিকার পরিষদের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের নির্বাচনী লক্ষ্য ও দলের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরতলীর মুরারিদহ এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত এই সভায় তিনি দাবি করেন যে, তাকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো প্রকৃতপক্ষে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনা এবং তারেক রহমানকে বিজয়ী করা। তার মতে, এবারের নির্বাচনে দল কাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পড়ছে কি না। তিনি এবারের নির্বাচনকে বিশেষায়িত করে বলেন যে, এবারের নির্বাচনে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ থাকার বিষয়টি একে অন্য সব নির্বাচন থেকে আলাদা করেছে।

রাশেদ খান স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রভাবের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন যে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট শেষ পর্যন্ত বড় কোনো কাজে আসবে না। বিএনপির ভোটার, সমর্থক ও নেতারা অনেক সচেতন এবং তারা বিশ্বাস করেন যে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। সরকার গঠনের জন্য প্রতিটি আসনে জয়লাভ করা যেমন জরুরি, তেমনি উচ্চকক্ষে বেশি আসন পেতে হলেও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদান করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা সম্পর্কে তিনি জানান যে, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গ্রহণ করবেন কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শুধু ঝিনাইদহ-৪ নয় বরং অন্যান্য আসনেও বিদ্যমান সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাশেদ খান সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান যে, কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কারও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হোক তা তিনি চান না, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। বিএনপির নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ এবং বঞ্চনার কথা স্মরণ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ দলের হাই কমান্ডের নির্দেশনার বাইরে যাবেন না। তৃণমূলের সংহতি বজায় রেখে নির্বাচনের মূল লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়াই তার প্রধান উদ্দেশ্য বলে তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।


২৫ ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ টাকার সহায়তা পেলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনের আলোচিত প্রার্থী এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তার নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করার মাত্র ২৫ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি প্রায় ২২ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে ব্যারিস্টার ফুয়াদ এই অভাবনীয় প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে আসা এই অর্থ তার নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।

আর্থিক প্রাপ্তির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তিনি জানান যে, তার দুটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে মোট ১১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৯ টাকা এবং একটি নগদ অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯ টাকা জমা হয়েছে। এর পাশাপাশি তার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৭ টাকা। এমনকি অফলাইনে তার কার্যালয়ে এসে একজন সাংবাদিকও ২ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। সবমিলিয়ে গত ২৫ ঘণ্টায় শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে তার নির্বাচনী তহবিলে জমা হয়েছে মোট ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫ টাকা। ব্যারিস্টার ফুয়াদ এই সহযোগিতার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংগৃহীত প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব ও ব্যয়ের খাত নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে এই আর্থিক সহায়তার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় তিনি সমর্থকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। লাইভে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার মূল ভিডিওটি কপি করে অনেক ফেক পেজ থেকে প্রচার করা হচ্ছে এবং সেখানে বিকাশ ও নগদ নম্বর পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। যারা সহযোগিতা করতে চান, তারা যেন অবশ্যই তার নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও আইডিতে দেওয়া নম্বরেই টাকা পাঠান। তিনি সবাইকে ইনসাফ ও আজাদির সংগ্রামে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণই তার মূল লক্ষ্য।

এর আগে বরিশাল-৩ আসনের নদীঘেরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয়ভার বহনে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে বিনীত অনুরোধ করেছিলেন এই প্রার্থী। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ব্যক্তিগতভাবে পুরো নির্বাচনী খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি জনগণের কাছে এই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এবি পার্টির পক্ষ থেকে ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাকে নির্বাচনী লড়াইয়ে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তিনি মনে করেন।


ঢাকা-১৭ আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের সাংগঠনিক তৎপরতা ও নির্বাচনি কৌশল নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সভাটি শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। ঢাকা-১৭ আসনের আওতাধীন চারটি থানার মধ্যে আজ মূলত বনানী থানার নেতাকর্মীদের সাথে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের সাথে সরাসরি এই সংলাপ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

বৈঠক শেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির সাংবাদিকদের জানান যে, এটি মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের ধারাবাহিক কর্মসূচিরই একটি অংশ। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিটি পাড়া-মহল্লার সাধারণ ভোটারদের প্রকৃত সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা এবং জনদাবিগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং সেসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দলের পক্ষ থেকে বলিষ্ঠ অঙ্গীকার প্রদান করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সঠিক আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারলে একটি জনমুখী নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি করা সম্ভব হবে, যা ভোটারদের আস্থা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

সভায় তারেক রহমান স্থানীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় নামার আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বনানী এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১৭ আসনের বাকি থানাগুলোর নেতাকর্মীদের সাথেও পর্যায়ক্রমে এমন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে শীর্ষ নেতৃত্বের এই সরাসরি অংশগ্রহণ নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপি এখন প্রতিটি আসনে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।


দেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার চক্রান্ত রয়েছে : মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশকে আবারও পেছনের টেনে নিয়ে যাওয়ার অনেক চক্রান্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আপনারা যারা আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, সবাই মিলে আসুন আমরা আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ- ১৯৭১ সালে যার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম, ১৯৯০ সালে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, ২০২৪ সালে যার জন্য আমার ছেলেরা রক্ত দিয়েছে, আসুন আমরা সেই বাংলাদেশকে আবার সবাই মিলে গড়ে তুলি। তাহলে আমাদের নেত্রীর প্রতি সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার ওপর ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতন, মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাবাসসহ নানা ঘটনা তুলে ধরে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবি আল মাহমুদের কবিতার লাইন ..তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলার আকাশ.. আবৃতি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার চলে যাওয়া নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে, ঐক্যের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। চক্রান্ত রয়েছে, তবে সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই একটি জাতিকে তিনি (খালেদা জিয়া) জাগিয়ে তুলেছিলেন, একটি জাতিকে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি, তার এই চলে যাওয়া আমাদেরকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে, আমাদের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করবে এবং আমরা সবাই ঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব।

গণতন্ত্রের প্রতি, দেশের উন্নয়নের প্রতি, জনগণের কল্যাণের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার একাগ্রতার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা নয়; ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশকে বিনির্মাণের বার্তা দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আর ফিরবেন না, তবে তার রেখে যাওয়া স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া একজন আইকন, যার প্রমাণ তার জানাজায় দেখা গেছে। দল, মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ সবাই তার জন্য কেঁদেছে। কারণ তারা দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছিলেন বেগম জিয়ার মধ্যে।

দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খালেদা জিয়ার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার কোনো তুলনা হয় না। একটি দল নয়, গোটা জাতির নেত্রী ছিলেন তিনি।

আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানসহ ব্যবসায়িক নেতারা বক্তব্য দেন।


হাসপাতালে কামাল হোসেন, দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তার ফুসফুসে নতুন করে নিউমোনিয়া সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. মিজানুর রহমান জানান, ৮৮ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২ জানুয়ারি তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর গত রোববার বিকেলে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শারীরিক কিছু পরীক্ষায় তার ফুসফুসে নতুন করে নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। তবে সার্বিকভাবে তার অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা তার যথাযথ যত্ন নিচ্ছেন।’

ড. কামালের অসুস্থতার খবরে দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। গণফোরামের পক্ষ থেকে সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। গত শুক্রবার তার ফুসফুসের সমস্যা বেড়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতির প্রবাদপ্রতিম এই ব্যক্তিত্ব ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন।


banner close