সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৭ মাঘ ১৪৩২

আগামীতে বিএনপিকে দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না: বাহাউদ্দিন নাছিম

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:২৯

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গালিগালাজ করায় বিএনপি রসাতলে যাচ্ছে, আগামীতে বিএনপি দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি। ‘আওয়ামী লীগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে’- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর - এর মন্তব্যের কঠোর সমলোচনা করে তিনি এ কথা বলেছেন।

আজ সোমবার সকালে মাদারীপুরের কুকরাইল এলাকায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘১৭ কোটি মানুষের প্রিয় দল আওয়ামী লীগ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পূর্ব পুরুষরা পাকিস্তানিদের দালাল ছিল। তারা স্বাধীনতাবিরোধী আলবদরের দালাল ছিল, এটা প্রমাণিত। সেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বিএনপি এখনো সমর্থন করে। সেই স্বৈরাচার রাজনীতিকে বিএনপি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। সেটা কোনোদিনই বাস্তবায়ন হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বিদেশি প্রভুদের কাছে আত্মসমর্পণ করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। দেশের মানুষের প্রতি সম্মানবোধের জায়গাটি ভুলে গিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ করেছে। কোনো কোনো বিদেশি প্রভুর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আন্দোলনের নামে নাটক করেছে, মানুষকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মেরেছে।’

এ সময় মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান শফিক খান, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক গোলাম মাওলা আকন্দ, মাদারীপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি বজলুর রহমান মন্টু খানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।


নতুন বোরকা দেখলেই বুঝবেন ভেজাল আছে: সিরাজগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী আলীম

আপডেটেড ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেছেন, ‘উনারা (জামায়াত) ৩ কোটি বোরকা বানিয়েছে। নতুন বোরকা দেখলেই বুঝতে পারবেন ভেজাল আছে’।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত ধানের শীষের এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত প্রায় তিন কোটি বোরকা তৈরি করেছে এবং কোথাও নতুন বোরকা পরিহিত কাউকে দেখলেই তাতে ‘ভেজাল’ আছে বলে ধরে নিতে হবে। তিনি উপস্থিত সমর্থকদের জামায়াতের এমন কৌশল ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আলীম আরও দাবি করেন যে, ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর মিছিলে নারীদের উপস্থিতি বেশি দেখানোর জন্য পুরুষরা বোরকা পরে অংশ নিয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এ ধরনের ছদ্মবেশ ও কৌশল থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। উক্ত জনসভায় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


কুলাউড়ায় শকু’র নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

মানসম্মত শিক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের প্রতিশ্রুতি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

এতে তিনি যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন, কৃষকের অধিকার নিশ্চিত, নদীভাঙন রোধ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পর্যটন শিল্প বিকাশ এবং মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহার ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহ্বায়ক মো. রেদওয়ান খান, সাবেক বিএনপি নেতা এস এম জামান মতিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুফিয়ান আহমেদ, সংগঠক আব্দুল কাইয়ুম মিন্টুসহ দলের নেতারা।

লিখিত ইশতেহারে শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে বৈষম্যহীন, আধুনিক ও মানবিক কুলাউড়া গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।’ উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন তিনি।


মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ভেড়ামারা-মিরপুর গড়ব: রাগিব রউফ চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া ২ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে ভেড়ামারা-মিরপুর মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতন মুক্ত করব। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ভেড়ামারা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধানের শীষের নির্বাচনি জনসভায় এ কথা বলেন।

ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শাহাজান আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, মহানগর মহিলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় পার্টি নেতা আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপি নেতা লে. কর্নেল (অব.) সামসুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু দাউদ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলু প্রমুখ।


ত্রিশালে ডা. লিটনের গণসংযোগ, পথসভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী তিনি তার নিজ ইউনিয়ন কাঁঠালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেন।

পথসভায় লিটন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করতে এবং একটি সমৃদ্ধ ত্রিশাল গড়তে আমি এই ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করছি। পথসভাগুলোতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।


নির্বাচনি জনসভার বক্তব্য বিকৃতর অভিযোগে এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেনের জিডি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনি প্রচারণার এই উত্তপ্ত সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জনসভার বক্তব্য কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

রংপুর-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানায় এই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সম্পন্ন করেছেন। জিডি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রনক নামে এক ব্যক্তি উক্ত প্রার্থীর একটি জনসভার বক্তব্য বিকৃতভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। ভিডিওটিতে মূলত বিগত সময়ের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে দেওয়া বক্তব্যকে সুকৌশলে পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ণ হয়।

নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আখতার হোসেন জানান যে, তিনি তার বক্তব্যে বিগত সময়ের জনপ্রতিনিধিদের ‘অকর্মা’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারিত ওই ভিডিওটিতে তথ্য গোপন করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি ‘হারাগাছবাসীকে অকর্মা’ বলেছেন। এনসিপি প্রার্থী এই কর্মকাণ্ডকে তার এবং হারাগাছবাসীর জন্য চরম মানহানিকর বলে অভিহিত করেন এবং অবিলম্বে এই ভিডিও অপসারণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

জিডি কার্যক্রম শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আখতার হোসেন নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশনার কঠোর সমালোচনা করেন। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধি-নিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তকে তিনি অগণতান্ত্রিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হতে পারে। আজকের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি মনে করেন, নির্বাচনি এলাকায় অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।


আমরা ক্ষমতায় এলে বিএনপি–আওয়ামী লীগ কাউকেই পালাতে হবে না: চরমোনাই পীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশের প্রচলিত প্রতিহিংসার রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। রবিবার ভোলা সদর, লালমোহন ও চরফ্যাশন এলাকায় হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত পৃথক প্রচারণাসভায় তিনি বলেন, দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদলের সময় একে অপরের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানোর যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার অবসান ঘটাবে ইসলামী আন্দোলন। চরমোনাই পীর আশ্বস্ত করেন যে, তাঁদের দল ক্ষমতায় এলে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ—কাউকেই দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না; বরং ইসলামী শাসনব্যবস্থায় প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন।

নির্বাচনী সভায় মুফতি রেজাউল করিম দেশের অন্যতম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, দেশে ইসলামী ভোটের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের, অন্য কোনো দলের নয়। তাঁর মতে, জামায়াত ও বিএনপি কোনো দলই প্রকৃতপক্ষে ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না। বিশেষ করে জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা শরীয়া আইন থেকে বিচ্যুত হয়ে প্রমাণ করেছে যে তাদের দ্বারা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন যে, জামায়াত বা বিএনপি যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা কেউই শেষ পর্যন্ত ইসলামের প্রকৃত পথ অনুসরণ করবে না।

চরমোনাই পীর ধর্মপ্রাণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাত পাখা প্রতীকে ভোট দিলে মানুষ ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগতেই শান্তি লাভ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ইসলামী শাসনের বিকল্প নেই। জনসভায় তিনি ভোলার বিভিন্ন আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ী করার অনুরোধ জানান। এর মধ্যে ভোলা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান, ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন এবং চরফ্যাশন আসনের প্রার্থী প্রফেসর কামাল উদ্দিনের পক্ষে তিনি জোরালোভাবে ভোট প্রার্থনা করেন। ভোলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই নির্বাচনী সভাগুলো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের এই সফর এবং বক্তব্য স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।


বিএনপিতে যোগ দিলেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে বক্তব্য দেওয়া সেই আ. লীগ  নেতা

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আঞ্চলিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি প্রায়শই নতুন মোড় নেয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দলবদলের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নির্বাচনি প্রচারণার প্রাক্কালে দলীয় আনুগত্য পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার ও কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার লতিফুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় এমন এক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কালিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার উক্ত জনসভায় উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। উজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এই সভায় কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী কামরুল হুদার সমর্থনে বক্তব্য প্রদানকালে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে’। উল্লেখযোগ্য যে, গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষেও ভোট চেয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার মূলত ২০১৫ সালের একটি আলোচিত পেট্রলবোমা হামলা মামলার আসামি হিসেবে গত বছর গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টা অনেকটা ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছি’ এ রকম। আমি বিএনপির লোক। বিএনপির সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মাঝখানে আমাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ দিয়েছিল, কিন্তু আমি আওয়ামী লীগে যোগ দেইনি।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জানিয়েছেন যে, সালাউদ্দিন আহমেদ অতীতে বিএনপি করতেন এবং কেবল নির্বাচনি সভায় তাঁর উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিই তাঁর জানা রয়েছে। আওয়ামী লীগের পদে থেকেও জামায়াতের হয়ে প্রচারণা এবং অবশেষে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদানের এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি সমীকরণের এই পরিবর্তন তৃণমূলের ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।


মামুনুল হককে মন্ত্রী করার ঘোষণা দিলেন জামায়াত আমির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে আল্লামা মামুনুল হককে সরকারের মন্ত্রী করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। জোট মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থনে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে জামায়াত আমির এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, মামুনুল হক বিজয়ী হলে এই অঞ্চলের মানুষ একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী পাবেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, মামুনুল হকের মতো একজন নেতাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা মোহাম্মদপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হবে।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে নির্বাচনি পাহারাদারি জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিজয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রার্থীদের বিজয়ের মালা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনি প্রক্রিয়া সতর্কতার সাথে পাহারা দিতে হবে। কোনো ধরনের ভোট ছিনতাই বা দুঃশাসন ফিরিয়ে আনার দুঃস্বপ্ন যেন কেউ দেখতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসৎ ব্যক্তি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও দখলবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মামুনুল হক নির্বাচিত হলে এসব সন্ত্রাসীদের হাত থেকে এলাকাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

নির্বাচনি এই জনসভায় জোটের সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক নিজে। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। বক্তারা দেশে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অবসান ঘটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের নির্বাচনি সমীকরণ এবং জোটের প্রচারণায় এই জনসভাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বক্তারা ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেন।


মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে : জুবাইদা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসার দীর্ঘকাল ধরেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী হওয়ায় জাতীয় উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ এখন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় নারী সমাজকে অগ্রাধিকারে রেখে এক বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাবিষয়ক এক বিশেষ আলোচনা ও চা চক্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান এই রূপরেখা তুলে ধরেন। লেডিজ অব গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচএস ও নিকেতনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ ও মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দেশের জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। দেশ গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।"

বিএনপি নির্বাচিত হলে নারীদের কল্যাণে বিশেষায়িত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোবাইদা রহমান বলেন, "আমরা নারী সাপোর্ট সেল গড়ে তুলব। উদ্যোক্তা নারীদের আর্থিক ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে। অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।" তিনি বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদান করা গেলে নারীরা অর্থনীতির মূলধারায় আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

উক্ত আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক হাসিনা খান, স্থপতি ও পাইলট ক্যাপ্টেন ইয়াসমিন, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নায়লা জামান। এ ছাড়াও গুলশান, বনানী ও বারিধারাসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে শায়লা রহমান, আল্পনা হাবিব এবং জেবুন নাহার মঈনসহ অন্যান্য নারী উদ্যোক্তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নারী উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা সম্মিলিতভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


ওরা সিল বানাচ্ছে, ব্যালট বানাচ্ছে: আমীর খসরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির নীল নকশা তৈরি হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদিবাগস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে সিল ও ব্যালট পেপার তৈরির পাশাপাশি বোরকা তৈরি করছে। এমনকি সাধারণ মানুষের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জালিয়াতির নতুন পদ্ধতি অনুসরণের শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থায় নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটাধিকার রক্ষায় দেশের সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা তুলে ধরে আমীর খসরু জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হবে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে আত্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ ও নাগরিকদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি দিতে হবে।

চট্টগ্রামকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে কেবল নামেমাত্র বাণিজ্যিক রাজধানী রাখা হবে না। বরং চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি শক্তিশালী ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। বন্দরনগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশব্যাপী ভোটের ব্যাপক উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করছেন বলে দাবি করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, একটি সমৃদ্ধ ও নতুন বাংলাদেশ গড়তে দেশের সাধারণ নাগরিকরা অতীতের মতো এবারও বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হলে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান

আপডেটেড ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোট উপলক্ষে আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এই তালিকায় রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মাওলানা মামুনুল হক। সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) থেকে এই ভাষণগুলো পর্যায়ক্রমে সম্প্রচারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের এই ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণ আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বিটিভিতে সম্প্রচারিত হবে। এর পরপরই সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই দিনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এই ভাষণগুলোর মাধ্যমে নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরবেন।

এর আগে গতকাল রবিবার জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের (চরমোনাই পীর) ভাষণ বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার এই সুযোগটি ভোটারদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সরাসরি অবগত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ এখন চূড়ান্ত এই গণতান্ত্রিক উৎসবের জন্য অপেক্ষা করছে।


যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দুঃশাসন কায়েম করতে চায় তাদের বয়কট করুন: নূরুল ইসলাম মনি

পাথরঘাটা কেএম পাইলট হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশে বক্তৃতাকালে নূরুল ইসলাম মনি । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনা -২ (বেতাগী-বামনা- পাথরঘাটা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংকট, অস্থিরতা এবং সংকট মোকাবিলার জন্য ৩১ দফা পথরেখা দিয়েছেন। তিনি চান আপনারা ভালোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকেন। তাই আমার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়েছেন। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধানের শীষকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাই। যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দুঃশাসন কায়েম করতে চায় তাদের বয়কট করুন। আপানারা ভালোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে ধানের শীষে ভোট দিন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটা কেএম পাইলট হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশটি মিছিলে-স্লোগানে হয়ে উঠে উৎসবমুখর। মাঠের আশপাশের এলাকাতেও দেখা যায় জনস্রোত। মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়- ‘জিতবে এবার ধানের শীষ, এমপি হবেন মনি ভাই’।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক বেতন দেবেন। দেশবাসী তার নেতৃত্বে দিশা খুঁজে পেয়েছে। কারণ, তারা জানে-তারেক রহমানের নেতৃত্বেই গণতন্ত্র ফিরবে, দুঃশাসনের অবসান হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি যদি যোগ্য হই, তাহলে আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী। আপনারা আমাকে চেনেন, আমার কাজ জানেন। আমি যদি উন্নয়ন করে থাকি, তাহলে আমাকে ধানের শীষে ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, একাত্তরে জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেসময় তারা দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছিল, ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল। তাদের কারণে অনেককে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। আজ তারা মানুষকে বেহেস্তের কথা বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চায়। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দুঃশাসন কায়েম করতে চায়। তাদেরকে বয়কট করুন।

এসময় তিনি উপস্থিত হাজারো জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন-আপনারা কি তাদের ভোট দেবেন? জবাবে জনতা ‘না’ ‘না’ স্লোগানে পুরো এলাকা কাঁপিয়ে তোলে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. সুলতান সাহেবকে আপনারা কয়জন চেনেন? তিনি অতীতে এই এলাকায় কী উন্নয়ন করেছেন, তা বলতে পারবেন কি? এই কলেজ মাঠ আমি করেছি, এখানে শতবার এসেছি। অথচ তিনি কয়বার এসেছেন, আপনারাই বলুন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যে ভয় পান, সেটা পাবেন না। আমরা সবাই সমান। আপনাদের জীবন, জানমাল ও ধর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এবং আমি এমপি হলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

আগামী নির্বাচনের দিন সকাল ছয়টায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট দিয়ে ফলাফল না জেনে কেউ বাড়ি ফিরবেন না।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার আমলে কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই হয়নি। ভবিষ্যতেও থাকবে না। এ বিষয়ে আমার জিরো টলারেন্স।


জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন নারী নেত্রীদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। জামায়াত আমিরের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দাবি ওঠে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন নারী নেত্রীরা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের বলেন, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জামায়াত আমিরের ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা মন্তব্য ছিল কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। পরে দলটির পক্ষ থেকে একে ‘হ্যাকিং-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীদের মত।

তারা আরও বলেন, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রামাণ্য তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা দেখা যায়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল থানার সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আওলাদ হোসাইন জুনাইদ অভিযুক্ত মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের জামিন মঞ্জুর করেন।

নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশকে গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের শ্রম ও মর্যাদাকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

আবেদনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য না দেওয়ার অঙ্গীকার, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।


banner close