নিরীহ নারী-শিশু ও সাধারণ ফিলিস্তিনিদের পর পশ্চিমা বিশ্বের এইড ওয়ার্কারদেরও যে অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, ইসরায়েলে সে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হবে- এমন আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সদ্যপ্রয়াত সাংবাদিক ও অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম স্মরণসভা শেষে বুধবার ইসরাইলি হামলায় যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ডের নাগরিকসহ ৭ জন এইড ওয়ার্কার নিহতের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এ হামলায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের বর্বরতা, নৃশংসতা ও মানুষ হত্যার মহোৎসব থামছেই না। সেখানে এইড ওয়ার্কারদের হত্যা করা হয়েছে। এটি কল্পনারও বাইরে।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ইসরাইল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাশ হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকেও তোয়াক্কা করছে না। আমি আশা করব, এই ঘটনার পর পশ্চিমা বিশ্বের বোধদয় হবে এবং তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সরকার যেকোনো যুদ্ধের বিরুদ্ধে। আমরা ফিলিস্তিনিদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। অবশ্যই আমরা দুই রাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাস করি, কিন্তু ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সেখানে শান্তি নিহিত, অন্যথায় সে অঞ্চলে কখনও শান্তি স্থাপিত হবে না।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করব, যারা ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করে, সেই অস্ত্র যে নিরীহ নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে হত্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে, এমন কি তা দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের এইড ওয়ার্কারদেরও হত্যা করা হচ্ছে, এর পরে ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হবে।’
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি এবং সাপ্তাহিক গণবাংলা পত্রিকার যৌথ উদ্যোগে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিমের সভাপতিত্বে ও এম এ বাশারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, প্রয়াত আতাউর রহমানের কন্যা ফারদিন রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য লায়ন মশিউর আহমেদ প্রমুখ।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাবরণ করা বিএনপির নেতাকর্মীদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জেল-জুলুম, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, তারা ইতিহাসে সাহসী সৈনিক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।
শনিবার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কারানির্যাতিত নেতাকর্মীদের মিলন মেলা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইগাতী উপজেলার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গায়েবি মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমনমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে কারাবন্দী হওয়া বিএনপির আট শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্যাতিত, আপসহীন ও সাহসী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যক্তি জীবনে সীমাহীন ত্যাগ ও বেদনা বহন করেও তিনি কখনো স্বৈরাচারী শক্তির কাছে মাথা নত করেননি। নির্যাতন, শোষণ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রশ্নে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অবিচল।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ ও সংগ্রাম চিরকাল উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আন্দোলন-সংগ্রামে যারা হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারানির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারাও ভবিষ্যতে সাহসী সৈনিক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই মিলন মেলা ও মিলাদ মাহফিল কোনো আনন্দের আয়োজন নয়, বরং শোকের প্রতিফলন। তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে দলীয় ঐক্য সুসংহত করে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান আকন্দ। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইগাতী উপজেলার আট শতাধিক কারানির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক আবুল হোসেন সরকার।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ১২ দলীয় জোটের নেতারা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করেন তারা।
এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এ সাক্ষাৎ হয়েছে। সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ১২ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিমসহ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা ছিলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গুম থেকে ফিরে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে গুলশান চেয়ারপারসন কার্যালয়ে তিনি সাক্ষাৎ করেন।
গুলশান কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানানোর জন্য গুলশান কার্যালয়ে যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। শোক বইতে স্বাক্ষর শেষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরে তারেক রহমানের হাতে তার প্রকাশিত বই তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী প্রয়াত জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম আজমের পুত্র। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে দীর্ঘ ৮ বছর তাকে গুম করে ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ফিরেন আসেন।
সব বিবেধ ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেরপুর জেলা বিএনপির নেতারা। গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে শেরপুর জেলা বিএনপির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিএনপির নেতারা।
মাধবপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শেরপুর-১ সদর আসনের এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার বাসভবনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও শহর বিএনপির আহ্বায়ক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান, আবু রায়হান রুপম, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাসহ জেলা বিএনপির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএনপির সকলেই একমত পোষণ করেন যে, ধানের শীষ দলের প্রতীক। কাজেই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
রাত আটটা থেকে শুরু হয়ে ৬ ঘণ্টা চলা এ মিটিং শেষে রাত দুইটার সময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ সাংবাদিকদের জানান, আমরা শেরপুর-১ সদর আসনসহ জেলার তিনটি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। দলের প্রার্থীর পক্ষে যে সকল নেতাকর্মী কাজ করবেনা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সফিকুল ইসলাম মাসুদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আসন সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আমরা আশা করছিলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সেটি হয়নি। তবে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।” তিনি জোটের শরিকদের একাংশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, “তিনশ আসনেই একটি দল প্রচার করছে (প্রচারণা চালাচ্ছে), জোটের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এসব মিথ্যাচার করলে তাদের সঙ্গে সামনে পথচলা কষ্টকর হয়ে যাবে।”
দলের আগামী কর্মপন্থা নির্ধারণে বর্তমানে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। গাজী আতাউর রহমান জানান যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সব স্তরের নেতা ও প্রার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং মজলিসে আমেলার বৈঠকেও এ নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। ওয়ান বক্স পলিসির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “২০ তারিখ (২০ জানুয়ারি) হলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হলো ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ। তাই না? ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।” জোটের পরিধি বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, “আমাদের সঙ্গে অনেকেরই, পাঁচ দলের বাইরেও অনেকেরই আমাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ১২ দলের মধ্যে যারা আছে, এদের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরেও আরও আলোচনা হচ্ছে।”
ইসলামী আন্দোলন এককভাবে ভোটের মাঠে লড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মুখপাত্র বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কথাবার্তা হচ্ছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অগ্রসর হবে ইসলামী আন্দোলন। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাদের নিয়ে পথ চলবেন তারা।” সমসাময়িক রাজনীতি ও জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘোষণা দিয়ে এসেছেন, তারা সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করার জন্য আলোচনা করবেন। এই আলোচনা নির্বাচনের পরেও হবে। জাতীয় সরকারের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। জামায়াতের আমির বলেছেন- খালেদা জিয়া ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ঐক্যের পাটাতনের উপরে দাঁড়িয়ে তারা আগামীতে রাষ্ট্র চালাবেন। তবে সেই ঐক্যের পাটাতন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই পাটাতন আবার মেরামত করার জন্য বলেছেন জামায়াতের আমির। এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে কি না।”
বিভাজিত রাজনীতির সুবিধা অন্য কোনো দল পাবে কি না, এমন প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেন, “এটা তো স্বাভাবিক। এর দায় কি আমাদের? এখানে যদি কেউ সুবিধা পায় সেটা পাইতে পারে। কারণ রাজনীতি সবসময় একই ধারায় চলে না। এখানে উত্থান-পতন হবে, জোয়ার-ভাটা হবে। কেউ একসময় উৎসাহী হবে, দেখা যাবে তারাই আবার একসময় নিরুৎসাহী হয়ে যাবে। জোয়ার ভাটা তো আছে এবং গতি সবসময় একরকম থাকে না। একসময় মধ্যম গতি থাকে আবার একসময় দ্রুত গতি হয়, শ্লথ হয়, সবই হয়। তো আশা করি ইনশআল্লাহ আমাদের ঐক্যের যেই পাটাতনটা আমরা তৈরি করেছিলাম, সেটা রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা করবো।” বিএনপির সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি তো ফিক্সড করে ফেলেছে তাদের জোট এবং তাদের যে ডিজাইন সেটা তো হয়ে গেছে।”
আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন চললেও ইসলামী আন্দোলন এখনো জাতীয় ঐক্য রক্ষার পক্ষে কাজ করছে। গাজী আতাউর রহমান বলেন, “নির্বাচনি আসন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। নানান প্রতিকূলতা থাকলেও ন্যূনতম সমঝোতা যাতে থাকে, ইসলামী আন্দোলন সেই চেষ্টা করে যাবে।” তবে তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, “আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু সংকট আছে, যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনকে মেনে নিতে হবে, এই রাজনীতি আমাদের দল অতীতেও করেনি। কেউ ইসলামী আন্দোলনকে অবহেলা করলে সেটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায় না।”
নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জনমত জরিপকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন এই নেতা। তিনি বলেন, “অনেকে সমীক্ষাকে মানদণ্ড ধরেন। এসব জরিপ কারা করছে মানুষ সেটি বুঝে। এগুলো বেইনসাফি করার পথ উন্মুক্ত করছে। এসব ভাঁওতাবাজি জরিপ দিয়ে নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করলে সেখানে বিপর্যয় হবে।” দলটির লক্ষ্য সবার সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলন সবার সঙ্গে সম্মান এবং শ্রদ্ধার সম্পর্ক রাখতে চায়। তবে সবাইকে সবসময় একই সঙ্গে পথ চলতে হবে, এমন নয়। যদি পথ ভিন্নও হয়, সুসম্পর্ক যাতে থাকে, সেই চেষ্টা ইসলামী আন্দোলনের থাকবে।” শেষে তিনি আবারো পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে এগোতে চেয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। সমঝোতার মানে কেউ কারও ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না। সেই পরিবেশ থাকলে আসন কমবেশি নিয়ে সমস্যা থাকতো না। তিনশ আসনেই একটি দল প্রচার করছে, জোটের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এসব মিথ্যাচার করলে তাদের সঙ্গে সামনে পথচলা কষ্টকর হয়ে যাবে।”
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছেন যে, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে তার দল সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, এই সনদের প্রতিটি প্রস্তাবনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে এবং এর বাইরে দলের ভিন্ন কোনো অবস্থান নেই।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক দৃঢ়তা ব্যক্ত করেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় একটি সংস্থার মেধা বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই ঐক্যের ভিত্তিতেই সংস্কারের যে প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করার ব্যাপারে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে যুক্ত করেছিলেন এবং শুরুতে বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছিলেন। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এই ধর্মীয় ও নৈতিক ভিত্তিগুলো সংবিধান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সংবিধানে আবারও মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন করা হবে।
কক্সবাজার জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক আলী হাছান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে স্থানীয় ওলামা মাশায়েখরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ক্বারী আতাউল্লা গনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মাওলানা ইয়াছিন সোলতানী ও মাওলানা সোলাইমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দলের রাজনৈতিক জোটের আসন ভাগাভাগির চূড়ান্ত ঘোষণা আজ আসার কথা থাকলেও তা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে।
বিশেষ কিছু পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় নির্ধারিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনটি আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে জোট কর্তৃপক্ষ। সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে ১১ দলীয় আসন সমঝোতা জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ১১ দল ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে।" পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল যেখানে ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী ঐক্যের বিষয়ে বড় বার্তার অপেক্ষায় ছিল রাজনৈতিক মহল। তবে শেষ মুহূর্তে দুপুরের দিকে এক বার্তার মাধ্যমে ড. আযাদ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানান।
উল্লেখ্য যে, এই জোটে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), এবি পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফেনীর রাজনীতিতে নতুন মোড় হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাবু তার দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শতাধিক অনুসারী ও নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপিতে নাম লেখান।
যোগদান অনুষ্ঠানে আবদুর রহিম বাবু তার দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি ফেনীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়েও মাঠে ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে এনসিপি গঠিত হলে তিনি সেখানে যুক্ত হন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করায় তিনি নীতিগতভাবে তা মেনে নিতে পারেননি। জামায়াতকে ‘যুদ্ধবিরোধী রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই জোটের প্রতিবাদেই তিনি স্বেচ্ছায় এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ তার হয়েছে। বিএনপিকে পর্যবেক্ষণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে ফেনী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু আবদুর রহিম বাবুর হাতে ফুল দিয়ে তাকে ও তার অনুসারীদের দলে উষ্ণভাবে বরণ করে নেন।
উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে পরশুরাম পৌরসভার মেয়র আবু তালেব, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ এবং দপ্তর সম্পাদক (চলতি দায়িত্ব) ইয়াসিন মাহমুদ অন্যতম। উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালির মাধ্যমে নব্য যোগদানকৃতদের স্বাগত জানান এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে এই যোগদান ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। জোটের শীর্ষ নেতারা দুপুরে এক বৈঠকে মিলিত হবেন এবং সেই বৈঠকের আলোচনার ভিত্তিতেই সন্ধ্যায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে। দীর্ঘ আলোচনার পর আসন ভাগাভাগির এই জটিল সমীকরণটি আজ আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ১১ দলের চূড়ান্ত আসন তালিকা বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঘোষণা করা হবে। জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, তা আজ একটি চূড়ান্ত রূপরেখা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলটির নেতারা বৈঠক করেছেন এবং আজ বেলা ১১টায় তাদের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। এই অধিবেশন শেষেই জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বসলেও মধ্যরাত পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
১১ দলীয় জোটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এবং নিজেদের ফোরামে আলাদাভাবে বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। মঙ্গলবার রাতের বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বুধবার দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকের পর তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও জোটের পক্ষ থেকে আজ বিকেলেই আসন তালিকার ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামীর নির্বাচন হবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কোন দিকে যাবে সেটা নির্ধারণের নির্বাচন। আগামীর নির্বাচন হবে বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের নির্বাচন। শুধু তাই নয় শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমরা যে প্রস্তুতি করেছি সেটা বাস্তবায়নের নির্বাচন, সুতারং আমরা মনে করি আগামীর নির্বাচন হবে এই জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে মহিলা দলের কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামীর সংসদে এমন আইন প্রণয়ন করা হবে যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বিএনপি এমন একটা সংসদ চায় যেখানে আর প্রশংসার স্তুতিবাক্য বা তোষামুদির প্রচলন হবেনা। সংসদ সদস্যরা মানুষের জন্য কথা বলবে, সেই সংসদে বিরোধিতা থাকবে। এমন সংসদ করে পৃথিবীর বুকে নজির স্থাপন করতে চায় বিএনপি।
তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন জাতির বাক বদলে দিবে গণতন্ত্র দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে, সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান একটি শক্তিশালী ভিত্তি পাবে। তার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে সেই সব প্রতিষ্ঠান কাজ করবে।
আগামীতে আর কোনো গণতান্ত্রিক সরকার লাইনচ্যুত হতে পারবেনা। বিএনপি এমন একটি সংসদ বির্নিমান করতে চায়, যে সংসদে আর শুধু নৃত্যগীত হবেনা, সেই সংসদে মানুষের কথা বলা হবে, কোনো সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না। সংসদে মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে এবং এদেশের গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলা হবে।
এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আলী আহমদ, সদস্য সচিব শরিফুল আলমসহ মহিলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) তিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ অর্ধশতাধিক ইউপি সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। রাজধানী ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিলকিস জাহান শিরিন এবং পিরোজপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত এবং সাবেক সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলুসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় অঙ্গসংগঠনের নেতারাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপিতে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন ৫ নম্বর চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু, পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার এবং ৪ নম্বর ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ করিম তালুকদার ইমন। এই তিন চেয়ারম্যানের পাশাপাশি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও বিএনপিতে নাম লিখিয়েছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর পর পিরোজপুর-১ আসনে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ যারা আজ বিএনপিতে যোগদান করেছেন, দল তাদের উষ্ণ স্বাগত জানায় এবং এর মাধ্যমে জেলায় বিএনপির ভিত্তি আরও মজবুত হলো।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন দৃঢ় অবস্থান তাকে জাতীয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর শ্রদ্ধা ও উচ্চাসনে আসীন করেছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা ছিল অসাধারণ, যিনি জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়ন করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এমএ জলিল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আবেগাপ্লুত হয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সহকর্মীর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় বেগম জিয়া ছিলেন সর্বদা আপসহীন এবং এক অতন্ত্র প্রহরী। তার দেশপ্রেম, ত্যাগ, ধৈর্য ও সততা আগামী প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য গভীর অনুধাবন ও অনুসরণের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বেগম জিয়াকে কখনোই আপস করতে বা ভিন্ন কিছু ভাবতে দেখা যায়নি। তার মতে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের আপামর জনগণের নেত্রী এবং তার আদর্শ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রজ্ঞা সবার জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান ও বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের সমর্থন নিয়ে তার ‘নতুন প্ল্যান’ বা পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী দিনে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ লতিফ ভূঁইয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। এছাড়া কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উক্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস নয় বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশপন্থি শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানী ওয়ারীতে তার নির্বাচনি কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের পরিচিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, যারা বাংলাদেশকেই চায়নি, তারা আবার রাজনীতিতে ফিরে এসে ভোটের মাঠে নামছে। শুধু তাই নয়, তারা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছিল যা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। অথচ সেই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বড় ও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
তিনি বলেন, আমি সেই সময় কারাগারে ছিলাম। তবে খবর রাখতাম সংবাদপত্রের মাধ্যমে, কিছু ভিডিও দেখে, বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিস্থিতি বুঝে নিতাম। কিন্তু কোথাও আমি সেই দলটির কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা দেখি নেই, যারা আজ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, আজ হঠাৎ করে তারা নতুন রিপাবলিকসহ নানা কথা বলছে আমরা বুঝতে পারি না তাদের এই দুঃসাহস কোথা থেকে আসে। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস এই দুটি দিনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো দুঃসাহস তাদের হয়েছে। এই বিষয়গুলো আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
ইশরাক হোসেন বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। যারা স্বাধীন বাংলাদেশকে মানে না, তাদের এদেশে থাকার নৈতিক অধিকারও নেই। কথাগুলো কঠিন, কিন্তু যখন আমরা শুনি মুক্তিযুদ্ধ ভুল ছিল তখন আর কতদিন সহ্য করব? একবার-দুবার ভুল করে বলা যেতে পারে, কিন্তু যখন এটি তাদের রাজনৈতিক বয়ানে পরিণত হয়, তখন সেটা আর দুর্ঘটনা নয়, সেটা বিশ্বাসে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা শক্তি এ অঞ্চলে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছি।
তিনি আরও বলেন, তবে একটি এজেন্ডাই বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে সবার আগে বাংলাদেশ’। এর বাইরে কোনো এজেন্ডা মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচনের পর আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব। আমরা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলমান, ধনী, গরিব সবাইকে সমান নাগরিকত্ব নিয়ে বাঁচতে দেওয়ার যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব কে এম কামরুজ্জামান নান্নু সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।