শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই: কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৫৫

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা এ দেশে গণতান্ত্রিক আদর্শ বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিবন্ধক।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দের মিথ্যাচার ও দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই এই বিবৃতি প্রদান করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্রের হত্যাকারীরা যখন গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে তখন বুঝতে হবে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য তাদের মায়াকান্না ছাড়া আর কিছু নয়। গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য তাদের এই আহাজারি মূলত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড, হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবনের অধিপতি, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তায়নের বরপুত্র তারেক রহমানের দুঃশাসনের যুগে দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। এ দেশের গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ এই অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে আজ ঐক্যবদ্ধ।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বৈরাচারের গর্ভে জন্ম নেওয়া বিএনপি সুপরিকল্পিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও মূল্যবোধ এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপিই এ দেশে গণতান্ত্রিক আদর্শ বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিবন্ধক। বিএনপি নেতৃবৃন্দের উচিত ছিল তাদের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা। অথচ তারা সেটা না করে বরাবরের ন্যায় দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জিয়ার তথাকথিত গণতন্ত্র ছিল কারফিউ মার্কা গণতন্ত্র! লাগাতার সামরিক শাসন বলবৎ রেখে জনগণের ওপর দুঃশাসনের স্টিমরোলার চালানো হয়েছিল। ১৯৭৮ সালের ৩ জুন একইসঙ্গে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করে গণতন্ত্রকামী জনগণের সঙ্গে নির্মম তামাশা করেছিল স্বৈরাচার জিয়া; অবৈধভাবে একই সঙ্গে সেনাপ্রধান, প্রধান সামরিক আইন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপতির পদ দখল করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছিল।’

তিনি বলেন, স্বৈরাচার জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন করেছিল। জাতিকে মিরপুর ও মাগুরা মার্কা উপ-নির্বাচন উপহার দিয়েছিল বিএনপি! নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারায় আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন গঠন এবং ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করেছিল বিএনপি।

তিনি বলেন, ২০০১ পরবর্তী সময়কালে বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনামলে ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বাংলাদেশ স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালরাতে মানবসভ্যতার ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা হয়েছিল। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করা হয়েছিল। একইভাবে হন্তারকের দল ৩রা নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল।

তিনি বলেন, সেদিন ঘাতকচক্র অসহায় নারী, শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। সেদিন কোথায় ছিল গণতন্ত্র? কোথায় ছিল মানবাধিকার? ১৯৭৫-এর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের পর খুনি জিয়ার হাতে জন্ম নেওয়া বিএনপি যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, মানবাধিকারের কথা বলে, ইতিহাস তখন বিদ্রূপের হাসি হাসে।


নির্বাচিত

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তিনি। তাঁর আগে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশন ও কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তারেক রহমানের এবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে ধারার সূচনা, ১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, এবার সেই ধারায় যুক্ত হচ্ছেন তারেক রহমান।

জাতিসংঘের সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring trust, managing transformation: A United Nations that delivers for all’। অর্থাৎ আস্থা পুনরুদ্ধার ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলার বিষয়টি এবারের অধিবেশনের কেন্দ্রীয় আলোচনার অংশ।

১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জাতিসংঘের সরকারি নথিতে ওই দিনের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে।

জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে তৎকালীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নানা অসাম্য, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

আন্তর্জাতিক উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের বহু মানুষের দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মধ্যে বসবাসের বাস্তবতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।

সেই সময় বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশ্নটি জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরা ছিল বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

জিয়াউর রহমানের জাতিসংঘ ভাষণের ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপরও বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি।

১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ স্মারক সভায় বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। জাতিসংঘের নথিতে তাঁর বক্তব্যে ফারাক্কা ইস্যু এবং বাংলাদেশের পানির অধিকার নিয়েও বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।

২০০২ সালে শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশনেও তিনি অংশ নেন। পরে ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁর বক্তব্য ছিল। জাতিসংঘের নথিতে ২০০৫ সালের সাধারণ বিতর্কসহ একাধিক কার্যক্রমে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে।

ফলে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে।

এবার তারেক রহমান

এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে তাঁর রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

দারিদ্র্য বিমোচন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্থান পেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রোহিঙ্গা সংকটও এবারের সফরে অগ্রাধিকার পাবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বৈঠকে তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।

এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি পুরো অধিবেশনের বিভিন্ন প্লেনারি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন। ফলে একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন এবং একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন—যা বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।

জাতিসংঘের এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি মোকাবিলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আয়োজন রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং ২৫ সেপ্টেম্বর মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা হবে।

এর ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের বক্তব্যের দিনটিও বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা সামনে থাকার একটি সময়। জাতিসংঘের সরকারি সূচিতেও ওই দিন সাধারণ বিতর্কের পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে।

জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ-সম্পৃক্ততার ইতিহাস চার দশকের বেশি সময়ের। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণ দিয়ে যার সূচনা, ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য এবং পরবর্তী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়, এবার ২০২৬ সালে সেই মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

তবে সময় বদলেছে, আন্তর্জাতিক বাস্তবতাও বদলেছে। ১৯৮০-এর দশকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রশ্ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার কার্যকারিতা।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্যও বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধার এবং পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তুলে ধরবেন—এমনটাই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ তাই শুধু পারিবারিক ধারাবাহিকতার দিক থেকেই নয়, বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।


নির্বাচিত

১৮ কোটি মানুষের জন্য আমাদের এ লড়াই: জামায়াতে আমীর

ঢাকা-রংপুর লং মার্চে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসের পথসভায় প্রধান অতিথি জামায়াতে আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

জনগণের দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতে আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৮ কোটি মানুষের জন্য আমাদের এ লড়াই। জনগণের দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, নব্য স্বৈর শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-রংপুর লং মার্চে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসের পথসভায় প্রধান অতিথির তিনি একথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা মানলেন না? ১৪শ শহীদদের সাথে কেন বেইমানি করলেন, কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি! আপনারা বলেছিলেন— অনির্বাচিত কাউকে কোথাও বসাবেন না; কিন্তু আপনারা সব জায়গায় প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা একটা কথাও রাখেননি; সব জায়গায় ধোঁকা দিয়েছেন। জাতি যা চেয়েছিল তা আপনারা দিতে পারছেন না, আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন।

টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা আহবায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, সেক্রেটারি মাওলানা যায়েদ হাবিব, ইসলামী ছাত্রশিবিরের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি আব্দুল আলিম প্রমুখ।


নির্বাচিত

আমি এখনো জামায়াতের: গাজী নজরুল

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী মো. নজরুল ইসলাম। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রে নিজেকে এখনও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার গণমাধ্যম-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যাবতীয় দাফতরিক কাগজপত্র ও আইনি হিসেবে তিনি এখনও জামায়াতের সদস্যপদেই বহাল রয়েছেন এবং তাঁকে নিয়ে দলের নেতারা বাইরে কী বলছেন সে সম্পর্কে তাঁর কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে গত ২২ জুলাই ৭৫ বছর বয়সী তিনবারের এই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। পরবর্তীতে তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় দলটি। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে, যার ফলে সংসদে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গাজী নজরুলের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সঙ্গে সংগঠনের আর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা অবশিষ্ট নেই। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নিশ্চিত করেছেন যে, সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে দলের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে তাঁর সদস্যপদ থাকা বা না থাকার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


নির্বাচিত

অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতায় রংপুর দখল করেছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেরোবি প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর অঞ্চলের আসনগুলো দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার বেলা ১১টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং তাঁর আত্মোৎসর্গের ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী এলাকায় দলের মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তির বিষয়টি তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘রংপুরে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান খুবই ভালো। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির যে সাংগঠনিক অবস্থা ও জনপ্রিয়তা তাতে রংপুরের মাটিতে ছয়টি আসনেই বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হবে, এটা অবিশ্বাস্য।’

নির্বাচনের পূর্বে মাঠ প্রশাসন সাজানোর ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উত্থাপন করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে রংপুর ও খুলনা বিভাগে প্রশাসনিক সেটআপ এমনভাবে জামায়াতিকরণ করা হয়েছে, যাতে করে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিলেও জামাতের প্রার্থীকে পাস দেখানো হবে। অথচ জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে এবং বুকে পাথর চাপা দিয়ে জামায়াতের আমির সেই নির্বাচন মেনে নিয়েছেন।’


নির্বাচিত

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ডাকসু নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি, জিএস ও এজিএস। শুক্রবার রাজধানীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডাকসুর দায়িত্বকাল সফলভাবে ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার সঙ্গে সমাপ্ত করায় ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও চলমান সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডাকসু প্রতিনিধিদের বরাতে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ডাকসু ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মব সহিংসতার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে অনতিবিলম্বে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের রূপরেখা প্রণয়ন এবং নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবির প্রতি দৃঢ় একাত্মতা পোষণ করেন জামায়াত আমির। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ মৌলিক সংকট নিরসনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি ডাকসু নেতাদের উদ্দেশে পরামর্শ দেন যেন তাঁরা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান।


নির্বাচিত

৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে দেশের কোটি মানুষ প্রস্তুত: জামায়াত সেক্রেটারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প কার্যকর করা এবং চাঁদাবাজি বন্ধসহ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে দেশের কোটি কোটি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্ততার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের লংমার্চে সড়কের দুই পাশে কোটি মানুষ লংমার্চ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনও উস্কানিতে নেতা কর্মীদের পা না দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট সময় ও যাত্রাপথ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ‘আমরা যথাসময়ে আগামীকাল সকাল সাতটায় ঐতিহাসিক মানিক মিয়া এভিনিউতে দ্বিতীয় লং মার্চের সমাবেশ শুরু করবো। সকাল ৮টায় মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ঢাকা শহরের উত্তর দিক দিয়ে টঙ্গী গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইল হয়ে আমাদের যে পাঁচটি পথসভা আছে সেগুলো করে আমরা রংপুরের দিকে যাবো।’

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী কর্মসূচির চেয়েও রংপুরগামী এই লংমার্চ অধিক সফল হবে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘১ম লংমার্চের তুলনায় ২য় লংমার্চে দেশের মানুষের অংশগ্রহণ আরও কয়েকগুণ বাড়বে। চট্টগ্রামের চেয়েও ব্যাপকভাবে রংপুর অভিমুখী লংমার্চ সফল হতে যাচ্ছে।’ রাজপথের এই দীর্ঘ কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে পরওয়ার বলেন, ‘এই লংমার্চ সফলে আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’


নির্বাচিত

জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন, ছিলেন হিন্দু: ফজলুর রহমান

অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, ইনসেটে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ছবি কোলাজ : দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক ইতিহাস ও আদি পরিচয় তুলে ধরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জিন্নাহর পরিবার মূলত গুজরাটের মাছ বিক্রেতা ছিল এবং তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার সূত্র টেনে তিনি বলেন, ‘মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে যারা মাছ বিক্রি করতেন, তাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো। তার প্রকৃত নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা। তিনি হিন্দু ছিলেন।’

উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানের বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফজলুর রহমান উল্লেখ করেন, তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের ঐতিহাসিক লখনৌ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯২৯ সালে মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার, স্বতন্ত্র নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা দিয়ে তিনি তাঁর বিখ্যাত ১৪ দফা দাবি ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান সৃষ্টিতে বাঙালি মুসলিমদের ভূমিকা এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানাইছিলাম, আমরা তো অস্বীকার করি না। কিন্তু বানাইয়া যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ৫২ সালেই আমরা ফাইট শুরু করলাম।’

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং উদ্বোধকের দায়িত্ব পালন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে ও রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এ নবীনবরণে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।


নির্বাচিত

নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ৭৬তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান তিনি। বিষয়টি বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেখেন, ‘ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন। জন্মদিনে আপনার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা। সুস্বাস্থ্য ও উদ্যমের সঙ্গে ভারতীয় জনগণের প্রতি আপনার সেবা ও নিরলস কর্মযজ্ঞ চলুক; এই কামনা করি।’

বৃহস্পতিবারই নরেন্দ্র মোদি ৭৬ বছরে পা দিয়েছেন। ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের গুজরাটের ভাদনগরে তার জন্ম। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোদি ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মোদির জন্মদিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিসরেও এদিন তার জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা আসে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও ভারতীয় জনগণের সেবায় তার কর্মযজ্ঞ অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিজি হলেন হাফিজুল্লাহ খান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানকে বদলিপূর্বক প্রেষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হাফিজুল্লাহ খানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ন্যস্তকৃত কার্যালয়ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।


নির্বাচিত

‘নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন খামারিরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।

বৃহস্পতিবার গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’- শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন শুধু খামারির স্বার্থে নয়, পুরো জাতির স্বার্থে জরুরি। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকুক এবং ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ খাদ্য পেতে পারেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পোল্ট্রি খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশ থেকে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি শুরু হয়েছে, যা এ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, ভেজাল খাদ্য এবং মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং খামারিদের সমস্যা সমাধানে সরকার ধারাবাহিকভাবে মাঠপর্যায়ে মতবিনিময় করছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর গাজীপুর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার), বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধিদপ্তরে পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এস. এম. হারুন-অর-রশিদ। এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার আন্তর্জাতিক মানে নিতে সচেষ্ট সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় কূটনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই জার্মানি বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর একটি জার্মানি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৩৭ সাল থেকে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্পিকার আরও বলেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংকটে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী। দেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তার অবদান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি গভীরভাবে আস্থাশীল। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের মানুষ বারবার আত্মত্যাগ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি জানান, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় কূটনীতি আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্পিকার।

জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ ও উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

২০০৮ সালের নির্বাচন থেকেই ফ্যাসিবাদের পথে শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছিলেন। তার দাবি, তখন থেকেই দেশে গণতন্ত্র ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের নৈরাজ্যের পর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি সম্মেলনে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়েছিলেন। তখন ফ্যাসিবাদের নানা রূপ ও নৃশংসতা এতটা প্রকাশ পায়নি। কিন্তু দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারাতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাদের অনেককে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের স্বজনেরা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে ৬০ লাখের বেশি বিএনপির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা গায়েবি মামলা’ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন আইনমন্ত্রী। এসব মামলায় মৃত ব্যক্তিদেরও আসামি করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এমন নৃশংসতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে হয়েছে।

সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, মাত্র ২০ দিনের মধ্যে রাজপথে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে গুলি করে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে—এমন দাবি রয়েছে। তার অভিযোগ, এত মানুষের মৃত্যুর পরও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে যথাযথ দুঃখ প্রকাশ বা অনুতাপ দেখা যায়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৬ বছরের হত্যা, গুম, খুন ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মানুষ যখন আন্দোলন করছিল, তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকে গুরুত্ব না দিয়ে একদিকে লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার এবং অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে অভিহিত করার যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত পতনের কারণ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সফল গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—বেগম খালেদা জিয়ার এই স্লোগান আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে। বাংলাদেশ সব নাগরিকের—হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ চাকমা, মারমা ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার কথাও বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান।


নির্বাচিত

সরকার প্রতিশ্রুতি ভুলে উল্টো পথে হাঁটছে: জামায়াত আমির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকার দেশবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে উল্টো পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় প্রধান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বন্ধ বা খর্ব করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রবাসীদের প্রতি জুলুম হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রবাসীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার বন্ধ বা খর্ব করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের নাগরিক হিসেবেও তাদের অধিকার ভোগ করবেন—এটাই স্বাভাবিক।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে চতুর্থবারের মতো অচলাবস্থা যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের বিজয় চায়। সংসদে এবং সংসদের বাইরে অন্যায় ও জনস্বার্থবিরোধী কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা তার বিরুদ্ধে কথা বলবেন। জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বিরোধী দল ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মুখ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে তিনি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার যদি উল্টো পথে হাঁটে, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকারের উচিত জনগণের প্রত্যাশা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।


নির্বাচিত

banner close