সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১০ ফাল্গুন ১৪৩২

জিম্মি নাবিকরা ভালো আছেন, উদ্ধারের দিনক্ষণ বলা কঠিন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াইএনটি সেন্টারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:২১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:১৫

সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে আটক বাংলাদেশি নাবিকরা ভালো আছেন, তবে তাদের উদ্ধারের দিনক্ষণ বলা কঠিন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুর লেনস্থ ওয়াইএনটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছে আটক জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও নাবিকদের কখন উদ্ধার করা সম্ভব - সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলদস্যুদের হাত থেকে নাবিক এবং জাহাজ দুটোই উদ্ধার করার ক্ষেত্রেই অল্প সময়ের মধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, আশা করছি শিগগির তাদেরকে মুক্ত করতে পারব। তবে উদ্ধারের দিনক্ষণ বলাটা কঠিন।

‘নাবিকদের পরিবারকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছে, প্রথমত যারা অপহরণ করেছে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। দ্বিতীয়ত তাদের ওপর মনস্তাত্বিক প্রচুর চাপ তৈরি করা হয়েছে। নাবিকরা ভালো আছেন, নিয়মিতভাবে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এমনকি ভিডিও কলেও কথা বলছে। সুতরাং যে উদ্বেগটা কিছুদিন আগে ছিল সেটি এই মুহূর্তে নেই। আমরা আশা করছি তাদেরকে শিগগির মুক্ত করতে পারব’- বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির নেতা ড. আবদুল মঈন খানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘যাদের জন্মটাই অগণতান্ত্রিক আর প্রতিনিয়ত গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য অপচেষ্টা চালায়, সেই বিএনপি এখন গণতন্ত্রের কথা বলে, এটিই হচ্ছে দুঃখজনক। এটি যেন, চোরের মায়ের বড় গলা।’

তিনি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেছিল, ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়েছিল, ড. মঈন খান আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা যারা আছেন, তারা সেই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করার জন্য সন্নিবেশিত হয়ে বিএনপি গঠন করেছিলেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শুধু বিএনপির জন্মই অগণতান্ত্রিক নয়, তারা দেশে সবসময় গণতন্ত্র হরণ করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিডিআর বিদ্রোহের পিছনে তাদের হাত ছিল। নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার উদ্দেশেই সেটি ঘটানো হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ১৩ সালে কী ধরনের সন্ত্রাসী ও জঘন্য মানুষ পোড়ানোর মহোৎসব করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা তারা চালিয়েছিল, আপনারা জানেন। ১৪ সালের নির্বাচনে ৫০০ নির্বাচনি কেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং নির্বাচনি কর্মকর্তা ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছিল। সেটির উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে ভণ্ডুল করা, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা। ১৮ সালের নির্বাচনেও একই প্রচেষ্টা ছিল। সর্বশেষ ২৪ সালের বিগত নির্বাচন বর্জন করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হয়।’

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘গত মন্ত্রিসভার মিটিংয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় কিশোর গ্যাং নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বিভিন্ন জেলা শহরে এই কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কিশোর গ্যাংদেরকে গ্রেপ্তারের পর স্বাভাবিক জেলে না রেখে সংশোধনাগারে পাঠানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ, সাধারণ জেলে যদি তাদেরকে পাঠানো হয় সেখানে থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা আরো ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে পারে। দেশে এটি নতুন সমস্যা, এটিকে দূরীভূত করার জন্য সরকার কাজ করছে। কিশোর গ্যাংয়ের সাথে নেপথ্যে যেই থাকুক, সে যেই দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং হচ্ছে।’

সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের দেশে রমজান আসার আগে এবং রমজানের সময় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করার জন্য একটি অসাধু চক্র ও কিছু মজুদদার সবসময় সক্রিয় হয়। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। সেটির সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছিল বিএনপির ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাজারকে অস্থিতিশীল করা, পণ্যের মূল্য যাতে বাড়ে। কিন্তু সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবার রমজানের সময় বাজার স্থিতিশীল ছিল এবং অনেক পণ্যের দাম কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। কয়েক কোটি মানুষ যার যার গন্তব্যে যাচ্ছেন। এই সুযোগে পরিবহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বাড়তি ভাড়া আদায় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার বিষয়টি নজর রাখছে। এ ধরনের বাড়তি বাড়া আদায় অযৌক্তিক ও কোনভাবেই সমীচীন নয়।’


নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে: আমিনুল হক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রতিটি পরিকল্পনা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করব।’

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র রমজানের তৃতীয় দিনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

ইফতারসামগ্রী বিতরণকালে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে আমিনুল হক বলেন, ‘যারা ঘরে ঘরে গিয়ে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির নামে প্রতারণা করেছেন এবং মিথ্যাচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কেউ কেউ টাকা ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।’ এসব অপচেষ্টা থেকে সচেতন থাকার জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আমিনুল হক আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিটি কথা ও পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তব রূপ পাবে।’ এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


গুরুতর অসুস্থ হয়ে সিসিইউতে বিএনপি নেত্রী সেলিমা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তার অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন আছেন।

পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।

বেগম সেলিমা রহমানের রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থতা কামনায় তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।


১০ বছর ধরে হাজং ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় এক তরুণের চেষ্টা অব্যাহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের লাঙ্গলজোড় গ্রামের আদিবাসী হাজং সম্প্রদায়ের একটি বাড়ির আঙ্গিনায় পাটি পেতে বসে রয়েছে শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ। সবাই একজনের কথা মুগ্ধ হয়ে শুনছে। বক্তা সবার উদ্দেশে প্রশ্ন করছেন- বলেন তো চড়ুই পাখিকে হাজংদের ভাষায় কী বলা হয়? কেউ উত্তর দিতে পারছে না। বক্তা উপস্থিত বয়স্কদের উদ্দেশে বলেন- আপনারা কেউ বলতে পারেন।

কেউ উত্তর দিতে পারেননি। পরে বক্তা নিজেই জানান, চড়ুই পাখিকে হাজংদের ভাষায় বলা হয় আংরুক। বক্তার নাম অন্তর হাজং। বয়সে তরুণ আন্তর হাজংয়ের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী খুজিগড়া গ্রামে। তিনি দুর্গাপুরসহ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার হাজং সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে শিশুদের হাজং ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা দেওয়ার কাজ করে চলছে প্রায় ১০ বছর ধরে। তার স্বপ্ন হাজংদের নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি যেন হারিয়ে না যায়। অন্তত হাজংরা নিজেদের ঘরে মাতৃভাষায় কথা বলুক।

অন্তর হাজং ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তিনি সময় পেলেই ছুটে যেতেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায়। সেখানে তিনি হাজংদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিশুদের হাজং ভাষা শিক্ষা দিতেন। এখনো তিনি নিজের কার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন। তবে সরকারি বা বেসরকারি কোন ধরণের সহযোগিতা না পাওয়ায় কাজের মাত্রা অনেকটাই কমে গেছে বলে জানান অন্তর হাজং।

ধোবাউড়া উপজেলার একাধিক হাজং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তর হাজং শুধু শিশুদের হাজং ভাষা শিক্ষা দেওয়ার মধ্যেই থেমে থাকেন না। তিনি হাজং শিশুদের জন্য বই, খাতা, কলমসহ নানা ধরণের শিক্ষা উপকরণও কিনে দেন। বন্যা বা অন্যান্য দুর্যোগে হাজং সম্প্রদায়ের দরিদ্র পরিবারের পাশে সহায়তা নিয়ে দাড়ান তিনি। অনেক বছর ধরে এভাবে হাজং সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থেকে তিনি হাজংদের অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে উঠেছেন।

অন্তর হাজং বলেন, পৃথিবীর কোন ভাষার প্রতি তার কোন বিদ্বেষ নেই। সবার উচিৎ মাতৃভাষার চর্চা করা। সে তাড়না থেকেই তিনি হাজং শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাষা শিক্ষা দেন। ২০১৭ সাল থেকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

অন্তর হাজং বলেন, দিনে দিনে হাজংদের ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের বয়স্ক হাজং মানুষেরা নিজেদের ভাষা এখনো বলতে পারলেও শহরে বসবাস করা শিশুরা ভুলে যাচ্ছে নিজের এ মাতৃভাষা। এ অবস্থায় সবাই মিলে যদি কাজ না করি তাহলে এ ভাষা রক্ষা করা কঠিন হবে।

অন্তর হাজং বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এ কাজ করে গেলেও এখনো সরকারি বা বেসরকারি কোন পর্যায় থেকে এ কাজের জন্য কোন প্রকার সহযোগিতা পান না। যে কারণে কাজটি আগের চেয়ে অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। হাজং ভাষা রক্ষার জন্য পরিকল্পনা ও অর্থের প্রয়োজন।

অন্তর হাজং জানান, সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ হাজার হাজং থাকার কথা। তবে বাস্তবে আরও কয়েক হাজার বেশি রয়েছে। মযমনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ১০১টি গ্রামে হাজং পরিবার রয়েছে। ওই ১০১টি গ্রামেই হাজং ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ গ্রামই ঘুরা হয়েছে অন্তর হাজংয়ের। ওইসব গ্রামে ঘুরে ঘুরে বয়স্ক হাজংদের কাছ থেকে বিলুপ্ত হতে যাওয়া হাজং ভাষা ও সংস্কৃতির কথা শুনেন তিনি। পরে সেগুলো ব্যক্তিগত উদোগে সংরক্ষণ করেন। এভাবে হাজংদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় কাজ করে যেতে চান অন্তর হাজং।

হাজং সম্প্রদায়ের স্বচ্ছল কিছু মানুষের আর্থিক সহযোগিতা ও টিউশনি করিয়ে রোজগার করা নিজের টাকায় এ কাজের ব্যয়ভার বহন করা হয়।


জনগণের চাওয়া পাওয়া পূরণ করাই আমাদের লক্ষ্য: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে বর্তমান সরকার নির্বাচিত হয়েছে। জনগণের আস্থা ও সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই জনগণের চাওয়া পাওয়া পূরণ করাই হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

মন্ত্রী রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গৌরনদী উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড অডিটোরিয়ামে গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার ভোটকেন্দ্রিক নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্দেশে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের সরকার একটি জনবান্ধব সরকার। কেউ সরকারের লোক হয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতির কারণ হবেন না। রাজনীতি কোন পেশা হতে পারে না। আমরা রাজনীতি করেছি সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষার জন্য। দায়িত্ব, ধৈর্য, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি আস্থা ছাড়া অন্য কোন বিষয়ের সাথে আপস করা যাবে না।

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে মুক্ত, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল হিসেবে গঠন করতে হবে। সরকারি দলের প্রচার-প্রচারণার জন্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার না করে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় জনগণের কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় তিনি মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান।

বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস শিল্প ও রেমিট্যান্স বাদ দিলে আমাদের অর্থনীতির বড় একটি ভিত্তি হচ্ছে কৃষিখাত। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষি অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে আমাদের সরকার কৃষি কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে যাতে করে একজন কৃষক বীজ, কীটনাশক ও কৃষি যন্ত্রপাতি সহজে কিনতে পারে। এছাড়াও বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ ঘোষণা করেছে।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল, শ্রমিক দল, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


মাদক, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুদের সাথে আপস নেই: এমপি জাহান্দার আলী মিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে মাদারীপুর সদর-২ সংসদীয় আসনের (রাজৈর-মাদারীপুর) ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহনের পর তার নির্বাচনী এলাকা মাদারীপুরে ফিরে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি তার কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে মাদারীপুর সদরের প্রাণকেন্দ্র চাঁদমারী জামে মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে এ সময় তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সাথে কুশল বিনিময় করে তাকে সংসদ সদস্য হিসাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, আপনাদের সাথে নিয়ে আমি মাদারীপুরের উন্নয়নে কাজ করতে চাই, নতুন মাদারীপুর গঠন করতে চাই- যেখানে মাদক, কিশোরগ্যাং, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীদের কোনো প্রকার জায়গা হবে না, এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা আমার খুবই প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সুশিক্ষায় সচেতন ব্যক্তিরাই সমাজ সংস্কারে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে, কেননা সমাজের সবাই তাদের অনুসরণ করে, তাদের কথা শোনে, এক্ষেত্রে আপনারা হতে পারেন এই সংস্কার ও উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার।


শহীদ মিনারে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, দুই আ’লীগ নেতা আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা পৌর পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ ঘটনা ঘটে।

​আটককৃতরা হলেন,​ গাইবান্ধা শহর আ.লীগ নেতা ও বল্লমঝাড় ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইমারুল ইসলাম সাবিন এবং সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহীদ দিবসে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি দল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসে। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এতে দুই জনকে আটক করলেও বাকিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ​গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এবং নিষিদ্ধ কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে ওই দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।


বাংলা ভাষাকে মায়ের ভাষা বলতে হলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না: মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ এগুলা বাংলার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। এগুলা বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে তারপর ও আমি বলবো কারণ আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশরা এই দেশে অনেক ক্ষতি করে গেছে। আমাদের রাষ্ট্রভাষাকে চেপে ধরা হয়েছিল, আমাদের শোষণ করার জন্য। ৫৪ সালে যারা জীবন দিয়েছে তারাই ভাষা রক্ষার বীজ বপন করে গিয়েছিল। তোমরা যারা ইয়াং আছো তোমাদের ভাবতে হবে, না হলে কিন্তু আমাদের এক্সট্রিম রাইট চলে যাবে।

টুকু বলেন, নিজের ভাষাকে ঠিকমত জানার চেষ্টা করি নাই বলেই আমাদের মধ্যে ন্যাশনালিজমটা গ্রো করে নাই। নিজের ভাষা, নিজের দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে, অন্য কেও গড়ে দিবে না।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় ছাত্রদল নেতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী সংবাদদাতা

রাজবাড়ী সদরে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পুলিশ পাহারায় পিতার জানাজায় এসেছে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন পাটোয়ারী(২৮)।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের নিমতলা গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে ঈদগাহ মাঠে পিতার জানাজাতে অংশ নেন তিনি।

মো. আলাউদ্দিন পাটোয়ারী রাজবাড়ী সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার পিতার নাম শুকুর পাটোয়ারী। আলাউদ্দিন অস্ত্র মামলায় কারাবন্দী রয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে আলাউদ্দিন পাটোয়ারীর পিতা শুকুর পাটোয়ারী মারা যান। পিতাকে একনজর শেষ দেখা ও জানাজায় অংশ নিতে পরিবার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করে। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা আক্তারের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত দেড় ঘন্টার জন্য আলাউদ্দিনের প্যারোলে মুক্তি মেলে। পরে পুলিশ পাহারায় আলাউদ্দিন তার পিতার জানাজাতে অংশ নেন।

রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুল ইসলাম জানান, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে পুলিশি পাহারায় সন্ধ্যায় পিতার জানাজায় আলাউদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা শেষে তাকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর নিমতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে জার্মানির তৈরি একটি রিভলবার ও একটি রামদাসহ আলাউদ্দিন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় অস্ত্র মামলা রুজু হলে বিজ্ঞ আদালত ছাত্রদল নেতা আলাউদ্দিনকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করে।


দিনাজপুরে কোন চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না: সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, দিনাজপুরের কোন চাঁদাবাজ তো মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় জেল রোডের দলীয় কার্যালয়ে দিনাজপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকল্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণগান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বিএনপি ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশিত উন্নয়নের রোডম্যাপের আলোকে দিনাজপুর জেলার জন্য বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৮টি অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও আবাসনখাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ৩১ দফার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই প্রতিটি পরিবারের নারীর নামে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা, ভর্তুকি, সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় সেবাসমূহ সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

দিনাজপুরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল বিগত বিএনপি সরকারের আমলে প্রয়াত মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের উদ্যোগে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সেই সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে এবং দিনাজপুরবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা অতীতের দিকে না তাকিয়ে আগামীর দিনাজপুর গড়তে চাই। উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সবার সহযোগিতায় পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে চাই।

দিনাজপুরের প্রধান সমস্যার মধ্যে রয়েছে ভারী শিল্পকারখানার অভাব, অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ২/৩ লেনবিশিষ্ট সড়কের অভাব এবং সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের বিস্তার যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বেকারত্ব, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় হাসকিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বড়মাঠ সংক্রান্ত চলমান সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধানে আমরা দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং সরকারি-বেসরকারি সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রশাসনের সকল স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা হবে। দিনাজপুরকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বপ্রথম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে। দিনাজপুরে কোনো চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবেনা। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা কররন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতারা ও দিনাজপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা জানানো প্রসঙ্গে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পুণ্যলগ্নে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রথমবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অতীতের সকল রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতিকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ও শত্রুতা আঁকড়ে ধরে না রেখে সম্মুখপানে এগিয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থান এবং অতীতে তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জামায়াত দেশে এবং বিদেশে তাদের অতীতের অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। যদিও সেই ক্ষমার ভাষা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে, তবুও তাদের এই পরিবর্তিত অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, জাতি কি এখনো সেই পুরনো বিভাজনকে পুঁজি করে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে, যেভাবে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার দেশটিকে চরম মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? বিভাজনের রাজনীতি দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলেই তিনি মনে করেন।

বক্তব্য চলাকালে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্যই ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা। বর্তমান সরকার দেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে সকল রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের মানুষ জাতীয় দিবসগুলো একসাথে পালন করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের বর্তমান সংকটগুলো মোকাবিলা করতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল শক্তিকে দেশের স্বার্থে এক হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বিভাজনের কোনো স্থান নেই বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য যে, এ বছরই প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর এমন উদার ও ঐক্যকামী অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে একটি শান্তিময় ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের প্রত্যাশা করছে। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সকলের অংশগ্রহণে দিবসটি পালিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।


প্রথমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। আজ শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে জামায়াত আমির ও জাতীয় সংসদের বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে এই শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধানিবেদন শেষে তাঁরা শহীদ বেদিতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন, কারণ অতীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কখনো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে এভাবে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করার নজির ছিল না। এবারই প্রথম দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হিসেবে এবং বিরোধীদলীয় জোটের নেতা হিসেবে ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁদের পর পর্যায়ক্রমে তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পরপরই বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা শহীদ মিনারে প্রবেশ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এবারের একুশের উদযাপন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে একুশের মূল চেতনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত ও তাদের জোটের এই শ্রদ্ধা নিবেদন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে অমর একুশে।


সংরক্ষিত নারী আসন পেতে বিএনপিতে আলোচনায় যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

বিএনপি সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হবে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়তে পারে। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেত্রীরা। তবে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব নারী রাজপথে ছিলেন তারাই এই সংরক্ষিত নারী আসনের দাবিদার—এমনটি বলেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রীরা।

জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মহিলা দলের ত্যাগী নেত্রী ও অপেক্ষাকৃত তরুণদের জায়গা দেবে হাইকমান্ড। তাদের সঙ্গে প্রবীণ নেত্রীরাও জায়গা পাবেন। ২০০১ সালে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, তাদের অনেকে বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। কেউ কেউ এখনো রাজনীতির মাঠে আছেন। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ এবারও জায়গা করে নিতে পারেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনে সর্বাগ্রে আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি এবং মন্ত্রী ছিলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী আছেন প্রথম কাতারে। তাদের সঙ্গে আছেন ইডেন কলেজ কাঁপানো ছাত্রদল নেত্রী, মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা; সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী; সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)-এর মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।

আলোচনায় আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সিনেট সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি; ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া; রাশেদা বেগম হীরা; সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু; ইয়াসমিন আরা হক; জাহান পান্না; বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন।

আলোচনায় আরও রয়েছেন—মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুন রায় চৌধুরী; মহিলা দল নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী; শাহানা আক্তার সানু; নিয়াজ হালিমা আর্লি; রাবেয়া আলম; ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের দাবিদার অন্যরা হলেন—মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস; ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি; সেলিনা সুলতানা নিশিতা; নাদিয়া পাঠান পাপন; শাহিনুর সাগর। আরও আলোচনায় আছেন চেমন আরা বেগম, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপাও।

নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় তারা। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বিএনপি ২১১ আসনে জয়ী হয়েছে। এ হিসেবে বিএনপি সংরক্ষিত আসন পাবে ৩৬টি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি। তারা নারী আসন পাবে ১২টি। এনসিপি ৬টির বিপরীতে ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টির বিপরীতে ১টি আসন পাবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।


জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও সংগঠনটির সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সেই চিঠিটি পাঠ করার সময় তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় নারীদের রাষ্ট্রপ্রধান বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান হওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা সরাসরি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

রোবাইয়াত ফাতিমা তনি আরও জানান, আরপিও অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল যদি লিঙ্গ সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেই দলের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য।

রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই আদর্শকে চরম অসাংবিধানিক অভিহিত করে তিনি বলেন, নারীর সম্মান ও অধিকার নিয়ে কোনো রাজনৈতিক আপস হতে পারে না।

এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, দলটির আমিরের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। একইসাথে নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।


banner close