সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে আটক বাংলাদেশি নাবিকরা ভালো আছেন, তবে তাদের উদ্ধারের দিনক্ষণ বলা কঠিন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুর লেনস্থ ওয়াইএনটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছে আটক জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও নাবিকদের কখন উদ্ধার করা সম্ভব - সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলদস্যুদের হাত থেকে নাবিক এবং জাহাজ দুটোই উদ্ধার করার ক্ষেত্রেই অল্প সময়ের মধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, আশা করছি শিগগির তাদেরকে মুক্ত করতে পারব। তবে উদ্ধারের দিনক্ষণ বলাটা কঠিন।
‘নাবিকদের পরিবারকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছে, প্রথমত যারা অপহরণ করেছে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। দ্বিতীয়ত তাদের ওপর মনস্তাত্বিক প্রচুর চাপ তৈরি করা হয়েছে। নাবিকরা ভালো আছেন, নিয়মিতভাবে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এমনকি ভিডিও কলেও কথা বলছে। সুতরাং যে উদ্বেগটা কিছুদিন আগে ছিল সেটি এই মুহূর্তে নেই। আমরা আশা করছি তাদেরকে শিগগির মুক্ত করতে পারব’- বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির নেতা ড. আবদুল মঈন খানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘যাদের জন্মটাই অগণতান্ত্রিক আর প্রতিনিয়ত গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য অপচেষ্টা চালায়, সেই বিএনপি এখন গণতন্ত্রের কথা বলে, এটিই হচ্ছে দুঃখজনক। এটি যেন, চোরের মায়ের বড় গলা।’
তিনি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেছিল, ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়েছিল, ড. মঈন খান আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা যারা আছেন, তারা সেই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করার জন্য সন্নিবেশিত হয়ে বিএনপি গঠন করেছিলেন।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শুধু বিএনপির জন্মই অগণতান্ত্রিক নয়, তারা দেশে সবসময় গণতন্ত্র হরণ করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিডিআর বিদ্রোহের পিছনে তাদের হাত ছিল। নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার উদ্দেশেই সেটি ঘটানো হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ১৩ সালে কী ধরনের সন্ত্রাসী ও জঘন্য মানুষ পোড়ানোর মহোৎসব করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা তারা চালিয়েছিল, আপনারা জানেন। ১৪ সালের নির্বাচনে ৫০০ নির্বাচনি কেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং নির্বাচনি কর্মকর্তা ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছিল। সেটির উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে ভণ্ডুল করা, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা। ১৮ সালের নির্বাচনেও একই প্রচেষ্টা ছিল। সর্বশেষ ২৪ সালের বিগত নির্বাচন বর্জন করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হয়।’
চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘গত মন্ত্রিসভার মিটিংয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় কিশোর গ্যাং নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বিভিন্ন জেলা শহরে এই কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘কিশোর গ্যাংদেরকে গ্রেপ্তারের পর স্বাভাবিক জেলে না রেখে সংশোধনাগারে পাঠানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ, সাধারণ জেলে যদি তাদেরকে পাঠানো হয় সেখানে থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা আরো ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে পারে। দেশে এটি নতুন সমস্যা, এটিকে দূরীভূত করার জন্য সরকার কাজ করছে। কিশোর গ্যাংয়ের সাথে নেপথ্যে যেই থাকুক, সে যেই দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং হচ্ছে।’
সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের দেশে রমজান আসার আগে এবং রমজানের সময় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করার জন্য একটি অসাধু চক্র ও কিছু মজুদদার সবসময় সক্রিয় হয়। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। সেটির সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছিল বিএনপির ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাজারকে অস্থিতিশীল করা, পণ্যের মূল্য যাতে বাড়ে। কিন্তু সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবার রমজানের সময় বাজার স্থিতিশীল ছিল এবং অনেক পণ্যের দাম কমেছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। কয়েক কোটি মানুষ যার যার গন্তব্যে যাচ্ছেন। এই সুযোগে পরিবহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বাড়তি ভাড়া আদায় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার বিষয়টি নজর রাখছে। এ ধরনের বাড়তি বাড়া আদায় অযৌক্তিক ও কোনভাবেই সমীচীন নয়।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যারা ভারতের পক্ষের শক্তি ছিল তারা ভারতে পালিয়েছে। আরেকটি শক্তি বিদেশি শক্তির গোলামি করে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি করে রাজনীতি করছে। আমরা বাংলাদেশের শক্তি, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের শক্তি। আমাদের স্লোগান হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জুমার নামাজের আগে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর গ্রামে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের মালিকানা ফেরত পেয়েছি, অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্ত করতে পেরেছি, সেই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করে আমরা সবাই মনে করি আমরা প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের মালিক। সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে, মুক্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’
উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, প্রগতির সবকিছুর জন্য বিএনপি আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাভিত্তিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। সেই প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা প্রত্যেকেই আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন দেবেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি প্রগতির বিকল্প নাম বিএনপি। গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি। সুতরাং আমরা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। সকল কিছুর ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে তুলে ধরব। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে ভবিষ্যতে আমরা একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করব।’
পথসভা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া উপজেলা সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দেন। তাকে ঘিরে ছোট ছোট শিশু কিশোররাও আনন্দে মেতে উঠেন।
এ সময় তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হলে সবার একই পরিণতি হবে- এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছে। শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে প্রচারণার শুরুতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট এলাকায় লবণশ্রমিকদের কাছে যান তিনি।
লবণমাঠে নিয়োজিত শ্রমিকদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপির আমলে আমরা লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করেছিলাম। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আবার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এখন অস্থায়ী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের বলে আপাতত লবণ আমদানি বন্ধ করেছি।’
নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি ছাড়া কেউ জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে না। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি লবণচাষিদের স্বার্থে কাজ করবে। চাষিদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে রায় দিতে হবে।’
বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, তাহলেই একমাত্র এলাকার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতে পারবেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন।
১৫ বছরের দুঃশাসন পেছনে ফেলে জনগণ এখন বড় পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলাকার সমস্যা যদি সমাধান করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। ভোট দিয়ে তার নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একইসঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী।’ এ সময় জনসভা মঞ্চে স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে ভাষানটেকের মৌলিক সমস্যার কথাও শোনেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শোনে সমাধান করবেন।’
এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড, ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এ ছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যাওয়া বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে।’ নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করাসহ তাদের ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার উন্নতি হয়েছে মানুষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারাদেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার আত্মীয়-স্বজনকেও অনুরোধ করবেন, ধানের শীষে ভোট দিতে।’
বক্তব্য শুরুর আগে ভাষাণটেকের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় একজন ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী, ছাত্রদের সঙ্গে ভাষাণটেকের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন তিনি। নির্বাচিত হলে তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত হন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক উপস্থিত হন। বাদ মাগরিব কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এদিকে সমাবেশে নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই ভাসানটেক বিআরপি মাঠ ও আশপাশের সড়কে যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবকদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। জনসভায় অংশগ্রহণকারী নারী নেতা-কর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থাও করা হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেতা-কর্মী মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, এটা ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত। আমি মনে করি যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের প্রতিটি দলই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। কেউ সরাসরি, কেউ ইনডাইরেক্টলি (পরোক্ষভাবে)। আমি প্রথমত মনে করি, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবটাকে আন্তর্জাতিকভাবে বলা হয়, এটা রেজিম চেঞ্জ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ফরহাদ মজহার।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। জামায়াত যদি বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন চালু করতে চায়, তাহলে সেটা করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে ফরহাদ মজহারের মন্তব্য জানতে চান তিনি।
এ কথা তিনি শুরু থেকে বললেও সাংবাদিকেরা গুরুত্ব দেননি বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ মজহার। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি গণ অধিকার পরিষদ ও গণঅভ্যুত্থানের আগেও আমি বলেছি যে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে সরানো এটা কোনো ইস্যু নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রই সরিয়ে দেবে। আমাদের কাজ হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র কী করে আমরা গঠন করব। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র একটা ভূরাজনৈতিক শক্তি এবং পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক আইন বলে কিছু নাই। দেখেছেন ট্রাম্পের যে আচরণ। এই রূঢ় বাস্তবতা, এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে আমার চিন্তা, আমি ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে বেঁচে থাকব কী করে? আমার প্রশ্ন খুব সহজ। আমি ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে ডাল-ভাত দিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাই না।’
প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ মজহার আরও বলেন, ‘আপনারা অনেকে ভারতবিরোধিতার কথা বলেন, ভারতের আধিপত্য আমি স্বীকার করি। কিন্তু আপনারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কথা বলেন না কেন? কী জন্য বলেন না? জামায়াত তো বলে নাই, গাজাতে (ফিলিস্তিনের) এই যে স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) যাচ্ছে, আমার সেখানে আপত্তি আছে। তবে বোঝা গেল জামায়াতের সঙ্গে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের একটা নীতি, একটা সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই বক্তব্যটা দিচ্ছে। এটা আমি ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত হিসেবে দেখি।’
সভায় বক্তব্যে সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে ছাত্র-জনতা ও সৈনিকদের মৈত্রীর ভিত্তিতে। সৈনিকেরা কৃষক ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান। তাদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা বিপজ্জনক।’
গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কোনো আন্তর্জাতিক সামরিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের জীবনধারণ নিশ্চিত করার মতো একটি রাষ্ট্র গঠন কিন্তু সেই লক্ষ্য উপেক্ষিত হয়েছে। এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘লুটপাটতন্ত্র উৎখাত না করে নির্বাচন করলে সেই সরকার জনগণের হবে না।’ সে কারণে নির্বাচন নয়, আগে রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ মজহার।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, এসব সংকট প্রাকৃতিক নয়, বরং কাঠামোগত ও রাজনৈতিক। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, এটি লুটপাটমূলক ব্যবস্থার প্রমাণ। তিনি বলেন, উৎপাদন না করেও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকেরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা নিচ্ছে। আইন পরিবর্তন না করে এই সংকট দূর হবে না।
বিশুদ্ধ পানির সংকট রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, নদী দখল ও বাণিজ্যিক লুণ্ঠনের ফল বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘জনগণের জীবনধারণের মৌলিক শর্ত- খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও জমির ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই প্রকৃত রাজনীতি। নির্বাচন এখন লুটপাটের ভাগ–বাঁটোয়ারার রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। জনগণের রাজনীতি মানে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা।’
গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ নামের একটি সংগঠন এই সভা আয়োজন করে। সভায় আলোচনকদের মধ্যে আহমেদ ফেরদৌস, ভাববৈঠকীর সংগঠক মোহাম্মদ রোমেল উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ৩ বারের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘নেতৃত্ব মানে শুধু মঞ্চে দাঁড়ানো নয়, মানুষের মাঝে মিশে যাওয়া। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার গণমানুষের মাঝে মিশে যেতে চাই।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারও জনতা, নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগ দেন। এ সময় স্লোগান ও পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল। সভায় উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের কথা বলে নিজেদের পকেটের উন্নয়ন করা হয়েছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের উন্নয়ন হয়েছে। বাড়ি-গাড়ি- সবই হয়েছে।’ ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোট না চেয়েও পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ছিল। তারপরেও আমি জয়ী হয়েছিলাম মানুষের ভালোবাসার ভোটে। ওই সময় আমি বামনা-পাথরঘাটায় যে উন্নয়ন করেছিলাম, তা স্বাধীনতার পরে কেউ করতে পারেনি। তবে শুনেছিলাম হাসিনার আমলে এখানে অনেক উন্নয়ন হয়েছে; কিন্তু যা দেখলাম তাতে হাসিনার জন্যও দুঃখ হয়েছে, আপনাদের জন্য আরও বেশি দুঃখ হয়েছে। কারণ, এখানের রাস্তাঘাট ভাঙা। প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন হয়েছে। মানুষ দুঃখ-কষ্টে আছে। এত উন্নয়ের কথা বলে, ফাঁকি দিয়েছে। কিন্তু তারা নিজের পেট ভরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে, বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে জনগণ ও প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’ তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে গুপ্ত হামলা চালানো হচ্ছে।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নানা ধরনের অরাজকতা সংঘটিত করছে।’
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে (৪২) গুলি করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘হাসান মোল্লার হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার বিকল্প নেই। তা না হলে তারা আরও বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মতনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ক্রমবর্ধমান অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে অবশ্যই দেশে ভয়শূন্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
এদিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল টহরী বাজারে গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন একমাত্র ধানের শীষ করতে পারবে আর কেউ করতে পারবে না। আমরা সেই জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক। যাদের আপন ভেবে মানুষ কাঁদে।’
ভোটারদের সজাগ করে তিনি বলেন, ‘সামনের মাসে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। একটা দল ভোট চাইতে আসছে আপনাদের কাছে। দাঁড়িপাল্লার কথা বলছে। তারা কখনো কী সরকারে গেছে? আপনাদের জন্য কোনো কাজ করছে? করে নাই। আমরা কাজ করছি। আমরা (বিএনপি) পরীক্ষিত দল। আপনাদের কাছে ভোট চেয়েছি। আপনারা ভোট দিয়েছেন। আমরা সরকারে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি।’
এ সময় সরকারে থাকাকালীন যেসব উন্নয়ন করেছেন সেসব উন্নয়ন তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো এখন আর কেউ নেই। তাই সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন।’
মির্জা ফখরুল উপস্থিত ভোটারদের কাছে জানতে চান গত পনেরো বছরে আপনারা কি কেউ ভোট দিতে পেরেছেন। জবাবে ভোটাররা বলেন পারিনি। তিনি বলেন, ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়েগেছে। আবার কখনো ভোটটা নিয়ে চলেগেছে। এই ছিল গত পনেরো বছর। এখন একটা সুযোগ আসছে, আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছে ভারতে। চলেগেছেন ভালো করছেন। কিন্তু আপনাদের যারা সমর্থন করত তাদের বিপদে ফেলেগেছেন। আমরা বলছি যারা নিরঅপরাধ তাদের কেউ বিপদে পড়বে না। আমরা আছি তাদের পাশে। যারা অন্যায় করেনি তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না। আমি আমার এলাকার হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করি। আমাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। সবাইকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু লোক হিন্দু-মুসলিম ভাগ করতে চাই। কিন্তু আমাদের ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা হিন্দু-মুসলিম একসাথে বসবাস করি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পথসমাবেশ কর্মসূচিতে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী রোডে মৌচাক এলাকার একটি গলিতে পথসমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ডিজিটাল ক্যাম্পেইন টিমের ব্যবস্থাপক শামিল আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মৌচাক এলাকায় বাংলা টিভির গলিতে প্রচারণা চলছিল। এ সময় বাংলা টিভির বিপরীত দিকের ভবন থেকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। এরপর আমরা ওই এলাকার কর্মসূচি যথাসম্ভব দ্রুত শেষ করে পরীবাগে চলে আসি।’
শামিল আব্দুল্লাহ জানান, এ ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অক্ষত আছেন। তিনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় মৌচাক এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় হঠাৎ পাশের একটি ভবন থেকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। ডিম নিক্ষেপের পরপরই সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে দলের কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে জুলাই না হলে, আজ আমরা এখানে এসে কথা বলতে পারতাম না। তাই আমরা চাঁদা নেব না আর কাউকে চাঁদা নিতে দেব না। নিজেরা দুর্নীতি করব না আর কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না।
তিনি নারীদের ব্যাপারে বলেন, ‘তারা মায়ের জাতি। আমরা তাদের জন্য একসাথে বাড়িতে ও চাকরিতে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি গড়ে তুলব। আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। একটি আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। টাকা দিয়ে যাতে বিচার কেনা না যায় সেই ব্যবস্থা করব।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর ঐতিহাসিক গোরে শহীদ ময়দানে জেলা ১০ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিন ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসেন। সেখানে জনসভা শেষে তিনি দিনাজপুর বড়ময়দানের জনসভায় যোগ দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ধর্মে ধর্মে সংঘাত হবে না। বাংলাদেশের টাকা চুরি করে বেগমপাড়া তৈরি করা হবে না। যারা টাকা চুরি করে বেগমপাড়া তৈরি করেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগ জোগান দেয় দিনাজপুর। এই দিনাজপুরে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। আলু ও লিচুর জন্য লিচুর জন্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করা হবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
এর আগে শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে। আমি সেই বঞ্চনার সাক্ষী হতে এসেছি। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে আগামীতে আমরা আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। সবার হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল খুলে দিতে চাই। শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিতে চাই।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষ আওয়াজ দেয় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ওই টেকনাফের উন্নয়ন জোয়ার আর আসতে পারে না এই তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টায় দেব, বলব তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হয়েছে, এখন ব্যাল্যান্স হওয়া দরকার। এখন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।’
উত্তরাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলো নিয়ে তিনি বলেন, ‘চারটা বিশাল নদী আল্লাহর নেয়ামত—তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র এবং করতোয়া। আজকে আসতে আসতে ওপর থেকে দেখলাম, নদী নয় মরুভূমি। মরে কঙ্কাল হয়ে আছে নদীগুলো। এ দেশের কি কোনো মা-বাবা ছিল না? তাহলে আমার নদী মরে গেল কেন?’
আওয়ামী নেতাদের দেশ ত্যাগের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব। দেশবাসীকে চরম দুঃখ ও বিপদের সময় ফেলে কোথাও যাইনি। আগামীতে আপনাদের ফেলে কোথাও যাব না। যদি আপনাদের মূল্যবান ভোটে, ভালোবাসায়, সমর্থনে দশ দলের এই সমন্বয়কে পার্লামেন্টে পাঠান, যেন সরকার গঠন করতে পারে—আমরা কথা দিচ্ছি শুধু নদীর জীবন ফিরে আসবে না, মানুষেরও জীবন প্রাণচঞ্চল হয়ে ফিরে আসবে।’
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য হন্যে হয়ে দৌড়াতে হয় রাজধানী ঢাকায়। এই সামর্থ্য সবার নেই। যাওয়ার পথে রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এই অবস্থা আমরা দেখতে চাই না। আমাদের দায়িত্ব দিলে ১৮ কোটি মানুষের ৬৪ জেলায় কোথাও মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। পঞ্চগড়েও মেডিকেল কলেজ হবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধা সফরে আসছেন। এ উপলক্ষে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, জনসভায় প্রায় দুই লাল মানুষের সমাগম হতে পারে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে নির্বাচনী জনসভা ও আমীরে জামায়াতের আগমন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা আমির, গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আব্দুল করিম, জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা জহুরুল হক সরকার, জেলা সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. ফয়সাল কবির রানা, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি মো. খায়রুল আমীন, গাইবান্ধা পৌরসভা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জোবায়ের আলী, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ফেরদৌস সরকার রুম্মানসহ অন্যান্য নেতা।
নেতারা জানান, পলাশবাড়ি এস. এম. পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখবেন, গাইবান্ধা জেলার সাবেক আমির ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতা। আর সভায় সভাপতিত্ব করবেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম।
নেতারা আরও জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় ৬০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। থাকবে নিরাপত্তাবেষ্টনি, মেটাল ডিটেক্টরসহ বিশেষ সিকিউরিটি টিম।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্বে নেতারা অভিযোগ করেন, দাড়িয়াপুর এলাকায় তাদের নির্বাচনী পোস্টার ও পোস্টার টানানো খুঁটি উপড়ে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নির্বাচনী মাঠে সকল প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে গাইবান্ধা ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার কর্মী সম্মেলনে আসছিলেন শফিকুর রহমান।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ইতিপূর্বে শাস্তিপ্রাপ্ত জয়পুরহাট ও নেত্রকোনার ২ নেতার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার নেতা মো. রেজাউল করিম সরদার এবং নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ারা বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে দল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তাদের ওপর থেকে পূর্বের শাস্তিমূলক আদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তির ভাষ্যমতে, ‘ইতোপূর্বে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জয়পুরহাট জেলাধীন আক্কেলপুর পৌরসভার বিএনপি নেতা মো. রেজাউল করিম সরদার, নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ারা বেগমকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
এর আগে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) পৃথক এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলাধীন ৩নং ইকরচালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করে দল। সেখানেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ‘ইতোপূর্বে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য রংপুর জেলাধীন তারাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ৩নং ইকরচালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত বুধবার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ মূলত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এসব নেতাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাদের অনুতপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে হাইকমান্ড থেকে পুনরায় তাদের স্বপদে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম মন্তব্য করেছেন যে, কেবল সংস্কার বা জোড়াতালির মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের দুই দিনব্যাপী প্রথম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘সংস্কার বা জোড়াতালি দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা আসবে না।’ তিনি দেশ ও জাতির সামগ্রিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৮ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সারাদেশে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফয়জুল হাকিম উল্লেখ করেন যে, সংগঠন ব্যতিরেকে শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন সফল হওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, ‘শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগ্রাম বিকশিত করার একমাত্র পথ সংগঠন গড়ে তোলা।’ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনিজুয়েলায় পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
উদ্বোধনী পর্বের শেষে একটি র্যালি বিএমএ ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত অধিবেশনে মিলিত হয়। অধিবেশনে ফয়জুল হাকিম, সজীব রায় ও ভুলন ভৌমিককে নিয়ে তিন সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী গঠন করা হয়। ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনে জাতীয় গণফ্রন্ট সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম, লেখক শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শফী রহমান এবং ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও অধিবেশনে ড. আকমল হোসেনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর আব্বাস। জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার লড়াই জোরদার করতে সর্বত্র সংগঠন ছড়িয়ে দেওয়ার সংকল্পের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম এগিয়ে চলে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অনেকেই যুবক বেকারদের বেকারভাতা দিতে চাইছেন, আমরা বেকার ভাতা দিয়ে কারও হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাইনা, আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। কাজ করার জন্য শুধু তিনটা শর্ত মেনে নিতে হবে। দূর্নীতি নিজে করবেন না এবং কোন দুর্নীতিবাজকে বগলের নিচে আশ্রয় দিবেননা। গরীব ধনী, নারী পুরুষ সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিৎ করা হবে। সে বিচারে কেউ রাজনীতিবিদ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা। বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। ৫৪ বছরের বস্তা পঁচা রাজনীতি, যেটা দুর্নীতি আর দু:শাসনে দেশকে ডুবায় ফেলা হয়েছে এসব কিছু বদলাতে হবে। বৈষম্য বদলাতে হবে।
উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির।
এ সময় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে জামায়াত মনোনিত প্রার্থীদের জন্য জনগণের কাছে সমর্থন আশা করেন।
"চলো এক সাথে গড়ি বাংলাদেশ" এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোনাইমুড়ীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে গণ সংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটের মধ্যমে শহীদদের বদলা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসন হতে দাঁড়িপাল্লার মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় সোনাইমুড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, দূর্নীতি, চাঁদাবাজ, ফ্যাসিবাদ, ইনসাফ ভিত্তিক, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দাঁড়িপাল্লার পক্ষে তাদের রায় ঘোষণা করবেন। ঐ দিন তারা হ্যাঁ ভোট প্রদানের কথা জানান।
নোয়াখালী-১ আসন হতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, আজকের এই গণসংযোগের মাধ্যমে প্রমান হয়েছে এই দেশবাসী আর কোনো ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও লুটতরাজদের চায়না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে শহীদদের বদলা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, বিগত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেউ কোনো চাঁদাবাজি করেনি। সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়নি। কোনো মামলা বানিজ্য করেনি। এই জাতি ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা জামায়াতে আমির হানিফ মোল্লা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী জেলা উত্তর সেক্রেটারী মুজাহিদুল ইসলাম সহ পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা।
দীর্ঘ ২ দশক পর চট্টগ্রাম আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় মহা-সমাবেশে ভাষণ দেবেন তিনি। পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণাও চালাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের এ মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রামের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতা-কর্মীদের আশা রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্মরণকালের মহা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। সমাবেশে ১০ থেকে ১৫ লাখ লোকের সমাগম হবে বলেও মনে করছেন তারা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর সফল করতে মঞ্চ স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করছেন স্থানীয় নেতারা।
ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে সার্বিক বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নেতা-কর্মীদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজ শনিবার রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌছাবেন এবং রাতে নগরে অবস্থান করবেন। কাল রোববার বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সমাবেশ নয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতা–কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন এ মহাসমাবেশে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার সন্তান তারেক রহমান বক্তব্য দিবেন।
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন ২০০৫ সালে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় এসে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভা করেছিলেন। এরপর এক-এগারো পরবর্তী জরুরি অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। দেড় দশক পর দেশে ফিরে তিনি পিতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম শহরে আসছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, আজ শনিবারের মধ্যেই মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকির জন্য বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) থাকবে। তিনি আরও বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসার পর মানুষের যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনই দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের মহাসমাবেশকে ঘিরে। শুধু চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ নগর বিএনপি না, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি ও সাধারণ মানুষ তাকে দেখার জন্য, বক্তব্য শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে তারা ধারণা করছেন।
এ দিকে যুবদলের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি সভাসহ নানা প্রচার চালানো হচ্ছে। নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ জানান, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান আসছেন, এতেই নেতা–কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১ লাখের বেশি নেতা–কর্মী সমাবেশে অংশ নেবেন। তারেক রহমানের মহাসমাবেশের জন্য ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রস্থ মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। আজ শনিবারের মধ্যে মঞ্চ তৈরি সম্পন্ন হবে। সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা থাকবেন। এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরের অংশে সমাবেশে আসা মানুষ অবস্থান নেবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, মঞ্চসহ পুরো এলাকায় পুলিশের ৩ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।