বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ ফাল্গুন ১৪৩২

‘আমাদের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাব বিজয়ের স্বর্ণ তরণ অভিমুখে’

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:৫২

আজকের এই দিনে বিএনপিসহ স্বাধীনতা বিরোধী সন্ত্রাসী শক্তির সকল অপশক্তিকে, যারা আমাদের বিজয়কে সংহত করার পথে প্রতিবন্ধক তাদেরকে আমরা পরাজিত, পরাভূত এবং প্রতিহত করার পাশাপাশি আমাদের লড়াইকে বিজয়ের স্বর্ণ তরণ অভিমুখে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বুধবার সকালে মুজিবনগন দিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিবনগর দিবসে আওয়ামী লীগের শপথের কথা জানিয়ে তিনি এসময় বলেন, ‘বিএনপিসহ স্বাধীনতা বিরোধী সন্ত্রাসী, সব অপশক্তি যারা আমাদের বিজয়কে সংহত করার পথে প্রতিবন্ধক; তাদের আমরা পরাজিত করবো।’

‘আজকের এই দিনে আমরা শপথ নেবো- মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে ধারাবাহিক লড়াইয়ে আমরা এগিয়ে যাব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে আমরা বয়ে নিয়ে যাব। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং সেখান থেকে ২১০০ সালের বদ্বীপ বাংলায়। এটাই হোক আমাদের শপথ’- বললেন ওবায়দুল কাদের।


ছাত্রনেতা থেকে জননেতা, মন্ত্রিসভায় জহির উদ্দিন স্বপন

ছবি: পতাকা হাতে জনতাকে নেতৃত্ব দেওয়া জহির উদ্দিন স্বপন
আপডেটেড ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৩:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্রনেতা হিসেবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু জহির উদ্দিন স্বপনের। বছর তিনেক পর যোগ দেন বিএনপিতে। পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে পালন করেন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক। বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কও ছিলেন তিনি। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন স্বপন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। প্রায় ৫৪ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হন স্বপন। এর মধ্য দিয়ে দেড় যুগ পর আসনটি পুনরুদ্ধার করলো বিএনপি। জহির উদ্দিন স্বপনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবেই আসনটি পুনরুদ্ধার হলো।



বিএনপির এই ত্যাগী নেতার মন্ত্রীত্বের খবরে নির্বাচনী এলাকায় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক উচ্ছ্বসিত। সন্ধ্যার পর বিতরণ করা হয় মিষ্টি। বের হয় আনন্দ মিছিল। স্বপন ভাই স্বপন ভাই বলে নেতা-কর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা।

জানা যায় , জহির উদ্দিন স্বপন ১৯৯৬ সালে প্রথমবার বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচেনও তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মত সংসদে যাচ্ছেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন এর আগে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এসব কমিটিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য, প্রশংসনীয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জহির উদ্দিন স্বপনের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। দুবার তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। এ ছাড়া মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা বিশ্বব্যাপী আইনপ্রণেতাদের নির্দলীয় নেটওয়ার্ক ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)’-এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করা স্বপনের মূল দক্ষতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা।

মন্ত্রী হিসেবে ডাক পাওয়ার পর জহির উদ্দিন স্বপন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। তাদের বিশ্বাস, ভালোবাসার মূল্য দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করতে চাই। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’


নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ফারজানা শারমিন, এলাকায় খুশির বন্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকায় খুশির বন্যা বইছে।

তিনি রাজশাহী বিভাগ থেকে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বিজয় অর্জন করেন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে তিনি ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারে বেড়ে ওঠা পুতুল প্রয়াত সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক ভিত গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ দেড় যুগ পর তার মেয়ের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা আবারও ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আশা, জাতীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার মেয়ে আজ দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এটি শুধু রাজনৈতিক পদ নয়, পুরো নাটোরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তিনি নতুন প্রতিমন্ত্রীকে একজন শিক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে অভিহিত করেন এবং তার মাধ্যমে নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে পেটানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

জামায়াতের কর্মীদের হামলায় শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট গিয়াস উদ্দিন রাসেলকে পেটানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা শহরে এ বিক্ষোভ করা হয়।

মাই সাহেবা জামে মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে শেরপুর ডিসি গেটে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল আলম শিপন, জেলা বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম আঙ্গুর, সাংবাদিকদের পক্ষে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দ, উপজেলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী বিএসসি, বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মুরাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাকিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সুমন মিয়া আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, ‘জামায়াতের এমপি রাশেদুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর করে আসছে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাসেলের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। সভায় জানানো হয়, নির্বাচনের পর এ পর্যন্ত অন্তত ১০-১৫টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির একজনকে রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। এক শ্রমিককে পা-ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি।’


কায়সার কামাল প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এলাকায়  আনন্দের বন্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকা আনন্দের বন্যা বইছে।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, তাদের প্রিয় নেতা এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথের ডাক পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয় এবং মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে তার সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক এই নেতা। নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর চেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, কায়সার কামাল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭০ হাজার ৮৯৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।


রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ আ.লীগ কার্যালয়ে ব্যানার, পতাকা উত্তোলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেরা কার্যালয়ে দীর্ঘ ১৮ মাস পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যালয়ের সামনে টানানো হয়েছে অফিস উদ্বোধনের একটি ব্যানার।

প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেন জানান, সকাল ১০টার দিকে তিনি কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাক থেকে ভ্যানে মালামাল তুলছিলেন। এ সময় আনুমানিক ১৭-১৮ বছর বয়সী দুই যুবক এসে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করে এবং একটি ব্যানার টানিয়ে রেখে যায়। পরে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টানানো ব্যানারটি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান মিয়া সোহেলের নামে। ব্যানারে উল্লেখ রয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় অফিসের শুভ উদ্বোধন করা হলো।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যালয়টিতে প্রকাশ্যে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান। প্রায় ১৮ মাস পর হঠাৎ পতাকা উত্তোলন ও উদ্বোধনী ব্যানার টানানোকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল বলেন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানার পর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সোনাইমুড়ীতে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ও তার কর্মী-সমর্থকরা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দেওটি ইউনিয়ন বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার দেওটি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র কমিটি লিখিত বক্তব্যে জানান, নোয়াখালী -১ (সোনাইমুড়ী- চাটখিল) ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হন জহিরুল ইসলাম। তিনি ১১৬ ভোটে হেরে যাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এর কারণে তিনি বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার করছেন।

গত বুধবার রাত ১০ টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রে হাত পাখার প্রার্থী জহিরুল ইসলামসহ পরিচিত কিছু লোকজন প্রবেশ করে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় স্থানীয় লোকজন বাধা প্রদান করে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে উভয়পক্ষের ধাক্কাধাক্কি হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রার্থী জহিরুল ইসলামের ফেসবুক থেকে বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার করা হয়। এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার মুহুরীগঞ্জ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান, সদস্য সচিব ইসমাইল হোসেন বাবুলসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


বেতাগীতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার বেতাগীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় পুনরায় খুলে দিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেতাগী পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দলীয় স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এর একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

উল্লেখ, দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল। গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীমের নেতৃত্বে বেতাগী পৌর শহরের উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে ঢোকে। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছবি টাঙিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দেন।

এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে কার্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। পুনরায় উদ্বোধনকালে বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার বলেন, ‘দলীয় কার্যালয় একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকেই সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই কার্যালয় বন্ধ থাকাটা নেতা-কর্মীদের জন্য হতাশাজনক ছিল।

বেতাগী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম বলেন, ‘তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সক্রিয় রাখতে এবং দলকে সুসংগঠিত করতে নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।’


মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত ১১ দলীয় জোটের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য শপথ অনুষ্ঠান বয়কটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট। মূলত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বিএনপির অস্বীকৃতির প্রতিবাদে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে জোটটি। জোটের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে ‘জনরায়ের প্রতি প্রবঞ্চনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একাধিক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে, নবনির্বাচিত সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করেন যে, আইন অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করার মাধ্যমে বিএনপি জনম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করেছে, যার প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোট নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না।

একই সুরে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন জোটের যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি জানান, জনরায়ের সাথে প্রতারণামূলক অবস্থান নেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তিনি এটিও নিশ্চিত করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের জোটের নির্বাচিত সদস্যরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ—উভয় হিসেবেই শপথ নিয়েছেন। অর্থাৎ তাঁরা সংসদীয় কার্যক্রমে থাকলেও মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অভিষেক থেকে দূরে থাকছেন।

দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বিএনপির কড়া সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি কেবল ক্ষমতামুখী দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে। তারা সরকার গঠনের শপথ নিয়ে ক্ষমতার স্বাদ নিতে উন্মুখ হলেও সংবিধান সংস্কারের মতো মৌলিক গণদাবি এড়িয়ে গিয়ে গণরায় উপেক্ষা করেছে। সর্বশেষ এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক বিবৃতিতে জানান, আকাঙ্ক্ষা ও জনরায়ের প্রতি সম্মান জানাতে তাঁদের দলের নির্বাচিত সদস্যরা পর পর দুটি শপথ গ্রহণ করলেও, বিএনপি গণভোটের রায় অমান্য করায় তাঁরা বিকেলের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না।

উল্লেখ্য যে, আজ সকালে শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি বিধায় এই পদে শপথ নেবেন না। এই ঘোষণার পরপরই জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে জামায়াতও কোনো শপথ নেবে না। যদিও পরে জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, কিন্তু মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জনের এই সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের শুরুতেই এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে ১১ দলীয় জোটের অনুপস্থিতি আগামীর সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন না এনসিপির ৬ এমপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মাহেন্দ্রক্ষণে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নতুন মন্ত্রিসভার রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে এনসিপির নির্বাচিত ৬ জন সংসদ সদস্য অংশ নেবেন না। মূলত বিএনপি কর্তৃক ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ শপথ বর্জনের প্রতিবাদে এবং এর প্রতি সংহতি প্রকাশ না করার অংশ হিসেবে তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আজ দুপুর ১টার দিকে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এনসিপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন সংসদ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে দুই দফায় শপথ গ্রহণ করেন—প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল ম্যান্ডেট ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখাকে প্রাধান্য দিয়ে এনসিপি এই পরিষদের শপথ গ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। তবে একই অনুষ্ঠানে বিএনপি কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে, যা এনসিপি ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের প্রাক্কালে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন যে, বিদ্যমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি না থাকায় তাঁরা আজ সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না। বিএনপির এই অবস্থানকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে আসা সংস্কার উদ্যোগের প্রতি এক ধরনের অনীহা হিসেবে দেখছে এনসিপি। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি হবে, আর সেই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি এড়িয়ে যাওয়ার প্রতিবাদেই তাঁরা বিকেলের মন্ত্রিসভার অভিষেক অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এনসিপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, সেখানে তরুণদের এই শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতি ভবিষ্যৎ জোট রাজনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এনসিপি মনে করে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারই হওয়া উচিত যেকোনো সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। সেই সংস্কার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা অনীহা তাঁরা মেনে নেবেন না। সব মিলিয়ে বিকেলের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যখন দেশি-বিদেশি অতিথিদের আগমনে রাজধানী উৎসবমুখর, ঠিক সেই মুহূর্তে এনসিপির এই বর্জন নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এখন দেখার বিষয়, বিকেলের শপথের আগে এই অচলাবস্থা নিরসনে কোনো নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না।


রাজধানীতে বিক্ষোভের ডাক দিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে কর্মসূচি স্থগিত করল জামায়াত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অস্থিরতার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় আজ বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিলেও মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে তা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক জরুরি বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে, পূর্বনির্ধারিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের মাহেন্দ্রক্ষণে জামায়াতের এমন হঠাৎ কর্মসূচি ঘোষণা এবং দ্রুত তা বাতিল করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান যে, দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি ও চলমান অস্থিরতার প্রতিবাদে বিকাল ৩টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিটি সফল করতে দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নেতা-কর্মীদের বড় ধরনের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় অপর এক বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে, বিকাল ৩টার সেই কর্মসূচিটি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়েছে। তবে কর্মসূচি স্থগিতের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রাক্কালে জামায়াতের মতো একটি বড় দলের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে আজ সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে নীতিগত বিভেদ দেখা দেয়। বিএনপি এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানালে জামায়াতের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছিল এবং দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ না নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই হয়তো রাজপথে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতা অথবা কৌশলগত কারণে কর্মসূচিটি স্থগিত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের অভিষেকের দিনে রাজপথে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে জামায়াত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতার পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন জনমনে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও, কর্মসূচি স্থগিতের ফলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শঙ্কা আপাতত কেটে গেছে। আপাতত সকলের নজর বিকেলের সেই শপথ অনুষ্ঠানের দিকে, যেখানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে জামায়াতের এই ‘ইউ-টার্ন’ বর্তমান সময়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক মেরুকরণেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।


শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না বিএনপির এমপিরা, নেবেন না প্লটও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বড় ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তাঁরা জানিয়েছেন যে, সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রকার শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং একই সঙ্গে তাঁরা কোনো সরকারি প্লটও নেবেন না। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতায় ফিরতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের এমন কঠোর অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এক নতুন বারতা পৌঁছে দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান শেষে প্রথা অনুযায়ী সবাই শপথপত্রে নিজ নিজ আসনের নাম উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন। সংসদ সচিব কানিজ মওলার পরিচালনায় এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদীয় দলের বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকেই দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়, যা তাঁর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ সুগম করেছে।

সাংসদদের জন্য বরাদ্দকৃত শুল্কমুক্ত গাড়ি ও রাজউকের প্লট দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হিসেবে গণ্য হয়ে আসছিল। নতুন এই সংসদ সদস্যরা মনে করছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকায় কোনো প্রকার অতিরিক্ত বিলাসিতা তাঁরা গ্রহণ করবেন না। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের অঙ্গীকার থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ত্যাগের মাধ্যমে তাঁরা রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার রোধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চান।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া জোটগতভাবে তাঁদের আসন সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন। এছাড়াও ছোট কয়েকটি দল ৪টি আসনে জয়লাভ করেছে। নির্বাচনের এই বিশাল ম্যান্ডেটের পর প্রথম দিনেই এমন জনমুখী সিদ্ধান্ত আগামী দিনে বিএনপির শাসনতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও কৃচ্ছ্রসাধনের নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।


ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই, হাসিনাকে ফেরত দেওয়া উচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে ‘বন্দি’ বা আটকে থাকা উচিত নয়। গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও তা ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক গড়তে বাংলাদেশের পথে বাধা হবে না। এমনটাই বলেছেন বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেসব প্রকল্প আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্বও জোরদার করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাকে শাস্তি দেওয়ার জনদাবি রয়েছে। আমরা মনে করি, তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ভারতের। কিন্তু ভারত যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে না দেয়, তবু তা বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক একটি মাত্র ইস্যুতে ‘বন্দী’ থাকা উচিত নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ বারবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনা ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু গত ১৭ মাসে ভারত এসব অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভা এবং আমলাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনিপ্রক্রিয়া চলছে এবং তা চলবে।

হাসিনা সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল। সে সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কিছু জটিল ইস্যু আছে। তবে তা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও চীনের মধ্যে অনেক সমস্যা আছে। তবু তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও আমরা একটি ইস্যুতেই আটকে থাকতে পারি না।’

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর যখন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ভারতে অবস্থান করছিলেন, তখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেন। তিনি ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে আতিথ্য দেন। পরে ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লি সফর করে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের জন্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এটাই ছিল রাষ্ট্রনায়কসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী বছরের আগে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়নের সময় ফারাক্কার পানির বিষয়টি সামনে আসবে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ও রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা করতেই হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে (আলোচনা করতে হবে)। যারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে, তারা পাগলের মতো কথা বলে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মিল রেখে মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে মত দেন। তিনি এরই মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিশোধ ও সহিংসতা গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ার জন্য ক্ষতিকর। ২০২৪ সালের আগস্টের সহিংস গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক সমঝোতা আনতে পারেনি। কারণ, ‘অভ্যুত্থানের নেতারা অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন’। তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূস সেই নির্দেশনার বাইরে যেতে পারেননি।

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে তিনি এমন একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশ বাণিজ্য, ব্যবসা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘ভারতের কারিগরি শিক্ষায় সম্পদ রয়েছে। আমাদের দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ আছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের উপসাগরীয় দেশে চাকরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা নতুন সরকারকে সামলাতে হবে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্প নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কোনগুলো অপ্রয়োজনীয় বা অপচয়মূলক, তা দেখা হবে। তার ভাষায়, ‘যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে, সেগুলো আমরা রাখব।’


যারা ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদেরই মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে: মেজর হাফিজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রূপরেখা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনে বিজয়ী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী-এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

মেজর হাফিজ বলেন, যারা ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য—তাদেরই মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করায় সামরিক বাহিনীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার ভাষায়, দেশের দুর্দিনে তাদের সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হতো না।

রাজনৈতিক সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে মেজর হাফিজ বলেন, তারেক রহমানের নাহিদ ইসলাম ও শফিকুর রহমানের বাসায় সাক্ষাৎ রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিরোধীদল শক্ত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত ইতিহাস বারবার বিকৃত হয়েছে এবং জনগণকে সঠিক তথ্য জানতে দেওয়া হয়নি। তার মতে, ১৯৭১ সালের মার্চে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের বিদ্রোহ না হলে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্ভব হতো না।


banner close