জনগণকে সুন্দর ও উন্নত জীবন দিতে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের সময় চক্রান্ত হয়, সেটা মোকাবিলা করে আমরা বেরিয়ে আসি। আমাদের তা ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে যে অধিকারগুলো আদায় করেছিল, সেটা আমরা সমুন্নত করতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আজ তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তাকে গণভবনে শুভেচ্ছা জানাতে আসা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।
’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া শেখ হাসিনা একরকম জোর করেই দেশে ফিরে আসেন। এর আগে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে সর্বস্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এ দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ সেই দিনে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে লাখ লাখ জনতা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানায়।
তিনি যখন দেশে ফেরেন তখন যুদ্ধাপরাধী এবং জাতির পিতার হত্যাকারীরা ক্ষমতায় ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার পাশে ছিল বাংলাদেশের জনগণ। তিনি জানতেন তাকেও তার বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যবরণ করতে হতে পারে। কিন্তু দেশবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি ছিল তার আস্থা।
শেখ হাসিনা বলেন ‘আমি আমার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, আমার সব শক্তি-সাহস মা-বাবার কাছ থেকে পেয়েছি।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় এত বড় সংগঠন চালানোর অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। সেই আওয়ামী লীগ এখন দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী, বৃহত্তম এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে। পঞ্চম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে।
আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ উল্লেখ করে টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের যদি রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা না থাকে, দেশপ্রেম না থাকে, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় না থাকে, তাহলে সেটা এগোতে পারে না। সামনে আরও বদলাতে হবে। কারণ, আমার বাবার একটাই স্বপ্ন ছিল দেশটাকে গড়ার। আমাদের পরিকল্পনা সেটাই আছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-এর পর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছিল। দেশের কোনো উন্নতি করতে পারেনি। তারা বরং শত শত সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অমানবিক নির্যাতন ও হত্যা করেছে। এ সময় প্রতিরাতে কারফিউ বলবৎ রাখার জিয়াউর রহমানের কারফিউ গণতন্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের অগণিত নেতা-কর্মীর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও আত্মাহুতির কথাও তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার উন্নয়নের মূলমন্ত্র তুলে ধরে বলেন, কী পেলাম, না পেলাম সেই চিন্তা করেনি। ভবিষ্যৎ কী সেই চিন্তাও করি না। চিন্তা করি দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ যেন আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলে দিয়ে যাব। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
দলীয় নেতাদের আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, এটাই মনে রাখবেন একটা দল করি শুধু নেতা হওয়ার জন্য নয়, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কী দিতে পারলাম, কী দিয়ে গেলাম। এটাই রাজনৈতিক মানুষের জীবনের বড় কথা। এ কথা মাথায় রাখতে পারলে দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছুই করা যেতে পারে।
সংগঠনকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আর যেন যুদ্ধাপরাধী, খুনিরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।
‘দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে যে অধিকার পেয়েছিল, তা তারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছিল এবং বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার ও জয় বাংলা স্লোগান-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু জয়বাংলা স্লোগান আবার ফিরে এসেছে এবং জাতির পিতা ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিলে যেমন স্থান করে নিয়েছে, তেমনি অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভভাষা দিবসের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা তাদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গণভবনে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ৩ বারের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘নেতৃত্ব মানে শুধু মঞ্চে দাঁড়ানো নয়, মানুষের মাঝে মিশে যাওয়া। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার গণমানুষের মাঝে মিশে যেতে চাই।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারও জনতা, নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগ দেন। এ সময় স্লোগান ও পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল। সভায় উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের কথা বলে নিজেদের পকেটের উন্নয়ন করা হয়েছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের উন্নয়ন হয়েছে। বাড়ি-গাড়ি- সবই হয়েছে।’ ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোট না চেয়েও পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ছিল। তারপরেও আমি জয়ী হয়েছিলাম মানুষের ভালোবাসার ভোটে। ওই সময় আমি বামনা-পাথরঘাটায় যে উন্নয়ন করেছিলাম, তা স্বাধীনতার পরে কেউ করতে পারেনি। তবে শুনেছিলাম হাসিনার আমলে এখানে অনেক উন্নয়ন হয়েছে; কিন্তু যা দেখলাম তাতে হাসিনার জন্যও দুঃখ হয়েছে, আপনাদের জন্য আরও বেশি দুঃখ হয়েছে। কারণ, এখানের রাস্তাঘাট ভাঙা। প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন হয়েছে। সেখানের মানুষ দুঃখ-কষ্টে আছে। এত উন্নয়ের কথা বলে, ফাঁকি দিয়েছে। কিন্তু নিজের পেট ভরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’ তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে গুপ্ত হামলা চালানো হচ্ছে।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নানা ধরনের অরাজকতা সংঘটিত করছে।’
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে (৪২) গুলি করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘হাসান মোল্লার হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার বিকল্প নেই। তা না হলে তারা আরও বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মতনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ক্রমবর্ধমান অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে অবশ্যই দেশে ভয়শূন্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
এদিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল টহরী বাজারে গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন একমাত্র ধানের শীষ করতে পারবে আর কেউ করতে পারবে না। আমরা সেই জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক। যাদের আপন ভেবে মানুষ কাঁদে।’
ভোটারদের সজাগ করে তিনি বলেন, ‘সামনের মাসে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। একটা দল ভোট চাইতে আসছে আপনাদের কাছে। দাঁড়িপাল্লার কথা বলছে। তারা কখনো কী সরকারে গেছে? আপনাদের জন্য কোনো কাজ করছে? করে নাই। আমরা কাজ করছি। আমরা (বিএনপি) পরীক্ষিত দল। আপনাদের কাছে ভোট চেয়েছি। আপনারা ভোট দিয়েছেন। আমরা সরকারে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি।’
এ সময় সরকারে থাকাকালীন যেসব উন্নয়ন করেছেন সেসব উন্নয়ন তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো এখন আর কেউ নেই। তাই সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন।’
মির্জা ফখরুল উপস্থিত ভোটারদের কাছে জানতে চান গত পনেরো বছরে আপনারা কি কেউ ভোট দিতে পেরেছেন। জবাবে ভোটাররা বলেন পারিনি। তিনি বলেন, ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়েগেছে। আবার কখনো ভোটটা নিয়ে চলেগেছে। এই ছিল গত পনেরো বছর। এখন একটা সুযোগ আসছে, আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছে ভারতে। চলেগেছেন ভালো করছেন। কিন্তু আপনাদের যারা সমর্থন করত তাদের বিপদে ফেলেগেছেন। আমরা বলছি যারা নিরঅপরাধ তাদের কেউ বিপদে পড়বে না। আমরা আছি তাদের পাশে। যারা অন্যায় করেনি তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না। আমি আমার এলাকার হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করি। আমাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। সবাইকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু লোক হিন্দু-মুসলিম ভাগ করতে চাই। কিন্তু আমাদের ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা হিন্দু-মুসলিম একসাথে বসবাস করি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পথসমাবেশ কর্মসূচিতে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী রোডে মৌচাক এলাকার একটি গলিতে পথসমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ডিজিটাল ক্যাম্পেইন টিমের ব্যবস্থাপক শামিল আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মৌচাক এলাকায় বাংলা টিভির গলিতে প্রচারণা চলছিল। এ সময় বাংলা টিভির বিপরীত দিকের ভবন থেকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। এরপর আমরা ওই এলাকার কর্মসূচি যথাসম্ভব দ্রুত শেষ করে পরীবাগে চলে আসি।’
শামিল আব্দুল্লাহ জানান, এ ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অক্ষত আছেন। তিনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় মৌচাক এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় হঠাৎ পাশের একটি ভবন থেকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। ডিম নিক্ষেপের পরপরই সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে দলের কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে জুলাই না হলে, আজ আমরা এখানে এসে কথা বলতে পারতাম না। তাই আমরা চাঁদা নেব না আর কাউকে চাঁদা নিতে দেব না। নিজেরা দুর্নীতি করব না আর কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না।
তিনি নারীদের ব্যাপারে বলেন, ‘তারা মায়ের জাতি। আমরা তাদের জন্য একসাথে বাড়িতে ও চাকরিতে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি গড়ে তুলব। আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। একটি আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। টাকা দিয়ে যাতে বিচার কেনা না যায় সেই ব্যবস্থা করব।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর ঐতিহাসিক গোরে শহীদ ময়দানে জেলা ১০ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিন ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসেন। সেখানে জনসভা শেষে তিনি দিনাজপুর বড়ময়দানের জনসভায় যোগ দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ধর্মে ধর্মে সংঘাত হবে না। বাংলাদেশের টাকা চুরি করে বেগমপাড়া তৈরি করা হবে না। যারা টাকা চুরি করে বেগমপাড়া তৈরি করেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগ জোগান দেয় দিনাজপুর। এই দিনাজপুরে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। আলু ও লিচুর জন্য লিচুর জন্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করা হবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
এর আগে শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে। আমি সেই বঞ্চনার সাক্ষী হতে এসেছি। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে আগামীতে আমরা আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। সবার হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল খুলে দিতে চাই। শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিতে চাই।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষ আওয়াজ দেয় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ওই টেকনাফের উন্নয়ন জোয়ার আর আসতে পারে না এই তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টায় দেব, বলব তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হয়েছে, এখন ব্যাল্যান্স হওয়া দরকার। এখন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।’
উত্তরাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলো নিয়ে তিনি বলেন, ‘চারটা বিশাল নদী আল্লাহর নেয়ামত—তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র এবং করতোয়া। আজকে আসতে আসতে ওপর থেকে দেখলাম, নদী নয় মরুভূমি। মরে কঙ্কাল হয়ে আছে নদীগুলো। এ দেশের কি কোনো মা-বাবা ছিল না? তাহলে আমার নদী মরে গেল কেন?’
আওয়ামী নেতাদের দেশ ত্যাগের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব। দেশবাসীকে চরম দুঃখ ও বিপদের সময় ফেলে কোথাও যাইনি। আগামীতে আপনাদের ফেলে কোথাও যাব না। যদি আপনাদের মূল্যবান ভোটে, ভালোবাসায়, সমর্থনে দশ দলের এই সমন্বয়কে পার্লামেন্টে পাঠান, যেন সরকার গঠন করতে পারে—আমরা কথা দিচ্ছি শুধু নদীর জীবন ফিরে আসবে না, মানুষেরও জীবন প্রাণচঞ্চল হয়ে ফিরে আসবে।’
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য হন্যে হয়ে দৌড়াতে হয় রাজধানী ঢাকায়। এই সামর্থ্য সবার নেই। যাওয়ার পথে রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এই অবস্থা আমরা দেখতে চাই না। আমাদের দায়িত্ব দিলে ১৮ কোটি মানুষের ৬৪ জেলায় কোথাও মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। পঞ্চগড়েও মেডিকেল কলেজ হবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধা সফরে আসছেন। এ উপলক্ষে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, জনসভায় প্রায় দুই লাল মানুষের সমাগম হতে পারে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে নির্বাচনী জনসভা ও আমীরে জামায়াতের আগমন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা আমির, গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আব্দুল করিম, জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা জহুরুল হক সরকার, জেলা সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. ফয়সাল কবির রানা, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি মো. খায়রুল আমীন, গাইবান্ধা পৌরসভা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জোবায়ের আলী, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ফেরদৌস সরকার রুম্মানসহ অন্যান্য নেতা।
নেতারা জানান, পলাশবাড়ি এস. এম. পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখবেন, গাইবান্ধা জেলার সাবেক আমির ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতা। আর সভায় সভাপতিত্ব করবেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম।
নেতারা আরও জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় ৬০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। থাকবে নিরাপত্তাবেষ্টনি, মেটাল ডিটেক্টরসহ বিশেষ সিকিউরিটি টিম।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্বে নেতারা অভিযোগ করেন, দাড়িয়াপুর এলাকায় তাদের নির্বাচনী পোস্টার ও পোস্টার টানানো খুঁটি উপড়ে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নির্বাচনী মাঠে সকল প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে গাইবান্ধা ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার কর্মী সম্মেলনে আসছিলেন শফিকুর রহমান।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ইতিপূর্বে শাস্তিপ্রাপ্ত জয়পুরহাট ও নেত্রকোনার ২ নেতার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার নেতা মো. রেজাউল করিম সরদার এবং নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ারা বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে দল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তাদের ওপর থেকে পূর্বের শাস্তিমূলক আদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তির ভাষ্যমতে, ‘ইতোপূর্বে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জয়পুরহাট জেলাধীন আক্কেলপুর পৌরসভার বিএনপি নেতা মো. রেজাউল করিম সরদার, নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ারা বেগমকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
এর আগে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) পৃথক এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলাধীন ৩নং ইকরচালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করে দল। সেখানেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ‘ইতোপূর্বে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য রংপুর জেলাধীন তারাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ৩নং ইকরচালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত বুধবার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ মূলত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এসব নেতাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাদের অনুতপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে হাইকমান্ড থেকে পুনরায় তাদের স্বপদে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম মন্তব্য করেছেন যে, কেবল সংস্কার বা জোড়াতালির মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের দুই দিনব্যাপী প্রথম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘সংস্কার বা জোড়াতালি দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা আসবে না।’ তিনি দেশ ও জাতির সামগ্রিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৮ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সারাদেশে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফয়জুল হাকিম উল্লেখ করেন যে, সংগঠন ব্যতিরেকে শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন সফল হওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, ‘শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগ্রাম বিকশিত করার একমাত্র পথ সংগঠন গড়ে তোলা।’ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনিজুয়েলায় পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
উদ্বোধনী পর্বের শেষে একটি র্যালি বিএমএ ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত অধিবেশনে মিলিত হয়। অধিবেশনে ফয়জুল হাকিম, সজীব রায় ও ভুলন ভৌমিককে নিয়ে তিন সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী গঠন করা হয়। ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনে জাতীয় গণফ্রন্ট সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম, লেখক শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শফী রহমান এবং ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও অধিবেশনে ড. আকমল হোসেনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর আব্বাস। জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার লড়াই জোরদার করতে সর্বত্র সংগঠন ছড়িয়ে দেওয়ার সংকল্পের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম এগিয়ে চলে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অনেকেই যুবক বেকারদের বেকারভাতা দিতে চাইছেন, আমরা বেকার ভাতা দিয়ে কারও হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাইনা, আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। কাজ করার জন্য শুধু তিনটা শর্ত মেনে নিতে হবে। দূর্নীতি নিজে করবেন না এবং কোন দুর্নীতিবাজকে বগলের নিচে আশ্রয় দিবেননা। গরীব ধনী, নারী পুরুষ সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিৎ করা হবে। সে বিচারে কেউ রাজনীতিবিদ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা। বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। ৫৪ বছরের বস্তা পঁচা রাজনীতি, যেটা দুর্নীতি আর দু:শাসনে দেশকে ডুবায় ফেলা হয়েছে এসব কিছু বদলাতে হবে। বৈষম্য বদলাতে হবে।
উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির।
এ সময় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে জামায়াত মনোনিত প্রার্থীদের জন্য জনগণের কাছে সমর্থন আশা করেন।
"চলো এক সাথে গড়ি বাংলাদেশ" এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোনাইমুড়ীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে গণ সংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটের মধ্যমে শহীদদের বদলা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসন হতে দাঁড়িপাল্লার মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় সোনাইমুড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, দূর্নীতি, চাঁদাবাজ, ফ্যাসিবাদ, ইনসাফ ভিত্তিক, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দাঁড়িপাল্লার পক্ষে তাদের রায় ঘোষণা করবেন। ঐ দিন তারা হ্যাঁ ভোট প্রদানের কথা জানান।
নোয়াখালী-১ আসন হতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, আজকের এই গণসংযোগের মাধ্যমে প্রমান হয়েছে এই দেশবাসী আর কোনো ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও লুটতরাজদের চায়না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে শহীদদের বদলা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, বিগত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেউ কোনো চাঁদাবাজি করেনি। সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়নি। কোনো মামলা বানিজ্য করেনি। এই জাতি ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা জামায়াতে আমির হানিফ মোল্লা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী জেলা উত্তর সেক্রেটারী মুজাহিদুল ইসলাম সহ পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা।
দীর্ঘ ২ দশক পর চট্টগ্রাম আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় মহা-সমাবেশে ভাষণ দেবেন তিনি। পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণাও চালাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের এ মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রামের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতা-কর্মীদের আশা রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্মরণকালের মহা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। সমাবেশে ১০ থেকে ১৫ লাখ লোকের সমাগম হবে বলেও মনে করছেন তারা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর সফল করতে মঞ্চ স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করছেন স্থানীয় নেতারা।
ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে সার্বিক বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নেতা-কর্মীদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজ শনিবার রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌছাবেন এবং রাতে নগরে অবস্থান করবেন। কাল রোববার বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সমাবেশ নয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতা–কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন এ মহাসমাবেশে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার সন্তান তারেক রহমান বক্তব্য দিবেন।
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন ২০০৫ সালে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় এসে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভা করেছিলেন। এরপর এক-এগারো পরবর্তী জরুরি অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। দেড় দশক পর দেশে ফিরে তিনি পিতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম শহরে আসছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, আজ শনিবারের মধ্যেই মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকির জন্য বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) থাকবে। তিনি আরও বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসার পর মানুষের যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনই দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের মহাসমাবেশকে ঘিরে। শুধু চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ নগর বিএনপি না, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি ও সাধারণ মানুষ তাকে দেখার জন্য, বক্তব্য শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে তারা ধারণা করছেন।
এ দিকে যুবদলের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি সভাসহ নানা প্রচার চালানো হচ্ছে। নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ জানান, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান আসছেন, এতেই নেতা–কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১ লাখের বেশি নেতা–কর্মী সমাবেশে অংশ নেবেন। তারেক রহমানের মহাসমাবেশের জন্য ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রস্থ মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। আজ শনিবারের মধ্যে মঞ্চ তৈরি সম্পন্ন হবে। সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা থাকবেন। এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরের অংশে সমাবেশে আসা মানুষ অবস্থান নেবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, মঞ্চসহ পুরো এলাকায় পুলিশের ৩ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে রাজপথে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বংশালে নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা যদি ঘোষণা দেই, তাহলে ঢাকা শহরে জামায়াতের প্রার্থী রাস্তায় নামতে পারবে না। সেটা জামায়াত হোক বা অন্য কেউ।’ নিজের দলের সক্ষমতা ও ত্যাগের প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই জায়গায় এসেছি; আমরা ভেসে আসি নাই। আমাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ রয়েছে, আমাদের বহু ভাইয়ের রক্ত রয়েছে।’
জামায়াতের জনৈক প্রার্থীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন একে রাজনৈতিক হাস্যরস হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এ ধরনের একটা মন্তব্য ঢাকার একটা গুরুত্বপূর্ণ আসনের একজন প্রার্থী করেছেন। আমি বলবো যে, এই কথাগুলো এখন একটা হাস্যরসে পরিণত হয়েছে। এই কথাগুলো তারা বলছে শুধু তাদের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্য।’ আন্দোলনের সময় জামায়াতের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন তারা কোথায় ছিল? তারা তো হঠাৎ করে বের হয়েছে ৫ আগস্টের পর। ২৪-এর আগস্টের পর এই গুপ্ত বাহিনী হঠাৎ করে উদয় হয়েছে।’
ইশরাক হোসেন রাজপথের লড়াইয়ের বাস্তবতা তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে, ‘আমরা দেখেছি, ভোরবেলায় যখন রাস্তাঘাটে জনগণ থাকতো না, তখন তারা চুপ করে অন্ধকারে বের হতো এবং মিছিল করে চলে যেতো এই ছিল তাদের আন্দোলন। আমরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে রক্ত দিয়েছি, আমরা গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি।’ আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত সকল আসনে জামানত হারাবে বলে দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারাও জানে যে ঢাকা শহরের সব আসনে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা শুধু তাদের নেতাকর্মীদের সাহস জোগানোর জন্য তারা করছে। আর যদি তাদের অন্য কোনো চিন্তাভাবনা থেকে থাকে, তাহলে বলে দিতে চাই, ইলেকশনের অনেক আগেই আমরা তাদের ঢাকা থেকে বিতাড়িত করে দেবো।’ উক্ত গণসংযোগকালে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ২ যুগ বছর পর কুমিল্লা সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক তিনটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক জনসভা করছেন। এরই অংশ হিসেবে কুমিল্লায় এই সফর। এই সফরকে ঘিরে জেলা ও উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফর একদিকে যেমন দলীয় সাংগঠনিক ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে, অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ফুলতলী এলাকায় ধানী জমিতে চলছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ। গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা সভাস্থল পরিদর্শন করছেন। একই চিত্র চৌদ্দগ্রাম ও দাউদকান্দিতে। বিএনপির দলীয়সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম মাঝে সদর দক্ষিণ পরে দাউদকান্দিতে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি উপজেলার জনসভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো, সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক দল এবং দলীয় নিরাপত্তা টিম দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে দলীয় প্রধানের সফরকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। তারেক রহমানকে চোখের সামনে এক নজর দেখা এবং হাত মেলানোর জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
বিএনপির অন্তত ১০ জন তৃণমূলের কর্মী জানান, কুমিল্লায় তারেক রহমানকে তারা সরাসরি দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, ২০০২ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য এখনও তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। দীর্ঘ বিরতির পর তার সরাসরি উপস্থিতি নেতাকর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন তিনি।
চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ৬টি সংসদীয় আসনের বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়ক হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন জানান, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন তারেক রহমানের বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আসন্ন নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে উঠে আসবে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বরুড়া আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন জানান, তারেক রহমানের এই সফর শুধু কুমিল্লা নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘদিন পর সরাসরি দলীয় প্রধানের উপস্থিতি দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে। সফরটিকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাইয়ের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো একটি শক্তিশালী ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিএনপিই একমাত্র বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। যারা ভারতের পক্ষে, তারা ভারতে পালিয়েছে। দেশে যেন আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুরে এক গণসংযোগকালে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হলে সবার একই পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছে। তাঁর মতে, বিএনপি শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
দলের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে এই বিএনপি নেতা জানান যে, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে দেশের কোনো মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতে না হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে বিএনপি একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজিয়েছে যার আওতায় নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধিতে প্রতিটি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও ‘স্বাস্থ্য কার্ড’-এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। নির্বাচনী প্রচারণার এই কার্যক্রমে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া ও নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।