পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদকে সরকারের কে বিদেশে পাঠিয়েছেন, তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ রোববার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘সরকার বেনজীর আহমেদকে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে’– বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন অভিযোগের বিষয়ে পালটা প্রশ্ন করেন তিনি।
কাদের বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিষয়ে দুদক তদন্ত করছে। মামলা বা গ্রেপ্তার সব আইনি পন্থায় হবে। সরকার দুদককে এড়িয়ে আগবাড়িয়ে কেন ব্যবস্থা নেবে?’
শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতিবাজদের কোনো আশ্রয় দেয় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি দুর্নীতি করতে পারে, কিন্তু সরকার দুর্নীতিবাজকে কীভাবে দেখছে সেটা মূল বিষয়। মির্জা ফখরুলের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই: সরকারের কে বেনজীরকে বিদেশে পাঠাল?’
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ যে এত এতো অন্যায় করল গণমাধ্যম কী করেছে? গণমাধ্যম একটা সংবাদও করল না কেন?’
তিনি বলেন, ‘বিদেশে যাক আর যেখানেই থাকুক, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। তাই বিচার হবেই, একদিন না একদিন বেনজীরকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’
কাদের বলেন, ‘বিদেশে থাকলেও বেনজীরের বিচার চলবে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দেশে ফিরতেই হবে, সরকার কোনো ছাড় দেবে না।’
বেনজীর ইস্যুতে কারো কোনো ব্যর্থতা থাকলে, গাফিলতি থাকলে সেটিরও বিচার হবে বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার এ আসনে বিএনপির আধিপত্য বজায় থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে। একদিকে বিএনপি তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ও জামায়াতে ইসলামী পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির ঘাঁটিতে ভাগ বসাতে মরিয়া ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা।
উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ‘হেভিওয়েটদের আসন’ হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর)। এ আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন করেছেন স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা ভাষা সৈনিক কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা, মুসলিম লীগের সাবেক সভাপতি জমির আলী ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের মতো নেতারা।
১টি পৌরসভা ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রামগতি ও ৯ টি ইউনিয়ন নিয়ে কমলনগর উপজেলা। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার।
বিশ্লেষকদের মতে, নারী ও আওয়ামী ভোটারদের বিশাল অংশ, এবং কয়েক হাজার নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে। নির্বাচনের মাঠে প্রধান লড়াই হবে চতুর্মুখী। তবে প্রধান প্রতিদ্বন্দী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ থাকলেও নিরব প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করছেন চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা)। এ আসনে দলটির প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ একজন জনপ্রিয় আলেম চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে তার। এর আগে তিনি উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের টানা দুইবারের ইউপি চেয়ারম্যান থেকে কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে চমক সৃষ্টি করেন। একজন জনপ্রিয় আলেম চেয়ারম্যান ও ধর্মীয় নেতা হিসেবে তার বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজানও এ অঞ্চলের একজন পরিক্ষিত নেতা হিসেবে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগনের আস্থা অর্জন করেছেন। ধানের শীষ ও ব্যক্তি নিজানের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
আসনটিতে চারবার বিএনপি, তিনবার জাসদ (আ স ম রব), দুইবার আওয়ামী লীগ ও একবার করে সাম্যবাদী দল, বিকল্পধারা মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন– বিএনপির সহ-শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জাসদের (রব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপদেষ্টা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মিলন কৃষ্ণ মণ্ডল, গণঅধিকার পরিষদের রেদওয়ান উল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল, নুরুল হুদা চৌধুরী ও আ ন ম মঞ্জুর মোর্শেদ। গত সাপ্তাহে গণঅধিকার পরিষদের রেদওয়ান উল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজানকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য মাঠে কাজ করছেন এই দুই প্রার্থী।
পরপর দুইবারের সাবেক এমপি বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান বলছেন, রামগতি-কমলনগরের মানুষ আমাকে চেনে। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই। তাই জনগন এবারো ধানের শীষে ভোট দিবেন। তবে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ ও পথসভার মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তার দাবি, আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক, নিরাপদ সমাজপ্রত্যাশী ও নারীরা ‘হাতপাখা’ প্রতীকের দিকেই ঝুঁকছেন। অতিতের মত এবারো হাতপাখায় নিরব বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্লাহ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। বসে নেই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির তানিয়া রবও।
কথা হলে কয়েকজন সাধারণ ভোটার জানান, তাদের একটাই চাওয়া, যে কোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান।যিনি বিপদে পাশে থাকবেন এবং নারীদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করবেন, তাকেই বেছে নেবে ভোটাররা। ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, এলাকার উন্নয়ন, জনগণের মনের ভাষা বুঝে যে প্রার্থী কাজ করবেন তাকেই তারা ভোট দিবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, জয় পরাজয় নির্ধারণ করবে এ আসনের নারী ও তরুণ ভোটাররা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের সমর্থনও বড় ফ্যক্টর হতে পারে জয় পরাজয়ে। সবমিলিয়ে নির্বাচনে শেষ সময়ে এসে প্রার্থীদের দম ফালানোর সময় নেই। ভোটাররাও প্রার্থী বাছাইয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম প্রচলিত বিচারব্যবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় আমেরিকা এবং অন্য পাল্লায় ভারত অবস্থান করছে।
শনিবার দুপুরে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ইনসাফের প্রতীক হিসেবে পরিচিত দাঁড়িপাল্লার স্বরূপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “তারা বলেন, দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক, ন্যায়ের প্রতীক। এ কোন ইনসাফ? এখনতো দেখি দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় গোপনে আমেরিকা, আরেক পাল্লায় গোপনে ভারত।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, “বাংলাদেশের মানুষ আমেরিকার ইনসাফ দেখতে চায় না, আমরা ভারতের ইনসাফ দেখতে চাই না। আমরা ইসলামের ইনসাফ দেখতে চাই।” পটুয়াখালী শহরের শহিদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ৫৪ বছর ধরে প্রচলিত আইন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি।
চরমোনাই পীর ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষাগুলো ব্যক্ত করে বলেন যে, এ দেশের মানুষ জুলুম ও নির্যাতনমুক্ত একটি সোনার দেশ চেয়েছিল, কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ক্ষমতা দখলের নীল-নকশার কারণে সেই প্রত্যাশা আজ সংকটের মুখে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি এক দল ক্ষমতায় আসলে আরেক দল দেশ ছেড়ে পালায়। ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় আসতে পারলে কোনো নিরপরাধ মানুষকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না।” আসন্ন নির্বাচনে তার দলের নির্বাচনী প্রতীক হাতপাখার পক্ষে সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, “হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে যদি একটা ভোট পড়ে তাহলে ইসলামের পক্ষে একটা শক্তি বাড়ে।” বাউফল উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামের আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নবীনচন্দ্র মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা বুক চিতিয়ে এ দেশের নতুন অবস্থান তৈরি করেছে, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াত ভবিষ্যতে আপসহীনভাবে কাজ করবে।’ তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে কোনো ধরনের বাণিজ্য, দুর্নীতি কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের স্থান নেই।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশের দায়িত্ব পেলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হবে।’ একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার লোকসানের পেছনে দুর্নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রাধান্য দিয়ে দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করা হবে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ হবে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও সুযোগের দেশ- যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।’ বক্তব্যের শেষে তিনি জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সভায় স্থানীয় নেতারা, দলীয় কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, কেবল ক্ষমতার লোভে যারা রাজনীতি করে তাদের কোনো আদর্শ বা নীতি থাকে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দেশ ও গণমানুষের সেবাই ইসলামী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় বরগুনার পাথরঘাটা হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তাঁরা কেবল এমপি বা মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করেন না, বরং দেশ ও ইসলামের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাঁদের রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য।
বিগত সরকারগুলোর কঠোর সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর ধরে যারা দেশ শাসন করেছেন, তাঁদের দুঃশাসনের কারণেই বাংলাদেশ দুর্নীতির তালিকায় পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক তিলক পরেছে। এই সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার ফলে বিদেশে তথাকথিত ‘বেগমপাড়া’ গড়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করে এক শ্রেণির মানুষ নিজেদের আখের গুছিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এই দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে ইসলামী শাসনের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করে রেজাউল করীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দলটির প্রকৃত রূপ দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। জামায়াতের মতো এত বড় মিথ্যাবাদী দল পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি আর নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনোভাবেই শরিয়াহ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না। তিনি আরও বলেন, ইসলামের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার না থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ওই জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত কারো সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জোট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দলের শক্তি কমে যাওয়ার যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়ে পীর সাহেব বলেন, ইসলামী আন্দোলন বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ‘হাতপাখা’ মার্কায় ভোট দিয়ে একটি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। বরগুনা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও অনেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং নিজেদের প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা মনে করেন, নৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীতে দেশ পরিচালনায় সুযোগ পেলে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ কায়েম করা হবে যেখানে আইন সবার জন্য সমান হবে এবং বিচার ব্যবস্থা কোনোভাবেই টাকার কাছে বিক্রি হবে না। শনিবার সকালে হবিগঞ্জের স্থানীয় নিউফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমীর তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ঘোষণা দেন যে, বাংলাদেশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না। একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে চান, তাদের উচিত ইনসাফ কায়েমের পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থা কলুষিত হচ্ছে, কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, এমন একটি বাংলাদেশ তাঁরা গড়তে চান যেখানে কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা চরিত্র হননের নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হবেন না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে দিতে বাধ্য করা হবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।
রাজনীতিকে পেশা হিসেবে ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, জামায়াতের কাছে রাজনীতি কোনো অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি মহান দায়িত্ব। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে তারাই মূলত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সকল প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ব্যবসায়ীদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ব্যবসায়ীরা যেন কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা বা আতঙ্ক ছাড়া শান্তিতে ঘুমাতে যেতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে বলে তিনি হবিগঞ্জের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনী জনসভায় আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। হবিগঞ্জের নিউফিল্ড মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জামায়াত আমীরের এই বক্তব্য স্থানীয় ভোটারদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং ইনসাফ কায়েমের ওপর জোর দিয়েই জামায়াত তাদের নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করছে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আবদুর রশিদ জিতু এবং গণবিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন হল সংসদের নবনির্বাচিত ও বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত ছাত্র রাজনীতির এই শীর্ষ নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানের প্রেক্ষাপটেই এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমান নতুন এই ছাত্রনেতাদের স্বাগত জানান এবং আগামী দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁদের বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দিনের শুরুতেই এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপিতে যোগ দেন জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে রাজনীতি করার ঘোষণা দেন। জিতুর এই যোগদানের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটি বড় অংশও এদিন বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলে নাম লেখান। দীর্ঘ সময় পর দেশের অন্যতম প্রধান একটি ছাত্র সংসদের নির্বাচিত শীর্ষ নেতৃত্বের এমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিএনপির ছাত্র রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার রাতেই গণবিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ছাত্রনেতাদের এই ধারাবাহিক যোগদানের ফলে আসন্ন নির্বাচন ও রাজপথের লড়াইয়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নতুন এই ছাত্রনেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মেধাবী ও নির্বাচিত ছাত্রনেতাদের এই অংশগ্রহণ ছাত্র রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। বিএনপি আপামর জনগণের জন্য রাজনীতি করে। সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে। তাই আপনারা উন্নয়নের জন্য ধানের শীষে ভোট দিন। দেশকে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটার ৭ নং কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুক চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
নিজ এলাকার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে অন্যদের চেয়ে যদি আমি বেশি উন্নয়ন করে থাকি, তাহলে আমাকে ধানের শীষে ভোট দেবেন। যতজন এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের চেয়ে যদি আমি বেশি চাকরি দিয়ে থাকি, তাহলে ধানের শীষে ভোট দেবেন। আমি এলাকার উন্নয়নের জন্য জীবন ও যৌবন বিলিয়ে দিয়েছি। এখনো দিতে প্রস্তুত আছি।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের জন্য একটি পরিষ্কার বক্তব্য আছে। প্রথমত, তারা চায় জীবনের নিরাপত্তা। এরপর তারা জানমাল এবং ধর্মের নিরাপত্তা চায়। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং আমি যদি এমপি হই, তাহলে বরগুনা-২ আসনে সব হিন্দুদের জীবনের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আপনারা গত ১৭ বছর আপনাদের মূল্যবান ভোট দিতে পারেননি। তারা দিনের ভোট রাতেই দিয়ে দিত। তারা মানুষের গণতন্ত্র কেড়ে নিয়ে এক দলীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। আমরা সেই স্বৈরতন্ত্র হতে মুক্ত হয়ে মুক্ত স্বাধীন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলছি। তাই আপনাদের হাতে যে একটি শক্তিশালী ভোট প্রদানের শক্তি রয়েছে তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োগ করবেন। ধানের শীষে ভোট দেবেন।
তিনি আরো বলেন, এই সংসদীয় আসনে আমার আমলে কোনো চাঁদাবাজি ছিল না এবং কোনো চাঁদাবাজের স্থান বরগুনা-২ আসনে হয়নি। এই এলাকার সব উন্নয়নে আমার অবদান রয়েছে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের ব্যবস্থা সবই করেছি। জেলেদের জন্য চালের কার্ডের ব্যবস্থা করেছি, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত গিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এবারের নির্বাচনে এই অঞ্চলের মানুষ আমার সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আমি যদি কাজ করে থাকি আপনাদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে থাকি তাহলে আমার কর্মের জন্যই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবার নিয়ম অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাবে, যার মাধ্যমে একজন নাগরিক রাষ্ট্রের সকল মৌলিক সেবাগ্রহণ করতে পারবেন। অথচ একটি দল এখন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে; কিন্তু তারা নিজেরা জান্নাতে যাবে কিনা, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। জনগণ এখন আর মিষ্টি কথায় ভুলবে না। যারা এই বাংলাদেশই চায়নি তারা দেশের মালিকানা চাচ্ছে। তারা বেফাঁস কথাবার্তা বলে মা-বোনদের বেইজ্জতি করছে। আমাদের ইসলাম ধর্মকে নিয়ে তারা ভণ্ডামি করছে। তাদের সমগ্র দেশের মানুষ বয়কট করবে আপনারা দেখবেন।’
জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনী আমেজ।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত আদর্শ থেকে বঞ্চিত হয়নি বিএনপি। তলাবিহীন ঝুড়ির দুর্নাম ঘুচিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তিতে খালেদা জিয়াও সেই পথ ধরে এগিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে, কিন্তু এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপি দিয়েছিল। এটি নথিবদ্ধ (ডকুমেন্টেড)। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই।
তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই বিএনপি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার সরকার তৎকালীন ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’কে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন সংস্থা হিসেবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ গঠন করে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে প্রথম বছর থেকেই দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ অগ্রগতি লাভ করতে শুরু করে। ফলে ২০০২ সালে প্রকাশিত টিআইবি রিপোর্টে বাংলাদেশের স্কোর ০.৪ থেকে উন্নীত হয়ে ১.২ হয়। ২০০৩ সালে ১.৩, ২০০৪ সালে ১.৪, ২০০৫ সালে ১.৫ এবং ২০০৬ সালে ২.০। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে দুর্নীতি কমতে থাকে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির ফলে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের স্কোর আবারও কমতে থাকে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার। বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করবে না।
তারেক রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের অনেক বিষয় আছে। আমাদের অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন। একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল— সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি, সেখানে আমরা বলেছিলাম যে, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ ভোটাধিকার বা ভোটের বিষয়টি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্যই তা হতে হবে নিরপেক্ষ ভোট— যে ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকবে।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি— বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।
প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্যের শেষে আবারও দুর্নীতি ও সুশাসন নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমার দলের পক্ষ হয়ে আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে চাই যে—আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইনশাআল্লাহ সরকার গঠনে সক্ষম হলে, আমাদের সর্বাধিক আর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে এই তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করা— দুর্নীতি, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা। যে কোনো মূল্যে আমরা এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।
ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নোংরা ও নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররাই ব্যালটের মাধ্যমে সকল অনাচার ও মিথ্যাচারের মোক্ষম জবাব দেবেন।
রাজধানীর পশ্চিম শান্তিবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি এসব কথা বলেন। নিজ এলাকার মানুষের প্রতি গভীর আস্থা ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জনগণ অনেক সচেতন। তারা ভালোভাবেই বুঝে কাকে দিয়ে এলাকার কাজে লাগবে। আমি জয়লাভ করলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে আছি, আর না করলেও আমি তাদের সঙ্গে আছি। আমি এলাকার সন্তান। আমার বাবা-মাসহ পরিবার কবর এলাকাতেই।’
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘রাজনীতি করতে গিয়ে ফেরারি জীবন কাটিয়েছি। শত বিপদেও এলাকার মানুষের পাশে থেকেছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আমার দ্বারা কারও অনিষ্ট হয়নি, বরং আমার কাছে এসে ফিরে গেছে এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
নির্বাচনী পরিবেশকে সুস্থ ও উৎসবমুখর রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি কারও সম্পর্কে সমালোচনা করি না। চরিত্রহনন রাজনৈতিক কালচারের মধ্যে পড়ে না। তাই বলছি অপরের বিরুদ্ধে নোংরামি না করে এলাকাবাসীর জন্য অতীতে কি করেছেন এবং আগামীতে কি করবেন তা বলে জনগণের কাছে ভোট চান। নির্বাচনকে কুলসিত না করে উৎসবমুখর করে তোলেন।’
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর সদর–৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বিরামহীনভাবে জোরদার নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী উঠান-বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড পূর্ব বিল মাহমুদপুর জুলহাস মাতুব্বরের ডাংগি গ্রামে উঠান-বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষের বিকল্প নেই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন অনিবার্য। ফরিদপুর সদর–৩ আসনের সার্বিক উন্নয়নে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি।
এলাকার সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উঠান-বৈঠকে আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার মৃধা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আমদান হোসেন অনু, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দা সুমাইয়া, আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আদিল উদ্দিন মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, যুবদল নেতা আলী আহসান তুষার, ভিপি বাবু, আকরাম মৃধা, ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-ঘিওর- শিবালয়) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এস.এ জিন্নাহ কবির বলেছেন, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী প্রতারণা করে মিথ্যা কথা বলে ভোট দেওয়ার পায়তারা করছে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। স্বাধীনতাবিরোধী মিথ্যাবাদী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে চরাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়ন করব। যমুনা নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করব, রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করব। যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র, পাকা রাস্তা, বিমানবন্দর, মিল কলকারখানা গড়ে তোলা হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড আলোকদিয়ার বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে যমুনা নদীর চরে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জিন্নাহ কবির কথাগুলো বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্ত ও ৩ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এ দেশীয় রাজাকার জামায়াতে ইসলামী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে।
স্বাধীনতাবিরোধী মিথ্যাবাদী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশবিরোধী অপশক্তি জামায়াতে ইসলামী ষড়যন্ত্র করছে। দেশবিরোধীদের সাথে জাতীয়তাবাদী দলের কিছু বিশ্বাসঘাতক যোগ দিয়েছে। বিএনপির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারী জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হলে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করব। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির, সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের ভোট চাইতে হবে। আমরা সবাই ধানের শীষের কর্মী সকল বেদাভেদ ভুলে তারেক রহমানের ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
তেওতা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. করিম শেখ এর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন সরকার, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাক হোসেন দিপু, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মাকসুদুল হক মুকুল, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, জেলা আরাফাত রহমান কোকো প্রজন্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, শিবালয় উপজেলা বিএনপির রহমত আলী লাভলু বেপারী, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মিজানুর রহমান লিটন, জেলা কৃষকদলের সাবেক জামিলুর রহমান মনি, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, উলাইল চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, তেওতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন আনন্দ, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সাবেক ভাই চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবু, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ইউপি সদস্য মো. মিন্টু মোল্লা, জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রাজা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম মাহিদ, জেলা শ্রমিক দল নেতা মোহাম্মদ আলীয়ার হোসেন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদল সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী, জেলা যুবদলের সদস্য মোসলেম উদ্দিন, মানিকগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, মানিকগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সভাপতি সিনবাদ খান প্রমুখ।
কক্সবাজারের অফুরন্ত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এই পর্যটন নগরীকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিশেষ করে জেলার সমুদ্রসম্পদ নির্ভর অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমিকে শক্তিশালী করতে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। কক্সবাজার-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সবচাইতে ধন সম্পদে পরিপূর্ণ একটা জেলা। এ জেলায় রাব্বুল আলামিন আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর যেখানে নির্মিত হচ্ছে, এই সমুদ্রবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক দ্বার হিসেবে পরিণত করা হবে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। এছাড়াও আমার ভাই কাজল ব্লু-ইকোনমির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন। ইনশআল্লাহ সেই বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার ভূমিহীন মানুষের অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি, খাস, পিএফ জায়গায় যারা ঘূর্ণিঝড়সহ নানা কারণে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, আমরা ক্ষমতায় এলে তাদের উচ্ছেদ করা হবে না। দলিল থেকে শুরু করে সবার সাথে আলোচনা করে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় আমরা তা করব। লবণ চাষিরা সবসময় অবহেলিত, কিন্তু বিএনপি তাদের পাশে থাকে। নায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ এই শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
সমাবেশে উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের পক্ষে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় কক্সবাজারের পরীক্ষিত এই নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামীর সরকার হবে বিএনপির সরকার। সভার প্রধান বক্তা লুৎফুর রহমান কাজল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘অপার সম্ভাবনাময় কক্সবাজারে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে, ১২ তারিখ এই সমুদ্র জনপদ ধানের শীষের জয়ে ধন্য হয়ে উঠবে। আপনারা পাশে থাকুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে নিয়ে সমৃদ্ধ কক্সবাজার গড়ব।’ সদর, রামু ও ঈদগাঁও এলাকা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য যে, নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে এসে সালাহউদ্দিন আহমদ দ্বিতীয়বারের মতো ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিলেন। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি উখিয়ায় কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী-রাজিবপুর-চিলমারী) বিএনপি মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ মো. আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার যাদুরচর নতুনগ্রামের নিজ বাড়িতে মতবিনিময় সভা করেন। কুড়িগ্রাম -৪ বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে ভোটারদের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে মত প্রকাশ করেন। এমপি নির্বাচিত হলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নদীভাঙন, বেকার সমস্যা সমাধান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ মোকাবেলায় সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলার বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, ড. মোহাম্মদ আলী, যুবদল সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী-রাজিবপুর উপজেলার সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকরা।