বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩

এখনো ঝুঁকিমুক্ত নন খালেদা জিয়া

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২৪ ১৭:৪৯

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খানিকটা উন্নতি হয়েছে। তবে অপারেশন-পরবর্তী ঝুঁকি থেকে এখনো মুক্ত নন তিনি। সে কারণে এখনো চিকিৎসকদের বাইরে অন্য কাউকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে খালেদা জিয়া কেবিনে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার পর্যালোচনা করছেন চিকিৎসকরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওষুধের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখনো তিনি ভারী খাবার খেতে পারেন না। তরল জাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছে তাকে।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। তাকে কেবিনে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।’

এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, তিনি এমনিতে খাবার কম খান। এখন শুধু তাকে তরল স্যুপ ও জাউ জাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চাইতে উন্নতি কিংবা অবনতি হয়নি। আগের মতোই আছেন তিনি।

বিএনপির একজন চিকিৎসক নেতা বলেন, অপারেশনের পর তার অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে। কিন্তু অপারেশন-পরবর্তী ইনফেকশন হওয়ার একটা ভয় থাকে। যার কারণে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। কেবিনে চিকিৎসকদের বাইরে শুধু তার ব্যক্তিগত স্টাফরা রয়েছেন।

গত ২৩ জুন খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।

গত ২১ জুন মধ্য রাতে খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের দুটি দুর্নীতি মামলায় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দণ্ডিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে দিনই তাকে কারাগারে যেতে হয়। টানা দেড় বছর ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ থাকার পর নানা শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কারাকক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলে ওই মাসের শেষ দিকে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে তাকে দুটো শর্তে কারামুক্তি দিয়ে বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শর্ত দুটো হচ্ছে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং তাকে দেশেই চিকিৎসা নিতে হবে অর্থাৎ বিদেশে যেতে পারবেন না। তখন থেকে প্রতি ৬ মাস পরপর পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়ে যাচ্ছে সরকার। তবে বর্তমানে খালেদা জিয়া বেশ অসুস্থ। গত ২৩ জুন তার হৃদ্‌যন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে।

এ ছাড়া তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিলরোগে ভুগছেন। এদিকে তার দল বিএনপি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে।

বিষয়:

গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে টিআইবির ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, পদে নিয়োগের প্রলোভন এবং পরবর্তীতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় চার দিনের রিমান্ডে থাকা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদে বহাল থাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

​দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় নিজ দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকাকে জাতীয় সংসদের জন্য মর্যাদাহানিকর হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে, নিরপেক্ষ তদন্ত সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের জন্য অবিলম্বে বিশেষায়িত ও বাধ্যতামূলক ‘নৈতিক আচরণবিধি’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

​মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, কিশোরী মরিয়ম খাতুনকে চাকরি দেওয়া ও তার বাবাকে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন, পরবর্তীতে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা এবং মরিয়মের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক যে অভিযোগ উঠেছে—তা সংসদের সম্মানের জন্য অবমাননাকর।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। তবে পদ ও প্রভাব ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ, দলীয় বহিষ্কার এবং রিমান্ডের পরও একজন ব্যক্তির সংসদ সদস্যপদ অব্যাহত থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করবে আদালত, কিন্তু নৈতিকতা ও জন-আস্থার প্রশ্নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংসদের। তার পদে থাকা নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা সংসদ ও নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করতে হবে।

​বিজ্ঞপ্তিতে সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে ড. জামান জানান, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়। ফলে বর্তমান আইনি কাঠামোর কারণে নজরুল ইসলামের পদ নিজে থেকে বাতিল হচ্ছে না। তবে এই আইনি সীমাবদ্ধতাকে যেন নৈতিক স্খলনের ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সেদিকে নজর দিয়ে আইনি বিধান স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

টিআইবি আরও জানান, এমপিদের আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে টিআইবির খসড়ার ওপর ভিত্তি করে ‘The Members of Parliament Conduct Bill, 2010’ সংসদে উত্থাপিত হলেও তা আইনে পরিণত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবে, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও জনপ্রতিনিধিদের জন্য আচরণবিধি ও বার্ষিক সম্পদ বিবরণী প্রকাশের জোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার প্রতি সব দল ঐকমত্য প্রকাশ করেছিল।

সংসদের মর্যাদা বজায় রাখতে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা ও সেক্সটরশনের (যৌন ব্ল্যাকমেইল) নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অবিলম্বে ‘Member of Parliament Conduct Act’ পাসের জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।


দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার সময় বাসায় ছিলেন এমপি গাজী নজরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর সময় তিনি ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটেই ছিলেন বলে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। খাওয়া শেষে মরিয়ম খাবার খেয়েছেন কি না, তা জানতে তাঁর কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

মরিয়মের বাবার করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার গাজী নজরুল ইসলামকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুল ইসলামের। সেখানে তিনি প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে থাকতেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল বলেছেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি বাসা থেকে বের হন। বিভিন্ন কাজ শেষে দুপুর ২টার দিকে বাসায় ফেরেন। এরপর এলাকার কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁর বাসায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান।

খাওয়া শেষে মরিয়ম খাবার খেয়েছেন কি না, তা জানতে তাঁর কক্ষের সামনে যান গাজী নজরুল। তখন কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য।

এর আগে মরদেহ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল জানিয়েছিলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন। তবে কীভাবে মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছিলেন।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে। আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয় এবং আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে মাকছুদা দাবি করেছেন, ঘটনার আগে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর কোনো ঝগড়া হয়নি। মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন।

ডিবি কর্মকর্তারা গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানিয়েছেন, তাঁরা কিছু তথ্য দিয়েছেন এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে। ওবায়দুর রহমান এখনো গ্রেপ্তার হননি; তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বলে পরিচয় দেন। এর পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়।

এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছে ডিবি। এখন পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই ও ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।


ককটেল বিস্ফোরণ: পাটওয়ারীর গ্রেপ্তার দাবি যুবদল সভাপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। এসব ঘটনার সঙ্গে পাটওয়ারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মোনায়েম মুন্না বলেন, পাটওয়ারী বিভিন্ন আচরণের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসতে চান। তার ভাষ্য, পাটওয়ারী বলেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যাবে। এ বক্তব্যের সূত্র ধরে মুন্না প্রশ্ন তোলেন, তাহলে ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত।

তিনি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার সব ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এসব ঘটনার ‘হোতা’ হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, ১১ দলীয় জোটের তিনটি দাবি রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণভোটের বিচার এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সংস্কার। সরকার এসব দাবি মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাটওয়ারীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল—তাদের দাবি বাস্তবায়িত হলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর সুযোগ পাবে না—এমন বক্তব্য দেওয়া। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সমাবেশে জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের প্রসঙ্গও তোলেন যুবদল সভাপতি। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর কারণে ১৯ বছরের এক তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হয়েছেন। ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মুন্না বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব ছিল। গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে তরুণীটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় গাজী নজরুল বর্তমানে রিমান্ডে থাকায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান যুবদল সভাপতি।

সমাবেশে জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন মোনায়েম মুন্না। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতে আঁতাত করেছে এবং এখনো গোপনে আঁতাত করছে।

তার দাবি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে অন্যায়-অপরাধের ঘটনা ঘটলে সেটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে এসব বক্তব্যকে তিনি রাজনৈতিক সমালোচনা হিসেবেই তুলে ধরেন।

দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে যুবদল সভাপতি বলেন, জনগণকে সজাগ করতে হবে। যুবদল রাজপথে রয়েছে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংগঠনটির সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা জানান তিনি। একই সঙ্গে ওই স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে যুবদলের সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি (দপ্তর) নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মিছিল করেন।


পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী পৌর শহরের ঝাউতলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন জেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনুসহ জেলা-উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতার প্রভাব সৃষ্টি করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু জনসাধারণ তা মেনে নেয়নি। জনসাধারণ ভোট দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। বর্তমানে সেসব দলগুলো সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ঘৃণ্য পায়তারা চালাচ্ছে। বিএনপি ও দেশের আপামর জনসাধারণ তা মেনে নেবে না। চলমান সন্ত্রাস নৈরাজ্য বন্ধ না করা হলে জনসাধারণকে সাথে নিয়ে বিএনপি তা প্রতিহত করবে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটি প্রদান করা হচ্ছে এসব কমিটিতে হাইব্রিড নেতা, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান হবে না। কমিটিতে নির্যাতিত নিপীড়িত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। দেশকে মাদকমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপি ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতি অব্যাহত রাখবে।’

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।


পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার নেপথ্য হোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপিকে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং ১১ দলীয় জোট—উভয় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সামলে জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিরোধী দলগুলো আগামী ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি দাবি করেন, দেশকে অশান্ত করতে জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ গোপনে একজোট হয়ে বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বিস্ফোরণের পথ বেছে নিয়েছে। এমনকি এনসিপির পক্ষ থেকেই স্বীকার করা হচ্ছে যে তাদের রাজনৈতিক দাবি মেনে নিলে সহিংসতা বন্ধ হবে, যা স্পষ্ট অপরাধের শামিল। মাত্র সাত মাস বয়সী একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ‘লংমার্চ’ কর্মসূচিকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে মূলত ফেসবুকের প্রচারের জন্য লোকদেখানো আয়োজন করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিপুল ভর্তুকি দিয়েও আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারকে বাধ্য হয়ে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে সরকারের নেওয়া নীতিগত পদক্ষেপের ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট পুরোপুরি দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভারতের আদানি গ্রুপের চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পতিত শক্তিকে ফেরাতে নানা মহল সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে ঘিরে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপতৎপরতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ চালানো হচ্ছে বলেও তীব্র নিন্দা জানান রাশেদ খাঁন।


জনকল্যাণমুখী প্রতিটি কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করাই জামায়াতের চরিত্র: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধীদলের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, জনকল্যাণমুখী প্রতিটি কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করাই জামায়াতে ইসলামীর স্থায়ী চরিত্রে পরিণত হয়েছে। জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা সৃষ্টির অপকৌশল হিসেবেই তারা বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে বারবার বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই দলটি কখনো জনগণের প্রকৃত আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।

দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিরোধী দলগুলোর কোনো কর্মসূচিতে সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে না, যা দেশে অবাধ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকারই স্পষ্ট প্রমাণ।

এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সহিংস ঘটনার পেছনে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী চক্র এবং বিরোধী শিবিরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সরাসরি জড়িত। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দাবি করেন, দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার হীন উদ্দেশ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, এনসিপি ও জামায়াত যৌথভাবে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।


সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরেই সরকার গণভোটের রায় না মেনে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সংসদে জুলাই সনদ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে, যার প্রভাবে দ্রব্যমূল্যসহ সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অতীত সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের সময়েও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর ব্যর্থতার কারণে সরকারকে সংকটে পড়তে হয়েছিল এবং পুনরায় তাঁকেই এই দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে ভোগান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকারের প্রতি বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ গ্রামে-গঞ্জে থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ শুরু করলে সরকারের পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।


১১ দলীয় জোটের দাবি মানলে ককটেল ফুটবে না: পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিক্ষোভ মিছিল থেকে ১১ দলীয় জোটের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘১১ দলীয় জোট যে দাবিগুলো করে যাচ্ছে, সেগুলো মানলেই তো হলো। এই দাবিগুলো মানলেই ঢাকায় ককটেল আর ফুটবে না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে বাদ দিতে হলে সংস্কার প্রয়োজন। ১১ দলীয় জোটও একই দাবিগুলো জানিয়ে আসছে।’

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং সংস্কার—আমরা তো এই তিনটি দাবিতে অনবরত রাজপথে আছি। সরকার তো এই দাবিগুলো মানছে না।’

তার দাবি, ১১ দলীয় জোটও এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা বন্ধ হবে।

তবে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক দাবিগুলোর সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সিদ্ধান্ত এ বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি। পাটওয়ারীর বক্তব্যটি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে রোববার রাতে সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি মূল্য সমন্বয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল ও শিপিং ব্যয় বেড়েছে এবং বাংলাদেশে চলতি বছরে এটি তৃতীয় দফার মূল্যবৃদ্ধি।

বিক্ষোভে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের ঘটনাবলির বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিগুলোকে এনসিপির চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটও একই ধরনের দাবিতে আন্দোলন করছে। এসব দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মত দেন।

এনসিপির এই কর্মসূচি মূলত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজন করা হলেও বক্তব্যে রাজনৈতিক সংস্কার ও সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গও উঠে আসে।

জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন কর্মসূচি পালন করছে।


পলাতক-পরাজিত শক্তির এক হওয়ার চেষ্টা চলছে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশ স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দাবি করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। তাঁর দাবি, একদিকে একজন পলাতক স্বৈরাচার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলছেন, অন্যদিকে আরেকদল সরকার পতনের কথা বলছে। পলাতক ও পরাজিত শক্তি এক হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌর মিলনায়তনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানাগার উপকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে সাবমারসিবল পাম্প বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ যখন স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংস্থা দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসার কথা বলছে, তখন দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একদিকে একজন পলাতক স্বৈরাচার ডিসেম্বরে দেশে আসার কথা বলছেন, অন্যদিকে আরেকদল লোক ডিসেম্বরে সরকার পতন করার কথা বলছে।

তিনি বলেন, পলাতক ও পরাজিত শক্তি এক হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এতে কোনো লাভ হবে না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকার ভয় পায় না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা বিক্রি হয়নি। এখন তারা এ দেশের মানুষকে দোজখের পথে নিতে চায়।’ তাঁর এই বক্তব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়নি, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। একইভাবে দেশের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে অন্যদেরও জড়ানো উচিত নয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি জমি উদ্ধারের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ভূমি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের এক ইঞ্চি জমিও কোনো অবৈধ দখলদারের দখলে থাকতে দেওয়া হবে না।

দখল হয়ে যাওয়া সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করে তা সরকারি ও জনগণের কাজে ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও কাজের অনীহা এক দিনে দূর করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী তারাবো পৌর শিশু পার্কের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সাবমারসিবল পাম্প বিতরণে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, জেলা প্রশাসক রায়হান কবীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


স্পিকারের চিঠি পেলে গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে ইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে এখনো নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কমিশন। চিঠি পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানোর বিধান রয়েছে। স্পিকারের কাছ থেকে চিঠি পাওয়া গেলে সেটি পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে কমিশনের সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু আইন অনুযায়ী সংসদ থেকে কোনো চিঠি না এলে নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।’

গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত জুলাইয়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলটি তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল। তবে শুধু রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায়—এমন বিধান নেই বলে আইনগত ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে।

ইসি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের বিরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে এলে সংশ্লিষ্ট আইন ও সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কমিশন বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় যেতে পারে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব থাকে। এরপর সংসদ সদস্যের শপথ ও পরবর্তী বিষয়গুলোর এখতিয়ার সংসদের।

গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে আলোচনা নতুন করে সামনে আসে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর পর। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবা গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় গাজী নজরুলকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রীকে একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

গাজী নজরুলের আইনজীবী অবশ্য তাকে নির্দোষ দাবি করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলামের জামায়াতের সদস্যপদ হারানো এবং তার সংসদ সদস্য পদ—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। দলীয় বহিষ্কারাদেশের পর জামায়াত চিঠি দিলেও সংসদ সচিবালয় বা স্পিকারের আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স এখনো ইসিতে পৌঁছেনি।

ইসি জানিয়েছে, স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি বা রেফারেন্স পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও সংবিধানের বিধান পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে আপাতত গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ বহাল আছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


মাদকের বিস্তারের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় এনসিপির মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় মাদকের বিস্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মানববন্ধন থেকে ধর্ষণ, খুন ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মাদক নির্মূলে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ের শহীদ চত্বরে এ মানববন্ধন হয়।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শোয়েব রায়ান, সদর উপজেলা সদস্য সচিব নাজমুস সাকিব সৈকতসহ দলটির নেতারা। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন নাজমুস সাকিব সৈকত।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশু অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, ‘শিশুদের অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় মানুষ বিচার প্রত্যাশা করছে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’


অন্য দেশের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম কম: রুহুল কবীর রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনও অনেক কম রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংকট উত্তরণে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, বিদ্যমান জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বগতি ও অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যাখ্যা দিয়ে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘বিশ্বে অন্যান্য দেশের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশ অনেক কম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হচ্ছে। আমরা জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছি। মূল্য সমন্বয় করার পরেও লোকসান গুনতে হচ্ছে।’ বিভিন্ন দেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আন্তরকিতার সঙ্গে চেষ্টা করছে জ্বালানি সংকট নিরসনে।’

তেলের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘কম দামে কিভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা না করে বিরোধী দলের লং মার্চে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কাম্য নয়।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, কোনো পক্ষ থেকে যদি এক দফার আল্টিমেটাম বা সরকারবিরোধী হুমকি আসে, তবে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো সহিংস ঘটনাগুলোকে দেশকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত অপতৎপরতা বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, সরকারের গৃহিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই এসব পরিকল্পিত নাশকতা চালানো হচ্ছে।


গাজী নজরুলের ফ্ল্যাটে ছুটে গেলেন এমপি হানজালা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে যান মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। তিনি দুজন নিরাপত্তারক্ষীসহ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে যান এবং সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখা যায়। পরে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে তিনি ও শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। ভবনের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।

ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের জন্য পিবিআই ও সিআইডির সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। তাদের উপস্থিতিতে দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, গাজী নজরুল ইসলাম রোববার দুপুরে তাঁর দুই স্ত্রীকে নিয়ে খাবার খান। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা আলাদা আলাদা কক্ষে চলে যান।

পরে বিকেল ৫টার পর মরিয়মকে ডাকতে গিয়ে তাঁর কক্ষের দরজা বন্ধ পান গাজী নজরুল। একপর্যায়ে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায় বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য।

এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। তবে কখন মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তসহ তদন্তের অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়।

এর আগে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গাজী নজরুল দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছিল।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


banner close