রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪
রুহুল কবির রিজভী

শিক্ষার্থীদের দাবি না মানলে পরিস্থিতি ভয়ানক হবে

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ জুলাই, ২০২৪ ২১:০৭

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মনে করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক ও ন্যায্য। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, অবিলম্বে ছাত্রদের দাবি মেনে নিন। না হলে পরিস্থিতি ভয়ানক হবে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে আজ সোমবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স রুমে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেছেন, বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষায় ২০০ নম্বর রাখা হয়েছে, যাতে নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া যায়। এভাবে অনাচার তৈরি করেছে সরকার। কিন্তু তাদের লুণ্ঠনের রাজত্বের বিরুদ্ধে জাগরণ তৈরি হয়েছে। জনগণ মেনে নেয়নি তাদেরকে।

রুহুল কবির রিজভী কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছা ও আদালতের ইচ্ছা এক হয় কী করে? যে কোটা আন্দোলনে সরকার কোটা বাতিল করেছিল, সেটি তখন কোর্টও রায় দিয়েছিল। তাহলে এখন আবার আদালতকে দিয়ে সেটি পুনর্বহাল করা হয়েছে। আসলে সরকারপ্রধান মেধা চান না। একটি মেধাবী গোষ্ঠী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, এটাই গোটা বিশ্বের নীতি। কিন্তু তিনি সেই প্রক্রিয়াটি নষ্ট করেছেন আদালতকে দিয়ে। আদালতের রায় সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন। তার মনে ক্ষোভ রয়ে গেছে। যেমন তিনি ক্ষোভের কারণে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি করে রেখেছেন।’

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশে বাস করেও স্বাধীন নই। এ কথাটিই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি গোটা জাতিকে অবজ্ঞা করেছেন। অপমান করেছেন। এর আগে এমন দাসের মনোভাবাপন্ন কথা আমরা কখনো শুনিনি। কারণ, আওয়ামী সরকার কখনো চায়নি দেশটা মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।’

সংগঠনের সভাপতি কাজী মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।


কোটা আন্দোলনের যৌক্তিকতা রয়েছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা রয়েছে। কোটা যেভাবে আছে তা চলতে পারে না। সংসদে এ বিষয়ে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। চুন্নু বলেন, সরকারের উচিত আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়া।

এ সময় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতায় দেশে ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে দুর্নীতি। তার দল দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রেখে, বাকি কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাসের এক দফা দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে’ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

এখানে উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই দিন এই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।

এদিকে গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেন। পরে ১০ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন আপিল বিভাগ।

এর আগে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


দেশে এখনো নানাবিধ সমস্যা বিরাজ করছে: রওশন এরশাদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিণী রওশন এরশাদ বলেছেন, ‘দেশে এখনো নানাবিধ সমস্যা বিরাজ করছে। শিক্ষকরা আন্দোলন করছে। ছাত্ররা কোটা সংস্কার আন্দোলন করছে। বেকার সমস্যা বেড়েই চলছে। জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। অন্যদিকে দেশে ভয়াবহ বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পল্লীবন্ধু (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) বেঁচে থাকলে, বসে থাকতে পারতেন না। তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে ছুটে যেতেন।’

আজ রোববার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিকেলে কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেতাকর্মীদের ভালোবাসতেন। অথচ এখন অনেকে আছেন, যারা জাতীয় পার্টির পরিচয় দিয়েও এরশাদকে মুছে ফেলতে চাইছেন। বিগত সংসদ নির্বাচনে তারা পল্লীবন্ধুর নাম মুখে নেয়নি। নির্বাচনী ইশতেহারে পল্লীবন্ধুর ছবিটা পর্যন্ত রাখেনি।

এরশাদকে যারা ভালোবাসে তারা তা মানতে পারেনি উল্লেখ করে রওশন বলেন, তাই যেখানে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েও জাতীয় পার্টি ১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলো। সেখানে বিগত নির্বাচনে পেয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। সেটাও জাতীয় পার্টির একক ভোট নয়, ছিল সমঝোতার ভোট।

আমরা এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টিকে শেষ হয়ে যেতে দিতে পারি না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পার্টির মধ্যে কোন দ্বিধা-বিভক্তি হতে দেব না। তাহলে পল্লীবন্ধুর আত্মা কষ্ট পাবে। যারা পল্লীবন্ধুকে ভালোবাসে, তাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নাই। আমরা এক আছি এবং ঐক্যবদ্ধ থাকব।

দেশের চলামান সমস্যাগুলো আবারও উল্লেখ করে রওশন বলেন, দেশের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। কিন্তু সমাধানের পদক্ষেপগুলো যথার্থ নয়। ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই সরকারের উচিত ছিল আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা। সরকার সেটা এখনো করতে পারেন।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির এই অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশিদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালেহ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাহিন আরা সুলতানা রিমা প্রমুখ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সাহিদুর রহমান টেপা, গোলাম সারোয়ার মিলন প্রমুখ।


কোটা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী রূপ দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বিএনপি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটাবিরোধী আন্দোলন একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনকে বিএনপি ও তার দোসররা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে বিএনপিসহ একটি চিহ্নিত মহলের ষড়যন্ত্র ও অপকৌশলের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন। অথচ বিএনপি ও তার দোসররা এ আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতারা বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে উসকানি দিচ্ছে। সরকার একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে। কোটাবিরোধী আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। ইতোপূর্বে বিএনপি ও তার দোসররা সব আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা শিক্ষার্থীদের এ কোটাবিরোধী আন্দোলনের ওপর ভর করছে এবং এটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। তাই কারও উসকানিতে পড়ে সরকারবিরোধী বক্তব্য না দিয়ে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি পরিহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। চূড়ান্ত শুনানিতে আদালত সব পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি-তর্ক আমলে নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন। আমরা আশা করি, অচিরেই এ বিষয়ে সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের যৌক্তিক দাবির প্রতি আওয়ামী লীগ সর্বদা আন্তরিক। কোনো যৌক্তিক দাবিই কখনোই আওয়ামী লীগের কাছে উপেক্ষিত হয়নি। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি জনকল্যাণকর উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পুনরায় আহ্বান জানাবো, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখার জন্য।


গণতন্ত্রের জন্যও শিক্ষার্থীদের লড়াই করার আহ্বান আমীর খসরুর

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য শিক্ষার্থীরা যেভাবে লড়াই করছেন, ঠিক সেভাবে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্যও তাদের লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ শুক্রবার যুগপৎ আন্দোলন ঘোষণার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার যেভাবে রাষ্ট্র চালাচ্ছে, এতে আগামী দিনে মেধাবী বাংলাদেশের কোনো সুযোগ নেই, বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমার মনে হয় না বাংলাদেশকে তারা মেধাবী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। কারণ মেধাবীরা সত্য কথা বলে, সত্যের পথে চলে, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করে।

সকালের টানা বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন স্থান ডুবে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহর তো ঢুকবেই। কারণ মেধাবী লোকজন তো কোথাও নেই। যারা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ করে, সেখানে মেধাবী লোকদের নিয়ে আসতে হবে। দলীয় লোকজন দিয়ে যদি চালানো হয় তাহলে ঢাকা ডুববে, সারা বাংলাদেশ ডুববে। আর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তো এমনিতেই ডুবে গেছে, এখন শুধু পানির ডোবা দেখতে পাচ্ছেন। সবদিক থেকে বাংলাদেশ ডুবে গেছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের মালিকানা হারিয়ে ফেলেছে। এই মালিকানা কেউ কেড়ে নিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মূল মালিকানা ফিরিয়ে আনতে একটি বড় বিষয় ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় ঐক্য। কোন প্রক্রিয়ায় এই মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তা আমাদের ৩১ দফায় ছিল। মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হলে সংবিধানে কী পরিবর্তন করতে হবে, বিচার ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনতে হবে, সংসদের মধ্যে কী পরিবর্তন আনতে হবে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনতে হবে, সামাজিক ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনতে হবে- এসব ছিল। আমরা যদি সবাই মিলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের গ্যারান্টি দিতে পারি, তাহলে এই স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আজকের যে আন্দোলন, তা পরিপূর্ণতা লাভ করবে। মানুষের কাছে এই ৩১ দফা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনে কর্মসূচি নিতে হবে।

আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা যেসব রাজনৈতিক দল সরকারবিরোধী আন্দোলন করছি, তাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের সবাই মিলে একটি কাজই করতে হবে, এ সরকারের পতন। আমরা যদি অতীত দেখি, তাহলে দেখা যাবে আমরা কেউ কেউ আলাদা হয়ে গেছি। কিন্তু আমাদের বরং আরও বেশি যুক্ত হতে হবে এবং অন্যদেরও যুক্ত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে আমাদের পেছনে ১৫ বছর আছে। এই ১৫ বছরে আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতা কতটুকু সেটা ভাবতে হবে। আমাদের আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। প্রয়োজনে এ কোটা সংস্কারের দাবিও আমাদের ৩১ দফার মধ্যে আনতে হবে যাতে আমরা ছাত্রদেরও আমাদের আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি এবং বড় আন্দোলনের পথে পা বাড়াতে পারি। সবাই মিলে লড়াইটা করতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক দলের সহসভাপতি তানিয়া রব, অধিকার পরিষদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

বিষয়:

কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটা আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কার বিপক্ষে আন্দোলন করবে? সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ তো তাদের পক্ষেই আছে। এরপর আন্দোলন চলমান থাকা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কোনো গোষ্ঠী বা মহল এই আন্দোলনকে উসকানি দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন চলমান রাখায় সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির অপরাজনীতি এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এই বিবৃতি বলে এসময় উল্লেখ করা হয়।

কাদের বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই আদেশের পর হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের কোনো কার্যকারিতা বর্তমানে নেই। এরপরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান থাকার যৌক্তিকতা নেই।

তিনি বলেন, আন্দোলনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়লে তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর জনগণ আস্থাহীন হয়ে পড়বে। একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক মহল শিক্ষার্থী ও জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা করছে। আমরা বিশ্বাস করি না, কোমলমতি সব শিক্ষার্থী দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করতে চায়। শুধু যারা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তারাই আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যে কোনো আন্দোলন হলেই বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা সেটাকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় যাওয়ার দুঃস্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ে। এখন তারা কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ, তাদের ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল– দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস ও উগ্র-জঙ্গিবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতা দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করে লন্ডনে বিলাসী জীবনযাপন করছে। দেশের সাধারণ জনগণের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এই দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের অপরাজনীতির কারণেই বারবার জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বিএনপি। সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনেই তারা সফল হতে পারেনি। তাই যখনই অরাজনৈতিক আন্দোলন সংগঠিত হয়, সেটাকে পুঁজি করে রাজনীতি করার অপচেষ্টা করে বিএনপি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের যৌক্তিক দাবির প্রতি আওয়ামী লীগ সবসময় আন্তরিক। কোনো যৌক্তিক দাবি কখনোই আওয়ামী লীগের কাছে উপেক্ষিত হয়নি। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি জনকল্যাণকর উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাব— আপনারা কারো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহারের শিকার হবেন না।

বিবৃতিতে বলা হয়, চূড়ান্ত শুনানিতে আন্দোলনকারীদের পক্ষের আইনজীবীর আরও যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত শুনানির মাধ্যমে এ বিষয়ে নিষ্পত্তি করবে। আদালত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের বিষয়গুলো চূড়ান্ত শুনানিকালে আমলে নিয়ে বাস্তবসম্মত চূড়ান্ত রায় প্রদান করবেন এবং বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে এ ধরনের সব কর্মসূচি পরিহার করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আবারও অনুরোধ জানাচ্ছি।


কোটা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপিসহ কিছু দল কোটা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এটিকে রাজনীতিকরণ করছে। পাশাপাশি কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পায়ঁতারা করছেন তারা। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকার বিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কোটা বাতিলের ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় নারীরা পিছিয়ে পড়েছেন। কোটা থাকা অবস্থায় ২৬ শতাংশ নারী নিয়োগ পেলেও কোটা তুলে দেয়ার পর এই হার নেমে আসে ১৯ শতাংশে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোটা নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তা অবাস্তব। কোটা বাতিলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থীরা। বৈষম্য নিরসনের জন্য কোটা প্রয়োজন।

জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সব কার্যক্রম বন্ধ করে অবিলম্বে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাবার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের সব পক্ষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।


কোটাবিরোধী আন্দোলনে এবার ছাত্রদলের সমর্থন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটা সংস্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

নেতারা বলেছেন, কোটার বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী ছাড়া কোনো অন্যক্ষেত্রে কোটার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তারা।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবে কিনা, তা অবশ্য স্পষ্ট করেনি সংগঠনটির নেতারা।তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসহ সব যৌক্তিক দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন ছাত্রদল নেতারা।

কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র জারি করে সরকার। গত ৫ জুন সেই পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এর ফলে সরকারি চাকরিতে আগের কোটা পদ্ধতি ফিরে আসে।

এরপরই হাইকোর্টের আদেশ বাতিল এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ, দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করছেন তারা। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

এরি মধ্যে গতকাল বুধবার হাইকোর্টের আদেশে এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছে আপিল বিভাগ। এই সময়ে সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না। কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদেরও ক্লাসে ফিরতে বলেছেন প্রধান বিচারপতি।

কিন্তু এসবের কিছুই মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তারা আগের মতোই অবরোধ-কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা এখন নতুন দাবি তুলেছেন যে, আদালত নয়, সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে।


কোটার সময়োপযোগী সংস্কার ও যৌক্তিক স্থায়ী সমাধান চায় ছাত্রলীগ

কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে ঢাবি মধুর ক্যান্টিনে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১১ জুলাই, ২০২৪ ১৫:১১
ঢাবি প্রতিনিধি

সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা পদ্ধতির সময়োপযোগী সংস্কার চেয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কোটা ব্যবস্থার একটি যৌক্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন লিখিত এক বক্তব্যে এ দাবি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কোটা ব্যবস্থায় একটি যৌক্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান ও সংস্কার আনায়ন করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কোনো অবরোধ বা জিম্মি পরিস্থিতি তৈরি করে ‘স্পট ডিসিশন’ গ্রহণ করা নয়, বরং একটি সমন্বিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামোর প্রেক্ষিতে একটি যৌক্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থায়ী সমাধান উদ্যোগ প্রয়োজন। কিন্তু তেমন কোনো সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান না জানিয়ে, এমনকি আদালতের চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই কেন এই অনিঃশেষ আন্দোলন?

শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, আন্দোলনের নামে অনিঃশেষ অবরোধ কার্যক্রম পরিচালনা কোনোভাবেই দাবির সুষ্ঠু সমাধান নিয়ে আসতে পারে না। চলমান এইচএসসি পরীক্ষা, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় সড়ক অবরোধ, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি থেকে তাদের অবিলম্বে ফিরে আসতে হবে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখবে, এটিই সবাই প্রত্যাশা করে।

২০১৮ সালের পরিপত্র নিয়ে জানতে চাইলে সাদ্দাম বলেন, আমরা ২০১৮ সালের পরিপত্রের যৌক্তিক সংস্কার চাই। আজকে আমরা কিছু তথ্যের মাধ্যমে দেখিয়েছি কেন কিছু কোটা দরকার।

এসময় ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের কারণে নারী, জেলা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সুযোগ সংকুচিত হওয়ার কিছু তথ্য তুলে ধরেন সাদ্দাম হোসেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, কোটা থাকা অবস্থায় সর্বশেষ ৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম বিসিএসে নারীদের চাকরি হয় যথাক্রমে ২৫.৮৯ শতাংশ, ২৪.৭৩ শতাংশ এবং ২৬.৮৭ শতাংশ। অপরদিকে কোটা তুলে দেওয়ার পর ৪০, ৪১ ও ৪৩তম বিসিএসে নারীদের চাকরি হয় ২১.০৮ শতাংশ, ২১.২০ শতাংশ এবং ১৭.০৫ শতাংশ। ৪০তম বিসিএসে দেশের ২৪টি জেলা থেকে এবং ৪১তম বিসিএসে ১৮টি জেলা থেকে একজনও বিসিএস পুলিশে সুপারিশকৃত হয়নি। এছাড়া কোটা থাকা অবস্থায় ৩১ থেকে ৩৮তম বিসিএসে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ১৭৯ জন সুপারিশকৃত হন। কোটা বাতিলের পর ৩৯তম বিসিএসে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ২৪ জন সুপারিশ পেয়েছেন এবং ৪০ ও ৪১ বিসিএসে সুপারিশ পেয়েছেন দুজন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ কোনো বাধা দেবে কি না জানতে চাইলে সাদ্দাম বলেন, আমরা তাদের আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছি। তবে আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থী সমাজকে জিম্মি করে জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করলে ছাত্রলীগ তা রুখে দেবে।

আজ শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন, এটিকেও হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের ‘কোটা না মেধা’ স্লোগান নিয়ে তিনি বলেন, যেখানে সরকারি চাকরির প্রতিটি পরীক্ষার্থীতেই একজন পরীক্ষার্থীকে প্রিলি, লিখিত ও ভাইভার প্রতিটি ধাপ পার হয়ে আসতে হয়, তাই ‘কোটা না মেধা’ স্লোগানটি একটি ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা। এখানে মেধার বিপরীতে মেধার প্রতিযোগিতায় সমাজের অনগ্রসর অংশকে কিছুটা এগিয়ে দেওয়া হয়, যা পুরোপুরি ন্যায় এবং সংবিধান সম্মত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।


শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেন কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মানুষের দুর্ভোগ হয় এমন কর্মসূচি পরিহার করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে কোটা সংস্কার। এ পর্যন্ত মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন কর্মসূচি বন্ধ করে আদালতের নির্দেশ মেনে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাই।’

তিনি আরও বলেন, আদালত কোটা সংস্কার নিয়ে চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আদালত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেনশন নিয়ে আন্দোলন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষকদের ব্যাপারটাতেও যোগাযোগ আছে। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে জানান সড়ক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কিছুটা অসুস্থ। এছাড়া চীনে প্রধানমন্ত্রীর সব প্রোগাম শেষ হওয়ায় তিনি বেইজিংয়ে রাত্রিযাপন না করে ঢাকার পথে রওনা দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।


শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সরকার সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সার্বজনীন পেনশন বাতিলের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন ও কর্মবিরতি সরকার খুবই সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নেতাদের এক যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান। শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালনের বিষয়ে এ যৌথসভার আয়োজন করা হয়।

সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। পাশাপাশি পেনশনের বিষয়ে শিক্ষক সমাজের একটি আন্দোলন ও কর্মবিরতি চলছে। আমরা সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি বলেন, যতটুকু জেনেছি আজ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি নেই। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা এও শুনেছি, কোটার বিষয়ে উচ্চ আদালতে যে মামলা চলছে, সেখানে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য শিক্ষার্থীরা তাদের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করেছে এবং যথা সময়ে তারা আদালতে হাজির হবে। এটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। সে কারণেও তাদের ধন্যবাদ জানাই।

কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী একটি পরিপত্র জারি করে সরকারি চাকরিতে কোটা মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী এতদিন সরকারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এখন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সাতজন মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে আদালতে মামলা করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত একটি রায় দিয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছে। আমরা আশা করি শিগগিরই এর শুনানি হবে। আমাদের অবস্থান এখানে পরিষ্কার।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, এখন যেহেতু কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে, সেহেতু আদালত তাদের কথা শুনবেন, সরকার পক্ষের কথা শুনবেন। সব পক্ষের কথা শুনে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাস্তবসম্মত একটি সিদ্ধান্ত নেবেন, এটিই আমরা আশা করি। ওই পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করছি। জনদুর্ভোগ যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আন্দোলনকারীদের সতর্ক মনোযোগ আশা করছি। এ নিয়ে আমরা কেউ কারো উসকানিতে যাব না।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন করছে, তাই ছাত্রলীগকে খুব সতর্কভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। কোনো অবস্থায় উসকানি দেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নেত্রী নির্দেশ দিয়ে গেছেন, তাদের পক্ষ থেকে যেন কোনো ধরনের উসকানি না দেওয়া হয়।

শিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক তাদের সঙ্গে হয়নি। এটি কোনো জটিল সমস্যা নয়। অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে আশা করি।

তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন অরাজনৈতিক। এ অরাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপি ও সমমনা কারো কারো রাজনৈতিক সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এ অশুভ মহল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দাবিতে উসকানি ও ইন্ধন দিয়ে যাতে দেশে বিশৃঙ্খল আবহ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নিজেরা আন্দোলনে ব্যর্থ। হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা নির্বাচনে যায়নি। তারা ২০১৮ সালেও কোটাবিরোধী আন্দোলনে ভর করেছিল। এখন আবার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করে সরকার হঠানোর দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে চায়। অশুভ তৎপরতা সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে জামিন দেওয়া হচ্ছে না- বিএনপির এমন দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কারণটা আইনি, রাজনৈতিক নয়। তারা সবকিছুতে রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পায়। আইনি মোকাবিলা তারা খালেদা জিয়ার জন্য করেনি। মাসের পর মাস, এমনকি বছর কেটে গেছে, তারা খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত রেখেছে, জামিনও চায়নি। তারা আইনি মোকাবিলায় ব্যর্থ। তারা খালেদা জিয়ার জন্য শহরে একটি দৃশ্যমান বিক্ষোভ মিছিল করেছে, এমন প্রমাণ আমরা পাইনি।

আগস্ট মাসে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি পালন করার জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শোকের মাস আগস্ট আবার ফিরে এসেছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে আমরা মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করব। নেতাকর্মীদের কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানাই।

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, ঢাকা ৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি ইন্ধন দিচ্ছে না: ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি ইন্ধন দিচ্ছে না। তবে এ আন্দোলনকে বিএনপি যৌক্তিক মনে করে।

আজ সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি ওবায়দুল কাদেরের ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি সওয়ার হতে পারে’ মন্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন।

এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রেখেছে সরকার। তবে বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আন্দোলন জোরদার করা হবে বলে জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে দাবি আদায় করে আর সরকার সব সময় আন্দোলনে স্যাবোটাজ করে।


চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে হবে।

আজ সোমবার (৮ জুলাই) আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার কোটা বাতিলে আন্তরিক বলেই উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা পরিহার করা উচিত ৷ আদালত কোটা বাতিলের পরিপত্র বাতিল করেছেন সরকারের পক্ষ থেকে ফের আপিল করা হয়েছে ৷

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনের ৩১ জন শিক্ষার্থী বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। কোনো রাজনৈতিক দল আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে পক্ষ নিতে পারে না ৷

বিএনপি প্রকাশ্যে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষকদের পেনশন স্কিম নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাস্তবতার আলোকে। শিক্ষক না আমলা-কে সুপিরিয়র সে বিতর্কে সরকার যাবে না ৷


banner close