সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মনে করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক ও ন্যায্য। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, অবিলম্বে ছাত্রদের দাবি মেনে নিন। না হলে পরিস্থিতি ভয়ানক হবে।’
রাজধানীর নয়াপল্টনে আজ সোমবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স রুমে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেছেন, বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষায় ২০০ নম্বর রাখা হয়েছে, যাতে নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া যায়। এভাবে অনাচার তৈরি করেছে সরকার। কিন্তু তাদের লুণ্ঠনের রাজত্বের বিরুদ্ধে জাগরণ তৈরি হয়েছে। জনগণ মেনে নেয়নি তাদেরকে।
রুহুল কবির রিজভী কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছা ও আদালতের ইচ্ছা এক হয় কী করে? যে কোটা আন্দোলনে সরকার কোটা বাতিল করেছিল, সেটি তখন কোর্টও রায় দিয়েছিল। তাহলে এখন আবার আদালতকে দিয়ে সেটি পুনর্বহাল করা হয়েছে। আসলে সরকারপ্রধান মেধা চান না। একটি মেধাবী গোষ্ঠী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, এটাই গোটা বিশ্বের নীতি। কিন্তু তিনি সেই প্রক্রিয়াটি নষ্ট করেছেন আদালতকে দিয়ে। আদালতের রায় সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন। তার মনে ক্ষোভ রয়ে গেছে। যেমন তিনি ক্ষোভের কারণে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি করে রেখেছেন।’
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশে বাস করেও স্বাধীন নই। এ কথাটিই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি গোটা জাতিকে অবজ্ঞা করেছেন। অপমান করেছেন। এর আগে এমন দাসের মনোভাবাপন্ন কথা আমরা কখনো শুনিনি। কারণ, আওয়ামী সরকার কখনো চায়নি দেশটা মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।’
সংগঠনের সভাপতি কাজী মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নিজ জন্মভূমি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তার নামাজে জানাজা। জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং হাজারো সাধারণ নাগরিক অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আরেক দফা জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। প্রায় আট মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার জীবনাবসান ঘটে।
গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি প্রায় ছয় দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন।গত কয়েক বছর ধরে তোফায়েল আহমেদ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোকজনিত কারণে তার চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
প্রতিবেশীরা জানান, তোফায়েল আহমেদ যখনই গ্রামের বাড়ি আসতেন, তখনই তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতেন। কবরের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। তোফায়েল আহমেদের জন্য দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার স্বজনরা।
গোরখোদক আবু তাহের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত মানুষের জন্য কবর খুঁড়ে আসছেন। আজ তোফায়েল আহমেদের কবর খুঁড়তে গিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তোফায়েল আহমেদের বাবা, মা, চাচা-চাচি, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজনের কবর তিনি খুঁড়েছেন। আজ তোফায়েল আহমেদের কবর খুঁড়তে গিয়ে তার খুব খারাপ লাগছে।
ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। দীর্ঘদিন পাশাপাশি রাজনীতি করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাবাসী একজন অভিভাবক হারিয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে: ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। শিক্ষাজীবনের শুরু ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। ইকবাল হল ছাত্র সংসদ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছাত্রসমাজের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তোফায়েল আহমেদ। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে। ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, যখন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী ভূমিকা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘মুজিব বাহিনী’র চার প্রধানের একজন হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত হন। মুজিবনগর সরকার গঠন, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন তিনি।
কারাবরণ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গ্রেপ্তার হন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ মাস কারাবন্দি জীবন কাটান তিনি। কারাগারে থেকেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে দলকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: তোফায়েল আহমেদ মোট ১২ বার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক পথচলা বিস্তৃত ছিল। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও ছিলেন। ১৯৯৬ সালে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জীবনের শেষভাগে রাজনৈতিক বাস্তবতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকলেও শেষ দিকে দলীয় রাজনীতিতে অনেকটাই নীরব ও আড়ালে চলে যান তোফায়েল আহমেদ। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবস্থান, মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতন ও বাস্তবতার মধ্যেও তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দেশের রাজনীতি ও জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী ছিলেন ছাত্রনেতা, গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমসাময়িক নেতারা। ইতিহাসের নানা বাঁকবদলের সাক্ষী এই প্রবীণ রাজনীতিককে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানিয়েছে তার জন্মভূমি ভোলা।
বাংলার রাজনীতির অন্যতম দিকপাল এবং মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি সংগঠক তোফায়েল আহমেদের অন্তিম যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটেয় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অশ্রুসিক্ত ঢল লক্ষ্য করা গেছে। জানাজার পূর্বে এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অব অনার' প্রদান করা হয়। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ ঢাকা থেকে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিজ জেলার মাটি ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এই নেতাকে তার পৈতৃক গ্রাম দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অনন্য সাধারণ। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি তুখড় ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন। ঐ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ১৯৭১ সালে তিনি মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন এবং পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোট ৯ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বর্ণাঢ্য এই রাজনৈতিক পথচলায় তোফায়েল আহমেদ ১৯৯৬ এবং ২০১৪ সালে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দীর্ঘ ৩৩ মাস কারান্তরালে থাকলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি জনসেবায় সক্রিয় ছিলেন। ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে জয়ী হওয়া এই নেতা কেবল ভোলার মানুষের প্রিয় অভিভাবকই নন, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার চারটি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছে। যাদের বয়স ৩০ হয়নি তারা উপদেষ্টা হয়ে দেশ-বিদেশে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে। সোমবার (০১ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি আমাদের নতুন জেনারেশন নষ্ট হয়ে গেছে। এ দেশে অনেক চক্রান্ত করে গুপ্ত সংগঠন সৃষ্টি করে একটা রাজনৈতিক দল। তাদের লেখাপড়া নাই, খেলাধুলা নাই, সংগীত-সংস্কৃতি নাই, এমনকি রিয়েল ধর্ম পালনও নাই।
এনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘তারা শুধু কিভাবে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে ছাত্রসমাজকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে মিছিলে নিয়ে যাবেন। তাদের জীবনকে ধ্বংস করে নিজেদের আখের ঘোচাতে পারবেন, সে চক্রান্ত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দুজন লোক যাদের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। কুমিল্লার ডিসিকে গিয়ে বলেছেন ১৫ কোটি টাকা দাও।
রাজস্ব ভাণ্ডারের টাকা না দিয়া উপায় নাই। আরেকজনের নাম হাসনাত আব্দুল্লাহ। উনি এখন এমপি। তিনি গিয়ে ডিসিকে বলছেন আমারে ১০ কোটি টাকা দিয়ে দাও। এরা অমানুষ, চিটার-বাটপাড়। এদের মতো মানুষ ধ্বংস করার কোনো মেশিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নাই।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রকল্পের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা বরাদ্দের অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলার জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার এই ঘটনাকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দুই নেতা যদি সত্যিই এই টাকা না নিয়ে থাকেন, তবে যেন প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেন।
রোববার (৩১ মে) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেলা পরিষদের প্রশাসক তাঁর আগের বক্তব্যের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকা প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময়ে কুমিল্লার অন্যান্য উপজেলাগুলোর কপালে জুটেছে মাত্র ১০ থেকে ২৬ লাখ টাকা।
নিজস্ব তহবিল এবং এডিপির টাকার এমন অসমান বণ্টনকে উনাদের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন মোস্তাক মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে এই নতুন অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মহলে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত।
অবশ্য বক্তব্যের শেষভাগে কিছুটা সুর নরম করে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্পষ্ট করেন যে, নেতারা এই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন—এমন দাবি তিনি করছেন না। বরং প্রকল্পের আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের দুই এলাকায় মেগা বরাদ্দ ভাগিয়ে নেওয়ার কারণে তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো যে চরম অবহেলার শিকার হয়েছে, তিনি মূলত সেই পদ্ধতিগত বৈষম্যের কথাই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁ জেলা বিএনপির উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৩০মে) সকালে নওগাঁ শহরের কেডির মোড়স্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু,। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নূর ই আলম মিঠু, মোঃ শফিউল আজম ভিপি রানা এবং খায়রুল আলম গোল্ডেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রহমান রিপন।
বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। পরে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গভীর শ্রদ্ধাভরে এই মহান নেতাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। তার জীবনকালে স্বজাতির চরম ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।’
শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে জাতির ইতিহাসে এক বীর নায়কের স্থান অর্জন করেছেন। ২৬ মার্চ তার স্বাধীনতার ঘোষণার অভয়মন্ত্রে দেশের তরুণ ছাত্র, শ্রমিক, যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে হানাদার বাহিনীর ধ্বংসের শক্তি প্রতিহত করে দেশবাসী বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। বিজয়ের পরে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক দমনমূলক শাসন-শোষনের জাঁতাকলে দেশের মানুষ ভয়াবহ অরাজকতার মধ্যে পতিত হয়। মানুষের নাগরিক অধিকারগুলো হরণ করা হয়, গণতন্ত্রকে দেওয়া হয় কবর। নির্মম একদলীয় দুঃশাসন আইন করে চালু করা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে মুছে দেওয়া হয় স্বেচ্ছাচারী আক্রমণে। একদলীয় প্রভুত্ববাদের অধীনতার নাগপাশে বন্দি করা হয় সারা জাতিকে।’
তৎকালীন অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘নৈরাজ্যের সেই সময়ে সিপাহি ও জনতা মিলিত হয়ে রাজপথে গড়ে তোলে প্রবল প্রতিরোধ। সিপাহি-জনতার মিলিত স্রোতে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি করা হয়। জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় অভিসিক্ত হন। জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্রসহ নাগরিক স্বাধীনতা। গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক সার্থকতা নিশ্চিত করেন। শুরু করেন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেন। ব্যক্তিজীবনেও দুর্নীতি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণকে তিনি ঘৃণা করতেন। তার অন্তর্গত স্বচ্ছতা তাকে দিয়েছে এক অনন্য ঈর্ষণীয় উচ্চতা। তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কারণেই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয় এবং অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।’
জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক শাহাদাত ও তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশবিরোধী চক্র তার বিরুদ্ধে নীলনকশা আঁটতে শুরু করে। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একজন মহান দেশপ্রেমিককে হারায় দেশবাসী। তবে চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোনাে ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরূক হয়ে অবস্থান করেন। তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াও আপসহীনতা নিয়ে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র, দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা করে। নিখাদ দেশপ্রেমিক শহীদ জিয়াকে কখনো তার বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি। তিনি সারা জীবন আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে গেছেন আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে।’
বিগত শাসনামলের সমালোচনা ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বন্দি করেছিল ফ্যাসিবাদের কারাগারে। গুম, খুন, নির্যাতন ও জুলুম ছিল পতিত ফ্যাসিবাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র হাতিয়ার। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে এক লুটেরা মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী। এ অবস্থায় অপরুদ্ধ গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারে ছাত্র, শ্রমিক, জনতাসহ সব গণতন্ত্রকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি, প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরমতসহিঞ্চুতাসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রকে স্থীতিশীল ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রির প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় জীবনের সব সংকট, সংগ্রাম ও বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’ পরিশেষে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দলীয় নেতা-কর্মী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত চলছে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘সরকারের যে ভুলগুলো আছে তা আপনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু চক্রান্ত করা, ষড়যন্ত্র করা এবং নানাভাবে চক্রান্তের ইঙ্গিত দেওয়া এটা এদেশের মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেয় নি, কখনো নিবেও না।’
এ সময় তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান।
রিজভী জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবে দলটি। এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি। পরে বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও একই ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় প্রভাব সহ্য করা হবে না, সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া কালিবাড়ী বড় মাঠের পশ্চিম পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি চলবে না; যাদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা থাকবে, কেবল তারাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ সময় ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং উল্লেখ করেন যে, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির প্রেক্ষিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে উপাচার্য নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক ও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই বর্ষীয়ান জননেতার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা দবিরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির আঙিনায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের প্রারম্ভে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আদর্শে দীক্ষিত হলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ঠাকুরগাঁও-২ নির্বাচনী এলাকা থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বিরল অনন্য কীর্তি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
দীর্ঘ সংসদীয় জীবনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ সময় কারান্তরীণ থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার নিমিত্তে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকলকে ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, কোরবানি কোন হত্যা নয় এটি সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। ত্যাগের মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। আজকের দিনে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন— আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশের স্বার্থে , মুসলমানদের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সকল মুসলমান যেন শান্তিতে থাকেন, যুদ্ধবিগ্রহের মধ্য দিয়ে যেন ক্ষতি না হয় এই দোয়া করি। আমাদের কোরবানি যেন আল্লাহ তা’লা কবুল করেন। এ সময় সবাইকে, মনের কলুষতা পরিত্যাগেরও আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে চাঁদাবাজি বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, এ্যানী ভাই কোরবানী দিচ্ছেন সেই প্রশ্ন করছেন। কিন্তু আপনারা রূপায়নে একটি অফিস নিয়ে লাখ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছেন সেই টাকা কোথায় পাচ্ছেন? নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী গাড়িতে ঘুরে বেড়াই। সাথে প্রটোকল নিয়ে যায়। সেই টাকা কোথায় পায়। সার্জিস আলম নাহিদ ইসলামের আয়ের উৎস কোথায়?
এনসিপি নেতাদের আরও সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে বিএনপি বা জামায়াতের কোন হাত নেই। এই চুক্তি এনসিপি করিয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমালোচনা করে রাশেদ বলেন, রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার ভুলে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অমানুষের মতো আজেবাজে কথা বলছে। ঝিনাইদহ সফরকালে সে অস্ত্রধারী ক্যাডার নিয়ে এসেছিল। তার ওপরে ছাত্রদলের কেউ হামলা করেনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেয়া ছাড়া উপায় নেই। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের যেখানে যাবে, তাকে আরও হেনস্তার শিকার হতে হবে। বিএনপি নয়, সাধারণ জনগন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো বেয়াদবদের শায়েস্তা করবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত কখনোই দেশের ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। জামায়াত সব সময় অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। আজ তারা বিএনপি সরকারকে পতনে ভয় দেখায়। জামায়াত-এনসিপি মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই অপশক্তিকে আর দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।
সেসময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির হাসান মোহন, উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা তবিবুর রহমান মিনি উপস্থিত ছিলেন।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বিবৃতিটি বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষর করে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ দুনিয়াজুড়ে মুসলমানদের আমি পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাই। আমি কামনা করি তাদের অবিরাম সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। ঈদুল আজহা সকলের জীবনকে করে তুলুক আনন্দময়… মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমি এ প্রার্থনা জানাই।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আজহা, যা ‘ত্যাগের উৎসব’ নামেও পরিচিত। ঈদুল আজহার তাৎপর্য হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এ কারণে বিশ্ব মুসলিম ঈদুল আজহার উৎসবে মিলিত হয়। মনের অশুভ অন্ধকার দূর করে সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের মূল শিক্ষার উৎসই হলো পশু কুরবানি। কুরবানির মহিমান্বিত শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ঈদুল আজহার প্রধান শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন। এটি ত্যাগের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের উৎসব। এর মাধ্যমে মুসলমানেরা মহান আল্লাহ পাকের প্রতি নিবেদিত বান্দা হওয়ার প্রেরণা পায়। প্রতিটি উৎসবই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের চিত্তবৃত্তি ও ঔদার্য প্রসারিত করে। উৎসব মানবজাতিকে সম্প্রীতির অটুট বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং সামাজিক অন্ধকারের গহন থেকে মানবিক আলোর ভূমিতে সমবেত করে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে দলীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো হয়, যেখানে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানান (পাবনা, সিরাজগঞ্জ,৩৩০) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোজাহিদ স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন,“বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি করি। ঈদের আনন্দ যেন কোনো দলীয় নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই ঈদ উপহার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“বর্তমান সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চলমান থাকবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান,নুরুল ইসলাম বরাত, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম,মামুন ও জামাল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরকার হুমায়ুন আহমেদ মূন ও সদস্য সচিব লিখন সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ূন কবির, কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে দলীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।