সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য শিক্ষার্থীরা যেভাবে লড়াই করছেন, ঠিক সেভাবে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্যও তাদের লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শুক্রবার যুগপৎ আন্দোলন ঘোষণার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার যেভাবে রাষ্ট্র চালাচ্ছে, এতে আগামী দিনে মেধাবী বাংলাদেশের কোনো সুযোগ নেই, বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমার মনে হয় না বাংলাদেশকে তারা মেধাবী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। কারণ মেধাবীরা সত্য কথা বলে, সত্যের পথে চলে, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করে।
সকালের টানা বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন স্থান ডুবে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহর তো ঢুকবেই। কারণ মেধাবী লোকজন তো কোথাও নেই। যারা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ করে, সেখানে মেধাবী লোকদের নিয়ে আসতে হবে। দলীয় লোকজন দিয়ে যদি চালানো হয় তাহলে ঢাকা ডুববে, সারা বাংলাদেশ ডুববে। আর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তো এমনিতেই ডুবে গেছে, এখন শুধু পানির ডোবা দেখতে পাচ্ছেন। সবদিক থেকে বাংলাদেশ ডুবে গেছে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের মালিকানা হারিয়ে ফেলেছে। এই মালিকানা কেউ কেড়ে নিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মূল মালিকানা ফিরিয়ে আনতে একটি বড় বিষয় ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় ঐক্য। কোন প্রক্রিয়ায় এই মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তা আমাদের ৩১ দফায় ছিল। মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হলে সংবিধানে কী পরিবর্তন করতে হবে, বিচার ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনতে হবে, সংসদের মধ্যে কী পরিবর্তন আনতে হবে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনতে হবে, সামাজিক ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনতে হবে- এসব ছিল। আমরা যদি সবাই মিলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের গ্যারান্টি দিতে পারি, তাহলে এই স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আজকের যে আন্দোলন, তা পরিপূর্ণতা লাভ করবে। মানুষের কাছে এই ৩১ দফা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনে কর্মসূচি নিতে হবে।
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা যেসব রাজনৈতিক দল সরকারবিরোধী আন্দোলন করছি, তাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের সবাই মিলে একটি কাজই করতে হবে, এ সরকারের পতন। আমরা যদি অতীত দেখি, তাহলে দেখা যাবে আমরা কেউ কেউ আলাদা হয়ে গেছি। কিন্তু আমাদের বরং আরও বেশি যুক্ত হতে হবে এবং অন্যদেরও যুক্ত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে আমাদের পেছনে ১৫ বছর আছে। এই ১৫ বছরে আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতা কতটুকু সেটা ভাবতে হবে। আমাদের আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। প্রয়োজনে এ কোটা সংস্কারের দাবিও আমাদের ৩১ দফার মধ্যে আনতে হবে যাতে আমরা ছাত্রদেরও আমাদের আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি এবং বড় আন্দোলনের পথে পা বাড়াতে পারি। সবাই মিলে লড়াইটা করতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক দলের সহসভাপতি তানিয়া রব, অধিকার পরিষদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এর ভূমিধস বিজয় পরবর্তী ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর ড্যাব নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা মতবিনিময় করেন।
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শহীদ ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে নেতৃবৃন্দ বিএনপির এই বিজয়কে বাংলাদেশের বিজয়, বাংলাদেশের জনগণের ও গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বিজয় ধরে রাখা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়া, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা, স্বাস্থ্যখাতে জনগণ ও রোগীদের জন্য কল্যাণমূলক পরিবর্তন আনা, অতি উৎসাহী হয়ে কিছু না করা, ধৈর্য ধারণ, সততা, স্বচ্ছতার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা, মানবিক, অধিকার ও জবাবদিহিমূলক বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যকে জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে সবার জন্য স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নসহ বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ বিগত সময়ে যারা অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, অত্যাচারিত নির্যাতিত হয়েছেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ বিএনপির বিরাট বিজয়ে তিনশত সংসদীয় আসনে ড্যাব নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই বিজয়ে যে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। বক্তারা বিএনপি চেয়ারপারর্সন জননেতা জনাব তারেক রহমান এর ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিএমইউ ড্যাবের সম্মানিত মহাসচিব ও বিএমউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ড্যাবের সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বিএমইউর ড্যাবের সভাপতি ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কেনান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. শাহিদুল হাসান বাবুল, ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোঃ মেহেদী হাসান, বিএমইউর ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান, ডিন অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, নিউরোলজি সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক, এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, আইকিউএসি এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম, বিএমইউর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. মোঃ দেলোয়ার হোসেন টিটু, চীফ এ্যাস্টেট অফিসার ডা. মোঃ এহতাশামুল হক (তুহিন), পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন, ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুস সালাম, ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ হাসনুল আলম, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাছির উদ্দিন ভূঁঞা, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমন, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ আবু নাছের, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. শরীফ মোঃ আরিফুল হক, উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি ইয়াহিয়া খাঁন, উপ-রেজিস্ট্রার সাবিনা ইয়াসমিন, উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবীর, সহকারী রেজিস্ট্রার মোশাররফ হোসেন, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক শামীম আহম্মদ, উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক শারমিন আক্তার প্রমুখসহ ড্যাবের কেন্দ্রীয় ও বিএমইউ ড্যাবের নেতৃবৃন্দ, বিএমইউর বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যাওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় তারেক রহমান জামায়াত আমিরের বাসায় যাবেন এবং পরবর্তীতে রাত ৮টায় তিনি নাহিদ ইসলামের বাসভবনে উপস্থিত হবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, তারেক রহমান মূলত নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য বিনিময়ে জন্য তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। এই সফরের মাধ্যমে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌজন্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নিজ দলের পাঁচ কর্মীকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন, যাদের শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নির্দেশক্রমে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ঢালীর নেতৃত্বে পাঁচ কর্মীকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপুর শহরের বাজার এলাকার নাহিদুল ইসলাম জনি, মোবারক হোসেন বেপারী, জনি গাজী এবং ওয়্যারলেস বাজার এলাকার মনির ও ফাহিম।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন চলাকালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এর পরদিন শুক্রবার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার পরপরই ওই পাঁচজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। চাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দলের নেতাকর্মী হলেও অন্যায়ের সাথে আপস না করার ঘোষণা দিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক তার ছাড় নেই। সে যদি আমাদের দলের হয়, তাহলে আমি আরও বেশি কঠোর হবো।’ মূলত এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিশ্চিত করতেই সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এই ঐতিহাসিক বিজয়কে তিনি দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল ও সাধারণ মানুষের বিজয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।’ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার আগামীর চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি— এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।’ এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ গঠনে প্রতিটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তা-ভাবনা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক।’
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবেনা। দলমত ধর্ম বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হ বেনা। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য।’ নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে সৃষ্ট কোনো ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে যেন প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি না হয়, সে ব্যাপারেও তিনি সকলকে সতর্ক থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণতন্ত্রের ইতিহাসে আপনাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ এছাড়া বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদেরকে ভারাক্রান্ত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়েছিলেন।’
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনের কৌশল সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে কনভেন্স করাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। জনগণকে কনভেন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল। এটাতে আমরা সফল।’ তিনি পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসলে আইনের শাসন নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবেন এবং কোনো বিশেষ মহলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না। পরিশেষে, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি দেশবাসীকে সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। এই বিশাল বিজয়কে স্থানীয় ভোটাররা তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পরপরই সমগ্র দৌলতপুর উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এই বিজয় উদযাপন করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা বিভাগের রাজনীতিতে এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে কুষ্টিয়া-১ আসনের এই বিজয় দলটিকে নতুন করে উজ্জীবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে একজন পরীক্ষিত ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং ভবিষ্যতে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা রয়েছে যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে সরকার গঠিত হলে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসী তাদের প্রিয় প্রয়াত নেতা মরহুম আহসানুল হক পঁচা মোল্লার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবেই তাকে বেছে নিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, মরহুম পঁচা মোল্লা শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনবার সংসদ সদস্য এবং ২০০১ সালে সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দৌলতপুরের উন্নয়নে অসামান্য কীর্তি রেখে গেছেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার কাছে দৌলতপুরবাসীর প্রত্যাশা এখন বহুমাত্রিক। সাধারণ মানুষ আশা করেন, তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। জাতীয় সংসদে দৌলতপুরের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করে তিনি আধুনিক দৌলতপুর বিনির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। জনগণের এই বিপুল রায়কে সম্মান জানিয়ে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জ্যেষ্ঠ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। উক্ত বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির গতিপ্রকৃতি ও কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বিশেষ দেশকেন্দ্রিক হবে না। সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’ সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় বিএনপি।’ নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জানানো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ ও সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি এসেছে।’
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘অতীতের যেকোনো সময়ের মতো এবারো বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে।’ জনগণের এই রায়কে তিনি গভীর আস্থা হিসেবে বর্ণনা করে জানান যে, যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। এছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে তিনি বলেন, ‘সংসদের ভেতর ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি। এটি বজায় থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরো শক্তিশালী হবে।’ উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম-১১ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোহাম্মদ শফিউল আলম ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট পেলেও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিশাল ব্যবধানে নিজের জয় নিশ্চিত করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হওয়ার পর নিজ সংসদীয় এলাকা পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের ভোটারদের রাজধানীর কর্মস্থলে ফেরার পথ সুগম করতে বিশেষ ফ্রি লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই জনহিতকর উদ্যোগের ঘোষণা প্রদান করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে কর্মরত গলাচিপা-দশমিনার সম্মানিত ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে তার পক্ষ থেকে ‘রয়েল ক্রুজ-২’ নামক একটি লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লঞ্চটি আজ বিকেল ৪টায় চরকাজল লঞ্চঘাট থেকে যাত্রা শুরু করবে। রুট হিসেবে এটি চর শিবা, আউলিয়াপুর, দশমিনা ও বাশবাড়িয়া হয়ে চাঁদপুর অভিমুখে যাবে এবং পরিশেষে ঢাকায় পৌঁছাবে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের এমন সময়োচিত পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ ময়মনসিং- ৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিশেষ একটি দলকে সুবিধা দিতে ভোটের দিন প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফুলবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ একটি দলকে সুবিধা দিতে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আছিম পাটুলী, রাধাকানাই, ভবানীপুরের কান্দানিয়া, এনায়েতপুর ইউনিয়নের কাহালগাঁও ভোট কেন্দ্রে গুলোতে ভয়ভীতি দেখানো ও বিএনপির কর্মী সমর্থকদের অহেতুক ভাবে মারপিট করা হয়। তারা অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। বিভিন্ন সময় অভিযোগ করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন অসহযোগীতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন।
আখতারুল আলম ফারুক অভিযোগ করে বলেন, আমার নিজ কেন্দ্র আছিম বাঁশদি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বিকেল ৪ টার আগে ভোট সম্পন্ন করা হয়, কিন্তু ভোট গণনা শেষে রাত ৯ টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় দলীয় নেতাকর্মী ও ফুলবাড়িয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানায় এবং আগামীদিনে বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত করার ব্যাপারেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফুলবাড়িয়া আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা ফুটবল প্রতীকে ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীকে ৫১ হাজার ২৩৪ ভোট, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক ধানের শীষ প্রতীকে ৪৮ হাজার ৯৯৪ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন মনোনীত মুফতী নূরে আলম সিদ্দিকী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩৮ ভোট পেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এক অনন্য ও আলোচিত নির্বাচনী লড়াইয়ের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে আপন ছেলের কাছে পরাজিত হয়ে জামানত হারিয়েছেন পিতা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এই আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে, তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক ভিন্ন একটি দল থেকে একতারা প্রতীকে লড়লেও ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে মাত্র ৫০৫ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এনসিপি মনোনীত শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই হিসেবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট সংগ্রহ করতে না পারায় বিজয়ী প্রার্থীর বাবার জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
এই আসনের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেও অধিকাংশ প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম ৪ হাজার ৭৮৩ ভোট এবং তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩ হাজার ৭৬৪ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ ২ হাজার ১৭৯ ভোট, মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ১ হাজার ২৩৯ ভোট, এটিএম নাবী উল্যাহ ২৮০ ভোট, মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন ১৯১ ভোট এবং মোহাম্মদ আবুল হোসেন পেয়েছেন মাত্র ৮৬ ভোট। বিপুল ভোটের এই ব্যবধানে বড় জয়ের মাধ্যমে আব্দুল হান্নান মাসউদ হাতিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করলেন।
ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে তিনি এই আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ১১ দলীয় জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট। এই আসনে বিজয়ী শামা ওবায়েদসহ মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর জামানত রক্ষার জন্য মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পাওয়া আবশ্যক। সেই হিসেবে এই আসনে জামানত টিকিয়ে রাখতে হলে প্রত্যেক প্রার্থীর ন্যূনতম ২৬ হাজার ৮৬৫ ভোটের প্রয়োজন ছিল। তবে শামা ওবায়েদ ও আকরাম আলী ব্যতীত বাকি চার প্রার্থী এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ মো. জামাল উদ্দিন ২ হাজার ৩৬৮ ভোট, গণ অধিকার পরিষদের ফারুক ফকির ৬৭৫ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আকরামুজ্জামান ৬১৭ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. নাজমুল হাসান পেয়েছেন ২৫৭ ভোট।
তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে ১১৭টি ভোট কেন্দ্রের অনেকগুলোতে কোনো কোনো প্রার্থী শূন্য ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনে মোট ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৩১টি ভোট পড়েছিল, যার মধ্যে ৩ হাজার ৯১৫টি ভোট বাতিল হওয়ায় বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৯১৬টি। জামানত হারানো চার প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট যোগ করলে দেখা যায় তারা সম্মিলিতভাবে মাত্র ৩ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়েছেন, যা মোট বৈধ ভোটের মাত্র ২ শতাংশ। নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় এই চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একমাত্র প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন ভোটারের এই আসনে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট, যা মোট ভোটারের শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ মাত্র। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা মোতাবেক, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি ভোট পড়লেও এনসিপি প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তার জামানত হারাচ্ছেন। একই সাথে এই আসনে জামানত খুইয়েছেন আরও দুই প্রার্থী; তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল আলম ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এমদাদুল হক, যারা যথাক্রমে ১ হাজার ১৮৮ ও ৮৭০ ভোট পেয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপির নিরঙ্কুশ আধিপত্য পরিলক্ষিত হয়েছে। জেলার মোট আসনের মধ্যে ১৪টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন এবং বাকি দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
বিজয়ের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান জানিয়েছেন যে, জনগণ তাকে ও তার দলকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে, বিএনপি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। নরসিংদী-২ আসনে ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে পলাশ উপজেলার চরনগরদী গ্রামে নিজ বাড়িতে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত শেষে তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নির্বাচনী ফলাফল ও জনমত প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সঠিকভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। তারা দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। বাংলাদেশের কল্যাণ ও উন্নয়নে যারা কাজ করেছে; যে দলটি দেশের কল্যাণে কাজ করেছে, মানুষ সেই দলটিকে বিজয়ী করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।’
দলের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে আমরা উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাব। বিশ্বের কাছে সম্মানজনক জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করব। আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে।’ কবর জিয়ারত শেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পলাশ উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বেসরকারিভাবে বিজয়ী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পার্বত্য জনপদে উৎসবের জোয়ার বইছে। গতকাল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই খাগড়াছড়ি জেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি পল্লীগুলোতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বিজয়ের সংবাদ আসতেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে, যা পাহাড়ের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ করে জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে এই বিজয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত। পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই এই আনন্দ উৎসবে শামিল হন। এবারের উদযাপনে নারীদের সরব উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। মারমা সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর নর-নারীরা নেচে-গেয়ে এবং একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে এই বিজয় উদযাপন করেছেন। সমর্থকদের মতে, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং এটি পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আস্থার এক প্রতিফলন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন যে, নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের হাত ধরে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির এক নতুন যুগের সূচনা হবে। এলাকার উন্নয়ন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে সাধারণ ভোটাররা বিশ্বাস করেন। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনের দিন থেকেই খাগড়াছড়িতে এক প্রকার উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল এবং আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণেই এই ভূমিধস জয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিজয় পরবর্তী যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নেতাকর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং জেলা শহর ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সজাগ রাখা হয়েছে।