কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ স্লোগানকে ‘চরম ধৃষ্টতা’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ছাত্রদের বিষয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত সীমিত থাকবে। আমরা দেখি রাজনৈতিকভাবে কারা প্রকাশ্যে আসে। তখন দেখা যাবে। আমরাও মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন। এখানে আমাদেরও অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করে বলতে হয়, যাতে আদালত অবমাননা না হয়। আদালতের অবমাননার বিষয়টি আদালতকেই দেখতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে কাদের বলেন, এটা অবশ্যই ধৃষ্টতা। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
আরেক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিষয়টি দেশের উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারের কোনোকিছুই করার নেই। বিচারাধীন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য করা আদালত অবমাননার শামিল।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে দুর্ভোগ মেনে নেব না, রাস্তা বন্ধ করে জন দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সভা-সমাবেশ আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা লক্ষ্য করছি, এ আন্দোলনের কুশীলব বিএনপি-জামায়াত তাদের স্বরূপ উন্মোচিত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আস্ফালনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানান কাদের। তিনি বলেন, গত রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের অনেকের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কুৎসিত স্লোগান আমরা শুনেছি। আশঙ্কা করেছিলাম, তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সরকারবিরোধী আন্দোলনই করতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকার বিরোধী বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ আছে। সমর্থন তারা প্রকাশ্যই করেছে।আমাদের আশঙ্কা গতকাল রাতে আরও স্পষ্ট হয়েছে তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী স্লোগানে।
কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা কুশীলবরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিকৃত করেছে। কোটা সুবিধা মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা পাবে না তো রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? এ কথা তিনি যথার্থই বলেছেন। ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত বাংলাদেশে রাজাকারের ঠাঁই হতে পারে না। আমরা বলতে চাই, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান বাঙালি সহ্য করবে না। পরাজিত শক্তির আস্ফালন মেনে নেব না।
তিনি বলেন, যে ছাত্ররা মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, যারা নিজেদের রাজাকার পরিচয় দিতে গৌরব বোধ করে, তাদের ঢাবির শিক্ষার্থী পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করা উচিত। তারা কীভাবে নিজেদের রাজাকার বলে স্লোগান দেয়? যারা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল চেতনাকে অবজ্ঞা করে, তারা কীভাবে মেধাবী? তারা কীভাবে জাতি ও ছাত্র সমাজের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারা সাক্ষাৎ করেন। এসময় ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন- এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন।
তিনি বলেন, আমরা বৈঠক করতে আসিনি, এসেছিলাম শোক জানাতে। যেহেতু বেগম জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, পথিকৃৎ ছিলেন, তাই এসেছিলাম শোক জানাতে। তবে তারেক রহমান আমাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছেন, ক্ষমতায় এলে সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন।
মীর নাসির বলেন, আমরা জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষাব্যবস্থা এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের কথা শুনেছেন, নোট নিয়েছেন। আমরা বলেছি অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে ব্যবসায়ীদের সফল করতে হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠক বিষয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ব্যবসায়ীদের সম্মান অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মসংস্থানের। প্রতিষ্ঠান কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতি এক নম্বর। এটাকে দাঁড় করাতে হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের নিয়ে স্বচ্ছতা আনবেন, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ সময় স্টক মার্কেট ভাইব্রেন্ট ও ব্যাংকগুলোর অবস্থা উন্নত করারও দাবি জানান। সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও মব কালচার বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।
বৈঠকের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কথা বলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেইন আকবর আলী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, উত্তরা মোটর করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী।
এছাড়া পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিসিএমইএর সভাপতি ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি আব্দুল মোকতাদির, বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, বিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামিম এহসান এবং ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার পর টানাপড়েনের মধ্যে পড়েছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি। এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছেন দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা। পদত্যাগকারী একাধিক নেতা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি থেকে সরে আসায় এবং ‘জামায়াত ট্যাগ’এড়াতে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তারা।
নির্বাচন, গণভোট ও সংস্কারের প্রশ্নে দলটির নেতারা বিগত দিনগুলোতে এক থাকলেও নতুন বছরে আদর্শিক দ্বন্দে বিভক্ত হচ্ছেন তারা। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে দ্বিমত পোষণের পাল্লা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এসবের পরও এনসিপি নেতারা আশায় রয়েছেন এই টানাপড়েন তারা কাটিয়ে উঠবেন।
নির্বাচন সামনে রেখে গত ৭ ডিসেম্বর এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছিল। সেই জোট ঘোষণার মাস না যেতেই গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট রাজনৈতিক দলের জোটে যোগ দেয় এনসিপি। তখন থেকেই এনসিপির ভেতরে টানাপড়েন শুরু হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি ছিল এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের। তারা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ ও আপত্তি জানান। চিঠিতে এনসিপির আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতাকে আপত্তির ভিত্তি বলা হয়। ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা, বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড, গুপ্তচরবৃত্তি ও এনসিপির নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সামাজিক ফ্যাসিবাদ উত্থানের আশঙ্কার কথা চিঠিতে তুলে ধরেন নেতারা।
দলটি থেকে পদত্যাগকারী একাধিক নেতা জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিতর্কিত ও লজ্জাজনক অধ্যায়। সেই সময় তারা স্বাধীনতার প্রশ্নে জাতির বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ডজন খানেক নেতা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে ছিলেন। ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ ছাড়া এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ, দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীনও পদত্যাগ করেছেন।
দলীয় নেতৃত্বে টানাপড়েনের পরও সামনের নির্বাচনে দল হিসেবে ভালোকিছু করা এবং নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। দলে বর্তমানে সক্রিয় একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, নতুন বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনে ভালো কিছু করা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করা, নতুন একটি সংবিধানের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং সবাইকে নিয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত ও পুরাতন এস্টাব্লিশমেন্টমুক্ত স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের আগামীর চ্যালেঞ্জ।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের পদ থেকে পদত্যাগ করা খান মুহাম্মদ মুরসালীন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি হচ্ছে, বাংলাদেশে যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানটি ঘটিয়েছে- এই যে শ্রমিকেরা, এই যে নারীরা, এই যে আমাদের মা-বোনেরা, এই যে ছাত্ররা, যারা রক্ত দিয়েছে—এটাই। এই শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে যদি তারা একটি পলিটিক্যাল ফোর্স তৈরি করতে সমর্থ হতো তাহলে কিন্তু বাংলাদেশে আজকে গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতিটা হুমকির মুখে পড়ত না। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শক্তিটাকে সংগঠিত না করার ফলে তারা নিজেরা দুর্বল হয়ে গেছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, আমাদের কিছু সহযোদ্ধা দলের প্রতি অভিমান দেখিয়ে দল থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন, কয়েকজন সহযোদ্ধা পদত্যাগ করেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা ডেমোক্রেটিক প্রসেস এবং এ প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি সবসময় সম্মান জানাই। দলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং দলের বৈধ ফোরামগুলো যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা সেগুলোর প্রতি সবসময় সম্মান জানাই।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। রোববার (৪ জানুয়ারি ) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে এই সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।
সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে কবি আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, কেএম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি এই প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য আতিকুর রহমান রুমনও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারেক রহমান জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতাদের সঙ্গে পেশাদারিত্বের মান উন্নয়ন ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে কথা বলেন। প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গুলশানে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা উভয় মহলেই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি সংক্ষিপ্ত আধ্যাত্মিক সফরে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে পৌঁছেছেন। আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে গমন করেন। সেখানে তিনি প্রখ্যাত এই ওলির মাজারে ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি হযরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
মির্জা ফখরুলের এই সফরকে ঘিরে সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী। মাজার জিয়ারতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৬টায় এয়ারপোর্ট রোডের উইন্ডসর হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর একটি প্রেস ব্রিফিং করার কথা রয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন যে, মহাসচিব এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের এই সিলেট সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আবহাওয়াগত ও কারিগরি কারণে মহাসচিবের এই সফরে শুরুতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশা এবং ওসমানী বিমানবন্দরে অন্যান্য ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর মির্জা ফখরুলকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটি পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বিকেল ৩টা ১৭ মিনিটে রানওয়ে স্পর্শ করে। তবে শিডিউল বিপর্যয় ও বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় জমান। মাজার জিয়ারত ও প্রেস ব্রিফিং শেষে তিনি দলীয় অভ্যন্তরীণ কিছু সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সাইফুল হকের নেতৃত্বে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে খোলা শোক বইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনা প্রদান করেন।
সাক্ষাতকার ও শোক প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দেশে একটি টেকসই ও অর্থবহ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁরা বিশদ আলোচনা করেন। এছাড়া জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সম্ভাবনা এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করার বিষয়ে তাঁরা উভয়েই ঐকমত্য পোষণ করেন।
বৈঠককালে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে এই ধরনের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মূলত গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই দুই নেতার বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি বিশেষ শোকবই উন্মুক্ত করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এই শোকবইটি সর্বসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। শোকবই উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোকলিপি লিখে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে নিয়ে মনের অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা লিপিবদ্ধ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছিলেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও সমাদৃত হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীরা কীভাবে শিক্ষা ও যোগ্যতার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অগ্রগতি সাধন করতে পারে, তা তিনি বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। নাছির উদ্দীন মনে করেন, শিক্ষার্থীদের এই শোকবইয়ের প্রতিটি শব্দ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকবে।
শোকবই উন্মুক্তকরণ কর্মসূচির পাশাপাশি বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত ইস্যু মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া নিয়েও কথা বলেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মোস্তাফিজের মতো বিশ্বমানের একজন ক্রিকেটারকে কেবল উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপে বাদ দেওয়া অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তাঁর মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে ভারতের বর্তমান সরকার কট্টরপন্থী সংগঠনগুলোর কাছে এক প্রকার নতি স্বীকার করেছে। এই জাতীয় অবমাননার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় বীরদের সম্মান রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করা উচিত নয়। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও আবেগঘন পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমঝোতা জোটে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। নিজেদের জন্য বরাদ্দ করা আসন নিয়ে অসন্তুষ্ট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটি এখন এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া এনসিপিসহ (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নতুন কয়েকটি দল জোটের সদস্য হওয়ায় আসন বণ্টনের জটিলতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন বাস্তবতায় জামায়াত বলছে, কোনো দল বের হয়ে গেলেও জোটে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। আলাদাভাবে সব দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এমন প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ৭টি ইসলামী দল নিয়ে একটি জোট গঠন করে। এরই মধ্যে এই জোট বেশ কিছু জনসভাও করেছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে জোটে যোগ দেয় তরুণদের দল এনসিপি।
আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে এই জোটের শরিকদের দ্বিমত সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। লিয়াজোঁ কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। ইসলামী আন্দোলন তাদের জন্য বরাদ্দ করা ৩৫টি আসনে সন্তুষ্ট নয়। এরই মধ্যে তারা ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সমঝোতা না হলে এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে লড়ব। তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যদি সম্মানজনক সমঝোতা হয়, তবে আমরা প্রার্থিতা তুলে নেব। তবে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, কোনো ‘ব্যাকডোর’ দিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে না।’
জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা অবশ্য বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই চূড়ান্ত সমঝোতা হবে। তবে কেউ এককভাবে নির্বাচন করলে তার প্রভাব জোটের ওপর পড়বে না।
দলটির কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইনশাল্লাহ চূড়ান্তভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমানে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) চলছে। এটি শেষ হয়ে গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দাঁড়াবে। এর ফাঁকেই আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে, দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত চলে আসবে।’
এনসিপি, এবি পার্টিসহ বর্তমানে জামায়াতের এই জোটে ১১টি দল রয়েছে। শরিকদের দাবি, নতুন দলগুলোর অন্তর্ভুক্তিতে আসন বণ্টনের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন যে, তাঁর মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই শোকাতুর সময়ে দেশ ও বিদেশের অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া পাওয়া গেছে, তা তাঁদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তারেক রহমানের মতে, এই তিন দিনে তাঁরা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন যে, খালেদা জিয়া ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন। তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক এবং নিজ বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার এক অটল প্রেরণা, যা রাজনৈতিক গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিচয় ও আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের অত্যন্ত দ্রুত সমন্বয় ও সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই এমন এক স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজনটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের দেওয়া সম্মানসূচক 'গার্ড অব অনার' ও শেষ সালাম তাঁর মায়ের দীর্ঘ জীবন ও অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ, বিশ্বনেতৃবৃন্দ এবং কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে পাওয়া শোকবার্তাকে তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, জানাজায় বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মিশন ও প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রমাণ করে যে, দেশের সীমানার বাইরেও তাঁর মায়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান বিদ্যমান। এছাড়া দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে যেভাবে সাধারণ মানুষ জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানিয়েছে, সেই দৃশ্য জিয়া পরিবার কখনোই ভুলবে না। পরিশেষে তিনি জানান যে, এই কঠিন সময়ে জনগণের যে ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি ও সহমর্মিতা তাঁরা পেয়েছেন, সেটিই তাঁদের প্রধান শক্তি ও সান্ত্বনা। এই সংহতিকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ধারণ করে তাঁরা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে চলবেন বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পদত্যাগের ধারা থামছেই না। এবার দলটির ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান এবং পদত্যাগপত্রটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। নীলিমা দোলা ফরিদপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতির মেয়ে এবং জুলাই পরবর্তী সময়ে এনসিপির সক্রিয় মুখ ছিলেন। তাঁর এই পদত্যাগ দলটির আদর্শিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক রণকৌশল নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী বা ‘সেন্ট্রিস্ট’ রাজনীতির নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
নীলিমা দোলার অভিযোগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল দলটির সাম্প্রতিক ডানপন্থী ঝোঁক এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট। তিনি দাবি করেন, এনসিপি এখন পুরোপুরিভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়েছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তাঁর মতে, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট কোনো কৌশলগত জোট নয়, বরং এটি সাধারণ নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে করা একটি সমঝোতা। এই প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র দেওয়ার নামে চরম প্রতারণা করা হয়েছে বলেও তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। যারা দল ত্যাগ করছেন তাদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা দলে চলছে, তাকে তিনি নেতৃত্বের একটি পরিকল্পিত ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাতে দলের এই পরিবর্তনকে বৈধতা দেওয়া সহজ হয়।
দলের ভেতরে থেকে নীলিমা দোলা নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর আক্ষেপ, গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রান্তিক মানুষের ওপর চলা অনাচার ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলটিকে দীর্ঘ সময় ভাবতে হয়েছে। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দলের মনমরা ও দায়সারা মনোভাব তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ এই দলটির ওপর যে বিশ্বাস রেখেছিল, নেতৃত্বের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে গত কয়েক মাসে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।
সবশেষে সৈয়দা নীলিমা দোলা এনসিপি নেতৃত্বের প্রতি একটি কড়া বার্তা দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থান কোনো ধর্মীয় বিপ্লব ছিল না এবং এর সুফল ঘরে তুলতে ধর্মীয় রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপি বর্তমানে এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে পুরোনো আওয়ামী বয়ানকেই প্রতিষ্ঠিত করার পথে হাঁটছে। দলের বর্তমান নেতৃত্বকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানালেও তিনি বিশ্বাস করেন যে, আসন্ন কঠিন সময়ে দেশের সাধারণ জনতা এই সব অসংগতির সমুচিত জবাব দেবে। এনসিপি ছাড়াও জুলাইয়ের অন্য একটি পক্ষশক্তি বর্তমান আছে—এমন মন্তব্য করে তিনি তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন যে, প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেই তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান দেশকে এক নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। শনিবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। রিজভী উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়ার দেখানো আদর্শ ও নৈতিকতাকে ধারণ করে এগিয়ে গেলেই দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে এবং জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যাবে। এই সময় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী আরও বলেন যে, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে এ দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য যে নিরন্তর লড়াই ও সংগ্রাম করে গেছেন, সেই একই পতাকা এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। তাঁর নেতৃত্বেই এ দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি একটি নতুন দিগন্তের দিকে যাত্রা করবে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রেখে যাওয়া অঙ্গীকার ও আদর্শকে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাঁকে কারাগারে অন্তরীণ রেখেছিল এবং সুচিকিৎসা না দিয়ে এক ধরনের অশুভ চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অটুট মনোবল এবং অদম্য দেশপ্রেমের কারণে কোনো হুমকিই তাঁকে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি থেকে সরাতে পারেনি।
বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্রের অনন্য দিকগুলো তুলে ধরে রিজভী বলেন, হাজারো ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের মুখেও তিনি কখনো কুরুচিপূর্ণ বা সুরুচিবিবর্জিত শব্দ উচ্চারণ করেননি। তাঁর অনন্য আত্মসংযম ও মার্জিত আচরণের মাধ্যমেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে, যারা নোংরা কথা বলে তারা জনগণের কাছে ধিকৃত হয়, আর যারা সৌজন্যবোধ বজায় রাখে তাদেরকেই সাধারণ মানুষ ও ইতিহাস মহিমান্বিত করে। রিজভী বিশ্বাস করেন যে, খালেদা জিয়ার এই ইস্পাত কঠিন মনোবল ও অটল ধৈর্য আগামী প্রজন্মের কাছে সাহসের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। শোকাতুর এই সময়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতাকর্মী তাঁর আদর্শকে পাথেয় করে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় শপথ নিয়েছেন বলেও তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দুর্যোগপূর্ণ ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের পথে লড়াই করার একমাত্র প্রেরণার উৎস। তিনি রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা এবং অঙ্গীকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট কমিটির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘বেগম জিয়া একটি পরিবারের মায়ের মতো ছিলেন, যার উপস্থিতি সন্তানদের শক্তি জোগায়। ঠিক তেমনি তিনি হুমকির মুখেও দেশ না ছেড়ে গোটা জাতির অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।’
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যা বলতেন তা-ই করার চেষ্টা করতেন এবং কখনও অসত্য ওয়াদা করেননি, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রজন্মের জন্য একটি বড় শিক্ষা।
বেগম জিয়ার অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা স্মরণ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন এই দেশ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও উপজাতি–সবার। তার আশ্রয়ে প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিরাপদ বোধ করত।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ষড়যন্ত্র করে তিলে তিলে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। শত বিদ্রুপ ও কটু কথার মুখেও খালেদা জিয়া কখনও পাল্টা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য না করে নিজের সাংস্কৃতিক ও চারিত্রিক উচ্চতা বজায় রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিশেষে, বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করে রিজভী বলেন, তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, যা কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারবে না। শোকসভায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে গণমানুষের প্রত্যাশা হলো শহীদের রক্তের আকাঙ্ক্ষা- নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সরকার গঠিত হবে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল পৌনে ৪টায় কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জনগণ ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, ভোটের সুষ্ঠু ও পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকতে হবে। নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনারকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষিত তফসিলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিতে একদিনের সফরে কক্সবাজার আসেন।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে তিনি কক্সবাজার পৌঁছান। পরে সেখান থেকে শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ স্থানীয় একটি মসজিদে সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি সম্প্রতি নিমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া দৈনিক আমার দেশ এর কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার আনসার হোসেনের শিশু ছেলে রিতাজ হোসেনের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে মরহুমের বাসায় গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
মধ্যাহ্নভোজ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে প্রার্থীদের পূর্ব নির্ধারিত মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের প্রথমদিনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের দিন ধার্য ছিল। এতে কক্সবাজার-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ৫ জন্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। এ নিয়ে এই নির্বাচনে আসনটিতে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে।
এসব প্রার্থীরা হলেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াত ইসলামীর কক্সবাজার শহর শাখার আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও গণঅধিকার পরিষদের আব্দুল কাদের। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়াস্থ নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল চারটার কিছু সময় আগে তিনি দোয়ায় অংশ নিতে রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে (আজাদ মসজিদ) যান।
এরপর জামাতের সঙ্গে আসরের নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। নামাজ শেষে তার মা ও দলের চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক এই সরকারপ্রধানের জন্য এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে তার দল বিএনপি।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরীসহ অনেকে।
মসজিদে নারীদের পৃথক নামাজের স্থান থেকে দোয়ায় অংশ নেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, তার মেয়ে জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তার মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনেরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন।
এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া পড়া হয়েছে। মুসল্লি ও সাধারণ মানুষজন এই দোয়ায় অংশ নেন। জুমার নামাজ শেষে এই দোয়া মাহফিল হয়।
দোয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করা হয়। এরপর দোয়ায় খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। আল্লাহপাক যেন তাকে জান্নাতের বাসিন্দা করেন- এ কামনাও করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার থেকে ২ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।
শোকের শেষ দিন দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন খালেদা জিয়া। এর পরদিন বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও জানাজা শেষে তাকে স্বামী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।