কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ স্লোগানকে ‘চরম ধৃষ্টতা’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ছাত্রদের বিষয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত সীমিত থাকবে। আমরা দেখি রাজনৈতিকভাবে কারা প্রকাশ্যে আসে। তখন দেখা যাবে। আমরাও মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন। এখানে আমাদেরও অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করে বলতে হয়, যাতে আদালত অবমাননা না হয়। আদালতের অবমাননার বিষয়টি আদালতকেই দেখতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে কাদের বলেন, এটা অবশ্যই ধৃষ্টতা। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
আরেক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিষয়টি দেশের উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারের কোনোকিছুই করার নেই। বিচারাধীন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য করা আদালত অবমাননার শামিল।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে দুর্ভোগ মেনে নেব না, রাস্তা বন্ধ করে জন দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সভা-সমাবেশ আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা লক্ষ্য করছি, এ আন্দোলনের কুশীলব বিএনপি-জামায়াত তাদের স্বরূপ উন্মোচিত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আস্ফালনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানান কাদের। তিনি বলেন, গত রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের অনেকের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কুৎসিত স্লোগান আমরা শুনেছি। আশঙ্কা করেছিলাম, তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সরকারবিরোধী আন্দোলনই করতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকার বিরোধী বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ আছে। সমর্থন তারা প্রকাশ্যই করেছে।আমাদের আশঙ্কা গতকাল রাতে আরও স্পষ্ট হয়েছে তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী স্লোগানে।
কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা কুশীলবরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিকৃত করেছে। কোটা সুবিধা মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা পাবে না তো রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? এ কথা তিনি যথার্থই বলেছেন। ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত বাংলাদেশে রাজাকারের ঠাঁই হতে পারে না। আমরা বলতে চাই, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান বাঙালি সহ্য করবে না। পরাজিত শক্তির আস্ফালন মেনে নেব না।
তিনি বলেন, যে ছাত্ররা মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, যারা নিজেদের রাজাকার পরিচয় দিতে গৌরব বোধ করে, তাদের ঢাবির শিক্ষার্থী পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করা উচিত। তারা কীভাবে নিজেদের রাজাকার বলে স্লোগান দেয়? যারা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল চেতনাকে অবজ্ঞা করে, তারা কীভাবে মেধাবী? তারা কীভাবে জাতি ও ছাত্র সমাজের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে?
আপনাদের হৃদয়ে গাঁথা আস্থা, ভালোবাসাই বিএনপির শক্তি, ধানের শীষের শক্তি, আমার শক্তি। আমার নির্বাচনী আসন ছিল পাথরঘাটা, বামনা। এই নির্বাচনে বেতাগী যুক্ত হয়েছে। আমি এমপি থাকাকালীন আমার নির্বাচনী আসনগুলোতে যে সমস্ত কাজ করেছি ইনশাআল্লাহ আপনাদের ভোটে আমি নির্বাচিত হলে বেতাগী থেকেই আমার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু করতে চাই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের বেতাগী সরিষামুড়ী কালিকাবাড়ী ভোরা হাতেম আলী স্কুল মাঠে জনসমাবেশে মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে এসব কথা বলেন ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, আজ আপনাদের উপস্থিতি আর ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ। অনেকেই অনেক কথা বলে আমি ভিন্ন কথা বলি। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসেনি। আপনারা বামনা-পাথরঘাটায় যাবেন, খোঁজ নিবেন, খোঁজ নিয়ে যদি দেখেন আমি উন্নয়ন করেছি, গণমানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত করেছি তবেই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
মনি আরো বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের ভালো থাকা, সাধারণ মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করে। তারেক রহমান অনেক পরিকল্পনা নিয়ে ধানের শীষের কাণ্ডারী হয়েছেন। তিনি কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড আরো বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা যা গণমানুষের জীবনযাত্রার সাথে প্রতিনিয়ত জড়িত সেসব বিষয় সামনে রেখেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের প্রত্যেকের উচিত দেশকে ভালো রাখতে, দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ধানের শীষে ভোট দিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানানো।
দেশের প্রতিটি নাগরিক দিন শেষে ভালো থাকতে চায়। সেই ভালো রাখার দায়িত্ব নিয়েই বিএনপি আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
বিএনপি চায় গণমানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন।
অন্যদিকে একটি দল সাধারণ মানুষকে জীবিত রেখেই মেরে ফেলতে চায়। তারা জান্নাতের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে মানুষের ইমান নিয়ে খেলছে। তারা জানাতের টিকিটের বিনিময়ে ভোট চায়। এসব ভণ্ডদের কাছ থেকে আপনাদের সাবধানে থাকতে হবে। যারা দেশ চায়নি তারা এখন দেশের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র বানাতে চায়।
সময় গড়ানোর আগেই জনসভা জনসমুদ্রে রুপ নেয়। নবীন-প্রবীণের আনন্দ -উল্লাসে ‘মনি ভাই - ধানের শীষ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সভাস্থল। সাধারণ জনতার সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। আমাদের যেকোনো মূল্যে এই ত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে। যে অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ ওয়াসিমসহ হাজারো ছাত্রজনতা জীবন উৎসর্গ করেছে-তাদের সেই জীবনের মূল্য দিতে চাই। সেজন্য আমরা জুলাই সনদে সই করেছি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের সম্মানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাত ৮টা ৩১ মিনিটে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাঁহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় পৌঁছালে নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। নির্বাচনী জনসভা সভাপতিত্ব করবেন রংপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু।
সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, বিভিন্ন থানা ছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা কালেক্টরেট ঈদগাঁ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। মানুষের ঢলে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুর অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও কৃষিপ্রধান অঞ্চল। শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা এবং সঠিক ব্যক্তির সঠিক নেতৃত্বের। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সারাদেশে কৃষকদের কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা সুদসহ মওকুফ করব। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।’
তিনি আরো বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে ঐক্য ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ। জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকতে হবে।
কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?’ জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
এর আগে পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান।
কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি শহীদ আবু সাঈদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন তিনি। ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা।
এ সময় রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর -৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল ইসলাম দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ছিলেন।
এদিকে, দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় রংপুর। দলীয় প্রধানের জনসভায় যোগ দিতে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে বাস মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে আসেন নেতারা।
সমাবেশে রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবিব দুলুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া: এর আগে বেলা ১১টায় বগুড়া শহরতলির ছিলিমপুরে চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণকালে তারেক রহমান বলেন, আসুন- সবাই মিলে একটি মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
এ সময় শিশু-কিশোররা নিজেদের তৈরি হস্তশিল্প পণ্য তারেক রহমানকে উপহার দেয় এবং ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গান গেয়ে শোনায়। তারেক রহমান গভীর মনোযোগ ও আগ্রহ নিয়ে প্রতিবন্ধীদের কথা শোনেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিবন্ধীরা আমাদেরই ভাই ও বোন। তারা আমাদের সমাজ ও পরিবারের অংশ। তাদের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে, যা আমাদের অনেকের মধ্যে নেই। তাই আমাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়ব। আমাদের দেশে সব মানুষ যেন সমান মর্যাদা পায়। প্রতিবন্ধীদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ করে দিতে হবে; তারা যেন দুনিয়ার আলো-বাতাসে আর দশজনের মতো বাঁচতে পারেন—সে দায়িত্ব আমাদের সবার।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, প্রতিবন্ধীদেরকেও সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারাও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে। আজকের শিশুরা আগামী দিনে দেশ গড়ার মহান সৈনিক হবে। তাদের নিয়ে আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে।
অনুষ্ঠানে ডা. জোবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে ২০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
পরে তারেক রহমান বগুড়া শহরতলির শাকপালা এলাকায় নিজের গড়া পার্ক পরিদর্শন করেন। এরপর শহরের স্টেশন রোডে নিজের প্রতিষ্ঠিত বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করে সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দোয়ায় অংশগ্রহণ ও মুসল্লিদের উদ্দেশে কথা বলেন তিনি। সেখান থেকে শিবগঞ্জের মহাস্থানগড়ে গিয়ে হজরত শাহ্ সুলতান বলখী মাহিসওয়ারী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমান শিবগঞ্জের মোকামতলায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখানে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলায় পথসভা শেষে তারেক রহমান ও অন্যরা রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিকালে রংপুরে জুলাই শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত এবং নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। পরে বগুড়া ফিরে হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
আজ শনিবার সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। সিরাজগঞ্জে যাওয়ার আগে বগুড়ায় তার নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ করার কথা রয়েছে। সিরাজগঞ্জ শিল্প পার্কে দুপুর ২টায় জনসভায় যোগ দেবেন। আর বিকাল ৪টায় টাঙ্গাইলের জনসভায় বক্তব্য শেষে রাতে ঢাকায় গুলশান বাসভবনে পৌঁছাবেন।
নরসিংদীর বেলাবতে নিখোঁজের তিন দিন পর সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাগের বাজার এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান বেলাব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন।
নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) বাজনাব ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামের মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে আজিমুল কাদের নিজ এলাকার নিজের পোল্ট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন।
স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরদিন বুধবার বেলাব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা একটি ডোবায় তার মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।
আজিমুলের ভাগ্নে মো. উমর ফারুক বলেন, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন আগে তার মামা পোল্ট্রি খামারে কাজ করার জন্য দুইজন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাদের একজনের নাম রুবেল হলেও অপরজনের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পরিবারের জানা নেই।
ওই দুই শ্রমিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ওই খামারে থাকা সব মুরগিও উধাও।
পুলিশ পরিদর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, জিডি করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল। খবর পেয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
একাত্তরে হিন্দুদের নির্যাতনকারীরাই নবরূপে ফিরে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একাত্তরে যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতন করেছিল; তারাই আবার নতুন রূপে ফিরে এসে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। তাদের হাতে এ দেশের সকল নাগরিক নিরাপদ কিনা দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন রাখেন সালাহউদ্দিন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে তার নির্বাচনী এলাকা পেকুয়া সদরের বিশ্বাস পাড়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।
সালাহউদ্দিন বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি ধর্মভিত্তিক দলের হাতে এ দেশের সনাতন ধর্মালম্বী ভাইবোনদের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, ত্যাগ শিকার করতে হয়েছিলো। যা সনাতন ধর্মালম্বী ভাইবোনদের পূর্ব পুরুষেরা জানেন। যারাই স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি কিংবা স্বাধীনতা চায়নি; তারাই সনাতনী ভাইবোনদের এমন নির্যাতন করেছিল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির শাসনামলে এ দেশের সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ছিল। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি এ দেশের সব মানুষকে নিয়ে যারাই এই ভূ-খণ্ডে বসবাস করেন তাদের সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আমরাও কোনো ধরনের জাতি বিভক্তি, ধর্মীয় বিভক্তি কিংবা বর্ণ বিভক্তি চাই না। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশি হিসেবে বসবাস করতে চাই।
পেকুয়া উপজেলা বিশ্বাস পাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দময় বিশ্বাস তিলকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, বিশ্বাস পাড়া কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রমেশ বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন বিশ্বাস, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অংতোয়াইচিং রাখাইন, বারবাকিয়া লোকনাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির সভাপতি রিপন কান্তি নাথ, বারবাকিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিতোষ নাথ, শিলখালী বিষ্ণু মন্দিরের সভাপতি মাস্টার অনিল কান্তি শিলসহ আরও অনেকে।
তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় পিরোজপুরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পরে পিরোজপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে পুরাতন পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন মাঠে এই দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পিরোজপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর ১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, সাবেক জেলা বিএনপির ১ নং যুগ্ন আহবায়ক শেখ রিয়াজ উদ্দিন রানা সহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সাংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে পবিত্র কোরআন খতম করানো হয়।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা সদ্যপ্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে আলোচনা করেন।
আলোচনা সভা শেষে এক বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত (পরকালীন শান্তি) কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা দেশনেত্রীর আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
‘ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার জন্যই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এবার আর পেছনে নয়, সামনে এগোবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা এ ম্যারাথনে সঙ্গী হবেন। জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, এবার ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।’
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমীর এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, একটি মহল প্রচার করছে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমানে ইসলামী শিক্ষা ধরে রেখেছে তারাই। কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা। আমরা কথা নয়, কাজে প্রমাণ করব। যারা ভয় দেখায় তারা মতলববাজ। ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার জন্যই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। পেছনে নয়, সামনে এগোবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা এই ম্যারাথনে সঙ্গী হবেন। শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, এবার ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
এর পূর্বে সকাল ৮টা থেকে জনসমাবেশ শুরু হয়। জনসভায় জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ। এ সময় জামায়াত-শিবির ও ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ফেনীর সন্তান বেগম খালেদা জিয়াসহ জামায়াতের প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরণ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ও দেশব্যাপী হামলা-নৈরাজ্য ও নারী হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রশিবির। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন সহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নারায়ে তাকিবির, আল্লাহু আকবর; ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ; প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ মারার মাস্টারপ্ল্যান; বিএনপির অনেক গুণ, নির্বাচনে মানুষ খুন; আমার ভাই শহীদ কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই; বিএনপির কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও; চাঁদাবাজদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, আমরা জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছি এদেশে ইনসাফ কায়েমের জন্য কিন্তু বর্তমানে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি দল ভেবেছে আমরা ক্ষমতায় চলেই এসেছি, এই ভেবে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে তারা আমাদের ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কেন্দ্র করে তাদের অপকর্ম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, অপকর্মের কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়ে মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তারা আমাদের মা-বোনের গায়ে হাত তোলা শুরু করেছে। যে নেতাকর্মীরা আমার মা-বোনদের গায়ে হাত দিয়েছে তাদের বলতে চাই, আপনার হাত না থাকলে কীভাবে চলতে হবে তা প্র্যাকটিস করে আসবেন। শুধু চাঁদাবাজ কেন কোন অন্যায় সহ্য করবো না। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদাবাজের বিরোধীতা করেই যাবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনেকে আমাদেরকে ভয় দেখায়। এ দেশের ছাত্রসমাজ ও ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন ধরে বাঘের সাথে লড়াই করে আসছে, বানর যদি আমাদের ভয় দেখাতে আসে তাহলে লেজ ধরে দুইটা ঘুরান দিয়ে মামুর বাড়ি পাঠাই দিব। আসুন সব ভেদাভেদ ভুলে একসাথে নির্বাচনকে উপভোগ করি।
বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং তাঁদের প্রাত্যহিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ঢাকা বধির হাইস্কুলে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রায় ২০০ জন বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বিশেষ সভায় মির্জা আব্বাস গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়। তাঁরা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই ভাই, আমাদেরই আত্মীয়।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া লিখিতভাবে পেশ করলে মির্জা আব্বাস তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্বাচনের পরপরই এসব বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘তোমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য, তোমাদের জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্য আমাদের যা করা দরকার, একজন মানুষ হিসেবে উপলব্ধি করে নির্বাচনের পরপরই আমরা সেই ব্যবস্থা শুরু করব, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি তাঁদের লিখিত দাবিনামাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন এবং মন্তব্য করেন যে তাঁদের প্রয়োজন আরও গভীর ও ব্যাপক। তিনি এ সময় বলেন, ‘তোমাদের দাবি–দাওয়াগুলো আমি দেখলাম। এই দাবি–দাওয়ার কাগজের কোনো প্রয়োজন নাই।…যে দাবি তোমরা দিয়েছো, এতে তোমাদের হবে না। তোমাদের আরও অনেক অনেক প্রয়োজন আছে। যেগুলো তোমরা লিখতে পারো নাই। এ প্রয়োজনটা আমরা বুঝি।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা আব্বাস মানবিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান যে, সুচিকিৎসার মাধ্যমে যাঁদের সমস্যা সমাধান সম্ভব, তাঁদের জন্য সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবেও এগিয়ে আসবেন। বিশেষ করে কোনো শিশুর মুখে কথা ফোটানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বা একটি শিশুর কথা বলার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সামান্যতম ভূমিকা রাখতে পারলেও সেটিই হবে তাঁর জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। মূলত প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে সমাজের মূলধারায় তাঁদের সম্পৃক্ত করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার নবম দিনে মিরপুর ১১ নম্বর বাজার রোড, নাভানা ও তালতলা বস্তি সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। প্রচারণাকালে তিনি ভোটের দিন প্রবীণ ভোটারদের যাতায়াত সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান যে, যানচলাচল বন্ধ থাকলেও বয়োবৃদ্ধদের ভোটকেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত রিকশার ব্যবস্থা রাখা হবে। আমিনুল হক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যাতে তারা নিরাপদে ভোট দিয়ে আবার বাড়ি ফিরতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।’ সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে তার এলাকার ১৩৭টি ভোটকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
এলাকার বিশাল একটি অংশ জুড়ে বসবাসরত প্রায় ৭০ হাজার উর্দুভাষী ভোটারের উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে আমিনুল হক বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব লাভের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে কারণেই এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিএনপির একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।’ নির্বাচনে জয়লাভ করলে এই উর্দুভাষী মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ সন্তোষজনক উল্লেখ করে আমিনুল হক জানান যে, তারা অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে প্রচারণার মাঝে তিনি প্রতিপক্ষ জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে, জামায়াতের একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে ভোট ক্রয়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের একটি চক্র ঘরে ঘরে গিয়ে বিকাশ নম্বর ও এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে।’ এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলের নীতি-নির্ধারকদের অবহিত করার পাশাপাশি খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।
নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান অতিথির ভাষণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন, ‘নোয়াখালীবাসী বিভাগ চায়, সিটি করপোরেশন চায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের মাধ্যমে আপনাদের এই প্রাণের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।’ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি তিনি নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্লোজার নির্মাণ এবং সোনাপুর থেকে হাতিয়া পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ‘যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পেরেছে, তাদের হাতে যদি দেশ যায়, তাহলে ভালোবাসার একটি দেশ তৈরি করা সম্ভব। যারা ভালোবাসতে পারেননি, বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। যাদের হাতে দেশের জনগণ নিরাপদ নয়, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের কাছে দেশ আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।’ তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা ও দেশপ্রেমের বিষয়টি ভোটারদের সামনে গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করেন।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার ওপর আলোকপাত করে বলেন, ‘দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে, তাই সারা বাংলায় মারদাঙা জোয়ার উঠেছে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখানে মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। বিশেষ করে জুলাইযোদ্ধা যুবসমাজ মুখিয়ে আছে ১৩ তারিখ থেকে নতুন এক বাংলাদেশ দেখার জন্য। যুবকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে তারা কি আধিপত্যবাদের পক্ষ নিবে, নাকি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যারা মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাদের পক্ষ নেবে। তারা বুঝতে পেরেছে জুলাইয়ের যে চেতনা যে আকাঙ্ক্ষা কাদের দ্বারা বাস্তবায়ন হবে।’
সবশেষে তিনি নোয়াখালীর ৬টি আসনে জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে জনগণের রায় নিয়ে ঘরে ফেরার অনুরোধ জানান। সমাবেশ চলাকালীন তিনি জামায়াত মনোনীত চারজন প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক এবং জোটভুক্ত অন্য দুই প্রার্থীর হাতে শাপলা কলি তুলে দিয়ে উপস্থিত জনতার সামনে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির ডামাডোলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও একটি রাজনৈতিক দলের আচার-আচরণ সন্দেহজনক।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তারা দেশকে কোন দিকে নিতে চায়, তা নিয়ে তারা নিজেরাই বিভ্রান্ত এবং সম্ভবত তাদের ভেতরে কোনো বিশেষ ‘কর্মপরিকল্পনা’ রয়েছে।
রিজভী জামায়াতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জামায়াতের দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে দলটির পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি জানান যে, তারা প্রথমে নারীদের কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টা করতে চাইলো, অথচ আল-জাজিরাকে বলছে তারা ওভাবে বলেনি। আমির বলছেন তিনি এটা বলেননি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে নারী কর্মীদের বিশাল অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই নেতা সংশয় প্রকাশ করেন যে, এই শক্তি ক্ষমতায় আসলে নাগরিক অধিকার আদৌ থাকবে কি না।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করেন যে, জামায়াত বর্তমানে জনকল্যাণমূলক চিন্তার পরিবর্তে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে এবং জামায়াত নিজেদের সম্পর্কে কোনো শুভচিন্তার কথা না বলে চাটুকারিতার ভাষায় কথা বলছে। জামায়াত প্রধান নারীদের নেতৃত্বের আসনে দেখতে চান না দাবি করে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন যে, আজ নারীদের দিয়ে ভোট চালাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় এলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন নারীরাই।
এছাড়া বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা একটি ‘গোপন চিঠি’র প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, এর মাধ্যমে নাহের ইসলাম নামের এক নারী শিক্ষিকাকে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে বিএনপির নারী সমর্থকদের মাঝে ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে জামায়াত ‘ইতর ব্যবহার’ করছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠে জামায়াতের বর্তমান গতিবিধিকে সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে চিত্রায়িত করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, ‘জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোট গঠন করে আমরা এগুচ্ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের কিছু না বলে জামায়াত অন্যান্য দলকে যুক্ত করেছে। জোটের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়েছে জামায়াত। সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আমাদের একটা বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, ইসলামের পক্ষে একটা বড় উত্থান হবে। সেই আশা অন্ধকারে পরিণত হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে নির্বাচনী জনসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘জামায়াত ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিতে চায় না, তখনই বাধ্য হয়ে আমরা সেখান থেকে সরে এসে জাতির সামনে যে কথা দিয়েছিলাম, সেই কথামতো হাতপাখা প্রতীকে ইসলামের একটা বাক্স জাতির সামনে রেখেছি। আশা করি, ইসলামের পথে রাখা বাক্সই বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ। যারা মানবতার মুক্তি চায়, যারা ইসলাম কায়েম করতে চায়, বিশেষ করে আলেম ওলামা আমাদের সাথে আছে। তারা হাতপাখাকে বিজয়ী করতে মুখিয়ে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন নিয়ে অনেকটা শংকিত ও হতাশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছিল এমন একটা নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে, যে নির্বাচন মানুষ স্মরণ করবে। সেই কথাটা স্মরণ করা নিয়ে বলছি, আপনারা সেই পরিবেশ তৈরি করতে পারেননি। আমরা এখনই লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা চলছে, আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে এগোচ্ছে সবাই।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ‘ভোলায় আমাদের নারী কর্মীদের ওপর যে আচরণ করছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখন পরিবেশ ঠিক না করলে, সামনের পরিবেশের জন্য দায় আপনাদের মাথায় নিতে হবে।’
এর আগে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি। আমি-ডামি নির্বাচন দেখেছি। গায়েবি নির্বাচন দেখেছি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা চলে গেছে। কিন্তু আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে, ভেতরে–ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে—কীভাবে নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, বাধাগ্রস্ত করা যায়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। এসময় আগামী নির্বাচন যেন কেউ বানচাল করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বেলা ২টা ৩০ মিনিটে জনসভায় ভাষণ শুরু করেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে তাঁর ‘আত্মার সম্পর্ক’ রয়েছে। তখন নিচ থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।
রাজশাহীতে আইটি পার্ক সচল করে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের দক্ষ করে তোলা হবে বলে জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি তিনি রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন। ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
২৫ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘অন্য জেলার মানুষের রাজশাহীর কথা মনে আসলে প্রথমে মনে আসে পদ্মা নদীর কথা। কিন্তু নদী থাকলেই তো হবে না, নদীতে পানি থাকতে হবে। আবার রাজশাহীর কথা মনে আসলে শিক্ষা নগরীর কথা মনে আসে। এখানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে; উচ্চশিক্ষিত মানুষ আছে। কিন্তু সেই মানুষের কর্মসংস্থান নাই। এখানে আইটি ভিলেজ আছে, কাজ নাই। বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন। ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল। সেটি এখন বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে জয় হলে আমরা পদ্মা ব্যারেজে হাত দিতে চাই। আইটি ভিলেজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিএমডিএকে সচল করতে চাই। সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করতে চাই।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ। সঞ্চলনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাফজুর রহমান। সকাল ১০ থেকে স্থানীয় নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজ রাজশাহী হজরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বেলা সোয়া ১টার দিকে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর দরগা শরিফে যান। পৌনে ২টার দিকে তিনি হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় আসেন। স্থানীয়ভাবে এটি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান হিসেবে পরিচিত।
তারেক রহমান জনসভায় বলেন, ‘২০০৪ সালে আমি রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েছিলাম। শীতের সময় কম্বল বিতরণ করেছি, গরমের সময় নারী ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ছাগল বিতরণ করেছি। সেই থেকেই রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক রয়ে গেছে।’
কৃষকদের জন্য আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষিঋণ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। এ কথা বলার পর তিনি দর্শকদের কাছ থেকে উত্তর জানতে চান, এতে চলবে? তখন সবাই করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।
নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দলমত–নির্বিশেষে প্রত্যেক মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যাতে তারা সংসারের ন্যূনতম ব্যয় সামাল দিতে পারেন। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে আইটি পার্ক থাকলেও তা কার্যত অচল। আমরা আইটি পার্ক সচল করব, প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের দক্ষ করে তুলব।’ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, দেশে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের ভেতরেই থাকবে।
মঞ্চের পাশে জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট দেশে যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তন যাতে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে, দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সেই জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’ গত ১৬- ১৭ বছরে ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নিশিরাতের নির্বাচন, গায়েবি নির্বাচন আমরা দেখেছি। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র থাকলেই জনগণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।। আমরা ধর্ম নয়, মানুষ দেখি। ১৯৭১ সালে আপনারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। তখন ধর্ম দেখি নাই। এখন দেশ গড়ার সময় আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’
আগামী নির্বাচন সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি, ডামি নির্বাচন দেখেছি, গায়েবি নির্বাচন দেখেছি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা চলে গেছে। কিন্তু আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। ভেতরে-ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে কীভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কীভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যেন কেউ বানচাল করতে না পারে, সে জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সকলকে সজাগ থাকতে হবে। জনগণ যদি ১২ তারিখে সতর্ক-সজাগ থাকে, ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন। জনগণের প্রত্যাশা, আশা, আকাঙ্ক্ষা যে সকল আছে, সে বিষয়ে কাজগুলো ধীরে ধীরে শুরু হবে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা।’
যেকোনো বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সঠিক তদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ঝগড়া-ফ্যাসাদ-বিবাদে যেতে চাই না। যেতে চাই না বলেই আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমি কারও সমালোচনা করছি না। কিন্তু কোথাও যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে তাদের বলব, সঠিক-সুষ্ঠু তদন্ত করুন। সেই তদন্তে যদি বিএনপির কোনো ভূমিকা থাকে, আমরা সহায়তা করব। কিন্তু সঠিক তদন্ত হতে হবে। সঠিক তদন্ত অনুযায়ী দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হতে হবে, যদি কোথাও কোনো সমস্যা হয়ে থাকে।’
মেগা দুর্নীতির উদ্দেশে অতীতে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৬-১৭ বছর এই দেশের ভোটের অধিকার যেমন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তেমনি মেগা মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ছিল মেগা দুর্নীতি। এলাকার মানুষের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, এলাকার হাসপাতাল, শিক্ষক ঠিকমতো পাঠানো, ডাক্তার ঠিকমতো পাঠানো-এগুলো কোনো কাজ ঠিকমতো করা হয়নি।’
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধানের শীষের ১৩ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাজ হলো আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত এদের দেখে রাখা। ১৩ তারিখ থেকে এরা আপনাদের দেখে রাখবে।’