আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হামলাকারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল অর্জন ধ্বংস করতে চায়। আজ শনিবার কোটা আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত বনানীর সেতুভবন পরিদর্শনকালে সেতুমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, হামলাকারীদের যে ফুটেজ ছিল, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তারা পরপর দুইবার পদ্মা সেতুতে আগুন লাগাতে গিয়েছিলো। তারা শেখ হাসিনার সকল অর্জন ধ্বংস করতে চায়। এসব ধ্বংসযজ্ঞ দেখে প্রধানমন্ত্রী কষ্ট পাচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, এটা সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের কাজ না। বিএনপি-জামায়াত এই আন্দোলনের ওপর ভর করেছে। তাদের দীর্ঘ দিনের ব্যর্থতার জন্য এমন হামলা। তারা গণতন্ত্র মানে না। তারা আগুন ও অস্ত্র নিয়ে নেমেছে।
মেট্রোরেল না থাকায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ৩০ মিনিটের পথ দুই ঘণ্টায়ও যেতে পারছে না। মেট্রোরেল কবে নাগাদ চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের ওপর ভর করে যারা রাজনৈতিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যখন যেখানে যা করার, আমরা তাই করব।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার পাঠের কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সাজানো এই ইশতেহারে মোট ৫১টি দফার মধ্যে নয়টি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটিই বিএনপির প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা, যা দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির এই নির্বাচনী দলিলে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন, এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে কর্মমুখী করার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের পণ্য রপ্তানি এবং ই-কমার্সের একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক হাব স্থাপনের পরিকল্পনাও ইশতেহারে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
নির্বাচনি অঙ্গীকারে ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি
১. প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।
৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।
৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।
মূলত একটি আধুনিক ও কর্মসংস্থানবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এই ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতিকে ইশতেহারের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৫১ দফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই ইশতেহার পাঠ করেন।
জাতীয় নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে ঘোষিত এই ইশতেহারে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ওলামা দলের আহ্বায়কের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন তারেক রহমান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে প্রধান্য দিয়ে এবং ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ মূলনীতিকে সামনে রেখে ইশতেহারটি সাজানো হয়েছে। ইশতেহারটি মূলত পাঁচটি প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, দ্বিতীয় অধ্যায়ে বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, তৃতীয় অধ্যায়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার, চতুর্থ অধ্যায়ে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং শেষ অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতির বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপির এই নির্বাচনী ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’, তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ‘৩১ দফা’ এবং সাম্প্রতিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে। অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান তার আগামী দিনের রাষ্ট্রের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরবেন।” এরপর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানালে তারেক রহমান উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইশতেহারের মূল পাঠ শুরু করেন। মূলত একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারই ফুটে উঠেছে বিএনপির এই নির্বাচনী দলিলে।
মাদারীপুর শহরের স্বাধীনতা অঙ্গনে এক নির্বাচনি জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম তাঁর দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেশবাসীকে ‘সবুজ বাংলা’ কিংবা ‘ডিজিটাল বাংলা’র স্বপ্ন দেখালেও জনগণের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ঘোষণা করেন যে, “ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে ‘স্বর্ণের বাংলা’ নির্মাণ করবে।” তাঁর মতে, দেশের একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ইসলামী আন্দোলনই সঠিক নীতির মাধ্যমে জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর শহরের স্বাধীনতা অঙ্গনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ইসলামের সুমহান আদর্শের কথা উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, “ইসলাম শুধু মুসলিমের জন্য নয়, মানুষের জন্য নয়; এটি একটি পিপীলিকার স্বাধীনতার জন্যও, এর নামই হলো ইসলাম।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশে অনেক নেতা ও দলের শাসন প্রত্যক্ষ করা গেলেও সাধারণ মানুষ যা চেয়েছিল, তা আজও অধরা রয়ে গেছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচারের মতো অপরাধগুলো বন্ধ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছেন না। এই অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির অবসান ঘটাতে তিনি ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
জনসাধারণের নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে চরমোনাই পীর সতর্ক করে বলেন, “আরও মায়ের কোল খালি করতে না চাইলে শান্তির জন্য হাতপাখা মার্কায় ভোট দিতে হবে।” একই সাথে দেশের সম্পদ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চাঁদার মাধ্যমে দেশের মধ্যে অশান্তির আগুন জ্বালাতে না চাইলে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতে না চাইলে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয় করতে হবে।” তিনি বিশ্বাস করেন, ইসলামের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশ একটি প্রকৃত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং ইনসাফ কায়েমে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের বিজয়ী করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। মাদারীপুরের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রার্থীরাও এ সময় নিজ নিজ নির্বাচনি পরিকল্পনা তুলে ধরে জনসাধারণের সমর্থন প্রার্থনা করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। একই সঙ্গে তিনি এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাজিরহাট মাদরাসায় হাদিস গ্রন্থ সহিহ বুখারি শরিফের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জামায়াতকে ভোট দেওয়া ধর্মীয় দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ দাবি করে তিনি বলেন, “আমার কাছে এটা নির্বাচন নয়, এটা জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’। সমস্ত মুসলমানের জন্য জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম, এটা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম সমাজের উদ্দেশে হেফাজত আমির জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “মওদুদির জামায়াতের সঙ্গে যারা জোট করেছে, তারাও মওদুদি।” মূলত আকিদাগত ও আদর্শিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাঁদের মৌলিক বিরোধ রয়েছে এবং তারা দ্বিনের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। এই কারণে একটি ‘বাতিল শক্তি’র উত্থান রোধ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উক্ত ধর্মীয় মাহফিলে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরসহ স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মূলত ফটিকছড়ির নির্বাচনী সমীকরণে হেফাজত আমিরের এই প্রকাশ্য সমর্থন ও জামায়াত বিরোধী অবস্থান এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা-৬ আসনকে কেন্দ্র করে জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্যাস সংকট দূরীকরণ এবং মাদক নির্মূলের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার বলদা গার্ডেন এলাকায় নিজ নির্বাচনী ক্যাম্পে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর নির্বাচনী ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালির একাংশ নিয়ে গঠিত এই জনবহুল এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে তিনি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। এলাকার সমস্যা ও অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, “পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে ঢাকা-৬ আসন। এখানে দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো ও নানাবিধ নাগরিক সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানই হবে আমার অগ্রাধিকার।”
সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে তীব্র সমস্যা হিসেবে গ্যাস সংকটকে চিহ্নিত করেন এবং ৭০ বছরের পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। যানজট নিরসনে তিনি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ত্রিস্তরীয় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার প্রাথমিক ধাপে রয়েছে অন-রোড পার্কিং বন্ধ ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করা। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদে মেট্রোরেল বা সাবওয়ের মতো আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর দাবি তুলবেন বলে জানান। এছাড়া বর্ষার আগেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করে জলাবদ্ধতা দূর করা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যেন কোনো ধরনের অন্যায্য দাবির মুখে না পড়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেজন্য আমরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটাবো।”
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান যে, তাঁর হাত ধরেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।” বিগত দিনের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, তারা জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন না এবং এলাকার উন্নয়নে চরম অবহেলা করেছেন। নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য ও পিতার স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগের সঙ্গে বলেন, “আমি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান- এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়।” তাঁর পিতা অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার জনকল্যাণমূলক কাজের ধারা অব্যাহত রেখে পুরান ঢাকাকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে তিনি এলাকাবাসীর সমর্থন ও দোয়া প্রার্থনা করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নির্ধারিত তাদের নির্বাচনি সমাবেশটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত সমাবেশের পরিবর্তে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কর্মসূচির এই পরিবর্তন নিয়ে রিজভী বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির পরিবর্তে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনি বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অধিকতর নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতাদের বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে রিজভী মন্তব্য করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির ভূমিকা ও অবদানে অনুপ্রাণিত হয়েই তরুণ এসব নেতৃত্ব বিএনপির ছায়াতলে এসেছে। একই অনুষ্ঠানে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শিগগির ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করেন জাকসু নেতৃবৃন্দ।
তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত একঝাঁক প্রতিনিধিও বিএনপি ও ছাত্রদলের আদর্শে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এসময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির উপস্থিত থেকে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জিতু বলেন, ‘একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমি আজ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’ নবীন এই নেতাদের বরণ করে নিয়ে রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জাকসু ভিপি জিতুসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদের নির্বাচিত অনেক প্রতিনিধি আজ বিএনপি ও ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাই।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ছাত্র আবদুর রশিদ জিতু মূলত জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সাহসী ভূমিকার কারণে ক্যাম্পাসে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং পটপরিবর্তন পরবর্তী শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জিতুর পাশাপাশি ছাত্রদলে যুক্ত হওয়া অন্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জিএম এম রায়হান কবীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বনিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা বিথি। এছাড়া মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ ও শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলামও এই যাত্রায় সামিল হয়েছেন। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ছাত্রদলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান, জিএস মাসুদ রানা মিন্টু এবং আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের এজিএস রিপন মন্ডল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে একটি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিহিত করে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে তারা নিরন্তর নিজেদের নীতিমালায় পরিমার্জন এনেছেন। ভারতের ইংরেজি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল– যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের নীতিগুলো ক্রমাগত পরিমার্জন করেছে।’ জনমুখী রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’
দীর্ঘ সময় প্রথাগত নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান যে প্রতিকূল সময়েও জামায়াত কখনও গণতান্ত্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সেই অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে থাকে তখন সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কতটা জরুরি।’ তাঁর মতে, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগকে আরও গভীর করেছে। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিপরীতে জামায়াতের সুশৃঙ্খল রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের অভাবনীয় সাফল্য এরই প্রতিফলন বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনি রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে জামায়াত আমির জানান যে তারা ইতিমধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছেন। বিএনপির সঙ্গে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ এবং ভবিষ্যৎ ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। জোটবদ্ধ রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি—এই তিনটি মূলনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বহুদলীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়।
সংখ্যালঘু ও নারীদের অধিকার নিয়ে ওঠা দীর্ঘদিনের সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন যে জামায়াত সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। এর প্রমাণস্বরূপ তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে কৌশলগত কারণে জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব না হলেও জোটের অন্য নারী প্রার্থীদের জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির নারী প্রতিনিধিদের সফলতার উদাহরণ তিনি তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে অতীতের রাজনৈতিক বিতর্ক ও তিক্ততা প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত মানবিক অবস্থান থেকে বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যদি কোনো জামায়াত সদস্যের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।’ মূলত কর্মসংস্থান ও জাতীয় উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই জামায়াতের বর্তমান রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে তিনি সাক্ষাৎকারে পুনর্ব্যক্ত করেন।
পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপি নেতা সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন যে ভজনপুর ইউনিয়নে তাদের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে ইসলামবাগ এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, বিরোধীরা দাবি করছে ওই ইউনিয়ন নাকি কেবল ‘ধানের শীষের’ এলাকা এবং সেখানে অন্য কারও প্রচারণা চালানো যাবে না। এমন দাম্ভিক আচরণের প্রতিক্রিয়ায় সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা বলতে চাই যার যত দ্রুত ডানা গজাবে, তার তত দ্রুত পতন হবে। কারো পালানোর জন্য ভারত ছিল। অনেকের কোনো দেশই নেই পালানোর জন্য।’
গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বলেন যে মানুষ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে, এটাই নিয়ম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আমরা তাদের বলব গণতান্ত্রিক আচরণ করতে। মানুষ যাকে মনে হয় তাকে ভোট দেবে। আপনি যদি কাউকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে এর আগে যারা এমন আচরণ করেছিল আপনি তাদের অনুসারী। তাদের অনুসারীদের অবস্থা তাদের চেয়েও খারাপ হবে। তারা এর আগে ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জালিমরা জুলুম করার পরেও যদি ভোট পায় তারা মানুষকে তখন মানুষ মনে করবে না।’ মূলত সুস্থ রাজনীতির ধারা বজায় রাখার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
নিজের স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান ব্যক্ত করে সারজিস আলম ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কাছে চাঁদাবাজি বা মাদক কারবারি টাকা নেই যেটা দিয়ে আমি ভোট কিনব। আমার কাছে উপরে সৃষ্টিকর্তার দয়া আর আপনাদের ভালোবাসা আছে। তাই পরিবর্তন চাইলে শাপলা কলিতে ভোট দিতে হবে।’ পথসভায় তিনি এলাকার উন্নয়নে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং ভোটারদের শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানান। মূলত কোনো প্রকার অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার না করে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই জোট প্রার্থী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের নির্বাচনী রূপরেখা বা ইশতেহার দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এটি পরিচালনা করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবারই প্রথম বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার। এর আগে পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দলের তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন এবং ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে তাঁর অনুপস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইশতেহার পাঠ করেছিলেন। অন্যদিকে, বিগত দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বয়কট করেছিল।
দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন ইশতেহারের মূল দর্শন সম্পর্কে আলোকপাত করে জানান যে, এটি মূলত জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও তৃণমূলের ক্ষমতায়নের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি। সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কিন্তু সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন, পরিবর্তনের আলোকে যুগের চাহিদা মিলিয়ে জনমানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আসছে।’ তিনি আরও জানান যে, এই ইশতেহারে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন মনে করেন, তারেক রহমানের সূচিত এই পরিকল্পনাগুলো মূলত জনগণের স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সুরক্ষার কবজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, হি হ্যাজ এ প্ল্যান। এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের এমপাওয়ারমেন্টের জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বনির্ভরতার পাশাপাশি সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য।’ তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে। আমাদের ইশতেহারের প্রতিটি পর্যায়ে সেই জনগণের ক্ষমতায়ন, জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা, স্বাধীনতা, অধিকার, নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন থাকবে। যেখানে মানুষ তার পরিবার নিয়ে এখন থেকে অনেকটা ভালো থাকবে। প্রতিটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট সুবিস্তৃত যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার মাধ্যমে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ মূলত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিএনপির এই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে।
বিএনপির ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে ড. ইউনূসকে মূলত জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠন এনসিপি ক্ষমতায় বসিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি দাবি করেন, “ড. ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা (এনসিপি)। সরকার প্রধান নিজেই বলেছে ওরা তাকে বসিয়েছে৷”
মির্জা আব্বাসের মতে, জামায়াত ও এনসিপি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। একটি বিশেষ মহল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পুরোনো শকুন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, এখন পর্যন্ত এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি।” তিনি অভিযোগ করেন যে এই চক্রটি নিয়মিত বিএনপিকে গালিগালাজ করছে এবং নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণের ভোটের প্রকৃত ফলাফল প্রশাসনে থাকা জামায়াতপন্থী ব্যক্তিরা বদলে দিতে পারে। তিনি দাবি করেন যে কিছু দল ক্ষমতার লোভে বিদেশিদের সাথে গোপন চুক্তি করেছে এবং একটি বিশেষ দলকে জেতানোর চেষ্টা চলছে, যা ব্যর্থ হলে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি মারাত্মকভাবে ভোট কারচুপির শঙ্কা দেখছি। বিএনপি হলো একটি জাতীয়তাবাদী দল, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এইটা তারা মানতে পারছে না।” এ সময় তিনি কর্মী সমর্থকদের সজাগ থাকার এবং ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “এ দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। মিথ্যা আর ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। আমরা তা মেনে নেবো না। ভোটের ফলাফল নিয়েই আমরা ঘরে ফিরবো।” বিরোধী পক্ষের উসকানি সত্ত্বেও নির্বাচনের আগে কোনো হাঙ্গামায় না জড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “ওরা চাচ্ছে আমি কোথাও না কোথাও একটা গণ্ডগোল করি। কিন্তু আমি তা করবো না। নির্বাচনের আগে আমি কোনো গণ্ডগোল করতে চাই না। যদি প্রয়োজনে নির্বাচনের পরে করবো।” মূলত ভোটের অধিকার রক্ষা এবং ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা আব্বাস তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিতর্কিত ও নেতিবাচক ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কোটবাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জামায়াত এখন পর্যন্ত তাদের অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয় এবং দেশের মানুষ তাদের কাছ থেকে আজ অবধি কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা দেখতে পায়নি। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, তারা যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা না করে, কারণ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের এই ধরণের রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে সুকৌশলে স্বাধীনতার বিকল্প ইতিহাস বর্ণনা করার একটি অপচেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত আমির দাবি করেছেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেননি, বরং অন্য একজন এটি করেছেন। এই ধরণের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ও অসম্মানজনক হিসেবে অভিহিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সচেতন সমাজ সবাই এই অসত্য তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা একাত্তরে পাক-হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে এবং এ দেশের মা-বোনদের শত্রুর হাতে তুলে দিয়েছিল, তাদের মুখে আজ গণতন্ত্র বা স্বাধীনতার কথা মানায় না।
নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, যারা এ দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার সাথে জড়িত ছিল, তারা আজও পর্দার আড়ালে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে যে সংগ্রাম করে আসছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গণতন্ত্রের ভিত আরও সুসংহত হবে।
পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। উল্লেখ্য, এই আসনে শাহজাহান চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী। সালাহউদ্দিন আহমদের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ারী ওই দিন উখিয়ায় তাঁর সকল নির্বাচনী প্রচারণা ও মাইকিং বন্ধ রেখেছিলেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পথসভায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সালাহউদ্দিন আহমদের এই ঝাঁঝালো বক্তব্য স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে ভারতের কলকাতা ও দিল্লিতে আত্মগোপনে আছেন। দেশটির এই দুই শহরকে কেন্দ্র করেই দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কৌশল নির্ধারণে ধারাবাহিক বৈঠক, যোগাযোগ ও সমন্বয় চালাচ্ছে তারা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য সামনে আসছে। নিষিদ্ধ দলটির নির্বাসিত নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং খুব দ্রুতই তাদের নির্বাসনের সময় শেষ হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কলকাতার শপিং মলের ভিড়ঠাসা ফুড কোর্টে, কালো কফি আর ভারতীয় ফাস্টফুড খেতে খেতে, নির্বাসিত আওয়ামী লীগের রাজনীতিকরা বসে নিজেদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ছক কষছেন।
প্রায় ১৬ মাস আগে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক গণঅভ্যুত্থান তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। তার পেছনে ফেলে যাওয়া রাজপথ ছিল রক্তাক্ত। জুলাইয়ের সেই আন্দোলন দমনে তার সরকারের শেষ দমন-পীড়নে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন।
এর পরপরই তার দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশ ছাড়ে। তারা দলীয় শাসনামলের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জনরোষ ও একের পর এক মামলার মুখে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগের অন্তত ৬০০ নেতা ভারতের সীমান্তঘেঁষা শহর কলকাতায় আশ্রয় নেন। যেখানে তারা তখন থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
দলীয় কার্যক্রম ও সংগঠন টিকিয়ে রাখতে ভারতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনচাপের মুখে আওয়ামী লীগকে স্থগিত করে এবং সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। হত্যা ও দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার শুরু হয়। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে—যা হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন—দলটিকে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত বছরের শেষ দিকে একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তবে হাসিনা তার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে গেছে—এমনটা মানতে নারাজ। তিনি এই রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ভারত থেকে নিজের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করতে হাজার হাজার সমর্থককে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গোপন আশ্রয় থেকে হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দলীয় বৈঠক ও বাংলাদেশের ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনালাপ করছেন। এসব রাজনৈতিক তৎপরতা হচ্ছে ভারত সরকারের নজরদারির মধ্যেই—যে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধ উপেক্ষা করে চলেছে।
গত এক বছরে সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে দলীয় কৌশল ঠিক করতে। তাদের একজন ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সারাক্ষণ বাংলাদেশের নেতাকর্মী, তৃণমূল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি আমাদের দলকে আসন্ন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছে। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো তিনি (শেখ হাসিনা) দিনে ১৫–১৬ ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন বা বৈঠক করেন। আমরা বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা একজন নায়ক হিসেবে দেশে ফিরবেন।’
হাসিনার অধীনে গত দুইটি নির্বাচন ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে গত এক দশকের মধ্যে প্রথম সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন।
তবে আওয়ামী লীগের দাবি, তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক বৈধতার সব দাবিই ভেঙে পড়ে। তারা ইউনূসকে ‘প্রতিশোধপরায়ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি এই ভুয়া নির্বাচনে অংশ না নিতে। ভোট বর্জন করতে এবং কোনো প্রচারণায় না যেতে।
বাংলাদেশে যারা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকে স্বৈরতন্ত্র ও লুটপাটের শাসন বলে মনে করেন, তাদের কাছে দলটির হঠাৎ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।