বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্দোলন দেখলেই বিএনপি অনুপ্রবেশ করে: কাদের

ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৪ ১৬:৫৯

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যেকোনো আন্দোলন দেখলেই বিএনপি সেখানে অনুপ্রবেশ করে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ দিতে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সেতুমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বিবৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে এই বিবৃতি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বারবার তারা (বিএনপি) জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য সৃষ্টি তাদের এখন একমাত্র কৌশল। মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রেখে বর্তমান সরকারকে নিশানা করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছে এবং সরকার তাদের সকল দাবি পূরণ করেছে। অথচ মির্জা ফখরুল এখন সরকারের পদত্যাগ দাবি করছেন। সরকারের পদত্যাগের দাবি শুধুমাত্র সরকার বিরোধী বা দেশ বিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াতের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন কেবল জনরায়ের মাধ্যমেই সম্ভব। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার জনগণের রায় নিয়ে সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার করছে। সকল উস্কানি ও নৈরাজ্যের মুখেও সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করেছে এবং জনগণকে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার বা নির্যাতন করেনি। যারা সন্ত্রাস ও সহিংসতায় সরাসরি জড়িত ছিল শুধু তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অথচ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।

আরও বলেন, সাইবার সন্ত্রাসীরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য ও ভুয়া ছবি পাঠিয়ে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা মেট্রোরেল, বিটিভিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সুপরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, যারা ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের শান্তি, শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রদর্শন করবে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই সন্ত্রাস-সহিংসতায় প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আন্দোলনে নিহতদের তালিকা প্রকাশ হয়নি মর্মে মন্তব্য করেছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাস-সহিংসতা ও নাশকতায় নিহতের সংখ্যা গণমাধ্যমের নিকট প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই ফখরুল ইসলাম এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ও বিএনপি-জামায়াত যে কোনো প্রকারে ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এ সকল সন্ত্রাসী ঘটনার মদদদাতা, অর্থের জোগান দাতাদের চিহ্নিত করেছে এবং তাদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত দেশ বিরোধী অপশক্তি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং এই দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।

কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে তাদের জীবনের বিনিময়ে দেশের অর্জিত গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।


নির্বাচিত

পলাতক ও গুপ্ত-সুপ্তদের নিয়ে রিজভীর বিস্ফোরক মন্তব্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতে অবস্থান করা পলাতক ব্যক্তিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং দেশের ভেতরে থাকা কিছু মানুষ তাদের সহযোগিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘পলাতকরা ভারতে গিয়ে কলকাঠি নাড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে, আর দেশের ভেতর গুপ্ত-সুপ্তরা সেখানে পাখা দিয়ে বাতাস দিচ্ছে।’ তাঁর দাবি, দেশের মানুষ অতীতেও বিভিন্ন চক্রান্ত মোকাবিলা করেছে এবং ভবিষ্যতেও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সত্য, বীরত্ব ও ঐতিহ্যের দেশ। মিথ্যার জাল তৈরি করে এ দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

বিএনপির এই নেতা বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তারা বিএনপির নেতা এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

রিজভী প্রশ্ন তোলেন, যারা এসব কথা বলছেন তারা সংবাদপত্র পড়েন কি না এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে কি না। তাঁর ভাষ্য, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ হচ্ছে।

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, নানা সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

তাঁর দাবি, দেশের নিজস্ব উৎপাদন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে পাওয়া জ্বালানি দিয়ে সরকার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করছে। অথচ সরকারের বিরুদ্ধে ‘সব শেষ হয়ে গেছে’ ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।

রিজভী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার আগে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিভিন্ন মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এডিবির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তবে তাঁর বক্তব্যে এডিবির নির্দিষ্ট প্রতিবেদন বা সূচকের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অর্থনীতি নিয়ে তাঁর এ মূল্যায়নকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, আগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফরে ১৫০ থেকে ২০০ জনের বড় বহর নিয়ে যেতেন। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রায় ৩৫ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে নিউইয়র্ক সফর করছেন।

রিজভীর প্রশ্ন, সফরসঙ্গীর সংখ্যা কমিয়ে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে এর মাধ্যমে সরকারের ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযমের বিষয়টি প্রতিফলিত হয় কি না।

তিনি শেখ হাসিনার বিদেশ সফর নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সভায় কোনো নথি বা নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকট মোকাবিলায় ব্যয় কমানো এবং সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরও স্বল্পসংখ্যক সফরসঙ্গী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। কয়েক দিনের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা দেখতে হলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

সভায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের কার্যক্রম এবং বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন দলটির নেতারা।


নির্বাচিত

কুষ্টিয়া যুবদলের নতুন কমিটি গঠন, সংগঠন শক্তিশালী করার প্রত্যয়

* পরীক্ষিত ছাত্রনেতারাই যুবদলকে সুসংগঠিত করবে: ফুহাদ রেজা ফাহিম
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নবনির্বাচিত আংশিক কমিটির সভাপতি ফুহাদ রেজা ফাহিম ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জনিসহ নতুন কমিটির নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে একটি জমকালো শুভেচ্ছা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

​মিছিলে জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় নেতা-কর্মীরা নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।​

​নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি ফুহাদ রেজা ফাহিম তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই কমিটিতে যারা এসেছে তারা সবাই সাবেক ছাত্রনেতা এবং বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে মাঠে রাজনীতি করে এসেছেন। যেহেতু সবাই ছাত্ররাজনীতি করে এসেছি, তাই সবাই মিলে এই যুবদলকে সুসংগঠিত করব।

​অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ফাহিম আরও বলেন, গত নির্বাচনে বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারিতে কুষ্টিয়ার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টি আসন হারিয়েছি। এই কমিটির মাধ্যমেই আমরা ইনশাআল্লাহ আগামীতে সংগঠনকে আরও বেশি সুসংগঠিত করব।

​কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি জাকারিয়া আনসার মিলন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই নেতাদের হাত ধরে কুষ্টিয়া জেলা যুবদল আরও গতিশীল হবে। অতীতের সকল শূন্যতা ও দুর্বলতা কাটিয়ে আগামী দিনে সংগঠনটিকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

​​কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

​মিছিলে নবগঠিত কমিটির সভাপতি ফুহাদ রেজা ফাহিম, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জনি, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, সহসভাপতি জাকারিয়া আনসার মিলন, এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বিসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেশর সংকটে এমপি-মন্ত্রীদের ভাতা বৃদ্ধির প্রশ্নই ওঠে না: ডা. শফিকুর রহমান

রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বা ভাতা বৃদ্ধির যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষ যখন দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নানা সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী বেতনের মোহে নয়, বরং জনগণের সেবা করতেই সংসদে এসেছে। দল হিসেবে সংসদ সদস্যদের সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার পূর্বঘোষিত নীতি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারি দলের একই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। এছাড়া গণপরিষদকে শাসক নয়, বরং সেবকদের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জানান। সংসদে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়ে নোটিশ দিলেও সব নোটিশ নিয়ে আলোচনার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জ্বালানি সংকট সমাধানে গঠিত ১০ সদস্যের যৌথ কমিটির ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন।

শিল্প ও তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পমালিকদের পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বাড়ে, যা পুরো পরিবারকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। সম্প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের মতো জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবে নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়ে করা সমালোচনার জবাবে তিনি সকল আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ ছিল দাবি করে বলেন, কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা যেকোনো বিশৃঙ্খলার দায় বিরোধীদের ওপর বর্তায়।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন ও সত্যনিষ্ঠ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে জামায়াত আমির গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অভিভাবক বা 'চতুর্থ স্তম্ভ' হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি কোনো বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ বা লেজ-মুড়ো ছাড়া তৈরি 'ফটোকার্ড' এড়িয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস ও পেশাগত অধিকার রক্ষায় সংসদে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। নিজের সরকারি সফরের খরচে রাষ্ট্রীয় তহবিলের ব্যবহার না করার বিষয়টি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণই তাদের প্রধান রাজনৈতিক অগ্রাধিকার।


নির্বাচিত

জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই : রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে দলটি কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে সকালে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ফার্মগেট পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে এ্যাবের নেতাকর্মীসহ কয়েক শত কৃষিবিদ অংশ নেন।

এ্যাবের নেতারা জানান, দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কৃষিবিদ ও কৃষি পেশাজীবীরা ঐক্যবদ্ধ। দেশের কৃষি ও অর্থনীতির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবিরসহ এ্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।


নির্বাচিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। পরে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মজিবুল্লাহ মুজিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর দক্ষিণের নেতা ডা. নাঈম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আখতার হোসেন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবেদ হোসেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইয়াসিন বাবু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোল্লা সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।’ তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

পাটওয়ারীকে ধরলেই জানা যাবে বাসে ককটেল মেরেছে কারা: রাশেদ খান

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বাসে আগুন ও ককটেল হামলা করছে কারা, তা বের হয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, ১১ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ-এই দুই বিরোধী দলকে সামলে বিএনপিকে সরকার পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিএনপি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

তিনি খান বলেন, এ বিরোধীদল আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু করতে চায়। যেমন শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে ফিরতে চান।

তিনি আরও বলেন, দেশকে অশান্ত করতে জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে বাস ও ট্রেনে আগুন দিচ্ছে এবং ককটেল ফোটাচ্ছে।

রাশেদ খান আরও বলেন, এনসিপির এক নেতা স্বীকার করেছেন- আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মিলে আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। একই দলের এক নেতা দাবি করেছেন- ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল আর ফুটবে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ করতে চায়, তারা কি অপরাধ করছে না? জুলাইয়ের সময়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন রাশেদ।

এই নেতা আরও বলেন, সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ কর্মসূচি কোনো স্বাভাবিক কর্মসূচি নয়। লংমার্চের নামে পিকনিক স্টাইলে ছবি তুলে ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে রাশেদ খান বলেন, সমগ্র বিশ্বে জ্বালানি সংকট চলছে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থাকবে না।

আওয়ামী লীগকে ফেরাতে অনেকে সক্রিয় বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, চুক্তি থাকলেও আদানি কখনো বিদ্যুৎ দিচ্ছে, আবার কখনো দিচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ঘিরে আওয়ামী লীগ অপতৎপরতা ও অসৌজন্যতায় মেতেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিদেশের মাটিতে তারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


নির্বাচিত

গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে টিআইবির ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, পদে নিয়োগের প্রলোভন এবং পরবর্তীতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় চার দিনের রিমান্ডে থাকা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদে বহাল থাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

​দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় নিজ দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকাকে জাতীয় সংসদের জন্য মর্যাদাহানিকর হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে, নিরপেক্ষ তদন্ত সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের জন্য অবিলম্বে বিশেষায়িত ও বাধ্যতামূলক ‘নৈতিক আচরণবিধি’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

​মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, কিশোরী মরিয়ম খাতুনকে চাকরি দেওয়া ও তার বাবাকে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন, পরবর্তীতে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা এবং মরিয়মের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক যে অভিযোগ উঠেছে—তা সংসদের সম্মানের জন্য অবমাননাকর।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। তবে পদ ও প্রভাব ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ, দলীয় বহিষ্কার এবং রিমান্ডের পরও একজন ব্যক্তির সংসদ সদস্যপদ অব্যাহত থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করবে আদালত, কিন্তু নৈতিকতা ও জন-আস্থার প্রশ্নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংসদের। তার পদে থাকা নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা সংসদ ও নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করতে হবে।

​বিজ্ঞপ্তিতে সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে ড. জামান জানান, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়। ফলে বর্তমান আইনি কাঠামোর কারণে নজরুল ইসলামের পদ নিজে থেকে বাতিল হচ্ছে না। তবে এই আইনি সীমাবদ্ধতাকে যেন নৈতিক স্খলনের ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সেদিকে নজর দিয়ে আইনি বিধান স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

টিআইবি আরও জানান, এমপিদের আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে টিআইবির খসড়ার ওপর ভিত্তি করে ‘The Members of Parliament Conduct Bill, 2010’ সংসদে উত্থাপিত হলেও তা আইনে পরিণত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবে, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও জনপ্রতিনিধিদের জন্য আচরণবিধি ও বার্ষিক সম্পদ বিবরণী প্রকাশের জোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার প্রতি সব দল ঐকমত্য প্রকাশ করেছিল।

সংসদের মর্যাদা বজায় রাখতে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা ও সেক্সটরশনের (যৌন ব্ল্যাকমেইল) নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অবিলম্বে ‘Member of Parliament Conduct Act’ পাসের জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।


নির্বাচিত

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার সময় বাসায় ছিলেন এমপি গাজী নজরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর সময় তিনি ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটেই ছিলেন বলে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। খাওয়া শেষে মরিয়ম খাবার খেয়েছেন কি না, তা জানতে তাঁর কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

মরিয়মের বাবার করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার গাজী নজরুল ইসলামকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুল ইসলামের। সেখানে তিনি প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে থাকতেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল বলেছেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি বাসা থেকে বের হন। বিভিন্ন কাজ শেষে দুপুর ২টার দিকে বাসায় ফেরেন। এরপর এলাকার কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁর বাসায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান।

খাওয়া শেষে মরিয়ম খাবার খেয়েছেন কি না, তা জানতে তাঁর কক্ষের সামনে যান গাজী নজরুল। তখন কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য।

এর আগে মরদেহ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল জানিয়েছিলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন। তবে কীভাবে মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছিলেন।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে। আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয় এবং আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে মাকছুদা দাবি করেছেন, ঘটনার আগে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর কোনো ঝগড়া হয়নি। মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন।

ডিবি কর্মকর্তারা গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানিয়েছেন, তাঁরা কিছু তথ্য দিয়েছেন এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে। ওবায়দুর রহমান এখনো গ্রেপ্তার হননি; তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বলে পরিচয় দেন। এর পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়।

এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছে ডিবি। এখন পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই ও ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।


নির্বাচিত

ককটেল বিস্ফোরণ: পাটওয়ারীর গ্রেপ্তার দাবি যুবদল সভাপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। এসব ঘটনার সঙ্গে পাটওয়ারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মোনায়েম মুন্না বলেন, পাটওয়ারী বিভিন্ন আচরণের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসতে চান। তার ভাষ্য, পাটওয়ারী বলেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যাবে। এ বক্তব্যের সূত্র ধরে মুন্না প্রশ্ন তোলেন, তাহলে ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত।

তিনি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার সব ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এসব ঘটনার ‘হোতা’ হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, ১১ দলীয় জোটের তিনটি দাবি রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণভোটের বিচার এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সংস্কার। সরকার এসব দাবি মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাটওয়ারীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল—তাদের দাবি বাস্তবায়িত হলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর সুযোগ পাবে না—এমন বক্তব্য দেওয়া। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সমাবেশে জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের প্রসঙ্গও তোলেন যুবদল সভাপতি। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর কারণে ১৯ বছরের এক তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হয়েছেন। ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মুন্না বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব ছিল। গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে তরুণীটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় গাজী নজরুল বর্তমানে রিমান্ডে থাকায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান যুবদল সভাপতি।

সমাবেশে জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন মোনায়েম মুন্না। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতে আঁতাত করেছে এবং এখনো গোপনে আঁতাত করছে।

তার দাবি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে অন্যায়-অপরাধের ঘটনা ঘটলে সেটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে এসব বক্তব্যকে তিনি রাজনৈতিক সমালোচনা হিসেবেই তুলে ধরেন।

দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে যুবদল সভাপতি বলেন, জনগণকে সজাগ করতে হবে। যুবদল রাজপথে রয়েছে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংগঠনটির সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা জানান তিনি। একই সঙ্গে ওই স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে যুবদলের সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি (দপ্তর) নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মিছিল করেন।


নির্বাচিত

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী পৌর শহরের ঝাউতলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন জেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনুসহ জেলা-উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতার প্রভাব সৃষ্টি করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু জনসাধারণ তা মেনে নেয়নি। জনসাধারণ ভোট দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। বর্তমানে সেসব দলগুলো সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ঘৃণ্য পায়তারা চালাচ্ছে। বিএনপি ও দেশের আপামর জনসাধারণ তা মেনে নেবে না। চলমান সন্ত্রাস নৈরাজ্য বন্ধ না করা হলে জনসাধারণকে সাথে নিয়ে বিএনপি তা প্রতিহত করবে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটি প্রদান করা হচ্ছে এসব কমিটিতে হাইব্রিড নেতা, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান হবে না। কমিটিতে নির্যাতিত নিপীড়িত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। দেশকে মাদকমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপি ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতি অব্যাহত রাখবে।’

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার নেপথ্য হোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপিকে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং ১১ দলীয় জোট—উভয় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সামলে জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিরোধী দলগুলো আগামী ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি দাবি করেন, দেশকে অশান্ত করতে জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ গোপনে একজোট হয়ে বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বিস্ফোরণের পথ বেছে নিয়েছে। এমনকি এনসিপির পক্ষ থেকেই স্বীকার করা হচ্ছে যে তাদের রাজনৈতিক দাবি মেনে নিলে সহিংসতা বন্ধ হবে, যা স্পষ্ট অপরাধের শামিল। মাত্র সাত মাস বয়সী একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ‘লংমার্চ’ কর্মসূচিকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে মূলত ফেসবুকের প্রচারের জন্য লোকদেখানো আয়োজন করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিপুল ভর্তুকি দিয়েও আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারকে বাধ্য হয়ে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে সরকারের নেওয়া নীতিগত পদক্ষেপের ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট পুরোপুরি দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভারতের আদানি গ্রুপের চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পতিত শক্তিকে ফেরাতে নানা মহল সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে ঘিরে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপতৎপরতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ চালানো হচ্ছে বলেও তীব্র নিন্দা জানান রাশেদ খাঁন।


নির্বাচিত

জনকল্যাণমুখী প্রতিটি কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করাই জামায়াতের চরিত্র: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধীদলের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, জনকল্যাণমুখী প্রতিটি কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করাই জামায়াতে ইসলামীর স্থায়ী চরিত্রে পরিণত হয়েছে। জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা সৃষ্টির অপকৌশল হিসেবেই তারা বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে বারবার বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই দলটি কখনো জনগণের প্রকৃত আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।

দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিরোধী দলগুলোর কোনো কর্মসূচিতে সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে না, যা দেশে অবাধ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকারই স্পষ্ট প্রমাণ।

এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সহিংস ঘটনার পেছনে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী চক্র এবং বিরোধী শিবিরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সরাসরি জড়িত। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দাবি করেন, দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার হীন উদ্দেশ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, এনসিপি ও জামায়াত যৌথভাবে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।


নির্বাচিত

সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরেই সরকার গণভোটের রায় না মেনে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সংসদে জুলাই সনদ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে, যার প্রভাবে দ্রব্যমূল্যসহ সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অতীত সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের সময়েও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর ব্যর্থতার কারণে সরকারকে সংকটে পড়তে হয়েছিল এবং পুনরায় তাঁকেই এই দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে ভোগান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকারের প্রতি বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ গ্রামে-গঞ্জে থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ শুরু করলে সরকারের পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।


নির্বাচিত

banner close